সরাসরি পর্বে যান
পর্ব ০৩ · ৫৫-এর মধ্যে · মডিউল ১

হার্ডওয়্যার — CPU, মাদারবোর্ড, পোর্ট আর পেরিফেরাল

Computer Hardware — CPU, Motherboard, Ports & Peripherals

Taught in Bangla, this lesson tours the inside of a desktop and explains each hardware part: the CPU with its ALU, control unit and registers, the motherboard and GPU, input and output devices including OMR, OCR and MICR, and ports such as USB, HDMI and Ethernet, clearing up USB-C speed confusion. It also compares laptops, desktops and phones and covers UPS, IPS and safe handling.

এই পর্বে যা শিখবেন

  • একটি ডেস্কটপের ভেতরে কোন অংশ কোথায় থাকে, কোনটি কী কাজ করে — আর কোন ক্রমে জোড়া লাগে
  • CPU, মাদারবোর্ড আর GPU-র মূল ধারণা, আর কেনার সময় কোন সংখ্যাগুলো আসলে গুরুত্বপূর্ণ
  • ইনপুট, আউটপুট আর দুই-কাজের ডিভাইস চেনা — OMR, OCR, MICR সহ
  • USB, HDMI, Ethernet-সহ পোর্ট চেনা আর USB-র গতির বিভ্রান্তি দূর করা
  • ল্যাপটপ-ডেস্কটপ-ফোনের পার্থক্য, UPS-IPS, নিরাপদে বসা আর নিরাপদে PC খোলা

১ · হার্ডওয়্যার কী — যা হাত দিয়ে ছোঁয়া যায়

আপনার সামনের ল্যাপটপ, টেবিলের ডেস্কটপ বা হাতের ফোন — এগুলোর যে অংশগুলো হাত দিয়ে ছোঁয়া যায়, ওজন আছে, ভেঙে গেলে দোকানে নিয়ে যেতে হয়, সেগুলোই হার্ডওয়্যার. আর যা ছোঁয়া যায় না — Windows, Word, ফেসবুক অ্যাপ, আপনার লেখা চিঠি — সেগুলো সফটওয়্যার আর ডেটা। সফটওয়্যার নিয়ে বিস্তারিত পর্ব ০৫-এ।

একটি রেস্টুরেন্টের কথা ভাবুন। চুলা, হাঁড়ি, ফ্রিজ, টেবিল, ওয়েটারের খাতা — এগুলো হার্ডওয়্যার। আর রান্নার রেসিপি, বাবুর্চির জ্ঞান, অর্ডারের নিয়ম — এগুলো সফটওয়্যার। চুলা ছাড়া রেসিপি অচল, আবার রেসিপি ছাড়া চুলা শুধু আগুন জ্বালায়। কম্পিউটারেও দুটি একসাথে লাগে।

পর্ব ০১-এ আপনি IPOS ধারণাটি দেখেছেন — Input, Process, Output, Storage. মজার ব্যাপার হলো, কম্পিউটারের প্রতিটি হার্ডওয়্যার এই চার কাজের কোনো একটিতে পড়ে। আর এদের সবাইকে একটি বড় সার্কিট বোর্ড জুড়ে রাখে — মাদারবোর্ড.

IPOS অনুযায়ী হার্ডওয়্যার

Every hardware part fits one job: input, process, output or storage

  1. ইনপুটকীবোর্ড, মাউসতথ্য ঢোকায়
  2. প্রসেসCPU, GPUহিসাব ও সিদ্ধান্ত
  3. স্টোরেজRAM, SSDধরে রাখে (পর্ব ০৪)
  4. আউটপুটমনিটর, প্রিন্টারফল দেখায়
ছবি ৩.১ — সব অংশ মাদারবোর্ডের মাধ্যমে একে অপরের সাথে কথা বলে।

কম্পিউটারের মূল বাক্সের বাইরে যে যন্ত্রগুলো তারে বা তারবিহীনভাবে যুক্ত হয় — কীবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, স্পিকার, ওয়েবক্যাম — এদের একসাথে বলে পেরিফেরাল (peripheral, মানে “চারপাশের”)। আর ডেস্কটপের মূল বাক্সটিকে, যার ভেতরে CPU, মাদারবোর্ড, মেমরি থাকে, বলা হয় সিস্টেম ইউনিট. অনেকে একে ভুল করে “CPU” বলেন — আসলে CPU হলো ভেতরের একটি ছোট্ট চিপ, পুরো বাক্স নয়। পরীক্ষায় এই পার্থক্যটি মনে রাখবেন।

মূল ধারণা

যেকোনো যন্ত্র দেখলে নিজেকে দুটি প্রশ্ন করুন: (১) এটি কি তথ্য ঢোকায়, প্রসেস করে, ধরে রাখে, না দেখায়? (২) এটি কোন পথে মাদারবোর্ডের সাথে যুক্ত? এই দুটি প্রশ্নের উত্তর জানলে নতুন কোনো যন্ত্রও আপনাকে আর বিভ্রান্ত করবে না।

২ · সিস্টেম ইউনিটের ভেতরে একটি ভ্রমণ

চলুন একটি সাধারণ ডেস্কটপের ঢাকনা খুলে ভেতরে উঁকি দিই। নিচের ছবিটি পাশ থেকে দেখা একটি টাওয়ার কেসের সরল নকশা — বাঁ দিকে পেছনের অংশ (যেখানে তার লাগে), ডান দিকে সামনের অংশ (যেখানে পাওয়ার বাটন)।

একটি ডেস্কটপের ভেতরের মানচিত্র

Inside a desktop system unit (side view, simplified)

ডেস্কটপ সিস্টেম ইউনিটের ভেতরের নকশা কেসের ভেতরে বড় সবুজ মাদারবোর্ড; তার ওপর CPU ও কুলার, পাশে চারটি RAM স্লট, নিচে M.2 SSD, তার নিচে লম্বা গ্রাফিক্স কার্ড, ডান পাশে চিপসেট, BIOS চিপ ও CMOS ব্যাটারি; একদম নিচে PSU; সামনের দিকে ড্রাইভ বে ও পাওয়ার বাটন; পেছনে পোর্টের সারি। ফ্যান CPU RAM M.2 SSD GPU (গ্রাফিক্স কার্ড) PSU HDD / SSD ১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ ৭ ৮ ৯ ১০ ১১ ১২
নংঅংশএক লাইনে কাজ
১কেস (casing)সব অংশের ঘর; ধুলা, আঘাত থেকে বাঁচায়, ফ্যান দিয়ে বাতাস চলাচল করায়
২মাদারবোর্ডসবচেয়ে বড় বোর্ড — সব অংশকে জোড়ে, তাদের মধ্যে তথ্য আনা-নেওয়া করে
৩CPU সকেট ও কুলারCPU বসে সকেটে; ওপরের কুলার (হিটসিংক + ফ্যান) তাপ সরায়
৪RAM স্লটচলমান কাজের অস্থায়ী মেমরি এখানে বসে (বিস্তারিত পর্ব ০৪)
৫M.2 SSDআঙুলের মতো ছোট, খুব দ্রুত স্থায়ী স্টোরেজ
৬এক্সপানশন স্লট ও GPUলম্বা স্লটে গ্রাফিক্স কার্ডের মতো বাড়তি কার্ড বসে
৭PSU (পাওয়ার সাপ্লাই)দেয়ালের ২২০ ভোল্ট AC-কে কম ভোল্টের DC-তে বদলায়
৮ড্রাইভ বে২.৫ বা ৩.৫ ইঞ্চির HDD/SSD রাখার খাঁচা
৯পেছনের I/O প্যানেলUSB, HDMI, Ethernet, অডিওসহ পোর্টের সারি
১০চিপসেটCPU আর বাকি যন্ত্রগুলোর মাঝে “ট্রাফিক পুলিশ”
১১BIOS/UEFI চিপ ও CMOS ব্যাটারিচালু হওয়ার প্রথম প্রোগ্রাম; ছোট গোল ব্যাটারি ঘড়ি আর সেটিং মনে রাখে
১২পাওয়ার বাটন ও সামনের পোর্টচালু করা, আর হাতের কাছে USB/হেডফোন লাগানো
ছবি ৩.২ — ডোরাকাটা ধূসর রেখাটি PSU থেকে মাদারবোর্ডে যাওয়া বিদ্যুতের তার। আসল কেসে অংশের আকার ও অবস্থান মডেলভেদে আলাদা।

এতগুলো অংশ দেখে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আসলে একটি PC জোড়া লাগানো অনেকটা লেগো সেটের মতো — প্রতিটি অংশের নির্দিষ্ট জায়গা আর নির্দিষ্ট আকারের প্লাগ আছে, ভুল জায়গায় সাধারণত ঢোকেই না। নিচের ডায়াগ্রামে দেখুন, একজন টেকনিশিয়ান কোন ক্রমে একটি ডেস্কটপ তৈরি করেন:

