সরাসরি পর্বে যান
পর্ব ২৭ · ৫৫-এর মধ্যে · মডিউল ৪

চালু হওয়া থেকে ডেস্কটপ — BIOS/UEFI, boot আর driver

The Boot Process — Power-on, BIOS/UEFI, POST, MBR/GPT, Bootloaders, Kernel, Drivers and Boot Troubleshooting

Taught in Bangla, this lesson walks through what happens after pressing the power button: firmware with legacy BIOS and modern UEFI, POST and boot order, MBR, GPT and the EFI system partition, the bootloader, kernel, drivers and login, shut down, restart, sleep and Fast Startup, Secure Boot, TPM and bootkits, and first fixes when a PC will not start.

এই পর্বে যা শিখবেন

  • পাওয়ার বোতাম চাপা থেকে ডেস্কটপ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ, আর প্রতিটি ধাপে মেমরিতে কী থাকে
  • BIOS আর UEFI-র পার্থক্য, POST কী জানায়, আর boot order ও boot menu কীভাবে ব্যবহার করবেন
  • MBR আর GPT partition table, EFI system partition, আর Windows Boot Manager ও GRUB-এর কাজ
  • Shut down, Restart, Sleep, Hibernate আর Fast Startup-এর আসল পার্থক্য; Secure Boot আর TPM কেন দরকার
  • “চালু হয় না” সমস্যা ধাপে ধাপে ধরা, recovery-র উপায়, আর নিরাপদে bootable USB বানানো

১ · পাওয়ার বোতাম চাপার পর — খালি মাথার কম্পিউটার

সকালে অফিসে এসে কম্পিউটারের পাওয়ার বোতাম চাপলেন। পাখা ঘুরল, একটি লোগো দেখা গেল, কয়েক সেকেন্ড পর login পর্দা। প্রতিদিনের এই সাধারণ ঘটনার ভেতরে আছে কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি মজার ধাঁধা।

ধাঁধাটি এই: অপারেটিং সিস্টেম (Windows, Linux) রাখা আছে SSD-তে। কিন্তু SSD থেকে কিছু পড়তে হলে একটি প্রোগ্রাম লাগে। আর প্রোগ্রাম চালাতে হলে সেটি আগে RAM-এ থাকতে হয়। অথচ চালু করার মুহূর্তে RAM সম্পূর্ণ ফাঁকা — পর্ব ০৪-এ দেখেছেন, RAM বিদ্যুৎ চলে গেলে সব ভুলে যায়। আর CPU নিজে কোনো প্রোগ্রাম জানে না; সে শুধু জানে “একটি ঠিকানা থেকে নির্দেশ আনা, চালানো, তারপর পরেরটায় যাওয়া” (পর্ব ২৪-এ fetch-decode-execute চক্র)। তাহলে প্রথম প্রোগ্রামটি আসে কোথা থেকে?

উত্তর: মাদারবোর্ডের ওপর একটি ছোট চিপে স্থায়ীভাবে রাখা একটি ছোট প্রোগ্রাম — firmware. চিপটি flash memory, তাই বিদ্যুৎ না থাকলেও প্রোগ্রাম মুছে যায় না। এই firmware হার্ডওয়্যার জাগায়, পরীক্ষা করে, একটি ডিস্ক খুঁজে বের করে, আর সেখান থেকে একটু বড় একটি প্রোগ্রাম (bootloader) তুলে আনে। bootloader আবার তুলে আনে অপারেটিং সিস্টেমের মূল অংশ। ছোট প্রোগ্রাম বড় প্রোগ্রামকে টেনে তোলে — এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার নাম bootstrapping, সংক্ষেপে booting.

উপমা: ৪×১০০ মিটার রিলে দৌড়ের কথা ভাবুন। প্রথম দৌড়বিদ (firmware) ছোট পথ দৌড়ে বাটন দেয় দ্বিতীয়জনকে (bootloader), সে দেয় তৃতীয়জনকে (kernel), তারপর শেষজন (login ও ডেস্কটপ) ফিতা ছোঁয়। কেউ বাটন ফেলে দিলে দৌড় থেমে যায় — আর কোথায় থামল, সেটা দেখেই বোঝা যায় কে পড়ে গেছে। কম্পিউটার “চালু হয় না” সমস্যার প্রায় সব রহস্য এই এক ধারণায় খুলে যায়।

নামটি এসেছে ইংরেজি প্রবাদ “pull yourself up by your bootstraps” থেকে — জুতার পেছনের ফিতা ধরে নিজেকে নিজে টেনে তোলা, অর্থাৎ বাইরের সাহায্য ছাড়া অসম্ভব কাজ করা। কম্পিউটারও যেন নিজেকে নিজে জাগিয়ে তোলে (ভাবনার প্রশ্ন ১-এ গল্পটা আছে)।

বিদ্যুৎ আসার প্রথম মুহূর্ত — power good আর reset vector

বোতাম চাপলে প্রথমে চালু হয় PSU (power supply). দেয়ালের ২২০ ভোল্টকে সে 12 V, 5 V, 3.3 V-এ নামায়। কিন্তু চালুর মুহূর্তে ভোল্টেজ কাঁপে — ঠিক যেমন জেনারেটর চালুর পর কয়েক মুহূর্ত বাতি দপদপ করে। তাই PSU ভোল্টেজ স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তারপর মাদারবোর্ডকে একটি “সব ঠিক আছে” সংকেত পাঠায় — power good signal. ততক্ষণ CPU-কে reset অবস্থায় আটকে রাখা হয়, যাতে অস্থির বিদ্যুতে সে ভুল কিছু না করে বসে।

সংকেত পেয়ে CPU জেগে ওঠে আর প্রথম নির্দেশ আনতে যায় একটি নির্দিষ্ট, কারখানায় ঠিক করা ঠিকানায় — একে বলে reset vector. মাদারবোর্ড এমনভাবে বানানো যে এই ঠিকানায় আসলে বসে আছে firmware চিপটি। ফলে CPU-র প্রথম নির্দেশটিই firmware-এর প্রথম লাইন। (x86 CPU-তে এই ঠিকানা মেমরি-জগতের প্রায় একেবারে মাথায় — 4 GB সীমার ঠিক ১৬ byte নিচে।) এখান থেকেই রিলে দৌড় শুরু। পুরো দৌড়টা ধাপে ধাপে দেখুন — প্রতিটি ধাপে কে চালাচ্ছে আর RAM-এ কী আছে, সেদিকে চোখ রাখুন:

  1. PSUpower goodবিদ্যুৎ স্থির
  2. CPU resetreset vectorপ্রথম ঠিকানা
  3. UEFI firmwareflash চিপহার্ডওয়্যার জাগানো
  4. POSTself-testনিজেকে পরীক্ষা
  5. Boot deviceboot orderডিস্ক খোঁজা
  6. Bootloaderbootmgfw.efi / GRUBOS বাছাই
  7. KernelOS-এর মূলRAM-এ তোলা
  8. Driver ও servicesystemd / servicesযন্ত্র চেনা
  9. Loginপাসওয়ার্ড / PINব্যবহারকারী চেনা
  10. ডেস্কটপuser sessionকাজের জন্য প্রস্তুত
এই মুহূর্তের অবস্থা
কে চালাচ্ছে
RAM-এ কী আছে
পর্দায় কী দেখছেন
  1. PSU চালু। বোতাম আসলে সরাসরি বিদ্যুৎ দেয় না — মাদারবোর্ডকে একটি ছোট সংকেত দেয়, মাদারবোর্ড PSU-কে চালু হতে বলে। ভোল্টেজ স্থির হলে PSU পাঠায় power good. এখনো একটি নির্দেশও চলেনি।
  2. CPU-র reset ছাড়া। CPU জেগে নির্দিষ্ট reset vector ঠিকানা থেকে প্রথম নির্দেশ চায়। RAM তখনো ব্যবহারযোগ্য নয় — তাকে চালু করার নিয়মও firmware-কেই জানাতে হবে।
  3. Firmware চলছে। CPU flash চিপ থেকে সরাসরি firmware পড়ে চালায়। প্রথম কাজগুলোর একটি: RAM চালু করা (memory training — নতুন RAM লাগালে প্রথম boot কেন একটু দেরি হয়, এটাই কারণ)।
  4. POST — নিজেকে পরীক্ষা। CPU, RAM, গ্রাফিক্স, কিবোর্ড, স্টোরেজ নিয়ন্ত্রক ঠিক আছে কি না দেখা হয়। বড় সমস্যা হলে এখানেই থামে — বিপ বা LED দিয়ে জানায়, কারণ পর্দা তখনো চালু না-ও থাকতে পারে।
  5. Boot device খোঁজা। সেটিংয়ে রাখা তালিকা (boot order) ধরে firmware ডিস্কগুলো দেখে: কোনটিতে চালু হওয়ার মতো bootloader আছে? প্রথম যেটি পায়, তার bootloader RAM-এ তোলে।
  6. Bootloader দায়িত্ব নিল। Windows-এ Windows Boot Manager, Linux-এ সাধারণত GRUB. কোন OS চালু হবে ঠিক করে (dual boot হলে আপনাকে জিজ্ঞেস করে) আর kernel ফাইলটি খুঁজে RAM-এ তোলে।
  7. Kernel চালু। অপারেটিং সিস্টেমের হৃদয় এখন নিয়ন্ত্রণে। সে মেমরি, CPU কোর আর interrupt সাজায় — পর্ব ২৬-এ দেখা process আর scheduling-এর ব্যবস্থা এখানেই তৈরি হয়।
  8. Driver আর service. kernel প্রতিটি যন্ত্রের driver লোড করে (ডিস্ক, গ্রাফিক্স, নেটওয়ার্ক), তারপর প্রথম user-space প্রোগ্রাম চালায় — Linux-এ systemd, Windows-এ session manager — যারা বাকি সব পটভূমির service চালু করে।
  9. Login. কে ব্যবহার করবেন, তা যাচাই করা হয় — পাসওয়ার্ড, PIN বা আঙুলের ছাপ। এর আগ পর্যন্ত সব ছিল “সিস্টেমের” কাজ; এখান থেকে শুরু “আপনার” কাজ।
  10. ডেস্কটপ — user session. আপনার সেটিং, ওয়ালপেপার, টাস্কবার লোড হয়, তারপর startup apps চালু হয়। দৌড় শেষ — সাধারণ SSD-ওয়ালা কম্পিউটারে পুরোটা দশ-বিশ সেকেন্ডের মধ্যে।
মূল ধারণা

প্রতিটি ধাপের প্রোগ্রাম আগেরটির চেয়ে বড় আর বেশি সক্ষম, কিন্তু প্রতিটি শুধু একটি কাজ জানে: পরের ধাপকে খুঁজে বের করে মেমরিতে তোলা আর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া। তাই boot সমস্যা ধরার প্রথম প্রশ্ন সবসময়: “দৌড় কোন ধাপ পর্যন্ত পৌঁছেছে?”

