সরাসরি পর্বে যান
পর্ব ৩২ · ৫৫-এর মধ্যে · মডিউল ৫

নেটওয়ার্ক — LAN, MAN, WAN, টপোলজি আর ডিভাইস

Computer Networks — PAN, LAN, MAN, WAN, Client–Server vs Peer-to-Peer, Topologies and Network Devices

Taught in Bangla, this lesson covers computer networks: why we network, classification by reach into PAN, LAN, CAN, MAN and WAN, client-server versus peer-to-peer, network topologies such as bus, star, ring and mesh, devices like hubs, switches, routers and access points, cables, connectors and speeds, planning a small office LAN, and checking network security yourself.

এই পর্বে যা শিখবেন

  • নেটওয়ার্ক কী, কেন দরকার, আর এলাকাভেদে PAN, LAN, CAN, MAN, WAN-এর পার্থক্য
  • client-server আর peer-to-peer নেটওয়ার্কের সুবিধা-অসুবিধা; intranet, extranet আর internet
  • bus, ring, star, mesh, tree আর hybrid টপোলজি — ছবি, তুলনা, আর একটি তার কাটলে কী হয়
  • NIC, hub, switch, router, modem/ONU, repeater, bridge, gateway আর access point — কে কোন কাজ করে
  • UTP তার, RJ-45, Ethernet-এর গতি, একটি ছোট অফিসের LAN সাজানো আর router-এর প্রাথমিক নিরাপত্তা

১ · নেটওয়ার্ক কী, আর কেন দরকার

একটি স্কুলের কম্পিউটার ল্যাব ভাবুন। ত্রিশটি কম্পিউটার, কিন্তু প্রিন্টার একটি, ইন্টারনেট সংযোগ একটি। প্রত্যেক কম্পিউটারের জন্য আলাদা প্রিন্টার আর আলাদা ইন্টারনেট লাইন কিনলে খরচ ত্রিশ গুণ। আর কেউ একটি ফাইল শিক্ষককে দিতে চাইলে পেনড্রাইভ নিয়ে টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হতো। সমাধান — কম্পিউটারগুলোকে জুড়ে দেওয়া।

মূল ধারণা

দুই বা তার বেশি ডিভাইস যখন তার বা তারবিহীন মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ডেটা আর সম্পদ (ফাইল, প্রিন্টার, ইন্টারনেট) ভাগ করে, তখন তাকে বলে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। নেটওয়ার্ককে তিনভাবে চেনা যায়: কত দূর ছড়ায় (PAN, LAN, MAN, WAN), কে কাকে সেবা দেয় (client-server বা peer-to-peer), আর কোন আকারে সাজানো (টপোলজি)। আর প্রতিটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয় এমন কিছু যন্ত্র দিয়ে, যাদের প্রত্যেকের একটিই প্রধান কাজ — জোড়া দেওয়া, ঠিক জায়গায় পাঠানো, অথবা অনুবাদ করা।

উপমা: একটি গ্রামের কথা ভাবুন। বাড়িগুলো হলো কম্পিউটার, রাস্তা হলো তার বা Wi-Fi, আর হাটের দিনে সবাই একই বাজারে যায় — সেটা ভাগ করা সম্পদ। গ্রামের ভেতরের রাস্তা এক জিনিস (LAN), উপজেলা শহরের সাথে সংযোগ সড়ক আরেক জিনিস (MAN), আর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আরও বড় (WAN). রাস্তার মোড়ের ট্রাফিক পুলিশ ঠিক করেন কোন গাড়ি কোন দিকে যাবে — নেটওয়ার্কে সেই কাজ করে switch আর router.

নেটওয়ার্ক কেন — পাঁচটি কারণ

  • সম্পদ ভাগাভাগি: একটি প্রিন্টার, একটি স্ক্যানার, একটি ইন্টারনেট সংযোগ সবাই ব্যবহার করেন — খরচ কমে।
  • ফাইল ও ডেটা ভাগাভাগি: ব্যাংকের সব শাখা একই গ্রাহক-ডেটাবেস দেখে; আপনি যেকোনো শাখা থেকে টাকা তুলতে পারেন।
  • যোগাযোগ: ইমেইল, চ্যাট, ভিডিও কল — সবই নেটওয়ার্কের ওপর চলে।
  • কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও ব্যাকআপ: অফিসের সব গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এক জায়গায় রাখলে প্রতিদিন একবারে ব্যাকআপ নেওয়া যায়, কে কী দেখতে পারবেন তা-ও এক জায়গা থেকে ঠিক করা যায়।
  • নির্ভরযোগ্যতা: একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে আরেকটি থেকে একই ডেটা নিয়ে কাজ চালানো যায়।

নেটওয়ার্কের প্রতিটি যুক্ত ডিভাইসকে বলে node — কম্পিউটার, ফোন, প্রিন্টার, এমনকি switch বা router-ও node. দুই node-এর সংযোগকে বলে link. সংযোগের মাধ্যম কী কী (তামার তার, ফাইবার অপটিক, রেডিও তরঙ্গ) আর ডেটা কোন দিকে চলে (simplex, half-duplex, full-duplex) — তা দেখেছেন পর্ব ৩০-এ; Wi-Fi আর মোবাইল নেটওয়ার্ক পর্ব ৩১-এ। এই পর্বে আমরা দেখব পুরো নেটওয়ার্ক কীভাবে সাজানো হয়।

২ · কত দূর ছড়ায় — PAN, LAN, CAN, MAN আর WAN

নেটওয়ার্কের সবচেয়ে প্রচলিত শ্রেণিবিভাগ হলো ভৌগোলিক বিস্তার অনুযায়ী। HSC ICT বইয়ে এই ভাগটিই প্রথমে আসে।

  • PAN (Personal Area Network): একজন মানুষের চারপাশের কয়েক মিটার। ফোনের সাথে Bluetooth ইয়ারফোন আর স্মার্টওয়াচ, ল্যাপটপের সাথে USB-তে যুক্ত ফোন — সবই PAN.
  • LAN (Local Area Network): একটি কক্ষ, একটি ভবন বা একটি অফিস। স্কুলের কম্পিউটার ল্যাব, ব্যাংকের একটি শাখা, আপনার বাসার Wi-Fi — সবই LAN. সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠান নিজেই এর মালিক, গতি বেশি, আর খরচ কম।
  • CAN (Campus Area Network): কয়েকটি ভবনের একটি ক্যাম্পাস — একটি বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল বা কারখানা-চত্বর। প্রতিটি ভবনের LAN ফাইবার অপটিক তার দিয়ে একটি কেন্দ্রীয় অংশে যুক্ত থাকে। অনেক বইয়ে CAN-কে LAN-এর বড় রূপ হিসেবেই ধরা হয়।
  • MAN (Metropolitan Area Network): একটি শহর বা তার বড় অংশ। ঢাকার ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক, শহরজুড়ে ফাইবার টেনে বাসায় বাসায় ইন্টারনেট দেওয়া একটি ISP-এর নেটওয়ার্ক, বা একটি ব্যাংকের শহরের সব শাখা জোড়া নেটওয়ার্ক — MAN-এর উদাহরণ।
  • WAN (Wide Area Network): দেশ, মহাদেশ বা পুরো পৃথিবী। একটি ব্যাংকের সারা দেশের শাখা জোড়া নেটওয়ার্ক, মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক, আর সবচেয়ে বড় উদাহরণ — ইন্টারনেট, যা আসলে পৃথিবীর হাজার হাজার নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক।
ধরনবিস্তার (আনুমানিক)মালিক কেসাধারণ গতিউদাহরণ
PANকয়েক মিটার (প্রায় ১০ মিটার)ব্যক্তি নিজেকম থেকে মাঝারিফোন + Bluetooth ইয়ারফোন
LANএকটি কক্ষ বা ভবন, কয়েকশো মিটারপ্রতিষ্ঠান বা পরিবারবেশি — 100 Mbps থেকে 10 Gbpsস্কুল ল্যাব, অফিস, বাসার Wi-Fi
CANএকটি ক্যাম্পাস, কয়েক কিলোমিটারএকটি প্রতিষ্ঠানবেশি (ফাইবারের মূল সংযোগ)বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল চত্বর
MANএকটি শহর, কয়েক দশ কিলোমিটারISP, ক্যাবল অপারেটর, বড় প্রতিষ্ঠানমাঝারি থেকে বেশিশহরের ক্যাবল টিভি বা ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক
WANদেশ, মহাদেশ, পৃথিবীটেলিকম কোম্পানি, অনেক মালিক মিলেলিংকভেদে আলাদা; দূরত্বের জন্য latency বেশিইন্টারনেট, ব্যাংকের দেশজোড়া নেটওয়ার্ক

সীমারেখাগুলো আনুমানিক — বইভেদে সংখ্যা কিছুটা আলাদা লেখা থাকে। মনে রাখার সহজ নিয়ম: ছোট এলাকা → নিজের মালিকানা, বেশি গতি, কম খরচ; বড় এলাকা → ভাড়া করা লাইন, কম গতি-প্রতি-টাকা, বেশি latency.

৩ · কে কাকে সেবা দেয় — client-server আর peer-to-peer

দ্বিতীয় শ্রেণিবিভাগ নেটওয়ার্কের গঠন-নীতি (architecture) অনুযায়ী: কম্পিউটারগুলো কি সবাই সমান, নাকি একজন “দোকানদার” আর বাকিরা “ক্রেতা”?

Client-server

এক বা একাধিক শক্তিশালী server সেবা দেয়, আর বাকি কম্পিউটার (client) সেবা চায়। আপনি ব্রাউজারে ওয়েবসাইট খুললে আপনার ফোন client, ওয়েবসাইটের কম্পিউটার server. ইমেইল, অনলাইন ব্যাংকিং, স্কুলের রেজাল্ট বা ফি-র সফটওয়্যার — সবই client-server.