১ · কেসখুলে প্রস্তুত
২ · PSUনিচে স্ক্রু
৩ · মাদারবোর্ডস্ট্যান্ডঅফের ওপর
৪ · CPU + কুলারসকেটে, পেস্টসহ
৫ · RAMক্লিক শব্দ
৬ · স্টোরেজM.2 / SATA
৭ · GPUPCIe x16 স্লটে
৮ · তারপাওয়ার + ডেটা
৯ · প্রথম চালুBIOS স্ক্রিন
  1. কেস প্রস্তুত। পাশের ঢাকনা খুলুন, কেসটি কাত করে টেবিলে রাখুন। বিদ্যুতের তার খোলা থাকতে হবে; নিরাপত্তার নিয়ম অংশ ৯-এ।
  2. PSU বসানো। পাওয়ার সাপ্লাই সাধারণত কেসের নিচে, পেছনের দিকে বসে, ফ্যান নিচের জালির দিকে মুখ করে। পেছন থেকে চারটি স্ক্রু। এর পেছনেই পরে দেয়ালের তার লাগবে।
  3. মাদারবোর্ড বসানো। কেসের গায়ে ছোট ধাতব খুঁটি (standoff) থাকে, বোর্ড তার ওপর স্ক্রু দিয়ে বসে — যাতে বোর্ডের নিচের সার্কিট কেসের ধাতু না ছোঁয়। (অনেকে CPU আর RAM আগে টেবিলেই বোর্ডে বসিয়ে নেন — দুটি পদ্ধতিই চলে।)
  4. CPU আর কুলার। সকেটের লিভার তুলে CPU বসান — কোণার ছোট সোনালি ত্রিভুজ চিহ্ন সকেটের চিহ্নের সাথে মেলাতে হয়, কোনো চাপ লাগে না। তারপর মাঝখানে মটরদানার মতো একটু থার্মাল পেস্ট, তার ওপর কুলার। পেস্ট মাঝের সূক্ষ্ম ফাঁক ভরে তাপ সরাতে সাহায্য করে।
  5. RAM বসানো। স্লটের দুই পাশের ক্লিপ খুলে RAM-এর খাঁজ স্লটের খাঁজের সাথে মিলিয়ে সোজা চাপ দিন — “ক্লিক” শব্দে ক্লিপ লেগে যাবে।
  6. স্টোরেজ। M.2 SSD বোর্ডের নির্দিষ্ট স্লটে কাত করে ঢুকিয়ে একটি ছোট স্ক্রু দিয়ে আটকান। পুরোনো ধাঁচের HDD বা ২.৫ ইঞ্চির SSD যায় ড্রাইভ বে-তে, SATA তার দিয়ে।
  7. GPU (থাকলে)। CPU-র সবচেয়ে কাছের লম্বা PCIe x16 স্লটে গ্রাফিক্স কার্ড বসে, পেছনে স্ক্রু। বড় কার্ডে PSU থেকে আলাদা পাওয়ার তার লাগে।
  8. তার জোড়া। মাদারবোর্ডে ২৪-পিনের বড় পাওয়ার তার, CPU-র জন্য ৮-পিনের তার, SATA, ফ্যান, আর সামনের প্যানেলের ছোট ছোট তার (পাওয়ার বাটন, USB, অডিও)।
  9. প্রথম চালু। মনিটর, কীবোর্ড লাগিয়ে পাওয়ার বাটন চাপুন। প্রথমে আসে BIOS/UEFI-এর স্ক্রিন, তারপর অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল। চালু হওয়ার পুরো গল্প পর্ব ২৭-এ।

ল্যাপটপে এই সব অংশই আছে, শুধু অনেক ছোট আর ঠাসাঠাসি করে বসানো। অনেক আধুনিক ল্যাপটপে RAM বোর্ডের সাথে স্থায়ীভাবে ঝালাই করা (soldered) থাকে — পরে বাড়ানো যায় না। কেনার আগে এটি জেনে নেওয়া তাই জরুরি; পর্ব ০৮-এ কেনার চেকলিস্ট পাবেন।

৩ · CPU — কম্পিউটারের মস্তিষ্ক

CPU (Central Processing Unit) হলো সেই চিপ, যে প্রোগ্রামের প্রতিটি নির্দেশ একটি একটি করে পড়ে আর পালন করে। যোগ-বিয়োগ, তুলনা, “এটা হলে ওটা করো” — সব সিদ্ধান্ত এখানেই হয়। আকারে একটি ডাকটিকিটের মতো, কিন্তু ভেতরে কয়েকশো কোটি ক্ষুদ্র সুইচ (ট্রানজিস্টর)। পরীক্ষায় একে প্রায়ই “কম্পিউটারের মস্তিষ্ক” বলা হয়, আর এর প্রধান তিনটি অংশ জানতে চাওয়া হয়:

🧮 ALU

Arithmetic Logic Unit — হিসাবরক্ষক। যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ (arithmetic) আর তুলনা — বড় না ছোট, সমান কি না, AND/OR (logic).

হিসাব ও তুলনা

🎛️ কন্ট্রোল ইউনিট

Control Unit (CU) — ম্যানেজার। মেমরি থেকে পরের নির্দেশ আনে, বুঝে নেয়, তারপর ALU, মেমরি, ইনপুট-আউটপুটকে বলে কে কখন কী করবে।

নির্দেশ ও সমন্বয়

📒 রেজিস্টার

Register — CPU-র ভেতরের হাতে-গোনা কয়েকটি অতি দ্রুত ঘর। যে সংখ্যা নিয়ে এই মুহূর্তে কাজ চলছে, সেটি এখানে থাকে।

সবচেয়ে দ্রুত মেমরি

একটি মুদি দোকানের হিসাব ভাবুন। দোকানের মালিক (কন্ট্রোল ইউনিট) খাতা থেকে পরের কাজটি পড়েন — “রহিম সাহেবের বিল করো।” ক্যালকুলেটর (ALU) দাম যোগ করে। আর হিসাবের মাঝখানের সংখ্যাগুলো মালিক কাগজের ছোট্ট চিরকুটে (রেজিস্টার) লিখে রাখেন — বড় খাতা (RAM) খোলার চেয়ে চিরকুট দেখা অনেক দ্রুত।

কেনার সময় যে দুটি শব্দ শুনবেন — GHz আর core

ক্লক স্পিড: CPU-র ভেতরে একটি “ঘড়ি” প্রতি সেকেন্ডে বহুবার টিক দেয়, আর প্রতি টিকে কাজ এক ধাপ এগোয়। ৩ GHz মানে প্রতি সেকেন্ডে ৩০০ কোটি টিক! তবে শুধু GHz দেখে দুটি CPU তুলনা করা ভুল — নতুন প্রজন্মের CPU প্রতি টিকে বেশি কাজ করে। তাই ২০২৪ সালের ২.৫ GHz-এর CPU অনেক সময় পুরোনো ৩.৫ GHz-এর CPU-কেও হারিয়ে দেয়।

Core: একটি core মানে একটি সম্পূর্ণ প্রসেসিং ইউনিট। আজকের CPU-তে একটি চিপের ভেতরেই ৪, ৮, ১৬ বা তারও বেশি core থাকে — যেন এক রান্নাঘরে কয়েকজন বাবুর্চি। অনেক কাজ একসাথে চললে বেশি core কাজে লাগে। কিন্তু একটি কাজকে যদি ভাগ করা না যায়, তখন বাবুর্চি বাড়িয়েও লাভ হয় না। CPU-র ভেতরে নির্দেশ কীভাবে আনা-বোঝা-চালানো (fetch-decode-execute) হয়, তা আমরা পর্ব ২৪-এ ধাপে ধাপে দেখব।

কে বানায় CPU — Intel, AMD আর ARM

পরিবারকোথায় দেখবেনবৈশিষ্ট্য
x86 — Intel (Core, Core Ultra), AMD (Ryzen)বেশিরভাগ Windows ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ, সার্ভার১৯৭৮ সালের Intel 8086 থেকে চলে আসা নির্দেশের ভাষা; পুরোনো সফটওয়্যারও চলে
ARM — Apple M-সিরিজ, Qualcomm Snapdragonপ্রায় সব স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ২০২০-এর পরের Mac, কিছু Windows ল্যাপটপকম বিদ্যুতে বেশি কাজ — ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী, তাপ কম
ফোনের চিপ — MediaTek (Dimensity, Helio), Samsung Exynos, Apple A-সিরিজবাজেট থেকে দামি স্মার্টফোনARM নকশার ওপর তৈরি, একটি চিপেই প্রায় পুরো কম্পিউটার (অংশ ৮)

১৯৭১ সালে Intel বাজারে আনে Intel 4004 — প্রথম বাণিজ্যিক মাইক্রোপ্রসেসর, অর্থাৎ পুরো CPU একটিমাত্র চিপে। এটি বানানো হয়েছিল জাপানি কোম্পানি Busicom-এর একটি ক্যালকুলেটরের জন্য, আর এতে ছিল মাত্র প্রায় ২,৩০০টি ট্রানজিস্টর। আজকের একটি ফোন বা ল্যাপটপের চিপে ট্রানজিস্টর থাকে হাজার কোটির বেশি। পর্ব ০২-এ যে “চতুর্থ প্রজন্মের” কথা পড়েছেন, তার শুরু এই চিপ থেকেই।

৪ · মাদারবোর্ড আর GPU — সংযোগের শহর আর ছবির কারিগর

মাদারবোর্ডকে একটি শহরের মানচিত্রের মতো ভাবুন। CPU হলো সচিবালয়, RAM হলো পাশের অফিসপাড়া, SSD হলো গুদাম, আর পোর্টগুলো শহরে ঢোকা-বেরোনোর টোল প্লাজা। এদের মধ্যে রাস্তা হলো বোর্ডের গায়ে আঁকা সরু তামার রেখা। এই রাস্তাগুলোর পোশাকি নাম bus (বাস) — হ্যাঁ, যাত্রীবাহী বাসের মতোই, শুধু যাত্রী এখানে বিট (0 আর 1).

বাসের ধরনকী বহন করেশহরের উদাহরণে
ডেটা বাসআসল তথ্য — সংখ্যা, অক্ষর, ছবির অংশট্রাকে করে মাল
অ্যাড্রেস বাসমেমরির কোন ঘরে পড়া বা লেখা হবে, তার ঠিকানাট্রাকের গায়ে লেখা গন্তব্যের ঠিকানা
কন্ট্রোল বাস“এখন পড়ো”, “এখন লেখো”, “কাজ শেষ” জাতীয় সংকেতট্রাফিক সিগন্যাল

মাদারবোর্ডের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাসিন্দা:

  • চিপসেট: CPU সরাসরি RAM আর গ্রাফিক্স কার্ডের সাথে কথা বলে, কিন্তু USB, SATA, অডিও, নেটওয়ার্কের মতো “ধীর” যন্ত্রগুলোর ভিড় সামলায় চিপসেট। কোন চিপসেট, তার ওপর নির্ভর করে কতগুলো USB পোর্ট বা SSD স্লট পাবেন।
  • BIOS/UEFI চিপ: বোর্ডের একটি ছোট ফ্ল্যাশ মেমরিতে থাকা প্রথম প্রোগ্রাম। পাওয়ার বাটন চাপার পর সবার আগে এটিই চলে — যন্ত্রগুলো পরীক্ষা করে, তারপর অপারেটিং সিস্টেমকে জাগায়। পুরোনো ব্যবস্থার নাম BIOS, আধুনিকটির নাম UEFI; কথ্য ভাষায় এখনো সবাই “BIOS” বলেন। পুরো গল্প পর্ব ২৭-এ। এর পাশের গোল কয়েন-ব্যাটারি (CMOS ব্যাটারি) কম্পিউটার বন্ধ থাকলেও ঘড়ি চালু রাখে — পুরোনো PC-তে প্রতিবার চালু করলে তারিখ-সময় ভুল দেখালে এই ব্যাটারিটিই সন্দেহের তালিকায় প্রথম।
  • এক্সপানশন স্লট (PCIe): লম্বা স্লট, যেখানে গ্রাফিক্স কার্ড, বাড়তি নেটওয়ার্ক কার্ড, ক্যাপচার কার্ড ইত্যাদি বসিয়ে কম্পিউটারের ক্ষমতা বাড়ানো যায়। ডেস্কটপের বড় সুবিধা এটাই।