২ · Firmware — পুরোনো BIOS আর আধুনিক UEFI

প্রথম দৌড়বিদের দুটি প্রজন্ম আছে। BIOS (Basic Input/Output System) এসেছিল ১৯৮১ সালের IBM PC-র সাথে, আর প্রায় তিন দশক ধরে প্রায় প্রতিটি PC-তে ছিল। তার উত্তরসূরি UEFI (Unified Extensible Firmware Interface). ২০১০-এর দশক থেকে কেনা প্রায় সব কম্পিউটারে আসলে UEFI থাকে — যদিও অভ্যাসবশত অনেকেই এখনো একে “BIOS” বলেন, আর সেটিং পর্দাতেও প্রায়ই “BIOS Setup” লেখা থাকে।

বিষয়Legacy BIOSUEFI
সময়কাল১৯৮১ (IBM PC) থেকে প্রায় ২০১০ পর্যন্ত প্রধান২০১০-এর দশক থেকে প্রায় সব নতুন PC
সেটিং পর্দানীল-ধূসর টেক্সট, শুধু কিবোর্ডপ্রায়ই গ্রাফিক্যাল, মাউস চলে
ডিস্কের ধরনMBR; boot ডিস্ক সর্বোচ্চ প্রায় ২ TBGPT; কার্যত সীমাহীন আকারের ডিস্ক
bootloader কোথায়ডিস্কের প্রথম sector-এর ৪৪৬ byte-এর ছোট কোডেEFI system partition-এ একটি সাধারণ .efi ফাইল
CPU মোড১৬-bit, মাত্র ১ MB মেমরি দেখতে পায়৩২/৬৪-bit, পুরো মেমরি ব্যবহার করে
নিরাপত্তাbootloader যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেইSecure Boot — স্বাক্ষর যাচাই করে
বাড়তি সুবিধাসীমিতদ্রুত boot, নেটওয়ার্ক, নিজস্ব driver, firmware আপডেট সহজ

অনেক UEFI কম্পিউটারে একটি “Legacy” বা CSM (Compatibility Support Module) অপশন থাকে — UEFI তখন পুরোনো BIOS-এর অভিনয় করে, যাতে পুরোনো OS বা MBR ডিস্ক চালানো যায়। নতুন কম্পিউটারে এই অপশন ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে। আর Windows 11 চালাতে UEFI মোড লাগে, Legacy নয়।

Setup পর্দায় কী কী থাকে

চালুর সময় নির্দিষ্ট একটি কী চাপলে firmware-এর setup পর্দা খোলে — ডেস্কটপে সাধারণত Del, ল্যাপটপে প্রায়ই F2; কিছু ব্র্যান্ডে F10 বা Esc. নির্মাতাভেদে আলাদা, তাই লোগোর নিচের লেখা বা ম্যানুয়াল দেখুন। Windows থেকেও যাওয়া যায়: Settings → System → Recovery → Advanced startup → Restart now, তারপর Troubleshoot → Advanced options → UEFI Firmware Settings. সেখানে সাধারণত থাকে:

  • Boot order — কোন ডিস্ক আগে খোঁজা হবে (অংশ ৩)।
  • তারিখ ও সময়, আর CPU-র তাপমাত্রা, পাখার গতি।
  • Secure Boot, TPM (অংশ ৭), Virtualization (VT-x/AMD-V — ভার্চুয়াল মেশিন চালাতে লাগে)।
  • RAM-এর গতি (XMP/EXPO প্রোফাইল), আর setup পাসওয়ার্ড।

CMOS ব্যাটারি — ছোট্ট ঘড়ির ব্যাটারি

মাদারবোর্ডে একটি চ্যাপ্টা, পয়সার মতো ব্যাটারি থাকে (সাধারণত CR2032). এটিকে বলে CMOS battery — পুরোনো দিনে সেটিং রাখা হতো CMOS প্রযুক্তির ছোট একটি মেমরিতে, যাকে বিদ্যুৎ দিত এই ব্যাটারি; নামটা সেখান থেকে। আজকের অনেক বোর্ডে সেটিং flash-এ থাকে, কিন্তু ভেতরের ঘড়ি এখনো এই ব্যাটারিতেই চলে। কয়েক বছর পর ব্যাটারি ফুরালে লক্ষণ: প্রতিবার চালুর পর তারিখ-সময় পুরোনো দিনে ফিরে যায়, সেটিং হারিয়ে যায়, কখনো “CMOS checksum error” বার্তা আসে। ভুল সময়ের কারণে ব্রাউজারে HTTPS সাইট খোলে না — অনেকে ভাবেন ইন্টারনেটের সমস্যা!

Firmware আপডেটে সাবধান: BIOS/UEFI আপডেট শুধু নির্মাতার অফিসিয়াল সাইট বা অ্যাপ থেকে নিন, ল্যাপটপ চার্জারে আর ডেস্কটপ UPS-এ রাখুন। আপডেটের মাঝখানে লোডশেডিং হলে firmware নষ্ট হয়ে কম্পিউটার একেবারেই চালু না-ও হতে পারে।

৩ · POST আর boot order — পরীক্ষা, তারপর ডিস্ক খোঁজা

POST মানে Power-On Self-Test — চালু হওয়ার মুহূর্তে নিজের পরীক্ষা। ডাক্তারের চেম্বারে ঢোকার পর নার্স যেমন আগে প্রেসার, তাপমাত্রা মেপে নেন, firmware-ও তেমনি দেখে নেয়: CPU সাড়া দিচ্ছে কি না, RAM আছে আর পড়া-লেখা যাচ্ছে কি না, গ্রাফিক্স কার্ড আছে কি না, কিবোর্ড আর স্টোরেজ নিয়ন্ত্রক চিনতে পারছে কি না।

সমস্যা হলে POST জানায় কীভাবে? মুশকিল হলো, গ্রাফিক্স চালু হওয়ার আগের সমস্যা পর্দায় দেখানো যায় না। তাই তিন রকম সংকেত:

  • Beep code: মাদারবোর্ডের ছোট স্পিকারে নির্দিষ্ট ছন্দে বিপ — যেমন কয়েকটি লম্বা বিপ, বা একটি লম্বা ও কয়েকটি ছোট। অনেক ডেস্কটপে একটি ছোট বিপ মানে “সব ঠিক আছে”। কিন্তু কোন ছন্দের কী মানে, তা firmware নির্মাতা (AMI, Phoenix ইত্যাদি) আর মাদারবোর্ড অনুযায়ী আলাদা — তাই অনুমান না করে নিজের বোর্ডের ম্যানুয়াল দেখুন।
  • Debug LED বা কোড: আধুনিক অনেক মাদারবোর্ডে CPU, DRAM, VGA, BOOT লেখা চারটি ছোট বাতি থাকে; যেটি জ্বলে থেকে যায়, সমস্যা সেখানে। দামি বোর্ডে দুই অঙ্কের কোড দেখানো ছোট ডিসপ্লেও থাকে। ল্যাপটপে কখনো চার্জিং বা Caps Lock বাতির জ্বলা-নেভার ছন্দে সংকেত দেয়।
  • পর্দার বার্তা: গ্রাফিক্স চালু হওয়ার পরের সমস্যা লেখা হয় — যেমন “CPU fan error”, “CMOS checksum error”, “Keyboard not detected”. বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি কী (প্রায়ই F1) চেপে এগোনো যায়।
যা দেখছেন বা শুনছেনসম্ভাব্য অর্থপ্রথম কাজ
পাখা ঘোরে, পর্দা কালো, বিপের নির্দিষ্ট ছন্দRAM বা গ্রাফিক্স পায়নিবিদ্যুৎ বন্ধ করে RAM খুলে আবার বসান
DRAM বাতি জ্বলে থাকেRAM সমস্যাএকটি RAM স্টিক রেখে চেষ্টা; অন্য স্লটে লাগান
VGA বাতি জ্বলে থাকেগ্রাফিক্স বা ডিসপ্লে সংযোগকেবল ঠিক পোর্টে (কার্ডে, বোর্ডে নয়) লাগানো কি না দেখুন
“CMOS checksum error”, সময় ভুলCMOS ব্যাটারি দুর্বলব্যাটারি বদলান, সেটিং আবার ঠিক করুন
“CPU fan error”CPU পাখা ঘুরছে না বা ভুল সংযোগেবন্ধ রাখুন; পাখা ও তার পরীক্ষা করুন — অতিরিক্ত গরমে CPU নষ্ট হতে পারে

Boot order আর boot menu

POST শেষে firmware একটি তালিকা ধরে চালু হওয়ার মতো ডিস্ক খোঁজে — এটাই boot order. যেমন: ১. Windows Boot Manager (ভেতরের SSD), ২. USB, ৩. Network. প্রথমটিতে bootloader পেলে আর পরেরগুলো দেখা হয় না। ভাবুন ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের লাইন — প্রথম কাউন্টার খোলা পেলে আপনি আর পরের কাউন্টারে যান না।

প্রতিবার setup-এ গিয়ে তালিকা বদলানোর বদলে, শুধু একবারের জন্য অন্য ডিস্ক থেকে চালাতে চাইলে আছে boot menu. চালুর মুহূর্তে একটি কী চাপলে ছোট একটি তালিকা আসে, সেখান থেকে বেছে নেন। সাধারণত কী হয় F12; কিছু ব্র্যান্ডে F11, F8, F9 বা Esc. Windows ইনস্টলের USB দিয়ে চালাতে এটিই সবচেয়ে সহজ পথ।

দ্রুত চালু হওয়ার জন্য অনেক আধুনিক কম্পিউটারে “Fast Boot” সেটিং থাকে — POST-এর অনেক পরীক্ষা বাদ দেয়, আর কিবোর্ডও দেরিতে চালু করে। ফলে চালুর সময় কী চাপার সুযোগ এক সেকেন্ডেরও কম। কী কাজ না করলে Windows-এর Advanced startup দিয়ে firmware-এ যান (অংশ ২)।

৪ · ডিস্কের মানচিত্র — MBR, GPT আর EFI system partition

firmware ডিস্ক পেল। কিন্তু একটি ৫০০ GB ডিস্কে কোটি কোটি ঘর — bootloader কোথায়, কোন অংশ কোন partition-এর (পর্ব ০৬-এ দেখা C:, D: ভাগ)? এ জন্য ডিস্কের শুরুতে থাকে একটি মানচিত্র — partition table. জমির দলিলে যেমন লেখা থাকে কোন দাগ কার, কোথা থেকে কোথা পর্যন্ত — এটিও তেমনি। দুই ধরনের মানচিত্র প্রচলিত।

MBR (Master Boot Record) এসেছে ১৯৮৩ সালের দিকে, IBM PC-র যুগে। পুরো মানচিত্র ডিস্কের প্রথম একটিমাত্র sector-এ — মাত্র ৫১২ byte. তার মধ্যে ৪৪৬ byte boot কোড, ৬৪ byte-এ চারটি partition-এর তথ্য (প্রতিটি ১৬ byte), আর শেষ ২ byte-এ একটি সই (55 AA hex), যা দেখে বোঝা যায় এটি বৈধ MBR. জায়গা কম বলেই সীমাবদ্ধতা: সর্বোচ্চ ৪টি primary partition (বেশি চাইলে একটিকে “extended” বানিয়ে ভেতরে ভাগ), আর ঠিকানা ৩২-bit বলে ৫১২ byte-এর sector-এ সর্বোচ্চ প্রায় ২ TB (২৩২ × ৫১২ byte).

