গত দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজে ‘স্টার্টআপ’ শব্দটি এক সম্ভাবনার প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছিল। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন, ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং একদল উদ্যমী তরুণের হাত ধরে বিকাশ, পাঠাও, চালডাল, শপআপ-এর মতো বেশ কিছু কোম্পানির জন্ম হয়, যা আমাদের আশাবাদী করেছিল। আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম যে, সিলিকন ভ্যালি, বেঙ্গালুরু বা সিঙ্গাপুরের মতো ঢাকাও একদিন দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টার্টআপ হাবে পরিণত হবে। কিছু সাফল্য নিঃসন্দেহে এসেছে, বিলিয়ন ডলার মূল্যায়ন ছুঁয়েছে বিকাশ, ইউনিকর্ন হওয়ার পথে হেঁটেছে নগদ, শত শত মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে দেশের প্রযুক্তি খাতে। কিন্তু এই খণ্ডিত সাফল্যের ছবির আড়ালে একটি কঠিন বাস্তবতাও রয়েছে।

বাস্তবতা হলো, হাতে গোনা কয়েকটি বড় নাম ছাড়া, বাংলাদেশের হাজারো স্টার্টআপের বেশিরভাগই হয় অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে, নয়তো একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির পর আর বড় হতে পারছে না। আমরা ইন্দোনেশিয়ার Gojek বা ভারতের Flipkart-এর মতো বিশ্ব কাঁপানো কোনো টেক জায়ান্ট তৈরি করতে পারিনি। আমাদের স্টার্টআপগুলো কেন ইউরোপ বা অন্যান্য এশীয় দেশের মতো ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছে না? সমস্যাটা কোথায়? এটি কেবল একটি বা দুটি কারণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে একটি জটিল এবং বহুমাত্রিক সংকট, যা আমাদের ইকোসিস্টেমের গভীরে প্রোথিত। এই প্রবন্ধে আমরা সেই কারণগুলো অনুসন্ধানের চেষ্টা করব, যা আমাদের স্টার্টআপগুলোর ডানা ছেঁটে দিচ্ছে এবং সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে।

বিনিয়োগের মরীচিকা: পুঁজির সংকট এবং বিনিয়োগকারীর মানসিকতা

যেকোনো স্টার্টআপের জন্য রক্ত হলো পুঁজি বা বিনিয়োগ। একটি ভালো ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া, একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা এবং বাজারে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান অপরিহার্য। এখানেই বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায়।

  • বীজ পর্যায়ের তহবিলের (Seed Funding)বীজ পর্যায়ের তহবিলের (Seed Funding)একটি স্টার্টআপের একদম প্রাথমিক পর্যায়ে ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য সংগ্রহ করা প্রথম মূলধন তীব্র অভাব: একটি স্টার্টআপের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায় হলো এর প্রাথমিক বা বীজ পর্যায়। এই পর্যায়ে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই অর্থ লগ্নি করতে ভয় পান। দেশে অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরের (Angel Investor)অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টরের (Angel Investor)নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে নতুন স্টার্টআপে প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগ করা ব্যক্তি বিনিয়োগকারী সংখ্যা হাতে গোনা, এবং যারা আছেন, তারাও খুব ছোট আকারের বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ফলে, হাজারো সম্ভাবনাময় ধারণা শুধু প্রাথমিক পুঁজির অভাবেই আলোর মুখ দেখতে পায় না।
  • ঝুঁকি-বিমুখ বিনিয়োগ সংস্কৃতি: সিলিকন ভ্যালির ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (VC)ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (VC)উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সম্ভাবনাময় নতুন কোম্পানিতে বিনিয়োগকারী মূলধনী প্রতিষ্ঠান ফার্মগুলো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু যুগান্তকারী ধারণার উপর বাজি ধরতে ভালোবাসে। তারা জানে দশটির মধ্যে আটটি ব্যর্থ হলেও, বাকি দুটি বিশাল সাফল্য এনে দেবে। কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী, এমনকি প্রতিষ্ঠিত ভিসি ফান্ডগুলোও, তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং দ্রুত লাভজনক মডেলে বিনিয়োগ করতে চায়। তারা নতুন এবং পরীক্ষামূলক ধারণার পরিবর্তে ইতোমধ্যে প্রমাণিত ব্যবসায়িক মডেলে অর্থ ঢালতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এই মানসিকতা সত্যিকারের উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করে।
  • সিরিজ এ/বি তহবিলের সংকট (The Series A/B Crunch)সিরিজ এ/বি তহবিলের সংকট (The Series A/B Crunch)বীজ পর্যায় পেরিয়ে বড় পরিসরে বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী ধাপের তহবিল সংগ্রহে যে কঠিন সংকট দেখা দেয়: যে কয়েকটি স্টার্টআপ বীজ পর্যায় পার করতে পারে, তারা পরবর্তী ধাপ, অর্থাৎ সিরিজ এ বা বি ফান্ডিং পেতে গিয়ে আরও বড় বাধার সম্মুখীন হয়। এই পর্যায়ে স্টার্টআপকে দ্রুত বৃদ্ধির (Scaling)দ্রুত বৃদ্ধির (Scaling)একটি ব্যবসাকে দ্রুত বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করার প্রক্রিয়া জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু দেশে এই ধাপের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজার নিয়ে আগ্রহী হলেও, এখানকার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রক জটিলতা এবং মুদ্রার বিনিময় হারের ঝুঁকির কারণে তারা প্রায়শই দ্বিধায় ভোগেন।
  • কর্পোরেট বিনিয়োগের অভাব: উন্নত দেশগুলোতে বড় বড় কর্পোরেশনগুলো (যেমন গুগল, মাইক্রোসফট) নতুন স্টার্টআপে বিনিয়োগ করে বা তাদের কিনে নেয় (Acquisition)। এটি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ 'এক্সিট' বা প্রস্থানের সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু বাংলাদেশে বড় শিল্প গোষ্ঠীগুলো এখনও রিয়েল এস্টেট বা প্রচলিত শিল্পে বিনিয়োগ করাকেই বেশি লাভজনক মনে করে। প্রযুক্তি খাতে তাদের বিনিয়োগ এবং অধিগ্রহণের আগ্রহ খুবই কম।

