এই পর্বে যা শিখবেন
- ক্লাউড কম্পিউটিং আসলে কী, আর NIST-এর পাঁচটি বৈশিষ্ট্য সহজ ভাষায় (সাথে HSC পাঠ্যবইয়ের তিন বৈশিষ্ট্য)
- পিৎজার উপমা দিয়ে on-premise, IaaS, PaaS, SaaS আর serverless — কোন স্তরের দায়িত্ব কার
- public, private, hybrid, community আর multi-cloud — কোন পরিস্থিতিতে কোনটি
- virtualization, container, ডেটা সেন্টার, region আর availability zone — ক্লাউডের ভিত্তি
- scalability, elasticity, মূল্য-মডেল, সুবিধা-অসুবিধা, shared responsibility model আর বাংলাদেশে ক্লাউড
১ · জেনারেটর নয়, বিদ্যুতের লাইন — ক্লাউড কম্পিউটিং কী
লোডশেডিংয়ের দিনে অনেক দোকান আর কারখানা নিজের জেনারেটর চালাত। জেনারেটর কিনতে অনেক টাকা, তেল কিনতে হয়, মিস্ত্রি রাখতে হয়, নষ্ট হলে সারাতে হয়। আর জেনারেটরের ক্ষমতা নির্দিষ্ট — বিয়ের অনুষ্ঠানে হঠাৎ বেশি বাতি লাগলে কুলায় না, আবার রাতে দোকান বন্ধ থাকলেও কেনার টাকাটা আটকে থাকে। বিদ্যুতের লাইনে এসব ঝামেলা নেই: সুইচ টিপলেই বিদ্যুৎ, মিটারে যতটুকু খরচ ততটুকু বিল, আর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর দায় অন্য কারও।
কম্পিউটিংয়েও একই পরিবর্তন ঘটেছে। একটি প্রতিষ্ঠান আগে নিজের অফিসে সার্ভার কিনে রাখত — নিজের ঘর, নিজের এসি, নিজের IT কর্মী। একে বলে on-premise (নিজের প্রাঙ্গণে)। এখন বেশিরভাগ নতুন প্রতিষ্ঠান সেই সার্ভার ভাড়া নেয় ইন্টারনেট দিয়ে — এটাই ক্লাউড কম্পিউটিং.
ক্লাউড কম্পিউটিং মানে নিজের যন্ত্র না কিনে ইন্টারনেট দিয়ে কম্পিউটিং শক্তি, স্টোরেজ আর সফটওয়্যার ভাড়া নেওয়া। যতটুকু ব্যবহার, ততটুকু খরচ; দরকার হলে মিনিটের মধ্যে বাড়ানো বা কমানো যায়; হার্ডওয়্যার দেখাশোনা করে প্রোভাইডার। বিনিময়ে আপনি নির্ভর করেন ইন্টারনেট আর প্রোভাইডারের ওপর, আর খরচ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা আর ডেটা কোথায় থাকে — এগুলো নিয়ে ভাবতে হয়।
পর্ব ১৪-এ আপনি ক্লাউডকে দেখেছেন ব্যবহারকারীর চোখে — Google Drive-এ ফাইল রাখা, একসাথে Docs-এ লেখা। এই পর্বে আমরা যাব পর্দার পেছনে: যে প্রতিষ্ঠান অ্যাপ বা ওয়েবসাইট চালায়, সে ক্লাউড থেকে ঠিক কী ভাড়া নেয়, কীভাবে নেয়, আর কোথায় সাবধান থাকতে হয়। পর্ব ৩৪-এ দেখেছেন ওয়েবসাইট হোস্টিং; সেই হোস্টিং-ও আজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো ক্লাউডের ওপর চলে।
আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা — NIST
সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত সংজ্ঞাটি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মান-নির্ধারণী সংস্থা NIST (National Institute of Standards and Technology), ২০১১ সালে প্রকাশিত একটি ছোট নথিতে (SP 800-145). এর সারকথা: ক্লাউড কম্পিউটিং এমন একটি মডেল, যেখানে কনফিগার করা যায় এমন কম্পিউটিং সম্পদের (নেটওয়ার্ক, সার্ভার, স্টোরেজ, অ্যাপ্লিকেশন, সেবা) একটি ভাগ করা ভান্ডারে নেটওয়ার্ক দিয়ে সুবিধামতো, চাহিদামাফিক প্রবেশ করা যায়, আর ন্যূনতম ব্যবস্থাপনা-ঝামেলায় দ্রুত সেগুলো নেওয়া ও ছেড়ে দেওয়া যায়। NIST এই মডেলকে সাজিয়েছে ৫টি বৈশিষ্ট্য, ৩টি সার্ভিস মডেল আর ৪টি deployment মডেলে — এই পর্বের কাঠামোও তাই।
২ · কোনটা ক্লাউড, কোনটা নয় — পাঁচ বৈশিষ্ট্য
অন্যের সার্ভারে কিছু রাখলেই কি ক্লাউড? না। ধরুন একটি কোম্পানি একটি ডেটা সেন্টারে নিজের একটি সার্ভার রেখে দিল, আর সেটি বদলাতে হলে ইমেইল করে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় — সেটা ভাড়া করা জায়গা, ক্লাউড নয়। NIST-এর পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দিয়ে যাচাই করুন:
| বৈশিষ্ট্য | সহজ মানে | দৈনন্দিন উপমা |
|---|---|---|
| On-demand self-service | কারও সাথে কথা না বলে নিজেই ওয়েবসাইটে কয়েক ক্লিকে সার্ভার বা স্টোরেজ চালু করা যায় | অ্যাপ থেকে নিজেই মোবাইল রিচার্জ — দোকানে যেতে হয় না |
| Broad network access | ইন্টারনেট থাকলেই ফোন, ল্যাপটপ, যেকোনো ডিভাইস থেকে ব্যবহার করা যায় | যেকোনো এলাকার ATM থেকে টাকা তোলা |
| Resource pooling | প্রোভাইডারের বিশাল যন্ত্র-ভান্ডার অনেক গ্রাহক ভাগ করে নেয়; কে ঠিক কোন যন্ত্রে, গ্রাহক সাধারণত জানেন না | একই বাসে অনেক যাত্রী — প্রত্যেকে আলাদা বাস কেনেন না |
| Rapid elasticity | চাহিদা বাড়লে দ্রুত সম্পদ বাড়ে, কমলে কমে — অনেক সময় নিজে থেকেই | ঈদের সময় বাড়তি ট্রেন, পরে আবার স্বাভাবিক সূচি |
| Measured service | ব্যবহার মিটারে মাপা হয় — কত ঘণ্টা সার্ভার, কত GB স্টোরেজ — আর সেই হিসাবে বিল | বিদ্যুতের মিটার, প্রিপেইড গ্যাস কার্ড |
ভান্ডার ভাগ করার এই ধারণার একটি প্রযুক্তিগত নাম আছে — multi-tenancy: একই ভৌত সার্ভারে অনেক গ্রাহকের কাজ চলে, কিন্তু প্রত্যেকে দেয়াল দিয়ে আলাদা, একই ফ্ল্যাট-বাড়ির আলাদা ফ্ল্যাটের মতো। ভাগাভাগি থেকেই ক্লাউডের দাম কম আসে — আবার ভাগাভাগির কারণেই নিরাপত্তার দেয়াল মজবুত হওয়া এত জরুরি।
HSC পাঠ্যবইয়ের দৃষ্টিতে: HSC-র ICT পাঠ্যবইয়ে (যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নেটওয়ার্কিং অধ্যায়ে) ক্লাউড কম্পিউটিংকে সাধারণত এভাবে বলা হয় — ইন্টারনেটভিত্তিক এমন কম্পিউটিং ব্যবস্থা, যেখানে চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়া হয় আর ব্যবহার অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়। সেখানে সাধারণত তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখা থাকে: রিসোর্স স্কেলেবিলিটি (প্রয়োজনমতো বাড়ানো-কমানো), অন-ডিমান্ড (যখন খুশি, যতটুকু খুশি) আর পে-অ্যাজ-ইউ-গো (যতটুকু ব্যবহার, ততটুকু দাম)। এই তিনটি আসলে NIST-এর পাঁচটিরই সংক্ষিপ্ত রূপ — পরীক্ষায় প্রশ্ন যেভাবে আসে, সেভাবে উত্তর দিন।
৩ · পিৎজা দিয়ে বোঝা — IaaS, PaaS আর SaaS
ক্লাউডে আপনি কতটুকু ভাড়া নেবেন, তার তিনটি প্রধান স্তর আছে। সবচেয়ে সহজে বোঝা যায় একটি পরিচিত উপমায় (IBM-এর এক প্রকৌশলীর জনপ্রিয় করা “pizza as a service”). ধরুন আজ রাতে বাসায় পিৎজা খাবেন। চারটি উপায়:
| পিৎজার উপায় | আপনি করেন | অন্য কেউ করে | কম্পিউটিংয়ে |
|---|---|---|---|
| বাসায় বানানো | সব — ময়দা, সস, চুলা, গ্যাস, টেবিল | কিছুই না | On-premise |
| কাঁচা পিৎজা কিনে নিজের চুলায় সেঁকা (take-and-bake) | চুলা, সেঁকা, টেবিল | পিৎজা তৈরি | IaaS |
| হোম ডেলিভারি | শুধু টেবিল আর পানীয় | তৈরি, সেঁকা, পৌঁছে দেওয়া | PaaS |
| রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া | শুধু খাওয়া (আর বিল দেওয়া) | সব | SaaS |
তিন মডেল, একে একে
IaaS — Infrastructure as a Service
IaaS-এ ভাড়া নেন কাঁচা অবকাঠামো: virtual machine, ডিস্ক, নেটওয়ার্ক। OS বাছাই, আপডেট, সফটওয়্যার বসানো — সব আপনার। সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ, সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব। উদাহরণ: AWS EC2, Azure Virtual Machines, Google Compute Engine.