GPT (GUID Partition Table) UEFI-র অংশ হিসেবে এসেছে। প্রতিটি partition চেনা হয় একটি ১২৮-bit-এর অনন্য নম্বর (GUID) দিয়ে, ঠিকানা ৬৪-bit — তাই ডিস্কের আকার কার্যত সীমাহীন (কোটি কোটি TB). Windows-এ সাধারণত ১২৮টি partition রাখা যায়। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা নিরাপত্তায়: মানচিত্রের একটি ব্যাকআপ কপি থাকে ডিস্কের একেবারে শেষে, আর প্রতিটি অংশের সাথে থাকে checksum (CRC32). শুরুর মানচিত্র নষ্ট হলে শেষের কপি থেকে উদ্ধার করা যায়। দুটি মানচিত্র পাশাপাশি রেখে দেখুন:

Sector 0 · MBR৪৪৬ B কোড + ৬৪ B টেবিল + 55 AA
টেবিলে ৪টি ঘরসর্বোচ্চ ৪টি primary
Partition ১–৪System Reserved, C:, D: …
ডিস্কের শেষকোনো ব্যাকআপ নেই
Sector 0 · Protective MBRপুরোনো টুলের জন্য “পাহারাদার”
GPT header + entry১২৮টি ঘর, GUID, CRC32
EFI system partition, MSR, C:, Recovery …প্রতিটির নিজস্ব GUID
ব্যাকআপ GPTডিস্কের একেবারে শেষে
তুলনা
দেখছি
MBR
GPT
  1. শুরুর sector. MBR ডিস্কে প্রথম ৫১২ byte-এ কোড আর মানচিত্র দুটোই গাদাগাদি। GPT ডিস্কেও প্রথম sector-এ একটি MBR থাকে — কিন্তু সেটি “protective”: পুরোনো টুল যেন ভুল করে ডিস্কটিকে খালি ভেবে মুছে না ফেলে, তাই সে বলে “পুরো ডিস্ক একটি অচেনা partition-এ ভরা”।
  2. Partition-এর তালিকা। MBR-এ মাত্র চারটি ঘর। GPT-তে আলাদা header আর সাধারণত ১২৮টি ঘর, প্রতিটিতে partition-এর ধরন ও নিজস্ব GUID, আর পুরো তালিকার checksum — একটি bit উল্টে গেলেও ধরা পড়ে।
  3. Partition-গুলো। MBR-এ BIOS খোঁজে “active” চিহ্নিত partition আর তার প্রথম sector-এর কোড চালায়। GPT-তে UEFI খোঁজে EFI system partition (ESP) — FAT32-এ ফরম্যাট করা ছোট একটি ভাগ, সাধারণত কয়েকশো MB — আর সেখানে রাখা bootloader ফাইল সরাসরি চালায়।
  4. ডিস্কের শেষ। MBR ডিস্কের শেষে বিশেষ কিছু নেই। GPT ডিস্কের শেষ কয়েকটি sector-এ পুরো মানচিত্রের ব্যাকআপ — শুরুরটা ভাইরাস বা ভুল টুলে নষ্ট হলে এখান থেকে ফেরত আনা যায়।
  5. কোনটি কখন। UEFI + GPT আজকের স্বাভাবিক জুটি, আর Windows 11 এভাবেই চলে। MBR দরকার হয় শুধু খুব পুরোনো কম্পিউটারে বা Legacy মোডে। ২ TB-র বেশি ডিস্ক MBR-এ নিলে বাড়তি জায়গা “unallocated” পড়ে থাকে — এটা চেনা একটি অভিযোগ।

নিজের কম্পিউটারে দেখতে চাইলে: Start বোতামে ডান-ক্লিক → Disk Management → ডিস্কের নামে (যেমন “Disk 0”) ডান-ক্লিক → Properties → Volumes ট্যাবে “Partition style” লেখা থাকে: GUID Partition Table (GPT) বা Master Boot Record (MBR). সেখানে ১০০–৩০০ MB-র একটি “EFI System Partition” আর একটি “Recovery” partition-ও দেখবেন — এগুলোর কোনো ড্রাইভ অক্ষর নেই, আর কখনো মুছবেন না।

MBR থেকে GPT-তে বদল: পুরোনো পদ্ধতি (diskpart-এর clean তারপর convert gpt) পুরো ডিস্ক মুছে ফেলে. Windows-এর সিস্টেম ডিস্ক ডেটা না মুছে বদলাতে Microsoft-এর নিজস্ব MBR2GPT টুল আছে — তবু আগে পুরো ব্যাকআপ নিন, আর বদলের পর firmware-এ UEFI মোড চালু করুন, নইলে কম্পিউটার আর চালু হবে না।

৫ · Bootloader থেকে login — OS কীভাবে জেগে ওঠে

Bootloader হলো দ্বিতীয় দৌড়বিদ: একটি ছোট প্রোগ্রাম, যার কাজ অপারেটিং সিস্টেমের kernel খুঁজে RAM-এ তোলা আর তাকে চালু করা। firmware শুধু “একটি ফাইল চালাতে” জানে; কোন OS, কোন সংস্করণ, কী সেটিং দিয়ে — সে সব সিদ্ধান্ত bootloader-এর।

🪟 Windows Boot Manager

ESP-তে রাখা bootmgfw.efi. সে পড়ে BCD (Boot Configuration Data) নামের একটি ছোট ডেটাবেস — কোন OS কোথায় — তারপর winload.efi চালায়, যে Windows kernel আর জরুরি driver RAM-এ তোলে।

Windows

🐧 GRUB

বেশিরভাগ Linux distribution-এর bootloader. চালুর সময় একটি মেনু দেখাতে পারে — কোন kernel সংস্করণ, বা Windows. সে kernel (vmlinuz) আর একটি ছোট অস্থায়ী ফাইল-সিস্টেম (initramfs) RAM-এ তোলে।

Linux

🍎 অন্যরা

Mac-এ Apple-এর নিজস্ব boot ব্যবস্থা, অনেক Linux-এ systemd-boot, আর পুরোনো যুগে LILO বা NTLDR (Windows XP পর্যন্ত)। নাম আলাদা, কাজ একই: kernel খুঁজে চালু করা।

macOS ও অন্যান্য

Dual boot — এক কম্পিউটারে দুই OS

একই কম্পিউটারে Windows আর Linux দুটোই রাখাকে বলে dual boot. দুটির জন্য আলাদা partition, কিন্তু ESP একটিই — সেখানে দুটির bootloader পাশাপাশি থাকে। সাধারণ নিয়ম: আগে Windows ইনস্টল করুন, পরে Linux; Linux-এর ইনস্টলার GRUB বসিয়ে মেনুতে Windows-কেও যোগ করে দেয়। পরে কখনো GRUB মেনু “হারিয়ে” গেলে প্রায়ই সেটি মোছেনি — Windows boot order-এ নিজেকে প্রথমে বসিয়েছে মাত্র। শুধু চেখে দেখার জন্য হলে ভার্চুয়াল মেশিন অনেক নিরাপদ।

Kernel, driver আর service

bootloader দায়িত্ব দেওয়ার পর kernel নিজেকে সাজায়: মেমরি ব্যবস্থাপনা, CPU-র সব কোর চালু, interrupt — পর্ব ২৬-এর সব ব্যবস্থা। তারপর একটি মুরগি-ডিম সমস্যা: আসল ফাইল-সিস্টেম পড়তে ডিস্কের driver লাগে, অথচ driver রাখা আছে সেই ডিস্কেই! সমাধান হলো জরুরি driver আগেই সাথে নিয়ে আসা — Windows-এ bootloader “boot-start” driver-গুলো kernel-এর সাথেই RAM-এ তোলে, Linux-এ সেগুলো থাকে initramfs-এ।

বাস্তব উদাহরণ: নতুন কিছু ল্যাপটপে Windows ইনস্টল করার সময় ইনস্টলার বলে “We couldn't find any drives” — অথচ SSD আছে। কারণ ঠিক এটিই: SSD-টি একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রকের (যেমন Intel-এর VMD/RST) পেছনে, আর ইনস্টলারের কাছে তার driver নেই। সমাধান: ল্যাপটপ নির্মাতার সাইট থেকে storage driver নামিয়ে USB-তে রাখা আর “Load driver” চেপে দেওয়া।

driver লোড হলে kernel প্রথম সাধারণ প্রোগ্রামটি চালায়। Linux-এ এটি init system — আজ বেশিরভাগ distribution-এ systemd, যার process নম্বর সবসময় 1. সে একটি তালিকা ধরে বাকি সব চালু করে: নেটওয়ার্ক, লগ, প্রিন্টার, লগইন পর্দা। Windows-এ শিকলটি মোটামুটি এমন: প্রথমে session manager (smss.exe); সে একদিকে চালায় wininit.exe, যে Service Control Manager (services.exe) চালু করে, আর অন্যদিকে winlogon.exe, যে login পর্দা দেখায়। এই পটভূমির প্রোগ্রামগুলোকে বলে service (Linux-এ daemon) — যেমন Windows Update, অ্যান্টিভাইরাস, Wi-Fi ব্যবস্থাপনা। Task Manager-এর Services ট্যাবে বা কমান্ড লাইনে (পর্ব ২৯) এগুলো দেখা যায়।

Login আর user session

পাসওয়ার্ড, PIN বা Windows Hello দিয়ে আপনি নিজেকে প্রমাণ করলেন। এবার OS আপনার জন্য একটি user session খোলে: আপনার ফোল্ডার, সেটিং, ওয়ালপেপার, আর Windows-এ explorer.exe (ডেস্কটপ আর টাস্কবার)। তারপর চলে startup apps — যে অ্যাপগুলো নিজে থেকে চালু হওয়ার অনুমতি নিয়ে রেখেছে। পর্ব ০৮-এ দেখেছেন, কম্পিউটার “চালু হতে দেরি করে” অভিযোগের বড় অংশ আসলে এই শেষ ধাপের — boot শেষ, কিন্তু দশটি অ্যাপ একসাথে চালু হচ্ছে। Task Manager → Startup apps ট্যাবে “Startup impact” দেখে অপ্রয়োজনীয়গুলো বন্ধ করুন।

