এই পর্বে যা শিখবেন
- সফটওয়্যার আর হার্ডওয়্যারের সম্পর্ক, আর সফটওয়্যারের স্তরগুলো কীভাবে একে অপরের ওপর দাঁড়িয়ে আছে
- সিস্টেম আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের পার্থক্য — উদাহরণসহ, পরীক্ষায় লেখার মতো করে
- একটি অ্যাপে ডাবল-ক্লিক করার পর ভেতরে কী কী ঘটে
- লাইসেন্সের ধরন — কোনটি কখন বেছে নেবেন, আর ওপেন সোর্স আসলে কী
- আপডেট, version, 32-bit বনাম 64-bit, আর পাইরেটেড সফটওয়্যারের আসল ঝুঁকি
১ · সফটওয়্যার কী — বাদ্যযন্ত্র আর গান
পুরান ঢাকার একটি ফটোকপির দোকানের কথা ভাবুন। সকালে দোকানদার কম্পিউটারে একজন ছাত্রের দরখাস্ত টাইপ করলেন। দুপুরে সেই কম্পিউটারেই bKash-এর হিসাব মেলালেন। বিকেলে একজন খদ্দেরের পাসপোর্ট-সাইজ ছবি ঠিক করলেন। সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে ওই কম্পিউটারেই একটি সিনেমা দেখলেন।
যন্ত্র কিন্তু একটাই — একই CPU, একই RAM, একই মনিটর। তাহলে বদলাল কী? বদলাল software. সকালে চলেছে লেখার সফটওয়্যার, দুপুরে হিসাবের, বিকেলে ছবি সম্পাদনার, সন্ধ্যায় ভিডিও প্লেয়ার। সফটওয়্যার হলো নির্দেশের সমষ্টি, যা হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় এই মুহূর্তে কী করতে হবে।
হারমোনিয়াম একটি বাদ্যযন্ত্র — এটি hardware. একই হারমোনিয়ামে রবীন্দ্রসংগীত বাজে, নজরুলগীতিও বাজে, আবার জাতীয় সংগীতও বাজে। গানটি হলো সফটওয়্যার — সুরের নির্দেশ, কোন রিড কখন চাপতে হবে। গান ছাড়া হারমোনিয়াম কাঠ আর রিডের বাক্স মাত্র। আবার হারমোনিয়াম ছাড়া গানের স্বরলিপি কাগজে লেখা কিছু চিহ্ন — শোনা যায় না। দুটি মিললে তবেই সংগীত।
হার্ডওয়্যার ছোঁয়া যায়, তার ওজন আছে, ভেঙে যেতে পারে। সফটওয়্যার ছোঁয়া যায় না — এটি আসলে storage-এ জমা থাকা 0 আর 1-এর বিন্যাস। তাই সফটওয়্যার কপি করা প্রায় খরচহীন, ইন্টারনেটে মুহূর্তে পাঠানো যায়, আর একটি আপডেট দিয়েই বদলে ফেলা যায়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো থেকেই এই পর্বের শেষ অংশের লাইসেন্স আর পাইরেসির প্রশ্ন জন্ম নেয়।
| বিষয় | হার্ডওয়্যার | সফটওয়্যার |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | ভৌত যন্ত্রাংশ, ছোঁয়া যায় | নির্দেশ আর ডেটা, ছোঁয়া যায় না |
| নষ্ট হয় কীভাবে | ব্যবহারে ক্ষয়, পড়ে গেলে, পানি লাগলে | ক্ষয় হয় না; তবে ভুল (bug) বা ক্ষতিকর প্রোগ্রামে বিগড়ে যায় |
| কপি করা | নতুন করে কারখানায় বানাতে হয় | মুহূর্তে, প্রায় বিনা খরচে |
| উন্নত করা | যন্ত্রাংশ বদলাতে হয় | আপডেট ডাউনলোড করলেই হয় |
| উদাহরণ | CPU, RAM, কিবোর্ড, প্রিন্টার | Windows, Chrome, Word, bKash অ্যাপ |
সফটওয়্যার মানে শুধু “প্রোগ্রাম” নয়। একটি সফটওয়্যারের সাথে থাকে ছবি, ফন্ট, সেটিংস ফাইল, সাহায্য-নির্দেশিকা — সবকিছু মিলিয়ে একটি প্যাকেজ। আর প্রতিটি সফটওয়্যারের সাথে অদৃশ্যভাবে আসে একটি লাইসেন্স — আপনি এটি দিয়ে কী করতে পারবেন, তার আইনি নিয়ম।
২ · সফটওয়্যারের স্তর — firmware থেকে অ্যাপ
কম্পিউটারের সব সফটওয়্যার এক জায়গায় গাদা করে রাখা নয়। এগুলো সাজানো থাকে স্তরে স্তরে, অনেকটা বহুতল ভবনের মতো। নিচের তলা ঠিক না থাকলে ওপরের তলা দাঁড়াতে পারে না। আর প্রতিটি তলা শুধু ঠিক নিচের তলার সাথে কথা বলে।
সফটওয়্যারের স্তর — নিচ থেকে ওপরে
The software layer cake
- হার্ডওয়্যারCPU, RAM, ডিস্ক
- FirmwareBIOS/UEFI
- OS kernel+ driver
- Utilityantivirus, backup
- অ্যাপWord, Chrome
- আপনিব্যবহারকারী
- সবচেয়ে নিচে firmware: যন্ত্রের চিপে স্থায়ীভাবে বসানো ছোট সফটওয়্যার। মাদারবোর্ডের BIOS/UEFI কম্পিউটার চালু হওয়ার মুহূর্তে সবার আগে চলে। প্রিন্টার, রাউটার, এমনকি আধুনিক ওয়াশিং মেশিনের ভেতরেও firmware থাকে। পর্ব ০৪-এ যে ROM-এর কথা পড়েছেন, firmware সাধারণত সেরকম স্থায়ী মেমরিতেই থাকে।
- মাঝখানে অপারেটিং সিস্টেম: এর কেন্দ্রে থাকে kernel, যা CPU, মেমরি আর ডিভাইস সরাসরি সামলায়। পাশে থাকে driver — প্রতিটি যন্ত্রের সাথে কথা বলার দোভাষী।
- তার ওপরে utility: কম্পিউটারের যত্ন নেওয়ার টুল — antivirus, disk cleanup, backup.