দোকান আর ক্রেতা

Peer-to-peer (P2P)

কোনো আলাদা server নেই; প্রতিটি কম্পিউটার (peer) একই সাথে সেবা দেয় আর নেয়। দুই-তিনটি কম্পিউটারের ছোট অফিসে একে অপরের শেয়ার করা ফোল্ডার খোলা, BitTorrent-এর মতো ফাইল আদান-প্রদান, ফোনের Nearby Share — peer-to-peer.

বন্ধুদের বই অদলবদল
বিষয়Client-serverPeer-to-peer
নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাকেন্দ্রীয় — এক জায়গা থেকে অনুমতি, পাসওয়ার্ড আর ব্যাকআপছড়ানো — প্রত্যেক কম্পিউটারের মালিক নিজের সেটিং ঠিক করেন
খরচserver, তার সফটওয়্যার আর দক্ষ লোক লাগে — বেশিআলাদা কিছু লাগে না — কম
বড় হওয়ার ক্ষমতাহাজার হাজার client সামলানো যায়ছোট নেটওয়ার্কে ভালো; বড় হলে বিশৃঙ্খল
দুর্বল জায়গাserver বন্ধ হলে সেবা বন্ধ (single point of failure)কোনো একক কেন্দ্র নেই — একজন বন্ধ হলেও বাকিরা চলে
উদাহরণওয়েবসাইট, ইমেইল, ব্যাংকিং, স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমছোট অফিসে ফোল্ডার শেয়ার, ফাইল-শেয়ারিং অ্যাপ

বাস্তবে অনেক সেবা দুটোর মিশ্রণ (hybrid) — যেমন একটি ভিডিও-কল অ্যাপ হয়তো লগইন আর বন্ধু-তালিকার জন্য server ব্যবহার করে, কিন্তু কল শুরু হলে সম্ভব হলে দুই ফোনের মধ্যে সরাসরি ডেটা পাঠায়।

Intranet, extranet আর internet — এক লাইনে

  • Intranet: একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরের ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ও ওয়েবসাইট — শুধু কর্মীরা দেখতে পান (যেমন অফিসের ছুটির আবেদন পোর্টাল)।
  • Extranet: intranet-এর একটি অংশ, যা বাছাই করা বাইরের লোক — সরবরাহকারী, এজেন্ট, অংশীদার — পাসওয়ার্ড দিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
  • Internet: সবার জন্য খোলা, পৃথিবীজোড়া নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক।

৪ · টপোলজি — নেটওয়ার্কের আকার

নেটওয়ার্কের node-গুলো তার দিয়ে কোন নকশায় জোড়া, তাকে বলে টপোলজি. একই দশটি কম্পিউটার এক লাইনে, বৃত্তে বা একটি কেন্দ্রের চারপাশে জোড়া যায় — আর প্রতিটি নকশার খরচ, গতি আর বিপদ আলাদা। নিচের ছবিতে ছয়টি প্রধান টপোলজি:

ছয়টি প্রধান নেটওয়ার্ক টপোলজি

Bus, Ring, Star, Mesh (full), Tree, Hybrid (star-bus)

ছয়টি নেটওয়ার্ক টপোলজির চিত্র Bus-এ সব কম্পিউটার একটি মূল তারে যুক্ত, দুই প্রান্তে terminator. Ring-এ পাঁচটি কম্পিউটার একটি বৃত্তে। Star-এ চারটি কম্পিউটার মাঝের একটি switch-এ যুক্ত। Full mesh-এ চারটি কম্পিউটারের প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে যুক্ত, মোট ছয়টি তার। Tree-তে একটি মূল switch থেকে দুটি শাখা, প্রতিটি শাখায় দুটি কম্পিউটার। Hybrid-এ একটি মূল তারে দুটি switch, প্রতিটির নিচে দুটি কম্পিউটার। Bus Ring Star Mesh (full) Tree Hybrid (star-bus)
ছবি ৩২.১ — নীল বৃত্ত = কম্পিউটার বা অন্য node, সবুজ আয়তক্ষেত্র = hub বা switch, কালো ছোট দাগ = bus-এর দুই প্রান্তের terminator.

Bus — এক লাইনের রাস্তা

Bus টপোলজিতে সব কম্পিউটার একটি মূল তারে (backbone) যুক্ত থাকে, ঠিক যেমন একটি রাস্তার দুই পাশে বাড়ি। একজন ডেটা পাঠালে সেটি পুরো তার ধরে সবার কাছে যায়; যার ঠিকানা মেলে, শুধু সে নেয়। তারের দুই প্রান্তে terminator থাকে, যাতে সংকেত প্রান্তে ধাক্কা খেয়ে ফিরে না আসে। ১৯৮০-এর দশকের coaxial তারের Ethernet ছিল bus. দুজন একসাথে পাঠালে সংকেত মিশে নষ্ট হয় — একে বলে collision.

Ring — বৃত্তে হাতবদল

Ring টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার দুই পাশের দুজনের সাথে যুক্ত, মিলে একটি বৃত্ত। ডেটা সাধারণত এক দিকে ঘুরে ঘুরে প্রাপকের কাছে পৌঁছায়, পথে প্রতিটি কম্পিউটার সংকেত আবার শক্তিশালী করে পাঠায়। পুরোনো IBM Token Ring-এ একটি “token” বৃত্তে ঘুরত — যার হাতে token, শুধু সে পাঠাতে পারত, তাই collision হতো না। একক ring-এ একটি লিংক ভাঙলে পুরো বৃত্ত থেমে যায়; তাই বড় নেটওয়ার্কে দুই দিকে চলা দুটি ring (dual ring) ব্যবহার হতো।

Star — একটি কেন্দ্র, অনেক শাখা

Star টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার আলাদা তারে একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসে — আগে hub, এখন switch — যুক্ত। একটি তার কাটলে শুধু সেই কম্পিউটার বিচ্ছিন্ন হয়, নতুন কম্পিউটার জোড়া বা সমস্যা খোঁজা সহজ। দুর্বলতা একটাই: কেন্দ্রের switch নষ্ট হলে সবাই বিচ্ছিন্ন। আজকের প্রায় সব অফিস, স্কুল আর বাসার তারের নেটওয়ার্ক star; বাসার Wi-Fi-ও আসলে star — কেন্দ্রে router, শাখাগুলো অদৃশ্য রেডিও সংযোগ।

Mesh — সবার সাথে সবার রাস্তা

Mesh টপোলজিতে node-গুলোর মধ্যে একাধিক বিকল্প পথ থাকে। Full mesh-এ প্রত্যেক node প্রত্যেকের সাথে সরাসরি যুক্ত; partial mesh-এ শুধু গুরুত্বপূর্ণ node-গুলোর মধ্যে একাধিক পথ। একটি পথ বন্ধ হলে ডেটা অন্য পথে যায় — তাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। কিন্তু full mesh-এ তার লাগে অনেক:

n টি node-এর full mesh-এ link-এর সংখ্যা = n(n − 1) ÷ 2
প্রতিটি node-এ port লাগে n − 1 টি

কারণটা সহজ: প্রত্যেক node বাকি (n − 1) জনের সাথে যুক্ত, মোট n(n − 1) প্রান্ত; কিন্তু প্রতিটি তার দুজনের মধ্যে, তাই দুবার গোনা হয়েছে — ২ দিয়ে ভাগ। ৪টি node-এ ৬টি তার, ৬টিতে ১৫টি, ১০টিতে ৪৫টি, আর ৫০টিতে ১,২২৫টি! তাই full mesh দেখা যায় শুধু অল্প কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের মধ্যে — যেমন ISP আর বড় প্রতিষ্ঠানের মূল router-গুলোর মধ্যে (সাধারণত partial mesh), আর আধুনিক Wi-Fi mesh সিস্টেমে, যেখানে বাসার কয়েকটি mesh ইউনিট রেডিওতে একে অপরের সাথে যুক্ত থেকে বড় বাড়িজুড়ে সিগন্যাল ছড়ায়।

Tree আর hybrid

Tree টপোলজি হলো star-এর ওপর star — একটি মূল switch থেকে প্রতিটি তলার switch, সেখান থেকে কম্পিউটার। একে extended star বা hierarchical-ও বলে; বড় অফিস আর ক্যাম্পাসে এটাই সবচেয়ে প্রচলিত। মূল শাখা কাটলে তার নিচের পুরো অংশ বিচ্ছিন্ন হয়। দুই বা তার বেশি টপোলজি মিলিয়ে বানালে তাকে বলে hybrid টপোলজি — যেমন কয়েকটি star একটি bus বা ring দিয়ে জোড়া। ইন্টারনেট নিজেই এক বিশাল hybrid.