GPU — হাজার হাতের শিল্পী

স্ক্রিনে যা দেখেন — প্রতিটি অক্ষর, ছবি, ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম — সেগুলো আঁকার দায়িত্ব GPU-র (Graphics Processing Unit). একটি Full HD স্ক্রিনে প্রায় ২১ লাখ বিন্দু (পিক্সেল), আর সেকেন্ডে ৬০ বার পুরো ছবি নতুন করে আঁকতে হয়। প্রতিটি বিন্দুর হিসাব প্রায় একই রকম, শুধু সংখ্যা আলাদা। এ কাজের জন্য কয়েকজন মেধাবী বাবুর্চির চেয়ে হাজারজন সাধারণ সহকারী বেশি কাজের — GPU ঠিক তা-ই: হাজার হাজার ছোট core, যারা একসাথে একই ধরনের সহজ হিসাব করে।

🔗 ইন্টিগ্রেটেড GPU

CPU-র চিপের ভেতরেই বসানো, আলাদা মেমরি নেই — RAM ভাগ করে নেয়। অফিসের কাজ, ক্লাস, ইউটিউব, হালকা ছবি এডিটের জন্য যথেষ্ট; বিদ্যুৎ কম লাগে।

Intel Iris Xe, AMD Radeon (Ryzen-এর ভেতরে), Apple M-সিরিজ

🎮 ডেডিকেটেড GPU

আলাদা কার্ড বা আলাদা চিপ, নিজস্ব দ্রুত মেমরি (VRAM) সহ। ভারী গেম, 3D, ভিডিও এডিটিং আর AI-এর জন্য। বিদ্যুৎ ও তাপ বেশি।

NVIDIA GeForce RTX, AMD Radeon RX

গেম আর AI — দুটোই কেন GPU চায়? কারণ দুটোর ভেতরেই আছে বিপুল পরিমাণ একই রকম গুণ-যোগ। গেমে লাখো পিক্সেলের রং হিসাব; AI-তে বিশাল সংখ্যার টেবিল (matrix) গুণ। ২০১২ সালে ছবি চেনার একটি নিউরাল নেটওয়ার্ক (AlexNet) মাত্র দুটি গেমিং GPU-তে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয় — সেখান থেকেই আধুনিক AI-এর জোয়ার, আর GPU হয়ে ওঠে AI-যুগের সবচেয়ে চাহিদার হার্ডওয়্যার। আজকের ফোন ও নতুন ল্যাপটপে AI-এর জন্য আরেকটি বিশেষ অংশও থাকে — NPU.

আরও গভীরে: ALU কীভাবে লজিক গেট দিয়ে তৈরি হয়, কন্ট্রোল ইউনিট কীভাবে নির্দেশ ভাঙে, বাস কীভাবে সময় মেনে তথ্য পাঠায়, আর GPU-র ভেতরের নকশা কেমন — জানতে চাইলে দেখুন আমাদের Computer Architecture & Digital Logic কোর্স, বিশেষ করে সিস্টেম বাস আর GPU আর্কিটেকচার পর্ব।

৫ · ইনপুট ডিভাইস — কম্পিউটারে তথ্য ঢোকানোর পথ

যে যন্ত্র বাইরের জগৎ থেকে তথ্য নিয়ে কম্পিউটারের ভাষায় (0 আর 1) রূপান্তর করে ভেতরে পাঠায়, সেটি ইনপুট ডিভাইস. চাপ, নড়াচড়া, আলো, শব্দ, আঙুলের ছাপ — সবকিছুই সংখ্যায় বদলে যায়।

ডিভাইসকী ধরেদৈনন্দিন উদাহরণ
কীবোর্ডকোন বোতাম চাপা হলোলেখা, শর্টকাট; বাংলায় লিখতে অভ্র বা বিজয়ের মতো লেআউট (পর্ব ০৭)
মাউস / টাচপ্যাডহাতের নড়াচড়া আর ক্লিকপর্দায় কিছু বেছে নেওয়া, টেনে সরানো
স্ক্যানারকাগজের ছবিসার্টিফিকেট, NID-র কপি স্ক্যান করে চাকরির আবেদনে আপলোড
ওয়েবক্যাম, মাইক্রোফোনআলো আর শব্দঅনলাইন ক্লাস, ভিডিও কল, ভয়েস টাইপিং
OMRনির্দিষ্ট ঘরে কালির দাগ আছে কি নাভর্তি পরীক্ষা ও চাকরির MCQ-র বৃত্ত ভরাট করা উত্তরপত্র
OCRছবিতে থাকা অক্ষর চিনে লেখায় রূপান্তরছাপা বই বা নোটিশের ছবি থেকে সম্পাদনাযোগ্য লেখা; ফোনের ক্যামেরা অ্যাপেও আছে
MICRচৌম্বক কালিতে ছাপা সংখ্যাব্যাংক চেকের নিচের সারির চেক নম্বর, ব্যাংক-শাখার কোড, অ্যাকাউন্ট নম্বর
বারকোড / QR রিডারসাদা-কালো দাগ বা বর্গের নকশাসুপারশপের ক্যাশ কাউন্টার; দোকানে QR স্ক্যান করে মোবাইলে পেমেন্ট
বায়োমেট্রিক রিডারআঙুলের ছাপ, মুখ, চোখের আইরিসSIM কেনার সময় আঙুলের ছাপ, অফিসের হাজিরা মেশিন, ফোন আনলক
টাচস্ক্রিনআঙুলের স্পর্শের অবস্থানফোন, ATM, ব্যাংকের টোকেন মেশিন — তবে এটি আউটপুটও (অংশ ৬)

OMR, OCR আর MICR গুলিয়ে ফেলা খুব সাধারণ ভুল। মনে রাখার কৌশল: OMR = Mark (দাগ — বৃত্ত ভরাট), OCR = Character (যেকোনো ছাপা অক্ষর, আলো দিয়ে পড়ে), MICR = Magnetic (চৌম্বক কালি — চেক)। MICR-এর বড় সুবিধা: সিল বা সই পড়ে সংখ্যার ওপর দাগ লাগলেও চৌম্বক সংকেত ঠিকই পড়া যায়, তাই ব্যাংকে ভুল কম হয়।

এবার একটি সাধারণ কাজ খুঁটিয়ে দেখি — আপনি কীবোর্ডে একটি বোতাম চাপলেন, আর স্ক্রিনে একটি অক্ষর ভেসে উঠল। মাঝখানে কী কী ঘটে? ধরুন আপনি অভ্র-র ফোনেটিক পদ্ধতিতে Word-এ লিখছেন, আর K চাপলেন:

  1. বোতামKসুইচ বন্ধ হলো
  2. কন্ট্রোলারscan codeকোন বোতাম?
  3. USBHID রিপোর্টতারে যাত্রা
  4. CPU + OSdriverঅক্ষর ঠিক করা
  5. প্রোগ্রামWordলেখায় যোগ
  6. স্ক্রিনকপিক্সেলে আঁকা
কীবোর্ডের ভেতরেতারের জাল (matrix)
সারি ৩  ──┬──┬──●──┬──     ● = K বোতামের নিচে
         │  │  │  │         দুটি তার ছুঁয়ে গেল
কলাম   ১  ২  ৩  ৪
কীবোর্ড কন্ট্রোলারসারি-কলাম থেকে কোড
সারি ৩ + কলাম ৩  →  "K" বোতাম (USB কোড 0x0E)
খেয়াল করুন: কোড মানে "কোন বোতাম", অক্ষর নয়
USB তারছোট্ট একটি বার্তা
[ modifier: 00 | keys: 0E 00 00 00 00 00 ]
কম্পিউটার কীবোর্ডকে প্রতি সেকেন্ডে বহুবার জিজ্ঞেস করে: "নতুন কিছু?"
অপারেটিং সিস্টেমdriver + কীবোর্ড লেআউট
0x0E  →  English লেআউটে: "k"
      →  অভ্র ফোনেটিক চালু: "ক"
WordRAM-এ রাখা ডকুমেন্ট
আমার নাম রফিক|
(Unicode-এ "ক" = U+0995)
GPU → মনিটরফন্ট থেকে পিক্সেল
░░██████░░
░░░░██░░░░   ← ফন্টের নকশা থেকে "ক" আঁকা হলো
░░░░██░░░░     পরের রিফ্রেশেই স্ক্রিনে দেখা যাবে
  1. বোতাম চাপা। কীবোর্ডের নিচে সারি আর কলামের তারের একটি জাল আছে। K চাপতেই তার নিচের একটি সারি-তার আর একটি কলাম-তার ছুঁয়ে গেল — একটি ছোট সুইচ বন্ধ হলো। এ পর্যন্ত সবই নিছক বিদ্যুৎ।
  2. কীবোর্ড কন্ট্রোলার। কীবোর্ডের ভেতরের ছোট্ট একটি চিপ সারাক্ষণ জালটি পরীক্ষা করছে। সারি ৩, কলাম ৩ বন্ধ দেখে সে বোঝে “K বোতাম” চাপা হয়েছে, আর তৈরি করে একটি scan code. খেয়াল করুন — এটি বোতামের নম্বর, অক্ষর নয়!
  3. USB-তে যাত্রা। কোডটি USB তারের মধ্য দিয়ে একটি ছোট বার্তা (HID রিপোর্ট) হয়ে কম্পিউটারে যায়। কম্পিউটার কীবোর্ডকে প্রতি সেকেন্ডে কয়েকশো থেকে হাজারবার পর্যন্ত জিজ্ঞেস করে, “নতুন কিছু চাপা হয়েছে?”
  4. CPU আর অপারেটিং সিস্টেম। বার্তা আসতেই CPU হাতের কাজ এক মুহূর্ত থামিয়ে কীবোর্ডের driver চালায়। এবার কীবোর্ড লেআউটের পালা: English লেআউটে কোডটি হয় “k”, কিন্তু অভ্র ফোনেটিক চালু থাকলে হয় “ক”। একই বোতাম, ভিন্ন অক্ষর — অক্ষর ঠিক করে সফটওয়্যার, কীবোর্ড নয়।
  5. প্রোগ্রাম। অপারেটিং সিস্টেম অক্ষরটি পাঠায় যে প্রোগ্রাম এখন সামনে আছে — Word-এ। Word তার RAM-এ রাখা ডকুমেন্টে কার্সরের জায়গায় “ক” যোগ করে। কম্পিউটারের ভেতরে “ক” আসলে একটি সংখ্যা (Unicode-এ U+0995); এর বিস্তারিত পর্ব ০৭ ও ১৮-এ।
  6. স্ক্রিনে আঁকা। Word ফন্ট থেকে “ক”-এর আকৃতি নেয়, GPU সেটিকে পিক্সেলে আঁকে, আর মনিটরের পরের রিফ্রেশে অক্ষরটি আপনার চোখে পড়ে। পুরো যাত্রায় এক সেকেন্ডের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ লাগে। IPOS-এর চারটি ধাপই এই একটি চাপে লুকিয়ে আছে।