ভাড়া: যন্ত্রPaaS — Platform as a Service
PaaS-এ OS, runtime (যেমন Python বা Node.js চালানোর ব্যবস্থা), ডেটাবেস-সেবা প্রোভাইডারের। আপনি শুধু নিজের কোড আর ডেটা দেন; সার্ভার আপডেট নিয়ে ভাবতে হয় না। উদাহরণ: Heroku, Google App Engine, Azure App Service, Firebase.
ভাড়া: প্ল্যাটফর্মSaaS — Software as a Service
SaaS-এ পুরো তৈরি সফটওয়্যার, ব্রাউজার বা অ্যাপ দিয়ে ব্যবহার করেন; ইনস্টল, আপডেট, সার্ভার — কিছুই আপনার নয়। উদাহরণ: Gmail, Microsoft 365, Zoom, Canva, Google Drive.
ভাড়া: সফটওয়্যারএর বাইরে আরেকটি নতুন ধাপ: serverless বা FaaS (Function as a Service) — আপনি শুধু একটি ছোট ফাংশন লেখেন, কোনো ঘটনা ঘটলে (যেমন কেউ ছবি আপলোড করলে) সেটি কয়েক মিলিসেকেন্ড থেকে কয়েক সেকেন্ড চলে, আর বিল হয় শুধু সেই চলার সময়ের; উদাহরণ AWS Lambda (২০১৪)। “serverless” মানে সার্ভার নেই তা নয় — সার্ভার আছে, শুধু আপনাকে তা দেখতে বা সামলাতে হয় না।
এবার মূল প্রশ্ন: প্রতিটি মডেলে কোন স্তরের দায়িত্ব কার? নিচের stepper-এ নিচ থেকে ওপরে সাজানো স্তরগুলো দেখুন — প্রতি ধাপে কয়েকটি স্তর আপনার হাত থেকে প্রোভাইডারের হাতে চলে যায়:
| মডেল | |
| ডেটা আর কে দেখবে (access) | |
| অ্যাপ্লিকেশন | |
| Runtime, middleware | |
| Operating system | |
| Virtualization | |
| সার্ভার, স্টোরেজ, নেটওয়ার্ক | |
| দালান, বিদ্যুৎ, ঠান্ডা রাখা | |
| পিৎজার উপমা |
- On-premise — সব আপনার। সার্ভার কেনা, ঘর ঠান্ডা রাখা, UPS আর জেনারেটর, OS ইনস্টল, নিরাপত্তা-আপডেট, অ্যাপ, ব্যাকআপ — সাতটি স্তরই আপনার কর্মীদের কাজ। পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, কিন্তু শুরুতেই বড় খরচ, আর কিছু নষ্ট হলে দায়ও পুরো আপনার।
- IaaS — নিচের তিন স্তর প্রোভাইডারের। দালান, বিদ্যুৎ, ভৌত সার্ভার, নেটওয়ার্ক আর virtualization (hypervisor) এখন প্রোভাইডারের। আপনি পান একটি virtual machine — কিন্তু তাতে কোন OS চলবে, কবে security update বসবে, firewall-এ কোন port খোলা থাকবে, তা আপনার দায়িত্ব।
- PaaS — OS আর runtime-ও প্রোভাইডারের। আপনি শুধু কোড আপলোড করেন; Linux আপডেট, Python-এর সংস্করণ রক্ষণাবেক্ষণ, ভিড় বাড়লে সার্ভার বাড়ানো — প্রোভাইডার দেখে। ছোট দলের জন্য দারুণ, তবে প্রোভাইডারের নিয়মের ভেতরে থাকতে হয় (যেমন সমর্থিত ভাষা আর সংস্করণ)।
- SaaS — অ্যাপও প্রোভাইডারের, কিন্তু ডেটা আপনার। Microsoft 365 বা Gmail-এ কোনো সার্ভার দেখতেই পান না। তবু ওপরের সারিটি লক্ষ করুন: কোন ডেটা রাখবেন, কাকে শেয়ার করবেন, কোন অ্যাকাউন্টে 2FA চালু — এই দায় কোনো মডেলেই প্রোভাইডারের হাতে যায় না।
৪ · কার ক্লাউড, কোথায় — deployment মডেল
সার্ভিস মডেল বলে “কী ভাড়া নিচ্ছেন”; deployment মডেল বলে “ক্লাউডটি কার, কারা ভাগ করে”। বাসস্থানের উপমায়: হোটেলের রুম (সবার জন্য খোলা), নিজের বাড়ি (শুধু আপনার), নিজের বাড়ি আর দরকারে হোটেল (মিশ্র)।
| মডেল | কার জন্য | সুবিধা | সীমাবদ্ধতা |
|---|---|---|---|
| Public cloud | যে কেউ অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবহার করতে পারে; AWS, Microsoft Azure, Google Cloud | শুরুতে প্রায় খরচ নেই, বিশাল ক্ষমতা, সারা বিশ্বে উপস্থিতি | যন্ত্র অন্যদের সাথে ভাগ করা; ডেটা কোন দেশে থাকবে, তা ভেবে বাছতে হয় |
| Private cloud | একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানের জন্য — নিজের ডেটা সেন্টারে বা ভাড়া করা আলাদা যন্ত্রে, কিন্তু ক্লাউডের মতো self-service আর virtualization-সহ | বেশি নিয়ন্ত্রণ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া নিয়ম মানা সহজ | খরচ বেশি, ক্ষমতা সীমিত, নিজের দক্ষ কর্মী লাগে |
| Hybrid cloud | private আর public মিলিয়ে, দুটোর মধ্যে ডেটা ও কাজ চলাচল করে | স্পর্শকাতর ডেটা ঘরে, ভিড় বা নতুন সেবা public-এ | দুই জগৎ জোড়া দেওয়া জটিল |
| Community cloud | একই চাহিদার কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে — যেমন কয়েকটি সরকারি দপ্তর বা হাসপাতাল | খরচ ভাগ, একই নিয়মকানুন | কম প্রচলিত; সিদ্ধান্তে সবার সম্মতি লাগে |
| Multi-cloud | একাধিক public cloud প্রোভাইডার একসাথে (NIST-এর চার মডেলের বাইরে, আধুনিক চর্চা) | এক প্রোভাইডারের ওপর পুরো নির্ভরতা কমে, যার যেটা ভালো সেটা নেওয়া যায় | দক্ষতা, নিরাপত্তা-সেটিংস আর বিল — সবই দ্বিগুণ জটিল |
সার্ভিস মডেল আর deployment মডেল আলাদা প্রশ্নের উত্তর, তাই এরা মিলেমিশে চলে: “public cloud-এ PaaS”, “private cloud-এ IaaS” — দুটোই হতে পারে। বাস্তবে কীভাবে বাছবেন, তিনটি পরিস্থিতিতে দেখুন:
| পরিস্থিতি | |
| মূল চাহিদা | |
| সার্ভিস মডেল | |
| Deployment মডেল | |
| সতর্কতা |
- স্কুলের ওয়েবসাইট। শিক্ষকেরা প্রোগ্রামার নন, সার্ভার সামলানোর লোক নেই। সবচেয়ে সহজ পথ SaaS-ধরনের ওয়েবসাইট-নির্মাতা বা managed hosting (পর্ব ৩৪) — যেখানে আপডেট আর নিরাপত্তা প্যাচ প্রোভাইডারের। সবকিছুই public cloud-এ, আর খরচ মাসে সামান্য। শুধু খেয়াল রাখুন, ডোমেইন আর অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট যেন স্কুলের নিজের নামে থাকে, কোনো একজন কর্মীর ব্যক্তিগত ইমেইলে নয়।
- স্টার্টআপের অ্যাপ। শুরুতে ব্যবহারকারী ১০০ জন, ছয় মাস পরে হয়তো ১ লাখ — কেউ জানে না। নিজের সার্ভার কেনা মানে টাকা আটকে ফেলা। PaaS বা serverless-এ ছোট থেকে শুরু, free tier-এ প্রায় বিনা খরচে পরীক্ষা, ভিড় বাড়লে নিজে থেকে বাড়ে। বিপদ দুটি: হঠাৎ বড় বিল (তাই প্রথম দিন থেকেই বাজেট-সতর্কবার্তা) আর একটি প্রোভাইডারের বিশেষ সেবায় এমনভাবে বাঁধা পড়া যে পরে সরা কঠিন।
- ব্যাংকের core banking. কোটি টাকার লেনদেন, গ্রাহকের গোপন তথ্য, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া নিয়ম — ডেটা কোথায় থাকবে, কে অডিট করবে। তাই মূল সিস্টেম সাধারণত নিজের ডেটা সেন্টারে বা private cloud-এ। কিন্তু ইমেইল, প্রশিক্ষণ বা মার্কেটিং ওয়েবসাইট public cloud-এর SaaS-এ চলতে পারে — ফলে বাস্তবে ব্যাংক প্রায়ই hybrid.
