এই পর্বে যা শিখবেন
- অ্যাবাকাস থেকে ENIAC পর্যন্ত গণনাযন্ত্রের ধারাবাহিক গল্প — কে, কবে, কেন
- পাঁচ প্রজন্মের টেবিল — প্রযুক্তি, উদাহরণ, ভাষা আর সাল — বুঝে মনে রাখার কৌশল
- যেকোনো যন্ত্র দেখে বলতে পারা — সেটি অ্যানালগ, ডিজিটাল না হাইব্রিড; সুপার না মাইক্রো
- Moore's law কী, কেন তা ধীর হয়ে এলো, আর তার ফল আপনার ফোনে কীভাবে পড়ছে
- বাংলাদেশে কম্পিউটারের শুরু, আর AI-এর দেওয়া ইতিহাস যাচাইয়ের পদ্ধতি
১ · গল্পটা আসলে একটাই — আরও দ্রুত, আরও ছোট, আরও সস্তা
পরীক্ষার আগে অনেকেই “কম্পিউটারের প্রজন্ম” টেবিলটি মুখস্থ করেন — সাল, যন্ত্রাংশ, উদাহরণ। কয়েক দিন পরেই সব গুলিয়ে যায়। কারণ মুখস্থের পেছনে কোনো গল্প থাকে না। এই পর্বে আমরা উল্টো পথে যাব: আগে গল্পটা বুঝব, তারপর টেবিল নিজে থেকেই মনে থাকবে।
গল্পটা এক লাইনে বলা যায়: মানুষ সবসময় চেয়েছে হিসাব আরও দ্রুত, আরও নির্ভুল, আরও সস্তায় করতে। প্রথমে আঙুল, তারপর কাঠের গুটি, তারপর দাঁতওয়ালা চাকা, তারপর বিদ্যুৎ। আর বিদ্যুতের যুগে এসে প্রশ্নটি দাঁড়াল — বিদ্যুৎ চালু-বন্ধ করার সুইচ কত ছোট আর কত দ্রুত বানানো যায়?
ঢাকার একটি পাইকারি বাজারের হিসাবরক্ষকের কথা ভাবুন। পঞ্চাশ বছর আগে তিনি খাতায় হাতে যোগ করতেন। তারপর এলো বোতাম-টেপা ক্যালকুলেটর। তারপর অফিসে একটি কম্পিউটার। আর আজ তাঁর পকেটের ফোনেই হিসাব, bKash-এ লেনদেন, Excel — সব। কাজটা একই রয়ে গেছে: হিসাব। বদলেছে শুধু যন্ত্রের গতি, আকার আর দাম। কম্পিউটারের ইতিহাস ঠিক এই বদলেরই বড় সংস্করণ।
পর্ব ০১-এ দেখেছেন, কম্পিউটার ইনপুট নেয়, প্রসেস করে, আউটপুট দেয় আর সংরক্ষণ করে। ভেতরে সব তথ্য থাকে binary রূপে — 0 আর 1. এই 0 আর 1 রাখতে লাগে এমন কিছু, যা দুটি অবস্থায় থাকতে পারে: চালু অথবা বন্ধ। ঘরের লাইটের সুইচের মতো। কম্পিউটারের প্রতিটি প্রজন্ম আসলে এই সুইচ বানানোর একটি নতুন প্রযুক্তি:
একই কাজ, ক্রমশ ছোট সুইচ
The switch inside defines the generation
- Vacuum tubeআঙুলের সমান
- Transistorমটরদানার সমান
- ICএক চিপে অনেক
- Microprocessorএক চিপে পুরো CPU
কোনো কম্পিউটার কোন প্রজন্মের, তা নির্ধারিত হয় ভেতরের সুইচিং প্রযুক্তি দিয়ে — সাল দিয়ে নয়। সাল শুধু মোটামুটি সীমা জানায়, আর বিভিন্ন বইয়ে সেই সাল কিছুটা আলাদাও হয়। কিন্তু “ভ্যাকুয়াম টিউব = প্রথম, ট্রানজিস্টর = দ্বিতীয়” — এই সম্পর্কে কোনো বইয়েই অমিল নেই।
২ · বিদ্যুতের আগের যুগ — গুটি, হাড় আর দাঁতওয়ালা চাকা
বিদ্যুৎ আসার বহু আগেই মানুষ হিসাবের যন্ত্র বানিয়েছে। এগুলো আজকের অর্থে কম্পিউটার নয়, কিন্তু প্রতিটিতে এমন একটি ধারণা আছে, যা পরে কম্পিউটারে কাজে লেগেছে।
| যন্ত্র | কে, কবে | কী করত | আজকের কম্পিউটারে যে ধারণা রয়ে গেছে |
|---|---|---|---|
| Abacus (অ্যাবাকাস) | হাজার হাজার বছর আগে; চীনা রূপটি সবচেয়ে পরিচিত | গুটি সরিয়ে যোগ-বিয়োগ | প্রতিটি দণ্ড একটি ঘর — স্থানীয় মান (একক, দশক, শতক) |
| Napier's bones | John Napier, ১৬১৭ | দাগ কাটা দণ্ড দিয়ে গুণ-ভাগ সহজ করা | কঠিন কাজকে সহজ ধাপে ভাঙা; Napier লগারিদমেরও আবিষ্কারক |
| Slide rule | William Oughtred, ১৬২০-এর দশকে | লগারিদম স্কেল পাশাপাশি সরিয়ে গুণ-ভাগ | অ্যানালগ হিসাব — দৈর্ঘ্য দিয়ে সংখ্যা বোঝানো; ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত প্রকৌশলীদের সঙ্গী |
| Pascaline | Blaise Pascal, ১৬৪২ | দাঁতওয়ালা চাকা ঘুরিয়ে যোগ-বিয়োগ | হাতে-ধরা “হাতে থাকল ১” (carry) যন্ত্র নিজেই করে |
| Stepped reckoner | Gottfried Leibniz, ১৬৭০-এর দশকে | যোগ-বিয়োগের সাথে গুণ-ভাগও | Leibniz বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি নিয়েও লিখেছিলেন |
| Jacquard loom (তাঁত) | Joseph-Marie Jacquard, ১৮০৪ | ছিদ্র করা কার্ড দেখে তাঁতে নকশা বোনা | যন্ত্রকে “নির্দেশ” দেওয়া যায় — প্রোগ্রামের ধারণা; punched card |
শেষ সারিটি খেয়াল করুন। Jacquard-এর তাঁতে কাপড়ের নকশা বদলাতে যন্ত্র বদলাতে হতো না — শুধু কার্ডের সেট বদলালেই হতো। ছিদ্র থাকলে সুতা ওঠে, না থাকলে ওঠে না। অর্থাৎ ছিদ্র আছে/নেই = 1/0. একই যন্ত্র, ভিন্ন নির্দেশ, ভিন্ন ফল — এটাই তো সফটওয়্যারের মূল ধারণা! বাংলাদেশের জামদানি তাঁতিরা নকশা মনে রেখে হাতে বোনেন; Jacquard সেই “মনে রাখা” অংশটি কার্ডে তুলে দিয়েছিলেন।
অ্যাবাকাস নিয়ে একটি সূক্ষ্ম কথা: পাঠ্যবইয়ে একে “প্রথম গণনাযন্ত্র” বলা হয়, এবং পরীক্ষায় এটাই প্রত্যাশিত উত্তর। তবে অ্যাবাকাস নিজে হিসাব করে না — গুটি সরান মানুষ, হিসাবটা মাথায় হয়। Pascaline-এর মতো যন্ত্রে প্রথমবার যন্ত্র নিজেই “হাতে থাকল” হিসাব করল। তাই কেউ কেউ Pascaline-কে প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর বলেন।
৩ · Babbage, Ada Lovelace আর Hollerith-এর পাঞ্চ কার্ড
উনিশ শতকের ইংল্যান্ডে জাহাজ চালানো, ব্যাংক আর জরিপের জন্য লগারিদম ও নানা গাণিতিক সারণি (table) লাগত। এগুলো মানুষ হাতে হিসাব করে ছাপাতেন — আর তাতে প্রচুর ভুল থাকত। গণিতবিদ Charles Babbage ভাবলেন, এই কাজ যন্ত্রকে দিয়ে করালে কেমন হয়?
⚙️ Difference Engine
১৮২২ সালে Babbage এর প্রস্তাব দেন। কাজ একটাই — বহুপদী রাশির মান হিসাব করে সারণি বানানো। অর্থাৎ এক কাজের যন্ত্র। টাকা ও যন্ত্রাংশ তৈরির জটিলতায় তাঁর জীবদ্দশায় পুরোটা তৈরি হয়নি।
নির্দিষ্ট এক কাজের ক্যালকুলেটর🏛️ Analytical Engine
১৮৩০-এর দশকে নকশা। এটি ছিল যেকোনো হিসাব করার যন্ত্র: হিসাবের অংশ (“mill”, আজকের CPU-র মতো), মেমরি (“store”), পাঞ্চ কার্ডে ইনপুট ও প্রোগ্রাম, আর ছাপার আউটপুট। এটিও কখনো তৈরি হয়নি।
আধুনিক কম্পিউটারের নকশাAnalytical Engine-এর নকশায় ইনপুট, প্রসেস, মেমরি, আউটপুট — চারটিই ছিল। এজন্যই Babbage-কে বলা হয় কম্পিউটারের জনক। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তিনি এটি ভেবেছিলেন বিদ্যুৎ ছাড়াই — বাষ্পচালিত দাঁতওয়ালা চাকা দিয়ে!