টপোলজিসুবিধাঅসুবিধাএকটি তার বা node নষ্ট হলে
Busতার সবচেয়ে কম, সস্তা, সহজে বসানোcollision বেশি, node বাড়লে ধীর, সমস্যা খোঁজা কঠিনমূল তার কাটলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল; একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে বাকিরা চলে
Ringপ্রত্যেকে পালা পায়, collision নেই (token), ভারী ব্যবহারেও স্থিরnode যোগ-বিয়োগে পুরো ring থামাতে হয়; ধীর হাতবদলএকক ring-এ একটি লিংক বা node ভাঙলে পুরো ring অচল (dual ring-এ বাঁচে)
Starসহজে বসানো ও বাড়ানো, সমস্যা খোঁজা সহজ, গতি ভালোতার বেশি লাগে; কেন্দ্রীয় ডিভাইস লাগেএকটি তার কাটলে শুধু সেই node; কেন্দ্রের switch নষ্ট হলে সবাই
Meshসবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, বিকল্প পথ, ট্রাফিক ভাগ হয়তার আর port অনেক — ব্যয়বহুল, বসানো জটিলঅন্য পথে ডেটা যায় — প্রায় কিছুই হয় না
Treeবড় নেটওয়ার্ককে ভাগে ভাগে সাজানো যায়, বাড়ানো সহজমূল switch আর মূল তারের ওপর নির্ভরশীলযে শাখা কাটল, তার নিচের সবাই বিচ্ছিন্ন
Hybridপ্রয়োজনমতো নমনীয়, প্রতিটি অংশে সেরা নকশানকশা ও ব্যবস্থাপনা জটিল, খরচ বেশি হতে পারেকোন অংশে সমস্যা, তার ওপর নির্ভর করে

এবার নিজের চোখে দেখুন — bus, ring আর star-এ একটি তার বা যন্ত্র নষ্ট হলে কারা যোগাযোগ হারায়:

Bus, ring আর star নেটওয়ার্কে তার কাটার প্রভাব তিনটি নেটওয়ার্ক পাশাপাশি। প্রতিটি ধাপে লাল ক্রস দিয়ে কাটা জায়গা আর লাল রঙে বিচ্ছিন্ন কম্পিউটার দেখানো হয়। BusRingStar
কী ঘটল, কে বিচ্ছিন্ন
ঘটনা
বিচ্ছিন্ন
  1. সব সচল। তিনটি ছোট নেটওয়ার্ক — bus-এ ৪টি, ring-এ ৫টি, star-এ ৪টি কম্পিউটার। এখন সবাই সবার সাথে কথা বলতে পারছে। এবার একটি করে বিপদ ঘটাই।
  2. Bus-এর মূল তার কাটা। backbone মাঝখানে কাটলে দুই টুকরোর কাটা প্রান্তে কোনো terminator নেই — সংকেত সেখানে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে আর নতুন সংকেতের সাথে মিশে নষ্ট হয়। ফলে সাধারণত পুরো নেটওয়ার্ক অচল। পরীক্ষার উত্তর: bus-এ মূল তার নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক বন্ধ।
  3. Bus-এ একটি কম্পিউটারের নিজস্ব সংযোগ কাটা। মূল তার অক্ষত, তাই শুধু সেই কম্পিউটার বিচ্ছিন্ন — বাকি তিনজন চলছে। bus-এর বিপদ একটি জায়গাতেই কেন্দ্রীভূত: মূল তার।
  4. Ring-এর একটি লিংক ভাঙা। একক ring-এ ডেটা এক দিকে ঘোরে; একটি জায়গায় বৃত্ত ভাঙলে কোনো ডেটাই পুরো পথ ঘুরে আসতে পারে না, token-ও হারিয়ে যায়। পাঁচজনই বিচ্ছিন্ন। একটি কম্পিউটার বন্ধ হলেও একই ফল, কারণ সে-ই তো হাতবদলের একটি ধাপ। dual ring হলে উল্টো দিকের ring দিয়ে ঘুরে যাওয়া যেত।
  5. Star-এ একটি তার কাটা। প্রত্যেকের নিজস্ব তার, তাই ক্ষতি শুধু একজনের। আর কোন তারে সমস্যা, তা switch-এর বাতি দেখেই বোঝা যায় — port-এর আলো নিভে গেছে। এই সুবিধার জন্যই star জিতেছে।
  6. Star-এর মাঝের switch নষ্ট। এবার চারজনই বিচ্ছিন্ন — star-এর single point of failure. সমাধান: ভালো মানের switch, UPS-এ বিদ্যুৎ, একটি অতিরিক্ত switch হাতে রাখা, আর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দুই পথের (partial mesh) সংযোগ।

৫ · নেটওয়ার্ক ডিভাইস — কে কোন কাজ করে

নেটওয়ার্কের যন্ত্রগুলো দেখতে প্রায় একই রকম — কয়েকটি বাতি আর কয়েকটি port-ওয়ালা বাক্স। কিন্তু ভেতরের বুদ্ধি আলাদা। মনে রাখার জন্য প্রতিটি যন্ত্রকে একটি প্রশ্ন করুন: সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সে কী দেখে? কিছুই না, MAC address, না IP address?

NIC — প্রতিটি ডিভাইসের দরজা

NIC (Network Interface Card) হলো কম্পিউটারের সেই অংশ, যা নেটওয়ার্কে সংকেত পাঠায় আর গ্রহণ করে — আজ সাধারণত মাদারবোর্ডেই থাকে (Ethernet port), আর ল্যাপটপ-ফোনে থাকে Wi-Fi চিপ। প্রতিটি NIC-এর কারখানা থেকে দেওয়া একটি ৪৮ bit-এর পরিচয় আছে — MAC address, যেমন 3C:52:82:1A:9F:04. পর্ব ১৬-এ দেখেছেন, এটি হেক্সাডেসিমালে লেখা। প্রথম অর্ধেক বলে কোন কোম্পানির তৈরি, বাকি অর্ধেক সেই কোম্পানির দেওয়া ক্রমিক নম্বর।

Hub — সবাইকে চিৎকার করে বলা

Hub একটি বোকা যন্ত্র: এক port-এ সংকেত এলে সে সেটি বাকি সব port-এ হুবহু পাঠিয়ে দেয়, কে প্রাপক তা দেখেই না। অনেকটা মাইক দিয়ে পুরো মহল্লায় একজনের নাম ধরে ডাকার মতো — সবাই শোনে, যার নাম সে সাড়া দেয়। ফলে অপ্রয়োজনীয় ট্রাফিক বাড়ে, আর দুজন একসাথে পাঠালে সংঘর্ষ হয়। hub-এর সব port মিলে একটি collision domain; একজন পাঠালে বাকিদের অপেক্ষা করতে হয় (এই নিয়মের নাম CSMA/CD). একজনের ডেটা সবার কাছে যায় বলে নিরাপত্তাও দুর্বল। আজ hub প্রায় বিলুপ্ত।

Switch — ঠিকানা শিখে ঠিক দরজায়

Switch দেখতে hub-এর মতোই, কিন্তু বুদ্ধিমান। প্রতিটি ডেটার টুকরো (frame) এলে সে দুটি কাজ করে: (১) frame-এর উৎস MAC address দেখে মনে রাখে “এই ঠিকানা আমার অমুক port-এ” — এই তালিকাকে বলে MAC address table; (২) প্রাপকের MAC address তালিকায় থাকলে frame পাঠায় শুধু সেই port-এ। প্রাপক অজানা হলে প্রথমবার hub-এর মতোই সব port-এ পাঠায় (flood); উত্তর এলেই শিখে নেয়। প্রতিটি port আলাদা collision domain, আর full-duplex-এ পাঠানো-নেওয়া একসাথে চলে বলে collision কার্যত হয়ই না। ধাপে ধাপে দেখুন:

৪-port switch: A = port 1, B = port 2, C = port 3, D = port 4
Frame
MAC table
Switch পাঠাল
Hub হলে পাঠাত
মোট কপি (switch / hub)
  1. Switch সবে চালু। MAC table খালি — কে কোন port-এ, সে কিছুই জানে না। চারটি কম্পিউটার A, B, C, D চারটি port-এ যুক্ত।
  2. A → C. frame এল port 1 দিয়ে। switch উৎস দেখে শিখল: “A আছে port 1-এ।” কিন্তু C কোথায় জানে না — তাই বাকি তিন port-এ পাঠাল (flood). B আর D frame পেয়ে দেখল প্রাপক তারা নয়, ফেলে দিল। এই মুহূর্তে switch আর hub একই আচরণ করছে।
  3. C → A — শেখার ফল। C উত্তর দিল। switch শিখল “C আছে port 3-এ”, আর A-র ঠিকানা তো জানাই — frame গেল শুধু port 1-এ। hub হলে B আর D-ও অকারণে কপি পেত।
  4. A → D. D এখনো কিছু পাঠায়নি, তাই অজানা — আবার flood. switch-এর বুদ্ধি অভিজ্ঞতা থেকে আসে; যে কখনো কথা বলেনি, তাকে সে চেনে না।
  5. D → A. শিখল “D = port 4”, পাঠাল শুধু port 1-এ। এখন পর্যন্ত switch ৮টি কপি পাঠিয়েছে, hub পাঠাত ১২টি।
  6. B → C — table পূর্ণ। শিখল “B = port 2”; C-র port জানা, তাই সরাসরি port 3. এখন থেকে প্রতিটি frame শুধু প্রাপকের কাছে যাবে — অন্যরা আপনার ডেটা দেখবেই না, আর একসাথে A-C আর B-D কথা বলতে পারবে। কিছুক্ষণ চুপ থাকা ঠিকানা switch নিজে থেকেই table থেকে মুছে ফেলে (সাধারণত কয়েক মিনিট পর), যাতে কেউ port বদলালে আবার শিখতে পারে।

নিজে চালিয়ে দেখুন — switch সিমুলেটর আর mesh হিসাব

নিচের কোড একই চার কম্পিউটারে কয়েকটি frame পাঠিয়ে switch-এর প্রতিটি সিদ্ধান্ত, শেষে MAC table, আর hub-এর তুলনায় কতগুলো কপি কম পাঠানো হলো তা লেখে। শেষ লাইনে full mesh-এর তার গোনার সূত্র।

const macOf = { A: 'AA:11', B: 'BB:22', C: 'CC:33', D: 'DD:44' }; // 4টি PC
const portOf = { A: 1, B: 2, C: 3, D: 4 };     // কোন PC সুইচের কোন port-এ
const macTable = {};                            // সুইচের মনে রাখা: MAC -> port
let hubCopies = 0, switchCopies = 0;
function frame(from, to) {
  const inPort = portOf[from], dst = macOf[to];
  macTable[macOf[from]] = inPort;               // শেখা: উৎসের MAC কোন port-এ
  let out;
  if (macTable[dst]) out = [macTable[dst]];     // জানা: শুধু সেই port-এ
  else out = [1, 2, 3, 4].filter(p => p !== inPort); // অজানা: flood
  switchCopies += out.length;
  hubCopies += 3;                               // hub সব সময় বাকি ৩ port-এ পাঠায়
  console.log(`${from}->${to}: ${macTable[dst] ? 'forward' : 'flood  '} to port ${out.join(',')}`);
}
frame('A', 'C'); frame('C', 'A'); frame('A', 'D'); frame('D', 'A'); frame('B', 'C'); frame('C', 'B');
console.log('MAC table:', Object.entries(macTable).map(([m, p]) => `${m}=${p}`).join('  '));
console.log(`copies sent: switch ${switchCopies}, hub ${hubCopies}`);
for (const n of [4, 6, 10, 50]) console.log(`full mesh of ${n} devices: ${n * (n - 1) / 2} cables`);