৬ · Shut down, Restart, Sleep আর Fast Startup

“কম্পিউটার বন্ধ করে আবার চালু করুন” — IT সাপোর্টের সবচেয়ে বিখ্যাত পরামর্শ। কিন্তু Windows-এ “Shut down” করে আবার চালু করা আর “Restart” করা একই জিনিস নয়. কারণ বুঝতে আগে চারটি অবস্থা চিনুন:

অবস্থাRAM-এর কী হয়বিদ্যুৎ খরচফিরে আসতে
SleepRAM-এ সব থাকে, অল্প বিদ্যুৎ দিয়ে চালু রাখা হয়খুব কম, কিন্তু চলতে থাকেপ্রায় সাথে সাথে
HibernateRAM-এর সব কিছু ডিস্কে (hiberfil.sys) লিখে পুরো বন্ধশূন্যের কাছাকাছিকয়েক সেকেন্ড; খোলা অ্যাপ যেমন ছিল তেমন
Shut down (Fast Startup চালু)আপনার session বন্ধ; কিন্তু kernel আর driver-এর অবস্থা ডিস্কে সেভশূন্যের কাছাকাছিদ্রুত boot
Restartসব মুছে kernel নতুন করে শুরু থেকে—পুরো boot

Fast Startup (Windows 8 থেকে, সাধারণত নিজে থেকেই চালু) এক ধরনের অর্ধেক-hibernate. “Shut down” চাপলে Windows আপনার অ্যাপ আর session বন্ধ করে, কিন্তু kernel আর driver-এর অবস্থা ডিস্কে লিখে রাখে। পরের বার চালুর সময় পুরো kernel আবার শুরু না করে সেই সেভ করা অবস্থা ফেরত আনে — তাই দ্রুত। ফল: driver-এর গোলমাল বা আপডেটের পর “বন্ধ-চালু” করলে সমস্যা থেকে যেতে পারে, কিন্তু Restart করলে যায়। দুটির পথ পাশাপাশি দেখুন:

Shut down চাপলেনFast Startup চালু
kernel-এর অবস্থা ডিস্কেhiberfil.sys
চালু: সেভ থেকে ফেরতদ্রুত, কিন্তু পুরোনো অবস্থা
driver-এর গোলমাল থেকে যেতে পারেuptime চলতেই থাকে
Restart চাপলেনFast Startup উপেক্ষা
সব বন্ধ, কিছু সেভ নয়kernel পুরো থামে
চালু: শুরু থেকে bootনতুন kernel, নতুন driver
পরিষ্কার অবস্থাআপডেট পুরো প্রয়োগ
ভেতরে কী হচ্ছে
Shut down
Restart
  1. দুটি বোতাম, দুটি পথ। দেখতে দুটোই “বন্ধ করে চালু”, কিন্তু Windows এদের আলাদাভাবে সামলায়। Restart সবসময় Fast Startup উপেক্ষা করে।
  2. বন্ধের মুহূর্ত। Shut down-এ kernel আর driver-এর অবস্থা hibernation ফাইলে সেভ হয় — আপনার খোলা অ্যাপ নয়, শুধু সিস্টেমের অংশ। Restart-এ কিছুই সেভ হয় না।
  3. পরের চালু। Shut down-এর পর চালু হলে Windows সেভ করা kernel ফেরত আনে, তাই কয়েক সেকেন্ড বাঁচে। Restart-এ firmware, bootloader, kernel — পুরো দৌড়।
  4. ফলাফল। Task Manager-এর Performance ট্যাবে “Up time” দেখুন: প্রতিদিন Shut down করলেও এটি কয়েক দিন দেখাতে পারে! তাই সমস্যা সমাধানে বা আপডেটের পর সবসময় Restart. পুরো বন্ধ চাইলে Shift চেপে ধরে Shut down চাপুন।

Cold boot আর warm boot

পরীক্ষায় প্রায়ই আসে: cold boot মানে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থা থেকে পাওয়ার বোতাম চেপে চালু — POST-সহ পুরো প্রক্রিয়া। Warm boot মানে বিদ্যুৎ না কেটে কম্পিউটারকে আবার চালু করা — Restart, বা পুরোনো দিনে Ctrl+Alt+Del চেপে, বা কেসের reset বোতামে। warm boot-এ সাধারণত POST-এর কিছু পরীক্ষা বাদ পড়ে, তাই একটু দ্রুত।

৭ · Secure Boot, TPM আর bootkit — চালুর মুহূর্তের নিরাপত্তা

একটু ভাবুন: অ্যান্টিভাইরাস চালু হয় OS-এর পরে। তাহলে যদি কোনো ক্ষতিকর প্রোগ্রাম bootloader-এর জায়গা দখল করে, সে OS-এরও আগে চালু হবে — অ্যান্টিভাইরাস জাগার আগেই নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে পারবে। এমন malware-কে বলে bootkit; আর যে malware নিজেকে সিস্টেমের গভীরে লুকিয়ে রাখে, তাকে বলে rootkit. ঠেকানোর উপায় একটিই: প্রতিটি দৌড়বিদ বাটন দেওয়ার আগে পরেরজনের পরিচয়পত্র যাচাই করবে।

Secure Boot ঠিক এই কাজ করে। UEFI firmware-এর ভেতরে বিশ্বস্ত ডিজিটাল চাবির একটি তালিকা থাকে (পর্ব ৪৪-এ ডিজিটাল সিগনেচার বিস্তারিত)। bootloader চালানোর আগে firmware দেখে, ফাইলটি কোনো বিশ্বস্ত চাবি দিয়ে সই করা কি না। সই না মিললে চালায় না। তারপর Windows Boot Manager যাচাই করে kernel, kernel যাচাই করে driver — একটি “বিশ্বাসের শিকল” (chain of trust). বিমানবন্দরের কথা ভাবুন: গেটে টিকিট, তারপর নিরাপত্তা তল্লাশি, তারপর বোর্ডিং পাস — প্রতিটি ধাপ আগের ধাপের ওপর ভরসা করে, কিন্তু নিজেও যাচাই করে।

TPM (Trusted Platform Module) হলো মাদারবোর্ডে বা CPU-র ভেতরে একটি ছোট নিরাপত্তা-চিপ। এর দুটি বড় কাজ: (১) গোপন চাবি এমনভাবে রাখা, যাতে বাইরে বের করা না যায়; (২) boot-এর প্রতিটি ধাপের একটি “আঙুলের ছাপ” (hash) মেপে রাখা — একে বলে measured boot. Windows-এর ডিস্ক এনক্রিপশন BitLocker তার চাবি TPM-এ রাখে, আর TPM শুধু তখনই চাবি ছাড়ে, যখন boot-এর মাপ আগের মতো থাকে। কেউ ডিস্ক খুলে অন্য কম্পিউটারে লাগালে, বা boot-এর শিকলে কিছু বদলালে, চাবি মেলে না।

BitLocker recovery key আগে খুঁজে রাখুন: ঠিক এই কারণে firmware আপডেট, Secure Boot বন্ধ-চালু, বা boot order বদলানোর পর অনেক কম্পিউটার নীল পর্দায় ৪৮ অঙ্কের “BitLocker recovery key” চায়। নতুন অনেক Windows 11 ল্যাপটপে ডিভাইস এনক্রিপশন নিজে থেকেই চালু থাকে। চাবিটি সাধারণত আপনার Microsoft অ্যাকাউন্টে সেভ থাকে (account.microsoft.com → Devices → recovery keys); অফিসের কম্পিউটারে IT বিভাগের কাছে। firmware-এ হাত দেওয়ার আগে চাবিটি কোথায় আছে নিশ্চিত হোন — চাবি হারালে ডেটা উদ্ধারের সহজ কোনো উপায় নেই।

এ কারণেই Windows 11-এর ন্যূনতম শর্তে আছে UEFI, Secure Boot সমর্থন আর TPM 2.0. অনেক পুরোনো কিন্তু ভালো কম্পিউটার শুধু এই শর্তে Windows 11 পায়নি — যা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। নিজের অবস্থা দেখতে Win+R চেপে msinfo32 লিখুন: “BIOS Mode” (UEFI না Legacy) আর “Secure Boot State” (On/Off) সেখানে লেখা থাকে; TPM দেখতে tpm.msc.

Secure Boot মানে Linux চলবে না — এটা ভুল ধারণা। Ubuntu, Fedora-র মতো বড় distribution একটি ছোট মধ্যস্থ bootloader (shim) ব্যবহার করে, যেটি Microsoft-এর একটি চাবি দিয়ে সই করা; shim তারপর distribution-এর নিজের চাবিতে সই করা GRUB যাচাই করে চালায়। নিজের বানানো kernel চালাতে চাইলে নিজের চাবি যোগ করা, বা (জেনেবুঝে) Secure Boot বন্ধ করার পথও আছে।

৮ · চালু হয় না — লক্ষণ দেখে প্রথম সমাধান

এখন রিলে দৌড়ের ধারণাটি কাজে লাগানোর পালা। লক্ষণ দেখে বুঝুন কোন দৌড়বিদ পড়ে গেছে — তাহলেই জানবেন কোথায় হাত দিতে হবে। (সমস্যা সমাধানের সাধারণ পদ্ধতি — একবারে একটি জিনিস বদলানো, নোট রাখা — পর্ব ৪৯-এ আসবে।)

লক্ষণকোন ধাপে থেমেছেপ্রথমে যা করবেন
কোনো সাড়া নেই — বাতি, পাখা কিছুই নাবিদ্যুৎ / PSUপ্লাগ, মাল্টিপ্লাগ, UPS, পাওয়ার কেবল; ল্যাপটপে চার্জার আর ব্যাটারি
পাখা ঘোরে, পর্দা কালোPOST (RAM, গ্রাফিক্স)মনিটরের কেবল ও ইনপুট; বিদ্যুৎ খুলে RAM খুলে আবার বসানো; বিপ/LED দেখা
লোগোর পর “No bootable device” বা “Reboot and select proper boot device”boot device / bootloaderUSB খুলে ফেলা, boot order, ডিস্ক চেনা যাচ্ছে কি না (নিচের stepper)
Windows লোগো আর ঘুরন্ত বৃত্তে আটকে থাকেkernel / driver / আপডেটঅপেক্ষা (আপডেট চলতে পারে), তারপর Startup Repair বা safe mode
চালুর সময় নীল পর্দা (BSOD)kernel / driverstop code লিখে রাখুন; সাম্প্রতিক driver বা আপডেট সরান; safe mode
বারবার নিজে নিজে restart — boot loopdriver, আপডেট, বা হার্ডওয়্যারপরপর কয়েকবার ব্যর্থ হলে Windows নিজেই recovery পর্দা দেখায়; সেখান থেকে Startup Repair