- সবার ওপরে অ্যাপ্লিকেশন: Word, Chrome, VLC, bKash — যেগুলো দিয়ে আপনি নিজের কাজ করেন।
এই স্তর ভাগের সুবিধা বিশাল। Word-এর নির্মাতাদের জানতেই হয় না আপনার প্রিন্টার কোন কোম্পানির। তারা শুধু অপারেটিং সিস্টেমকে বলে “ছাপো”; বাকিটা নিচের স্তরগুলো সামলায়। একটি প্রিন্টের উদাহরণে পুরো যাত্রাটি ধাপে ধাপে দেখুন — “পরে” চাপুন:
- Wordঅ্যাপ্লিকেশন
- OS print systemসারি ও ব্যবস্থাপনা
- Printer driverদোভাষী
- Printer firmwareযন্ত্রের ভেতরে
- কাগজে লেখাহার্ডওয়্যার
- ধাপ ১ — অ্যাপ্লিকেশন স্তর। আপনি Word-এ দরখাস্তটি লিখে Ctrl+P চাপলেন। Word জানে পাতার মার্জিন, ফন্ট, কোন লেখা কোথায় — কিন্তু প্রিন্টারটি কোন ব্র্যান্ডের, তা সে জানে না, জানার দরকারও নেই। সে পুরো পাতাটি একটি সাধারণ ভাষায় বর্ণনা করে অপারেটিং সিস্টেমের হাতে দিল।
- ধাপ ২ — অপারেটিং সিস্টেম। Windows-এর print system কাজটি একটি সারিতে (print queue) রাখল — ঠিক ব্যাংকের টোকেনের মতো। অফিসে তিনজন একসাথে প্রিন্ট দিলে কার কাজ আগে যাবে, সেটি OS-ই ঠিক করে। কোন প্রিন্টারে যাবে, তা-ও সে জানে।
- ধাপ ৩ — Driver. প্রতিটি প্রিন্টার কোম্পানি নিজের যন্ত্রের নিজস্ব “ভাষা” ব্যবহার করে। Printer driver সাধারণ বর্ণনাটিকে ঠিক ওই মডেলের বোঝার মতো নির্দেশে অনুবাদ করল। Driver না থাকলে বা ভুল driver থাকলে প্রিন্টার হয় কিছুই ছাপে না, নয়তো অদ্ভুত চিহ্ন ছাপে।
- ধাপ ৪ — Firmware. নির্দেশ পৌঁছাল প্রিন্টারের ভেতরের ছোট্ট কম্পিউটারে। সেখানকার firmware ঠিক করল কাগজ কখন টানতে হবে, কালির নজল বা লেজার কখন জ্বলবে, কাগজ আটকে গেলে কী বার্তা দেখাবে।
- ধাপ ৫ — হার্ডওয়্যার। মোটর ঘুরল, কালি পড়ল, কাগজে দরখাস্ত বেরিয়ে এলো। চারটি স্তরের সফটওয়্যার একসাথে কাজ করল, অথচ আপনি চাপলেন শুধু দুটি বোতাম। এটাই স্তর ভাগের জাদু — প্রতিটি স্তর নিজের কাজটুকু জানে, বাকিটা অন্যের ওপর ছেড়ে দেয়।
এই স্তরের ধারণা কম্পিউটার বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলোর একটি। পর্ব ২৩-এ ট্রানজিস্টর থেকে অ্যাপ পর্যন্ত পুরো সিঁড়িটি দেখবেন, আর পর্ব ২৭-এ দেখবেন কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় firmware থেকে OS কীভাবে দায়িত্ব নেয়।
৩ · সিস্টেম সফটওয়্যার — যারা পর্দার আড়ালে কাজ করে
System software হলো সেই সফটওয়্যার, যা কম্পিউটারকে চালু রাখে, হার্ডওয়্যার সামলায় আর অন্য সফটওয়্যার চলার মঞ্চ তৈরি করে। একটি ক্রিকেট ম্যাচের কথা ভাবুন — দর্শক দেখেন ব্যাটসম্যান আর বোলারকে (অ্যাপ), কিন্তু মাঠ প্রস্তুত করা, পিচ রোল করা, আলো জ্বালানো, স্কোরবোর্ড চালানো লোকেরা (সিস্টেম সফটওয়্যার) না থাকলে খেলাই হতো না। সিস্টেম সফটওয়্যারের চারটি প্রধান ভাগ আছে।
ক) অপারেটিং সিস্টেম — কম্পিউটারের ব্যবস্থাপক
অপারেটিং সিস্টেম (OS) সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সফটওয়্যার। এর প্রধান কাজগুলো হলো:
- প্রসেস ব্যবস্থাপনা: একসাথে চলা গান, ব্রাউজার আর Word — কে কখন CPU পাবে, ঠিক করে।
- মেমরি ব্যবস্থাপনা: কোন প্রোগ্রাম RAM-এর কোন অংশ পাবে, যেন একজন আরেকজনের জায়গায় হাত না দেয়।
- ফাইল ব্যবস্থাপনা: ফাইল আর ফোল্ডার ডিস্কের কোথায় রাখা আছে, তার হিসাব।
- ডিভাইস ব্যবস্থাপনা: কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, Wi-Fi — driver-এর মাধ্যমে।
- নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারী: পাসওয়ার্ড, অ্যাকাউন্ট, কে কোন ফাইল খুলতে পারবে।
- ইউজার ইন্টারফেস: ডেস্কটপ, আইকন, মেনু — যার মাধ্যমে আপনি কম্পিউটারের সাথে কথা বলেন।
| অপারেটিং সিস্টেম | নির্মাতা | কোথায় চলে | লাইসেন্স |
|---|---|---|---|
| Windows (10, 11) | Microsoft | বেশিরভাগ ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ | Proprietary, সাধারণত কম্পিউটারের সাথে কেনা |
| macOS | Apple | শুধু Apple-এর Mac কম্পিউটার | Proprietary, Mac-এর সাথে আসে |
| Linux (Ubuntu, Fedora, Debian…) | বিশ্বজুড়ে কমিউনিটি ও কোম্পানি | সার্ভার, সুপারকম্পিউটার, ডেস্কটপ, রাউটার | Open source, বিনা মূল্যে |
| Android | Google (Linux kernel-এর ওপর) | বেশিরভাগ স্মার্টফোন, স্মার্ট টিভি | মূল অংশ open source; Google-এর অ্যাপগুলো নয় |
| iOS / iPadOS | Apple | iPhone, iPad | Proprietary |
OS কীভাবে ব্যবহার করবেন — ফাইল, ফোল্ডার, সেটিংস আর শর্টকাট — তা পরের পর্ব ০৬-এর বিষয়। আর OS-এর ভেতরে process, scheduling আর file system কীভাবে কাজ করে, তা দেখবেন পর্ব ২৬-এ।
খ) Device driver — দোভাষী
নতুন একটি প্রিন্টার কিনে এনে লাগালেন, কিন্তু Windows বলছে “Driver unavailable”. এর মানে OS যন্ত্রটির ভাষা জানে না। Driver হলো যন্ত্র-নির্মাতার লেখা ছোট একটি সফটওয়্যার, যা OS আর যন্ত্রের মাঝে দোভাষীর কাজ করে। বিদেশি অতিথি এলে যেমন দোভাষী লাগে — অতিথি আর আয়োজক দুজনেই নিজের ভাষায় কথা বলেন, দোভাষী মাঝখানে অনুবাদ করেন। আজকাল Windows আর Linux হাজার হাজার যন্ত্রের driver আগে থেকেই সাথে রাখে, তাই বেশিরভাগ যন্ত্র লাগালেই চলে (একে বলে plug and play). গ্রাফিক্স কার্ডের মতো জটিল যন্ত্রের জন্য নির্মাতার ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ driver নেওয়া ভালো।
গ) Utility software — কম্পিউটারের যত্নের টুল
Utility software সরাসরি আপনার অফিসের কাজ করে না; বরং কম্পিউটারকে সুস্থ, গোছানো আর নিরাপদ রাখে। মোটরসাইকেলের টুলবক্সের মতো — গাড়ি চালাতে সরাসরি লাগে না, কিন্তু না থাকলে একদিন বিপদে পড়বেন।
Antivirus
ক্ষতিকর প্রোগ্রাম খুঁজে ধরে ও সরায়। Windows-এ আগে থেকেই Microsoft Defender থাকে।
Microsoft DefenderDisk cleanup
অপ্রয়োজনীয় অস্থায়ী ফাইল মুছে জায়গা খালি করে।
Disk Cleanup, Storage SenseCompression
অনেক ফাইলকে একটি ছোট ফাইলে প্যাক করে — ইমেইলে পাঠানো সহজ হয়।
7-Zip, WinRAR, ZIPBackup
গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের নিয়মিত কপি অন্য ডিস্ক বা ক্লাউডে রাখে।
File History, Time Machineঘ) Language translator — প্রোগ্রামারের অনুবাদক