Run চাপলে প্রথম দুটি frame-এর ফল আসে A->C: flood to port 2,3,4 আর C->A: forward to port 1; এরপর A→D আবার flood, বাকি তিনটি forward. শেষে MAC table: AA:11=1 CC:33=3 DD:44=4 BB:22=2 আর copies sent: switch 10, hub 18 — মাত্র ছয়টি frame-এই hub-এর প্রায় অর্ধেক ট্রাফিক বাঁচল। তারপর mesh: ৪টিতে 6, ৬টিতে 15, ১০টিতে 45, ৫০টিতে 1225 cables. কোডের মূল লাইন দুটি: macTable[macOf[from]] = inPort (শেখা) আর if (macTable[dst]) (জানা থাকলে এক port, না থাকলে flood). frame(...)-এর ক্রম বদলে দেখুন — যে কম্পিউটার আগে কথা বলে, switch তাকে আগে চেনে।

Router — নেটওয়ার্ক থেকে নেটওয়ার্কে পথ বাছাই

Switch একটি নেটওয়ার্কের ভেতরে কাজ করে। কিন্তু আপনার বাসার নেটওয়ার্ক থেকে Google-এর নেটওয়ার্কে যেতে হলে লাগে router. router দেখে প্রাপকের IP address — যা বলে ডিভাইসটি কোন নেটওয়ার্কে আছে (ডাকের ঠিকানায় জেলা-থানার মতো) — তারপর নিজের routing table মিলিয়ে ঠিক করে, কোন পাশের router-এর দিকে পাঠালে গন্তব্যে সবচেয়ে ভালোভাবে পৌঁছাবে। একটি পথ বন্ধ থাকলে অন্য পথ বেছে নিতে পারে। আপনার কম্পিউটার নিজের নেটওয়ার্কের বাইরের সব ডেটা যে router-এর কাছে পাঠায়, তাকে বলে default gateway. Switch নেটওয়ার্কের ভেতরের ডাকপিয়ন; router জেলা থেকে জেলায় চিঠি পাঠানোর ডাকঘর।

বাসার “Wi-Fi router” আসলে কী? একটি বাক্সে কয়েকটি যন্ত্র: router (বাসার নেটওয়ার্ক ↔ ISP-এর নেটওয়ার্ক, সাথে বাসার সব ডিভাইসকে একটি পাবলিক ঠিকানার পেছনে রাখার NAT আর ঠিকানা বিলানোর DHCP — পর্ব ৩৩-এ), পেছনের ৩–৪টি LAN port-এর জন্য ছোট একটি switch, Wi-Fi-এর জন্য access point, আর অনেক মডেলে একটি firewall. ফাইবার সংযোগে কখনো ONU আর router একই বাক্সে থাকে। তাই HSC-র প্রশ্নে “router-এর কাজ” আর বাসার যন্ত্রের সব কাজ গুলিয়ে ফেলবেন না।

Modem আর ONU — সংকেতের রূপ বদল

Modem শব্দটি এসেছে MOdulator-DEModulator থেকে: কম্পিউটারের digital সংকেতকে টেলিফোন বা ক্যাবল লাইনের উপযোগী analog সংকেতে বদলানো (modulation) আর উল্টোটা (demodulation). একসময় dial-up আর ADSL-এ টেলিফোন লাইন দিয়ে ইন্টারনেট এভাবেই আসত; মোবাইল ফোনের ভেতরেও একটি modem আছে। আজ বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্রডব্যান্ড আসে ফাইবারে, তাই বাসায় থাকে একটি ONU/ONT — আলোর সংকেতকে তারের বৈদ্যুতিক সংকেতে বদলায় আর উল্টোটা। কাজের দিক থেকে এটিই ফাইবারের “modem”.

Repeater, bridge, gateway আর access point

  • Repeater: দূরত্বে দুর্বল হয়ে পড়া সংকেত নতুন করে শক্তিশালী ও পরিষ্কার করে পাঠায়। ঠিকানা দেখে না। UTP তারে একটানা প্রায় ১০০ মিটারের বেশি গেলে লাগে; বাসার Wi-Fi extender-ও একধরনের repeater. hub আসলে বহু-port-ওয়ালা repeater.
  • Bridge: একটি LAN-এর দুটি অংশ (segment) জোড়া দেয়, আর MAC address দেখে ঠিক করে frame অন্য পাশে যাবে কি না — এতে অপ্রয়োজনীয় ট্রাফিক অন্য পাশে যায় না। switch-কে বলা যায় অনেক port-এর দ্রুত bridge.
  • Gateway: সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়মে (protocol) চলা দুটি নেটওয়ার্ক বা সিস্টেমের মধ্যে দোভাষী — যেমন পুরোনো টেলিফোন লাইন আর ইন্টারনেট-কলের মধ্যে VoIP gateway, বা কারখানার সেন্সরের নিজস্ব ভাষাকে ইন্টারনেটের ভাষায় বদলানো IoT gateway. সাধারণ কথায় নেটওয়ার্ক থেকে বাইরে যাওয়ার “দরজা”-কেও gateway বলে, তাই বাসার router-কে default gateway বলা হয়।
  • Access point (AP): তারের নেটওয়ার্কের সাথে Wi-Fi ডিভাইসগুলোর সংযোগ-সেতু। বড় অফিসে প্রতিটি তলায় আলাদা AP থাকে, সবগুলো তারে switch-এ যুক্ত; Wi-Fi-এর মান আর গতি পর্ব ৩১-এ।
ডিভাইসপ্রধান কাজসিদ্ধান্তে কী দেখেOSI স্তর
Repeaterদুর্বল সংকেত শক্তিশালী করে আবার পাঠায়কিছুই না১ (physical)
Hubএক port-এর সংকেত বাকি সব port-এ পাঠায়কিছুই না১ (physical)
Modem / ONUdigital ↔ analog বা বৈদ্যুতিক ↔ আলো সংকেতে রূপান্তরকিছুই না১ (physical)
BridgeLAN-এর দুটি অংশ জোড়ে, অপ্রয়োজনীয় ট্রাফিক আটকায়MAC address২ (data link)
Switchframe শুধু প্রাপকের port-এ পাঠায়MAC address২ (data link)
Access pointWi-Fi ডিভাইসকে তারের LAN-এ যুক্ত করেMAC address২ (data link)
Routerভিন্ন নেটওয়ার্ক জোড়ে, সেরা পথ বেছে packet পাঠায়IP address৩ (network)
Gatewayভিন্ন protocol-এর নেটওয়ার্কের মধ্যে অনুবাদপুরো বার্তা ও protocolসব স্তরে, মূলত ওপরের ৪–৭

OSI মডেলের সাত স্তরের পুরো ব্যাখ্যা আর TCP/IP-এর সাথে তুলনা আসবে পর্ব ৩৩-এ। এখানে শুধু মনে রাখুন: স্তর যত ওপরে, যন্ত্র তত বেশি “পড়ে” আর তত বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত নেয়।

৬ · তার, connector আর গতি

অফিস আর বাসার তারের নেটওয়ার্কে প্রায় সবখানে চলে Ethernet, আর তার হলো UTP (Unshielded Twisted Pair) — ভেতরে চার জোড়া পেঁচানো তামার তার। পেঁচানোর কারণ, এতে বাইরের বৈদ্যুতিক গোলমাল দুই তারে সমানভাবে লাগে আর বাতিল হয়ে যায়। মাধ্যম হিসেবে তামা, ফাইবার আর রেডিওর তুলনা পর্ব ৩০-এ দেখেছেন; এখানে ব্যবহারিক কথা।

তার / মানসাধারণ গতিকোথায় ব্যবহার
Cat5e UTP1 Gbps, ১০০ মিটার পর্যন্তপুরোনো ও সাধারণ অফিস-বাসা
Cat6 UTP1 Gbps ১০০ মিটারে; 10 Gbps কম দূরত্বে (প্রায় ৫৫ মিটার)নতুন অফিসের জন্য ভালো পছন্দ
Cat6a10 Gbps, ১০০ মিটার পর্যন্তসার্ভার রুম, ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
ফাইবার অপটিক1–100 Gbps বা তার বেশি, কয়েক কিলোমিটার থেকে শত কিলোমিটারভবন থেকে ভবন, ISP, দেশজোড়া মূল লাইন
  • Connector: UTP তারের মাথায় লাগানো স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ৮-পিনের প্লাগকে সাধারণভাবে RJ-45 বলে; চাপ দিয়ে লাগানো হয় crimping টুল দিয়ে।
  • Straight বনাম crossover: দুই মাথায় একই রঙের ক্রমে (যেমন দুই পাশেই T568B) তার বসালে straight-through — ভিন্ন ধরনের যন্ত্র জোড়ে (PC ↔ switch); এক মাথায় T568A আর অন্য মাথায় T568B হলে crossover — একই ধরনের যন্ত্র জোড়ে (PC ↔ PC). আধুনিক যন্ত্র Auto-MDI-X দিয়ে নিজেই মানিয়ে নেয়, তাই এখন প্রায় সব জায়গায় straight তারই চলে।
  • Ethernet-এর গতির ধাপ: 10 Mbps (১৯৮০-এর দশক) → Fast Ethernet 100 Mbps → Gigabit 1 Gbps (আজকের সাধারণ PC) → 2.5/10 Gbps (নতুন মাদারবোর্ড, সার্ভার) → ডেটা সেন্টারে 100 Gbps আর তার বেশি।

