এই পর্বে যা শিখবেন
- packet switching আর circuit switching-এর পার্থক্য, আর ইন্টারনেট কেন packet-এ চলে
- IPv4 ও IPv6, private ও public IP, NAT, subnet mask (/24, /26), DHCP আর MAC বনাম IP
- port, TCP ও UDP, three-way handshake, আর TCP/IP ও OSI মডেলের স্তর
- encapsulation, DNS resolution-এর ধাপ, HTTP request-response আর status code
- routing, ISP, IXP, সাবমেরিন কেবল, কে ইন্টারনেট চালায়, আর ping-tracert-nslookup-ipconfig পড়া
১ · নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক — আর packet-এর ধারণা
পর্ব ১৩-এ আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন ব্রাউজার আর ইমেইলের চোখে। পর্ব ৩২-এ দেখেছেন LAN, WAN আর রাউটার-সুইচের মতো যন্ত্র। এই পর্বে আমরা ঢাকনা খুলে দেখব: আপনার ফোন থেকে সিঙ্গাপুর বা আমেরিকার একটি সার্ভারে ডেটা আসলে যায় কীভাবে।
ইন্টারনেট হলো নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক। আপনার বাসার Wi-Fi, অফিসের LAN, মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের নেটওয়ার্ক — সবাই আলাদা মালিকের, আলাদা যন্ত্রের। তবু তারা কথা বলতে পারে, কারণ সবাই একই নিয়মের সেট মানে: TCP/IP. ডেটা ছোট ছোট টুকরো — packet — হয়ে যায়; প্রতিটির গায়ে গন্তব্যের ঠিকানা (IP address) লেখা থাকে; রাউটার-রা এক হাত থেকে আরেক হাতে তুলে দেয়; TCP নিশ্চিত করে সব টুকরো ক্রমমতো পৌঁছেছে; DNS নামকে ঠিকানায় বদলায়; আর HTTP হলো ব্রাউজার ও ওয়েব সার্ভারের কথা বলার ভাষা।
এই নিয়মগুলোর প্রতিটিকে বলে protocol — দুই পক্ষ কোন ক্রমে, কোন ভাষায়, কী বললে কী বোঝাবে, তার লিখিত চুক্তি। ঠিক যেমন ডাক বিভাগে খামের ওপর প্রাপকের ঠিকানা ডানে, প্রেরকের ঠিকানা বাঁয়ে, ডাকটিকিট ওপরের কোণে — সবাই একই নিয়ম মানে বলে চিঠি পৌঁছায়।
Circuit switching বনাম packet switching
পুরোনো ল্যান্ডফোনের কথা ভাবুন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে কল করলে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ দুই প্রান্তের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পথ (circuit) পুরো কলের সময়ের জন্য আপনার নামে আটকে রাখত। আপনি চুপ করে থাকলেও সেই পথ আর কেউ ব্যবহার করতে পারত না। একে বলে circuit switching.
ইন্টারনেট চলে উল্টো নীতিতে — packet switching. কোনো পথ আগে থেকে আটকানো হয় না। একটি ছবি পাঠালে সেটি শত শত packet-এ ভাগ হয়, প্রতিটি packet নিজের মতো করে সামনে এগোয়, এক packet-এর পেছনেই অন্য কারও packet একই তার দিয়ে চলে যায়। ডাকঘরে চিঠির বস্তার মতো — একই ট্রাকে হাজার মানুষের চিঠি যায়, কারও জন্য আলাদা ট্রাক লাগে না।
| বিষয় | Circuit switching (পুরোনো ফোন কল) | Packet switching (ইন্টারনেট) |
|---|---|---|
| পথ | শুরুতে একটি নির্দিষ্ট পথ বাঁধা হয় | প্রতিটি packet আলাদাভাবে পথ পায় |
| তারের ব্যবহার | চুপ থাকলেও পথ দখলে থাকে — অপচয় | অনেকে একই তার ভাগ করে — দক্ষ |
| একটি পথ নষ্ট হলে | কল কেটে যায় | packet অন্য পথ ধরে ঘুরে যায় |
| দুর্বলতা | — | ভিড়ে packet দেরি করতে বা হারাতে পারে; ক্রম উল্টে যেতে পারে |
১৯৬০-এর দশকে আমেরিকায় Paul Baran আর যুক্তরাজ্যে Donald Davies আলাদাভাবে প্রায় একই ধারণায় পৌঁছান: বার্তাকে ছোট ব্লকে ভেঙে নেটওয়ার্কে ছেড়ে দাও। “packet” নামটি Davies-এর দেওয়া। ১৯৬৯ সালে আমেরিকার ARPANET-এ প্রথম packet-switched বার্তা যায় — আজকের ইন্টারনেটের পূর্বপুরুষ।
packet switching-এর ঘাটতি — হারানো, দেরি, ক্রম উল্টে যাওয়া — সামলানোর দায়িত্ব নেয় ওপরের স্তরের protocol. সেই ভাগাভাগিটাই এই পর্বের মেরুদণ্ড।
২ · IP address — ইন্টারনেটের ঠিকানা
প্রতিটি packet-এর গায়ে দুটি ঠিকানা থাকে: প্রেরকের আর প্রাপকের IP address. বহুল প্রচলিত রূপটি IPv4: চারটি সংখ্যা, মাঝে বিন্দু, যেমন 192.168.1.100. প্রতিটি সংখ্যা আসলে ৮ bit — একে বলে octet — তাই প্রতিটির মান ০ থেকে ২৫৫. মোট ৪ × ৮ = ৩২ bit. পর্ব ১৬-এর বাইনারি রূপান্তর এখানে সরাসরি কাজে লাগে:
192 . 168 . 1 . 100 11000000.10101000.00000001.01100100 ← ৩২টি bit, ৪টি octet
৩২ bit দিয়ে মোট ঠিকানা হয় ২৩২ — প্রায় ৪৩০ কোটি। ১৯৮১ সালে এটি অসীম মনে হয়েছিল; আজ পৃথিবীর মানুষই ৮০০ কোটির বেশি, আর প্রত্যেকের হাতে একাধিক যন্ত্র। তাহলে চলছে কীভাবে? উত্তর দুটি: private address আর NAT.
Private আর public address
কিছু ঠিকানার ব্লক আলাদা করে রাখা হয়েছে শুধু ঘরোয়া বা অফিসের ভেতরের নেটওয়ার্কের জন্য — এগুলো ইন্টারনেটে সরাসরি চলে না, তাই লাখো বাড়ি একই ঠিকানা আবার ব্যবহার করতে পারে। এগুলোই private IP:
| ব্লক | কোথায় দেখবেন |
|---|---|
192.168.0.0 – 192.168.255.255 | বাসার Wi-Fi রাউটার (প্রায়ই 192.168.0.x বা 192.168.1.x) |
10.0.0.0 – 10.255.255.255 | বড় অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাউডের ভেতরের নেটওয়ার্ক |
172.16.0.0 – 172.31.255.255 | অফিস ও ক্লাউড নেটওয়ার্ক |
127.0.0.1 | loopback — “এই কম্পিউটার নিজেই”; নেটওয়ার্কে বেরোয় না |
বাকি প্রায় সব ঠিকানা public IP — সারা ইন্টারনেটে অনন্য, যেমন একটি ওয়েব সার্ভারের ঠিকানা। public ঠিকানা আপনার ISP পায় আঞ্চলিক রেজিস্ট্রি থেকে (বাংলাদেশসহ এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে APNIC), তারপর গ্রাহকদের দেয়।
NAT — বাসার সবার জন্য একটি public ঠিকানা
আপনার বাসায় ফোন, ল্যাপটপ, টিভি মিলিয়ে হয়তো আটটি যন্ত্র — প্রত্যেকের private ঠিকানা (192.168.0.101, .102 …)। কিন্তু ISP হয়তো দিয়েছে একটিমাত্র public ঠিকানা। রাউটার তখন NAT (Network Address Translation) চালায়: বাইরে যাওয়া প্রতিটি packet-এর প্রেরক-ঠিকানা মুছে নিজের public ঠিকানা বসায়, আর একটি খাতায় লিখে রাখে কোন উত্তর কোন যন্ত্রের। উত্তর ফিরলে খাতা দেখে সঠিক যন্ত্রে পাঠায়।
উপমা: একটি অফিসের রিসেপশন। বাইরে থেকে সবাই অফিসের একটিই ফোন নম্বর জানে। ভেতরে প্রতিটি টেবিলের নিজস্ব extension নম্বর। রিসেপশনিস্ট মনে রাখেন কে কাকে ফোন করেছিল, আর উত্তর এলে সঠিক টেবিলে লাইন দেন। NAT-ও তাই করে। মোবাইল অপারেটররা একই কৌশল আরও বড় পরিসরে চালায় — হাজারো গ্রাহক একটি public ঠিকানা ভাগ করেন (একে বলে carrier-grade NAT).
IPv6 — ঠিকানার সংকটের স্থায়ী সমাধান
NAT একটি জোড়াতালি। স্থায়ী সমাধান IPv6: ঠিকানা ৩২ নয়, ১২৮ bit. লেখা হয় আটটি দলে, প্রতিটি দলে চারটি hexadecimal অঙ্ক, মাঝে কোলন — যেমন 2001:0db8:0000:0000:0000:0000:0000:0001. প্রতিটি দলের শুরুর শূন্য বাদ দেওয়া যায়, আর পরপর শূন্য-দলগুলো একবার :: দিয়ে ছোট করা যায়: 2001:db8::1. মোট ঠিকানা ২১২৮ — প্রায় ৩.৪ × ১০৩৮, পৃথিবীর প্রতিটি বালুকণাকে কোটি কোটি ঠিকানা দেওয়ার মতো।
Subnet mask — ঠিকানার কোন অংশ “এলাকা”, কোন অংশ “বাড়ি”
একটি IP address-এর দুই অংশ: সামনের অংশ নেটওয়ার্কের পরিচয় (এলাকার নাম), পেছনের অংশ সেই নেটওয়ার্কের ভেতরে একটি যন্ত্র (বাড়ির নম্বর)। কোথায় ভাগ হবে, বলে দেয় subnet mask. বাসার নেটওয়ার্কে সাধারণত 255.255.255.0 — বাইনারিতে প্রথম ২৪টি 1, তারপর ৮টি 0. সংক্ষেপে লেখা হয় /24 (এই লেখার ধরনকে বলে CIDR).