বাস্তুতন্ত্রের শূন্যতা: মেন্টরশিপ, নেটওয়ার্ক এবং ইন্ডাস্ট্রির বিচ্ছিন্নতা

শুধু টাকা থাকলেই একটি ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠে না। এর জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী অবকাঠামো, যেখানে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সহযোগিতার একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাহ থাকবে। এখানেই বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা।

১. অভিজ্ঞতার অভাব এবং মেন্টরশিপের সংকট

সিলিকন ভ্যালিতে যে উদ্যোক্তা আজ সফল, কাল তিনি নতুনদের মেন্টর হন। সেখানে এমন হাজারো মানুষ আছেন যারা শূন্য থেকে একটি কোম্পানিকে বিলিয়ন ডলার কোম্পানিতে পরিণত করার অভিজ্ঞতা রাখেন। তাদের পরামর্শ এবং নেটওয়ার্ক অমূল্য। বাংলাদেশে এই ধরনের অভিজ্ঞ মেন্টরের সংখ্যা নেই বললেই চলে। আমাদের সফল উদ্যোক্তারা সংখ্যায় এতই কম যে, পুরো ইকোসিস্টেমকে পথ দেখানোর মতো যথেষ্ট সুযোগ তাদের নেই। ফলে, নতুন উদ্যোক্তারা একই ভুল বারবার করতে থাকেন, যা তাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে।

  • বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প বিচ্ছিন্নতা: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করলেও, তাদের পাঠ্যক্রম শিল্পজগতের চাহিদা থেকে বহু দূরে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে তার ছাত্রদের উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করে এবং শিল্পের সাথে একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, আমাদের দেশে তার ছিটেফোঁটাও নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবন বা গবেষণার জন্য যথেষ্ট তহবিল নেই, এবং শিক্ষকরাও প্রায়শই বাস্তব শিল্প অভিজ্ঞতা থেকে বিচ্ছিন্ন।
  • শক্তিশালী নেটওয়ার্কের অভাব: একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেমে কফিশপে বা একটি মিটআপে একজন উদ্যোক্তা তার ভবিষ্যৎ সহ-প্রতিষ্ঠাতা বা বিনিয়োগকারীর দেখা পেয়ে যেতে পারেন। এই ঘনবদ্ধ নেটওয়ার্ক সুযোগ তৈরি করে। ঢাকায় স্টার্টআপ কমিউনিটি থাকলেও, এটি এখনও খণ্ডিত এবং সহযোগিতার পরিবর্তে প্রতিযোগিতার মানসিকতাই বেশি প্রবল।

বাজার ও মানসিকতার প্রতিবন্ধকতা

পুঁজি এবং ইকোসিস্টেমের বাইরেও, আমাদের বাজার এবং সামাজিক মানসিকতাও স্টার্টআপগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