ISP থেকে 100 Mbps প্যাকেজ নিলেও বাসার পুরোনো 100 Mbps port-ওয়ালা router বা নিম্নমানের তারে আসল গতি কম আসতে পারে। নেটওয়ার্ক সবচেয়ে ধীর অংশটির গতিতে চলে — একে বলে bottleneck. গতি মাপার সময় একবার তার দিয়ে যুক্ত হয়েও দেখুন।

৭ · একটি ছোট অফিসের LAN সাজানো

ধরুন, রাজশাহীতে একটি ছোট কোচিং সেন্টার বা ট্রাভেল এজেন্সি — ৮টি কম্পিউটার, একটি নেটওয়ার্ক প্রিন্টার, অতিথি আর কর্মীদের ফোনের জন্য Wi-Fi. সাধারণ নকশা এমন:

ছোট অফিসের LAN

ISP → ONU → Router → Switch → PC, প্রিন্টার আর Access point

ছোট অফিসের নেটওয়ার্কের নকশা ISP-এর ফাইবার লাইন ONU-তে আসে, ONU থেকে router, router থেকে একটি switch. switch থেকে তারে তিনটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার আর একটি access point যুক্ত; access point থেকে Wi-Fi-তে ফোন আর ল্যাপটপ। ISPফাইবার লাইন ONUআলো ↔ বিদ্যুৎ Routerfirewall, DHCP Switch16 port, 1 Gbps PC ১–৩ (হিসাব) PC ৪–৮ (কাউন্টার) নেটওয়ার্ক প্রিন্টার ফাইল শেয়ারের PC/NAS AP Wi-Fi: কর্মী + অতিথি
ছবি ৩২.২ — বাস্তবে switch থেকে প্রতিটি PC-তে আলাদা তার যায় (star); এখানে জায়গা বাঁচাতে কয়েকটি PC এক বাক্সে দেখানো হয়েছে। ড্যাশ দাগ = তারবিহীন সংযোগ।
  1. সংযোগ: ISP ফাইবার টেনে ONU বসায়; ONU থেকে router-এর WAN port-এ তার।
  2. Router থেকে switch: router-এর একটি LAN port থেকে ১৬ port-এর gigabit switch-এ; সব PC, প্রিন্টার আর AP সেই switch-এ। Cat6 তার, দেয়ালের ভেতরে বা চ্যানেলে।
  3. ঠিকানা: router-এর DHCP সবাইকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে IP address দেয়; প্রিন্টারকে স্থির (fixed) ঠিকানা দিন, নইলে ঠিকানা বদলালে সবার প্রিন্ট বন্ধ হবে।
  4. প্রিন্টার শেয়ার: নেটওয়ার্ক প্রিন্টার হলে Windows-এ Settings → Bluetooth & devices → Printers & scanners → Add device. USB প্রিন্টার একটি PC-তে লাগানো থাকলে সেই PC-র প্রিন্টার সেটিংসে Printer properties → Sharing থেকে শেয়ার করা যায় — তবে তখন সেই PC চালু রাখতে হয়।
  5. ফোল্ডার শেয়ার: ফোল্ডারে ডান-ক্লিক → Properties → Sharing; “Everyone” নয়, নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীকে অনুমতি দিন, আর শুধু-পড়া বনাম পড়া-লেখা আলাদা করুন। অন্য PC থেকে File Explorer-এ \\কম্পিউটারের-নাম\ফোল্ডার লিখে খোলা যায়। বড় অফিসে একটি NAS (নেটওয়ার্কে যুক্ত স্টোরেজ বাক্স) বা ক্লাউড (পর্ব ১৪) আরও নিরাপদ।

Router-এর প্রাথমিক নিরাপত্তা

এবার দেখুন, রাজশাহীর এই অফিসের একটি PC থেকে ঢাকার একটি ডেটা সেন্টারে রাখা ওয়েবসাইটে একটি packet কীভাবে যায় — LAN থেকে MAN হয়ে WAN:

  1. PCরাজশাহীNIC
  2. Switch → Routerঅফিস LANgateway
  3. স্থানীয় ISPশহরের নেটওয়ার্কMAN
  4. দেশের ফাইবারrouter → routerWAN
  5. ডেটা সেন্টারঢাকাrouter, switch
  6. Serverওয়েবসাইটউত্তর পাঠায়
  1. PC packet বানায়। ব্রাউজার ঢাকার সার্ভারের কাছে পাতা চাইল। ডেটা ছোট ছোট packet-এ ভাগ হলো; প্রতিটির গায়ে প্রাপকের IP address লেখা। PC দেখল প্রাপক নিজের নেটওয়ার্কে নেই — তাই packet যাবে default gateway অর্থাৎ router-এর কাছে।
  2. অফিসের LAN পার হওয়া। NIC packet-টিকে একটি frame-এ ভরে, যার গন্তব্য MAC = router-এর MAC. switch MAC table দেখে frame পাঠাল শুধু router-এর port-এ। router frame খুলে IP দেখল, আর ISP-এর দিকে পাঠাল। লক্ষ করুন: MAC ঠিকানা শুধু এই একটি লাফের জন্য; IP ঠিকানা পুরো যাত্রায় একই।
  3. স্থানীয় ISP — শহরের নেটওয়ার্ক। ONU আলোর সংকেতে packet পাঠাল ISP-এর রাজশাহী অফিসে। সেখানে শহরজুড়ে ছড়ানো গ্রাহকদের ট্রাফিক এক জায়গায় জড়ো হয় — এটিই MAN. ISP-এর router ঠিক করল: গন্তব্য ঢাকায়, তাই দেশের মূল লাইনের দিকে।
  4. দেশজোড়া WAN. রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত শত শত কিলোমিটার ফাইবার, পথে কয়েকটি router. প্রতিটি router packet পুরো গ্রহণ করে, দেখে, তারপর পরের জনকে পাঠায় (store-and-forward). দেশের ভেতরের ISP-গুলো ট্রাফিক বিনিময়ের জন্য একটি সাধারণ বিনিময়-কেন্দ্র (internet exchange) ব্যবহার করতে পারে, যাতে ঢাকার সার্ভারের ডেটা বিদেশ ঘুরে না আসে।
  5. ঢাকার ডেটা সেন্টার। packet পৌঁছাল ডেটা সেন্টারের router-এ, সেখান থেকে ভেতরের switch হয়ে সার্ভারের NIC-এ। আবার নতুন MAC, কিন্তু সেই একই গন্তব্য IP.
  6. Server উত্তর দেয়। server ওয়েবপাতার ডেটা packet-এ ভরে উল্টো পথে পাঠায়; প্রতিটি packet নিজের মতো পথ পেতে পারে, PC-তে পৌঁছে আবার ক্রমমতো জোড়া লাগে। পুরো যাত্রা সাধারণত কয়েক থেকে কয়েক দশ মিলিসেকেন্ডের। IP address, DNS আর TCP কীভাবে এই যাত্রা সম্ভব করে — পর্ব ৩৩-এ বিস্তারিত।

পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে — এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে:

  • কোন টপোলজিতে কেন্দ্রীয় ডিভাইস লাগে? Star (hub বা switch); tree-তেও, কারণ সেটি star-এর বিস্তার।
  • Hub আর switch-এর পার্থক্য? hub সব port-এ পাঠায় (একটি collision domain); switch MAC address শিখে শুধু প্রাপকের port-এ পাঠায় — দ্রুত, নিরাপদ।
  • MAN-এর একটি উদাহরণ? একটি শহরের ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক, বা শহরজুড়ে ফাইবারে ইন্টারনেট দেওয়া ISP.
  • Router-এর কাজ কী? ভিন্ন নেটওয়ার্ক জোড়া আর IP address দেখে packet-এর জন্য সেরা পথ বাছাই।
  • ১০টি কম্পিউটারের full mesh-এ কয়টি সংযোগ? n(n−1)/2 = ১০ × ৯ ÷ ২ = ৪৫; প্রতিটিতে ৯টি port. সৃজনশীল প্রশ্নে প্রায়ই উদ্দীপকের নকশা দেখে টপোলজি চিনতে আর একটি তার কাটলে কী হবে বিশ্লেষণ করতে বলা হয়।

আরও গভীরে: switch-এর loop ঠেকানোর Spanning Tree Protocol, এক switch-কে কয়েকটি আলাদা নেটওয়ার্কে ভাগ করা VLAN, router-এর routing table কীভাবে OSPF বা BGP দিয়ে তৈরি হয় — এসব আছে আমাদের Computer Networks কোর্সে। শুরু করতে পারেন নেটওয়ার্ক টপোলজি, switch আর frame forwarding আর হোম-অফিস নেটওয়ার্ক ডিজাইন পর্ব দিয়ে।

৮ · AI-এর যুগে — নকশা নিন, নিরাপত্তা নিজে যাচাই করুন

“১০ জনের অফিসের নেটওয়ার্ক ডিজাইন করে দাও” বা “আমার router-এর সেটিং কী হবে” — AI চ্যাটবট এমন প্রশ্নে দ্রুত গোছানো উত্তর দেয়: যন্ত্রের তালিকা, ডায়াগ্রাম, এমনকি কনফিগারেশন। শেখার জন্য আর প্রথম খসড়ার জন্য এটা দারুণ। কিন্তু নেটওয়ার্কে একটি ভুল সেটিং মানে খোলা দরজা — আর AI জানে না আপনার যন্ত্রের মডেল, firmware বা অফিসের প্রয়োজন।