৫ · ক্লাউডের ভিত্তি — virtualization, ডেটা সেন্টার, region আর zone
Virtualization আর container — এক যন্ত্রে অনেক ভাড়াটে
পর্ব ২৬-এ দেখেছেন, hypervisor একটি ভৌত কম্পিউটারকে কয়েকটি virtual machine-এ ভাগ করে, আর container আরও হালকা ভাগ — একই kernel ভাগ করে আলাদা আলাদা অ্যাপের খাঁচা। ক্লাউড দাঁড়িয়ে আছে ঠিক এর ওপর। আপনি যখন AWS-এ “একটি সার্ভার চালু করো” চাপেন, কেউ দৌড়ে গিয়ে নতুন যন্ত্র বসায় না; hypervisor একটি চলমান বিশাল সার্ভারের এক টুকরো আপনার নামে ভাগ করে দেয় — তাই এক মিনিটের মধ্যে সার্ভার হাতে পান। এটাই resource pooling আর elasticity-র প্রযুক্তিগত রহস্য। অনেক container একসাথে চালানো আর সামলানোর জন্য আছে Kubernetes-এর মতো টুল (Google-এর ভেতরের অভিজ্ঞতা থেকে ২০১৪ সালে open source হয়)।
ডেটা সেন্টার — ক্লাউডের আসল ঠিকানা
ক্লাউড আকাশে থাকে না; থাকে ডেটা সেন্টার নামের বিশাল দালানে — তাকের পর তাকে হাজার হাজার সার্ভার, দ্বিগুণ বিদ্যুৎ-লাইন, ব্যাটারি আর জেনারেটর, বিশাল শীতলীকরণ-ব্যবস্থা, কয়েকটি আলাদা পথে আসা ফাইবার লাইন, আর কড়া পাহারা। নকশার মূলমন্ত্র redundancy — যেকোনো জিনিসের অন্তত একটি বাড়তি বিকল্প, যাতে একটি নষ্ট হলে আরেকটি সাথে সাথে কাজ ধরে।
Region আর availability zone
বড় প্রোভাইডাররা সারা বিশ্বে ডেটা সেন্টারগুলো সাজায় দুই স্তরে:
- Region: একটি ভৌগোলিক এলাকা — যেমন মুম্বাই, সিঙ্গাপুর, ফ্রাঙ্কফুর্ট, বা AWS-এর বহুল ব্যবহৃত us-east-1 (যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া)। ব্যবহারকারীর কাছের region বাছলে latency কমে, আর ডেটা কোন দেশের আইনের অধীনে থাকবে, তা-ও region ঠিক করে।
- Availability zone (AZ): একটি region-এর ভেতরে কয়েকটি আলাদা ডেটা সেন্টার-গুচ্ছ, প্রতিটির নিজস্ব বিদ্যুৎ, ঠান্ডা রাখা আর নেটওয়ার্ক, একে অপরের থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে — যাতে আগুন বা বন্যায় একটি গেলেও অন্যটি থাকে — কিন্তু এত কাছে যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।
তাই গুরুত্বপূর্ণ সেবা একাধিক AZ-এ ছড়িয়ে চালানো হয়, সামনে থাকে একটি load balancer, যে আসা অনুরোধগুলো সুস্থ সার্ভারগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেয়। একটি AZ বিকল হলে কী হয়, দেখুন:
| AZ-a | |
| AZ-b | |
| Load balancer পাঠাচ্ছে | |
| ব্যবহারকারী দেখছেন |
- স্বাভাবিক দিন। একটি অনলাইন টিকিট সেবা দুটি AZ-এ দুটি করে সার্ভার চালাচ্ছে। load balancer প্রতি কয়েক সেকেন্ডে প্রতিটি সার্ভারকে “ঠিক আছ?” জিজ্ঞেস করে (health check), আর অনুরোধ সমানভাবে ভাগ করে।
- AZ-a-তে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট। AZ-a-র দুটি সার্ভারই হঠাৎ বন্ধ। load balancer এখনো জানে না, তাই কয়েক সেকেন্ড কিছু অনুরোধ মরা সার্ভারে যায় আর ব্যর্থ হয় — অ্যাপ সাধারণত নিজে থেকে আবার চেষ্টা করে।
- Failover. পরপর কয়েকটি health check-এ উত্তর না পেয়ে load balancer AZ-a-কে বাদ দেয়, সব ভিড় পাঠায় AZ-b-তে। একে বলে failover. সেবা চলছে, শুধু AZ-b-র ওপর চাপ দ্বিগুণ।
- Auto-scaling সাহায্যে আসে। AZ-b-র সার্ভারগুলোর CPU-ব্যবহার সীমা ছাড়াতেই auto-scaling আরও দুটি সার্ভার চালু করে — কয়েক মিনিটে চাপ স্বাভাবিক।
- পুনরুদ্ধার। AZ-a-তে বিদ্যুৎ ফিরলে সার্ভারগুলো health check পাস করে, load balancer আবার দুই ভাগে পাঠায়, বাড়তি সার্ভার সরে যায়। কিন্তু মনে রাখুন: পুরো region বিকল হলে দুটি AZ-ই যায় — সেই বিপদের জন্য অন্য region-এ কপি রাখা (disaster recovery) আলাদা পরিকল্পনা।
সবুজ কম্পিউটিং — ক্লাউডের বিদ্যুৎ-বিল
ডেটা সেন্টার বিপুল বিদ্যুৎ খায়, আর সার্ভারের তাপ সরাতে লাগে আরও বিদ্যুৎ আর পানি। AI-এর প্রশিক্ষণে হাজার হাজার GPU একসাথে চলায় এই চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। দক্ষতা মাপার একটি প্রচলিত সংখ্যা PUE — মোট বিদ্যুৎ ÷ শুধু কম্পিউটারের বিদ্যুৎ; ১-এর যত কাছে, তত কম অপচয়। অনেক ছোট অফিসের আধা-ফাঁকা সার্ভারের তুলনায় বড় ডেটা সেন্টারে যন্ত্র বেশি ব্যস্ত থাকে আর শীতলীকরণ বেশি দক্ষ — তাই একই কাজ সাধারণত কম শক্তিতে হয়। Green computing-এর লক্ষ্য এটাই: কম বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য শক্তি, যন্ত্রের দীর্ঘ জীবন আর দায়িত্বশীল ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। আপনার দিক থেকে সহজতম সবুজ পদক্ষেপ: যে ক্লাউড সার্ভার কাজে লাগছে না, সেটি বন্ধ করা — টাকা আর বিদ্যুৎ দুটোই বাঁচে।
৬ · Scalability আর elasticity — ফলাফলের দিনে ওয়েবসাইট টিকবে তো?