প্রোগ্রামাররা কোড লেখেন C, Python বা Java-র মতো মানুষের পড়ার উপযোগী ভাষায়, কিন্তু CPU বোঝে শুধু 0 আর 1. এই দুইয়ের মাঝে অনুবাদ করে language translator — compiler, interpreter আর assembler. এদের পার্থক্য আর কাজের ধরন বিস্তারিত দেখবেন পর্ব ৩৮-এ। আপাতত শুধু মনে রাখুন: এরাও সিস্টেম সফটওয়্যারের অংশ।
৪ · অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার — যা আপনার কাজ করে দেয়
Application software বা সংক্ষেপে অ্যাপ হলো সেই সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কোনো কাজ করে দেয়। আপনি কম্পিউটার কেনেন অ্যাপ চালানোর জন্যই — কেউ শুধু Windows দেখার জন্য ল্যাপটপ কেনেন না। অ্যাপকে কয়েকভাবে ভাগ করা যায়।
সাধারণ কাজের (general-purpose) বনাম বিশেষ কাজের (special-purpose) অ্যাপ
🧺 General-purpose — সবার জন্য
লক্ষ লক্ষ মানুষ নানা কাজে ব্যবহার করেন, দোকান থেকে বা অনলাইনে তৈরি অবস্থায় পাওয়া যায়।
- Office suite: Microsoft Office, LibreOffice, Google Docs/Sheets
- ব্রাউজার: Chrome, Firefox, Edge
- মিডিয়া প্লেয়ার: VLC
- ছবি সম্পাদনা: Photoshop, GIMP
🏥 Special-purpose / Custom — নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য
একটি নির্দিষ্ট কাজ বা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মেনে বানানো, অনেক সময় অর্ডার দিয়ে।
- গার্মেন্টস কারখানার বেতন (payroll) সফটওয়্যার
- হাসপাতালের রোগী ও বিল ব্যবস্থাপনা
- স্কুলের ফল প্রকাশ ও হাজিরা সিস্টেম
- ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার
তৈরি (ready-made) সফটওয়্যার সস্তা আর সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়, কিন্তু আপনার প্রতিষ্ঠানের সব নিয়ম হয়তো মানবে না। Custom সফটওয়্যার ঠিক আপনার মাপে বানানো — দর্জির কাছে বানানো পাঞ্জাবির মতো — কিন্তু খরচ ও সময় বেশি, আর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্মাতার ওপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশের অনেক সফটওয়্যার কোম্পানি ঠিক এই custom কাজই দেশে-বিদেশে করে।
ইনস্টল করা অ্যাপ, মোবাইল অ্যাপ আর ওয়েব অ্যাপ
| ধরন | কোথায় চলে | সুবিধা | অসুবিধা | উদাহরণ |
|---|---|---|---|---|
| ইনস্টল করা ডেস্কটপ অ্যাপ | আপনার কম্পিউটারে | ইন্টারনেট ছাড়াও চলে, দ্রুত, ভারী কাজ পারে | প্রতিটি কম্পিউটারে আলাদা ইনস্টল ও আপডেট | Word, Photoshop, VLC |
| মোবাইল অ্যাপ | ফোনে, অ্যাপ স্টোর থেকে | ক্যামেরা, GPS, নোটিফিকেশন ব্যবহার করতে পারে | Android আর iOS-এর জন্য আলাদা বানাতে হয় | bKash, Nagad, Pathao |
| ওয়েব অ্যাপ | ব্রাউজারে, মূল কাজ সার্ভারে | ইনস্টল লাগে না, যেকোনো ডিভাইস থেকে খোলা যায়, আপডেট আপনাআপনি | সাধারণত ইন্টারনেট লাগে, ডেটা অন্যের সার্ভারে থাকে | Gmail, Google Docs, অনলাইন ব্যাংকিং |
সীমারেখা এখন অনেক ঝাপসা। WhatsApp-এর ফোন অ্যাপ আছে, ডেস্কটপ অ্যাপ আছে, ওয়েব সংস্করণও আছে। Microsoft Word ইনস্টল করেও চালানো যায়, ব্রাউজারেও খোলা যায়। পর্ব ১৪-এ ক্লাউডে একসাথে কাজ করার কথা আর পর্ব ৩৫-এ ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ভেতরের কথা পড়বেন।
একটি সাধারণ ভুল ধারণা: “অ্যাপ মানে শুধু মোবাইলের জিনিস।” না — “অ্যাপ” শব্দটি এসেছে application থেকে। কম্পিউটারের Word যেমন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, ফোনের bKash অ্যাপও তেমনি। আবার ফোনের Settings অ্যাপটি আসলে অপারেটিং সিস্টেমেরই একটি অংশ — নামে অ্যাপ হলেও কাজে সিস্টেমের।
৫ · একটি অ্যাপে ডাবল-ক্লিক করলে ভেতরে কী ঘটে
প্রতিদিন আপনি বহুবার কোনো আইকনে ডাবল-ক্লিক করেন, আর এক-দুই সেকেন্ডে উইন্ডো খুলে যায়। এই অল্প সময়ে সিস্টেম সফটওয়্যার আর হার্ডওয়্যার মিলে একটি পুরো কর্মযজ্ঞ সারে। ধরা যাক আপনি VLC খুলছেন। ধাপে ধাপে দেখুন:
- ডাবল-ক্লিকআপনি
- ফাইল খোঁজাOS + SSD
- RAM-এ আনাloader
- Library জোড়া.dll
- CPU চালায়নির্দেশ
- উইন্ডোপর্দায়
ডেস্কটপের আইকন → C:\Program Files\VideoLAN\VLC\vlc.exe আইকনটি নিজে প্রোগ্রাম নয়, প্রোগ্রামের ঠিকানা লেখা একটি চিরকুট
vlc.exe → libvlc.dll, libvlccore.dll → kernel32.dll, user32.dll (Windows-এর নিজের) একটি না পেলে: “... .dll was not found”
- ধাপ ১ — আপনার নির্দেশ। মাউসের ক্লিক একটি ইনপুট সংকেত। মাউসের driver সেটি OS-কে জানাল: “পর্দার এই জায়গায় দুবার ক্লিক হয়েছে।” OS দেখল সেখানে VLC-র আইকন আছে।
- ধাপ ২ — ফাইল খোঁজা। আইকনটি আসলে একটি শর্টকাট, যাতে লেখা আছে আসল প্রোগ্রাম ফাইলটি (
vlc.exe) SSD-র কোথায় আছে। OS-এর file system সেই ঠিকানা ধরে ফাইলটি খুঁজে বের করল। প্রোগ্রাম চলার আগে ঘুমিয়ে থাকে storage-এ — পর্ব ০৪-এ যেমন দেখেছেন। - ধাপ ৩ — RAM-এ তোলা। CPU সরাসরি SSD থেকে প্রোগ্রাম চালাতে পারে না; তার দরকার দ্রুত RAM. OS-এর loader অংশটি প্রোগ্রামের নির্দেশগুলো RAM-এ তুলল, আর এর জন্য মেমরির একটি নিজস্ব জায়গা বরাদ্দ করল, যেখানে অন্য কোনো প্রোগ্রাম হাত দিতে পারবে না। এখন এটি একটি চলমান প্রোগ্রাম, যাকে বলে process.
- ধাপ ৪ — Library জোড়া। VLC সব কাজ নিজে করে না। উইন্ডো আঁকা, ফাইল খোলা, শব্দ বাজানোর মতো অনেক সাধারণ কাজের তৈরি কোড থাকে আলাদা library ফাইলে (Windows-এ
.dll). OS সেগুলো খুঁজে এনে জুড়ে দিল। কোনো একটি না পেলেই সেই পরিচিত বার্তা — “... .dll was not found”. - ধাপ ৫ — CPU চালাতে শুরু করল। OS প্রোগ্রামের প্রথম নির্দেশের ঠিকানা CPU-কে দিল। এখন থেকে CPU একটার পর একটা নির্দেশ পড়ছে আর চালাচ্ছে — প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি। মাঝে মাঝে OS অন্য প্রোগ্রামকেও CPU-র পালা দেয়, তাই একসাথে গান আর ব্রাউজার দুটোই চলে।
- ধাপ ৬ — উইন্ডো পর্দায়। প্রোগ্রাম OS-কে বলল “আমার জন্য একটি উইন্ডো আঁকো।” OS আর গ্রাফিক্স driver মিলে পর্দায় VLC-র উইন্ডো দেখাল। সব মিলিয়ে হয়তো এক সেকেন্ড — অথচ মাউস, driver, file system, SSD, RAM, loader, library, CPU, গ্রাফিক্স — সবাই এতে অংশ নিল। প্রোগ্রাম খুলতে দেরি হলে এখন বুঝবেন কোথায় দেরি হতে পারে: ধীর হার্ডডিস্ক, কম RAM, বা অনেক বড় প্রোগ্রাম।