AI-এর সাধারণ ভুলকেন বিপজ্জনক / কীভাবে ধরবেন
উদাহরণ কনফিগারেশনে admin/admin বা “password123”-এর মতো পাসওয়ার্ডহুবহু কপি করলে যে কেউ ঢুকতে পারে — সব পাসওয়ার্ড নিজে নতুন, লম্বা আর আলাদা বানান
“বাইরে থেকে দেখতে” remote management চালু বা সব port forward করার পরামর্শrouter-এর admin পাতা ইন্টারনেটে খোলা মানে আক্রমণের লক্ষ্য — দূর থেকে দেখতে হলে নির্মাতার নিরাপদ অ্যাপ বা VPN
পুরোনো WEP বা খোলা Wi-Fi, WPS চালু রাখাWPA2/WPA3 নিশ্চিত করুন
অন্য মডেলের মেনু-পথ বা কমান্ড, বানানো ফিচারনিজের যন্ত্রের মডেল নম্বর দিয়ে নির্মাতার manual মিলিয়ে নিন
ভুল হিসাব — যেমন mesh-এ লিংক n(n−1), বা প্রয়োজনের চেয়ে কম port-এর switchn(n−1)/2 সূত্রে নিজে গুনুন; ভবিষ্যতের জন্য অতিরিক্ত port রাখুন

নিচের prompt-টি কপি করে নিজের তথ্য বসান। এখানে AI-কে নিরাপত্তার ঝুঁকি আলাদা করে দেখাতে আর অনিশ্চয়তা স্বীকার করতে বলা হয়েছে:

আমি একটি ছোট অফিসের নেটওয়ার্ক সাজাতে চাই। তথ্য: [কয়টি কম্পিউটার, প্রিন্টার, Wi-Fi ব্যবহারকারী, অতিথি আসে কি না, ISP-এর সংযোগের ধরন যেমন ফাইবার/ONU, router-এর মডেল]. ১. যন্ত্রের তালিকা দাও (router, switch-এর port সংখ্যা, AP, তার), প্রতিটি কেন লাগবে এক লাইনে বলো। ২. টপোলজিটি লেখায় বর্ণনা করো (কোন যন্ত্র কোনটির সাথে যুক্ত)। ৩. নিরাপত্তার জন্য আলাদা অংশে লেখো: admin পাসওয়ার্ড, WPA2/WPA3, guest network, remote management, firmware update. ৪. কোনো উদাহরণে আসল পাসওয়ার্ড বা default পাসওয়ার্ড লিখবে না; জায়গায় [নিজের পাসওয়ার্ড] লেখো। ৫. যেসব মেনু-পথ বা সেটিং মডেলভেদে আলাদা হতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করো আর manual দেখতে বলো; অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে লিখবে না।

AI-এর নকশা হাতে পেলে — যাচাইয়ের চেকলিস্ট

ভাবনার প্রশ্ন

প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে কিছুক্ষণ ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন। আজকের প্রতিটি অফিস-নেটওয়ার্কের পেছনে আছে কয়েক দশকের পরীক্ষা, প্রতিযোগিতা আর বিতর্ক।

প্র ০১Ethernet-এর জন্ম কোথায়, কীভাবে? আর “Metcalfe’s law” বলে নেটওয়ার্কের মূল্য সম্পর্কে কী — কথাটি কতটা সত্য?

১৯৭০-এর দশকের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার Xerox PARC গবেষণাগারে তৈরি হচ্ছিল Alto — মাউস আর গ্রাফিকাল পর্দাওয়ালা প্রথম দিকের ব্যক্তিগত কম্পিউটারগুলোর একটি — আর পাশে ছিল পৃথিবীর প্রথম লেজার প্রিন্টারগুলোর একটি। প্রশ্ন দাঁড়াল: অনেকগুলো Alto একটি প্রিন্টার ভাগ করবে কীভাবে? এই কাজের দায়িত্ব পান তরুণ গবেষক Bob Metcalfe. তিনি অনুপ্রেরণা নেন হাওয়াইয়ের ALOHAnet থেকে, যেখানে দ্বীপগুলোর কম্পিউটার রেডিওতে একই চ্যানেলে পাঠাত আর সংঘর্ষ হলে কিছুক্ষণ পরে আবার চেষ্টা করত।

১৯৭৩ সালের মে মাসে Metcalfe একটি মেমোতে নতুন নেটওয়ার্কের প্রস্তাব দেন, নাম দেন Ethernet — উনিশ শতকের পদার্থবিজ্ঞানে কল্পিত সর্বব্যাপী মাধ্যম “ether”-এর নামে। David Boggs-এর সাথে মিলে তিনি এটি বানান: একটি coaxial তারে (bus) সব কম্পিউটার, পাঠানোর আগে শোনা, সংঘর্ষ হলে এলোমেলো সময় অপেক্ষা করে আবার পাঠানো — এই পর্বের CSMA/CD. প্রথম গতি ছিল প্রায় ৩ Mbps. ১৯৮০ সালে DEC, Intel আর Xerox মিলে 10 Mbps-এর মান প্রকাশ করে, পরে IEEE 802.3 নামে আন্তর্জাতিক মান হয়। Metcalfe ১৯৭৯ সালে 3Com কোম্পানি গড়েন, আর ২০২২ সালের Turing Award পান Ethernet-এর জন্য।

Ethernet বিক্রির সময় Metcalfe একটি যুক্তি দিতেন, যা পরে Metcalfe’s law নামে পরিচিত: নেটওয়ার্কের খরচ বাড়ে ডিভাইসের সংখ্যা n-এর সমানুপাতে, কিন্তু মূল্য বাড়ে প্রায় n²-এর মতো — কারণ সম্ভাব্য জোড়ার সংখ্যা n(n−1)/2, ঠিক full mesh-এর সূত্র! দুটি ফোনে একটিই কথোপকথন সম্ভব, দশটিতে ৪৫টি। সমালোচকেরা (যেমন Andrew Odlyzko ও সহকর্মীরা) বলেছেন, সব সংযোগ সমান মূল্যবান নয় — আপনি বেশিরভাগ মানুষের সাথে কখনো কথা বলবেন না — তাই বাস্তব বৃদ্ধি n²-এর চেয়ে কম, হয়তো n log n-এর কাছাকাছি। তবু মূল ধারণা টিকে আছে: যুক্ত মানুষ যত বাড়ে, প্রতিজনের জন্য নেটওয়ার্ক তত কাজের হয়।

মূল উপলব্ধি: Ethernet একটি নির্দিষ্ট সমস্যা (একটি প্রিন্টার ভাগ করা) থেকে জন্মেছিল, কিন্তু টিকে গেছে কারণ সহজ, সস্তা আর খোলা মানের ছিল। আর নেটওয়ার্কের মূল্য তার যন্ত্রে নয়, তার সংযোগের সংখ্যায়।

প্র ০২একসময় Ethernet ছিল bus, আর IBM-এর Token Ring ছিল শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তাহলে আজ প্রায় সব নেটওয়ার্ক switch-ভিত্তিক star হলো কেন?

১৯৮০-এর দশকের Ethernet চলত মোটা হলুদ coaxial তারে (10BASE5) — কম্পিউটার যুক্ত করতে তারের গায়ে ছিদ্র করে “vampire tap” বসাতে হতো। পরে এল পাতলা coax (10BASE2), বাঁকানো সহজ, দাম কম। কিন্তু দুটোই bus: তারের কোথাও একটি connector ঢিলে হলে পুরো অফিসের নেটওয়ার্ক বন্ধ, আর শত মিটার তারে কোথায় সমস্যা তা খুঁজতে নেটওয়ার্ক-কর্মীকে টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হতো — এই পর্বের stepper-এর দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবে।

একই সময়ে IBM-এর Token Ring (4 আর পরে 16 Mbps) ছিল অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের পছন্দ: token-এর কারণে collision নেই, ভারী চাপে আচরণ অনুমানযোগ্য। দেখতে star-এর মতো হলেও ভেতরে ring — তারগুলো একটি কেন্দ্রীয় বাক্সে (MAU) গিয়ে বৃত্ত তৈরি করত। কিন্তু যন্ত্র আর কার্ডের দাম ছিল বেশি।

মোড় ঘুরল টেলিফোনের তারে। অফিস ভবনে আগে থেকেই টেলিফোনের twisted pair তার ছিল। কয়েকটি কোম্পানি দেখাল, সাধারণ twisted pair-এও 10 Mbps Ethernet চালানো যায়, প্রতিটি কম্পিউটার থেকে আলাদা তার একটি hub-এ — অর্থাৎ star. ১৯৯০ সালে এটি মান হয়: 10BASE-T. এক তার কাটলে এক কম্পিউটার, hub-এর বাতি দেখে সমস্যা চেনা, সস্তা তার — রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয়ে গেল। ১৯৯০-এর দশকে hub-এর জায়গায় এল switch (প্রথম বাণিজ্যিক Ethernet switch-গুলোর একটি এনেছিল Kalpana নামের কোম্পানি, পরে Cisco সেটি কিনে নেয়)। switch collision প্রায় শেষ করে দিল — Token Ring-এর প্রধান যুক্তিটাই হারিয়ে গেল। Fast Ethernet (100 Mbps) আর Gigabit এসে দামে-গতিতে Token Ring-কে পুরো ছাড়িয়ে যায়।

মূল উপলব্ধি: প্রযুক্তির যুদ্ধে প্রায়ই “সবচেয়ে সুন্দর নকশা” জেতে না, জেতে সস্তা, সহজে বসানো আর সহজে সারানো যায় এমন নকশা। star জিতেছে নির্ভরযোগ্যতা আর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য; switch-এর দাম কমায় সেই জয় স্থায়ী হয়েছে।

প্র ০৩Router-এর “store-and-forward” আর ডেটাকে ছোট packet-এ ভাগ করার ধারণা কে, কেন এনেছিলেন? টেলিফোনের পুরোনো পদ্ধতির চেয়ে এটি ভালো কেন?