- /24: শেষের ৮ bit যন্ত্রের জন্য → ২৮ = ২৫৬টি ঠিকানা। প্রথমটি (
.0) নেটওয়ার্কের নিজের নাম, শেষটি (.255) broadcast — “সবাইকে”; ব্যবহারযোগ্য ২৫৪টি। - /26: শেষের ৬ bit → ৬৪টি ঠিকানা, ব্যবহারযোগ্য ৬২টি। একটি /24-কে চারটি /26-এ ভাগ করা যায় — যেমন একটি অফিসের চার তলার জন্য চারটি আলাদা নেটওয়ার্ক।
যন্ত্র নিজের mask দিয়ে বোঝে প্রাপক একই নেটওয়ার্কে কি না। একই হলে সরাসরি পাঠায়; না হলে পাঠায় default gateway-এ — সাধারণত বাসার রাউটার, যে বাইরের দুনিয়ার দরজা।
পুরোনো “class” পদ্ধতি: পরীক্ষায় এখনো IPv4-এর class জিজ্ঞেস করা হয় — প্রথম octet ১–১২৬ হলে Class A, ১২৮–১৯১ Class B, ১৯২–২২৩ Class C. ১৯৯৩ সাল থেকে বাস্তবে এর বদলে CIDR (/24, /26 …) ব্যবহার হয়, কারণ নির্দিষ্ট class-এ ঠিকানা প্রচুর নষ্ট হতো।
DHCP — ঠিকানা আপনা-আপনি
আপনি কখনো নিজের ফোনে IP address টাইপ করেননি, তবু ফোন Wi-Fi-তে ঢুকেই ঠিকানা পায়। কাজটি করে DHCP: যন্ত্র চিৎকার করে “আমার একটা ঠিকানা দরকার!” (Discover), রাউটারের DHCP সার্ভার প্রস্তাব দেয় (Offer), যন্ত্র সেটি চায় (Request), সার্ভার নিশ্চিত করে (Acknowledge) — চার ধাপের সংক্ষেপ DORA. সাথে আসে subnet mask, default gateway আর DNS সার্ভারের ঠিকানা। ঠিকানাটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য “ভাড়া” (lease) দেওয়া হয়।
MAC বনাম IP — স্থানীয় ডেলিভারি আর বিশ্ব-ঠিকানা
প্রতিটি নেটওয়ার্ক কার্ডের কারখানা থেকে দেওয়া ৪৮-bit একটি পরিচয় থাকে — MAC address (পর্ব ১৬, ৩২)। তাহলে দুই রকম ঠিকানা কেন? IP হলো চিঠির খামের প্রাপকের ঠিকানা — শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই থাকে। MAC হলো প্রতিটি ধাপে কোন পিয়ন কার হাতে দেবে — শুধু একটি স্থানীয় নেটওয়ার্কের ভেতরে অর্থ রাখে, আর প্রতিটি রাউটার পেরোলেই বদলে যায়। একই LAN-এ কোন IP-র MAC কী, তা খুঁজে বের করার protocol-এর নাম ARP.
৩ · Port, TCP আর UDP — কোন অ্যাপ, কতটা নিশ্চয়তা
IP address packet-কে সঠিক কম্পিউটারে পৌঁছে দেয়। কিন্তু সেই কম্পিউটারে একসাথে ব্রাউজার, WhatsApp, গেম, আপডেট চলছে — packet-টি কার? এখানে আসে port number: ০ থেকে ৬৫৫৩৫-এর একটি সংখ্যা, যা বলে কোন প্রোগ্রাম বা সেবার জন্য। IP যদি একটি অফিস-ভবনের ঠিকানা হয়, port হলো ভেতরের রুম নম্বর।
| Port | সেবা | মনে রাখার কৌশল |
|---|---|---|
| 80 | HTTP — এনক্রিপশন ছাড়া ওয়েব | ওয়েবের পুরোনো দরজা |
| 443 | HTTPS — এনক্রিপ্ট করা ওয়েব | আজকের প্রায় সব সাইট |
| 53 | DNS | নাম → ঠিকানা |
| 25 | SMTP — সার্ভার থেকে সার্ভারে ইমেইল (পর্ব ১৩) | ডাক পাঠানো |
| 22 | SSH — দূরের কম্পিউটারে নিরাপদ লগইন (পর্ব ২৯) | সার্ভার প্রশাসকের দরজা |
সার্ভারের port নির্দিষ্ট (ওয়েব সার্ভার ৪৪৩-এ অপেক্ষা করে); আপনার দিকের port প্রতিটি সংযোগের জন্য OS একটি বড় সংখ্যা থেকে সাময়িকভাবে বেছে নেয়, যেমন ৫১৭৩৪. তাই একই ব্রাউজারের দশটি ট্যাব আলাদা আলাদা সংযোগ রাখতে পারে।
TCP — নিশ্চিত ডেলিভারি
IP নিজে কোনো নিশ্চয়তা দেয় না — “best effort”: চেষ্টা করব, পৌঁছাবে কি না জানি না। TCP সেই অনিশ্চিত ভিতের ওপর একটি নির্ভরযোগ্য সংযোগ বানায়:
- সংযোগ আগে: ডেটা পাঠানোর আগে দুই পক্ষ হাত মেলায় — three-way handshake.
- ক্রমিক নম্বর: প্রতিটি byte-এর একটি sequence number থাকে, তাই উল্টোপাল্টা পৌঁছালেও প্রাপক ক্রম ঠিক করে নেয়।
- প্রাপ্তিস্বীকার: প্রাপক জানায় কতটুকু পেয়েছে (acknowledgement, ACK); নির্দিষ্ট সময়ে ACK না এলে প্রেরক আবার পাঠায়।
- গতি নিয়ন্ত্রণ: প্রাপক বা নেটওয়ার্ক হিমশিম খেলে TCP পাঠানোর গতি কমায় (flow ও congestion control).
| দিক | |
| Flag | |
| Seq / Ack | |
| অবস্থা |
- SYN — “কথা বলতে চাই।” ফোন সার্ভারকে একটি SYN (synchronize) packet পাঠায়, সাথে নিজের শুরুর ক্রমিক নম্বর — ধরা যাক ১০০০ (বাস্তবে এলোমেলো বড় একটি সংখ্যা, যাতে কেউ আন্দাজ করতে না পারে)।
- SYN-ACK — “শুনেছি, আমিও প্রস্তুত।” সার্ভার দুটো কাজ একসাথে করে: ফোনের SYN স্বীকার করে (ack = ১০০১, অর্থাৎ “এরপর ১০০১ নম্বর চাই”), আর নিজের শুরুর নম্বর (৫০০০) জানায়।
- ACK — “ঠিক আছে, শুরু করি।” ফোন সার্ভারের নম্বর স্বীকার করে (ack = ৫০০১)। তিনটি বার্তায় দুই পক্ষই জানল অপর পক্ষ জীবিত, আর কোন নম্বর থেকে গোনা শুরু। সংযোগ ESTABLISHED.
- প্রথম ডেটা। এখন ফোন আসল অনুরোধ পাঠায় — HTTPS হলে আগে TLS-এর হাত মেলানো (পর্ব ৪৪), তারপর HTTP অনুরোধ। ধরা যাক ৩০০ byte, নম্বর ১০০১ থেকে ১৩০০.