Process কী, OS কীভাবে কয়েকশো process-এর মধ্যে CPU ভাগ করে (scheduling), আর loader কীভাবে প্রোগ্রামকে মেমরিতে বসায় — এগুলো অপারেটিং সিস্টেম বিষয়ের মূল প্রশ্ন। এই কোর্সে পর্ব ২৬-এ সংক্ষেপে দেখবেন। যাঁরা আরও গভীরে যেতে চান, ABCL TECH-এর পূর্ণাঙ্গ Operating Systems কোর্স দেখুন — system call, process state আর memory management সেখানে বিস্তারিত আছে। এই অংশ না পড়লেও এই কোর্সে এগোতে কোনো সমস্যা হবে না।
৬ · ইনস্টল, আপডেট আর version — সফটওয়্যারের জীবনচক্র
সফটওয়্যার আপনার কম্পিউটারে আসে মূলত তিনভাবে: নির্মাতার ওয়েবসাইট থেকে installer ডাউনলোড করে, app store থেকে (Google Play, Apple App Store, Microsoft Store), অথবা ওয়েব অ্যাপ হিসেবে — তখন ইনস্টলই লাগে না। একটি সফটওয়্যারের পুরো জীবনচক্র ধাপে ধাপে দেখুন:
- বিশ্বস্ত উৎসডাউনলোড
- চাহিদা যাচাইOS, RAM, 64-bit
- ইনস্টলফাইল কপি
- আপডেটpatch
- অবসরsupport শেষ
- ধাপ ১ — উৎস বাছাই। সফটওয়্যার নিন শুধু নির্মাতার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অফিশিয়াল app store থেকে। “ফ্রি ডাউনলোড” লেখা অচেনা সাইট বা Facebook গ্রুপের লিংক থেকে নেওয়া installer-এর সাথে প্রায়ই অন্য কিছু লুকিয়ে আসে।
- ধাপ ২ — চাহিদা মেলানো। প্রতিটি সফটওয়্যারের পাতায় system requirements লেখা থাকে: কোন OS, কত RAM, কত জায়গা, 32-bit না 64-bit. ধরুন একটি ভিডিও এডিটর চায় ন্যূনতম 8 GB RAM, আপনার আছে 4 GB — ইনস্টল হলেও চলবে খুব ধীরে বা মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যাবে।
- ধাপ ৩ — ইনস্টল। Installer প্রোগ্রাম ফাইলগুলো সঠিক ফোল্ডারে (যেমন
C:\Program Files) কপি করে, Start মেনুতে শর্টকাট বানায়, OS-এর তালিকায় নাম লেখায়, আর দরকারি library বসায়। এই সময় লাইসেন্স চুক্তি (EULA) দেখায় — আর অনেক installer চুপিচুপি বাড়তি টুলবার বা অ্যাপ বসানোর টিক দিয়ে রাখে, প্রতিটি ধাপ পড়ে এগোন। - ধাপ ৪ — আপডেট ও patch. সফটওয়্যার প্রকাশের পরও এতে bug আর নিরাপত্তার ফাঁক ধরা পড়ে। নির্মাতা তখন patch বা update পাঠান। Windows Update, Play Store-এর অটো-আপডেট — এগুলো চালু রাখুন। নিরাপত্তা আপডেট দেরি করে দেওয়া মানে জানা দরজা খোলা রাখা।
- ধাপ ৫ — অবসর (end of support). একসময় নির্মাতা পুরোনো সংস্করণের আপডেট দেওয়া বন্ধ করেন। যেমন Windows 7-এর সাধারণ সহায়তা ২০২০ সালে, Windows 10-এর ২০২৫ সালের অক্টোবরে শেষ হয়েছে। এরপরও কম্পিউটার চলবে, কিন্তু নতুন নিরাপত্তা-ত্রুটি আর সারানো হবে না। তখন নতুন সংস্করণে যাওয়া বা বিকল্প খোঁজাই নিরাপদ। ব্যবহার শেষে সফটওয়্যার মুছতে Settings → Apps থেকে Uninstall করুন, শুধু ফোল্ডার মুছবেন না।
আপডেট কেন জরুরি, তার সবচেয়ে বড় শিক্ষা ২০১৭ সালের WannaCry ransomware. এটি Windows-এর একটি নিরাপত্তা-ত্রুটি কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বহু দেশের হাসপাতাল, কোম্পানি আর অফিসের কম্পিউটারের ফাইল আটকে দিয়ে মুক্তিপণ চেয়েছিল। অথচ Microsoft ওই ত্রুটির patch হামলার প্রায় দুই মাস আগেই প্রকাশ করেছিল। যারা আপডেট দিয়েছিলেন, তারা প্রায় নিরাপদ ছিলেন। সাইবার নিরাপত্তা আর malware নিয়ে বিস্তারিত পর্ব ৪৩-এ।
Version নম্বর আর compatibility
সফটওয়্যারের পাশে প্রায়ই লেখা থাকে 3.0.21 বা 24.8.1-এর মতো নম্বর — এটি তার version. প্রচলিত নিয়মে প্রথম সংখ্যা বদলালে বড় পরিবর্তন (পুরোনো ফাইল বা প্লাগইন হয়তো আর চলবে না), দ্বিতীয়টি বদলালে নতুন সুবিধা, আর শেষটি বদলালে ছোটখাটো bug সারানো। আপনার বন্ধু নতুন version-এ বানানো ফাইল পাঠালে পুরোনো version-এ হয়তো ঠিকমতো খুলবে না — এটাই compatibility-র সমস্যা।
32-bit সফটওয়্যার মেমরির ঠিকানা লেখে ৩২টি বিট দিয়ে, তাই সর্বোচ্চ 232 বাইট, অর্থাৎ প্রায় 4 GB মেমরির হিসাব রাখতে পারে। 64-bit সফটওয়্যার এর চেয়ে বহুগুণ বেশি মেমরি ব্যবহার করতে পারে। আজকের প্রায় সব কম্পিউটার 64-bit, আর Windows 11 শুধু 64-bit সংস্করণেই আসে। নিয়ম মনে রাখুন: 64-bit Windows-এ পুরোনো 32-bit প্রোগ্রাম সাধারণত চলে, কিন্তু 32-bit Windows-এ 64-bit প্রোগ্রাম চলে না। নিজের কম্পিউটার কোনটি, দেখতে Settings → System → About খুলে “System type” দেখুন।
৭ · লাইসেন্স — সফটওয়্যার কিনলে আসলে কী কেনেন
বাজার থেকে একটি বই কিনলে বইটি আপনার — চাইলে বন্ধুকে দিতে পারেন, পুরোনো বইয়ের দোকানে বেচতে পারেন। কিন্তু বইয়ের হাজারটা ফটোকপি করে বিক্রি করতে পারেন না, কারণ লেখার স্বত্ব (copyright) লেখকের। সফটওয়্যারের ক্ষেত্রেও তাই — বরং আরও কড়া। সফটওয়্যার “কিনলে” আপনি সাধারণত সফটওয়্যারটি কেনেন না, কেনেন সেটি ব্যবহারের অনুমতি, যাকে বলে license.
ইনস্টলের সময় একটি লম্বা লেখা আসে, নিচে “I agree” বোতাম — সেটিই EULA (End User License Agreement). বেশিরভাগ মানুষ না পড়েই সম্মতি দেন, কিন্তু এতে লেখা থাকে কয়টি কম্পিউটারে চালানো যাবে, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না, আর আপনার কোন তথ্য নির্মাতা সংগ্রহ করবে।
| ধরন | দাম | সোর্স কোড | বদলানো/বিতরণ | উদাহরণ |
|---|---|---|---|---|
| Proprietary / বাণিজ্যিক | সাধারণত কিনতে হয় | গোপন | নিষেধ | Windows, Microsoft Office, Photoshop |
| Freeware | বিনা মূল্যে | গোপন | নিষেধ (শুধু ব্যবহার) | Adobe Acrobat Reader, Google Chrome |
| Shareware / Trial | কিছু দিন বিনা মূল্যে, তারপর কিনতে হয় | গোপন | নিষেধ | WinRAR, বিভিন্ন সফটওয়্যারের ৩০ দিনের trial |
| Open source | সাধারণত বিনা মূল্যে | উন্মুক্ত | অনুমতি আছে, লাইসেন্সের শর্ত মেনে | Linux, Firefox, LibreOffice, VLC, GIMP |
| Public domain | বিনা মূল্যে | সাধারণত উন্মুক্ত | কোনো শর্তই নেই | SQLite ডেটাবেস ইঞ্জিন |
| SaaS / সাবস্ক্রিপশন | মাসিক বা বার্ষিক চাঁদা | গোপন | নিষেধ; চাঁদা বন্ধ হলে ব্যবহারও বন্ধ | Microsoft 365, Google Workspace, Canva Pro |
“ফ্রি” শব্দের দুই মানে — গুলিয়ে ফেলবেন না। Freeware বিনা মূল্যের, কিন্তু আপনার হাত-পা বাঁধা — কোড দেখতে পারবেন না, বদলাতে পারবেন না। Open source-এর “free” মানে স্বাধীনতা। Richard Stallman-এর বিখ্যাত কথা: “free as in free speech, not as in free beer” — মুক্ত মত প্রকাশের মতো মুক্ত, বিনা পয়সার চায়ের মতো নয়। Google Chrome বিনা মূল্যের, কিন্তু open source নয়; তার ভিত্তি Chromium অবশ্য open source.