  1. অনুকরণ, উদ্ভাবন নয়: বাংলাদেশের অনেক স্টার্টআপই বিদেশি সফল মডেলকে (যেমন: উবার, অ্যামাজন) স্থানীয় বাজারে অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করলেও, দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই এবং অনন্য ব্যবসা তৈরি করতে পারে না। আমাদের স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য মৌলিক এবং গভীর প্রযুক্তিভিত্তিক (Deep Tech)গভীর প্রযুক্তিভিত্তিক (Deep Tech)দীর্ঘমেয়াদী গবেষণাভিত্তিক জটিল বৈজ্ঞানিক বা প্রকৌশলগত উদ্ভাবনের উপর প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের অভাব অত্যন্ত প্রকট। আমরা সমস্যার গভীরে না গিয়ে শুধুমাত্র উপরিভাগের সমাধান নিয়েই ব্যস্ত থাকি।
  2. মেধার জন্য যুদ্ধ (War for Talent): একটি স্টার্টআপের সাফল্যের জন্য প্রয়োজন একদল অসাধারণ মেধাবী কর্মী। কিন্তু বাংলাদেশে ভালো প্রকৌশলী, প্রোডাক্ট ম্যানেজার এবং ডেটা সায়েন্টিস্ট খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। মেধাবীরা প্রায়শই স্থিতিশীলতার জন্য বড় বহুজাতিক কোম্পানি বা সরকারি চাকরিকে বেছে নেয়। যারা একটু বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী, তাদের একটি বড় অংশ উন্নত দেশে পাড়ি জমায়। ফলে, স্টার্টআপগুলোকে মাঝারি মানের প্রতিভা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
  3. ভোক্তার আচরণ এবং বাজারের সীমাবদ্ধতা: যদিও আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বড়, ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার এখনও সীমিত। একটি বড় অংশের গ্রাহক এখনও অনলাইন কেনাকাটায় পুরোপুরি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেনি এবং 'ক্যাশ অন ডেলিভারি'র উপর নির্ভরশীল। এছাড়া, বাজার অত্যন্ত মূল্য-সংবেদনশীল (price-sensitive)। গ্রাহকদের ধরে রাখার জন্য স্টার্টআপগুলোকে ক্রমাগত ডিসকাউন্ট এবং অফার দিয়ে যেতে হয়, যা তাদের মুনাফা অর্জনকে কঠিন করে তোলে।
  4. ব্যর্থতার প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি: আমাদের সংস্কৃতিতে ব্যর্থতাকে একটি বিরাট লজ্জা হিসেবে দেখা হয়। একজন উদ্যোক্তা যদি তার প্রথম উদ্যোগে ব্যর্থ হন, সমাজ এবং এমনকি বিনিয়োগকারীরাও তাকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করে। এই মানসিকতা উদ্যোক্তাদের বড় ঝুঁকি নিতে ভয় দেখায়। তারা নিরাপদ পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়, যা যুগান্তকারী উদ্ভাবনের পরিপন্থী।

নীতিমালা ও অবকাঠামোগত জটিলতা

একটি উর্বর মাটি থাকলেও, যদি প্রতিনিয়ত ঝড়-বৃষ্টির सामना করতে হয়, তাহলে চারাগাছ বড় হতে পারে না। বাংলাদেশের নীতি এবং অবকাঠামো প্রায়শই সেই ঝড়-বৃষ্টির ভূমিকা পালন করে।

  • নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা: প্রযুক্তি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়, কিন্তু আমাদের আইন ও নীতিমালা সেই গতির সাথে তাল মেলাতে পারে না। ফিনটেক, রাইড-শেয়ারিং বা ই-কমার্সের মতো নতুন খাতগুলোর জন্য প্রায়শই কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আকস্মিক সিদ্ধান্ত স্টার্টআপগুলোর ব্যবসায়িক মডেলকে রাতারাতি বিপদে ফেলে দেয়।
  • আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: একটি কোম্পানি নিবন্ধন করা থেকে শুরু করে ট্যাক্স এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং জটিল। এই আমলাতান্ত্রিক বাধাগুলো উদ্যোক্তাদের মূল্যবান সময় এবং শক্তি নষ্ট করে, যা তাদের মূল ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

উত্তরণের পথ: স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে করণীয়

এই চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রমযোগ্য। একটি সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

  • নীতিগত সংস্কার: সরকারকে স্টার্টআপগুলোর জন্য একটি 'সহজ পথ' (Easy Path) তৈরি করতে হবে। কোম্পানি নিবন্ধন, ট্যাক্স প্রদান এবং বিদেশি বিনিয়োগ আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং স্বচ্ছ করতে হবে।
  • শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্পের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। পাঠ্যক্রমে उद्यमिता, উদ্ভাবন এবং সমস্যা সমাধানের উপর জোর দিতে হবে। শিক্ষকদের বাস্তব শিল্প অভিজ্ঞতা অর্জনে উৎসাহিত করতে হবে।
  • বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি: স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য ট্যাক্স ছাড় এবং অন্যান্য প্রণোদনা দিয়ে অ্যাঞ্জেল বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। বিদেশি ভিসিদের আকৃষ্ট করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য এবং স্থিতিশীল নীতি কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য।
  • সাংস্কৃতিক পরিবর্তন: ব্যর্থতাকে শেখার অংশ হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সফল উদ্যোক্তাদের এগিয়ে এসে নতুনদের মেন্টরশিপ প্রদান করতে হবে এবং একটি সহযোগিতামূলক কমিউনিটি গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোর সম্ভাবনা অসীম। আমাদের আছে এক বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী, একটি ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বাজার এবং একদল উদ্যমী স্বপ্নদ্রষ্টা। কিন্তু শুধু স্বপ্ন আর উদ্যম দিয়ে বিশ্ব জয় করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী এবং সহায়ক বাস্তুতন্ত্র, যা তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি, জ্ঞান এবং সুযোগ তৈরি করে দেবে। যদি আমরা সম্মিলিতভাবে এই বাধাগুলো দূর করতে পারি, তবেই বাংলাদেশের মাটি থেকে একদিন বিশ্বমানের প্রযুক্তি জায়ান্ট জন্ম নেবে, যা শুধু দেশের অর্থনীতিকেই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে আমাদের পরিচয়কেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।