পুরোনো টেলিফোন ব্যবস্থা ছিল circuit switching: আপনি ফোন করলে এক্সচেঞ্জগুলো আপনার আর প্রাপকের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পথ পুরো কথোপকথনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখত — চুপ থাকলেও। কথা বলার জন্য ঠিক আছে, কিন্তু কম্পিউটারের ডেটা আসে হঠাৎ হঠাৎ ঝাঁকে; পুরো সময় একটি লাইন আটকে রাখা অপচয়। আর পথের একটি এক্সচেঞ্জ নষ্ট হলে কল কেটে যায়।

১৯৬০-এর দশকের শুরুতে আমেরিকার RAND Corporation-এ Paul Baran এমন একটি যোগাযোগ-ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছিলেন, যা যুদ্ধে অনেক কেন্দ্র ধ্বংস হলেও চলতে পারবে। তাঁর প্রস্তাব: কোনো কেন্দ্র নয়, অনেক node-এর বহু-পথের জাল (partial mesh), আর বার্তাকে ছোট ছোট খণ্ডে ভাগ করে প্রতিটি খণ্ড আলাদাভাবে, যে পথ খোলা পায় সেই পথে পাঠানো। প্রায় একই সময়ে, স্বাধীনভাবে, ব্রিটেনের National Physical Laboratory-তে Donald Davies একই রকম ধারণায় পৌঁছান আর খণ্ডগুলোর নাম দেন “packet”. Davies-এর লক্ষ্য ছিল দক্ষতা — অনেক ব্যবহারকারী যেন একই লাইন ভাগ করতে পারেন।

এই ধারণার কেন্দ্রে store-and-forward: প্রতিটি node পুরো packet গ্রহণ করে, একটু রাখে, গন্তব্য দেখে পরের node-এ পাঠায় — ঠিক যেমন ডাকঘর চিঠি জমা নিয়ে পরের ডাকঘরে পাঠায়। ১৯৬৯ সালে ARPANET এই নীতিতে চালু হয়; এর IMP নামের বিশেষ কম্পিউটারগুলো ছিল আজকের router-এর পূর্বপুরুষ। পরে Vint Cerf আর Bob Kahn-এর TCP/IP অনেক packet-নেটওয়ার্ককে এক “internet”-এ জোড়ে (পর্ব ৩৩)।

লাভগুলো: লাইন খালি বসে থাকে না, হাজার জনের packet একই তার ভাগ করে; একটি router নষ্ট হলে packet অন্য পথে যায় — mesh-এর নির্ভরযোগ্যতা। খরচ: প্রতিটি packet-এ ঠিকানার অতিরিক্ত তথ্য, ভিড়ে সারিতে অপেক্ষা (latency বাড়ে), আর packet আগে-পরে পৌঁছাতে পারে বলে আবার সাজাতে হয়।

মূল উপলব্ধি: ইন্টারনেটের সবচেয়ে মৌলিক নকশা-সিদ্ধান্ত — “ডেটাকে টুকরো করো, প্রতিটি টুকরো স্বাধীনভাবে পাঠাও” — এসেছে দক্ষতা আর টিকে থাকার দুই ভিন্ন প্রশ্ন থেকে, আর দুই দেশের দুই গবেষক আলাদাভাবে একই উত্তরে পৌঁছেছিলেন।

প্র ০৪বন্ধুরা সবাই যে অ্যাপে আছে, অন্য অ্যাপ ভালো হলেও সেখানে যাওয়া কঠিন কেন? “network effect” সামাজিক মাধ্যমকে কীভাবে চালায়?

Metcalfe’s law-এর সামাজিক রূপকে বলে network effect: কোনো সেবার মূল্য ব্যবহারকারীর কাছে বাড়ে, যত বেশি অন্য মানুষ সেটি ব্যবহার করে। টেলিফোনের যুগেই এটা দেখা গিয়েছিল — শহরে একটিমাত্র ফোন থাকলে সেটি অকেজো; প্রতিটি নতুন সংযোগ বাকি সবার ফোনকে আরও কাজের করে।

সামাজিক মাধ্যম আর মেসেজিং অ্যাপে এই প্রভাব সবচেয়ে প্রবল। বাংলাদেশে পরিবারের গ্রুপ, স্কুলের পুরোনো বন্ধুদের গ্রুপ, অফিসের নোটিশ, অনলাইন দোকানের পেজ — সবাই একটি-দুটি প্ল্যাটফর্মে। আপনি অন্য একটি অ্যাপকে বেশি নিরাপদ বা ভালো মনে করলেও একা চলে গেলে কাউকে পাবেন না। একে বলে lock-in, আর অর্থনীতিবিদরা বলেন এ ধরনের বাজার প্রায়ই “winner takes most” হয়ে যায় — এক-দুটি কোম্পানির হাতে বিপুল নিয়ন্ত্রণ।

তবে network effect চিরস্থায়ী নয়। Orkut বা MySpace-এর মতো একসময়ের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হারিয়ে গেছে, কারণ মানুষ দল বেঁধে অন্য জায়গায় চলে গেছে — উল্টো দিকেও একই প্রভাব কাজ করে, ধস দ্রুত হয়।

ব্যবহারকারী হিসেবে এর মানে: আপনার যোগাযোগ, ছবি আর ব্যবসার গ্রাহক-তালিকা একটি প্ল্যাটফর্মের ওপর পুরো নির্ভরশীল হলে সেই প্ল্যাটফর্মের নিয়ম বদলালে, অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলে বা হ্যাক হলে সব হারানোর ঝুঁকি। নিয়মিত নিজের ডেটার কপি রাখা আর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের বিকল্প পথ (ফোন নম্বর, ইমেইল) রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

মূল উপলব্ধি: নেটওয়ার্কের যে সূত্র তার আর switch-এ খাটে, মানুষের সমাজেও খাটে — সংযোগের সংখ্যা মূল্য তৈরি করে, আবার সেই মূল্যই মানুষকে একটি জায়গায় আটকে রাখে।

প্র ০৫একটি দেশের সরকার কীভাবে মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলা পর্যন্ত অফিসগুলোকে একটি নেটওয়ার্কে জোড়ে? বাংলাদেশে এই দেশজোড়া WAN কেমন করে গড়ে উঠেছে?

একটি দেশের সরকারি অফিসগুলো জোড়া মানে এই পর্বের সব ধারণা একসাথে: প্রতিটি অফিসের ভেতরে একটি LAN (switch-ভিত্তিক star), জেলা শহরে অনেক অফিস মিলে একটি MAN-এর মতো কেন্দ্র, আর সারা দেশের কেন্দ্রগুলো ফাইবার দিয়ে জুড়ে একটি WAN — যার মূল router-গুলো সাধারণত partial mesh-এ, যাতে একটি লাইন কাটলেও অন্য পথ থাকে। কেন্দ্রে থাকে একটি জাতীয় ডেটা সেন্টার, যেখানে সরকারি সেবার server চলে (client-server).

বাংলাদেশে এই কাজের একটি বড় অংশ হয়েছে ICT বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (BCC) Info-Sarkar নামের কয়েক ধাপের প্রকল্পের মাধ্যমে। প্রথম ধাপগুলোতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, জেলা আর উপজেলা পর্যায়ের বহু সরকারি অফিস একটি সরকারি নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়; পরের ধাপে সংযোগ আরও তৃণমূলের দিকে, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বাড়ানোর কাজ হয়েছে। BCC একটি জাতীয় ডেটা সেন্টারও পরিচালনা করে। এর পাশাপাশি দেশজুড়ে ফাইবার বিছানোর লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান (NTTN) আর সরকারি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইনও এই মূল কাঠামোর অংশ। (প্রকল্পের নির্দিষ্ট সংখ্যা আর সময়সীমা জানতে BCC বা ICT বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।)

এমন নেটওয়ার্কের লাভ: ভিডিও কনফারেন্সে জেলা প্রশাসনের সাথে সভা, ই-নথি (ইলেকট্রনিক ফাইল) এক অফিস থেকে আরেক অফিসে, ডিজিটাল সেন্টারগুলো থেকে নাগরিক সেবা (পর্ব ১৫) — সবকিছুর নিচে এই WAN. প্রতিটি অফিসের আলাদা ইন্টারনেট সংযোগ আর আলাদা server-এর চেয়ে খরচও কম, আর নিরাপত্তা কেন্দ্রীয়ভাবে দেখা যায়।

চ্যালেঞ্জও বাস্তব: গ্রামে ফাইবারের রক্ষণাবেক্ষণ (রাস্তা খোঁড়ায় তার কাটা পড়া খুবই সাধারণ), বিদ্যুৎ চলে গেলে switch-router চালু রাখা, দক্ষ কর্মী, আর সবচেয়ে বড় — সাইবার নিরাপত্তা। একটি দুর্বল অফিসের router বা default পাসওয়ার্ড পুরো সরকারি নেটওয়ার্কের দুর্বল দরজা হতে পারে। তাই এই পর্বের ছোট চেকলিস্ট — admin পাসওয়ার্ড বদলানো, firmware হালনাগাদ — দেশের স্তরেও একই রকম জরুরি (পর্ব ৪৩)।

মূল উপলব্ধি: দেশজোড়া ডিজিটাল সেবা কোনো জাদু নয় — এটি হাজার হাজার LAN, কয়েকটি MAN আর একটি নির্ভরযোগ্য WAN-এর স্তরে স্তরে সাজানো কাঠামো, যার শক্তি তার সবচেয়ে দুর্বল সংযোগের সমান।

অনুশীলন

প্রথম দুটি খাতা-কলমের, তৃতীয়টি নিজের কম্পিউটারে দেখার, চতুর্থটি একটি ছোট নকশা।

  1. Mesh-এর হিসাব: একটি ব্যাংকের ৮টি আঞ্চলিক অফিসের router-গুলো full mesh-এ জোড়া হবে। (ক) কয়টি লিংক লাগবে? (খ) প্রতিটি router-এ কয়টি port? (গ) নবম অফিস যোগ হলে কয়টি নতুন লিংক লাগবে?