Open source — একটু ভেতরে
Open source সফটওয়্যারে source code সবার জন্য খোলা — রেসিপিসহ রান্না করা খাবার পাওয়ার মতো। আপনি খেতে পারেন, রেসিপি পড়তে পারেন, নিজের মতো ঝাল বাড়িয়ে রাঁধতে পারেন, অন্যকে রেসিপি দিতেও পারেন। তবে open source মানে “যা খুশি তাই” নয় — এরও লাইসেন্স আছে। দুই বড় পরিবার:
🔁 Copyleft — GPL
“নিজে স্বাধীনতা পেয়েছেন, অন্যকেও দিতে হবে।” GPL কোড দিয়ে বানানো সফটওয়্যার বিতরণ করলে আপনার সফটওয়্যারের সোর্স কোডও একই লাইসেন্সে দিতে হবে। এভাবে মুক্ত কোড চিরকাল মুক্ত থাকে।
Linux kernel, GIMP, WordPress🕊️ Permissive — MIT, Apache
“যা খুশি করুন, শুধু মূল লেখকের নাম আর লাইসেন্সের লেখাটি রেখে দিন।” এই কোড দিয়ে বন্ধ, বাণিজ্যিক পণ্যও বানানো যায়, নিজের কোড প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা নেই।
React (MIT), Android-এর বড় অংশ (Apache)এবার তিনটি বাস্তব পরিস্থিতিতে লাইসেন্স বাছাই ধাপে ধাপে করে দেখুন:
চাহিদা : ৩০টি কম্পিউটারে office suite, বাজেট প্রায় শূন্য
বিকল্প : Microsoft 365 (চাঁদা) | LibreOffice (open source)
| Google Docs (ব্রাউজারে, অ্যাকাউন্ট লাগে)
সমাধান : LibreOffice — বৈধ, বিনা মূল্যে, ইন্টারনেট ছাড়াও চলে
চাহিদা : open source library দিয়ে বাণিজ্যিক অ্যাপ বানাবে,
নিজের কোড গোপন রাখতে চায়
MIT / Apache library → ব্যবহার করা যাবে, নাম ও লাইসেন্স রেখে
GPL library → বিতরণ করলে নিজের কোডও খুলতে হবে
ব্যবহারের আগে প্রতিটি library-র লাইসেন্স তালিকা করুন
অবস্থা : ৩০ দিনের trial শেষ, “Activate now” দেখাচ্ছে
ভুল পথ : crack / keygen / “activator” খোঁজা
সঠিক পথ : লাইসেন্স কেনা | বিনা মূল্যের বিকল্প | ছাত্র-ছাড় খোঁজা
- স্কুলের জন্য office suite. Microsoft 365 চমৎকার, কিন্তু ৩০টি কম্পিউটারে চাঁদা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। (অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান Microsoft আর Google-এর শিক্ষা-সংস্করণ বিনা মূল্যে বা ছাড়ে পায় — খোঁজ নেওয়া যায়।) ইন্টারনেট দুর্বল হলে Google Docs-ও ঝামেলার। LibreOffice open source, বিনা মূল্যে, Word আর Excel-এর ফাইল খুলতে ও সেভ করতে পারে, ইন্টারনেট ছাড়াও চলে। পুরোপুরি বৈধ সমাধান।
- Open source-এর ওপর বাণিজ্যিক অ্যাপ। MIT বা Apache লাইসেন্সের library নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়; শুধু অ্যাপের “About” বা লাইসেন্স অংশে মূল লেখকের নাম আর লাইসেন্স-লেখা রাখতে হয়। GPL library মিশিয়ে অ্যাপ বিতরণ করলে নিজের কোডও GPL-এ খুলে দিতে হতে পারে — তাই পেশাদার কোম্পানি শুরুতেই প্রতিটি library-র লাইসেন্স তালিকা করে। নিয়মের সূক্ষ্ম অংশে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই রীতি।
- Trial শেষে কী করবেন। Crack দিয়ে trial চালু রাখা লাইসেন্স ভঙ্গ, আর নিরাপত্তার জন্যও বিপজ্জনক (পরের অংশে দেখবেন)। সঠিক পথ তিনটি: কাজে লাগলে লাইসেন্স কিনুন; ছাত্রছাত্রী হলে শিক্ষা-ছাড় আছে কি না দেখুন; অথবা বিনা মূল্যের বৈধ বিকল্পে যান — যেমন Photoshop-এর বদলে GIMP বা ব্রাউজারভিত্তিক Photopea, WinRAR-এর বদলে 7-Zip.
৮ · পাইরেসির আসল দাম আর বৈধ বিকল্প
লাইসেন্স ছাড়া সফটওয়্যার কপি করা, crack করা কপি চালানো বা বিক্রি করাকে বলে software piracy. বাংলাদেশসহ অনেক দেশে একসময় এটি খুব স্বাভাবিক মনে হতো — নীলক্ষেত বা কম্পিউটারের দোকান থেকে কম দামে সিডি। কিন্তু “বিনা পয়সায় পেলাম” ভাবনাটির পেছনে লুকানো দাম অনেক।
Malware-এর বাহক
Crack আর “activator” বানায় অচেনা মানুষ — বিনা লাভে কেউ পরিশ্রম করে না। এগুলোর সাথে প্রায়ই trojan, পাসওয়ার্ড-চোর বা ransomware আসে। অনেক crack চালানোর আগে antivirus বন্ধ করতে বলে — এটিই সবচেয়ে বড় সতর্কসংকেত।
আইনি ঝুঁকি
সফটওয়্যার কপিরাইট আইনে সুরক্ষিত — বাংলাদেশের আইনেও। অফিস বা ব্যবসায় পাইরেটেড সফটওয়্যার ধরা পড়লে জরিমানা ও মামলার ঝুঁকি আছে। কপিরাইট আইন নিয়ে বিস্তারিত পর্ব ৪৫-এ।
আপডেট বন্ধ
পাইরেটেড কপি সাধারণত আপডেট নিতে পারে না বা নিলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিরাপত্তা-ত্রুটিগুলো খোলাই থাকে।
পেশাদার ক্ষতি
ফ্রিল্যান্সিং বা চাকরিতে ক্লায়েন্টের ফাইল চুরি হলে বা কাজ নষ্ট হলে দায় আপনার। বড় কোম্পানিগুলো লাইসেন্স অডিট করে।
ভালো খবর হলো, প্রায় প্রতিটি জনপ্রিয় বাণিজ্যিক সফটওয়্যারের একটি বিনা মূল্যের, বৈধ বিকল্প আছে — অনেকগুলো পেশাদার মানের:
| কাজ | প্রচলিত বাণিজ্যিক | বিনা মূল্যের বৈধ বিকল্প |
|---|---|---|
| লেখা, হিসাব, প্রেজেন্টেশন | Microsoft Office | LibreOffice (open source), Google Docs/Sheets/Slides (ব্রাউজারে) |
| ছবি সম্পাদনা | Adobe Photoshop | GIMP (open source), Krita |
| ভিডিও ও গান চালানো | — | VLC (open source) |
| ফাইল compression | WinRAR | 7-Zip (open source) |
| ব্রাউজার | — | Firefox (open source), Chrome (freeware) |
| অপারেটিং সিস্টেম | Windows | Linux — যেমন Ubuntu বা Linux Mint |
| ভিডিও সম্পাদনা | Adobe Premiere Pro | Shotcut, Kdenlive (open source) |
এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে — SSC/HSC ICT, BCS, ব্যাংক বা সরকারি চাকরির পরীক্ষা আর ভাইভায়:
- সিস্টেম সফটওয়্যার আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের উদাহরণ দিন। — সিস্টেম: Windows, Linux, Android, device driver, antivirus, compiler. অ্যাপ্লিকেশন: MS Word, Excel, Chrome, VLC, payroll সফটওয়্যার।
- Firmware কী? — হার্ডওয়্যারের চিপে (সাধারণত ROM/flash) স্থায়ীভাবে রাখা সফটওয়্যার, যেমন BIOS/UEFI; হার্ডওয়্যার আর সফটওয়্যারের মাঝামাঝি।
- কয়েকটি open source সফটওয়্যারের নাম লিখুন। — Linux, Android (মূল অংশ), Firefox, LibreOffice, VLC, GIMP, MySQL, Python.