“পাখা ঘোরে, পর্দা কালো” লক্ষণে RAM আবার বসানো (reseat) অবাক করার মতো প্রায়ই কাজ করে। বিদ্যুৎ পুরো খুলে, শরীরের স্থির বিদ্যুৎ সরিয়ে (পর্ব ০৮), ক্লিপ খুলে RAM বের করুন, তারপর “ক্লিক” না হওয়া পর্যন্ত সমানভাবে চেপে বসান।

“No bootable device” — ধাপে ধাপে

এই বার্তার মানে: firmware পুরো boot order ঘুরে কোথাও চালু হওয়ার মতো bootloader পায়নি। কারণ সহজ (একটি পেনড্রাইভ লাগানো) থেকে গুরুতর (ডিস্ক নষ্ট) পর্যন্ত হতে পারে। সস্তা আর নিরাপদ পরীক্ষা আগে, ঝুঁকির কাজ পরে:

  1. বাইরের ডিভাইসUSB, কার্ডখুলে ফেলুন
  2. Boot ordersetup / F12ঠিক ডিস্ক প্রথমে?
  3. ডিস্ক চেনা যায়?firmware তালিকাহার্ডওয়্যার যাচাই
  4. মোড মেলে?UEFI ↔ GPTLegacy/CSM
  5. Bootloader মেরামতStartup Repairrecovery USB
  6. ডেটা আগেbackupতারপর reinstall
প্রশ্ন আর সিদ্ধান্ত
প্রশ্ন
যদি “হ্যাঁ/না”
  1. সবচেয়ে সস্তা পরীক্ষা আগে। boot order-এ USB প্রথমে থাকলে আর একটি সাধারণ পেনড্রাইভ লাগানো থাকলে firmware সেখানে আটকে যায়। সব বাইরের স্টোরেজ খুলে Restart করুন।
  2. Boot order দেখুন। setup-এ গিয়ে দেখুন প্রথমে “Windows Boot Manager” বা আপনার SSD আছে কি না। firmware রিসেট বা CMOS ব্যাটারি বদলের পর তালিকা প্রায়ই এলোমেলো হয়ে যায়।
  3. ডিস্ক কি দেখাই যাচ্ছে? firmware-এর storage বা boot তালিকায় SSD-র নাম না থাকলে সমস্যা সফটওয়্যারে নয় — ঢিলা সংযোগ, নষ্ট ডিস্ক বা নিয়ন্ত্রক। এখানে কোনো কমান্ড চালিয়ে লাভ নেই।
  4. মোড মেলান। GPT ডিস্কের Windows চলবে UEFI মোডে, MBR ডিস্কের পুরোনো Windows Legacy/CSM মোডে। কেউ সেটিং বদলে দিলে ডিস্ক থাকা সত্ত্বেও “bootable” কিছু পাওয়া যায় না।
  5. Bootloader মেরামত। recovery USB বা Windows ইনস্টল USB দিয়ে চালু করে Repair your computer → Troubleshoot → Advanced options → Startup Repair. স্বয়ংক্রিয় মেরামত কাজ না করলে অভিজ্ঞরা Command Prompt-এ bcdboot বা bootrec ব্যবহার করেন — অফিসিয়াল নির্দেশনা পড়ে, বুঝে।
  6. শেষ উপায়ের আগে ডেটা। reinstall বা “Reset this PC”-র আগে ডেটা বাঁচান: ডিস্ক খুলে অন্য কম্পিউটারে লাগিয়ে, বা Linux-এর live USB দিয়ে চালিয়ে ফাইল কপি। মনে রাখুন — OS আবার বসানো যায়, পরিবারের ছবি নয়।

Windows-এর recovery অস্ত্রভান্ডার

Windows-এর ভেতরে একটি ছোট আলাদা OS থাকে — Windows Recovery Environment (WinRE). পরপর কয়েকবার চালু হতে ব্যর্থ হলে এটি নিজেই আসে; নইলে Settings → System → Recovery → Advanced startup, বা login পর্দায় Shift চেপে Restart. Troubleshoot → Advanced options-এ পাবেন:

  • Startup Repair — boot-এর সাধারণ সমস্যা নিজে খুঁজে ঠিক করে। প্রথমে এটিই।
  • Safe mode (Startup Settings → Restart → 4 বা F4) — শুধু জরুরি driver আর service নিয়ে চালু হয়; নতুন driver বা অ্যাপের সমস্যা সরাতে কাজে লাগে। পুরোনো দিনের F8 এখন সাধারণত কাজ করে না।
  • Uninstall Updates — সাম্প্রতিক আপডেটের পর সমস্যা শুরু হলে।
  • System Restore — আগে তৈরি একটি restore point-এ সিস্টেম ফাইল, driver আর সেটিং ফিরিয়ে নেয়; আপনার ব্যক্তিগত ফাইলে হাত দেয় না। (restore point আগে থেকে চালু না থাকলে এটি কাজে আসে না।)
  • Reset this PC — Windows নতুন করে বসায়, “Keep my files” বেছে ব্যক্তিগত ফাইল রাখা যায়; অ্যাপ আবার ইনস্টল করতে হয়। এটি আংশিক factory reset.

কম্পিউটার একেবারেই চালু না হলে এগুলোতে পৌঁছাতে লাগে একটি recovery drive — ভালো থাকার দিনেই বানিয়ে রাখুন: Start-এ “Create a recovery drive” লিখে খুঁজুন, একটি খালি পেনড্রাইভ দিন। আর firmware-এর সেটিং গুলিয়ে গেলে setup-এ “Load Optimized Defaults” (বা এমন নাম) দিয়ে কারখানার সেটিংয়ে ফেরা যায়; চালু না হলে বোর্ডের Clear CMOS জাম্পার বা কিছুক্ষণ CMOS ব্যাটারি খুলে রাখা — বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে।

নিজে বানান — OS ইনস্টলের bootable USB

নতুন Windows বা Linux ইনস্টল করতে লাগে একটি bootable USB — এমন পেনড্রাইভ, যেখানে ইনস্টলার এমনভাবে রাখা যে firmware তাকে boot device হিসেবে চেনে। শুধু ফাইল কপি করলে হয় না। নিরাপদ উপায়:

  • Windows: Microsoft-এর অফিসিয়াল সাইট থেকে Media Creation Tool নামান, সে নিজেই USB বানিয়ে দেয় (অন্তত ৮ GB-র পেনড্রাইভ)।
  • Linux: distribution-এর অফিসিয়াল সাইট থেকে ISO ফাইল নামান, সাইটে দেওয়া SHA-256 checksum মিলিয়ে নিন, তারপর Rufus (Windows-এ, ওপেন সোর্স) বা distribution-এর সুপারিশ করা টুল দিয়ে USB-তে লিখুন।
  • অচেনা সাইটের “activated” বা “lite” Windows ইমেজ কখনো নয় — malware ঢোকার সহজ পথ। আর USB বানাতে পেনড্রাইভের আগের সব ফাইল মোছে; ঠিক ড্রাইভ বাছাই করেছেন কি না দুবার দেখুন।

ফোন আর সার্ভার কীভাবে boot করে

স্মার্টফোনেও একই রিলে দৌড়: চিপের ভেতরের স্থায়ী boot ROM → bootloader → kernel → Android বা iOS. তবে ফোনের bootloader সাধারণত locked — শুধু নির্মাতার সই করা সফটওয়্যার চালায়; কিছু Android-এ unlock করা যায়, কিন্তু তাতে সব ডেটা মুছে যায়। পাওয়ার আর ভলিউম বোতাম একসাথে চেপে (মডেলভেদে আলাদা) recovery mode-এ যাওয়া যায় — সেখান থেকে factory reset বা আপডেট। আর বড় অফিস বা ডেটা সেন্টারে অনেক কম্পিউটার ডিস্ক ছাড়াই নেটওয়ার্ক থেকে bootloader নামিয়ে চালু হয় — এর মান হলো PXE (Preboot eXecution Environment), যা দিয়ে একসাথে শত শত কম্পিউটারে OS বসানো যায়।

নিজে চালিয়ে দেখুন — boot সিমুলেটর

নিচের কোডটি একটি কাল্পনিক কম্পিউটারের boot লগ ছাপে। শুরুতে সব ঠিক আছে। তারপর ওপরের pc-তে একটি মান false করুন, বা bootOrder বদলান, আর আবার Run চাপুন — দেখুন দৌড় কোথায় থামে আর কী বার্তা দেয়। (সময়গুলো কাল্পনিক, বোঝার সুবিধার জন্য।)

const pc = { ramOK: true, diskFound: true, bootloaderOK: true, driverOK: true };
const bootOrder = ['USB', 'SSD'];            // কোন ডিভাইস আগে খোঁজা হবে
let ms = 0;
const log = (msg) => console.log(`[${String(ms += 400).padStart(5)} ms] ${msg}`);

function boot() {
  log('Power good -> CPU starts at reset vector (firmware)');
  if (!pc.ramOK) return log('POST FAIL: no usable RAM -> beep code, black screen');
  log('POST OK: CPU, RAM, GPU, keyboard checked');
  for (const dev of bootOrder) {
    const ok = dev === 'SSD' && pc.diskFound;   // USB-তে কিছু নেই
    log(`Boot order: trying ${dev} ... ${ok ? 'EFI partition found' : 'nothing bootable'}`);
    if (!ok) continue;
    if (!pc.bootloaderOK) return log('ERROR: bootloader missing -> Startup Repair from USB');
    log('Bootloader loads kernel into RAM');
    if (!pc.driverOK) return log('Kernel: storage driver failed -> BSOD / boot loop');
    log('Kernel starts drivers and services');
    return log('Login screen -> desktop after sign-in');
  }
  log('No bootable device -- check boot order and disk');
}
boot();

Run চাপলে আউটপুট আসে সাত লাইন: [ 400 ms] Power good -> CPU starts at reset vector (firmware), তারপর POST OK, তারপর Boot order: trying USB ... nothing bootable — USB আগে খোঁজা হলো, কিছু পাওয়া গেল না, তাই continue দিয়ে পরেরটায়। তারপর trying SSD ... EFI partition found, Bootloader loads kernel into RAM, Kernel starts drivers and services, আর শেষে [ 2800 ms] Login screen -> desktop after sign-in. প্রতিটি if (...) return হলো রিলে দৌড়ের একটি “বাটন পড়ে যাওয়ার” জায়গা: সেখানে থামলে পরের কোনো ধাপ আর চলে না। diskFound: false করলে দুটি ডিভাইসই “nothing bootable” দেখায় আর শেষ লাইন হয় No bootable device — বাস্তবের বার্তার মতোই।

পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে — এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে:

  • POST-এর পূর্ণরূপ কী, কাজ কী? Power-On Self-Test — চালুর সময় firmware CPU, RAM, গ্রাফিক্স, কিবোর্ড ইত্যাদি ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করে।
  • BIOS কোথায় থাকে, কাজ কী? Basic Input/Output System; মাদারবোর্ডের ROM/flash চিপে থাকা firmware — হার্ডওয়্যার চালু ও পরীক্ষা করে, তারপর bootloader খুঁজে OS চালু করায়।
  • MBR আর GPT-র পার্থক্য? MBR: সর্বোচ্চ প্রায় ২ TB আর ৪টি primary partition, BIOS-এর যুগের; GPT: বিশাল ডিস্ক, সাধারণত ১২৮টি partition, ব্যাকআপ টেবিল, UEFI-র সাথে।
  • Bootloader-এর উদাহরণ? Windows Boot Manager, GRUB (Linux), পুরোনো NTLDR ও LILO.
  • Cold boot আর warm boot? cold boot: বন্ধ অবস্থা থেকে পাওয়ার বোতাম দিয়ে চালু; warm boot: বিদ্যুৎ না কেটে restart (যেমন Ctrl+Alt+Del).