Ada Lovelace (১৮১৫–১৮৫২) ছিলেন গণিতে পারদর্শী, কবি Lord Byron-এর মেয়ে। ১৮৪৩ সালে তিনি Analytical Engine নিয়ে এক ইতালীয় প্রকৌশলীর লেখা ইংরেজিতে অনুবাদ করেন এবং তার সাথে নিজের দীর্ঘ টীকা (Notes) জুড়ে দেন — মূল লেখার প্রায় তিনগুণ। শেষ টীকায় (“Note G”) তিনি দেখান, যন্ত্রটি দিয়ে কীভাবে ধাপে ধাপে Bernoulli সংখ্যা হিসাব করা যাবে। এজন্য তাঁকে প্রায়ই বিশ্বের প্রথম প্রোগ্রামার বলা হয়। আরও বড় কথা, তিনি লিখেছিলেন — এই যন্ত্র শুধু সংখ্যা নয়, প্রতীক নিয়েও কাজ করতে পারবে, হয়তো সংগীতও রচনা করবে। আজকের কম্পিউটারের দিকে তাকালে কথাটি ভবিষ্যদ্বাণীর মতো শোনায়।
Hollerith — যেখান থেকে IBM-এর জন্ম
১৮৮০ সালের মার্কিন আদমশুমারির হিসাব হাতে শেষ করতে প্রায় আট বছর লেগেছিল। জনসংখ্যা বাড়ছিল — পরের আদমশুমারি শেষ হওয়ার আগেই তার পরেরটির সময় হয়ে যেত! Herman Hollerith বানালেন বিদ্যুৎচালিত একটি tabulating machine. প্রতিটি মানুষের তথ্য একটি পাঞ্চ কার্ডে ছিদ্র করে রাখা হতো; যন্ত্রের ধাতব পিন ছিদ্র দিয়ে নিচের পারদে ছুঁলে বিদ্যুৎ চলত, আর কাউন্টার এক ঘর বাড়ত।
১৮৯০ সালের আদমশুমারিতে এভাবে মোট জনসংখ্যার প্রাথমিক হিসাব কয়েক সপ্তাহেই পাওয়া যায়, আর পুরো কাজও আগের চেয়ে অনেক কম সময়ে শেষ হয়। Hollerith-এর কোম্পানি পরে অন্য কয়েকটি কোম্পানির সাথে মিলে যায়, আর ১৯২৪ সালে সেই মিলিত কোম্পানির নাম হয় IBM (International Business Machines). পরের প্রায় একশো বছর কম্পিউটারের ইতিহাসে IBM-এর নাম বারবার আসবে — এমনকি বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটারেও।
বাংলাদেশে বোর্ড পরীক্ষার MCQ উত্তরপত্র (OMR শিট) দেখেছেন? বৃত্ত ভরাট আছে কি নেই — যন্ত্র সেটাই পড়ে। Hollerith-এর কার্ডের ছিদ্র আর আপনার OMR শিটের ভরাট বৃত্ত একই ধারণা: দুটি অবস্থা দিয়ে তথ্য, আর যন্ত্র দিয়ে দ্রুত গণনা।
৪ · যুদ্ধের সময়ের দানব — Z3, Colossus, Mark I, ENIAC
১৯৩০ ও ৪০-এর দশকে, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চাপে, কয়েকটি দেশে প্রায় একই সময়ে বড় গণনাযন্ত্র তৈরি হয় — কামানের গোলার পথ হিসাব, শত্রুর গোপন বার্তা ভাঙা, পারমাণবিক গবেষণা। প্রথমে সুইচ ছিল relay — বিদ্যুৎচুম্বকে টানা ধাতব পাত, ধীর আর খটখট শব্দ করা। তারপর এলো vacuum tube — কোনো নড়াচড়া নেই, তাই হাজার গুণ দ্রুত।
| যন্ত্র | কোথায়, কবে | সুইচ | কেন বিখ্যাত |
|---|---|---|---|
| Zuse Z3 | জার্মানি, ১৯৪১ (Konrad Zuse) | Relay | প্রথম কার্যকর প্রোগ্রামযোগ্য, স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল কম্পিউটার হিসেবে ধরা হয়; ১৯৪৩ সালে বোমা হামলায় ধ্বংস |
| Colossus | ব্রিটেন, ১৯৪৩–৪৪ (Tommy Flowers, Bletchley Park) | Vacuum tube | জার্মান গোপন বার্তা ভাঙতে তৈরি; প্রথম প্রোগ্রামযোগ্য ইলেকট্রনিক ডিজিটাল কম্পিউটারগুলোর একটি — কিন্তু ১৯৭০-এর দশক পর্যন্ত গোপন ছিল |
| Harvard Mark I | যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৪৪ (Howard Aiken ও IBM) | Electromechanical (relay ও চাকা) | প্রায় ১৫ মিটার লম্বা; কাগজের টেপ থেকে নির্দেশ পড়ত |
| ENIAC | যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৪৫ সালের শেষে তৈরি, ১৯৪৬ সালে প্রকাশ্যে ঘোষণা (Eckert ও Mauchly, University of Pennsylvania) | প্রায় ১৮ হাজার vacuum tube | প্রথম সাধারণ-উদ্দেশ্যের ইলেকট্রনিক ডিজিটাল কম্পিউটার হিসেবে বহুল পরিচিত; প্রায় ৩০ টন |
| EDVAC | যুক্তরাষ্ট্র, নকশা ১৯৪৫ | Vacuum tube | Stored-program ধারণা — প্রোগ্রামও মেমরিতে থাকবে |
| UNIVAC I | যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৫১ | Vacuum tube | যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বাণিজ্যিক কম্পিউটার; প্রথম কপি যায় আদমশুমারি দপ্তরে |
ENIAC-এর দুর্বলতা ছিল একটি: নতুন কাজ করাতে হলে তার আর সুইচ হাতে খুলে আবার জোড়া দিতে হতো — কয়েক দিন লেগে যেত। যেন প্রতিবার নতুন রান্নার জন্য চুলাই ভেঙে নতুন করে বানাতে হচ্ছে! সমাধান এলো ১৯৪৫ সালে EDVAC-এর নকশা নিয়ে John von Neumann-এর লেখা একটি রিপোর্টে: প্রোগ্রামের নির্দেশও ডেটার মতো মেমরিতে রাখা হবে। তাহলে কাজ বদলাতে শুধু মেমরির লেখা বদলালেই চলবে। এই stored-program ধারণাই আজকের প্রতিটি কম্পিউটারের ভিত্তি — আপনার ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টল করা মানে আসলে মেমরিতে নতুন নির্দেশ রাখা। (এই ধারণা কারও একার নয়; Eckert, Mauchly সহ ENIAC দলের অবদানও ছিল — রিপোর্টটি শুধু von Neumann-এর নামে ছড়িয়েছিল।)
“প্রথম কম্পিউটার কোনটি?” — এই প্রশ্নের একক উত্তর নেই, কারণ “প্রথম” নির্ভর করে সংজ্ঞার ওপর: যান্ত্রিক না ইলেকট্রনিক, প্রোগ্রামযোগ্য কি না, সাধারণ-উদ্দেশ্যের কি না, প্রোগ্রাম মেমরিতে রাখে কি না। বাংলাদেশের পাঠ্যবই ও চাকরির পরীক্ষায় সাধারণত ENIAC-কে প্রথম ইলেকট্রনিক ডিজিটাল কম্পিউটার আর UNIVAC I-কে প্রথম বাণিজ্যিক কম্পিউটার ধরা হয়। পরীক্ষায় সেটাই লিখুন — তবে জেনে রাখুন, ইতিহাসবিদদের কাছে গল্পটা আরও জটিল (ভাবনার প্রশ্ন ২ দেখুন)।
৫ · কম্পিউটারের পাঁচ প্রজন্ম
১৯৪৬ সালের পর থেকে কম্পিউটারের বিবর্তনকে সাধারণত পাঁচটি প্রজন্মে (generation) ভাগ করা হয়। মানুষের প্রজন্মের মতোই — দাদা, বাবা, সন্তান — প্রতিটি নতুন প্রজন্ম আগেরটির চেয়ে ছোট, দ্রুত, সস্তা আর নির্ভরযোগ্য। নিচের সিঁড়িতে এক ধাপ করে উঠুন — প্রতিটি ধাপে সুইচ, আকার, উদাহরণ আর প্রোগ্রামিং ভাষা দেখুন:
- ১মVacuum tube
- ২য়Transistor
- ৩য়IC