- Utility software কী? উদাহরণ দিন। — কম্পিউটারের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার সফটওয়্যার: antivirus, disk cleanup, compression (WinZip/7-Zip), backup টুল।
- Freeware আর open source-এর পার্থক্য কী? — দুটোই সাধারণত বিনা মূল্যে, কিন্তু open source-এ সোর্স কোড পাওয়া যায় ও বদলানো যায়; freeware-এ যায় না।
৯ · AI-এর যুগে — AI টুলও একটি সফটওয়্যার
ChatGPT, Gemini, Claude, Copilot — এই AI টুলগুলোও সফটওয়্যার, আর বেশিরভাগই SaaS: আপনার কম্পিউটারে কিছুই ইনস্টল হয় না, প্রশ্ন যায় কোম্পানির সার্ভারে, সেখানে বিশাল মডেল চলে, উত্তর ফেরত আসে। তাই এই পর্বের প্রতিটি প্রশ্ন এখানেও খাটে — কোন লাইসেন্সে চলছে, আপনার ডেটা কোথায় যাচ্ছে, বিনা মূল্যের সংস্করণে কী শর্ত।
- লাইসেন্স ও শর্ত: কিছু AI সেবার বিনা মূল্যের সংস্করণে আপনার কথোপকথন মডেল উন্নত করতে ব্যবহার হতে পারে, যদি না সেটিংসে বন্ধ করেন। অফিসের গোপন ফাইল, গ্রাহকের তথ্য বা NID নম্বর বিনা মূল্যের AI-তে পেস্ট করার আগে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম জানুন।
- নকল অ্যাপ: জনপ্রিয় AI-এর নাম নকল করে অনেক ভুয়া অ্যাপ আর ব্রাউজার extension ঘোরে — শুধু অফিশিয়াল সাইট বা অফিশিয়াল app store থেকে নিন।
- Open বনাম closed AI মডেল: কিছু কোম্পানি তাদের মডেলের ওজন (weights) উন্মুক্ত করে, যা নিজের কম্পিউটারে চালানো যায়; অন্যগুলো শুধু অনলাইনে সেবা হিসেবে মেলে। “open” লেখা থাকলেও লাইসেন্সে ব্যবহারের শর্ত থাকতে পারে — পড়ে নিন।
- AI-এর উত্তর যাচাই: সফটওয়্যার নিয়ে প্রশ্ন করলে AI কখনো পুরোনো তথ্য দেয় (যেমন বন্ধ হয়ে যাওয়া version-এর সেটিংস) বা লাইসেন্স নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কিন্তু ভুল উত্তর দেয়। লাইসেন্সের প্রশ্নে নির্মাতার অফিশিয়াল লাইসেন্স পাতাই চূড়ান্ত।
একটি নতুন সফটওয়্যার বা AI টুল ব্যবহারের আগে নিচের মতো করে AI-কে জিজ্ঞেস করতে পারেন। খেয়াল করুন — প্রম্পটে উৎস চাওয়া হয়েছে, যাতে আপনি নিজে মিলিয়ে দেখতে পারেন:
নতুন সফটওয়্যার বা AI অ্যাপ ব্যবহারের আগে — চেকলিস্ট
ভাবনার প্রশ্ন
প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে কিছুক্ষণ ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন। এগুলো সফটওয়্যার জগতের ইতিহাস আর অর্থনীতির গভীরে নিয়ে যাবে।
প্র ০১Richard Stallman কেন ১৯৮৩ সালে GNU প্রজেক্ট শুরু করেন? “Free Software”-এর চারটি স্বাধীনতা আসলে কী?
১৯৭০-এর দশকে MIT-র Artificial Intelligence ল্যাবে প্রোগ্রামাররা নিজেদের মধ্যে সোর্স কোড অবাধে ভাগ করতেন — কেউ একটি ভুল সারালে সবাই উপকৃত হতেন। প্রচলিত গল্প অনুযায়ী, ল্যাবের একটি নতুন প্রিন্টারের সফটওয়্যারে সমস্যা ছিল, কিন্তু নির্মাতা সোর্স কোড দিতে রাজি হয়নি — ফলে Richard Stallman আগের প্রিন্টারের মতো নিজে সারাতে পারলেন না। ধীরে ধীরে সফটওয়্যার শিল্প “গোপন কোড, কড়া লাইসেন্স” পথে চলে গেল, আর Stallman-এর চোখে এটি ছিল ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া।
১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ঘোষণা দেন GNU প্রজেক্টের — একটি সম্পূর্ণ মুক্ত, Unix-এর মতো অপারেটিং সিস্টেম বানানোর পরিকল্পনা (GNU-র মানে মজার: “GNU's Not Unix”). ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Free Software Foundation. GNU প্রজেক্ট থেকে আসে GCC compiler, Bash shell, Emacs editor-এর মতো টুল, যেগুলো আজও কোটি কম্পিউটারে চলে। আর আইনি অস্ত্র হিসেবে আসে GPL লাইসেন্স (প্রথম সংস্করণ ১৯৮৯), যার কৌশলটি চমৎকার: কপিরাইট আইনকেই ব্যবহার করে নিশ্চিত করা যে মুক্ত কোড কেউ বন্ধ করে দিতে পারবে না — একে বলা হয় copyleft.
Free Software-এর সংজ্ঞায় চারটি স্বাধীনতা (প্রোগ্রামারদের রীতিতে ০ থেকে গোনা):
- স্বাধীনতা ০: যেকোনো উদ্দেশ্যে প্রোগ্রাম চালানো।
- স্বাধীনতা ১: প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করে তা পড়া ও নিজের মতো বদলানো — এজন্য সোর্স কোড পাওয়া জরুরি।
- স্বাধীনতা ২: অন্যকে সাহায্য করতে কপি বিতরণ করা।
- স্বাধীনতা ৩: নিজের উন্নত সংস্করণ সবার সাথে ভাগ করা।
পরে ১৯৯৮ সালে কিছু মানুষ ব্যবসায়িক জগতের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে “open source” নামটি চালু করেন। দুই দল প্রায় একই সফটওয়্যার সমর্থন করে, কিন্তু Stallman-এর কাছে এটি নৈতিকতার প্রশ্ন, আর open source আন্দোলনের কাছে মূলত উন্নত উপায়ে সফটওয়্যার বানানোর পদ্ধতি।
মূল উপলব্ধি: লাইসেন্স শুধু আইনি কাগজ নয় — এটি একটি দর্শন। কে সফটওয়্যারের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখবে, ব্যবহারকারী না নির্মাতা — এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে থাকে লাইসেন্সে।
প্র ০২একজন ২১ বছরের ছাত্রের “শখের প্রজেক্ট” Linux কীভাবে আজ বিশ্বের সার্ভার আর স্মার্টফোন চালাচ্ছে?
১৯৯১ সালের আগস্টে ফিনল্যান্ডের University of Helsinki-র ছাত্র Linus Torvalds একটি ইন্টারনেট আলোচনা-গ্রুপে লিখলেন, তিনি শখের বশে একটি ছোট অপারেটিং সিস্টেম kernel বানাচ্ছেন — “just a hobby, won't be big and professional”. তখন GNU প্রজেক্টে compiler, shell, editor সবই তৈরি ছিল, শুধু নিজস্ব kernel-টি সম্পূর্ণ হয়নি। Torvalds-এর kernel আর GNU-র টুল মিলে প্রথমবার একটি সম্পূর্ণ মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম দাঁড়াল। এজন্য অনেকে একে “GNU/Linux” বলেন।
সাফল্যের কারণগুলো শিক্ষণীয়:
- GPL লাইসেন্স: Torvalds kernel-টি GPL-এ প্রকাশ করেন। ফলে কোনো কোম্পানি উন্নত করলে সেই উন্নতিও সবাইকে ফেরত দিতে হতো — প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোও একই kernel-এ একসাথে বিনিয়োগ করল।
- ইন্টারনেট: বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার প্রোগ্রামার ইমেইলে কোড পাঠাতে পারতেন। পরে Linux-এর বিশাল কোড সামলাতে Torvalds নিজেই ২০০৫ সালে Git বানান, যা আজ প্রায় সব সফটওয়্যার প্রজেক্টে ব্যবহৃত।
- খরচ ও স্বাধীনতা: লাইসেন্স ফি নেই, নিজের প্রয়োজনে বদলানো যায় — ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো হাজার হাজার সার্ভারে বিনা খরচে চালাতে পারল।
আজ ইন্টারনেটের সার্ভারগুলোর বড় অংশ Linux-এ চলে, ক্লাউড প্রায় পুরোটাই এর ওপর দাঁড়ানো, আর বিশ্বের দ্রুততম ৫০০ সুপারকম্পিউটারের তালিকায় কয়েক বছর ধরে সবগুলোই Linux চালায়। আপনার পকেটের Android ফোনের ভেতরেও Linux kernel, এমনকি অনেক Wi-Fi রাউটার আর স্মার্ট টিভিতেও। মজার বৈপরীত্য — সাধারণ মানুষের ডেস্কটপে Linux এখনো তুলনামূলক কম, কারণ সেখানে Windows-এর অভ্যাস, অফিস সফটওয়্যার আর গেমের compatibility বড় বাধা।
মূল উপলব্ধি: সঠিক লাইসেন্স আর খোলা সহযোগিতা মিললে একটি ছোট শখের কাজও বিশ্বের অবকাঠামো হয়ে উঠতে পারে। আপনি প্রতিদিন Linux ব্যবহার করেন — হয়তো না জেনেই।
প্র ০৩১৯৭৬ সালে Bill Gates কেন “Open Letter to Hobbyists” লিখেছিলেন? এর সাথে বাণিজ্যিক সফটওয়্যারের জন্মের সম্পর্ক কী?