আরও গভীরে: boot শেষে kernel কীভাবে প্রথম process তৈরি করে, system call কীভাবে কাজ করে, আর monolithic বনাম microkernel নকশায় driver কোথায় বসে — জানতে আমাদের Operating Systems কোর্স দেখুন; শুরু করতে পারেন OS-এর গঠন পর্বটি দিয়ে। আর আগ্রহী হলে Linux-এ systemd-analyze blame চালিয়ে দেখুন কোন service চালু হতে কত সময় নিল।

৯ · AI-এর যুগে — boot মেরামতের কমান্ড অন্ধভাবে নয়

কম্পিউটার চালু না হলে মানুষ ফোন হাতে নিয়ে AI চ্যাটবটকে জিজ্ঞেস করেন — খুব স্বাভাবিক। AI প্রায়ই ভালো দিক দেখায়: লক্ষণ থেকে সম্ভাব্য কারণ, কোন মেনুতে কী আছে, কোন কমান্ড কী করে। কিন্তু এই বিষয়ে একটি বড় বিপদ আছে: boot মেরামতের কিছু কমান্ড পুরো ডিস্ক মুছে ফেলতে পারে, আর AI কখনো আপনার পরিস্থিতি না জেনেই আত্মবিশ্বাসের সাথে সেগুলো দেয়। ভুল ডিস্ক নম্বর, ভুল partition, MBR-এর কমান্ড GPT ডিস্কে — একটি লাইনেই পরিবারের সব ছবি শেষ হতে পারে। আর AI কখনো এমন অপশন বা মেনুর নাম বানিয়েও বলে, যা আপনার Windows সংস্করণে নেই (AI hallucination).

AI যা বলতে পারেঝুঁকিকী করবেন
diskpart-এ select disk 0, তারপর cleanclean পুরো ডিস্কের partition table মুছে দেয়ডেটা থাকলে কখনো নয়; আগে ব্যাকআপ, আর ডিস্ক নম্বর আকার দেখে নিশ্চিত হোন
convert gpt / convert mbrdiskpart-এ এটি শুধু খালি ডিস্কে চলে — মানে আগে মুছতে হয়ডেটা রেখে বদলাতে Microsoft-এর MBR2GPT, অফিসিয়াল নির্দেশনা মেনে
bootrec /fixmbr সব ক্ষেত্রেএটি MBR/Legacy ডিস্কের জন্য; GPT/UEFI-তে প্রায়ই অর্থহীনআগে Startup Repair; তারপর আপনার মোড অনুযায়ী অফিসিয়াল কমান্ড
Linux-এ dd দিয়ে USB লেখাভুল ডিভাইস (যেমন মূল ডিস্ক) দিলে সব মুছে যায়আকার দেখে ডিভাইস চিনুন, বা Rufus-এর মতো গ্রাফিক্যাল টুল
“Secure Boot বন্ধ করে দিন”নিরাপত্তা কমে; BitLocker recovery key চাইতে পারেকারণ বুঝুন; চাবি হাতে রাখুন; কাজ শেষে আবার চালু

নিচের prompt-টি কপি করে নিজের তথ্য বসান। খেয়াল করুন, AI-কে আগে প্রশ্ন করতে, নিরাপদ ধাপ আগে দিতে আর বিপজ্জনক কমান্ড আলাদা করে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে:

আমার কম্পিউটার চালু হচ্ছে না। তথ্য: [ব্র্যান্ড ও মডেল], [Windows 10/11 বা Linux], [পর্দায় ঠিক যে বার্তা আসে, হুবহু], [সমস্যার আগে কী করেছিলাম — আপডেট, নতুন হার্ডওয়্যার, সেটিং বদল], [ডিস্কে ব্যাকআপ ছাড়া জরুরি ডেটা আছে কি না]. ১. সমস্যাটি boot-এর কোন ধাপে (POST, boot device, bootloader, kernel/driver) — যুক্তিসহ বলো। ২. আমার কাছে আর কোন তথ্য জানা দরকার, আগে সেই প্রশ্নগুলো করো। ৩. সবচেয়ে নিরাপদ, ডেটা না মোছা ধাপগুলো আগে দাও, ক্রম অনুসারে। ৪. যে কমান্ড বা কাজে ডেটা মুছে যেতে পারে, সেটি আলাদা করে “⚠ ডেটা মুছতে পারে” লিখে চিহ্নিত করো, আর বিকল্প বলো। ৫. প্রতিটি কমান্ডের জন্য Microsoft বা distribution-এর কোন অফিসিয়াল নির্দেশনায় এটি আছে, তার নাম দাও। নিশ্চিত না হলে স্পষ্ট বলো।

AI-এর পরামর্শ মানার আগে — চেকলিস্ট

ভাবনার প্রশ্ন

প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে কিছুক্ষণ ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন। boot-এর ইতিহাস আসলে পুরো PC শিল্পের ইতিহাসের একটি জানালা।

প্র ০১“Booting” শব্দটি জুতার ফিতা থেকে এলো কীভাবে? প্রথম দিকের কম্পিউটার কীভাবে চালু হতো?

ইংরেজিতে একটি পুরোনো প্রবাদ আছে: “pull oneself up by one's bootstraps” — বুটজুতার পেছনের ফিতা ধরে টেনে নিজেকে মাটি থেকে তোলা। আক্ষরিক অর্থে কাজটি অসম্ভব; উনিশ শতকে কথাটি ঠাট্টা করেই বলা হতো। পরে অর্থ দাঁড়ায় “বাইরের সাহায্য ছাড়া নিজের চেষ্টায় ওঠা”। ১৯৫০-এর দশকে কম্পিউটার প্রকৌশলীরা ঠিক এমন একটি সমস্যায় পড়েন: প্রোগ্রাম লোড করতে একটি প্রোগ্রাম লাগে — তাহলে প্রথমটি লোড করবে কে? যে ছোট্ট প্রোগ্রাম এই অসম্ভবকে সম্ভব করে, তার নাম হয় “bootstrap loader”, আর সংক্ষেপে কাজটির নাম “booting”.

প্রথম দিকের কম্পিউটারে এই ছোট প্রোগ্রাম মানুষকে হাতে ঢোকাতে হতো। অনেক যন্ত্রের সামনে থাকত সারি সারি সুইচ; অপারেটর প্রতিটি নির্দেশ বাইনারিতে সুইচ উঠিয়ে-নামিয়ে মেমরিতে বসাতেন (পর্ব ১৬-এর বাইনারি এখানে একেবারে আক্ষরিক)। ১৯৬০-৭০-এর দশকের জনপ্রিয় minicomputer-এ (যেমন DEC-এর PDP সিরিজ) অপারেটরদের কয়েক ডজন নির্দেশের এই loader প্রায় মুখস্থ থাকত। কিছু বড় IBM কম্পিউটারে একটি “Load” বোতাম ছিল: চাপলে যন্ত্র punched card বা টেপ থেকে প্রথম কয়েকটি নির্দেশ পড়ে নিত, সেই নির্দেশগুলো বাকি প্রোগ্রাম পড়ত — অর্থাৎ আজকের মতোই ছোট থেকে বড়ের দিকে রিলে।

পরে এই প্রথম প্রোগ্রামটি স্থায়ী মেমরিতে, ROM-এ (পর্ব ০৪) রাখার ব্যবস্থা হলো — আর সুইচ টেপার দিন শেষ। আজকের কম্পিউটারে কাজটি করে firmware, ফোনে চিপের ভেতরের boot ROM. কিন্তু মূল ধারণা একটুও বদলায়নি: কোথাও না কোথাও একটি ছোট প্রোগ্রাম থাকতেই হবে, যা বিদ্যুৎ চলে গেলেও হারায় না, আর CPU যে ঠিকানা থেকে শুরু করে ঠিক সেখানে বসানো।

মূল উপলব্ধি: booting একটি মৌলিক সমস্যার সমাধান — কোনো প্রোগ্রামই শূন্য থেকে শুরু হতে পারে না। তাই প্রতিটি কম্পিউটারের ভেতরে একটি স্থায়ী, বিশ্বস্ত “প্রথম ধাপ” থাকে, আর সেই ধাপ যত ছোট ও নিরাপদ, পুরো ব্যবস্থাও তত নির্ভরযোগ্য।

প্র ০২IBM-এর BIOS কীভাবে “নকল” না করে নতুন করে লেখা হলো — আর তাতে কেন বিশ্বজুড়ে PC clone শিল্প জন্ম নিল?