- প্রাপ্তিস্বীকার আর উত্তর। সার্ভার জানায় ack = ১৩০১ — “১৩০০ পর্যন্ত সব পেয়েছি” — আর সাথে উত্তর পাঠাতে শুরু করে। কোনো packet হারালে ack সেই নম্বরেই আটকে থাকে, আর প্রেরক সেই অংশ আবার পাঠায়। কাজ শেষে FIN packet দিয়ে সংযোগ ভদ্রভাবে বন্ধ হয়।
UDP — পাঠিয়েই খালাস
UDP কোনো হাত মেলায় না, ACK চায় না, হারানো packet আবার পাঠায় না। শুধু port নম্বর যোগ করে packet ছেড়ে দেয়। শুনতে খারাপ, কিন্তু অনেক কাজে এটাই সেরা। ভিডিও কলে ২০০ মিলিসেকেন্ড আগের একটি হারানো ফ্রেম আবার পাঠিয়ে লাভ নেই — ততক্ষণে কথা এগিয়ে গেছে; একটু ঝাপসা ছবিই ভালো, আটকে থাকার চেয়ে। অনলাইন গেম, লাইভ সম্প্রচার আর DNS-এর ছোট প্রশ্ন-উত্তরেও UDP চলে।
TCP — রেজিস্টার্ড ডাক
সংযোগ আগে, প্রাপ্তিস্বীকার, হারালে আবার পাঠানো, ক্রম ঠিক। একটু ধীর, কিন্তু একটি byte-ও হারাবে না।
ওয়েব পেজ, ইমেইল, ফাইল ডাউনলোড, bKash লেনদেনUDP — মাইকে ঘোষণা
সংযোগ নেই, নিশ্চয়তা নেই, ক্রমের দায় নেই। খুব দ্রুত আর হালকা; দরকার হলে অ্যাপ নিজেই কিছু নিয়ন্ত্রণ যোগ করে।
ভিডিও কল, অনলাইন গেম, লাইভ স্ট্রিম, DNS৪ · স্তরে স্তরে — TCP/IP মডেল, OSI মডেল আর খামের ভেতরে খাম
এতক্ষণ যা দেখলেন — Wi-Fi-র তরঙ্গ, MAC, IP, port, TCP, HTTP — সবাই আলাদা আলাদা দায়িত্ব নেয়। এই দায়িত্বগুলো স্তরে (layer) সাজানো, প্রতিটি স্তর শুধু ঠিক নিচের স্তরের সেবা ব্যবহার করে আর ঠিক ওপরের স্তরকে সেবা দেয়। পর্ব ২৩-এ দেখা বিমূর্ততার স্তরের মতোই — ব্রাউজারকে জানতে হয় না packet Wi-Fi দিয়ে যাচ্ছে না ফাইবার দিয়ে।
ইন্টারনেট আসলে চলে TCP/IP মডেল-এ, চার স্তরে। পাঠ্যবইয়ে আর পরীক্ষায় বেশি আসে ISO-র (১৯৮৪) সাত স্তরের OSI মডেল — বাস্তবে কম ব্যবহৃত, কিন্তু আলোচনার সাধারণ ভাষা। নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীরা আজও বলেন “এটা Layer 3-এর সমস্যা”, মানে IP/রাউটিং-এর।
| OSI স্তর | কাজ | উদাহরণ | TCP/IP মডেলে |
|---|---|---|---|
| 7 · Application | ব্যবহারকারীর অ্যাপের protocol | HTTP, DNS, SMTP | Application |
| 6 · Presentation | ডেটার রূপ, এনক্রিপশন, compression | TLS-এর এনক্রিপশন, UTF-8, JPEG | |
| 5 · Session | কথোপকথন শুরু, চালু রাখা, শেষ করা | লগইন সেশন, সংযোগ পুনরায় শুরু | |
| 4 · Transport | অ্যাপ থেকে অ্যাপ, port, নির্ভরযোগ্যতা | TCP, UDP | Transport |
| 3 · Network | ঠিকানা আর নেটওয়ার্ক পেরিয়ে পথ খোঁজা | IP, ICMP, রাউটার | Internet |
| 2 · Data Link | একই নেটওয়ার্কে পাশের যন্ত্রে frame পৌঁছানো | Ethernet, Wi-Fi, MAC, সুইচ | Link (Network Access) |
| 1 · Physical | bit-কে বিদ্যুৎ, আলো বা তরঙ্গে বদলানো | তার, ফাইবার, রেডিও, হাব |
মুখস্থের কৌশল: নিচ থেকে ওপরে (১ → ৭) Physical, Data link, Network, Transport, Session, Presentation, Application — ইংরেজি বাক্য “Please Do Not Throw Sausage Pizza Away”. ওপর থেকে নিচে: “All People Seem To Need Data Processing”.
Encapsulation — খামের ভেতরে খাম
পাঠানোর সময় প্রতিটি স্তর ওপরের স্তরের পুরো জিনিসটিকে নিজের একটি খামে ভরে, খামের গায়ে নিজের দরকারি তথ্য লেখে — এই তথ্যকে বলে header. এই প্রক্রিয়ার নাম encapsulation. প্রাপকের দিকে উল্টো: প্রতিটি স্তর নিজের খাম খুলে ভেতরেরটি ওপরে পাঠায় — decapsulation.
| স্তর | |
| এককের নাম | |
| যা যোগ হলো | |
| চেহারা |
- Application: আসল কথা। ব্রাউজার একটি HTTP অনুরোধ লেখে — “index.html পাতাটি দাও”। এটুকুই ব্যবহারকারীর কাজের ডেটা; বাকি সব এর মোড়ক।
- Transport: TCP-র খাম। TCP যোগ করে প্রেরক ও প্রাপকের port (৫১৭৩৪ → ৪৪৩), ক্রমিক নম্বর, ACK নম্বর আর একটি checksum — কমপক্ষে ২০ byte. এখন এর নাম segment.
- Internet: IP-র খাম। IP যোগ করে প্রেরক ও প্রাপকের IP address আর TTL — একটি গণক, প্রতিটি রাউটার এক কমায়; শূন্য হলে packet ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ভুল পথে অনন্তকাল না ঘোরে। এখন এটি packet.
- Link: স্থানীয় খাম। Wi-Fi বা Ethernet যোগ করে MAC ঠিকানা — প্রাপক এখানে চূড়ান্ত সার্ভার নয়, পাশের রাউটার! শেষে একটি ত্রুটি-যাচাই অংশ (FCS, পর্ব ১৮-এর CRC). এটি frame. প্রতিটি রাউটারে এই বাইরের খাম খুলে নতুন খাম পরানো হয়; ভেতরের IP packet একই থাকে।
- Physical: শুধু bit. নেটওয়ার্ক কার্ড frame-কে bit-এর স্রোতে বদলায় — তামার তারে ভোল্টেজ, ফাইবারে আলো, Wi-Fi-তে রেডিও তরঙ্গ (পর্ব ৩০, ৩১)।
- প্রাপকের দিকে উল্টো যাত্রা। সার্ভারের নেটওয়ার্ক কার্ড bit থেকে frame বানায়, FCS মেলায়, MAC খাম খোলে; IP স্তর দেখে ঠিকানা তার নিজের কি না; TCP port দেখে ডেটা দেয় ৪৪৩-এ অপেক্ষারত ওয়েব সার্ভার প্রোগ্রামকে। সে পায় শুধু মূল HTTP অনুরোধ — যেন খামগুলো কখনো ছিলই না।
এই নকশার জাদু হলো স্বাধীনতা: কাল Wi-Fi 7 এলে শুধু Link স্তর বদলাবে, ব্রাউজার বা TCP-কে কিছু জানতেই হবে না। IP স্তর মাঝখানে একটি সরু কোমরের মতো — নিচে যেকোনো মাধ্যম, ওপরে যেকোনো অ্যাপ, মাঝে সবাই IP বোঝে।
৫ · DNS — নাম থেকে ঠিকানা, ধাপে ধাপে
মানুষ নাম মনে রাখে, যন্ত্র চলে সংখ্যায়। ডোমেইন নাম www.example.com.bd-কে IP address-এ বদলানোর বিশ্বজোড়া ব্যবস্থাই DNS (Domain Name System). এটি একটি বিশাল, ভাগ করা ফোনবুক — কোনো একটি কম্পিউটারে পুরো তালিকা নেই; প্রতিটি অংশের দায়িত্ব আলাদা প্রতিষ্ঠানের।
নামটি ডান থেকে বাঁয়ে পড়তে হয়। সবচেয়ে ডানে একটি অদৃশ্য বিন্দু — root. তারপর TLD .bd (বাংলাদেশের দেশ-কোড ডোমেইন, পরিচালনা করে BTCL), তারপর com.bd, তারপর example, শেষে www. প্রথমবার কোনো নাম খুঁজলে ধাপগুলো এমন:
- নিজের খাতা: ব্রাউজার আর OS আগে নিজেদের cache দেখে — সম্প্রতি খোঁজা হয়ে থাকলে উত্তর সেখানেই।
- Resolver: না পেলে OS জিজ্ঞেস করে একটি recursive resolver-কে — সাধারণত আপনার ISP-র, অথবা আপনি বেছে নিলে Google-এর
8.8.8.8বা Cloudflare-এর1.1.1.1. resolver-এর নিজের cache-এ থাকলে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর। - Root server: না থাকলে resolver একটি root server-কে জিজ্ঞেস করে। root বলে, “পুরো ঠিকানা জানি না, তবে
.bd-এর দায়িত্বে কারা, তাদের ঠিকানা এই।” - TLD server:
.bd-এর সার্ভার বলে, “example.com.bd-এর দায়িত্বns1.example.com.bd-এর।” - Authoritative server: এই ডোমেইনের মালিকের ঠিক করা authoritative name server চূড়ান্ত উত্তর দেয়:
www.example.com.bd=203.0.113.10. - ফেরত ও মনে রাখা: resolver উত্তর আপনার কম্পিউটারে পাঠায়, আর রেকর্ডের TTL-এ লেখা সময় পর্যন্ত (কয়েক মিনিট থেকে এক দিন) মনে রাখে — পরের জনের জন্য আর পুরো পথ ঘুরতে হয় না।
প্রথমবারের পূর্ণ খোঁজে হয়তো ১০০ মিলিসেকেন্ড লাগে; cache থেকে প্রায় শূন্য। নিজের ডোমেইন কিনে কোন রেকর্ডে কী লিখতে হয় (A, AAAA, MX, CNAME), তা দেখবেন পরের পর্বে (পর্ব ৩৪)।
নিজে চালিয়ে দেখুন — ছোট্ট IP টুলকিট
নিচের কোড চারটি ঠিকানাকে বাইনারিতে দেখায় আর private/public চেনে, একটি ঠিকানার /24 আর /26 নেটওয়ার্ক হিসাব করে, আর ওপরের DNS খোঁজের একটি সিমুলেটেড ধাপ-তালিকা ছাপে (আসল নেটওয়ার্কে যায় না — ফল প্রতিবার একই)।
const toBin = ip => ip.split('.').map(o => (+o).toString(2).padStart(8, '0')).join('.');
const toInt = ip => ip.split('.').reduce((n, o) => n * 256 + Number(o), 0);