১৯৭৫ সালে Bill Gates আর Paul Allen প্রতিষ্ঠা করেন Microsoft (শুরুতে লেখা হতো Micro-Soft). তাদের প্রথম পণ্য Altair BASIC — Altair 8800 নামের একটি শখের কম্পিউটারের জন্য BASIC ভাষার interpreter. তখনকার কম্পিউটার-শখীদের ক্লাবে একটি বিশ্বাস প্রচলিত ছিল: হার্ডওয়্যারের দাম দেওয়া যায়, কিন্তু সফটওয়্যার তো সবার জিনিস, বিনা মূল্যে ভাগ করে নেওয়াই রীতি। Altair BASIC-এর একটি কপি এক অনুষ্ঠান থেকে হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ল, কাগজের টেপে কপি হতে লাগল।
১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০ বছর বয়সী Gates একটি খোলা চিঠি লেখেন, যা কম্পিউটার-শখীদের নিউজলেটারে ছাপা হয়। মূল কথা ছিল: “আমরা এই সফটওয়্যার বানাতে বিপুল সময় আর কম্পিউটার-খরচ দিয়েছি। আপনারা বেশিরভাগই এর দাম দেননি — এটি চুরি। পরিশ্রমের মূল্য না পেলে কে ভালো সফটওয়্যার লিখবে?” চিঠিটি তখন অনেককে ক্ষুব্ধ করেছিল।
এই চিঠিকে প্রায়ই বলা হয় বাণিজ্যিক সফটওয়্যার শিল্পের প্রথম ঘোষণাপত্র। এর মূল যুক্তি — সফটওয়্যার আলাদা একটি পণ্য, যার নিজস্ব মূল্য আছে — পরবর্তী দশকগুলোতে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ সালে IBM PC-র জন্য Microsoft-এর MS-DOS, পরে Windows আর Office — সফটওয়্যার বিক্রি করেই Microsoft বিশ্বের বৃহত্তম কোম্পানিগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
লক্ষ করুন, এর কয়েক বছর পরই Stallman ঠিক উল্টো দিক থেকে আন্দোলন শুরু করেন। দুজনের অবস্থান দুই মেরুতে — একজনের কাছে সফটওয়্যার বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি, অন্যজনের কাছে ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা। মজার ব্যাপার, আজ Microsoft নিজেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় open source অবদানকারীদের একটি; ২০১৮ সালে তারা GitHub কিনে নেয়।
মূল উপলব্ধি: সফটওয়্যারের অর্থনীতিতে চিরন্তন টানাপোড়েন হলো — কপি করা প্রায় বিনা খরচে, কিন্তু বানানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। Proprietary, open source আর SaaS — সবগুলো মডেলই এই সমস্যার ভিন্ন ভিন্ন সমাধান।
প্র ০৪“Software is eating the world” — ২০১১ সালের এই কথাটির মানে কী, আর বাংলাদেশে এর প্রমাণ কোথায়?
২০১১ সালের আগস্টে Netscape ব্রাউজারের সহ-নির্মাতা ও বিনিয়োগকারী Marc Andreessen The Wall Street Journal-এ একটি প্রবন্ধ লেখেন: “Why Software Is Eating the World”. তাঁর যুক্তি ছিল, প্রায় প্রতিটি শিল্পই ধীরে ধীরে সফটওয়্যার কোম্পানিতে রূপ নিচ্ছে, আর যারা নিচ্ছে না তারা সফটওয়্যার-ভিত্তিক প্রতিযোগীর কাছে হারছে।
তাঁর উদাহরণগুলো ছিল স্পষ্ট: বইয়ের দোকানের বড় চেইন Borders দেউলিয়া হলো, আর জিতল Amazon — যা মূলত একটি সফটওয়্যার কোম্পানি যে বই বেচে। ভিডিও ভাড়ার Blockbuster হারল Netflix-এর কাছে। গান বিক্রির ব্যবসা চলে গেল iTunes আর Spotify-র হাতে। এমনকি গাড়ির ভেতরেও কোটি কোটি লাইন কোড চলে।
বাংলাদেশে চারপাশে তাকালেই প্রমাণ মেলে:
- টাকা পাঠানো: একসময় গ্রামে টাকা পাঠাতে লাগত মানি অর্ডার বা পরিচিত কারও হাত। এখন bKash, Nagad, Rocket-এর মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস — মূলত সফটওয়্যার — কয়েক সেকেন্ডে কাজটি করে।
- যাতায়াত: Pathao, Uber-এর মতো রাইড-শেয়ারিং অ্যাপের নিজস্ব গাড়ি প্রায় নেই; তাদের মূল সম্পদ হলো যাত্রী আর চালককে মেলানোর সফটওয়্যার।
- সরকারি সেবা: ট্রেনের টিকিট, পাসপোর্টের আবেদন, পরীক্ষার ফল — লাইনে দাঁড়ানোর বদলে ওয়েবসাইট আর অ্যাপ।
তবে এর একটি দিকও ভাবার মতো: সবকিছু সফটওয়্যারে চললে একটি bug, সার্ভার বিভ্রাট বা সাইবার হামলা পুরো সেবা বন্ধ করে দিতে পারে। তাই সফটওয়্যারের মান, নিরাপত্তা আর আপডেট এখন জাতীয় গুরুত্বের বিষয়।
মূল উপলব্ধি: আজ যেকোনো পেশায় — ব্যাংক, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা — সফটওয়্যার বোঝা মানুষ এগিয়ে থাকেন। আপনি প্রোগ্রামার না হলেও, সফটওয়্যারের ধরন, লাইসেন্স আর সীমা বোঝা এখন মৌলিক সাক্ষরতার অংশ।
প্র ০৫বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও IT সেবা রপ্তানি শিল্প কীভাবে গড়ে উঠেছে? BASIS-এর ভূমিকা কী, আর সামনের চ্যালেঞ্জ কী?
বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পের যাত্রা তুলনামূলক নতুন। ১৯৯০-এর দশকে হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠান মূলত দেশের ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি আর সরকারি দপ্তরের জন্য হিসাব ও ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার বানাত। ১৯৯৭ সালে এই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে গড়ে তোলে BASIS — Bangladesh Association of Software and Information Services, যা সফটওয়্যার ও IT সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয় বাণিজ্য সংগঠন।
BASIS-এর কাজের ধরন:
- নীতি-সমর্থন: সরকারের সাথে আলোচনায় শিল্পের পক্ষে কথা বলা — যেমন কর সুবিধা, রপ্তানি প্রণোদনা আর সরকারি কেনাকাটায় দেশি সফটওয়্যারের সুযোগ।
- বাজার খোঁজা: বিদেশি মেলা আর প্রতিনিধিদলে দেশি কোম্পানিকে তুলে ধরা।
- দক্ষতা উন্নয়ন: প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আর জাতীয় পুরস্কারের মাধ্যমে মানোন্নয়ন।
আজ বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, জাপান আর মধ্যপ্রাচ্যের গ্রাহকদের জন্য custom সফটওয়্যার, মোবাইল অ্যাপ, ওয়েব সেবা, সফটওয়্যার পরীক্ষা (testing) আর গ্রাহক-সহায়তার কাজ করে। পাশাপাশি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করা বিপুল সংখ্যক ফ্রিল্যান্সার এই রপ্তানির একটি বড় অংশ — পর্ব ৪৮-এ এ নিয়ে আলোচনা আছে। দেশের ভেতরেও ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্স, ই-কমার্স আর সরকারি ডিজিটাল সেবার বড় অংশ দেশি কোম্পানির তৈরি।
চ্যালেঞ্জগুলোও স্পষ্ট: দক্ষ জনবলের ঘাটতি আর অভিজ্ঞদের বিদেশে চলে যাওয়া; নিজস্ব পণ্য (product) কম, সেবা (service) বেশি — ফলে আয়ের বড় অংশ ঘণ্টাপ্রতি কাজের ওপর নির্ভরশীল; আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের জটিলতা; আর দেশের ভেতরে পাইরেসির কারণে দেশি সফটওয়্যার পণ্যের বাজার সংকুচিত হওয়া। শেষটি এই পর্বের সাথে সরাসরি জড়িত — দেশি নির্মাতার সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করা মানে দেশের শিল্পকেই টিকিয়ে রাখা।
মূল উপলব্ধি: সফটওয়্যার এমন একটি শিল্প, যেখানে কারখানা বা কাঁচামাল লাগে না — লাগে দক্ষ মানুষ আর ইন্টারনেট। এজন্যই বাংলাদেশের মতো তরুণ জনসংখ্যার দেশের জন্য এটি বিশাল সম্ভাবনা, আর তার ভিত্তি এই কোর্সের মতো মৌলিক জ্ঞান।
অনুশীলন
এগুলোর কোনোটিতেই কোড লিখতে হবে না — নিজের কম্পিউটার আর ফোনে খুঁজে দেখাই আসল কাজ।
-
নিজের কম্পিউটারের পরিচয়: Windows-এ Settings → System → About খুলুন। আপনার OS-এর নাম ও version, RAM কত, আর “System type” 32-bit না 64-bit — লিখে রাখুন। ফোনে Settings → About phone খুলে Android বা iOS-এর version দেখুন।
সাধারণত দেখবেন “Windows 11 Home/Pro”, একটি version নম্বর (যেমন 24H2 বা 25H2), RAM 8 GB বা 16 GB, আর System type: “64-bit operating system, x64-based processor”. এই তথ্যগুলোই যেকোনো সফটওয়্যারের system requirements-এর সাথে মেলাতে হয়। ফোনে Android-এর version (যেমন 14) আর শেষ security patch-এর তারিখও দেখাবে — তারিখটি অনেক পুরোনো হলে বুঝবেন ফোনটি আর নিরাপত্তা আপডেট পাচ্ছে না।
-
ভাগ করুন: নিচের সফটওয়্যারগুলোকে সিস্টেম সফটওয়্যার আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারে ভাগ করুন, আর সিস্টেম হলে কোন উপ-ভাগ (OS, driver, utility, translator) বলুন — Android, VLC, printer driver, 7-Zip, Python interpreter, Excel, Microsoft Defender, bKash অ্যাপ।
সিস্টেম: Android (OS), printer driver (driver), 7-Zip (utility — compression), Microsoft Defender (utility — antivirus), Python interpreter (language translator).