৬ · আউটপুট ডিভাইস — ফল দেখানোর পথ

কম্পিউটারের ভেতরের 0 আর 1-কে মানুষের বোঝার মতো রূপে — আলো, কালি, শব্দ বা নড়াচড়ায় — যে যন্ত্র বদলে দেয়, সেটি আউটপুট ডিভাইস. সবচেয়ে পরিচিতটি দিয়ে শুরু করি।

মনিটর — রেজোলিউশন আর রিফ্রেশ রেট

আজকের প্রায় সব মনিটর LCD প্রযুক্তির। দোকানে যাকে “LED মনিটর” বলে, সেটিও আসলে LCD প্যানেল — শুধু পেছনের আলো (backlight) দেয় LED. আর OLED পর্দায় প্রতিটি পিক্সেল নিজেই আলো জ্বালায়, তাই কালো একদম গাঢ় কালো দেখায় — দামি ফোনে বেশি দেখা যায়। মনিটর বা ফোন কেনার সময় দুটি সংখ্যা দেখবেন:

  • রেজোলিউশন: পর্দায় আড়াআড়ি আর খাড়াখাড়ি কতগুলো পিক্সেল। 1920×1080 (Full HD) মানে আড়াআড়ি ১৯২০টি, খাড়াখাড়ি ১০৮০টি বিন্দু। পিক্সেল নিয়ে আরও গভীরে যাব পর্ব ২৮-এ।
  • রিফ্রেশ রেট: প্রতি সেকেন্ডে পর্দার ছবি কতবার নতুন করে আঁকা হয়, একক Hz. সাধারণ মনিটর ৬০ Hz; গেমিং মনিটর ও অনেক নতুন ফোন ১২০ বা ১৪৪ Hz — স্ক্রল করলে অনেক মসৃণ লাগে।

একই রেজোলিউশন ছোট পর্দায় বেশি ধারালো দেখায়, কারণ প্রতি ইঞ্চিতে বেশি পিক্সেল (PPI) গাদাগাদি থাকে। নিচের ছোট টুলটি চালিয়ে দেখুন — চাইলে সংখ্যা বদলে আপনার নিজের পর্দারটিও যোগ করুন:

// রেজোলিউশন থেকে মোট পিক্সেল, অনুপাত আর PPI
function gcd(a, b) { return b === 0 ? a : gcd(b, a % b); }

function screenInfo(w, h, inch) {
  const pixels = w * h;                       // মোট পিক্সেল
  const g = gcd(w, h);                        // গসাগু দিয়ে অনুপাত ছোট করা
  const diag = Math.sqrt(w * w + h * h);      // কোনাকুনি কত পিক্সেল
  const ppi = Math.round(diag / inch);        // প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেল
  console.log(w + "x" + h + " = " + pixels.toLocaleString("en-US") +
    " px | ratio " + (w / g) + ":" + (h / g) + " | " + inch + " inch = " + ppi + " PPI");
}

screenInfo(1366, 768, 15.6);   // পুরোনো বাজেট ল্যাপটপ
screenInfo(1920, 1080, 15.6);  // Full HD ল্যাপটপ
screenInfo(1920, 1080, 24);    // Full HD মনিটর
screenInfo(3840, 2160, 27);    // 4K মনিটর
screenInfo(1080, 2400, 6.5);   // একটি ফোন (খাড়া করে ধরা)

প্রত্যাশিত আউটপুটের প্রথম লাইন 1366x768 = 1,049,088 px | ratio 683:384 | 15.6 inch = 100 PPI. লক্ষ করুন: Full HD-তে মোট পিক্সেল ২০,৭৩,৬০০ — প্রায় ২১ লাখ, আর 4K-তে ঠিক চার গুণ (৮২,৯৪,৪০০)। ১৯২০ আর ১০৮০-র গসাগু ১২০, তাই অনুপাত ১৬:৯. কিন্তু পুরোনো ল্যাপটপের 1366×768 হুবহু ১৬:৯ নয় (৬৮৩:৩৮৪) — শুধু কাছাকাছি! একই Full HD ১৫.৬ ইঞ্চিতে ১৪১ PPI, কিন্তু ২৪ ইঞ্চিতে মাত্র ৯২ — তাই বড় মনিটরে অক্ষর একটু খসখসে লাগে। আর ফোনে ৪০৫ PPI — এজন্যই ফোনের লেখা এত মসৃণ।

প্রিন্টার আর অন্যান্য আউটপুট

প্রিন্টারকীভাবে ছাপেকোথায় মানায়
ইঙ্কজেটঅতি সূক্ষ্ম নজল দিয়ে কালির ফোঁটা ছিটিয়েবাসায় রঙিন ছবি, অ্যাসাইনমেন্ট; কালির ট্যাংকওয়ালা মডেলে খরচ কম
লেজারলেজার দিয়ে ড্রামে স্থির বিদ্যুতের নকশা, তাতে গুঁড়া কালি (টোনার) লেগে তাপে কাগজে গলে বসেঅফিস, ফটোকপির দোকান — দ্রুত, প্রচুর সাদা-কালো পাতা
ডট-ম্যাট্রিক্সসুঁইয়ের সারি ফিতায় আঘাত করে (impact)আঘাত করে বলে কার্বন কপিসহ একাধিক স্তরের ফর্ম একবারে ছাপে — কিছু ব্যাংক, ইনভয়েস ও টিকিট কাউন্টারে এখনো দেখা যায়
3D প্রিন্টারগলানো প্লাস্টিক স্তরে স্তরে জমিয়ে বস্তু তৈরিপ্রোটোটাইপ, যন্ত্রাংশ, বিজ্ঞান মেলার প্রজেক্ট
প্লটারকলম বা কালি দিয়ে বড় কাগজে রেখা আঁকাস্থাপত্যের নকশা, প্রকৌশল ড্রয়িং, বড় ব্যানার

এ ছাড়া স্পিকার ও হেডফোন (শব্দ), প্রজেক্টর (ক্লাসরুম বা মিটিংয়ে দেয়ালে বড় ছবি) — এরাও আউটপুট ডিভাইস।

যারা দুটোই করে — ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস

কিছু যন্ত্র তথ্য নেয়ও, দেয়ও। টাচস্ক্রিন ছবি দেখায় (আউটপুট) আবার স্পর্শ বোঝে (ইনপুট)। মডেম ইন্টারনেট থেকে তথ্য আনে, আবার পাঠায়। নেটওয়ার্ক কার্ড (Wi-Fi বা Ethernet) একইভাবে দুই দিকে কাজ করে। মডেম আর নেটওয়ার্ক যন্ত্রের বিস্তারিত পর্ব ৩২-এ। এবার নিজেকে যাচাই করুন — প্রতিটি ধাপে আগে নিজে উত্তর ভাবুন, তারপর “পরে” চাপুন:

ডিভাইসশ্রেণি
⌨️ কীবোর্ড
🖥️ মনিটর
📱 টাচস্ক্রিন
🖨️ প্রিন্টার
📝 OMR মেশিন
📡 মডেম
📷 ওয়েবক্যাম
🔊 স্পিকার
  1. নিয়মটি মনে করুন। তথ্য যদি বাইরে থেকে কম্পিউটারের ভেতরে যায় — ইনপুট। ভেতর থেকে বাইরে আসে — আউটপুট। দুই দিকেই চলে — ইনপুট-আউটপুট। আটটি যন্ত্রের উত্তর আগে মনে মনে ঠিক করুন।
  2. কীবোর্ড — ইনপুট। বোতাম চাপার তথ্য কেবল ভেতরে যায়।
  3. মনিটর — আউটপুট। শুধু দেখায়, কিছু নেয় না। স্পর্শ বোঝে না এমন যেকোনো সাধারণ পর্দা আউটপুট।
  4. টাচস্ক্রিন — দুটোই। একই পর্দা ছবি দেখায় আবার আঙুলের স্পর্শ বোঝে। পরীক্ষায় “ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসের উদাহরণ দিন” প্রশ্নে এটিই সবচেয়ে নিরাপদ উত্তর।
  5. প্রিন্টার — আউটপুট। ভেতরের ডকুমেন্টকে কাগজে বের করে আনে। (স্ক্যানারসহ মাল্টিফাংশন প্রিন্টার হলে অবশ্য দুটোই।)
  6. OMR মেশিন — ইনপুট। উত্তরপত্রের দাগ পড়ে কম্পিউটারে পাঠায়; ফল হিসাব করে কম্পিউটার, OMR নিজে নয়।
  7. মডেম — দুটোই। আপনার পাঠানো মেসেজ বাইরে পাঠায়, আবার ইউটিউবের ভিডিও ভেতরে আনে। নেটওয়ার্ক কার্ডও একই দলে।
  8. ওয়েবক্যাম — ইনপুট। আলো ধরে ছবিতে বদলায়, ভেতরে পাঠায়।
  9. স্পিকার — আউটপুট। ভেতরের সংখ্যাকে শব্দ-তরঙ্গে বদলায়। আটটির কয়টি মিলল? ভুল হলে নিয়মটি আবার পড়ুন: তথ্যের দিক কোন দিকে?