const toIp = n => [24, 16, 8, 0].map(s => Math.floor(n / 2 ** s) % 256).join('.');
function kind(ip) {
const [a, b] = ip.split('.').map(Number);
if (a === 10 || (a === 172 && b >= 16 && b <= 31) || (a === 192 && b === 168)) return 'private';
return a === 127 ? 'loopback' : 'public';
}
function subnet(ip, p) { // p = prefix length, যেমন 24
const size = 2 ** (32 - p); // এই ব্লকে মোট ঠিকানা
const base = Math.floor(toInt(ip) / size) * size;
console.log(`${ip}/${p}: network ${toIp(base)}, broadcast ${toIp(base + size - 1)}, hosts ${size - 2}`);
}
for (const ip of ['192.168.1.100', '10.0.0.5', '8.8.8.8', '127.0.0.1'])
console.log(ip.padEnd(14), toBin(ip), kind(ip));
subnet('192.168.1.100', 24);
subnet('192.168.1.100', 26);
const trace = [['browser/OS cache', 'miss'], ['resolver (ISP)', 'miss, asks a root server'],
['root server (.)', 'ask the .bd TLD servers'],
['TLD server (.bd)', 'ask ns1.example.com.bd'], ['authoritative', 'www.example.com.bd = 203.0.113.10']];
console.log('DNS: www.example.com.bd');
trace.forEach(([who, says], i) => console.log(` ${i + 1}. ${who.padEnd(17)} -> ${says}`));Run চাপলে প্রথম চার লাইনে প্রতিটি ঠিকানা, তার বাইনারি রূপ আর ধরন আসে: 192.168.1.100 11000000.10101000.00000001.01100100 private, 8.8.8.8 00001000.00001000.00001000.00001000 public; একইভাবে 10.0.0.5 হয় private আর 127.0.0.1 হয় loopback. তারপর 192.168.1.100/24: network 192.168.1.0, broadcast 192.168.1.255, hosts 254 আর 192.168.1.100/26: network 192.168.1.64, broadcast 192.168.1.127, hosts 62. শেষে DNS-এর পাঁচটি ধাপ, যার শেষটি www.example.com.bd = 203.0.113.10. মূল কৌশল: ঠিকানাকে একটি ৩২-bit সংখ্যা ধরে (toInt) ব্লকের আকার দিয়ে ভাগ করে নিচে নামালেই network address; তার সাথে আকার − ১ যোগ করলে broadcast. /26-কে /28 বা /30 করে দেখুন — hosts কত হয়? (203.0.113.x শুধু উদাহরণের জন্য সংরক্ষিত একটি ঠিকানা-ব্লক; কোনো আসল সাইটের নয়।)
৬ · HTTP আর HTTPS — ব্রাউজার আর সার্ভারের কথোপকথন
ঠিকানা পাওয়া গেল, সংযোগও হলো। এবার ব্রাউজার আর সার্ভার কথা বলে HTTP-তে — একটি সরল লেখাভিত্তিক protocol: ব্রাউজার একটি request পাঠায়, সার্ভার একটি response দেয়। একটি request দেখতে মোটামুটি এমন:
GET /admission/result HTTP/1.1 ← method, পথ, সংস্করণ Host: www.example.com.bd ← কোন সাইট (এক সার্ভারে অনেক সাইট থাকে) User-Agent: Mozilla/5.0 ... ← কোন ব্রাউজার Accept-Language: bn, en ← কোন ভাষা পছন্দ HTTP/1.1 200 OK ← status code Content-Type: text/html; charset=UTF-8 ← কী পাঠানো হচ্ছে Content-Length: 5120 <!DOCTYPE html> ... ← পাতার HTML
প্রথম লাইনের পরের “নাম: মান” লাইনগুলো HTTP header — অনুরোধ বা উত্তর সম্পর্কে বাড়তি তথ্য। সবচেয়ে পরিচিত দুটি method: GET — কিছু চাওয়া (পাতা, ছবি); POST — কিছু পাঠানো (ফর্ম জমা, লগইন, ফাইল আপলোড)। আরও আছে PUT, DELETE ইত্যাদি, যা অ্যাপের API-তে বেশি দেখা যায়।
| দল | অর্থ | পরিচিত উদাহরণ |
|---|---|---|
| 2xx | সফল | 200 OK |
| 3xx | অন্য জায়গায় যান | 301 Moved Permanently (ঠিকানা স্থায়ীভাবে বদলেছে) |
| 4xx | আপনার (ক্লায়েন্টের) দিকের সমস্যা | 404 Not Found (পাতা নেই), 403 Forbidden (অনুমতি নেই) |
| 5xx | সার্ভারের দিকের সমস্যা | 500 Internal Server Error, 503 Service Unavailable (ভিড়ে অচল — ভর্তি-ফলের দিন যা দেখা যায়) |
HTTP নিজে কিছু মনে রাখে না (stateless) — প্রতিটি request আলাদা। তাহলে লগইন করে থাকা অবস্থা টিকে থাকে কীভাবে? সার্ভার একটি cookie দেয়, ব্রাউজার পরের প্রতিটি request-এ সেটি ফেরত পাঠায় (পর্ব ১৩)।
HTTPS = HTTP + TLS
সাধারণ HTTP-তে সব লেখা খোলা চিঠির মতো যায় — পথের যেকোনো রাউটার বা একই পাবলিক Wi-Fi-তে বসা কেউ পড়তে বা বদলাতে পারে। HTTPS-এ HTTP চলে TLS-এর একটি এনক্রিপ্ট করা সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে, সাধারণত port ৪৪৩-এ। TLS তিনটি জিনিস দেয়: গোপনীয়তা (কেউ পড়তে পারে না), অখণ্ডতা (পথে বদলালে ধরা পড়ে), আর সার্ভারের পরিচয়ের প্রমাণ (certificate). কীভাবে — চাবি বিনিময় আর certificate-এর পুরো গল্প পর্ব ৪৪-এ।
HTTPS মানে “সংযোগটি এনক্রিপ্ট করা”, “সাইটটি সৎ” নয়। প্রতারকের ভুয়া ব্যাংক-সাইটেও তালার চিহ্ন থাকতে পারে। ঠিকানা-ঘরের ডোমেইন নামটি নিজে মিলিয়ে নিন (পর্ব ১৩, ৪৩)।
সব একসাথে — Enter চাপার পর
পর্ব ১৩-এ এই যাত্রা দেখেছেন এক নজরে। এবার প্রতিটি ধাপে কোন protocol, কোন port, কোন স্তর কাজ করছে, আর সময় কোথায় খরচ হচ্ছে — তা দেখুন। সময়গুলো ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের একটি সার্ভারের জন্য আনুমানিক, শুধু ধারণা দেওয়ার জন্য:
- ব্রাউজার
URLবিশ্লেষণ - DNS
UDP 53নাম → IP - TCP
SYN…হাত মেলানো - TLS
443চাবি ঠিক করা - HTTP
GET /অনুরোধ - পাতা
200 OKআঁকা
scheme = https → port 443
host = www.example.com.bd
path = /
cache-এ পাতা আছে? না → নেটওয়ার্কে যেতে হবে
প্রশ্ন : www.example.com.bd-এর A রেকর্ড? উত্তর : 203.0.113.10 (cache-এ থাকলে প্রায় ০ ms)
→ SYN
← SYN-ACK
→ ACK সংযোগ ESTABLISHED
→ ClientHello (কোন কোন পদ্ধতি জানি) ← ServerHello + certificate ব্রাউজার certificate যাচাই করল → এনক্রিপ্ট করা সুড়ঙ্গ তৈরি
GET / HTTP/1.1
Host: www.example.com.bd
→ TCP segment → IP packet → Wi-Fi frame → বাতাসে
HTTP/1.1 200 OK → HTML HTML-এ লেখা আছে: style.css, app.js, logo.png … → প্রতিটির জন্য আবার request (একই সংযোগে)
- ব্রাউজার ঠিকানা ভাঙে।
httpsদেখে বোঝে port ৪৪৩ আর TLS লাগবে; host আর path আলাদা করে। নিজের cache-এ পাতার তাজা কপি থাকলে এখানেই শেষ — নেটওয়ার্কে যেতেই হয় না। - DNS খোঁজ। অংশ ৫-এর ধাপগুলো — সাধারণত UDP-তে, port ৫৩. resolver-এর cache-এ থাকলে কয়েক মিলিসেকেন্ড, না থাকলে root →
.bd→ authoritative ঘুরে হয়তো ১০০ মিলিসেকেন্ড। - TCP হাত মেলানো। তিনটি বার্তা মানে প্রায় একটি round trip — packet যেতে আর ফিরতে যতক্ষণ। সিঙ্গাপুর হলে প্রায় ৪০ মিলিসেকেন্ড, আমেরিকা হলে ২০০-র বেশি। দূরত্বই এখানে মূল খরচ।
- TLS হাত মেলানো। ব্রাউজার আর সার্ভার এনক্রিপশনের পদ্ধতি আর চাবি ঠিক করে; সার্ভার certificate দেখায়, ব্রাউজার যাচাই করে। TLS 1.3-এ সাধারণত আর একটি round trip.
- HTTP GET. এবার আসল অনুরোধ — অংশ ৪-এর খামের ভেতরে খাম হয়ে বাতাসে, তারপর রাউটারের পর রাউটার পেরিয়ে সার্ভারে। সার্ভার ডেটাবেস থেকে তথ্য এনে পাতা তৈরি করে।
- Response আর আঁকা।
200 OKআর HTML আসে। ব্রাউজার HTML পড়ে দেখে আরও CSS, JavaScript, ছবি লাগবে — সেগুলোর জন্য আরও request (একই সংযোগ আবার ব্যবহার হয়)। সব মিলিয়ে সাধারণত এক সেকেন্ডের কম; ধীর নেটওয়ার্কে কয়েক সেকেন্ড।
৭ · রাউটার, ISP আর ইন্টারনেটের মেরুদণ্ড
প্রতিটি রাউটারের কাছে একটি routing table থাকে — “এই ঠিকানা-ব্লকের packet এই দিকে পাঠাও”। রাউটার পুরো পথ জানে না; সে শুধু জানে পরের ধাপ (next hop) কোনটি। ডাকঘরের মতো: ঢাকার জিপিও জানে চিঠিটি চট্টগ্রামের বস্তায় যাবে, কিন্তু কোন গলির কোন বাড়ি — তা চট্টগ্রামের ডাকঘর জানে। packet-কে এক রাউটার থেকে আরেক রাউটারে পথ দেখানোর পুরো কাজটির নাম routing.