- ৪র্থMicroprocessor
- ৫মAI ও সমান্তরাল
সুইচ : Vacuum tube (হাজার হাজার) আকার : পুরো একটি ঘর; কয়েক টন ওজন গতি : প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার যোগ মেমরি : magnetic drum উদাহরণ : ENIAC, EDVAC, UNIVAC I, IBM 650 ভাষা : Machine language (শুধু 0/1) সমস্যা : প্রচণ্ড গরম, প্রচুর বিদ্যুৎ, টিউব ঘন ঘন পুড়ত
সুইচ : Transistor আকার : কয়েকটি আলমারির সমান গতি : প্রথম প্রজন্মের চেয়ে অনেক দ্রুত মেমরি : magnetic core উদাহরণ : IBM 1401, IBM 1620 ভাষা : Assembly, প্রথম high-level ভাষা (FORTRAN, COBOL) উন্নতি : কম গরম, কম বিদ্যুৎ, বেশি নির্ভরযোগ্য
সুইচ : Integrated circuit (IC) এক চিপে অনেক transistor আকার : আরও ছোট; মিনিকম্পিউটারের যুগ উদাহরণ : IBM System/360, PDP-8 ভাষা : High-level ভাষার বিস্তার (BASIC ইত্যাদি) নতুন : Operating system, multiprogramming কীবোর্ড ও মনিটরে সরাসরি কাজ
সুইচ : Microprocessor (VLSI)
এক চিপে পুরো CPU
উদাহরণ : Intel 4004 (১৯৭১), Apple II (১৯৭৭),
IBM PC (১৯৮১), আজকের ল্যাপটপ-ফোন
ভাষা : C, C++, Java, Python …
নতুন : পার্সোনাল কম্পিউটার, GUI, মাউস,
নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট
প্রযুক্তি : ULSI, বহু কোর, GPU, AI চিপ লক্ষ্য : Artificial intelligence, parallel processing উদাহরণ : ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ChatGPT-র মতো ভাষা-মডেল, রোবটিক্স, স্বচালিত গাড়ি ভাষা : মানুষের স্বাভাবিক ভাষার কাছাকাছি (প্রচলিত বইয়ে Prolog, LISP-এর নামও থাকে)
- প্রথম প্রজন্ম — ঘরজোড়া দানব। সুইচ ছিল vacuum tube — বাল্বের মতো দেখতে কাচের নল, গরম হলে কাজ করে। হাজার হাজার টিউব মানে বিশাল গরম আর বিদ্যুৎ খরচ। প্রোগ্রাম লিখতে হতো সরাসরি machine language-এ — 0 আর 1 দিয়ে।
- দ্বিতীয় প্রজন্ম — transistor এলো। ১৯৪৭ সালে আবিষ্কৃত transistor একই সুইচের কাজ করে, কিন্তু ছোট, ঠান্ডা আর অনেক বেশি টেকসই। প্রোগ্রামাররা পেলেন assembly language আর প্রথম high-level language — FORTRAN (বিজ্ঞানের জন্য), COBOL (ব্যবসার জন্য)। বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার IBM 1620 এই প্রজন্মেরই।
- তৃতীয় প্রজন্ম — এক চিপে অনেক transistor. Integrated circuit-এ একটি ছোট সিলিকন টুকরোর ওপর অনেকগুলো transistor একসাথে তৈরি হয়। ১৯৬৪ সালে ঘোষিত IBM System/360 এই যুগের প্রতীক। এ সময়েই operating system আর multiprogramming সাধারণ হলো — এক কম্পিউটারে একাধিক প্রোগ্রাম পালা করে চলে।
- চতুর্থ প্রজন্ম — পকেটে কম্পিউটার। ১৯৭১ সালে Intel 4004 প্রথমবার পুরো CPU-কে একটি চিপে বসাল — এটাই microprocessor. চিপে transistor-এর সংখ্যা বাড়তে থাকল (VLSI), দাম কমল, আর মানুষের ঘরে এলো Apple II (১৯৭৭), IBM PC (১৯৮১)। আজকের ল্যাপটপ আর স্মার্টফোনও প্রযুক্তিগতভাবে এই প্রজন্মের উত্তরসূরি।
- পঞ্চম প্রজন্ম — যন্ত্র যখন “শেখে”। এর সংজ্ঞা সুইচ দিয়ে নয়, লক্ষ্য দিয়ে: artificial intelligence আর parallel processing. হাজারো কোর একসাথে কাজ করে, যন্ত্র ভাষা বোঝে, ছবি চেনে। এটি এখনো চলমান — তাই এর শেষ সাল কোনো বইয়ে নেই।
এবার পুরোটা এক টেবিলে। পরীক্ষার আগে এটিই দেখে যাবেন:
| প্রজন্ম | প্রচলিত সময়কাল | মূল প্রযুক্তি | উদাহরণ | ভাষা / সফটওয়্যার |
|---|---|---|---|---|
| প্রথম | ১৯৪৬–১৯৫৯ | Vacuum tube | ENIAC, UNIVAC I, IBM 650 | Machine language |
| দ্বিতীয় | ১৯৫৯–১৯৬৫ | Transistor | IBM 1401, IBM 1620 | Assembly; FORTRAN, COBOL |
| তৃতীয় | ১৯৬৫–১৯৭১ | Integrated circuit | IBM System/360, PDP-8 | High-level ভাষা, operating system |
| চতুর্থ | ১৯৭১–বর্তমান | Microprocessor (VLSI) | IBM PC, Apple II, আজকের PC | C, C++, GUI, ইন্টারনেট |
| পঞ্চম | চলমান / ভবিষ্যৎ | ULSI, AI, parallel processing | AI সিস্টেম, রোবট, সুপারকম্পিউটার | স্বাভাবিক ভাষা, AI |
সাল নিয়ে সাবধান: বিভিন্ন বইয়ে সীমা আলাদা। কোনো বইয়ে প্রথম প্রজন্ম ১৯৪০–১৯৫৬, দ্বিতীয় ১৯৫৬–১৯৬৩, তৃতীয় ১৯৬৪–১৯৭১। কারণ নতুন প্রযুক্তি এক দিনে আসে না — transistor-এর কম্পিউটার আর tube-এর কম্পিউটার কয়েক বছর পাশাপাশি বিক্রি হয়েছে। চাকরির পরীক্ষায় সাধারণত উপরের টেবিলের সাল (বাংলাদেশের প্রচলিত বইয়ের সাল) চলে। কিন্তু অপশনে আপনার মুখস্থ সাল না থাকলে প্রযুক্তি মিলিয়ে সবচেয়ে কাছেরটি বেছে নিন।
একই কাজ, ক্রমশ ছোট — সুইচ কীভাবে সংকুচিত হলো
প্রজন্ম বদলের মূল রহস্য বুঝতে একটি প্রশ্ন ধরুন: একটি 0/1 রাখার সুইচ কত জায়গা নেয়? নিচের ধাপগুলোতে দেখুন — কাজ একটুও বদলায়নি, শুধু আকার ছোট হয়েছে কয়েক কোটি গুণ:
- Tubeকয়েক সেমি
- Transistorকয়েক মিমি
- ICচিপে কয়েক ডজন
- 4004চিপে ২,৩০০
- আজচিপে হাজার কোটি
[ গরম তার ] --ইলেকট্রন--> [ প্লেট ] মাঝের গ্রিডে ভোল্টেজ দিলে প্রবাহ বন্ধ, না দিলে চালু আকার: আঙুলের মতো · গরম হতে সময় লাগে · পুড়ে যায়
সিলিকন/জার্মেনিয়াম টুকরো, তিনটি পা
মাঝের পায়ে সামান্য বিদ্যুৎ → দুই পাশে প্রবাহ চালু
গরম হওয়ার দরকার নেই · নড়াচড়া নেই · বহু বছর টেকে
কিন্তু: প্রতিটি আলাদা, হাতে ঝালাই করে বোর্ডে বসাতে হয়
একটি সিলিকন টুকরোর ওপরেই অনেক transistor
+ তাদের মধ্যের তার — সব একসাথে ছাপা হয়
হাতে ঝালাই নেই → ছোট, সস্তা, কম ভুল
(Jack Kilby ও Robert Noyce আলাদাভাবে উদ্ভাবন করেন)
প্রায় 2,300 transistor, একটি চিপে পুরো CPU
4-bit · প্রায় 740 kHz
শক্তিতে মোটামুটি ENIAC-এর কাছাকাছি —
যে ENIAC একটি ঘর জুড়ে ছিল!