৭ · পোর্ট আর কানেক্টর — কোন তার কোথায় যায়

পোর্ট হলো কম্পিউটারের গায়ের সেই ছিদ্র বা সকেট, যেখানে বাইরের যন্ত্রের তার লাগে। প্রতিটি পোর্টের আকার আলাদা — যাতে ভুল তার ভুল জায়গায় না ঢোকে। কম্পিউটারের পেছনে বা ল্যাপটপের পাশে সাধারণত যেগুলো পাবেন:

পোর্টদেখতে কেমনকী কাজে
USB-Aচেনা চ্যাপ্টা আয়তাকার, একদিকেই ঢোকেপেনড্রাইভ, মাউস, কীবোর্ড, প্রিন্টার
USB-Cছোট ডিম্বাকার, উল্টো করেও ঢোকেচার্জিং, ডেটা, এমনকি মনিটর — নতুন ফোন ও ল্যাপটপের মূল পোর্ট
HDMIচওড়া, দুই কোণা ঢালুমনিটর, টিভি, প্রজেক্টরে ছবি ও শব্দ একসাথে
DisplayPortHDMI-র মতো, কিন্তু এক কোণা ঢালুকম্পিউটার মনিটর, বিশেষ করে উচ্চ রিফ্রেশ রেটের
VGA (পুরোনো)নীল, ট্র্যাপিজিয়াম আকৃতি, ১৫টি পিন, দুই পাশে স্ক্রুপুরোনো মনিটর ও প্রজেক্টর; শুধু ছবি, সংকেত analog
অডিও জ্যাক (৩.৫ মিমি)ছোট গোল ছিদ্রহেডফোন, স্পিকার, মাইক
Ethernet (RJ-45)টেলিফোনের প্লাগের চেয়ে একটু বড়, ক্লিপওয়ালাতারযুক্ত ইন্টারনেট/LAN — Wi-Fi-এর চেয়ে স্থির
কার্ড রিডারসরু লম্বা খাঁজক্যামেরার SD কার্ড, ফোনের microSD

USB-র গতি — নামের গোলকধাঁধা

USB-র দুটি আলাদা বিষয় মানুষ প্রায়ই গুলিয়ে ফেলেন: প্লাগের আকার (Type-A, Type-C) আর গতির মান (USB 2.0, 3.2, USB4). একটি USB-C পোর্ট পুরোনো USB 2.0 গতিতেও চলতে পারে, আবার ৪০ Gbps-এও। আরও গোলমাল বাধিয়েছে নাম বদল — একই ৫ Gbps গতির নাম প্রথমে ছিল USB 3.0, পরে হয় USB 3.1 Gen 1, তারপর USB 3.2 Gen 1!

মান (অন্য নামসহ)সর্বোচ্চ গতিপ্রকাশপ্লাগ
USB 1.1 (Full Speed)১২ Mbps১৯৯৮A
USB 2.0 (Hi-Speed)৪৮০ Mbps২০০০A, C
USB 3.0 = 3.1 Gen 1 = 3.2 Gen 1৫ Gbps২০০৮A (প্রায়ই নীল), C
USB 3.1 Gen 2 = 3.2 Gen 2১০ Gbps২০১৩A, C
USB 3.2 Gen 2x2২০ Gbps২০১৭শুধু C
USB4৪০ Gbps পর্যন্ত২০১৯শুধু C
USB4 Version 2.0৮০ Gbps২০২২শুধু C

Mbps মানে প্রতি সেকেন্ডে মেগাবিট, Gbps মানে গিগাবিট — ফাইলের আকার মাপা হয় বাইটে (৮ বিট = ১ বাইট), তাই ৫ Gbps-এ বাস্তবে প্রতি সেকেন্ডে কয়েকশো মেগাবাইট আসে। আর এগুলো সর্বোচ্চ সীমা; ধীর পেনড্রাইভ দ্রুত পোর্টেও ধীরই চলে। পোর্টের পাশে “SS” (SuperSpeed) লেখা বা বজ্রপাতের চিহ্ন (Thunderbolt) দেখলে সেটি দ্রুত পোর্ট। ২০২৩ সাল থেকে iPhone-ও USB-C-তে এসেছে — এক চার্জারে সব যন্ত্র, ই-বর্জ্যও কম।

৮ · ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, অল-ইন-ওয়ান আর ফোন

ভেতরের অংশ একই — CPU, RAM, স্টোরেজ, পর্দা, ইনপুট — শুধু কীভাবে সাজানো, তাতেই পার্থক্য। কোনটি আপনার জন্য, তা নির্ভর করে কাজ, জায়গা আর বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ওপর:

বিষয়ডেস্কটপল্যাপটপঅল-ইন-ওয়ান
বহনযোগ্যতানেইব্যাগে নিয়ে যাওয়া যায়টেবিলে স্থায়ী, তবে জায়গা কম লাগে
একই বাজেটে শক্তিসবচেয়ে বেশিকিছুটা কম (তাপ ও ব্যাটারির সীমা)প্রায় ল্যাপটপের মতো
পরে আপগ্রেডপ্রায় সব অংশ বদলানো যায়অনেক সময় শুধু SSD, কখনো RAMসীমিত
মেরামতসহজ, যন্ত্রাংশ সহজলভ্যকঠিন, মডেল-নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশকঠিন — পর্দা নষ্ট হলে পুরোটাই অচল হতে পারে
লোডশেডিংয়েUPS ছাড়া সঙ্গে সঙ্গে বন্ধনিজের ব্যাটারিই ভরসাUPS লাগে

ফোন — এক চিপেই পুরো কম্পিউটার

ডেস্কটপে CPU, GPU, নেটওয়ার্ক কার্ড সব আলাদা অংশ। কিন্তু ফোনে এত জায়গা কোথায়? তাই ফোনে এগুলো সব একটিমাত্র চিপে বসানো হয়, যার নাম SoC (System on a Chip). একটি SoC-এর ভেতরে থাকে CPU-র core-গুলো, GPU, AI-এর জন্য NPU, মোবাইল নেটওয়ার্কের মডেম, ক্যামেরার ছবি ঠিক করার প্রসেসর (ISP), এমনকি অনেক সময় RAM-ও ঠিক তার ওপরে বা পাশে বসানো। অংশগুলো কাছাকাছি থাকায় তথ্য আনা-নেওয়ায় বিদ্যুৎ কম খরচ হয় — ফোনের ছোট ব্যাটারির জন্য যা অত্যন্ত জরুরি। Apple-এর M-সিরিজ চিপও একই ধারণা ল্যাপটপে নিয়ে গেছে।

ডেস্কটপ যেন একটি বড় বাজার — মাছের দোকান, সবজির দোকান, মসলার দোকান আলাদা আলাদা, প্রয়োজনে যেকোনো দোকান বদলানো যায়। SoC যেন একটি সুপারশপ — সব এক ছাদের নিচে, হাঁটাহাঁটি কম, সময় বাঁচে। কিন্তু একটি তাক নষ্ট হলে আলাদা করে বদলানো প্রায় অসম্ভব।

পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে — এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে:

  • ব্যাংকের চেক পড়তে কোন যন্ত্র? — MICR (চৌম্বক কালির অক্ষর পড়ে)।
  • MCQ উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোন যন্ত্র? — OMR. ছাপা লেখা চিনে সম্পাদনাযোগ্য করতে — OCR.
  • CPU-র প্রধান অংশ কী কী? — ALU (গাণিতিক ও যৌক্তিক কাজ), কন্ট্রোল ইউনিট (নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়), রেজিস্টার (অস্থায়ী দ্রুত মেমরি)।
  • ইনপুট ও আউটপুট দুটোই — উদাহরণ দিন। — টাচস্ক্রিন, মডেম, নেটওয়ার্ক কার্ড।
  • মাদারবোর্ডে তিন ধরনের বাস কী? — ডেটা বাস, অ্যাড্রেস বাস, কন্ট্রোল বাস।

৯ · বিদ্যুৎ, UPS আর নিরাপত্তা — যন্ত্র আর শরীর দুটোই বাঁচান

বাংলাদেশে দেয়ালের সকেটে আসে প্রায় ২২০ ভোল্টের AC বিদ্যুৎ। কিন্তু কম্পিউটারের চিপগুলো চলে ১২, ৫, ৩.৩ ভোল্ট বা তারও কম DC বিদ্যুতে। এই রূপান্তরের কাজ PSU-র (Power Supply Unit); ল্যাপটপে একই কাজ করে চার্জারের “ইট”-টি। নিম্নমানের PSU-তে কৃপণতা করবেন না — যন্ত্র পোড়ার বড় কারণ এটি।

লোডশেডিংয়ের বাস্তবতা — UPS, IPS আর স্ট্যাবিলাইজার

হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে ডেস্কটপ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। তখন সেভ না করা কাজ হারায়, আর লেখার মাঝখানে বিদ্যুৎ গেলে ফাইল, এমনকি অপারেটিং সিস্টেমও নষ্ট হতে পারে। তাই:

🔋 UPS

UPS (Uninterruptible Power Supply) বিদ্যুৎ যাওয়ার সাথে সাথে — চোখের পলকেরও কম সময়ে — ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ দেয়, তাই কম্পিউটার বন্ধ হয় না। ব্যাকআপ সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা: উদ্দেশ্য কাজ সেভ করে নিরাপদে বন্ধ করা।

ডেস্কটপের জন্য

💡 IPS

IPS (Instant Power Supply) বাসায় ফ্যান-লাইট কয়েক ঘণ্টা চালানোর জন্য। অনেক IPS-এ বিদ্যুৎ বদলাতে একটু বেশি সময় লাগে, তাতে ডেস্কটপ রিস্টার্ট হয়ে যেতে পারে। তাই IPS থাকলেও কম্পিউটারের জন্য আলাদা UPS রাখাই নিরাপদ।

ফ্যান-লাইটের জন্য

⚡ স্ট্যাবিলাইজার ও সার্জ প্রটেক্টর

ভোল্টেজ কখনো ১৮০-তে নামে, কখনো লাফিয়ে বাড়ে। ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার একে স্থির রাখে, আর সার্জ প্রটেক্টর হঠাৎ উচ্চ ঝাঁকুনি আটকায়। বেশিরভাগ ভালো UPS-এ এই সুরক্ষা ভেতরেই থাকে (AVR).