বড় নেটওয়ার্কগুলো (ISP, বড় কোম্পানি) একে অপরকে জানায় “এই ঠিকানা-ব্লকগুলো আমার কাছে পৌঁছানো যায়” — ইন্টারনেটের স্তরে এই কাজের protocol হলো BGP. কোনো পথ নষ্ট হলে কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হয় — packet switching-এর সেই নমনীয়তা।
বাংলাদেশ থেকে বিশ্বে — স্তরগুলো
- আপনার ISP বা মোবাইল অপারেটর: বাসা পর্যন্ত শেষ মাইল — ফাইবার, তার বা মোবাইল টাওয়ার।
- দেশের ভেতরের আদান-প্রদান: দুই দেশি ISP-র গ্রাহকের মধ্যে ডেটা বিদেশ ঘুরে না গিয়ে দেশেই বিনিময়ের জায়গা — IXP (Internet Exchange Point). বাংলাদেশে এর পরিচিত উদাহরণ BDIX; অনেক ISP “BDIX-এ দ্রুত” FTP বা ক্যাশ সার্ভারের কথা বলে এজন্যই।
- বিদেশের দরজা: বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক যায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত IIG (International Internet Gateway) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
- সমুদ্রের নিচের তার: বিশ্বের আন্তর্জাতিক ডেটার বিশাল অংশ যায় সমুদ্রতলের ফাইবার-অপটিক সাবমেরিন কেবল দিয়ে। বাংলাদেশ যুক্ত SEA-ME-WE 4 (কক্সবাজার) আর SEA-ME-WE 5 (কুয়াকাটা) কেবলে, সাথে প্রতিবেশী দেশের ভেতর দিয়ে স্থলপথের কেবল (ITC). একটি কেবল কাটা পড়লে বা মেরামত চললে গতি কমে যায় — খবরে মাঝে মাঝে যা দেখেন।
- বড় কোম্পানির কাছের সার্ভার: YouTube, Facebook-এর মতো সেবা অনেক জনপ্রিয় ভিডিও দেশের ভেতরে বা কাছের ক্যাশ সার্ভারে (CDN) রাখে, তাই সেগুলো বিদেশ না ঘুরেই আসে।
নিচে একটি packet-এর যাত্রা দেখুন, যেমন tracert কমান্ড দেখায় (অংশ ৮)। ঠিকানা আর সময়গুলো উদাহরণমাত্র — আপনার ISP আর গন্তব্যে বদলাবে:
| Hop | |
| কোথায় | |
| সময় (round trip) | |
| TTL-এর খেলা |
- Hop ১ — বাসার রাউটার। আপনার ল্যাপটপ দেখে প্রাপক নিজের নেটওয়ার্কে নেই, তাই packet দেয় default gateway-কে। NAT এখানেই প্রেরক-ঠিকানা বদলায়। এক মিলিসেকেন্ড — একই ঘরের দূরত্ব।
- Hop ২ — ISP-র কাছের রাউটার। ফাইবার বা তার দিয়ে আপনার এলাকার ISP-র যন্ত্রে। এখানে প্রতিটি রাউটারে packet-এর বাইরের খাম (MAC) বদলায়, IP packet একই থাকে।
- Hop ৩ — ISP-র কেন্দ্র। ISP-র routing table বলছে, এই ঠিকানা দেশের বাইরে — অর্থাৎ IIG-র দিকে পাঠাও। গন্তব্য দেশি কোনো ISP-তে হলে এখান থেকে BDIX-এর মতো IXP-তে যেত, বিদেশ ঘুরত না।
- Hop ৪ — বিদেশের দরজা। IIG-র রাউটার থেকে packet ওঠে সাবমেরিন কেবলে (বা স্থলপথের কেবলে)। সময় এখনো কম, কারণ এটি দেশের ভেতরের শেষ রাউটার।
- Hop ৫ — সমুদ্র পেরিয়ে। হঠাৎ ৯ থেকে ৩৮ মিলিসেকেন্ড! সময়ের এই লাফ বলে দেয় packet হাজার কিলোমিটার সমুদ্রতল পেরিয়েছে — ফাইবারে আলোও সেকেন্ডে প্রায় দুই লাখ কিলোমিটারের বেশি যেতে পারে না।
- Hop ৬ — গন্তব্য। সার্ভার নিজে উত্তর দিল, ৪১ মিলিসেকেন্ড। tracert এভাবে কাজ করে: প্রথমে TTL ১ দিয়ে packet পাঠায় — প্রথম রাউটারে TTL শূন্য হয়, সে “সময় শেষ” বার্তা (ICMP) ফেরত দেয়, তাতে নিজের ঠিকানা জানা যায়; তারপর TTL ২, ৩ … যতক্ষণ না গন্তব্য উত্তর দেয়।
কে চালায় ইন্টারনেট?
কেউ একা নয়। প্রতিটি নেটওয়ার্কের মালিক আলাদা — সরকার, কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু কয়েকটি জিনিস বিশ্বজুড়ে একটিই হতে হয়, নইলে ঠিকানা মিলবে না:
- নাম আর সংখ্যার সমন্বয়: ICANN (১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান) আর তার অধীনের IANA কাজ দেখে — root zone, TLD-এর তালিকা, IP ঠিকানার বড় ব্লক আঞ্চলিক রেজিস্ট্রিগুলোকে (যেমন APNIC) দেওয়া, আর port নম্বরের সরকারি তালিকা।
- মান নির্ধারণ: IETF — বিশ্বজুড়ে প্রকৌশলীদের উন্মুক্ত সংগঠন, যেখানে যে কেউ অংশ নিতে পারেন। তাদের প্রকাশিত দলিলের নাম RFC (Request for Comments) — যেমন RFC 791 (IPv4), RFC 9293 (TCP-র বর্তমান বিবরণ)। ওয়েবের HTML-সংক্রান্ত মানগুলো দেখে W3C ও WHATWG.
৮ · নিজের চোখে দেখুন — ipconfig, ping, tracert আর nslookup
পর্ব ২৯-এর কমান্ড লাইন খুলুন (Windows-এ PowerShell বা Command Prompt). নিচের আউটপুটগুলো উদাহরণ (illustrative) — আপনার কম্পিউটারে ঠিকানা আর সংখ্যা আলাদা হবে, আর ঠিক সেটিই আসল শেখার জিনিস।
PS> ipconfig
Wireless LAN adapter Wi-Fi:
IPv4 Address. . . . . . . . . . . : 192.168.0.105
Subnet Mask . . . . . . . . . . . : 255.255.255.0
Default Gateway . . . . . . . . . : 192.168.0.1
PS> ping 8.8.8.8
Reply from 8.8.8.8: bytes=32 time=44ms TTL=116
Reply from 8.8.8.8: bytes=32 time=43ms TTL=116
Packets: Sent = 4, Received = 4, Lost = 0 (0% loss)
PS> nslookup www.example.com.bd
Non-authoritative answer:
Name: www.example.com.bd
Address: 203.0.113.10- ipconfig (Mac/Linux-এ
ip addrবাifconfig): আপনার private ঠিকানা, mask (/24) আর gateway.ipconfig /allদিলে MAC (Physical Address), DHCP চালু কি না আর DNS সার্ভারও দেখা যায়। - ping: একটি ছোট ICMP বার্তা পাঠিয়ে উত্তরের অপেক্ষা।
time=44msহলো round trip — যেতে আর ফিরতে মোট সময়।Lostবেশি হলে সংযোগে সমস্যা। (অনেক সার্ভার নিরাপত্তার কারণে ping-এর উত্তর দেয় না — তাই “Request timed out” মানেই সার্ভার বন্ধ, এমন নয়।) tracert(Mac/Linux-এ traceroute): ওপরের stepper-এর মতো হপের তালিকা। কোনো লাইনে*মানে সেই রাউটার উত্তর দেয়নি — প্রায়ই স্বাভাবিক।- nslookup: DNS-কে সরাসরি প্রশ্ন। “Non-authoritative answer” মানে উত্তরটি এসেছে resolver-এর মাধ্যমে (প্রায়ই তার cache থেকে), সরাসরি মূল authoritative সার্ভার থেকে নয়।
গতি বনাম latency — দুটো আলাদা জিনিস
ISP-র বিজ্ঞাপনের “৫০ Mbps” হলো bandwidth — প্রতি সেকেন্ডে কতটা ডেটা যেতে পারে, পাইপ কত মোটা। Latency (ping-এর ms) হলো একটি packet যেতে-আসতে কত সময় — পাইপ কত লম্বা। বড় ফাইল ডাউনলোডে bandwidth জরুরি; অনলাইন গেম, ভিডিও কল আর অনেক ছোট ফাইলের ওয়েব পেজে latency প্রায়ই বেশি জরুরি। ১০০ Mbps সংযোগেও সার্ভার আমেরিকায় হলে প্রতিটি round trip ২০০ মিলিসেকেন্ডের বেশি — আলোর গতি টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে — এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে:
- IPv4 আর IPv6 ঠিকানা কত bit-এর? IPv4 ৩২ bit (চারটি octet, দশমিকে), IPv6 ১২৮ bit (আটটি hex দল)।
- OSI মডেলের সাত স্তর ক্রমে বলুন। নিচ থেকে: Physical, Data Link, Network, Transport, Session, Presentation, Application; রাউটার Network স্তরের, সুইচ Data Link স্তরের যন্ত্র।
- TCP আর UDP-র পার্থক্য? TCP connection-oriented, নির্ভরযোগ্য, ক্রম ঠিক রাখে; UDP connectionless, দ্রুত, নিশ্চয়তা নেই।
- DNS-এর পূর্ণরূপ ও কাজ? Domain Name System — ডোমেইন নামকে IP address-এ রূপান্তর করে।
- HTTP আর HTTPS-এর ডিফল্ট port? HTTP ৮০, HTTPS ৪৪৩; DNS ৫৩, SMTP ২৫.