বড় চিপে কয়েক হাজার কোটি transistor (10^10 – 10^11)
একটি transistor-এর অংশ মাত্র কয়েক ন্যানোমিটার —
একটি চুলের প্রস্থে পাশাপাশি হাজার হাজার ধরে যাবে
কাজ কিন্তু সেই একই: চালু / বন্ধ = 1 / 0
- Vacuum tube. একটি সুইচ মানে একটি কাচের নল, যার ভেতরে গরম তার থেকে ইলেকট্রন ছোটে। ENIAC-এ এমন প্রায় ১৮ হাজার নল ছিল — তাই প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো নল পুড়ে যেত, আর খুঁজে বদলাতে হতো।
- আলাদা transistor. Semiconductor (অর্ধপরিবাহী) দিয়ে তৈরি এই সুইচ গরম হওয়ার অপেক্ষা ছাড়াই কাজ করে। কিন্তু প্রতিটি transistor আলাদা উপাদান — হাজারটা লাগলে হাজারবার ঝালাই, আর প্রতিটি ঝালাই ভুলের সম্ভাবনা।
- Integrated circuit. সমাধান: transistor আর তাদের সংযোগ — সব একসাথে একটি সিলিকনের ওপর ছবি ছাপার মতো করে তৈরি করা। ঝালাইয়ের ঝামেলা শেষ। একটি চিপ বানানো আর হাজারটা বানানোর খরচের পার্থক্যও কমে গেল।
- Microprocessor. একটি চিপে যত বেশি transistor ধরল, একসময় পুরো CPU-ই একটি চিপে চলে এলো। Intel 4004-এর প্রায় ২,৩০০ transistor-এর চিপটি ক্ষমতায় মোটামুটি ঘরজোড়া ENIAC-এর সমান বলে প্রায়ই তুলনা করা হয়।
- আজ। আপনার ফোনের প্রসেসরে কয়েকশো কোটি থেকে কয়েক হাজার কোটি transistor. সংখ্যা এত বেড়েছে, কিন্তু প্রতিটি transistor-এর কাজ এখনো Jacquard-এর ছিদ্রের মতোই — আছে অথবা নেই, 1 অথবা 0. ভেতরে কীভাবে transistor থেকে লজিক গেট আর CPU তৈরি হয়, তা দেখবেন পর্ব ২০ ও পর্ব ২৩-এ।
পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে — চাকরির পরীক্ষায় (BCS, ব্যাংক, সরকারি চাকরি) আর SSC/HSC ICT-তে প্রজন্মের টেবিল থেকে প্রশ্ন প্রায়ই আসে। প্রচলিত বইয়ের উত্তরগুলো (কিছু বইয়ে সাল সামান্য ভিন্ন):
- দ্বিতীয় প্রজন্মের মূল প্রযুক্তি? Transistor.
- Microprocessor কোন প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য? চতুর্থ প্রজন্ম; প্রথম microprocessor Intel 4004 (১৯৭১)।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোন প্রজন্মের লক্ষ্য? পঞ্চম প্রজন্ম।
- কম্পিউটারের জনক কে? প্রথম প্রোগ্রামার? Charles Babbage; Ada Lovelace.
- প্রথম বাণিজ্যিক কম্পিউটার? UNIVAC I (১৯৫১)।
৬ · Moore's law — দ্বিগুণ হওয়ার গল্প, আর তার ধীর হয়ে আসা
১৯৬৫ সালে Fairchild Semiconductor-এর প্রকৌশলী Gordon Moore (পরে Intel-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা) একটি প্রবন্ধে লক্ষ করেন — একটি চিপে সাশ্রয়ীভাবে যতগুলো transistor বসানো যায়, সেই সংখ্যা প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। ১৯৭৫ সালে তিনি অনুমানটি সংশোধন করে বলেন প্রায় প্রতি দুই বছরে দ্বিগুণ। এটিই Moore's law.
Moore's law পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম নয় — এটি একটি পর্যবেক্ষণ ও শিল্পের লক্ষ্য। চিপ কোম্পানিগুলো দশকের পর দশক এটিকে সময়সূচি হিসেবে ধরে কাজ করেছে, তাই এটি অনেকটা নিজেই নিজেকে সত্য করেছে।
দ্বিগুণ হওয়া শুনতে সাধারণ লাগে, কিন্তু বারবার দ্বিগুণ হলে কী হয়? দাবার বোর্ডের সেই পুরোনো গল্পটি মনে করুন — প্রথম ঘরে এক দানা চাল, পরের ঘরে দুই, তারপর চার… শেষ ঘরে পৌঁছানোর অনেক আগেই পৃথিবীর সব চাল ফুরিয়ে যায়। নিচের ছোট হিসাবযন্ত্রটি চালিয়ে দেখুন — ১৯৭১ সালের Intel 4004-এর ২,৩০০ transistor থেকে প্রতি দুই বছরে দ্বিগুণ ধরলে কোন বছরে কত হওয়ার কথা, আর বাস্তব কয়েকটি চিপ কোথায় ছিল:
// Moore's law: প্রতি ২ বছরে transistor প্রায় দ্বিগুণ
const base = 2300; // Intel 4004, 1971
function predict(year) {
return Math.round(base * 2 ** ((year - 1971) / 2));
}
// বাস্তব কয়েকটি চিপ (transistor সংখ্যা আনুমানিক)
const chips = [
["Intel 8086", 1978, 29000],
["Intel Pentium", 1993, 3100000],
["NVIDIA H100", 2022, 80e9],
];
for (const [chip, year, real] of chips) {
const p = predict(year);
console.log(chip, year, "| predicted:", p.toLocaleString("en-US"),
"| real:", real.toLocaleString("en-US"), "| ratio:", (real / p).toFixed(2));
}আউটপুটে তিনটি লাইন আসে। ১৯৭৮ সালে হিসাব বলে প্রায় ২৬ হাজার, আসল 8086-এ ছিল প্রায় ২৯ হাজার (ratio 1.11). ১৯৯৩ সালে হিসাব প্রায় ৪৭ লাখ, আসল Pentium-এ প্রায় ৩১ লাখ (ratio 0.66). ২০২২ সালে হিসাব প্রায় ১০ হাজার ৯০০ কোটি, আর সে বছরের অন্যতম বড় চিপ NVIDIA H100-এ প্রায় ৮ হাজার কোটি (ratio 0.73). অর্থাৎ পঞ্চাশ বছরে সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গুণ, আর এত সরল একটি সূত্র তবুও সঠিক মাত্রার (order of magnitude) মধ্যে থেকেছে! মনে রাখুন, চিপের সংখ্যাগুলো কোম্পানির প্রকাশিত আনুমানিক মান, আর প্রতি বছরের সবচেয়ে বড় চিপ ধরলে ফল কিছুটা বদলাবে। চাইলে নিজে নতুন সাল আর চিপ যোগ করে দেখুন।
তাহলে এখন কী হচ্ছে — Moore's law কি শেষ?
দীর্ঘদিন transistor ছোট হওয়া মানে ছিল একসাথে তিনটি সুবিধা: বেশি transistor, বেশি গতি (ক্লক স্পিড), আর একই বিদ্যুৎ খরচ। শেষ সুবিধাটির নাম Dennard scaling. ২০০৫ সালের আশপাশে এটি ভেঙে পড়ে — transistor এত ছোট হয়ে গেল যে বন্ধ অবস্থাতেও বিদ্যুৎ “চুইয়ে” যেতে লাগল, চিপ অতিরিক্ত গরম হতে লাগল। ফলে প্রসেসরের ক্লক স্পিড ৩–৪ GHz-এর আশপাশে আটকে গেল, যা আজও প্রায় একই।
শিল্প তখন দিক বদলাল: এক কোরকে আরও দ্রুত না করে এক চিপে একাধিক কোর — multicore. আপনার ল্যাপটপে “8-core” লেখা থাকে এই কারণেই। পাশাপাশি এলো বিশেষ কাজের চিপ — ছবি ও AI-এর জন্য GPU, ফোনে NPU. Transistor-এর সংখ্যা এখনো বাড়ছে, তবে আগের চেয়ে ধীরে আর অনেক বেশি খরচে।
আরও গভীরে: Transistor কীভাবে লজিক গেট হয়, CPU-র pipeline আর cache কেন দরকার, multicore-এ কাজ ভাগ করা কেন কঠিন — এগুলো জানতে এই কোর্সের পর্ব ২৪ (CPU কীভাবে কাজ করে) আর পর্ব ২৫ (মেমরি হায়ারার্কি) পড়ুন। আরও গভীরে যেতে চাইলে আমাদের Computer Architecture কোর্স দেখুন — সেখানে Amdahl's law দিয়ে হিসাব করা হয়, কোর দ্বিগুণ করলেও গতি কেন দ্বিগুণ হয় না।
৭ · কম্পিউটারের প্রকারভেদ — কাজের ধরন আর আকার
কম্পিউটারকে দুইভাবে ভাগ করা হয়। প্রথমটি কীভাবে হিসাব করে তা দিয়ে; দ্বিতীয়টি কত বড় ও কত শক্তিশালী তা দিয়ে। একটি যন্ত্র একসাথে দুই তালিকাতেই থাকে — যেমন আপনার ল্যাপটপ একই সাথে “ডিজিটাল” আর “মাইক্রোকম্পিউটার”।
কাজের নীতি অনুযায়ী — অ্যানালগ, ডিজিটাল, হাইব্রিড
〰️ অ্যানালগ
Analog computer ক্রমাগত বদলাতে থাকা ভৌত রাশি মাপে — তাপ, চাপ, গতি, ভোল্টেজ। ফল দেখায় কাঁটা বা দাগে; মান যেকোনো জায়গায় থামতে পারে (৩৬.৭৩…)।
পারদ থার্মোমিটার, কাঁটাওয়ালা স্পিডোমিটার, স্লাইড রুল🔢 ডিজিটাল
Digital computer সবকিছুকে আলাদা আলাদা সংখ্যায় (শেষ পর্যন্ত 0/1) রূপ দিয়ে গুনে হিসাব করে। নির্ভুল, তথ্য জমিয়ে রাখা যায়, প্রোগ্রাম বদলে নতুন কাজ করানো যায়।
ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ATM, ডিজিটাল ঘড়ি🔀 হাইব্রিড
Hybrid computer দুটির মিশ্রণ — অ্যানালগ অংশ শরীর বা পরিবেশ থেকে সংকেত মাপে, ডিজিটাল অংশ সেটি সংখ্যায় হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেয়।
ICU-র রোগী-পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপার্থক্যটা বুঝতে দুটি ঘড়ি ভাবুন। কাঁটাওয়ালা দেয়ালঘড়ির মিনিটের কাঁটা মসৃণভাবে ঘোরে — ১২টা ১৫ আর ১২টা ১৬-এর মাঝের যেকোনো অবস্থানে থাকতে পারে। এটি অ্যানালগ ধারণা। ফোনের ঘড়ি সরাসরি লাফিয়ে 12:15 থেকে 12:16 হয় — মাঝখানে কিছু নেই। এটি ডিজিটাল। (আধুনিক কাঁটাওয়ালা কোয়ার্টজ ঘড়ির ভেতরে আবার ডিজিটাল সার্কিট থাকে — বাস্তবের যন্ত্র প্রায়ই মিশ্র!)