SSC বা HSC-র ফল প্রকাশের দিনটির কথা ভাবুন। সারা বছর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের ওয়েবসাইটে ভিড় সামান্য। কিন্তু ফল প্রকাশের মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী আর অভিভাবক একসাথে রোল নম্বর লেখেন — ভিড় হঠাৎ কয়েকশো গুণ। অনেকেরই অভিজ্ঞতা আছে: পাতা ঘুরছে তো ঘুরছেই। দুটি শব্দ এখানে আলাদা করে বোঝা দরকার:
- Scalability: চাহিদা বাড়লে সম্পদ বাড়িয়ে বেশি কাজ সামলানোর ক্ষমতা। দুই রকম — vertical (একটি সার্ভারকেই বড় করা: বেশি RAM, বেশি core) আর horizontal (একই রকম আরও সার্ভার যোগ করা)। ক্লাউডে horizontal পথই বেশি জনপ্রিয়, কারণ এর কার্যত কোনো সীমা নেই।
- Elasticity: সেই বাড়ানো-কমানো দ্রুত আর নিজে থেকে হওয়া — ভিড় এলে বাড়ে, চলে গেলে কমে, আর বিলও সেই অনুযায়ী। রাবারের মতো টানলে বাড়ে, ছাড়লে আগের মাপে।
| সময় | |
| এই ঘণ্টার ভিড় | |
| নির্দিষ্ট ৩টি সার্ভার | |
| Auto-scaling সার্ভার | |
| খরচ-মিটার (মোট, নির্দিষ্ট / auto) |
- সকাল — শান্ত। ভিড় সামান্য। নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় ৩টি সার্ভার চলছে, প্রায় অলস — কিন্তু বিল উঠছে তিনটিরই। auto-scaling ব্যবস্থায় ন্যূনতম ১টি সার্ভার চলছে।
- খবর ছড়াল। “আজ দুপুর ১২টায় ফল” — অনেকে আগেভাগে সাইটে ঢুকছেন। এখনো দুই ব্যবস্থাই আরামে সামলাচ্ছে।
- ফল প্রকাশ — ঢল নামল। ঘণ্টায় ৪৮ হাজার অনুরোধ। নির্দিষ্ট ৩টি সার্ভারের ক্ষমতা ৩০ হাজার, বাকিরা পান “site can't be reached” বা অসীম ঘূর্ণি। auto-scaling-এ পর্যবেক্ষণ-ব্যবস্থা দেখে CPU-ব্যবহার সীমা ছাড়িয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী আগে থেকে তৈরি ছবি (image) থেকে নতুন virtual machine চালু করে — ৫টি। বাস্তবে নতুন সার্ভার চালু হতে কয়েক মিনিট লাগে, তাই অভিজ্ঞ দল জানা দিনের আগে থেকেই কিছু সার্ভার বাড়িয়ে রাখে।
- সর্বোচ্চ ভিড়। ৬০ হাজার — নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় অর্ধেক মানুষ ফেরত যাচ্ছেন। auto-scaling ৬টি সার্ভারে সবাইকে সামলাচ্ছে, load balancer ভিড় সমানভাবে ভাগ করছে।
- ভিড় কমছে। বিকেলে ১৪ হাজার। auto-scaling বাড়তি সার্ভার একে একে বন্ধ করে ২টিতে নামে — বন্ধ সার্ভারের আর বিল হয় না। নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ৩টিতেই আছে; সে এখন আরামে, কিন্তু দুপুরের ক্ষতি আর ফেরানো যাবে না।
- দিনশেষের হিসাব। নির্দিষ্ট ৩টি: খরচ ৩০ একক, ৫৩ হাজার অনুরোধ ব্যর্থ। “তাহলে ৬টি কিনে রাখি” — খরচ ৬০ একক, আর বছরের বাকি দিনগুলোতে ৫টিই অলস। auto-scaling: ২৩ একক, কেউ ফেরত যাননি। Elasticity-র আসল লাভ এটাই — সবচেয়ে বড় দিনের মাপে সারা বছরের খরচ টানতে হয় না।
নিজে চালিয়ে দেখুন — খরচ আর ভিড়ের সিমুলেটর
নিচের কোড ওপরের দিনটিই হিসাব করে — সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টার ভিড় ধরে তিনটি পরিকল্পনা তুলনা করে। খরচ-একক কাল্পনিক, কোনো প্রোভাইডারের আসল দাম নয়।
const traffic = [2, 3, 5, 48, 60, 35, 14, 6, 3, 2]; // হাজার অনুরোধ/ঘণ্টা, 09:00 থেকে 18:00
const perServer = 10; // একটি সার্ভার ঘণ্টায় 10 হাজার সামলায়
function plan(title, serversFor) {
let cost = 0, failed = 0;
const used = traffic.map(t => {
const s = serversFor(t); // এই ঘণ্টায় কয়টি সার্ভার চালু
failed += Math.max(0, t - s * perServer); // জায়গা না পেয়ে ফিরে যাওয়া অনুরোধ
cost += s; // 1 সার্ভার × 1 ঘণ্টা = 1 cost unit
return s;
});
console.log(`${title}\n servers/hour: ${used.join(' ')}\n cost = ${cost} units, failed = ${failed}k requests`);
}
plan('Fixed, 3 servers', () => 3);
plan('Fixed, 6 servers', () => 6);
plan('Auto-scaling', t => Math.max(1, Math.ceil(t / perServer)));Run চাপলে তিনটি ব্লক আসে। Fixed, 3 servers: cost = 30 units, failed = 53k requests. Fixed, 6 servers: cost = 60 units, failed = 0k requests. Auto-scaling: servers/hour: 1 1 1 5 6 4 2 1 1 1, cost = 23 units, failed = 0k requests — stepper-এর হিসাবের সাথে হুবহু মেলে। মূল লাইনটি Math.ceil(t / perServer): ভিড়কে একটি সার্ভারের ক্ষমতা দিয়ে ভাগ করে ওপরের পূর্ণসংখ্যায় তোলা (৪৮ হাজারে ৪.৮ → ৫টি সার্ভার), আর Math.max(1, …) নিশ্চিত করে অন্তত একটি সার্ভার সবসময় চালু থাকে। traffic-এ নিজের সংখ্যা বসিয়ে বা perServer বদলে দেখুন — ভিড় যত “চূড়া-ওয়ালা”, auto-scaling-এর সাশ্রয় তত বেশি; আর ভিড় সারাদিন সমান হলে নির্দিষ্ট সার্ভারও প্রায় একই খরচে চলে।
দাম কীভাবে ধরা হয় — মূল্য-মডেল
নির্দিষ্ট দাম প্রোভাইডার, region আর সময়ভেদে বদলায়, তাই এখানে শুধু ধরনগুলো:
- Pay-as-you-go (on-demand): সেকেন্ড বা ঘণ্টা ধরে যতটুকু চালালেন, ততটুকু বিল; কোনো চুক্তি নেই। সবচেয়ে নমনীয়, প্রতি ঘণ্টায় সবচেয়ে দামি।
- Reserved বা committed use: এক বা তিন বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিলে বড় ছাড় — সারাবছর চলা স্থির কাজের জন্য ভালো।
- Spot বা preemptible: প্রোভাইডারের অব্যবহৃত যন্ত্র অনেক কম দামে, কিন্তু প্রোভাইডার দরকার হলে অল্প নোটিশে ফেরত নিতে পারে — থামলে ক্ষতি নেই এমন কাজের জন্য।
- Free tier: নতুনদের জন্য সীমিত পরিমাণ বিনা মূল্যে — শেখা আর পরীক্ষার জন্য চমৎকার, কিন্তু সীমা পেরোলেই বিল শুরু।
হিসাবের ভাষায়, ক্লাউড বড় এককালীন বিনিয়োগকে (CapEx — সার্ভার কেনা) মাসে মাসে চলতি খরচে (OpEx — ভাড়া) বদলে দেয়। নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি আশীর্বাদ; কিন্তু বছরের পর বছর একই পরিমাণ যন্ত্র চালালে ভাড়ার মোট খরচ কেনার চেয়ে বেশিও হতে পারে।
বিলের ফাঁদ: ক্লাউডে খরচ জমে নীরবে। শেখার জন্য চালু করা একটি সার্ভার বন্ধ করতে ভুলে গেলেন, বা অ্যাপের একটি বাগ নিজেই বারবার নতুন সার্ভার চালু করল — মাস শেষে বিল দেখে চমকে উঠবেন। অ্যাকাউন্ট খোলার প্রথম দিনেই বাজেট আর বিল-সতর্কবার্তা (budget alert) চালু করুন, কাজ শেষে অব্যবহৃত সম্পদ মুছুন, আর অ্যাকাউন্টের মূল (root) লগইনে 2FA দিন।
৭ · সুবিধা, অসুবিধা আর নিরাপত্তার ভাগাভাগি
সুবিধা
খরচ: শুরুতে বড় বিনিয়োগ নেই, যতটুকু ব্যবহার ততটুকু বিল। মাপ: মিনিটে বাড়ানো-কমানো। নির্ভরযোগ্যতা: একাধিক zone, স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ। বিশ্বজোড়া উপস্থিতি: ব্যবহারকারীর কাছের region-এ সেবা। রক্ষণাবেক্ষণ নেই: হার্ডওয়্যার, বিদ্যুৎ, ঠান্ডা রাখা প্রোভাইডারের দায়। দ্রুততা: নতুন ধারণা পরীক্ষা করা যায় কয়েক ঘণ্টায়।
কেন সবাই ক্লাউডেঅসুবিধা
ইন্টারনেট-নির্ভরতা: লাইন গেলে সেবাও যায়। চলমান খরচ: বিল থামে না, অনিয়ন্ত্রিত হলে বাড়ে। Vendor lock-in: এক প্রোভাইডারের বিশেষ সেবায় অভ্যস্ত হলে সরানো কঠিন ও দামি। গোপনীয়তা ও data sovereignty: ডেটা অন্য দেশে থাকলে সে দেশের আইনও খাটতে পারে। বিভ্রাট: বড় প্রোভাইডারেরও মাঝে মাঝে বিভ্রাট হয়, আর তখন একসাথে হাজার হাজার সেবা থামে।
কোথায় সাবধানবিভ্রাট নিয়ে একটু বলি। AWS-এর us-east-1 region-এ একাধিকবার বড় সমস্যা হয়েছে, আর প্রতিবার বিশ্বজুড়ে নানা পরিচিত অ্যাপ আর ওয়েবসাইট একসাথে আটকে গেছে — কারণ বহু প্রতিষ্ঠান একই region-এর ওপর নির্ভর করত। শিক্ষাটি প্রোভাইডার-নির্বিশেষে একই: ক্লাউড নিজে থেকে নির্ভরযোগ্য হয় না; একাধিক zone, দরকারে একাধিক region, আর নিয়মিত পরীক্ষা করা ব্যাকআপ দিয়ে নির্ভরযোগ্যতা নকশা করতে হয়। প্রোভাইডারের প্রতিশ্রুতি লেখা থাকে SLA-তে — যেমন “মাসে ৯৯.৯৯% সময় চালু” — না রাখতে পারলে সাধারণত বিলে কিছু ছাড় দেয়, কিন্তু আপনার ব্যবসার ক্ষতি পূরণ করে না।
Shared responsibility model — নিরাপত্তা কার দায়িত্বে