আরও গভীরে: subnetting-এর পূর্ণ অঙ্ক, ARP-এর ভেতর, OSPF ও BGP routing, TCP-র sliding window আর congestion control, আর socket দিয়ে নিজের client-server প্রোগ্রাম লেখা — সব ধাপে ধাপে পাবেন আমাদের Computer Networks কোর্সে। শুরু করতে পারেন subnetting ও CIDR বা একটি packet-এর যাত্রা পর্ব দিয়ে।
৯ · AI-এর যুগে — ব্যাখ্যা নিন, আউটপুট আর নম্বর নিজে যাচাই করুন
নেটওয়ার্কিংয়ের ধারণা ব্যাখ্যায় AI চ্যাটবট খুব ভালো: “NAT সহজ উপমায় বোঝাও”, “TCP আর UDP-র তুলনা টেবিলে দাও” — সাধারণত পরিষ্কার উত্তর আসে। কিন্তু তিনটি জায়গায় সাবধান। প্রথমত, AI কমান্ডের আউটপুট বানিয়ে লেখে — দেখতে নিখুঁত, কিন্তু আপনার নেটওয়ার্কের সাথে সম্পর্কহীন। দ্বিতীয়ত, কম পরিচিত port নম্বর বা RFC নম্বর মাঝে মাঝে ভুল বলে, বা বাতিল হয়ে যাওয়া পুরোনো RFC-কে বর্তমান বলে। তৃতীয়ত, subnet-এর অঙ্কে এক bit-এর ভুল পুরো উত্তর বদলে দেয়।
নিচের prompt-টি কপি করে নিজের প্রশ্ন বসান। AI-কে ধাপ দেখাতে আর উৎস বলতে বলা হয়েছে, যাতে আপনি মিলিয়ে নিতে পারেন:
AI-এর উত্তর হাতে পেলে — যাচাইয়ের চেকলিস্ট
ভাবনার প্রশ্ন
প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে কিছুক্ষণ ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন। ইন্টারনেটের প্রতিটি নিয়মের পেছনে আছে মানুষের সিদ্ধান্ত, আপস আর বিতর্ক।
প্র ০১আলাদা আলাদা নেটওয়ার্ক কীভাবে একটি “ইন্টারনেট” হলো? ১৯৭৪ সালের একটি গবেষণাপত্র আর ১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারির “flag day”-এর গল্প কী?
১৯৭০-এর দশকের শুরুতে ARPANET চলছিল, কিন্তু আরও নেটওয়ার্ক জন্ম নিচ্ছিল — রেডিওভিত্তিক packet নেটওয়ার্ক, স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক — প্রত্যেকের নিজস্ব নিয়ম। প্রশ্ন দাঁড়াল: এদের জোড়া দেওয়া যায় কীভাবে, যখন প্রতিটির packet-এর আকার, গতি আর নির্ভরযোগ্যতা আলাদা?
Vint Cerf আর Bob Kahn ১৯৭৪ সালের মে মাসে IEEE-র একটি জার্নালে প্রকাশ করেন “A Protocol for Packet Network Intercommunication”. মূল ভাবনা: প্রতিটি নেটওয়ার্ককে বদলাতে হবে না; তাদের মাঝে থাকবে gateway (আজকের রাউটার), আর সব প্রান্তের কম্পিউটার একটি সাধারণ protocol মানবে। নির্ভরযোগ্যতার দায় নেটওয়ার্কের নয়, দুই প্রান্তের। প্রথমে এটি একটিই protocol ছিল — TCP. পরে বোঝা গেল, সব অ্যাপের নির্ভরযোগ্যতা লাগে না (যেমন কণ্ঠস্বর পাঠানো), তাই একে ভেঙে দুটি করা হয়: ঠিকানা আর পথের জন্য IP, নির্ভরযোগ্যতার জন্য TCP; পাশে এল UDP. এই পর্বের অংশ ৩ আর ৪-এর স্তরভাগ সেখান থেকেই।
১৯৮১ সালে IPv4 আর TCP-র বিবরণ RFC 791 ও RFC 793 হিসেবে প্রকাশিত হয়। তারপর এল এক সাহসী সিদ্ধান্ত: ১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ARPANET-এর সব কম্পিউটারকে পুরোনো NCP protocol ছেড়ে TCP/IP-তে যেতে হবে — একদিনে, সবাইকে। এই দিনটি “flag day” নামে পরিচিত। প্রস্তুতি নিয়ে অনেক মাস কেটেছিল, তবু রূপান্তরে বহু প্রতিষ্ঠান হিমশিম খায়। কিন্তু এরপর থেকে নতুন নেটওয়ার্ক যোগ করা মানে শুধু TCP/IP মানা — অনেকে এই দিনকেই আজকের ইন্টারনেটের জন্মদিন বলেন। Cerf ও Kahn ২০০৪ সালে Turing Award পান।
লক্ষ করুন, এমন একদিনের রূপান্তর তখন সম্ভব হয়েছিল কারণ নেটওয়ার্কে কয়েকশো কম্পিউটার ছিল আর একটি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। আজ শত কোটি যন্ত্রে এমন “সবাই একদিনে বদলাও” অসম্ভব — IPv6-এর ধীর গতির পেছনে এটিও একটি কারণ (পরের প্রশ্ন)।
মূল উপলব্ধি: ইন্টারনেটের শক্তি কোনো একক যন্ত্র নয়, একটি সাধারণ চুক্তি। ভিন্ন ভিন্ন জিনিসকে না বদলে তাদের মাঝে একটি সরল সাধারণ স্তর বসানো — এই নকশাই ইন্টারনেটকে পঞ্চাশ বছর ধরে বাড়তে দিয়েছে।
প্র ০২৪৩০ কোটি ঠিকানা ফুরিয়ে গেল কীভাবে? আর সমাধান IPv6 তো ১৯৯০-এর দশক থেকেই আছে — তবু এত ধীরে ছড়াচ্ছে কেন?
১৯৮০-এর দশকে ৩২ bit ছিল উদার সিদ্ধান্ত — তখন কে ভেবেছিল প্রতিটি মানুষের পকেটে কম্পিউটার থাকবে? তার ওপর শুরুর দিকে ঠিকানা দেওয়া হতো বড় বড় class-এ: একটি Class A ব্লকেই প্রায় এক কোটি ৬৮ লাখ ঠিকানা, আর কিছু প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় এমন পুরো ব্লক পেয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকে ওয়েবের বিস্ফোরণ, তারপর মোবাইল ফোন — চাহিদা লাফিয়ে বাড়ল। ১৯৯৩ সালে CIDR এসে অপচয় কমাল, ১৯৯৬ সালে RFC 1918 private ঠিকানা আর তার সাথে NAT জনপ্রিয় হলো। এগুলো সময় কিনে দিল, সমস্যা মেটাল না।
২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি IANA তার কাছে থাকা শেষ পাঁচটি /8 ব্লক (প্রতিটিতে প্রায় এক কোটি ৬৮ লাখ ঠিকানা) পাঁচটি আঞ্চলিক রেজিস্ট্রিকে একটি করে দিয়ে দেয় — কেন্দ্রীয় ভান্ডার শূন্য। সেই বছরের এপ্রিলেই এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের APNIC তার শেষ ব্লকের কঠোর রেশনিং শুরু করে, কারণ এই অঞ্চলেই চাহিদা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছিল। পরে অন্য অঞ্চলগুলোও একে একে ফুরিয়ে যায়। এখন IPv4 ঠিকানা কেনাবেচা হয় বাজারে, দামও উল্লেখযোগ্য।
IPv6-এর মান ১৯৯০-এর দশকেই তৈরি (প্রথমে RFC 2460, ১৯৯৮; এখন RFC 8200). তাহলে ধীর কেন? প্রথমত, IPv6 IPv4-এর সাথে সরাসরি কথা বলতে পারে না — ভিন্ন protocol. তাই বহু বছর দুটোই একসাথে চালাতে হয় (dual stack), দ্বিগুণ খরচ আর জটিলতা। দ্বিতীয়ত, NAT আর carrier-grade NAT দিয়ে কাজ মোটামুটি চলে যাচ্ছে — ব্যবসার কাছে “চলছে তো!” এক শক্তিশালী যুক্তি। তৃতীয়ত, প্রতিটি রাউটার, ফায়ারওয়াল, সফটওয়্যার আর প্রকৌশলীর প্রশিক্ষণ বদলাতে হয়। মজার ব্যাপার, মোবাইল অপারেটররা অনেক দেশে IPv6-এ এগিয়ে, কারণ কোটি গ্রাহকের জন্য NAT চালানো ব্যয়বহুল। আজ কিছু দেশে ব্যবহারকারীদের অর্ধেকের বেশি IPv6-এ, আবার অনেক দেশে খুব কম।
মূল উপলব্ধি: প্রযুক্তিগতভাবে ভালো সমাধান থাকলেই তা ছড়ায় না। যখন পুরোনো ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য নেই আর রূপান্তরের খরচ একজনের কিন্তু লাভ সবার, তখন পরিবর্তন আসে দশকের পর দশক ধরে।
প্র ০৩DNS-এর আগে কম্পিউটারের নাম কীভাবে খোঁজা হতো? আর পুরো বিশ্বের DNS কেন মাত্র ১৩টি root server-পরিচয়ের ওপর দাঁড়িয়ে?