আকার ও ক্ষমতা অনুযায়ী
| ধরন | বৈশিষ্ট্য | কোথায় দেখবেন |
|---|---|---|
| Supercomputer | হাজার হাজার প্রসেসর একসাথে; গতি মাপা হয় FLOPS-এ — সবচেয়ে দ্রুতগুলো প্রতি সেকেন্ডে ১০১৮-এর বেশি হিসাব (exascale) | আবহাওয়া ও জলবায়ু মডেল, ওষুধ ও পরমাণু গবেষণা, বড় AI প্রশিক্ষণ। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের Frontier ও El Capitan, জাপানের Fugaku (তালিকা প্রতি ছয় মাসে বদলায়) |
| Mainframe | একসাথে বিপুল সংখ্যক লেনদেন, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, বছরের পর বছর না থেমে চলে | বড় ব্যাংক, বিমা, এয়ারলাইনের বুকিং; যেমন IBM Z সিরিজ |
| Minicomputer / মাঝারি server | মেইনফ্রেমের চেয়ে ছোট, একাধিক ব্যবহারকারী | ইতিহাসে PDP-8, PDP-11; আজ অফিস বা প্রতিষ্ঠানের সার্ভার |
| Microcomputer | একটি microprocessor দিয়ে তৈরি ব্যক্তিগত কম্পিউটার | ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন |
| Embedded system | বড় যন্ত্রের ভেতরে লুকানো, একটি কাজের জন্য; প্রায়ই একটি microcontroller চিপ | ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, রাইস কুকার, গাড়ি, লিফট, মেট্রো রেলের গেট |
আরেকটি দরকারি ভাগ হলো ব্যক্তিগত বনাম সার্ভার। আপনার ফোন বা ল্যাপটপ একজনের জন্য — আপনি সামনে বসে ব্যবহার করেন। Facebook বা bKash খুললে আপনার ফোন অনুরোধ পাঠায় কোনো ডেটা সেন্টারের সার্ভারে, যা একসাথে লাখো মানুষকে সেবা দিচ্ছে, আর তার সামনে কেউ বসে নেই। মজার কথা, আধুনিক সার্ভারের ভেতরের যন্ত্রাংশ অনেকটা শক্তিশালী ডেস্কটপের মতোই; পার্থক্য তার কাজে, নির্ভরযোগ্যতায় আর সংখ্যায়। ক্লাউড আর সার্ভার নিয়ে বিস্তারিত পর্ব ৩৫-এ।
এবার নিজে যাচাই করুন। নিচের পাঁচটি যন্ত্র একে একে দেখুন — প্রতিটি কোন ঘরে পড়ে, আর কেন:
- পারদ থার্মোমিটার → অ্যানালগ। পারদের স্তম্ভ তাপের সাথে মসৃণভাবে ওঠানামা করে — মান যেকোনো জায়গায় থামতে পারে, কোনো গোনাগুনি নেই। এটি “কম্পিউটার” বলতে যা বুঝি তা নয়, কিন্তু অ্যানালগ মাপার নীতির সবচেয়ে সহজ উদাহরণ। (ডিজিটাল থার্মোমিটার হলে উত্তর বদলে যেত!)
- ল্যাপটপ → ডিজিটাল + মাইক্রোকম্পিউটার। ভেতরে সব 0/1-এ হিসাব হয়, তাই ডিজিটাল। একটি microprocessor দিয়ে তৈরি, একজন মানুষের ব্যবহারের জন্য — তাই মাইক্রোকম্পিউটার। ডেস্কটপ, ট্যাবলেট আর স্মার্টফোনও একই ঘরে।
- ICU মনিটর → হাইব্রিড। সেন্সর রোগীর হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, অক্সিজেন মাপে ক্রমাগত বদলাতে থাকা বৈদ্যুতিক সংকেত হিসেবে (অ্যানালগ অংশ)। তারপর ডিজিটাল অংশ সেটি সংখ্যায় রূপ দিয়ে হিসাব করে, পর্দায় দেখায় আর বিপদ হলে অ্যালার্ম বাজায়। পাঠ্যবইয়ে হাইব্রিডের প্রচলিত উদাহরণ এটিই।
- আবহাওয়ার সুপারকম্পিউটার → ডিজিটাল + সুপারকম্পিউটার। ঘূর্ণিঝড়ের পথ অনুমান করতে বায়ুমণ্ডলকে কোটি কোটি ছোট ঘরে ভাগ করে প্রতিটির তাপ, চাপ, বাতাস হিসাব করতে হয় — বারবার, দ্রুত। এ কাজ হাজারো প্রসেসর একসাথে না হলে সম্ভব নয়।
- ওয়াশিং মেশিনের নিয়ন্ত্রক → ডিজিটাল + এমবেডেড। ভেতরের ছোট microcontroller প্রোগ্রাম মেনে পানি ভরা, ঘোরানো, নিংড়ানোর সময় ঠিক করে। আপনি একে “কম্পিউটার” বলে চেনেন না, কারণ এটি যন্ত্রের ভেতরে লুকানো আর একটি কাজই করে। পৃথিবীতে এমন লুকানো কম্পিউটারের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
আকারের সীমারেখা আজ ঝাপসা। আজকের একটি স্মার্টফোন ১৯৮০-এর দশকের অনেক সুপারকম্পিউটারের চেয়ে বেশি হিসাব করতে পারে। তাই “মাইক্রো” মানে দুর্বল নয় — শ্রেণিটি নির্ধারিত হয় সমসাময়িক অন্য যন্ত্রের তুলনায় আর ব্যবহারের ধরন দিয়ে।
৮ · বাংলাদেশে কম্পিউটারের যাত্রা
বাংলাদেশে (তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে) প্রথম কম্পিউটার আসে ১৯৬৪ সালে — একটি IBM 1620, স্থাপিত হয় ঢাকার পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে (Atomic Energy Centre). এটি ছিল দ্বিতীয় প্রজন্মের, অর্থাৎ transistor-ভিত্তিক কম্পিউটার, মূলত বৈজ্ঞানিক গবেষণার হিসাবের জন্য। চাকরির পরীক্ষায় এই তথ্যটি — বছর, মডেল আর জায়গা — খুব পরিচিত প্রশ্ন।
এরপরের কয়েক দশকে কম্পিউটার ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি দপ্তর, ব্যাংক আর বড় প্রতিষ্ঠানে ছড়ায়। ১৯৯০ সালে আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC) গঠিত হয়, যা দেশে ICT-র প্রসারে কাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ খোলে, স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে ICT যুক্ত হয়। ২০০৮ সালে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” লক্ষ্য ঘোষণার পর ই-সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং আর সফটওয়্যার ও ফ্রিল্যান্সিং খাত দ্রুত বাড়ে — এই গল্প বিস্তারিত দেখবেন পর্ব ১৫-এ।
একটু ভাবুন: ১৯৬৪ সালে পুরো দেশে একটি কম্পিউটার, তা-ও একটি ঘর জুড়ে, যা ব্যবহার করতেন হাতে গোনা কয়েকজন বিজ্ঞানী। আজ সেই দেশেই কোটি কোটি মানুষের পকেটে স্মার্টফোন — যার প্রতিটি সেই IBM 1620-এর চেয়ে লক্ষ গুণেরও বেশি শক্তিশালী। একটি প্রজন্মের জীবদ্দশাতেই এই বদল। কম্পিউটারের ইতিহাস তাই দূরের কোনো দেশের গল্প নয়; আমাদের দাদা-দাদি আর বাবা-মায়ের চোখের সামনে ঘটা গল্প।
বাংলাদেশের ICT খাত নিয়ে নানা পরিসংখ্যান (ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা, রপ্তানি আয়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী) বিভিন্ন উৎসে বিভিন্ন রকম আসে আর প্রতি বছর বদলায়। পরীক্ষার জন্য এমন সংখ্যা মুখস্থ করার আগে BTRC, BBS বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রকাশনা দেখে নিন।
৯ · AI-এর যুগে — ইতিহাসের দাবি যাচাই করবেন কীভাবে
ইতিহাস জানতে AI চ্যাটবট খুব কাজের — দ্রুত সারসংক্ষেপ দেয়, গল্প বলে, প্রশ্নের জবাব দেয়। কিন্তু এই বিষয়েই AI সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী ভুল করে। কারণ ইন্টারনেটে কম্পিউটারের ইতিহাস নিয়ে হাজারো লেখা আছে, যাদের সাল আর “প্রথম” দাবি একে অপরের সাথে মেলে না — আর AI সেই মিশ্রণ থেকেই শিখেছে।
| AI যে ভুল প্রায়ই করে | উদাহরণ | কীভাবে ধরবেন |
|---|---|---|
| প্রজন্মের সাল মিশিয়ে ফেলা | এক উত্তরে দ্বিতীয় প্রজন্ম ১৯৫৬–১৯৬৩, আরেক উত্তরে ১৯৫৯–১৯৬৫ | যে বই থেকে পরীক্ষা দেবেন, তার সাথে মেলান; প্রযুক্তি দিয়ে চিনুন |
| “প্রথম” দাবির সংজ্ঞা না বলা | “ENIAC ছিল বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার” — ঢালাওভাবে | জিজ্ঞেস করুন: প্রথম কোন অর্থে — ইলেকট্রনিক, প্রোগ্রামযোগ্য, বাণিজ্যিক? |
| বানানো উদ্ধৃতি বা সংখ্যা | কোনো বিজ্ঞানীর মুখে এমন কথা, যা তিনি বলেননি | মূল উৎস চান; না পেলে বাদ দিন |
| বাংলাদেশ নিয়ে অনুমাননির্ভর তথ্য | ভুল মডেল বা ভুল প্রতিষ্ঠানের নাম | পাঠ্যবই, সরকারি ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য পত্রিকার সাথে মেলান |
AI-কে ইতিহাসের প্রশ্ন করার সময় তাকে অনিশ্চয়তা স্বীকার করতে আর উৎস দেখাতে বলুন। নিচের প্রম্পটটি কপি করে ব্যবহার করতে পারেন:
AI-এর দেওয়া ইতিহাস হাতে পেলে — যাচাইয়ের চেকলিস্ট
ইতিহাসে “কে প্রথম” প্রশ্নের আগে জিজ্ঞেস করুন — “কোন অর্থে প্রথম?”