ক্লাউড-নিরাপত্তার সবচেয়ে জরুরি ধারণা: shared responsibility model. AWS-এর ভাষায় সহজ সূত্র — প্রোভাইডার দায়ী ক্লাউড-এর নিরাপত্তায়, আর গ্রাহক দায়ী ক্লাউড-এর ভেতরে রাখা জিনিসের নিরাপত্তায়। ভাড়া বাসার মতো: বাড়িওয়ালা মূল ফটক, দেয়াল আর সিঁড়ি দেখেন; কিন্তু আপনার ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেওয়া, চাবি কাকে দেবেন — আপনার কাজ।
| প্রোভাইডারের দায় | গ্রাহকের (আপনার) দায় |
|---|---|
| ডেটা সেন্টারের ভৌত পাহারা, বিদ্যুৎ, ঠান্ডা রাখা | কে লগইন করতে পারবে — অ্যাকাউন্ট, অনুমতি, 2FA |
| সার্ভার, স্টোরেজ, নেটওয়ার্কের হার্ডওয়্যার | ডেটা কোথায়, কতটা খোলা — স্টোরেজের শেয়ার-সেটিংস, এনক্রিপশন চালু কি না |
| hypervisor আর এক গ্রাহককে আরেকজন থেকে আলাদা রাখা | IaaS-এ নিজের VM-এর OS আপডেট, firewall-এ খোলা port |
| PaaS/SaaS-এ OS আর অ্যাপের প্যাচ | নিজের কোডের নিরাপত্তা, পাসওয়ার্ড বা API key কোডে না রাখা, ব্যাকআপ |
বাস্তবে ক্লাউডে ডেটা ফাঁসের বড় অংশ ঘটে প্রোভাইডারের দুর্বলতায় নয়, গ্রাহকের ভুল সেটিংসে। সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ: অনলাইন ফাইল-ভান্ডার (storage bucket) ভুল করে “public” রেখে দেওয়া — তখন লিংক জানা যে কেউ ভেতরের ফাইল দেখতে পারে। প্রতিরক্ষার অভ্যাস সহজ: ডিফল্ট “private” রাখা, প্রত্যেককে শুধু কাজের জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু অনুমতি (least privilege), প্রোভাইডারের নিরাপত্তা-পরামর্শ ড্যাশবোর্ড নিয়মিত দেখা, আর মূল অ্যাকাউন্টে 2FA. পাসওয়ার্ড, 2FA আর সাধারণ সাইবার নিরাপত্তার পুরো আলোচনা পাবেন পর্ব ৪৩-এ।
৮ · বাংলাদেশে ক্লাউড, ক্যারিয়ার আর ক্লাউডের প্রান্তে
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
সরকারি সেবার ডেটা রাখতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC)-এর অধীনে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি জাতীয় ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে; এর আগে থেকে ঢাকাতেও BCC-র ডেটা সেন্টার চালু ছিল। বিভিন্ন সরকারি ই-সেবা (পর্ব ১৫) এ ধরনের অবকাঠামোর ওপর চলে, আর সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য ক্লাউড-ধরনের সেবাও দেওয়া হয় — এক অর্থে এটি community বা government cloud-এর উদাহরণ। এর পাশাপাশি দেশে কয়েকটি বেসরকারি ডেটা সেন্টার আর স্থানীয় ক্লাউড-সেবা প্রতিষ্ঠান আছে, যারা দেশের ভেতরে ডেটা রাখতে চাওয়া প্রতিষ্ঠানকে সার্ভার আর স্টোরেজ ভাড়া দেয়।
অন্যদিকে দেশের বেশিরভাগ স্টার্টআপ, ই-কমার্স আর মোবাইল অ্যাপ সরাসরি বৈশ্বিক public cloud ব্যবহার করে — প্রায়ই প্রতিবেশী দেশের region (যেমন সিঙ্গাপুর বা মুম্বাই), কারণ সেখান থেকে বাংলাদেশে latency কম আর সেবার পরিসর বিশাল। কোন ডেটা দেশে রাখতেই হবে আর কোনটি বাইরে রাখা যায় — এই প্রশ্নটি নীতি আর আইনের, আর বিশ্বজুড়েই এ নিয়ে আলোচনা চলছে (ভাবনার প্রশ্ন ৫)।
ক্যারিয়ার — cloud আর DevOps
ক্লাউড-দক্ষতা আজ IT-র সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতাগুলোর একটি। প্রধান ভূমিকাগুলো: cloud engineer (অবকাঠামো নকশা ও পরিচালনা), DevOps engineer (কোড লেখা থেকে চালু করা পর্যন্ত পুরো পথ স্বয়ংক্রিয় করা), SRE (site reliability — সেবা যেন না থামে), cloud security বিশেষজ্ঞ, আর FinOps (ক্লাউডের খরচ নিয়ন্ত্রণ)। বড় প্রোভাইডারদের নিজস্ব সার্টিফিকেশন আছে, শুরুর স্তরেরগুলো এই পর্বের ধারণাগুলো দিয়েই শুরু হয়। ভিত্তি হিসেবে লাগবে Linux আর কমান্ড লাইন (পর্ব ২৯), নেটওয়ার্কিং (পর্ব ৩২–৩৩) আর অন্তত একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। ফ্রিল্যান্সিংয়েও ক্লাউড সেটআপের কাজ প্রচুর (পর্ব ৪৮)।
ক্লাউডের প্রান্তে — edge computing আর IoT
সব কাজ দূরের ডেটা সেন্টারে পাঠানো সবসময় ভালো নয় — চালকবিহীন গাড়ি বা কারখানার যন্ত্র মিলিসেকেন্ডে সিদ্ধান্ত চায়। তাই কিছু হিসাব ব্যবহারকারীর কাছেই, “প্রান্তে” করা হয় — edge computing; আর লক্ষ লক্ষ সেন্সর-যন্ত্র (IoT) প্রান্তে ছেঁকে নিয়ে দরকারি ডেটাটুকু ক্লাউডে পাঠায়। IoT-র বিস্তারিত পর্ব ৪৬-এ।
পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে — এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে:
- ক্লাউড কম্পিউটিং কী? এর বৈশিষ্ট্য লিখুন। ইন্টারনেট দিয়ে চাহিদামাফিক কম্পিউটিং সম্পদ ভাড়া নেওয়া আর ব্যবহার অনুযায়ী দাম দেওয়া; বৈশিষ্ট্য: রিসোর্স স্কেলেবিলিটি, অন-ডিমান্ড, পে-অ্যাজ-ইউ-গো (NIST অনুযায়ী পাঁচটি)।
- IaaS, PaaS, SaaS-এর একটি করে উদাহরণ দিন। IaaS — AWS EC2, Google Compute Engine; PaaS — Google App Engine, Heroku; SaaS — Gmail, Microsoft 365, Google Drive.
- Public আর private cloud-এর পার্থক্য কী? public cloud সবার জন্য খোলা আর যন্ত্র ভাগ করা; private cloud একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানের, বেশি নিয়ন্ত্রণ, বেশি খরচ; দুটির মিশ্রণ hybrid.
- ক্লাউডের দুটি সুবিধা ও দুটি অসুবিধা লিখুন। সুবিধা: কম প্রাথমিক খরচ, প্রয়োজনমতো বাড়ানো-কমানো; অসুবিধা: ইন্টারনেট-নির্ভরতা, ডেটার গোপনীয়তা আর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি।
- কম্পিউটিংকে “public utility” হিসেবে প্রথম কল্পনা করেন কে? John McCarthy, ১৯৬১ সালে; “cloud computing” শব্দটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয় ২০০৬ সালের দিকে।
আরও গভীরে: এই পর্ব ক্লাউডের মানচিত্র দিল। প্রতিটি অংশ হাতে-কলমে — virtual machine-এর ধরন, auto-scaling আর load balancing, serverless, স্টোরেজের ধরন, VPC-নেটওয়ার্ক, Terraform দিয়ে infrastructure as code, Docker আর Kubernetes — শিখতে আমাদের Cloud ও DevOps কোর্স দেখুন। শুরু করতে পারেন public, private আর hybrid cloud বা auto-scaling আর load balancing পর্ব দিয়ে।
৯ · AI-এর যুগে — AI নিজেই ক্লাউড সেবা
আপনি যখন কোনো AI চ্যাটবট-কে প্রশ্ন করেন, উত্তরটি আপনার ফোনে তৈরি হয় না — তৈরি হয় দূরের ডেটা সেন্টারে হাজার হাজার GPU-তে। অর্থাৎ বেশিরভাগ AI সেবা আসলে SaaS, আর ডেভেলপাররা AI ব্যবহার করেন ক্লাউডের API দিয়ে, যেখানে বিল হয় ব্যবহার অনুযায়ী (প্রায়ই প্রতি হাজার বা লাখ শব্দাংশ ধরে)। নিজের AI মডেল প্রশিক্ষণ দিতে চাইলে ঘণ্টা ধরে GPU ভাড়া নেওয়া যায় — IaaS. তাই ক্লাউডের সব শিক্ষা AI-এ খাটে: খরচ নীরবে বাড়ে, আর আপনি AI-কে যে লেখা বা ফাইল দেন, তা প্রোভাইডারের সার্ভারে যায় — গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য, অফিসের গোপন নথি দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের নীতি দেখুন।
AI আবার ক্লাউড নকশায় সহকারী হিসেবেও দারুণ: “৫০০ জন ব্যবহারকারীর একটি অ্যাপের জন্য AWS-এ architecture বানাও” বললে কয়েক সেকেন্ডে একটি নকশা পাবেন। কিন্তু AI প্রায়ই প্রয়োজনের চেয়ে বড় (আর দামি) নকশা দেয়, পুরোনো সেবার নাম বা দাম বলে, আর উদাহরণ-কোডে সুবিধার জন্য storage “public” বা সব port খোলা রেখে দিতে পারে। নিচের prompt-টি এসব ঝুঁকি মাথায় রেখে লেখা:
prompt-টি কপি করে বন্ধনীর জায়গায় নিজের তথ্য বসান:
AI-এর নকশা হাতে পেলে — যাচাইয়ের চেকলিস্ট
ভাবনার প্রশ্ন
প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে কিছুক্ষণ ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন। ক্লাউডের ইতিহাস আসলে পুরোনো একটি স্বপ্ন, একটি অনলাইন বইয়ের দোকান আর কয়েকটি বড় ভুলের গল্প।
প্র ০১“কম্পিউটিং একদিন টেলিফোনের মতো জনসেবা হবে” — ১৯৬১ সালে কে, কেন এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, আর তা সত্যি হতে প্রায় অর্ধশতাব্দী লাগল কেন?