অস্থির বিদ্যুতের এলাকায়

সঠিকভাবে বসা — শরীরও একটি হার্ডওয়্যার

  • পর্দার উচ্চতা: মনিটরের ওপরের কিনারা চোখের সমান বা সামান্য নিচে। ল্যাপটপে স্ট্যান্ড আর আলাদা কীবোর্ড ভালো।
  • দূরত্ব: পর্দা মোটামুটি এক হাত দূরে (প্রায় ৫০–৭০ সেমি)।
  • ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকান — চোখের ক্লান্তি কমে।
  • হাত ও পা: টাইপ করার সময় কবজি সোজা, কনুই প্রায় সমকোণে, পা মেঝেতে সমান। প্রতি ঘণ্টায় একবার উঠে হাঁটুন।

PC খোলার আগে নিরাপত্তা: শরীরে জমা স্থির বিদ্যুতের ছোট্ট ঝাঁকুনি (ESD) আপনি টেরও পান না, কিন্তু RAM বা মাদারবোর্ডের চিপ নষ্ট করে দিতে পারে। তাই — (১) বিদ্যুতের তার খুলে পাওয়ার বাটন কয়েক সেকেন্ড চেপে রাখুন, (২) কেসের রং না করা ধাতব অংশ ছুঁয়ে নিন বা অ্যান্টি-স্ট্যাটিক রিস্ট-স্ট্র্যাপ পরুন, (৩) কার্পেটের ওপর কাজ করবেন না, (৪) কার্ড ধরুন কিনারা দিয়ে, সোনালি পিন না ছুঁয়ে। আর PSU কখনো খুলবেন না — বন্ধ থাকার পরেও এর ভেতরের ক্যাপাসিটরে বিপজ্জনক বিদ্যুৎ জমে থাকতে পারে। ফুলে যাওয়া ল্যাপটপ বা ফোনের ব্যাটারি দেখলে সাথে সাথে ব্যবহার বন্ধ করে টেকনিশিয়ানের কাছে নিন — এতে আগুন লাগার ঝুঁকি আছে।

১০ · AI-এর যুগে — ল্যাপটপ তুলনায় AI, আর যাচাই আপনার

নতুন ল্যাপটপ কেনার আগে অনেকেই এখন ChatGPT, Gemini বা Claude-কে জিজ্ঞেস করেন, “এই দুটোর মধ্যে কোনটা ভালো?” AI এখানে সত্যিই কাজের — CPU-র নামের মানে বোঝায়, তুলনার টেবিল বানায়, আপনার কাজ অনুযায়ী কোন বৈশিষ্ট্য জরুরি তা বলে দেয়। কিন্তু হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে AI-এর একটি পরিচিত দুর্বলতা আছে: আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল মডেল নম্বর আর ভুল স্পেসিফিকেশন বানিয়ে ফেলা (hallucination). একই নামের ল্যাপটপের বহু সংস্করণ থাকে — AI প্রায়ই সেগুলো মিশিয়ে ফেলে।

AI-এর সাধারণ ভুলকীভাবে ধরবেন
অস্তিত্বহীন মডেল নম্বর বা CPU নামনির্মাতার অফিসিয়াল সাইটে হুবহু নামটি খুঁজুন; না পেলে সেটি বানানো
ভুল প্রজন্মের CPU (পুরোনো মডেলের তথ্য নতুনটিতে)ল্যাপটপের স্পেক পেজে CPU-র পুরো নাম, তারপর Intel/AMD/Qualcomm-এর পেজে core ও GHz মিলিয়ে দেখা
“RAM বাড়ানো যায়” — অথচ solderedঅফিসিয়াল স্পেকে “soldered” / “onboard” লেখা আছে কি না দেখা
“USB-C দিয়ে চার্জ ও মনিটর চলবে”পোর্টের তালিকায় Power Delivery, DisplayPort বা Thunderbolt-এর উল্লেখ খোঁজা

AI-কে এমনভাবে প্রশ্ন করুন যাতে সে অনুমান না করে, আর প্রতিটি তথ্য যাচাইয়ের পথ দেখায়:

আমি দুটি ল্যাপটপ তুলনা করতে চাই: [প্রথম ল্যাপটপের পুরো নাম ও মডেল নম্বর] আর [দ্বিতীয়টির পুরো নাম ও মডেল নম্বর]. আমার কাজ: অফিসের কাগজপত্র, অনলাইন ক্লাস, মাঝে মাঝে ছবি এডিট। লোডশেডিং হয়, তাই ব্যাটারি জরুরি। একটি টেবিল দাও: CPU-র পুরো নাম ও প্রজন্ম, core সংখ্যা, RAM (কত, পরে বাড়ানো যায় কি না), স্টোরেজের ধরন, ডিসপ্লে (রেজোলিউশন, রিফ্রেশ রেট), পোর্টের তালিকা, ব্যাটারি (Wh), ওজন। নিয়ম: ১. কোনো তথ্য নিশ্চিত না হলে "নিশ্চিত নই" লেখো — অনুমান করবে না। ২. নিজে থেকে কোনো মডেল নম্বর বানাবে না। ৩. প্রতিটি সারির পাশে লেখো আমি কোন অফিসিয়াল পেজে এটি মিলিয়ে দেখব। ৪. শেষে আমার কাজের জন্য কোনটি ভালো, সহজ বাংলায় দুই লাইনে বলো।

AI-এর দেওয়া হার্ডওয়্যার তথ্য — যাচাইয়ের চেকলিস্ট

ভাবনার প্রশ্ন

প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে কিছুক্ষণ ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন। হার্ডওয়্যারের প্রতিটি অংশের পেছনে আছে মানুষের সিদ্ধান্ত, ইতিহাস আর আপস।

প্র ০১১৯৬৪ সালের IBM System/360 কেন কম্পিউটার ইতিহাসের মোড় ঘোরানো ঘটনা? “compatible” হার্ডওয়্যার পরিবারের ধারণা আজও কীভাবে টিকে আছে?

১৯৬০-এর দশকের শুরুতে একটি বড় সমস্যা ছিল: প্রতিটি কম্পিউটার মডেলের নির্দেশের ভাষা আলাদা। একটি অফিস ছোট কম্পিউটার কিনে তার জন্য বছরের পর বছর প্রোগ্রাম লিখল; ব্যবসা বড় হলে বড় কম্পিউটার কিনতে হবে — কিন্তু তখন সব প্রোগ্রাম নতুন করে লিখতে হতো। এমনকি IBM-এর নিজের বিভিন্ন মডেলও একে অপরের প্রোগ্রাম চালাতে পারত না।

১৯৬৪ সালের এপ্রিলে IBM ঘোষণা করে System/360 — ছোট থেকে বিশাল পর্যন্ত একটি পুরো পরিবার, যাদের সবাই একই নির্দেশের ভাষা বোঝে। ছোট মডেলে লেখা প্রোগ্রাম বড় মডেলে হুবহু চলবে। এর পেছনে ছিল একটি গভীর ধারণা: কম্পিউটারের architecture (প্রোগ্রামার যা দেখেন — নির্দেশের তালিকা, রেজিস্টার) আর implementation (ভেতরে আসলে কীভাবে সার্কিট বানানো) আলাদা জিনিস। দাম ও গতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু চুক্তি একই। প্রকল্পের নেতৃত্বে ছিলেন Gene Amdahl, Fred Brooks প্রমুখ; পরে Brooks এই প্রকল্পের সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা থেকে লেখেন বিখ্যাত বই “The Mythical Man-Month”. System/360-ই ৮ বিটের বাইটকে আদর্শ হিসেবে জনপ্রিয় করে।

এটি ছিল IBM-এর জন্য বিপুল ঝুঁকির বাজি, কিন্তু সফল হয়ে মেইনফ্রেমের বাজার দখল করে। আজকের IBM Z মেইনফ্রেম, যা বহু ব্যাংক ও এয়ারলাইনের হিসাব চালায়, এখনো সেই পরিবারের উত্তরসূরি। একই ধারণা দেখবেন x86-এ — ১৯৭৮ সালের 8086-এর জন্য লেখা অনেক নির্দেশ আজকের Intel-AMD চিপও বোঝে, তাই পুরোনো Windows সফটওয়্যার নতুন PC-তে চলে। USB, HDMI-এর মতো মানও একই চিন্তার ফল: যেকোনো কোম্পানির যন্ত্র যেকোনো কম্পিউটারে লাগবে।

তবে এর দামও আছে। পুরোনো সফটওয়্যার চালানোর প্রতিশ্রুতি রাখতে গিয়ে x86 কয়েক দশকের পুরোনো সিদ্ধান্তের বোঝা বয়ে চলেছে, যা নকশাকে জটিল করে।

মূল উপলব্ধি: হার্ডওয়্যারের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ অনেক সময় গতি নয়, বরং compatibility — মানুষ যে সফটওয়্যারে বিনিয়োগ করেছে, তা সুরক্ষিত রাখা। একটি স্থির “চুক্তি”র ওপর ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবায়ন — প্রকৌশলের এক চিরস্থায়ী কৌশল।

প্র ০২মাউস আবিষ্কার হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে, অথচ সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাতে লেগেছে প্রায় বিশ বছর। Douglas Engelbart-এর ১৯৬৮ সালের প্রদর্শনী থেকে কী শেখার আছে?

Douglas Engelbart ক্যালিফোর্নিয়ার Stanford Research Institute (SRI)-তে একটি গবেষণা দলের প্রধান ছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল কম্পিউটারকে শুধু হিসাবের যন্ত্র নয়, বরং “মানুষের বুদ্ধি বাড়ানোর” হাতিয়ার বানানো। পর্দার ওপর কোনো জিনিস বেছে নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় খুঁজতে গিয়ে তাঁর ধারণা থেকে সহকর্মী Bill English ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি বানান প্রথম মাউস — কাঠের একটি বাক্স, নিচে পরস্পর লম্ব দুটি চাকা, পেছনে লেজের মতো তার। লেজের জন্যই নাম “mouse”.