ভাবনার প্রশ্ন
প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে কিছুক্ষণ ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন। ইতিহাস মানে শুধু সাল নয়, মানুষ আর সিদ্ধান্তের গল্প।
প্র ০১Ada Lovelace কি সত্যিই বিশ্বের প্রথম প্রোগ্রামার? এ নিয়ে বিতর্ক কেন?
১৮৪৩ সালে Ada Lovelace ইতালীয় প্রকৌশলী Luigi Menabrea-র লেখা Analytical Engine-এর বিবরণ ফরাসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। সাথে জুড়ে দেন A থেকে G পর্যন্ত সাতটি টীকা, যা মূল লেখার চেয়ে অনেক বড়। Note G-তে একটি সারণি আছে — যন্ত্রটি ধাপে ধাপে কীভাবে Bernoulli সংখ্যা হিসাব করবে, কোন ধাপে কোন ঘরে কী মান থাকবে, কোন অংশ বারবার ঘুরে আসবে (আজকের ভাষায় loop). এটিকেই সাধারণত প্রথম প্রকাশিত কম্পিউটার প্রোগ্রাম বলা হয়।
বিতর্কের দিকগুলো:
- কিছু ইতিহাসবিদ দেখিয়েছেন, Babbage নিজে এর কয়েক বছর আগেই যন্ত্রের জন্য কিছু হিসাবের ধাপ (প্রোগ্রামের খসড়া) লিখেছিলেন, যদিও সেগুলো প্রকাশিত হয়নি। আর Note G-র অনেক বিষয় Babbage-এর সাথে চিঠিপত্রে আলোচনা করে তৈরি।
- অন্যদিকে তাঁর পক্ষের ইতিহাসবিদরা বলেন, Note G-র গঠন, ব্যাখ্যা আর প্রকাশ Ada-রই কাজ; চিঠিপত্রে দেখা যায় তিনি Babbage-এর একটি ভুলও ধরেছিলেন।
- যন্ত্রটি কখনো তৈরি হয়নি, তাই প্রোগ্রামটি কোনো যন্ত্রে চলেনি। “যে প্রোগ্রাম কখনো চলেনি, তার লেখক কি প্রোগ্রামার?” — এটিও প্রশ্ন।
তবে Ada-র সবচেয়ে বড় অবদান সম্ভবত প্রোগ্রামটি নয়, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। Babbage যন্ত্রটিকে মূলত সংখ্যার হিসাবযন্ত্র হিসেবে দেখতেন। Ada লিখেছিলেন, এটি যেকোনো প্রতীক নিয়ে কাজ করতে পারবে — নিয়ম জানা থাকলে সংগীতও রচনা করতে পারবে। আবার তিনিই সতর্ক করেছিলেন, যন্ত্র নিজে থেকে কিছু “সৃষ্টি” করে না, শুধু যা করতে বলা হয় তা করে। প্রায় একশো বছর পর Alan Turing তাঁর বিখ্যাত ১৯৫০ সালের প্রবন্ধে এই আপত্তিকে “Lady Lovelace’s objection” নামে আলোচনা করেন — আজকের AI বিতর্কেও প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক। ১৯৮০ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের একটি প্রোগ্রামিং ভাষার নাম রাখে Ada.
মূল উপলব্ধি: “প্রথম” খেতাব প্রায়ই সরল করা গল্প। Ada Lovelace-কে প্রথম প্রোগ্রামার বলা পরীক্ষায় ঠিক উত্তর, আর তাঁর চিন্তার গভীরতা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই — কিন্তু বড় আবিষ্কার সাধারণত একাধিক মানুষের আলোচনা আর সহযোগিতার ফল।
প্র ০২Colossus ENIAC-এর আগে চলেছিল — তবু “প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার”-এর খ্যাতি ENIAC পেল কেন?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের Bletchley Park-এ জার্মান সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ের গোপন বার্তা (Lorenz সাইফার) ভাঙার কাজ চলছিল। হাতে এই কাজ ছিল অত্যন্ত ধীর। ডাক বিভাগের প্রকৌশলী Tommy Flowers প্রায় আড়াই হাজার vacuum tube দিয়ে তৈরি করেন Colossus — প্রথমটি চালু হয় ১৯৪৪ সালের শুরুতে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে মোট দশটি তৈরি হয়। এটি ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল এবং সুইচ ও প্লাগ বদলে কিছুটা প্রোগ্রামযোগ্য ছিল। ধারণা করা হয়, এর তথ্য নরম্যান্ডি অভিযানের পরিকল্পনাতেও কাজে লেগেছিল।
কিন্তু যুদ্ধের পর বেশিরভাগ Colossus ভেঙে ফেলা হয়, নকশার কাগজ নষ্ট করা হয়, আর জড়িত সবাইকে গোপনীয়তার শপথে বেঁধে রাখা হয়। Flowers নিজের কাজের কথা পরিবারকেও বলতে পারেননি। ১৯৭০-এর দশকে গিয়ে ধীরে ধীরে এর অস্তিত্বের কথা প্রকাশ পায়, আর বিস্তারিত নথি উন্মুক্ত হয় আরও অনেক পরে।
অন্যদিকে ENIAC ১৯৪৬ সালে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্বের সামনে আনা হয় — পত্রিকায় ছবি, “ইলেকট্রনিক মস্তিষ্ক” শিরোনাম। ENIAC সাধারণ-উদ্দেশ্যেরও ছিল; ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাকে নতুন করে সাজানো যেত, যেখানে Colossus ছিল মূলত এক কাজের যন্ত্র। ফলে পাঠ্যবই, জাদুঘর আর সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে ENIAC-ই জায়গা করে নেয়।
গল্পে আরও একটি মোড় আছে। ১৯৩০-৪০-এর দশকের শুরুতে Iowa State College-এ John Atanasoff ও Clifford Berry একটি ইলেকট্রনিক গণনাযন্ত্র (Atanasoff–Berry Computer) বানিয়েছিলেন, যা প্রোগ্রামযোগ্য ছিল না। ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের রায়ে ENIAC-এর পেটেন্ট বাতিল হয়, আর রায়ে বলা হয় ENIAC-এর নির্মাতারা কিছু ধারণা Atanasoff-এর কাজ থেকে নিয়েছিলেন। আর Zuse-এর Z3 (১৯৪১) তো relay দিয়ে তৈরি — ইলেকট্রনিক নয়, কিন্তু প্রোগ্রামযোগ্য।
মূল উপলব্ধি: ইতিহাসে খ্যাতি নির্ভর করে শুধু কাজের ওপর নয়, কে কতটা প্রকাশ্যে জানাতে পেরেছে তার ওপরও। “প্রথম” প্রশ্নের সৎ উত্তর সবসময় সংজ্ঞা দিয়ে শুরু হয়।
প্র ০৩১৯৪৭ সালে Bell Labs-এ transistor আবিষ্কার কেন বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলোর একটি?