১৯৬১ সালে MIT-র শতবর্ষ উপলক্ষে এক বক্তৃতায় কম্পিউটার বিজ্ঞানী John McCarthy — যিনি “artificial intelligence” শব্দটিরও স্রষ্টা — বলেন, time-sharing প্রযুক্তি সফল হলে কম্পিউটিং একদিন টেলিফোন ব্যবস্থার মতো একটি জনসেবা (public utility) হিসেবে সংগঠিত হতে পারে। প্রত্যেক গ্রাহক শুধু যতটুকু ব্যবহার করবেন, ততটুকুর দাম দেবেন, অথচ পাবেন বিশাল একটি কম্পিউটারের পুরো ক্ষমতা। এটাই আজকের utility computing ধারণা।
ভিত্তিটা ছিল time-sharing — একটি mainframe-এ অনেক ব্যবহারকারী আলাদা টার্মিনাল থেকে একসাথে কাজ করেন, আর OS দ্রুত পালা বদলে প্রত্যেককে মনে করায় যন্ত্রটি তাঁর একার (পর্ব ২৬)। ১৯৬০–৭০-এর দশকে এর ওপর ভর করে “service bureau” ব্যবসা গড়ে ওঠে: যাদের নিজের কম্পিউটার কেনার সামর্থ্য নেই, তারা টেলিফোন লাইনে দূরের কম্পিউটারের সময় ভাড়া নিত, মিনিট ধরে বিল দিত। McCarthy-র স্বপ্নের প্রথম রূপ এটাই।
তাহলে আসল ক্লাউড আসতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত লাগল কেন? প্রথমত, ১৯৮০-এর দশকে পার্সোনাল কম্পিউটার সস্তা হয়ে গেল — সবাই নিজের যন্ত্র কিনতে শুরু করল, ভাড়ার প্রয়োজন কমে গেল। দ্বিতীয়ত, দূরের কম্পিউটারকে কাছের মতো ব্যবহার করতে দরকার দ্রুত, সস্তা, সর্বত্র ইন্টারনেট — যা এসেছে ১৯৯০–২০০০-এর দশকে। তৃতীয়ত, একটি সার্ভারকে নিরাপদে অনেক ভাড়াটের মধ্যে ভাগ করার দক্ষ virtualization সাধারণ x86 সার্ভারে সহজলভ্য হয় ২০০০-এর দশকে। আর চতুর্থত, বিশাল ডেটা সেন্টার সস্তায় চালানোর অভিজ্ঞতা জমেছিল Google, Amazon-এর মতো ইন্টারনেট কোম্পানির হাতে।
মূল উপলব্ধি: একটি ধারণা সঠিক হলেও তার সময় আসে তখনই, যখন আশপাশের সব প্রযুক্তি — নেটওয়ার্ক, virtualization, সস্তা হার্ডওয়্যার — একসাথে প্রস্তুত হয়। ক্লাউড নতুন আবিষ্কার নয়; এটি time-sharing-এর পুরোনো স্বপ্নের ইন্টারনেট-যুগের রূপ।
প্র ০২একটি অনলাইন বইয়ের দোকান কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাউড প্রোভাইডার হয়ে উঠল? ২০০৬ সালে S3 আর EC2 কেন যুগান্তকারী ছিল?
Amazon শুরু হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি অনলাইন বইয়ের দোকান হিসেবে, পরে সবকিছুর বাজার হয়ে ওঠে। এত বড় ই-কমার্স চালাতে Amazon-কে বিশাল কম্পিউটার-অবকাঠামো গড়তে হয়েছিল — আর তা গড়তে হতো সবচেয়ে ভিড়ের দিনের (বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুম) মাপে, যা বছরের বেশিরভাগ সময় অনেকটাই অলস থাকত। এর চেয়েও বড় সমস্যা ছিল ভেতরের: প্রতিটি নতুন প্রকল্পের দল সার্ভার, ডেটাবেস আর স্টোরেজ নিজে নিজে আবার বানাত, ফলে সময় নষ্ট হতো।
২০০০-এর দশকের শুরুতে Amazon তার ভেতরের সিস্টেমগুলোকে এমনভাবে নতুন করে সাজায় যাতে প্রতিটি অংশ অন্য দলকে নির্দিষ্ট API দিয়ে সেবা দেয়। এই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রশ্ন ওঠে: অবকাঠামো যদি API দিয়ে ভেতরের দলকে দেওয়া যায়, তাহলে বাইরের যেকোনো ডেভেলপারকেও কেন নয়? ২০০৬ সালের মার্চে চালু হয় Amazon S3 (Simple Storage Service) — যত খুশি ফাইল রাখুন, GB ধরে মাসে মাসে দাম দিন। একই বছরের আগস্টে আসে EC2 (Elastic Compute Cloud), প্রথমে পরীক্ষামূলক (beta) হিসেবে — কয়েক মিনিটে virtual সার্ভার চালু করুন, ঘণ্টা ধরে দাম দিন। এর আগে একটি স্টার্টআপকে সার্ভার কিনতে, ডেটা সেন্টারে জায়গা ভাড়া নিতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ আর বড় অঙ্কের টাকা লাগত; এখন একটি ক্রেডিট কার্ড আর কয়েক মিনিটই যথেষ্ট।
এর প্রভাব ছিল বিশাল। পরের দশকে অসংখ্য স্টার্টআপ নিজের একটি সার্ভারও না কিনে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা গড়েছে। Microsoft (Azure, ২০১০ সালে বাণিজ্যিকভাবে) আর Google (App Engine ২০০৮, Compute Engine ২০১২) প্রতিযোগিতায় নামে, তবে প্রথমে আসার সুবিধা নিয়ে AWS দীর্ঘ সময় বাজারে শীর্ষে থেকেছে। Amazon-এর আয়ের বড় অংশ, আর লাভের আরও বড় অংশ, এখন এই ক্লাউড ব্যবসা থেকে আসে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
মূল উপলব্ধি: নিজের সমস্যার সমাধান অনেক সময় সবচেয়ে বড় পণ্য হয়ে ওঠে। Amazon অবকাঠামো বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করেনি; নিজের অবকাঠামোকে সেবায় রূপ দিতে গিয়েই বুঝেছিল, বাকি দুনিয়ারও ঠিক এটাই দরকার।
প্র ০৩১৯৯৯ সালে একটি কোম্পানির লোগো ছিল লাল দাগ কাটা “SOFTWARE” — “No Software”. যারা নিজেরাই সফটওয়্যার বিক্রি করে, তারা এমন স্লোগান দিল কেন?