১৯৬৮ সালের ৯ ডিসেম্বর সান ফ্রান্সিসকোর এক সম্মেলনে Engelbart প্রায় ৯০ মিনিটের একটি প্রদর্শনী দেন। মাউস দিয়ে লেখা সম্পাদনা, এক লেখা থেকে আরেক লেখায় লিংক (আজকের hypertext-এর পূর্বসূরি), দূরে থাকা সহকর্মীর সাথে একই ডকুমেন্টে একসাথে কাজ, এমনকি ভিডিওতে দেখা — সব একসাথে। পরে এটি পরিচিতি পায় “The Mother of All Demos” নামে।

তাহলে এত দেরি কেন? কারণ মাউস একা কিছু নয় — তার দরকার ছিল গ্রাফিক্স দেখানোর মতো শক্তিশালী আর সস্তা কম্পিউটার, আর জানালা-আইকনওয়ালা সফটওয়্যার (GUI). Xerox PARC-এর গবেষকেরা ১৯৭০-এর দশকে Alto কম্পিউটারে এই ধারণা এগিয়ে নেন; Apple ১৯৮৩ সালে Lisa আর ১৯৮৪ সালে Macintosh দিয়ে মাউসকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়; পরে Windows তা সর্বব্যাপী করে। পরে বলওয়ালা মাউস থেকে আলো-ক্যামেরার অপটিক্যাল মাউস, তারপর টাচপ্যাড আর টাচস্ক্রিন — সবই সেই একই প্রশ্নের নতুন উত্তর: “মানুষ কীভাবে সবচেয়ে স্বাভাবিকভাবে যন্ত্রকে দেখিয়ে দেবে?”

মূল উপলব্ধি: একটি ইনপুট ডিভাইস একা সফল হয় না — হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার আর দাম, তিনটি একসাথে প্রস্তুত হলে তবেই একটি উদ্ভাবন মানুষের হাতে পৌঁছায়। আজ AI-এর সাথে কথা বলে, ছবি দেখিয়ে কাজ করা — Engelbart-এর “বুদ্ধি বাড়ানো”র স্বপ্নেরই আরেকটি অধ্যায়।

প্র ০৩QWERTY লেআউট কেন এত অদ্ভুতভাবে সাজানো, আর আজও কেন বদলায়নি? বাংলা কীবোর্ডের গল্প এর সাথে কীভাবে মেলে?

QWERTY এসেছে কম্পিউটার নয়, টাইপরাইটার থেকে। ১৮৭০-এর দশকে আমেরিকার Christopher Latham Sholes-এর টাইপরাইটার Remington কোম্পানি বাজারে আনে, আর তাতেই এই লেআউট। প্রচলিত গল্প হলো, পাশাপাশি ঘনঘন আসা অক্ষর দূরে রাখা হয়েছিল যাতে টাইপরাইটারের ধাতব দণ্ডগুলো দ্রুত টাইপে আটকে না যায়। ইতিহাসবিদেরা অবশ্য বলেন, কারণ পুরোপুরি এটুকুই নয় — বছরের পর বছর ব্যবহারকারীদের (যেমন টেলিগ্রাফ অপারেটর) চাহিদা মেনে ধাপে ধাপে লেআউটটি বদলেছিল।

১৯৩০-এর দশকে August Dvorak একটি “বৈজ্ঞানিক” বিকল্প লেআউট বানান, কিন্তু তা কখনো জনপ্রিয় হয়নি। কারণ, লাখো মানুষ ইতিমধ্যে QWERTY শিখে ফেলেছে, সব প্রশিক্ষণ, সব যন্ত্র QWERTY-তে। অর্থনীতিবিদেরা একে বলেন path dependence বা “পথ-নির্ভরতা” — একবার একটি মান চালু হয়ে গেলে, বিকল্প সামান্য ভালো হলেও বদলানোর খরচ অনেক বেশি।

বাংলার সমস্যা আরও জটিল: স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, কার, ফলা, যুক্তাক্ষর মিলিয়ে চিহ্ন অনেক, অথচ বোতাম মাত্র কয়েক ডজন। টাইপরাইটারের যুগেই বাংলা কীবোর্ড সাজানোর চেষ্টা হয়েছিল। কম্পিউটারে ১৯৮৮ সালে মোস্তাফা জব্বারের বিজয় একটি নির্দিষ্ট লেআউট নিয়ে আসে, যা পত্রিকা ও প্রকাশনায় ব্যাপক প্রচলিত হয়; তবে পুরোনো বিজয় ফন্টগুলো Unicode-ভিত্তিক ছিল না, তাই ওয়েবে বা অন্য কম্পিউটারে লেখা “ভেঙে” যেত। ২০০৩ সালে মেহদী হাসান খানের বিনামূল্যের অভ্র Unicode আর ফোনেটিক পদ্ধতি জনপ্রিয় করে — যাঁরা ইংরেজি কীবোর্ডে অভ্যস্ত, তাঁরা উচ্চারণ অনুযায়ী লিখতে পারেন। আজ ফোনের কীবোর্ডেও বাংলা ফোনেটিক আর আঙুল টেনে লেখা আছে। বিস্তারিত পর্ব ০৭-এ।

মূল উপলব্ধি: প্রযুক্তি সবসময় “সেরা” সমাধান বেছে নেয় না; অভ্যাস, ইতিহাস আর মান (standard) অনেক সময় বেশি শক্তিশালী। আর বাংলার ক্ষেত্রে আসল বিজয় হয়েছে একটি অভিন্ন মানে — Unicode — যাতে যে লেআউটেই লিখুন, লেখা সব যন্ত্রে একই দেখায়।

প্র ০৪প্রায় সব ফোন কেন ARM চিপে চলে? আর Apple ২০২০ সালে কেন Mac-কে Intel থেকে নিজস্ব ARM চিপে নিয়ে গেল?

ARM-এর জন্ম ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে, Acorn Computers নামের একটি কোম্পানিতে। ১৯৮৫ সালে Sophie Wilson আর Steve Furber-এর দল প্রথম ARM চিপ তৈরি করে। নকশার দর্শন ছিল RISC — অল্প কয়েকটি সহজ নির্দেশ, যা দ্রুত চলে, কম ট্রানজিস্টর লাগে, তাই বিদ্যুৎও কম খরচ হয়। ১৯৯০ সালে আলাদা কোম্পানি হিসেবে ARM গঠিত হয়, আর তার ব্যবসার ধরন অভিনব: ARM নিজে চিপ বানায় না, নকশা আর নির্দেশের ভাষার লাইসেন্স বিক্রি করে। Qualcomm, MediaTek, Samsung, Apple সেই লাইসেন্স নিয়ে নিজেদের চিপ বানায়।

ফোনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন “কত দ্রুত?” নয়, বরং “প্রতি ওয়াট বিদ্যুতে কত কাজ?” — কারণ ব্যাটারি ছোট, আর ফোনে ফ্যান নেই, তাপ বেরোনোর পথও কম। কম বিদ্যুতের ARM নকশা আর সব অংশ এক চিপে রাখা SoC — দুটো মিলে ফোনের জগতে ARM প্রায় একচ্ছত্র।

Apple-এর Mac এর আগেও দুবার প্রসেসর বদলেছে — Motorola 68000 থেকে PowerPC, তারপর ২০০৫-০৬ সালে PowerPC থেকে Intel. ২০২০ সালের জুনে Apple ঘোষণা দেয় নিজস্ব “Apple silicon”-এ যাওয়ার, আর নভেম্বরে আসে M1 চিপের প্রথম Mac. কারণগুলো: iPhone-এর A-সিরিজ চিপ বানিয়ে Apple-এর হাতে এক দশকের অভিজ্ঞতা; প্রতি ওয়াটে অনেক বেশি কাজ (ফ্যান ছাড়া MacBook Air, সারাদিনের ব্যাটারি); iPhone, iPad, Mac — সবখানে একই ধরনের চিপ; আর নিজের সময়সূচিতে নিজের চিপ। পুরোনো Intel-এর অ্যাপ চালাতে Apple দেয় Rosetta 2 নামের অনুবাদক সফটওয়্যার।

এর প্রভাবে Windows-ও এখন ARM ল্যাপটপে (যেমন Qualcomm Snapdragon X চিপে) চলে, আর বড় ক্লাউড কোম্পানিগুলোর সার্ভারেও ARM ঢুকছে। তবে গেম আর পুরোনো সফটওয়্যারের বিশাল ভান্ডারের জন্য x86 এখনো শক্ত অবস্থানে।

মূল উপলব্ধি: “সেরা চিপ” বলে কিছু নেই — আছে কোন সীমাবদ্ধতার (ব্যাটারি, তাপ, compatibility, দাম) মধ্যে কোন নকশা ভালো। আর নির্দেশের ভাষা বদলানো সম্ভব, যদি পুরোনো সফটওয়্যারের জন্য একটি সেতু তৈরি থাকে।

প্র ০৫পুরোনো ফোন-কম্পিউটার শেষ পর্যন্ত কোথায় যায়? বাংলাদেশের ই-বর্জ্য সমস্যা আর মেরামতের সংস্কৃতিকে কীভাবে দেখবেন?