ARPANET-এর শুরুর দিকে প্রতিটি কম্পিউটারের নাম আর ঠিকানা লেখা থাকত একটিমাত্র ফাইলে — HOSTS.TXT, যেটি রক্ষণাবেক্ষণ করত Stanford Research Institute-এর Network Information Center. নতুন কম্পিউটার যোগ হলে কেউ ফোন বা ইমেইল করে জানাতেন, ফাইলটি হালনাগাদ হতো, আর সবাই নিয়মিত পুরো ফাইল নামিয়ে নিতেন। কয়েকশো কম্পিউটারে চলত; হাজার ছাড়াতেই সমস্যা — ফাইল বিশাল, হালনাগাদ ধীর, একই নামের দাবি নিয়ে বিরোধ, আর একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর সবার নির্ভরতা। এর একটি ছায়া আজও আপনার কম্পিউটারে আছে — Windows-এর hosts ফাইল।
১৯৮৩ সালে Paul Mockapetris একটি নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন (RFC 882 ও 883, পরে ১৯৮৭ সালে RFC 1034 ও 1035) — Domain Name System. মূল ধারণা: নামগুলো গাছের মতো স্তরে সাজানো, আর প্রতিটি শাখার দায়িত্ব (delegation) আলাদা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া। root জানে TLD-দের কথা, .bd জানে তার নিচের ডোমেইনদের কথা, আর প্রতিটি ডোমেইনের মালিক নিজের রেকর্ড নিজে রাখেন। কেউ পুরো তালিকা রাখে না, তবু যে কেউ যেকোনো নাম খুঁজে পায় — সাথে cache থাকায় বোঝাও কম।
root server-এর পরিচয় ১৩টি — a.root-servers.net থেকে m.root-servers.net পর্যন্ত, পরিচালনা করে ১২টি আলাদা প্রতিষ্ঠান। সংখ্যাটি ১৩ কেন? পুরোনো DNS-এর একটি UDP উত্তরে ৫১২ byte-এর বেশি পাঠানো হতো না, আর ১৩টি সার্ভারের নাম-ঠিকানা মোটামুটি সেখানে আঁটে। তবে ১৩টি মানে ১৩টি যন্ত্র নয়! anycast কৌশলে একই IP address পৃথিবীর বহু জায়গা থেকে ঘোষণা করা হয়, আর আপনার প্রশ্ন যায় কাছের কপিতে। আজ সব মিলিয়ে root server-এর কপি হাজারের বেশি, ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বহু দেশে।
DNS-এর নকশা সরল ও কার্যকর হলেও শুরুতে নিরাপত্তা মাথায় ছিল না — ভুয়া উত্তর ঢুকিয়ে মানুষকে ভুল সাইটে পাঠানোর আক্রমণ সম্ভব। পরে DNSSEC (উত্তরে ডিজিটাল সিগনেচার) আর এনক্রিপ্ট করা DNS (DNS over HTTPS) এসেছে।
মূল উপলব্ধি: বিশাল ব্যবস্থা টেকে যখন দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয় আর স্থানীয়ভাবে মনে রাখা (cache) যায়। কেন্দ্রীয় একটি তালিকা সহজ, কিন্তু বড় হলে সেটিই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
প্র ০৪রাউটার কেন এত “বোকা” — শুধু packet সামনে পাঠায়, ভুল হলে ঠিকও করে না? “end-to-end principle” কী, আর এর লাভ-ক্ষতি কী?
১৯৮৪ সালে MIT-র Jerome Saltzer, David Reed আর David Clark একটি প্রভাবশালী গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন: “End-to-End Arguments in System Design”. তাঁদের যুক্তি: কোনো কাজ যদি শেষ পর্যন্ত দুই প্রান্তের অ্যাপকেই নিশ্চিত করতে হয়, তবে নেটওয়ার্কের মাঝখানে সেটি করা বাড়তি খরচ মাত্র। উদাহরণ হিসেবে ফাইল পাঠানো ধরুন। প্রতিটি রাউটার যদি নিখুঁতভাবে ত্রুটি ধরেও, ফাইলটি ডিস্ক থেকে পড়ার সময় বা প্রাপকের মেমরিতে লেখার সময় নষ্ট হতে পারে। তাই প্রাপককে শেষে পুরো ফাইল যাচাই করতেই হবে। মাঝখানের যাচাই বড়জোর গতি বাড়ানোর একটি সহায়তা, নিশ্চয়তা নয়।
এই চিন্তা থেকেই ইন্টারনেটের নকশা: মাঝখানের নেটওয়ার্ক (IP) সরল ও “best effort” — শুধু packet সামনে পাঠায়। বুদ্ধি থাকে দুই প্রান্তে — TCP, অ্যাপ, এনক্রিপশন। এর বিশাল লাভ: নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে নেটওয়ার্কের অনুমতি লাগে না। ওয়েব, ভিডিও কল, অনলাইন গেম, বিটকয়েন — কোনোটির জন্যই বিশ্বের রাউটারগুলো বদলাতে হয়নি; শুধু দুই প্রান্তে নতুন সফটওয়্যার। টেলিফোন নেটওয়ার্ক ছিল উল্টো — বুদ্ধি নেটওয়ার্কে, যন্ত্র বোকা, আর নতুন সেবা আনতে পারত শুধু ফোন কোম্পানি।
তবে বাস্তব ইন্টারনেট পুরোপুরি এই নীতিতে চলে না। NAT প্রান্ত থেকে আসা সংযোগ বদলায়, ফায়ারওয়াল packet-এর ভেতর দেখে আটকায়, ক্যাশ ও CDN মাঝখানে বসে কাজ করে — এদের একসাথে বলে “middlebox”. এগুলো নিরাপত্তা আর গতি দেয়, কিন্তু নতুন protocol চালু করা কঠিন করে তোলে, কারণ অচেনা কিছু দেখলে middlebox আটকে দেয়। এজন্যই Google-এর শুরু করা QUIC (যার ওপর HTTP/3 চলে) নতুন transport protocol হয়েও UDP-র ভেতরে, প্রায় পুরোটাই এনক্রিপ্ট করে চলে — যাতে মাঝখানের যন্ত্র ভেতরে নাক গলাতে না পারে।
মূল উপলব্ধি: মাঝখান সরল রাখলে প্রান্তে উদ্ভাবন অবাধ হয়। প্রতিটি “সুবিধাজনক” বুদ্ধি নেটওয়ার্কের ভেতরে ঢোকালে আজ কাজ সহজ হয়, কিন্তু কাল নতুন কিছু আনার পথ সরু হয় — নকশায় এই দূরদৃষ্টিই সবচেয়ে কঠিন।
প্র ০৫ISP কি সব ট্রাফিককে সমান চোখে দেখবে? আর একটি দেশের পুরো ইন্টারনেট বন্ধ করা যায় কীভাবে — সমাজের কাছে এর মূল্য কী?
Net neutrality (নেট নিরপেক্ষতা) নীতি বলে, ISP সব বৈধ ট্রাফিককে সমানভাবে বহন করবে — কোন সাইট, কোন অ্যাপ বা কে পাঠাচ্ছে দেখে গতি কমানো, আটকানো বা টাকা নিয়ে কাউকে দ্রুত লেন দেওয়া চলবে না। শব্দটি জনপ্রিয় করেন আইনের অধ্যাপক Tim Wu (২০০৩)। পক্ষের যুক্তি: এতে ছোট নতুন কোম্পানিও বড়দের সাথে সমান সুযোগে প্রতিযোগিতা করতে পারে — ঠিক end-to-end নীতির সামাজিক রূপ। বিপক্ষের যুক্তি: নেটওয়ার্ক বানাতে বিশাল বিনিয়োগ লাগে, আর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা (যেমন ভিডিও কলকে অগ্রাধিকার) কখনো কখনো ব্যবহারকারীর জন্যই ভালো। বিভিন্ন দেশে আইন ভিন্ন, আর একই দেশে সরকার বদলালে নীতিও বদলেছে। “নির্দিষ্ট অ্যাপে ফ্রি ডেটা” প্যাকেজও এই বিতর্কের অংশ — গ্রাহকের কাছে সুবিধা, কিন্তু অন্য অ্যাপের জন্য অসম প্রতিযোগিতা।
এর চরম রূপ ইন্টারনেট বন্ধ (shutdown). এই পর্ব থেকেই বুঝবেন প্রযুক্তিগতভাবে এটি কীভাবে সম্ভব: একটি দেশের আন্তর্জাতিক ট্রাফিক যায় সীমিত কয়েকটি gateway (বাংলাদেশে IIG) আর অল্প কয়েকটি কেবল দিয়ে, আর দেশের ISP ও মোবাইল অপারেটররা লাইসেন্সের শর্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ মানতে বাধ্য। নির্দেশ এলে মোবাইল ডেটা বন্ধ, BGP ঘোষণা প্রত্যাহার, বা নির্দিষ্ট সাইটের DNS ও IP আটকানো — সবই সম্ভব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশে আন্দোলন, নির্বাচন বা পরীক্ষার সময় এমন বন্ধ দেখা গেছে। বাংলাদেশেও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অস্থিরতার সময় কয়েক দিন দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ ছিল, মোবাইল ডেটা তার পরেও কিছুদিন বন্ধ থাকে।
এর মূল্য কেবল বিনোদন হারানো নয়। মোবাইল ব্যাংকিং, ফ্রিল্যান্সারদের আয়, ই-কমার্স, রপ্তানির যোগাযোগ, হাসপাতালের অনলাইন সেবা, আর প্রিয়জনের খবর পাওয়া — সবই থেমে যায়। পক্ষে সাধারণত বলা হয় গুজব আর সহিংসতা ঠেকানোর কথা; বিপক্ষে বলা হয় তথ্য পাওয়ার অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলো ঢালাও shutdown-কে মানবাধিকারের জন্য উদ্বেগজনক বলেছে।