১৯৯০-এর দশকে ব্যবসায়িক সফটওয়্যার কেনার মানে ছিল বড় অঙ্কের লাইসেন্স কেনা, নিজের সার্ভারে ইনস্টল করা, পরামর্শক ভাড়া করে মাসের পর মাস সেটআপ, আর প্রতিটি নতুন সংস্করণে আবার একই ঝামেলা। গ্রাহক-ব্যবস্থাপনার (CRM) সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ করে ব্যয়বহুল ছিল।
১৯৯৯ সালে Oracle-এর সাবেক নির্বাহী Marc Benioff সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের নিয়ে সান ফ্রান্সিসকোতে শুরু করেন Salesforce. তাদের প্রস্তাব: সফটওয়্যার কিনতে হবে না, ইনস্টল করতে হবে না — ব্রাউজার খুলে লগইন করুন, প্রতি ব্যবহারকারী মাসে মাসে ফি দিন। আপডেট আসবে নিজে থেকেই, সবার জন্য একসাথে। প্রচারের জন্য তারা বেছে নেয় বিদ্রোহী ভঙ্গি — লাল বৃত্তে দাগ কাটা “SOFTWARE” লোগো, আর “The End of Software” ধাঁচের প্রচারণা, যেন প্রচলিত সফটওয়্যার কোম্পানির বিরুদ্ধে আন্দোলন।
অবশ্যই এটি ছিল বিপণনের চাতুর্য — Salesforce নিজেও সফটওয়্যারই বানায়। কিন্তু স্লোগানটি একটি সত্যিকারের পরিবর্তন ধরেছিল: সফটওয়্যার আর “পণ্য” নয়, “সেবা”। গ্রাহকের দিক থেকে ইনস্টল, সার্ভার, আপগ্রেড — সব অদৃশ্য। এটাই SaaS. একই সময়ে আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই পথে হেঁটেছিল, আর ২০০০-এর দশকে Gmail (২০০৪) আর Google Docs ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের কাছেও ধারণাটি পৌঁছে দেয়। আজ Microsoft Office-ও মূলত Microsoft 365 সাবস্ক্রিপশন হিসেবে বিক্রি হয়।
দামও আছে। SaaS-এ আপনি কখনো সফটওয়্যারের “মালিক” নন — বিল বন্ধ হলে প্রবেশও বন্ধ; প্রোভাইডার দাম বা শর্ত বদলালে মানতে হয়; আর ডেটা থাকে তাদের সার্ভারে, তাই নিয়মিত export করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
মূল উপলব্ধি: প্রযুক্তি যতটা বদলায়, তার চেয়েও বড় বদল আসে ব্যবসার মডেলে। SaaS-এর আসল উদ্ভাবন কোড নয় — “কিনে নাও” থেকে “ভাড়া নাও”-তে সরে যাওয়া, যা পুরো সফটওয়্যার শিল্পের অর্থনীতি বদলে দিয়েছে।
প্র ০৪২০১৭ সালে একজন প্রকৌশলীর একটি টাইপের ভুলে ইন্টারনেটের বড় একটি অংশ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধুঁকল। একটি কমান্ড কীভাবে এত বড় ক্ষতি করতে পারে?
২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি AWS-এর us-east-1 region-এ S3 স্টোরেজ সেবা প্রায় চার ঘণ্টা ঠিকমতো কাজ করেনি। পরে AWS যে প্রকাশ্য ব্যাখ্যা দেয়, তার সারকথা: S3-এর বিলিং ব্যবস্থার একটি ধীরগতির সমস্যা খুঁজতে গিয়ে একজন প্রকৌশলী অনুমোদিত নিয়ম মেনেই কয়েকটি সার্ভার সরানোর কমান্ড চালান। কিন্তু কমান্ডে একটি মান ভুল লেখা হয়েছিল, ফলে উদ্দেশ্যের চেয়ে অনেক বেশি সার্ভার সরে যায় — তার মধ্যে ছিল S3-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-ব্যবস্থা, যারা ফাইলের হিসাব রাখে। সেগুলো পুরো আবার চালু করতে হলো, আর এত বড় আকারে বহু বছর পুরো রিস্টার্ট হয়নি বলে সময় লাগল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি।
প্রভাব ছড়িয়ে পড়ল শৃঙ্খলের মতো। অসংখ্য ওয়েবসাইট আর অ্যাপ তাদের ছবি ও ফাইল S3-এ রাখত; সেগুলো ভেঙে গেল। AWS-এর অন্য কিছু সেবাও S3-এর ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেগুলোও আটকাল। সবচেয়ে বিদ্রূপের ঘটনা: AWS-এর নিজস্ব সেবা-অবস্থার ড্যাশবোর্ড কিছুক্ষণ সমস্যাটি ঠিকমতো দেখাতে পারেনি, কারণ ড্যাশবোর্ডও S3-এর ওপর নির্ভর করত।
এখানে মূল ধারণা single point of failure — এমন একটি অংশ, যেটি বিকল হলে পুরো ব্যবস্থা থেমে যায়। হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান না জেনেই একই region-এর একই সেবাকে নিজেদের single point of failure বানিয়ে ফেলেছিল। AWS পরে কয়েকটি পরিবর্তন করে: টুলটি এখন একসাথে বেশি সার্ভার সরাতে দেয় না, ধীরে ধীরে সরায়, আর ন্যূনতম ক্ষমতার নিচে নামার আগে থামে; উপ-ব্যবস্থাগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা হয়, যাতে আবার চালু হতে কম সময় লাগে।
শিক্ষাটি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য: মানুষ ভুল করবেই, তাই টুল এমনভাবে বানাতে হয় যাতে একটি ভুল সীমিত ক্ষতি করে (guardrail); গুরুত্বপূর্ণ সেবা একাধিক region-এ রাখার পরিকল্পনা থাকতে হয়; আর নিজের পর্যবেক্ষণ-ব্যবস্থা যেন যে জিনিসটি পর্যবেক্ষণ করছে, তার ওপরই নির্ভর না করে। AWS ঘটনাটির পর দোষারোপ না করে কারণ বিশ্লেষণের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল — শিল্পে একে “blameless postmortem” সংস্কৃতি বলে।
মূল উপলব্ধি: ক্লাউড ঝুঁকি দূর করে না, কেন্দ্রীভূত করে। লাখো প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি কয়েকটি বড় প্রোভাইডারের হাতে জমা হয় — তাই সেখানে ছোট ভুলেরও বিশাল প্রভাব, আর নিজের সেবার নির্ভরযোগ্যতার নকশা শেষ পর্যন্ত নিজেকেই করতে হয়।
প্র ০৫বাংলাদেশের নাগরিকদের ডেটা কি বাংলাদেশের মাটিতেই থাকা উচিত? data sovereignty-র পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিগুলো কী?
Data sovereignty মানে ডেটা যে দেশে রাখা আছে, সেই দেশের আইন তার ওপর খাটে। Data localization মানে আইন করে বাধ্য করা যে নির্দিষ্ট ধরনের ডেটা দেশের ভেতরেই রাখতে হবে। প্রশ্নটি সহজ শোনালেও উত্তর জটিল, আর বিশ্বজুড়ে দেশগুলো ভিন্ন ভিন্ন পথ নিয়েছে।
দেশে রাখার পক্ষে যুক্তি: জাতীয় পরিচয়পত্র, স্বাস্থ্য, ব্যাংক বা ভূমির রেকর্ডের মতো স্পর্শকাতর ডেটা বিদেশি সার্ভারে থাকলে সে দেশের সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় তা চাইতে পারে; আন্তর্জাতিক সংযোগ বা সম্পর্কে সমস্যা হলে নিজের দেশের সেবাই আটকে যেতে পারে; দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আর আদালতের পক্ষে ডেটায় পৌঁছানো সহজ হয়; আর দেশে ডেটা সেন্টার শিল্প ও দক্ষ জনবল গড়ে ওঠে।
বাধ্যতামূলক করার বিপক্ষে যুক্তি: সব ডেটা দেশে রাখার নিয়ম খরচ বাড়ায় — বিশেষ করে স্টার্টআপের জন্য, যারা বৈশ্বিক ক্লাউডের free tier আর উন্নত সেবা ব্যবহার করে; বড় বৈশ্বিক প্রোভাইডারের মতো নিরাপত্তা-বিনিয়োগ আর অভিজ্ঞতা সব স্থানীয় ডেটা সেন্টারে নাও থাকতে পারে, তাই “দেশে রাখা” মানেই “বেশি নিরাপদ” নয়; ডেটা এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হলে নাগরিকের ওপর নজরদারির আশঙ্কা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন; আর আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও আউটসোর্সিংয়ে ডেটার অবাধ চলাচল জরুরি।
অনেক দেশ মাঝামাঝি পথ নিয়েছে: ইউরোপীয় ইউনিয়নের GDPR (২০১৮ থেকে কার্যকর) ডেটা বাইরে পাঠানো নিষেধ করে না, কিন্তু শর্ত দেয় — যে দেশে যাবে সেখানেও যথেষ্ট সুরক্ষা থাকতে হবে। কিছু দেশ শুধু নির্দিষ্ট খাত (যেমন সরকারি বা আর্থিক ডেটা) দেশে রাখতে বলে। বাংলাদেশেও ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা নিয়ে আইনি কাঠামো তৈরির আলোচনা কয়েক বছর ধরে চলছে, আর কিছু খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আলাদা নির্দেশনা দেয় — সর্বশেষ অবস্থা জানতে সরকারি সূত্র দেখুন।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভাবনা হতে পারে ডেটাকে স্তরে ভাগ করা: সবচেয়ে স্পর্শকাতর ডেটা দেশে বা কড়া শর্তে; সাধারণ ডেটা যেখানে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী; আর সব ক্ষেত্রেই এনক্রিপশন, যাতে চাবি থাকে ডেটার মালিকের হাতে।
মূল উপলব্ধি: data sovereignty প্রযুক্তির চেয়ে বেশি নীতি, আইন আর আস্থার প্রশ্ন। “ডেটা কোথায় আছে” যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি “কে তাতে পৌঁছাতে পারে, কোন আইনে, আর কীভাবে সুরক্ষিত” — এই প্রশ্নগুলো নাগরিক হিসেবেও আমাদের জানা দরকার।
অনুশীলন
প্রথমটি শ্রেণিবিভাগ, দ্বিতীয়টি ছোট হিসাব, তৃতীয় আর চতুর্থটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ।
-
কোনটি কোন মডেল: নিচের সেবাগুলোকে IaaS, PaaS বা SaaS-এ ভাগ করুন — Google Drive, AWS EC2, Firebase, Zoom, Azure Virtual Machines, Google App Engine, Canva.