বাংলাদেশে মোবাইল সংযোগ কোটির ঘর ছাড়িয়েছে বহু আগেই, আর ঘরে ঘরে ল্যাপটপ, টিভি, রাউটার। প্রতিটি যন্ত্র একদিন নষ্ট বা পুরোনো হয় — তখন সেটি হয়ে যায় ই-বর্জ্য. এর ভেতরে আছে মূল্যবান ধাতু (তামা, সোনা, রুপা) আবার বিষাক্ত উপাদানও — সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, আগুন-প্রতিরোধী রাসায়নিক। ভাঙারির দোকান হয়ে অনেক যন্ত্র যায় অনানুষ্ঠানিক রিসাইক্লিংয়ে: তামা বের করতে তার পোড়ানো, সোনা আলাদা করতে খোলা জায়গায় অ্যাসিড ব্যবহার। এতে কাজ করা মানুষ — অনেক সময় শিশুরাও — ধোঁয়া আর রাসায়নিকের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন, মাটি-পানিও দূষিত হয়। সমস্যাটি স্বীকার করে সরকার ২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি বিধিমালাও করেছে, তবে বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের একটি বড় শক্তি হলো মেরামতের সংস্কৃতি. ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের কম্পিউটার মার্কেট, আগারগাঁওয়ের IDB ভবনের কম্পিউটার সিটি, আর প্রতিটি জেলা শহরের মোবাইল মার্কেটে দক্ষ টেকনিশিয়ানেরা ফোনের পর্দা, ব্যাটারি, চার্জিং পোর্ট বদলান, অনেকে মাদারবোর্ডের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ পর্যন্ত ঝালাই করে ঠিক করেন। পুরোনো ল্যাপটপে SSD আর RAM বদলে আরও কয়েক বছর চালানো এখানে খুব সাধারণ। প্রতিটি মেরামত মানে একটি যন্ত্র কম বর্জ্য হলো, আর নতুন যন্ত্র বানানোর খনিজ ও বিদ্যুৎও বাঁচল।

কিন্তু আধুনিক নকশা মেরামতকে কঠিন করছে — RAM ও SSD বোর্ডে ঝালাই করা, ব্যাটারি আঠা দিয়ে লাগানো, কিছু যন্ত্রাংশ শুধু নির্মাতার সফটওয়্যারে “জোড়া” না দিলে কাজ করে না। এর বিপরীতে বিশ্বজুড়ে “right to repair” আন্দোলন চলছে, আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো জায়গায় যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি সহজে বদলানোর নিয়ম আসছে।

ব্যক্তিগতভাবে আপনি যা করতে পারেন: কেনার সময় মেরামতযোগ্যতা দেখুন, নতুন কেনার আগে আপগ্রেড বা মেরামতের কথা ভাবুন, পুরোনো যন্ত্র বিক্রি বা দান করুন, আর ব্যাটারি কখনো সাধারণ ময়লার সাথে ফেলবেন না।

মূল উপলব্ধি: হার্ডওয়্যারের জীবনচক্র দোকান থেকে শুরু হয়ে ময়লার ঝুড়িতে শেষ হয় না। সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব যন্ত্র হলো সেটি, যা আপনার হাতে আরও বেশি দিন টিকে থাকে।

অনুশীলন

কোনো যন্ত্র খুলতে হবে না — শুধু দেখা, খোঁজা আর ভাবা।

  1. নিজের কম্পিউটারের পরিচয়পত্র: আপনার কম্পিউটারে কোন CPU, কত core, কত RAM আর কোন GPU আছে — বের করুন। (Windows-এ সূত্র: Settings আর Task Manager.)

    Settings → System → About-এ CPU-র পুরো নাম আর মোট RAM দেখাবে। আরও বিস্তারিত পাবেন Ctrl + Shift + Esc চেপে Task Manager খুলে Performance ট্যাবে: CPU-তে core সংখ্যা ও গতি (GHz), Memory-তে RAM, আর GPU অংশে গ্রাফিক্সের নাম — দুটি GPU দেখালে একটি ইন্টিগ্রেটেড, অন্যটি ডেডিকেটেড।

  2. পোর্ট শিকার: আপনার ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের সব পোর্ট গুনুন, প্রতিটির নাম লিখুন। কোনো পোর্টের পাশে ছোট চিহ্ন বা লেখা আছে কি?

    একটি সাধারণ ল্যাপটপে পাওয়া যায়: ২–৩টি USB-A, ১–২টি USB-C, একটি HDMI, একটি অডিও জ্যাক, কখনো Ethernet আর কার্ড রিডার। চিহ্ন চেনার কৌশল: SS = দ্রুত USB; বজ্রপাত = Thunderbolt; ব্যাটারি বা প্লাগের চিহ্ন = চার্জ হয়; DP = মনিটর লাগানো যায়। চিহ্ন না থাকলে নির্মাতার স্পেক পেজই ভরসা।

  3. শ্রেণিবিভাগ: নিচের ১০টি যন্ত্রকে ইনপুট, আউটপুট, নাকি দুটোই — ভাগ করুন: স্ক্যানার, প্রজেক্টর, মাইক্রোফোন, প্লটার, বারকোড রিডার, হেডসেট (মাইকসহ), জয়স্টিক, Wi-Fi কার্ড, 3D প্রিন্টার, MICR রিডার।

    ইনপুট: স্ক্যানার, মাইক্রোফোন, বারকোড রিডার, জয়স্টিক, MICR রিডার। আউটপুট: প্রজেক্টর, প্লটার, 3D প্রিন্টার। দুটোই: মাইকসহ হেডসেট (শব্দ শোনায় ও নেয়), Wi-Fi কার্ড (তথ্য পাঠায় ও আনে)। সন্দেহ হলে প্রশ্নটি করুন — তথ্য কোন দিকে যাচ্ছে?

  4. পিক্সেলের হিসাব: হাতে (বা উপরের টুলে) বের করুন — 1600×900 আর 2560×1440 রেজোলিউশনে মোট কত পিক্সেল, আর অনুপাত কত? দ্বিতীয়টি Full HD-র কত গুণ?

    ১৬০০ × ৯০০ = ১৪,৪০,০০০ পিক্সেল; গসাগু ১০০, তাই অনুপাত ১৬:৯. ২৫৬০ × ১৪৪০ = ৩৬,৮৬,৪০০ পিক্সেল; গসাগু ১৬০, অনুপাতও ১৬:৯. Full HD-র ২০,৭৩,৬০০ পিক্সেলের তুলনায় এটি প্রায় ১.৭৮ গুণ (আসলে ঠিক ১৬/৯ গুণ, কারণ দুই দিকেই ৪/৩ গুণ বড়)। অর্থাৎ GPU-কে প্রতিটি ফ্রেমে প্রায় ৭৮% বেশি পিক্সেল আঁকতে হয় — এজন্যই উচ্চ রেজোলিউশনে গেম ধীর চলে।

নিজেকে যাচাই করুন

ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।

ক্রমকীবোর্ডে একটি বোতাম চাপা থেকে স্ক্রিনে অক্ষর দেখা পর্যন্ত ধাপগুলো সঠিক ক্রমে সাজান (▲▼ চেপে সরান)

  1. ⌨️ বোতামের নিচে সুইচ বন্ধ হয়
  2. 🔍 কীবোর্ড কন্ট্রোলার scan code তৈরি করে
  3. 🔌 USB দিয়ে কোড কম্পিউটারে যায়
  4. 🧠 অপারেটিং সিস্টেম লেআউট মেনে অক্ষর ঠিক করে
  5. 📝 প্রোগ্রাম অক্ষরটি ডকুমেন্টে যোগ করে
  6. 🖥️ GPU আঁকে, মনিটরে অক্ষর দেখা যায়

ব্যাংকের চেকের নিচের সারির সংখ্যাগুলো দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পড়তে কোন যন্ত্র ব্যবহার হয়?

  • OMR
  • OCR
  • MICR
  • বারকোড রিডার

CPU-র কোন অংশ যোগ-বিয়োগ আর “বড় না ছোট” জাতীয় তুলনার কাজ করে?

  • কন্ট্রোল ইউনিট
  • ALU
  • রেজিস্টার
  • চিপসেট

নিচের কোনটি একই সাথে ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস?

  • স্ক্যানার
  • প্রজেক্টর
  • মাইক্রোফোন
  • টাচস্ক্রিন

কার্বন কপিসহ কয়েক স্তরের ফর্ম একবারে ছাপতে কোন প্রিন্টার উপযুক্ত?

  • ডট-ম্যাট্রিক্স
  • লেজার
  • ইঙ্কজেট
  • 3D প্রিন্টার

একটি ল্যাপটপের বিজ্ঞাপনে লেখা “USB-C পোর্ট আছে”। এ থেকে নিশ্চিতভাবে কী বলা যায়?

  • পোর্টটি অবশ্যই ৪০ Gbps গতির
  • এই পোর্ট দিয়ে অবশ্যই ল্যাপটপ চার্জ করা যাবে
  • প্লাগটি ছোট ডিম্বাকার, উল্টো করেও ঢোকে — গতি ও সুবিধা আলাদা করে দেখতে হবে
  • এতে অবশ্যই মনিটর লাগানো যাবে

লোডশেডিংপ্রবণ এলাকায় ডেস্কটপের সাথে UPS রাখার মূল উদ্দেশ্য কী?

  • সারাদিন বিদ্যুৎ ছাড়া কম্পিউটার চালানো
  • হঠাৎ বন্ধ হওয়া ঠেকিয়ে কাজ সেভ করে নিরাপদে বন্ধ করার সময় দেওয়া
  • কম্পিউটারের গতি বাড়ানো
  • বিদ্যুৎ বিল কমানো

শব্দকোষ

লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:

মনে রাখুন

  1. হার্ডওয়্যার = ছোঁয়া যায় এমন সব অংশ; প্রতিটি IPOS-এর কোনো একটি কাজ করে, আর সবাইকে জোড়ে মাদারবোর্ড.
  2. CPU-র তিন অংশ: ALU (হিসাব), কন্ট্রোল ইউনিট (নিয়ন্ত্রণ), রেজিস্টার (দ্রুততম ছোট মেমরি); কেনার সময় GHz-এর সাথে প্রজন্ম আর core-ও দেখুন।
  3. OMR = দাগ, OCR = ছাপা অক্ষর, MICR = চেকের চৌম্বক কালি; টাচস্ক্রিন ও মডেম = ইনপুট-আউটপুট দুটোই।
  4. USB-C প্লাগের আকার, গতি নয়; ফোনে সবকিছু এক চিপে — SoC.
  5. ডেস্কটপে UPS, বসার ভঙ্গি ঠিক রাখা, আর PC খোলার আগে ESD থেকে সাবধান; AI-এর দেওয়া স্পেক সবসময় অফিসিয়াল পেজে যাচাই।

পরের পর্বে: আজ বারবার শুনলেন “RAM” আর “SSD” — বিস্তারিত পরের পর্বের জন্য তোলা ছিল। এবার সেগুলো খুলে দেখব: RAM আর ROM-এর পার্থক্য, HDD বনাম SSD, আর বিট-বাইট থেকে টেরাবাইট পর্যন্ত ডেটার একক।

আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ

এই পর্বটি শেয়ার করুন:
এই পর্বে ভুল পেয়েছেন? জানান