Vacuum tube-এর সমস্যা শুধু কম্পিউটারের ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিফোন কোম্পানি AT&T-র বিশাল নেটওয়ার্কে কলের সংকেত বড় করতে আর সংযোগ বদলাতে লাখো টিউব আর যান্ত্রিক সুইচ লাগত — সেগুলো গরম হতো, পুড়ত, প্রচুর বিদ্যুৎ খেত। AT&T-র গবেষণাগার Bell Labs তাই এমন একটি কঠিন-পদার্থের (solid-state) সুইচ খুঁজছিল, যাতে কাচ, শূন্যস্থান বা গরম তার লাগবে না।
১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে John Bardeen ও Walter Brattain জার্মেনিয়ামের একটি টুকরোর ওপর সোনার দুটি সূক্ষ্ম বিন্দু ছুঁইয়ে প্রথম কার্যকর transistor (point-contact transistor) দেখান। তাঁদের দলনেতা William Shockley এর পরপরই আরও ব্যবহারযোগ্য junction transistor-এর তত্ত্ব দেন। ১৯৫৬ সালে তিনজন একসাথে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। (Bardeen পরে superconductivity-র জন্য দ্বিতীয়বার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান — এ বিষয়ে দুবার নোবেলজয়ী একমাত্র মানুষ।)
এর প্রভাব শুধু কম্পিউটারে নয়। ১৯৫০-এর দশকে transistor রেডিও এলো — প্রথমবার পকেটে রেডিও। গ্রামেগঞ্জে, মাঠে, নৌকায় — বাংলাদেশেও একসময় ব্যাটারিচালিত “ট্রানজিস্টর” রেডিও এতই পরিচিত ছিল যে মানুষ রেডিওকেই “ট্রানজিস্টর” বলত।
আর ইতিহাসের মজার মোড়: Shockley পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের কোম্পানি খোলেন। তাঁর কঠোর ব্যবস্থাপনায় বিরক্ত হয়ে ১৯৫৭ সালে আটজন তরুণ বিজ্ঞানী চাকরি ছেড়ে Fairchild Semiconductor গড়েন। তাঁদের দুজন — Robert Noyce ও Gordon Moore — ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন Intel. এই ঘটনাপ্রবাহ থেকেই সিলিকন ভ্যালির জন্ম। Noyce আবার IC-রও অন্যতম উদ্ভাবক।
মূল উপলব্ধি: বড় প্রযুক্তি-বিপ্লব প্রায়ই আসে একটি মৌলিক উপাদান বদলে — এখানে সুইচ। একই কাজ, কিন্তু ছোট, ঠান্ডা, টেকসই আর সস্তা হলে তার ওপর সম্পূর্ণ নতুন শিল্প দাঁড়িয়ে যায়। আজকের প্রতিটি চিপে যা আছে, তা মূলত সেই ১৯৪৭ সালের সুইচেরই বংশধর।
প্র ০৪একটি জাপানি ক্যালকুলেটরের অর্ডার থেকে কীভাবে Intel 4004 আর পার্সোনাল কম্পিউটারের যুগ শুরু হলো?
১৯৬৯ সালে জাপানের ক্যালকুলেটর কোম্পানি Busicom তাদের নতুন ডেস্ক ক্যালকুলেটরের জন্য তখনকার ছোট কোম্পানি Intel-কে কয়েকটি বিশেষ চিপ বানানোর অর্ডার দেয়। Busicom-এর প্রাথমিক নকশায় অনেকগুলো আলাদা, নির্দিষ্ট কাজের চিপ ছিল।
Intel-এর প্রকৌশলী Ted Hoff একটি ভিন্ন প্রস্তাব দেন: অনেক বিশেষ চিপের বদলে একটি সাধারণ-উদ্দেশ্যের, প্রোগ্রামযোগ্য প্রসেসর চিপ বানানো হোক; ক্যালকুলেটরের আলাদা কাজগুলো হবে সফটওয়্যারে, মেমরি চিপে রাখা প্রোগ্রাম দিয়ে। নকশাটিকে বাস্তব সিলিকনে রূপ দেন Federico Faggin, সাথে ছিলেন Stanley Mazor আর Busicom-এর প্রকৌশলী Masatoshi Shima. ১৯৭১ সালে তৈরি হলো Intel 4004 — প্রায় ২,৩০০ transistor, ৪-বিট, একটি চিপে পুরো CPU.
গল্পের মোড় হলো চুক্তিতে। শুরুতে নকশার অধিকার ছিল Busicom-এর। Intel দাম কমানোর বিনিময়ে ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কাজে চিপটি বিক্রির অধিকার ফিরিয়ে নেয়। ১৯৭১ সালের শেষ দিকে Intel পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় — “integrated electronics-এর নতুন যুগ”। তারপর এলো 8008, আর ১৯৭৪ সালে 8080. সেই 8080 দিয়ে তৈরি হয় ১৯৭৫ সালের Altair 8800 কিট; তার জন্য BASIC লিখতে গিয়েই শুরু হয় Microsoft. ১৯৭৭ সালে Apple II, ১৯৮১ সালে Intel 8088 দিয়ে IBM PC — আর আজও আপনার Windows ল্যাপটপের প্রসেসর সেই x86 পরিবারের উত্তরসূরি।
ভাবুন, Intel যদি শুধু অর্ডারমতো কয়েকটি ক্যালকুলেটর-চিপ বানিয়ে দিত, বা অধিকার ফিরিয়ে না নিত — ইতিহাস হয়তো অন্যরকম হতো।
মূল উপলব্ধি: “বিশেষ কাজের হার্ডওয়্যার” বনাম “সাধারণ হার্ডওয়্যার + সফটওয়্যার” — এই সিদ্ধান্তই microprocessor-এর জন্ম দিয়েছে। একই চিপ সফটওয়্যার বদলে ক্যালকুলেটর, ট্রাফিক সিগন্যাল বা কম্পিউটার হতে পারে — এই নমনীয়তাই কম্পিউটারকে সর্বত্র নিয়ে গেছে।
প্র ০৫Moore's law কি মারা গেছে? Dennard scaling ভেঙে পড়ার পর চিপ শিল্প কোন পথে গেল?
প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে “Moore's law” বলতে কী বোঝাচ্ছেন তার ওপর। এখানে তিনটি আলাদা জিনিস প্রায়ই এক হয়ে যায়:
- Transistor-এর সংখ্যা: এখনো বাড়ছে। তবে দ্বিগুণ হতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে, আর অনেক সময় একাধিক চিপ টুকরো (chiplet) জুড়ে বা স্তরে স্তরে সাজিয়ে (3D stacking) সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।
- প্রতি transistor-এর খরচ: আগে প্রতি নতুন প্রজন্মে স্পষ্টভাবে কমত। এখন সবচেয়ে উন্নত কারখানা বানাতে বিপুল খরচ, তাই এই হ্রাস অনেক ধীর। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানিই এখন সবচেয়ে উন্নত চিপ বানাতে পারে।
- গতি ও বিদ্যুৎ: ১৯৭৪ সালে Robert Dennard ও সহকর্মীরা দেখান, transistor ছোট করলে ভোল্টেজও কমানো যায়, ফলে একই আকারের চিপে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় একই থাকে। ২০০৫ সালের আশপাশে ভোল্টেজ আর কমানো গেল না, চুইয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ বাড়ল — Dennard scaling শেষ। ২০০৪ সালের দিকে Intel তাদের পরবর্তী উচ্চ-ক্লকের একটি প্রসেসর প্রকল্প বাতিল করে dual-core-এর দিকে যায়। ২০০৫ সালে সফটওয়্যার প্রকৌশলী Herb Sutter লিখলেন, “The free lunch is over” — প্রোগ্রাম আর নিজে থেকে দ্রুত হবে না, প্রোগ্রামারদের সমান্তরালভাবে লিখতে শিখতে হবে।
শিল্পের জবাব তাই বহুমুখী: multicore, GPU, AI-এর জন্য বিশেষ চিপ (NPU, TPU), নতুন গড়নের transistor (FinFET, এখন gate-all-around). চিপের “৩ ন্যানোমিটার” জাতীয় নামও এখন আর কোনো একক মাপ বোঝায় না — অনেকটা প্রজন্মের নাম। কোনো কোনো শিল্পনেতা প্রকাশ্যে বলেছেন Moore's law শেষ; Intel-এর মতো কোম্পানি বলে এখনো চলছে। দুই পক্ষই আসলে ভিন্ন সংজ্ঞা ব্যবহার করছে।
মূল উপলব্ধি: পঞ্চাশ বছর ধরে “ছোট মানেই দ্রুত আর সস্তা” — এই সহজ সূত্রে চলেছে কম্পিউটার। এখন উন্নতি আসছে নকশার বুদ্ধি, সমান্তরালতা আর বিশেষায়ন থেকে। তাই ভবিষ্যতের প্রোগ্রামার আর প্রকৌশলীর জন্য হার্ডওয়্যার বোঝা আগের চেয়ে বেশি জরুরি।
অনুশীলন
খাতা-কলম নিন। এগুলো মুখস্থ যাচাই নয় — বুঝে খাটানোর অনুশীলন।
-
টেবিল নিজে বানান: বই বন্ধ রেখে পাঁচ প্রজন্মের একটি টেবিল আঁকুন — কলাম: সুইচ প্রযুক্তি, একটি উদাহরণ, ভাষা। শুরু করুন সুইচ দিয়ে, সাল লিখুন সবার শেষে।