IaaS: AWS EC2, Azure Virtual Machines — কাঁচা virtual machine, OS-এর দায়িত্ব আপনার।
PaaS: Firebase, Google App Engine — আপনি কোড আর ডেটা দেন, প্ল্যাটফর্ম প্রোভাইডারের।
SaaS: Google Drive, Zoom, Canva — তৈরি সফটওয়্যার, শুধু ব্যবহার করেন। কৌশল: “আমাকে কি OS আপডেট করতে হবে?” — হ্যাঁ হলে IaaS; “আমি কি কোড লিখে আপলোড করি?” — হ্যাঁ হলে PaaS; “শুধু লগইন করে ব্যবহার করি?” — SaaS.
-
খরচের হিসাব: একটি অনলাইন টিকিট সাইটে দিনে ২০ ঘণ্টা ২টি সার্ভার লাগে, আর সন্ধ্যার ৪ ঘণ্টা লাগে ৮টি। ১ সার্ভার × ১ ঘণ্টা = ১ খরচ-একক। (ক) সারাদিন ৮টি সার্ভার চালিয়ে রাখলে খরচ কত? (খ) auto-scaling-এ কত? (গ) সাশ্রয় শতকরা কত?
(ক) ৮ × ২৪ = ১৯২ একক. (খ) ২০ × ২ + ৪ × ৮ = ৪০ + ৩২ = ৭২ একক. (গ) সাশ্রয় ১৯২ − ৭২ = ১২০ একক; ১২০ ÷ ১৯২ = ০.৬২৫, অর্থাৎ ৬২.৫%.
বাস্তবে auto-scaling-এ নতুন সার্ভার চালু হতে কয়েক মিনিট লাগে, তাই সন্ধ্যার ভিড়ের একটু আগে থেকে সার্ভার বাড়ানোর নিয়ম (scheduled scaling) রাখা ভালো — সাশ্রয় সামান্য কমবে, কিন্তু কেউ ফেরত যাবেন না।
-
দায় কার: একটি কোম্পানি public cloud-এ গ্রাহকদের রসিদের PDF রাখত। একদিন জানা গেল, লিংক জানা যে কেউ সেগুলো দেখতে পারছিল, কারণ storage bucket “public” রাখা ছিল। (ক) shared responsibility model অনুযায়ী দায় কার? (খ) ভবিষ্যতে এড়াতে কোম্পানির তিনটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ লিখুন।
(ক) গ্রাহকের — অর্থাৎ কোম্পানির নিজের। প্রোভাইডার স্টোরেজ ব্যবস্থাটি নিরাপদ রেখেছে; কিন্তু কোন ফাইল কে দেখতে পারবে, সেই সেটিং ক্লাউড-“এর ভেতরের” দায়িত্ব, যা গ্রাহকের।
(খ) যেমন: ১) অ্যাকাউন্ট-স্তরে “public access বন্ধ” সেটিং চালু রাখা, যাতে ভুল করেও কোনো bucket public না হয়; ২) কাউকে নির্দিষ্ট ফাইল দেখাতে হলে অল্প সময়ের মেয়াদি বিশেষ লিংক ব্যবহার করা; ৩) প্রোভাইডারের নিরাপত্তা-পরামর্শ ড্যাশবোর্ড নিয়মিত দেখা আর কর্মীদের শুধু প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া। আর গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের জানানো ও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।
-
মডেল বাছাই: একটি হাসপাতাল-চেইন চায় রোগীর চিকিৎসা-রেকর্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে, কিন্তু অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের ওয়েবসাইটে মাঝে মাঝে বিশাল ভিড় হয় (যেমন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিরিয়াল খোলার দিনে)। কোন deployment মডেল মানাবে, আর কেন?
Hybrid cloud. রোগীর রেকর্ড অত্যন্ত স্পর্শকাতর, আর আইনগত শর্তও থাকতে পারে — তাই সেটি private cloud বা নিজের ডেটা সেন্টারে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য কম, কিন্তু ভিড় অনিশ্চিত — তাই public cloud-এ auto-scaling-সহ।
দুটির মধ্যে নিরাপদ সংযোগ লাগবে (যেমন এনক্রিপ্ট করা নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক-পথ), আর ওয়েবসাইট শুধু ততটুকু তথ্য দেখবে যতটুকু অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য দরকার। কয়েকটি হাসপাতাল মিলে একই অবকাঠামো ভাগ করলে সেটি community cloud-ও হতে পারে।
নিজেকে যাচাই করুন
ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।
ক্রমহঠাৎ ভিড়ে auto-scaling কীভাবে কাজ করে — প্রথম থেকে শেষ সাজান (▲▼ চেপে সরান)
- 📈 ওয়েবসাইটে ভিড় হঠাৎ বেড়ে যায়
- 👀 পর্যবেক্ষণ-ব্যবস্থা দেখে CPU-ব্যবহার সীমা ছাড়িয়েছে
- ⚙️ auto-scaling নিয়ম নতুন সার্ভার চালুর নির্দেশ দেয়
- 🖥️ তৈরি image থেকে নতুন virtual machine চালু হয়
- ⚖️ health check পাস করলে load balancer নতুন সার্ভারেও ভিড় পাঠায়
- 📉 ভিড় কমলে বাড়তি সার্ভার বন্ধ হয়, বিলও কমে
Gmail আর Microsoft 365 ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের কোন সার্ভিস মডেলের উদাহরণ?
- IaaS
- PaaS
- SaaS
- On-premise
একজন ডেভেলপার শুধু নিজের অ্যাপের কোড আপলোড করেন; OS, runtime আর সার্ভার-রক্ষণাবেক্ষণ প্রোভাইডার দেখে। এটি কোন সার্ভিস মডেল?
- IaaS
- PaaS
- SaaS
- On-premise
IaaS মডেলে ভাড়া নেওয়া virtual machine-এর operating system-এ security update বসানোর দায়িত্ব সাধারণত কার?
- গ্রাহকের
- প্রোভাইডারের
- ইন্টারনেট সেবাদাতার (ISP)
- কারও নয়, নিজে থেকেই হয়
একটি ব্যাংক গ্রাহকের লেনদেনের ডেটা নিজের ডেটা সেন্টারে রাখে, কিন্তু মার্কেটিং ওয়েবসাইট চালায় একটি public cloud-এ। এটি কোন deployment মডেল?
- Public cloud
- Private cloud
- Community cloud
- Hybrid cloud
ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে “rapid elasticity” বৈশিষ্ট্যের সঠিক অর্থ কোনটি?
- যেকোনো ডিভাইস থেকে ইন্টারনেটে সেবা ব্যবহার করা যায়
- চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সম্পদ বাড়ানো ও কমানো যায়
- ব্যবহার মিটারে মেপে বিল করা হয়
- অনেক গ্রাহক একই যন্ত্র-ভান্ডার ভাগ করে নেন
১৯৬১ সালে কম্পিউটিং একদিন টেলিফোনের মতো “public utility” হবে — এই ধারণা প্রথম প্রকাশ্যে বলেন কে?
- Marc Benioff
- Tim Berners-Lee
- John McCarthy
- Linus Torvalds
শব্দকোষ
লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:
মনে রাখুন
- ক্লাউড = কম্পিউটিং ভাড়া: ইন্টারনেট দিয়ে সার্ভার, স্টোরেজ আর সফটওয়্যার; NIST-এর পাঁচ বৈশিষ্ট্য — on-demand self-service, broad network access, resource pooling, rapid elasticity, measured service.
- IaaS (যন্ত্র: EC2), PaaS (প্ল্যাটফর্ম: App Engine, Heroku), SaaS (সফটওয়্যার: Gmail, Zoom); ওপরে উঠলে দায়িত্ব কমে, নিয়ন্ত্রণও কমে — কিন্তু ডেটা আর access সবসময় আপনার।
- Deployment: public, private, hybrid, community (NIST-এর চার) আর আধুনিক multi-cloud.
- Elasticity ভিড় অনুযায়ী সার্ভার বাড়ায়-কমায়; region আর availability zone-এ ছড়িয়ে রাখলে একটি জায়গা বিকল হলেও সেবা চলে। খরচ নিয়ন্ত্রণে বাজেট-সতর্কবার্তা জরুরি।
- Shared responsibility: ক্লাউড-এর নিরাপত্তা প্রোভাইডারের, ক্লাউড-এর ভেতরের সেটিংস আপনার; সঙ্গে ভাবুন vendor lock-in আর ডেটা কোন দেশে থাকে।
আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ
- পর্ব ৩৬ · HTML দিয়ে প্রথম ওয়েব পেজপরবর্তী পর্বমডিউল ৬-এর শুরু — নিজের হাতে একটি ওয়েব পেজ।
- পর্ব ৩৪ · ডোমেইন, হোস্টিং আর ওয়েবসাইট প্রকাশআগের পর্বডোমেইন কেনা থেকে ওয়েবসাইট অনলাইনে তোলা।
- কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস ও ICT · কোর্স হোম৫৫টি পর্বপুরো কোর্সের রোডম্যাপ — কোন পর্ব কখন।
- Cloud ও DevOpsগভীরে যানVM, auto-scaling, serverless, Terraform, Docker আর Kubernetes — হাতে-কলমে।
- Computer Networksপাশের ট্র্যাকক্লাউডের নিচের নেটওয়ার্ক — routing, TCP/IP আর load balancing.