অ্যাপ্লিকেশন: VLC (মিডিয়া প্লেয়ার), Excel (spreadsheet), bKash অ্যাপ (মোবাইল আর্থিক সেবা)।
একটি সূক্ষ্ম বিষয়: কিছু বইয়ে utility-কে আলাদা তৃতীয় ভাগ ধরা হয়। পরীক্ষায় প্রশ্নের ধরন বুঝে লিখুন, তবে সাধারণ শ্রেণিবিভাগে utility সিস্টেম সফটওয়্যারের অংশ।
-
লাইসেন্স গোয়েন্দা: আপনার কম্পিউটারে VLC, Chrome বা যেকোনো দুটি সফটওয়্যার খুলে Help → About বা Settings → About অংশে খুঁজুন — কোন লাইসেন্সে চলে? এর সোর্স কোড কি পাওয়া যায়?
VLC-র About অংশে দেখবেন এটি GNU GPL (version 2 বা পরের) লাইসেন্সে প্রকাশিত, আর VideoLAN-এর ওয়েবসাইটে পুরো সোর্স কোড আছে — তাই এটি open source. Chrome-এর
chrome://creditsপাতায় দেখবেন শত শত open source উপাদানের লাইসেন্স তালিকা, কিন্তু Chrome নিজে Google-এর শর্তে চলা freeware. এই অনুশীলনের শিক্ষা: একটি বাণিজ্যিক সফটওয়্যারের ভেতরেও অনেক open source অংশ থাকে, আর permissive লাইসেন্সের শর্ত মেনেই সেগুলোর নাম তালিকায় রাখতে হয়। -
পরামর্শ দিন: আপনার এক আত্মীয় নতুন একটি ছোট দোকান খুলছেন। তিনি বলছেন, “একটা crack করা Office আর একটা ফ্রি antivirus নামিয়ে নিলেই হবে।” তাঁকে কী পরামর্শ দেবেন? অন্তত তিনটি যুক্তি আর বৈধ বিকল্প বলুন।
যুক্তি: (১) Crack-এর সাথে malware আসার ঝুঁকি বেশি — দোকানের হিসাব, গ্রাহকের নম্বর, এমনকি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তথ্যও চুরি হতে পারে। (২) পাইরেটেড কপি নিরাপত্তা আপডেট পায় না। (৩) ব্যবসায় লাইসেন্সবিহীন সফটওয়্যার আইনত ঝুঁকিপূর্ণ।
বৈধ বিকল্প: হিসাব আর চিঠির জন্য LibreOffice বা ব্রাউজারে Google Sheets/Docs (বিনা মূল্যে); দরকার হলে Microsoft 365-এর মাসিক চাঁদা। Antivirus হিসেবে Windows-এর সাথে আসা Microsoft Defender চালু রাখা আর Windows Update নিয়মিত দেওয়াই সাধারণ ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট — অচেনা সাইটের “ফ্রি antivirus” নিজেই ক্ষতিকর হতে পারে। সাথে ক্লাউডে বা এক্সটার্নাল ডিস্কে নিয়মিত backup.
নিজেকে যাচাই করুন
ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।
ক্রমসফটওয়্যারের স্তরগুলো হার্ডওয়্যারের সবচেয়ে কাছ থেকে ব্যবহারকারীর দিকে সাজান (▲▼ চেপে সরান)
- 🧱 Firmware (BIOS/UEFI)
- ⚙️ অপারেটিং সিস্টেম — kernel ও device driver
- 🧰 Utility software (antivirus, backup)
- 📱 Application software (Word, Chrome)
নিচের কোনটি সিস্টেম সফটওয়্যার?
- Microsoft Word
- Printer driver
- VLC media player
- Adobe Photoshop
কম্পিউটার চালু করার মুহূর্তে মাদারবোর্ডের চিপে রাখা কোন সফটওয়্যারটি সবার আগে চলে?
- Windows
- Antivirus
- BIOS/UEFI firmware
- Device driver
কোন সফটওয়্যারের সোর্স কোড যে কেউ পড়তে, বদলাতে আর বিতরণ করতে পারেন?
- Freeware
- Shareware
- Proprietary software
- Open source software
Microsoft 365 বা Google Workspace-এর মতো মাসিক বা বার্ষিক চাঁদায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে সফটওয়্যার ব্যবহারের মডেলকে কী বলে?
- SaaS
- Public domain
- Shareware
- Firmware
একটি 32-bit অপারেটিং সিস্টেম সর্বোচ্চ প্রায় কত মেমরির হিসাব রাখতে পারে?
- প্রায় 1 GB
- প্রায় 4 GB
- প্রায় 16 GB
- কোনো সীমা নেই
একটি সফটওয়্যারের ৩০ দিনের trial শেষ হয়ে গেছে। কোনটি নিরাপদ ও বৈধ পদক্ষেপ?
- অনলাইনে crack বা keygen খুঁজে চালু রাখা
- বন্ধুর লাইসেন্স কী দিয়ে নিজের কম্পিউটারে চালু করা
- লাইসেন্স কেনা অথবা বিনা মূল্যের বৈধ বিকল্পে যাওয়া
- কম্পিউটারের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া
শব্দকোষ
লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:
মনে রাখুন
- সফটওয়্যার = নির্দেশ, হার্ডওয়্যার = যন্ত্র। একই হার্ডওয়্যার ভিন্ন সফটওয়্যারে ভিন্ন কাজ করে।
- স্তর: Firmware → OS kernel ও driver → utility → অ্যাপ → ব্যবহারকারী; প্রতিটি স্তর নিচেরটির সেবা নেয়।
- সিস্টেম সফটওয়্যার (OS, driver, utility, translator) কম্পিউটার চালায়; অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার আপনার কাজ করে।
- লাইসেন্স ঠিক করে কী করা যাবে: proprietary, freeware, shareware, open source (GPL/MIT), public domain, SaaS. Freeware আর open source এক নয়।
- অফিশিয়াল উৎস, নিয়মিত আপডেট, system requirements মেলানো — আর crack নয়, বৈধ বিকল্প।
আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ
- পর্ব ০৬ · অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার — ফাইল, ফোল্ডার, সেটিংস আর শর্টকাটপরবর্তী পর্বWindows, macOS আর ফোনে দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা।
- পর্ব ০৪ · মেমরি আর স্টোরেজ — RAM, ROM, SSD আর ডেটার এককআগের পর্বসফটওয়্যার যেখানে জমা থাকে আর যেখানে চলে।
- কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস ও ICT · কোর্স হোম৫৫টি পর্বপুরো কোর্সের রোডম্যাপ — কোন পর্ব কখন।
- Operating Systemsগভীরে যানProcess, scheduling, memory আর file system — অপারেটিং সিস্টেমের ভেতরের পূর্ণ কোর্স।
- Computer Architecture & Digital Logicপাশের ট্র্যাকসফটওয়্যারের নির্দেশ হার্ডওয়্যার আসলে কীভাবে চালায়।