“BIOS” নামটি প্রথম ব্যবহার করেন Gary Kildall, ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি তাঁর CP/M অপারেটিং সিস্টেমে — হার্ডওয়্যার-নির্ভর ছোট অংশটিকে আলাদা করে রাখার জন্য, যাতে বাকি OS যেকোনো যন্ত্রে চলে। ১৯৮১ সালের আগস্টে IBM বাজারে আনে IBM PC (মডেল 5150). এর প্রায় সব অংশ — Intel-এর 8088 CPU, Microsoft-এর DOS — বাইরে থেকে কেনা। একমাত্র নিজস্ব “গোপন রত্ন” ছিল BIOS, যা ROM চিপে থাকত আর কপিরাইটে সুরক্ষিত ছিল। মজার ব্যাপার, IBM তার Technical Reference ম্যানুয়ালে BIOS-এর পুরো source code ছাপিয়েছিল — যাতে প্রোগ্রামাররা যন্ত্রটি বোঝেন, কিন্তু কেউ হুবহু কপি করলে মামলা করা যায়।

অন্য কোম্পানিগুলো বুঝল: বাকি অংশ বাজারেই কেনা যায়; শুধু BIOS আইনসম্মতভাবে বানাতে পারলেই IBM-এর সাথে পুরোপুরি মেলে এমন কম্পিউটার বানানো সম্ভব। পথটির নাম clean-room design. একদল প্রকৌশলী IBM-এর ম্যানুয়াল আর BIOS-এর আচরণ খুঁটিয়ে দেখে শুধু একটি বিবরণ লেখেন — “এই কাজে এই ফল আসে”, কোনো কোড নয়। আরেকটি দল, যারা IBM-এর কোড কখনো দেখেননি, শুধু সেই বিবরণ পড়ে একেবারে নতুন কোড লেখেন। ফল একই আচরণ, কিন্তু কপি নয় — তাই কপিরাইট ভাঙে না।

১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত Compaq এভাবে নিজস্ব BIOS বানিয়ে ১৯৮৩ সালে বাজারে আনে Compaq Portable — প্রায় পুরোপুরি IBM-সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর প্রথম বছরেই বিপুল বিক্রি। তারপর ১৯৮৪ সালে Phoenix Technologies একই পদ্ধতিতে বানানো BIOS অন্য নির্মাতাদের কাছে বিক্রি শুরু করে। এবার যেকোনো ছোট কোম্পানি — তাইওয়ানের হোক বা আমেরিকার — বাজারের অংশ কিনে আর Phoenix (পরে Award, AMI) থেকে BIOS কিনে “IBM compatible” PC বানাতে পারল।

ফলাফল ঐতিহাসিক: দাম দ্রুত কমল, প্রতিযোগিতা বাড়ল, আর কয়েক বছরের মধ্যে PC বাজারের নিয়ন্ত্রণ IBM-এর হাত থেকে চলে গেল clone নির্মাতাদের হাতে — আর বাজারের কেন্দ্রে এল Microsoft (OS) আর Intel (CPU). ঢাকার IDB ভবন বা মফস্বলের দোকানে আজ যে আলাদা আলাদা অংশ কিনে “অ্যাসেম্বল” কম্পিউটার বানানো যায়, তার শিকড় এই ঘটনায়।

মূল উপলব্ধি: একটি ছোট firmware-এর interface (আচরণ) উন্মুক্ত হওয়ায় একটি পুরো শিল্প খুলে গিয়েছিল। প্রযুক্তিতে কে কোন মান (standard) নিয়ন্ত্রণ করে, অনেক সময় সেটিই ঠিক করে দেয় বাজার কার হাতে থাকবে।

প্র ০৩প্রায় তিন দশক চলা BIOS-কে কেন সরিয়ে UEFI আনতে হলো?

BIOS নকশা করা হয়েছিল ১৯৮১ সালের যন্ত্রের জন্য: 8088 CPU, যা ১৬-bit “real mode”-এ চলে আর মাত্র ১ MB মেমরি দেখতে পায়। পিছনের সামঞ্জস্য (backward compatibility) রাখতে আজকের ৬৪-bit CPU-ও চালুর মুহূর্তে সেই পুরোনো মোডে জেগে ওঠে, আর BIOS সেই সংকীর্ণ জগতেই কাজ করত। নতুন প্রতিটি যন্ত্র — USB, নেটওয়ার্ক কার্ড, RAID — সামলাতে BIOS-এ জোড়াতালি বাড়তে থাকল। boot কোডের জায়গা MBR-এর ৪৪৬ byte, আর ডিস্কের সীমা প্রায় ২ TB — ২০০০-এর দশকে বড় হার্ডডিস্ক আসতেই এটি সত্যিকারের দেয়াল হয়ে দাঁড়াল।

Intel সমস্যাটি আগেই টের পেয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকের শেষে তারা Itanium নামের একটি নতুন ৬৪-bit সার্ভার CPU বানাচ্ছিল, যেখানে পুরোনো PC BIOS চালানোর কোনো মানে ছিল না। তাই ১৯৯৮ সালের দিকে Intel শুরু করে একটি নতুন firmware নকশা — পরে নাম হয় EFI (Extensible Firmware Interface). Itanium বাজারে তেমন সফল হয়নি, কিন্তু EFI-র ধারণা টিকে গেল। ২০০৫ সালে Intel, AMD, Microsoft, Apple, বড় PC নির্মাতা আর firmware কোম্পানিগুলো মিলে গঠন করে UEFI Forum, আর EFI হয়ে যায় সবার যৌথ মান — UEFI. ২০০৬ সালে Apple যখন Intel CPU-তে আসে, Mac-গুলো শুরু থেকেই EFI ব্যবহার করে।

UEFI মূলত একটি ছোট অপারেটিং সিস্টেমের মতো: পুরো ৩২/৬৪-bit মোডে চলে, নিজস্ব driver আছে, FAT ফাইল-সিস্টেম পড়তে পারে, আর bootloader হলো সাধারণ একটি ফাইল — ৪৪৬ byte-এ কোড গুঁজে রাখার দরকার নেই। GPT দিয়ে ডিস্কের সীমা কার্যত উঠে গেল। গ্রাফিক্যাল setup, নেটওয়ার্ক boot, আর Secure Boot-এর মতো নিরাপত্তা যুক্ত হলো। Windows 8 (২০১২)-এর সময় থেকে নতুন PC-তে UEFI আর Secure Boot স্বাভাবিক হয়ে যায়, আর Windows 11 (২০২১) Legacy BIOS মোডে আর চলেই না।

মূল উপলব্ধি: backward compatibility যত মূল্যবান, তত বড় বোঝাও — একসময় পুরোনো নকশার সীমা এত শক্ত হয় যে নতুন ভিত্তি গড়তেই হয়। আর ভালো রূপান্তর হয় ধীরে, CSM-এর মতো সেতু রেখে, যাতে পুরোনো ব্যবহারকারী হঠাৎ বিপদে না পড়েন।

প্র ০৪Secure Boot কি শুধু নিরাপত্তা, নাকি “আমার কম্পিউটারে আমি কী চালাব” — তার নিয়ন্ত্রণও?

২০১১ সালে যখন জানা গেল Windows 8-এর লোগো পেতে নতুন PC-তে Secure Boot চালু থাকতে হবে, তখন বড় বিতর্ক শুরু হয়। Linux সম্প্রদায় আর Free Software Foundation-এর মতো সংগঠন উদ্বেগ জানাল: firmware-এ যদি শুধু Microsoft-এর চাবি থাকে, আর Secure Boot বন্ধ করার উপায় না থাকে, তাহলে কেনা কম্পিউটারে Linux বা নিজের বানানো সফটওয়্যার চালানোই অসম্ভব হয়ে যাবে। FSF একে নাম দিল “Restricted Boot” — অর্থাৎ নিরাপত্তার নামে মালিকের হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ সরানো।

শেষ পর্যন্ত একটি আপস দাঁড়াল। x86 PC-র জন্য Microsoft-এর শর্তে বলা হলো, ব্যবহারকারী চাইলে Secure Boot বন্ধ করতে পারবেন, আর নিজের চাবিও যোগ করতে পারবেন। Linux distribution-গুলো বানাল shim: একটি ছোট bootloader, যাকে Microsoft তার UEFI CA চাবি দিয়ে সই করে দেয়। shim-এর ভেতরে থাকে distribution-এর নিজের চাবি, যা দিয়ে সে GRUB আর kernel যাচাই করে; ব্যবহারকারীও MOK (Machine Owner Key) নামে নিজের চাবি যোগ করতে পারেন। ফলে Ubuntu বা Fedora Secure Boot চালু রেখেই চলে। কিন্তু উদ্বেগ পুরো ভিত্তিহীন ছিল না: সেই সময়ের ARM-ভিত্তিক Windows RT ট্যাবলেটে Secure Boot বন্ধ করার কোনো উপায় রাখা হয়নি — সেখানে অন্য OS চালানো কার্যত অসম্ভব ছিল। আর আজকের অধিকাংশ স্মার্টফোনের locked bootloader-ও একই প্রশ্ন তোলে।

অন্য দিকে, যিনি কখনো firmware-এ ঢোকেন না, সেই সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য Secure Boot একটি বড় সুরক্ষা — বিশেষ করে যেখানে পরিবর্তিত, অচেনা উৎসের ইনস্টলার প্রচুর চলে।

আসল প্রশ্নটি তাই প্রযুক্তি নয়, বরং চাবি কার হাতে. চাবির তালিকা যদি মালিক বদলাতে পারেন, তাহলে Secure Boot মালিকের পক্ষে কাজ করে — তিনি ঠিক করেন কাকে বিশ্বাস করবেন। আর যদি না পারেন, তাহলে একই প্রযুক্তি মালিকের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হয়ে যায়। “right to repair” আর “ডিভাইসের মালিকানা” নিয়ে আজকের আলোচনা এই একই প্রশ্নের বড় রূপ।

মূল উপলব্ধি: নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিরপেক্ষ নয় — সেটি কাকে সুরক্ষা দেয় আর কাকে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা দেয়, তা নির্ভর করে চাবির নিয়ন্ত্রণের ওপর। ভালো নকশা দুটোই দেয়: নিরাপদ ডিফল্ট, আর জেনেবুঝে বদলানোর স্বাধীনতা।

প্র ০৫Boot sector ভাইরাস থেকে UEFI bootkit — firmware-এর নিরাপত্তা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল?

IBM PC-র জন্য প্রথম পরিচিত ভাইরাসগুলোর একটি ছিল “Brain” (১৯৮৬), যা লেখা হয়েছিল পাকিস্তানের লাহোরে, দুই ভাই Basit ও Amjad Farooq Alvi-র হাতে। এটি ফ্লপি ডিস্কের boot sector-এ বসত: সংক্রমিত ফ্লপি দিয়ে কম্পিউটার চালু হলেই ভাইরাস OS-এর আগে চালু হয়ে মেমরিতে থেকে যেত, আর পরের ফ্লপিতে ছড়াত। boot sector ভাইরাস ১৯৮০-৯০-এর দশকে খুব সাধারণ ছিল; ১৯৯৮ সালের CIH (Chernobyl নামেও পরিচিত) কিছু মাদারবোর্ডের BIOS চিপের লেখাই মুছে দিত, ফলে কম্পিউটার আর চালু হতো না — firmware যে আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারে, তার প্রথম বড় শিক্ষা।

২০০০-এর দশকে আক্রমণ আরও গোপন হলো। rootkit নিজেকে OS-এর গভীরে লুকিয়ে অ্যান্টিভাইরাসকে “মিথ্যা” বলত — যেমন ফাইলের তালিকা থেকে নিজের ফাইল সরিয়ে দেখানো। আর কিছু malware MBR দখল করে OS-এর আগে চালু হয়ে বসত — bootkit. এগুলো ধরা কঠিন, কারণ যে অ্যান্টিভাইরাস খুঁজবে, সে নিজেই চালু হয় পরে।

UEFI আর Secure Boot এই পথ অনেকটা বন্ধ করে। কিন্তু আক্রমণকারীরাও আরও নিচে নামল। ২০১৮ সালে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ESET জানায় LoJax-এর কথা — বাস্তব আক্রমণে পাওয়া প্রথম পরিচিত UEFI rootkit, যা মাদারবোর্ডের flash চিপেই বসে থাকত; ডিস্ক বদলালে বা Windows নতুন করে বসালেও টিকে যেত। ২০২৩ সালে প্রকাশ্যে আলোচিত BlackLotus দেখাল, Windows-এর একটি পুরোনো, ত্রুটিপূর্ণ কিন্তু বৈধভাবে সই করা boot ফাইল ব্যবহার করে আপডেটেড কম্পিউটারেও Secure Boot পাশ কাটানো যায় — যে কারণে Microsoft-কে পুরোনো বিশ্বস্ত ফাইল বাতিলের (revocation) দীর্ঘ প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।