মূল উপলব্ধি: ইন্টারনেট প্রযুক্তিতে বিকেন্দ্রীকৃত, কিন্তু প্রতিটি দেশের সীমানায় তা কয়েকটি সরু দরজা দিয়ে ঢোকে। কে সেই দরজা কখন, কোন নিয়মে বন্ধ করতে পারবে — এটি প্রকৌশলের নয়, আইন, জবাবদিহি আর নাগরিকের সিদ্ধান্তের প্রশ্ন।
অনুশীলন
প্রথম দুটি খাতা-কলমের হিসাব; তৃতীয়টি নিজের কম্পিউটারে; চতুর্থটি সমস্যা চেনার অনুশীলন।
-
ঠিকানা পড়ুন:
172.20.5.200ঠিকানাটি বাইনারিতে লিখুন। এটি private না public? পুরোনো class পদ্ধতিতে কোন class-এর?১৭২ = 10101100, ২০ = 00010100, ৫ = 00000101, ২০০ = 11001000 →
10101100.00010100.00000101.11001000.private — কারণ
172.16.0.0থেকে172.31.255.255ব্লকের ভেতরে (দ্বিতীয় octet ১৬–৩১, এখানে ২০)। প্রথম octet ১৭২, যা ১২৮–১৯১-এর মধ্যে, তাই পুরোনো পদ্ধতিতে Class B. ওপরের JavaScript টুলকিটের ঠিকানা-তালিকায় এটি বসিয়ে মিলিয়ে নিতে পারেন। -
/26 হিসাব: একটি যন্ত্রের ঠিকানা
192.168.10.77/26. এর network address, broadcast address, ব্যবহারযোগ্য host-এর সংখ্যা আর ব্যবহারযোগ্য ঠিকানার পরিসর বের করুন।/26 মানে host-এর জন্য ৬ bit → প্রতি ব্লকে ৬৪টি ঠিকানা। শেষ octet-এর ব্লকগুলো: ০–৬৩, ৬৪–১২৭, ১২৮–১৯১, ১৯২–২৫৫. ৭৭ পড়ে ৬৪–১২৭ ব্লকে।
network
192.168.10.64, broadcast192.168.10.127, ব্যবহারযোগ্য host ৬৪ − ২ = ৬২টি, পরিসর192.168.10.65থেকে192.168.10.126. mask দশমিকে255.255.255.192(শেষ octet 11000000 = ১৯২)। -
নিজের নেটওয়ার্ক: PowerShell-এ
ipconfig /all, তারপরping 8.8.8.8আরtracert 8.8.8.8চালান। আপনার IPv4 ঠিকানা private না public? gateway কোনটি? DHCP চালু? tracert-এ কোন হপে সময় হঠাৎ অনেক বেড়েছে, আর কেন হতে পারে?বাসা বা অফিসে প্রায় সবসময় private ঠিকানা দেখবেন (
192.168.x.xবা10.x.x.x) — কারণ রাউটার NAT চালাচ্ছে। gateway সাধারণত রাউটারের ঠিকানা, যেমন192.168.0.1. “DHCP Enabled: Yes” থাকার কথা। ফোনের হটস্পট দিয়ে চালালে ঠিকানা অন্য ব্লকের হতে পারে।tracert-এ প্রথম কয়েকটি হপ কয়েক মিলিসেকেন্ড; যে হপে সময় হঠাৎ কয়েক দশ মিলিসেকেন্ড বাড়ে, সাধারণত সেখানে packet দেশ ছেড়ে দূরের পথ (কেবল) পেরিয়েছে। গন্তব্য দেশের ভেতরের ক্যাশ সার্ভার হলে পুরো পথই কম সময়ের হতে পারে। কিছু লাইনে
*দেখলে ঘাবড়াবেন না — সেই রাউটার উত্তর দেয় না। -
সমস্যা কোন স্তরে? প্রতিটি লক্ষণের জন্য বলুন কোন protocol বা স্তরে সমস্যা: (ক) ব্রাউজার বলছে “This site can’t be reached — DNS_PROBE_FINISHED_NXDOMAIN”; (খ) পাতা এসেছে কিন্তু লেখা “404 Not Found”; (গ)
ping 8.8.8.8-এ উত্তর আসে, কিন্তু কোনো সাইটের নাম দিয়ে খোলা যায় না; (ঘ) Wi-Fi-তে যুক্ত, কিন্তু ঠিকানা169.254.x.x.(ক) DNS — নামটির কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি; বানান ভুল বা ডোমেইনই নেই। (খ) HTTP (Application স্তর) — সার্ভারে পৌঁছানো আর কথা বলা দুটোই হয়েছে, শুধু ওই পথে পাতা নেই। (গ) IP পর্যন্ত ঠিক আছে (ঠিকানা দিয়ে পৌঁছানো যাচ্ছে), কিন্তু DNS কাজ করছে না — DNS সার্ভারের সেটিং দেখুন।
(ঘ) DHCP — যন্ত্রটি রাউটারের কাছ থেকে ঠিকানা পায়নি, তাই Windows নিজে থেকে
169.254-এর একটি “link-local” ঠিকানা বসিয়েছে; রাউটার রিস্টার্ট বা আবার যুক্ত হয়ে দেখুন। ধাপে ধাপে সমস্যা খোঁজার পূর্ণ পদ্ধতি পর্ব ৪৯-এ।
নিজেকে যাচাই করুন
ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।
ক্রমএকটি ডোমেইন নাম প্রথমবার খোঁজার সময় DNS-এর ধাপগুলো সাজান (▲▼ চেপে সরান)
- 💻 ব্রাউজার ও OS নিজের cache দেখে
- 🏢 recursive resolver-কে জিজ্ঞেস করা হয়
- 🌐 resolver root server-কে জিজ্ঞেস করে
- 🇧🇩 TLD server (.bd) দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভারের নাম জানায়
- 📗 authoritative name server চূড়ান্ত IP address দেয়
- 🗂️ resolver উত্তর ফেরত দেয় আর TTL পর্যন্ত মনে রাখে
একটি IPv6 ঠিকানা কত bit-এর?
- 32 bit
- 64 bit
- 128 bit
- 48 bit
নিচের কোন IPv4 ঠিকানাটি private ঠিকানা, যা ইন্টারনেটে সরাসরি রাউট হয় না?
- 8.8.8.8
- 192.168.10.5
- 172.32.1.1
- 203.112.5.9
লাইভ ভিডিও কলের জন্য সাধারণত UDP বেশি উপযুক্ত কেন?
- কারণ UDP নিজে থেকেই ডেটা এনক্রিপ্ট করে
- কারণ UDP প্রতিটি packet পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দেয়
- কারণ UDP-র three-way handshake দ্রুত
- কারণ হারানো packet আবার পাঠানোর অপেক্ষা না করায় দেরি কম হয়
OSI মডেলের কোন স্তরে রাউটার IP address দেখে packet-এর পথ ঠিক করে?
- Physical (Layer 1)
- Data Link (Layer 2)
- Network (Layer 3)
- Transport (Layer 4)
ওয়েব সার্ভারের কাছ থেকে HTTP status code 404 এলে এর অর্থ কী?
- চাওয়া পাতা বা ফাইলটি সার্ভারে পাওয়া যায়নি
- সার্ভারের ভেতরে প্রোগ্রামে ত্রুটি হয়েছে
- অনুরোধ সফল হয়েছে
- ডোমেইন নামের IP address পাওয়া যায়নি
/26 prefix-এর (subnet mask 255.255.255.192) একটি নেটওয়ার্কে কতটি ঠিকানা যন্ত্রকে দেওয়া যায়?
- 64
- 62
- 254
- 26
শব্দকোষ
লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:
মনে রাখুন
- ইন্টারনেট = নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক, যারা TCP/IP মানে; ডেটা packet-এ ভাগ হয়ে রাউটারের পর রাউটার পেরিয়ে যায় (packet switching).
- IPv4 ৩২ bit (চার octet, ০–২৫৫), IPv6 ১২৮ bit; বাসায় private ঠিকানা + NAT; DHCP ঠিকানা দেয়; /24-এ ২৫৪টি, /26-এ ৬২টি host; MAC স্থানীয়, IP বিশ্বজোড়া।
- Port বলে কোন অ্যাপ (৮০, ৪৪৩, ৫৩, ২৫); TCP handshake, ACK আর ক্রম দিয়ে নির্ভরযোগ্য; UDP দ্রুত, নিশ্চয়তাহীন।
- OSI-র সাত স্তর (Physical → Application), TCP/IP-র চার; পাঠাতে প্রতিটি স্তর header যোগ করে (encapsulation), প্রাপক উল্টো ক্রমে খোলে।
- DNS: cache → resolver → root → TLD → authoritative; HTTP: GET/POST, 200/404/500; HTTPS = HTTP + TLS. ping, tracert, nslookup, ipconfig দিয়ে নিজে যাচাই করুন।
আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ
- পর্ব ৩৪ · ডোমেইন, হোস্টিং আর ওয়েবসাইট প্রকাশপরবর্তী পর্বডোমেইন কেনা, DNS রেকর্ড আর হোস্টিং — নিজের সাইট অনলাইনে।
- পর্ব ৩২ · নেটওয়ার্ক — LAN, MAN, WAN, টপোলজি আর ডিভাইসআগের পর্বরাউটার, সুইচ আর নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ।
- কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস ও ICT · কোর্স হোম৫৫টি পর্বপুরো কোর্সের রোডম্যাপ — কোন পর্ব কখন।
- Computer Networksগভীরে যানsubnetting, routing, TCP-র ভেতর আর socket প্রোগ্রামিং — পূর্ণ কোর্স।
- JavaScript প্রোগ্রামিংপাশের ট্র্যাকfetch দিয়ে নিজের কোড থেকে HTTP request পাঠানো শিখুন।