১ম: vacuum tube — ENIAC — machine language. ২য়: transistor — IBM 1401/1620 — assembly, FORTRAN/COBOL. ৩য়: IC — IBM System/360 — high-level ভাষা ও operating system. ৪র্থ: microprocessor — IBM PC, Apple II — C ও আধুনিক ভাষা, GUI. ৫ম: AI ও parallel processing — আজকের AI সিস্টেম — স্বাভাবিক ভাষা। সাল: ১৯৪৬–৫৯, ১৯৫৯–৬৫, ১৯৬৫–৭১, ১৯৭১ থেকে, চলমান। সুইচ দিয়ে শুরু করলে বাকি সব যুক্তি দিয়ে মনে আসে — সাল আগে মুখস্থ করলে সেটাই সবার আগে গুলিয়ে যায়।
-
বাড়ির যন্ত্র চিনুন: নিচের যন্ত্রগুলো কাজের নীতি (অ্যানালগ/ডিজিটাল/হাইব্রিড) আর আকার (প্রযোজ্য হলে) অনুযায়ী ভাগ করুন — (ক) রাইস কুকার (খ) কাঁটাওয়ালা বাথরুম-ওজন মাপার যন্ত্র (গ) ATM বুথ (ঘ) স্মার্টওয়াচ (ঙ) ব্যাংকের কেন্দ্রীয় লেনদেন কম্পিউটার।
(ক) আধুনিক রাইস কুকারে বোতাম আর ডিসপ্লে থাকলে ভেতরে microcontroller — ডিজিটাল, এমবেডেড। (খ) কাঁটাওয়ালা ওজন যন্ত্র — স্প্রিং টেনে কাঁটা ঘোরে, অ্যানালগ। (গ) ATM — ডিজিটাল; ভেতরে একটি সাধারণ কম্পিউটার, তবে একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য, তাই অনেকে একে এমবেডেড বা বিশেষায়িত কম্পিউটার বলেন। (ঘ) স্মার্টওয়াচ — ডিজিটাল, মাইক্রোকম্পিউটার; হৃৎস্পন্দন মাপার সেন্সর থাকলে হাইব্রিডের বৈশিষ্ট্যও আছে (অ্যানালগ সংকেত মেপে ডিজিটালে রূপান্তর)। (ঙ) ডিজিটাল, মেইনফ্রেম বা বড় সার্ভার। খেয়াল করুন, আধুনিক যন্ত্রে সেন্সর থাকলে প্রায় সবই কিছুটা “হাইব্রিড” — পরীক্ষায় তাই প্রচলিত উদাহরণগুলোই লিখুন।
-
Moore's law হাতে হিসাব: ১৯৭১ সালে ২,৩০০ transistor ধরে প্রতি দুই বছরে দ্বিগুণ হলে ১৯৯১ সালে কত হওয়ার কথা? ক্যালকুলেটর ছাড়া করুন।
১৯৭১ থেকে ১৯৯১ = ২০ বছর = ১০ বার দ্বিগুণ। ২১০ = ১,০২৪। তাই ২,৩০০ × ১,০২৪ = ২৩,৫৫,২০০ — প্রায় ২৪ লাখ। সে সময়ের Intel 486 প্রসেসরে (১৯৮৯) ছিল প্রায় ১২ লাখ transistor — অর্থাৎ একই মাত্রার মধ্যে। মনে রাখার কৌশল: ১০ বার দ্বিগুণ ≈ এক হাজার গুণ। তাই প্রতি ২০ বছরে প্রায় হাজার গুণ।
-
AI অডিট: যেকোনো AI চ্যাটবটকে জিজ্ঞেস করুন: “বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার কোনটি, কবে, কোথায়? আর বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার কোনটি?” উত্তরটি এই পর্বের তথ্য আর চেকলিস্টের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
প্রথম অংশের প্রত্যাশিত উত্তর: IBM 1620, ১৯৬৪, ঢাকার পরমাণু শক্তি কেন্দ্র। মডেল, বছর বা প্রতিষ্ঠানের নাম ভিন্ন এলে সেটি AI-এর ভুল — পাঠ্যবই বা নির্ভরযোগ্য উৎসে মিলিয়ে নিন। দ্বিতীয় অংশে ভালো উত্তর হবে সংজ্ঞাসহ: “ইলেকট্রনিক সাধারণ-উদ্দেশ্যের হিসেবে ENIAC, প্রোগ্রামযোগ্য relay-যন্ত্র হিসেবে Z3, গোপন ইলেকট্রনিক যন্ত্র হিসেবে Colossus…”। যদি AI কোনো শর্ত ছাড়া একটি নাম বলে দেয়, তাহলে পাল্টা জিজ্ঞেস করুন “কোন অর্থে প্রথম?” — দেখবেন উত্তর অনেক বেশি সূক্ষ্ম হয়ে যায়।
নিজেকে যাচাই করুন
ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।
ক্রমএই আবিষ্কারগুলো পুরোনো থেকে নতুন — সময়ের ক্রমে সাজান (▲▼ চেপে সরান)
- 🦴 Napier's bones (১৬১৭)
- ⚙️ Pascal-এর Pascaline (১৬৪২)
- 🧵 Jacquard-এর পাঞ্চ কার্ডের তাঁত (১৮০৪)
- 🏛️ Babbage-এর Analytical Engine-এর নকশা (১৮৩০-এর দশক)
- 🗂️ Hollerith-এর আদমশুমারি যন্ত্র (১৮৯০)
- 💡 ENIAC (১৯৪৫–৪৬)
দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারের মূল সুইচিং প্রযুক্তি কোনটি?
- Vacuum tube
- Transistor
- Integrated circuit
- Microprocessor
“কম্পিউটারের জনক” বলা হয় কাকে, এবং কেন?
- Blaise Pascal — Pascaline বানানোর জন্য
- Herman Hollerith — আদমশুমারির যন্ত্রের জন্য
- Charles Babbage — Analytical Engine-এর নকশায় আধুনিক কম্পিউটারের মূল অংশগুলো ছিল বলে
- John von Neumann — ENIAC বানানোর জন্য
বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে) প্রথম কম্পিউটার কোনটি, কোথায় স্থাপিত হয়?
- IBM 1620, ঢাকার পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে
- UNIVAC I, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
- ENIAC, বুয়েটে
- IBM System/360, বাংলাদেশ ব্যাংকে
রোগীর হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ ক্রমাগত মেপে সেগুলো সংখ্যায় রূপ দিয়ে হিসাব করে এমন ICU মনিটরকে কোন শ্রেণির কম্পিউটার বলা হয়?
- অ্যানালগ
- শুধু ডিজিটাল
- সুপারকম্পিউটার
- হাইব্রিড
Moore's law (১৯৭৫ সালের সংশোধিত রূপে) মূলত কী বলে?
- প্রসেসরের ক্লক স্পিড প্রতি বছর দ্বিগুণ হয়
- একটি চিপে transistor-এর সংখ্যা প্রায় প্রতি দুই বছরে দ্বিগুণ হয়
- কম্পিউটারের দাম প্রতি দুই বছরে অর্ধেক হয়
- RAM-এর ধারণক্ষমতা প্রতি দশকে দশগুণ হয়
ENIAC-এ নতুন কাজ করাতে তার ও সুইচ হাতে বদলাতে হতো। কোন ধারণা এই সমস্যার সমাধান করে আজকের সব কম্পিউটারের ভিত্তি হয়েছে?
- Multiprogramming
- Parallel processing
- Stored-program ধারণা — প্রোগ্রামও মেমরিতে রাখা
- Punched card ব্যবহার
শব্দকোষ
লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:
মনে রাখুন
- কম্পিউটারের ইতিহাস = হিসাবকে দ্রুত, ছোট আর সস্তা করার গল্প — অ্যাবাকাস থেকে কোটি transistor-এর চিপ।
- Babbage কম্পিউটারের জনক, Ada Lovelace প্রথম প্রোগ্রামার হিসেবে পরিচিত; Hollerith-এর পাঞ্চ কার্ড থেকে IBM.
- প্রজন্ম চেনার চাবি সুইচ প্রযুক্তি: tube → transistor → IC → microprocessor → AI/parallel. সাল বইভেদে ভিন্ন।
- কাজের নীতিতে অ্যানালগ, ডিজিটাল, হাইব্রিড; আকারে সুপার, মেইনফ্রেম, মিনি, মাইক্রো, আর সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি এমবেডেড।
- বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার IBM 1620 (১৯৬৪, পরমাণু শক্তি কেন্দ্র, ঢাকা); AI-এর দেওয়া সাল আর “প্রথম” দাবি সবসময় সংজ্ঞা ও উৎসসহ যাচাই করুন।
আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ
- পর্ব ০৩ · হার্ডওয়্যার — CPU, মাদারবোর্ড, পোর্ট আর পেরিফেরালপরবর্তী পর্বআজকের কম্পিউটারের ভেতরে কোন যন্ত্রাংশ কী কাজ করে।
- কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস ও ICT · কোর্স হোম৫৫টি পর্বপুরো কোর্সের রোডম্যাপ — শুরু থেকে পরীক্ষা প্রস্তুতি পর্যন্ত।
- Computer Architecture & Digital Logicগভীরে যানTransistor থেকে লজিক গেট, CPU আর multicore — ভেতরের প্রকৌশল।
- Operating Systemsপাশের ট্র্যাকতৃতীয় প্রজন্মে যে operating system-এর জন্ম, আজ সে কীভাবে কাজ করে।