প্রতিরক্ষার শিক্ষা তাই পরিষ্কার: firmware আর OS অফিসিয়াল উৎস থেকে হালনাগাদ রাখা, Secure Boot আর BitLocker চালু রাখা, firmware setup-এ পাসওয়ার্ড, আর “cracked” সফটওয়্যার এড়ানো।

মূল উপলব্ধি: যে কোড সবার আগে চালু হয়, তার ওপরই বাকি সব কিছুর বিশ্বাস দাঁড়িয়ে থাকে। তাই নিরাপত্তার লড়াই ক্রমশ নিচের স্তরে নেমেছে — ফাইল থেকে boot sector, সেখান থেকে firmware. ভিত্তি দুর্বল হলে ওপরের তালা যত মজবুতই হোক, কাজ করে না।

অনুশীলন

প্রথম দুটি নিজের Windows কম্পিউটারে দেখে করুন (কিছু বদলাবেন না, শুধু দেখবেন)। তৃতীয়টি ভাবনার, চতুর্থটি ওপরের সিমুলেটর নিয়ে।

  1. আপনার firmware চিনুন: Win+R চেপে msinfo32 চালান। “BIOS Version/Date”, “BIOS Mode” আর “Secure Boot State” লিখে রাখুন। আপনার কম্পিউটার কি Windows 11-এর firmware-শর্ত পূরণ করে?

    “BIOS Mode” যদি UEFI হয় আর “Secure Boot State” On, তাহলে firmware-শর্ত পূরণ হচ্ছে (TPM 2.0 আলাদাভাবে tpm.msc-এ দেখুন — “Specification Version: 2.0”). “Legacy” দেখালে কম্পিউটারটি পুরোনো BIOS মোডে চলছে — সম্ভবত ডিস্কও MBR. “Unsupported” মানে firmware Secure Boot জানে না; “Off” মানে সমর্থন আছে কিন্তু বন্ধ। BIOS-এর তারিখ দেখে বুঝবেন firmware কত পুরোনো।

  2. ডিস্কের মানচিত্র পড়ুন: Disk Management খুলে আপনার মূল ডিস্কের partition style বের করুন, আর সব partition-এর নাম ও আকারের তালিকা করুন। কোনটি EFI system partition, কোনটি Recovery, আর কোনগুলোর ড্রাইভ অক্ষর নেই?

    আধুনিক Windows 11 ল্যাপটপে সাধারণত দেখবেন: ডিস্ক “GPT”; শুরুতে ১০০–৩০০ MB-র “EFI System Partition” (FAT32, কোনো অক্ষর নেই); তারপর C: (NTFS, সবচেয়ে বড়); আর শেষে বা মাঝে কয়েকশো MB থেকে ১–২ GB-র “Recovery Partition” (অক্ষর নেই)। একটি ছোট “Microsoft Reserved” (MSR) partition-ও থাকে, যা Disk Management-এ প্রায়ই দেখায় না। অক্ষরহীন partition-গুলো boot আর recovery-র জন্য — মুছবেন না। পুরোনো MBR ডিস্কে এর জায়গায় থাকে “System Reserved” partition.

  3. রোগ নির্ণয় করুন: এক বন্ধুর ডেস্কটপ — গতকাল তিনি নতুন একটি RAM স্টিক লাগিয়েছেন। আজ চালু করলে পাখা ঘোরে, কেসের বাতি জ্বলে, কিন্তু মনিটরে কিছু আসে না, আর বারবার একটি নির্দিষ্ট ছন্দে বিপ বাজে। boot-এর কোন ধাপে থেমেছে? কোন ক্রমে কী পরীক্ষা করবেন?

    পাখা ঘুরছে মানে PSU কাজ করছে; বিপ বাজছে মানে firmware চলছে — কিন্তু পর্দা আসার আগেই থেমেছে, অর্থাৎ POST ধাপে। গতকাল RAM বদলানো আর বিপের ছন্দ — দুটোই RAM-এর দিকে ইঙ্গিত করে (বিপের অর্থ মাদারবোর্ডের ম্যানুয়ালে মিলিয়ে নিন)। ক্রম: (১) বিদ্যুৎ পুরো খুলুন, স্থির বিদ্যুৎ সরান; (২) নতুন RAM খুলে আবার ঠিকমতো বসান — দুই পাশের ক্লিপ “ক্লিক” না হওয়া পর্যন্ত; (৩) না হলে শুধু পুরোনো স্টিক দিয়ে চালান — চললে নতুনটি নষ্ট বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ; (৪) ম্যানুয়ালে কোন স্লটে প্রথম RAM বসাতে হয় দেখুন। নতুন RAM-এর memory training-এ প্রথমবার কিছুক্ষণ কালো পর্দা থাকতে পারে, তাই একটু অপেক্ষাও করুন। একবারে একটি জিনিস বদলান।

  4. সিমুলেটরে ভবিষ্যদ্বাণী: boot সিমুলেটরে Run চাপার আগে লিখে ফেলুন, আউটপুটের শেষ লাইন কী হবে, যদি (ক) bootOrder = ['SSD', 'USB'] করেন; (খ) শুধু driverOK: false করেন; (গ) ramOK: false আর diskFound: false দুটোই করেন। তারপর চালিয়ে মিলিয়ে নিন।

    (ক) SSD প্রথমেই পাওয়া যায়, তাই “trying USB” লাইনটি আর আসে না; আউটপুট ছয় লাইন, শেষ লাইন [ 2400 ms] Login screen -> desktop after sign-in — boot order ঠিক থাকলে boot একটু দ্রুত। (খ) bootloader kernel তোলে, তারপর শেষ লাইন Kernel: storage driver failed -> BSOD / boot loop — বাস্তবের মতো, ডিস্ক ঠিক থাকলেও driver-এর গোলমালে Windows লোগোর পর নীল পর্দা। (গ) শেষ লাইন POST FAIL: no usable RAM -> beep code, black screen; আউটপুট মাত্র দুই লাইন। diskFound-এর মান কোনো প্রভাবই ফেলে না, কারণ দৌড় POST-এ থেমে গেছে — প্রথম সমস্যা পরের সমস্যাকে ঢেকে রাখে। বাস্তবে তাই একটি সমস্যা ঠিক করার পর আরেকটি “নতুন” সমস্যা দেখা দিলে অবাক হবেন না।

নিজেকে যাচাই করুন

ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।

ক্রমকম্পিউটার চালু হওয়ার ধাপগুলো সঠিক ক্রমে সাজান (▲▼ চেপে সরান)

  1. 🔌 PSU-র power good সংকেত, CPU reset থেকে মুক্ত
  2. 🧩 Firmware (BIOS/UEFI) চালু হয়ে POST করে
  3. 🔎 Boot order ধরে চালু হওয়ার মতো ডিস্ক খোঁজা
  4. 🚦 Bootloader kernel খুঁজে RAM-এ তোলে
  5. 🔧 Kernel driver আর service চালু করে
  6. 🔑 Login, তারপর ডেস্কটপ আর startup apps

কম্পিউটার চালুর সময় POST-এর কাজ কী?

  • অপারেটিং সিস্টেমের ফাইল RAM-এ তোলা
  • মূল হার্ডওয়্যার ঠিকমতো কাজ করছে কি না পরীক্ষা করা
  • ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড যাচাই করা
  • ডিস্কে ভাইরাস খোঁজা

MBR partition table-এর একটি পরিচিত সীমাবদ্ধতা কোনটি?

  • সর্বোচ্চ ১২৮টি partition
  • শুধু UEFI কম্পিউটারে চলে
  • প্রায় ২ TB-র বেশি ডিস্ক আর ৪টির বেশি primary partition সামলাতে পারে না
  • ডিস্কের শেষে একটি ব্যাকআপ টেবিল রাখে

নিচের কোনটি একটি bootloader-এর উদাহরণ?

  • GRUB
  • POST
  • TPM
  • BitLocker

Windows-এ Fast Startup চালু থাকলে driver-এর সমস্যা দূর করতে কোনটি বেশি কার্যকর?

  • Shut down করে আবার চালু করা
  • Sleep-এ রেখে আবার জাগানো
  • Hibernate করে আবার চালু করা
  • Restart করা

“No bootable device” বার্তা এলে সবচেয়ে প্রথমে কোন পরীক্ষাটি করা উচিত?

  • diskpart দিয়ে ডিস্ক clean করা
  • বাইরের USB খুলে boot order দেখা
  • সাথে সাথে নতুন SSD কেনা
  • নতুন RAM লাগানো

Secure Boot মূলত কী করে?

  • ডিস্কের সব ফাইল এনক্রিপ্ট করে
  • ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড যাচাই করে
  • bootloader চালানোর আগে তার ডিজিটাল সই যাচাই করে
  • POST বাদ দিয়ে boot দ্রুত করে

শব্দকোষ

লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:

মনে রাখুন

  1. Boot = রিলে দৌড়: PSU → CPU reset → firmware → POST → boot device → bootloader → kernel → driver ও service → login → ডেস্কটপ। শুরুতে RAM ফাঁকা।
  2. BIOS পুরোনো (১৬-bit, MBR); UEFI আধুনিক (GPT, গ্রাফিক্যাল, Secure Boot). POST সমস্যা জানায় বিপ, LED বা বার্তায়।
  3. MBR: ~২ TB, ৪টি primary; GPT: বিশাল ডিস্ক, ১২৮টি partition, ব্যাকআপ। UEFI bootloader খোঁজে EFI system partition-এ।
  4. Fast Startup-এ Shut down পুরো বন্ধ নয় — সমস্যা সমাধানে Restart. Secure Boot সই যাচাই করে, TPM চাবি রাখে আর boot মাপে।
  5. সমস্যায় আগে বুঝুন কোন ধাপে থেমেছে; সস্তা পরীক্ষা আগে, recovery টুল পরে, আর ডিস্ক-মোছা কমান্ড — AI বললেও — ব্যাকআপ ছাড়া কখনো নয়।

পরের পর্বে: কম্পিউটার চালু হলো — এবার তাতে ছবি দেখা, গান শোনা, ভিডিও চালানো। কিন্তু একটি ছবি বা গান 0 আর 1-এ পরিণত হয় কীভাবে? pixel, sampling আর compression — JPEG বা MP3 কেন এত ছোট, তার রহস্য।

আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ

এই পর্বটি শেয়ার করুন:
এই পর্বে ভুল পেয়েছেন? জানান