    (ক) n(n−1)/2 = ৮ × ৭ ÷ ২ = ২৮টি। (খ) প্রতিটিতে n − 1 = ৭টি port. (গ) ৯টিতে ৯ × ৮ ÷ ২ = ৩৬, তাই নতুন ৩৬ − ২৮ = ৮টি — নতুন অফিসকে বাকি ৮ জনের প্রত্যেকের সাথে জুড়তে হয়। লক্ষ করুন, প্রতিটি নতুন সদস্য আগের চেয়ে বেশি লিংক দাবি করে; এজন্যই বাস্তবে partial mesh ব্যবহার হয়।

  2. চিনে নিন: নিচের প্রতিটি কোন ধরনের নেটওয়ার্ক (PAN/LAN/MAN/WAN), আর client-server না peer-to-peer? (ক) ল্যাপটপ থেকে Bluetooth-এ ফোনে ছবি পাঠানো; (খ) কলেজের ল্যাবে সবাই একটি server-এ রাখা অনলাইন পরীক্ষা দিচ্ছে; (গ) সারা দেশের শাখা থেকে একটি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ব্যবহার; (ঘ) চট্টগ্রাম শহরজুড়ে একটি ISP-এর ফাইবার নেটওয়ার্ক।

    (ক) PAN, peer-to-peer — দুটি সমান ডিভাইস সরাসরি। (খ) LAN, client-server — পরীক্ষার server সেবা দেয়, ল্যাবের PC-গুলো client. (গ) WAN, client-server — কেন্দ্রীয় server, শাখাগুলো client. (ঘ) MAN — শহরজুড়ে বিস্তার; গ্রাহকেরা ISP-এর সেবা নেন, তাই সেবার দিক থেকে client-server ধাঁচের।

  3. নিজের নেটওয়ার্কে উঁকি দিন: Windows-এ PowerShell বা Command Prompt খুলে ipconfig /all লিখুন। আপনার NIC বা Wi-Fi-এর Physical Address, IPv4 Address আর Default Gateway লিখে নিন। এরপর ব্রাউজারে সেই default gateway-এর ঠিকানাটি লিখলে কী আসে? (লগইন করতে বললে শুধু তখনই এগোবেন, যদি router আপনার নিজের বা দায়িত্বে থাকে।)

    Physical Address হলো আপনার NIC-এর MAC address — ছয় জোড়া হেক্স অঙ্ক (যেমন 3C-52-82-1A-9F-04; Windows ড্যাশ দিয়ে লেখে)। IPv4 Address সাধারণত 192.168.x.x ধরনের — এটি router-এর DHCP-র দেওয়া ঘরোয়া ঠিকানা। Default Gateway সাধারণত 192.168.0.1 বা 192.168.1.1 ধরনের — এটিই আপনার router. ব্রাউজারে সেটি লিখলে router-এর admin লগইন পাতা আসে। নিজের router হলে দেখুন admin পাসওয়ার্ড বদলানো আছে কি না, আর connected devices তালিকায় কয়টি ডিভাইস। অন্যের নেটওয়ার্কে অনুমতি ছাড়া লগইনের চেষ্টা করবেন না।

  4. নকশা করুন: একটি ফার্মেসি চেইনের নতুন শাখায় ৫টি কম্পিউটার (৪টি কাউন্টার, ১টি হিসাব), ১টি নেটওয়ার্ক প্রিন্টার, ১টি CCTV রেকর্ডার আর ক্রেতাদের জন্য Wi-Fi লাগবে; সংযোগ আসবে ফাইবারে। যন্ত্রের তালিকা, টপোলজি আর তিনটি নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত লিখুন।

    যন্ত্র: ISP-এর ONU; একটি router (firewall আর guest network সুবিধাসহ); ৫ + ১ + ১ + ১ (AP) = ৮টি ডিভাইস, router-এ একটি — তাই অন্তত ১৬ port-এর gigabit switch (ভবিষ্যতের জন্য খালি port); একটি access point বা Wi-Fi router-এর নিজের AP; Cat6 তার আর RJ-45; router আর switch-এর জন্য UPS.

    টপোলজি: switch-কেন্দ্রিক star — ONU → router → switch → সব PC, প্রিন্টার, CCTV আর AP. নিরাপত্তা: (১) router-এর default admin পাসওয়ার্ড বদল আর remote management বন্ধ; (২) ক্রেতাদের জন্য আলাদা guest Wi-Fi, যাতে তারা হিসাবের PC বা CCTV দেখতে না পান; (৩) firmware হালনাগাদ রাখা আর হিসাবের PC-র শেয়ার করা ফোল্ডারে শুধু নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর অনুমতি। CCTV রেকর্ডারের default পাসওয়ার্ডও বদলাতে হবে — এগুলো প্রায়ই সবচেয়ে দুর্বল দরজা।

নিজেকে যাচাই করুন

ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।

ক্রমঅফিসের একটি কম্পিউটার থেকে অন্য শহরের একটি সার্ভারে packet যাওয়ার পথ — প্রথম থেকে শেষ সাজান (▲▼ চেপে সরান)

  1. 💻 কম্পিউটারের NIC packet পাঠায়
  2. 🔀 অফিসের switch MAC দেখে router-এর port-এ দেয়
  3. 📶 router IP দেখে ISP-এর দিকে পাঠায়
  4. 🏙️ ISP-এর শহরের নেটওয়ার্ক (MAN)
  5. 🛣️ দেশজোড়া WAN-এর router-গুলো
  6. 🗄️ ডেটা সেন্টারের সার্ভার

কোন টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার আলাদা তারে একটি কেন্দ্রীয় hub বা switch-এ যুক্ত থাকে?

  • Bus
  • Ring
  • Star
  • Mesh

Hub আর switch-এর মূল পার্থক্য কোনটি?

  • hub শুধু প্রাপকের port-এ পাঠায়, switch সব port-এ
  • switch MAC address দেখে শুধু প্রাপকের port-এ পাঠায়, hub সব port-এ
  • switch IP address দেখে এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে পাঠায়
  • hub তারে চলে, switch শুধু Wi-Fi-তে

নিচের কোনটি MAN (Metropolitan Area Network)-এর উপযুক্ত উদাহরণ?

  • একটি শহরজুড়ে বিস্তৃত ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক
  • মোবাইল ফোনের সাথে Bluetooth ইয়ারফোন
  • একটি স্কুলের কম্পিউটার ল্যাব
  • ইন্টারনেট

Router-এর প্রধান কাজ কোনটি?

  • দুর্বল সংকেতকে শক্তিশালী করে আবার পাঠানো
  • digital সংকেতকে analog-এ রূপান্তর করা
  • এক port-এ আসা সংকেত বাকি সব port-এ পাঠানো
  • IP address দেখে ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে packet-এর পথ বাছাই করা

৬টি কম্পিউটারকে full mesh টপোলজিতে যুক্ত করতে মোট কয়টি সংযোগ-তার লাগবে?

  • 6
  • 5
  • 15
  • 30

ফাইবার অপটিক ব্রডব্যান্ড সংযোগে বাসায় বসানো যে যন্ত্র আলোর সংকেতকে বৈদ্যুতিক সংকেতে (এবং উল্টোটা) রূপান্তর করে, তার নাম কী?

  • Switch
  • ONU (বা ONT)
  • Repeater
  • Bridge

শব্দকোষ

লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:

মনে রাখুন

  1. নেটওয়ার্ক = দুই বা তার বেশি ডিভাইসের সংযোগ, ডেটা আর সম্পদ ভাগের জন্য। এলাকাভেদে PAN < LAN < CAN < MAN < WAN; ইন্টারনেট সবচেয়ে বড় WAN.
  2. Client-server-এ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ আর বড় হওয়ার ক্ষমতা, কিন্তু server-ই দুর্বল জায়গা; peer-to-peer সস্তা, ছোট নেটওয়ার্কে ভালো।
  3. Bus-এ মূল তার, ring-এ যেকোনো লিংক, star-এ কেন্দ্রের switch — প্রতিটির দুর্বল বিন্দু আলাদা। আজ switch-ভিত্তিক star/tree প্রচলিত; full mesh-এ লিংক n(n−1)/2.
  4. Hub সবাইকে পাঠায়, switch MAC শিখে একজনকে, router IP দেখে নেটওয়ার্ক থেকে নেটওয়ার্কে, modem/ONU সংকেতের রূপ বদলায়, gateway ভিন্ন protocol-এর মধ্যে অনুবাদ করে।
  5. ছোট অফিস: ONU → router → switch → PC, প্রিন্টার, AP; default পাসওয়ার্ড বদল, guest Wi-Fi, firmware হালনাগাদ। AI-এর নকশা নিন, কিন্তু প্রতিটি নিরাপত্তা-সেটিং নিজে যাচাই করুন।

পরের পর্বে: রাজশাহী থেকে ঢাকায় packet তো পৌঁছাল — কিন্তু ঠিকানাগুলো আসে কোথা থেকে? IP address, DNS কীভাবে নামকে ঠিকানায় বদলায়, TCP/IP-এর স্তর আর HTTP দিয়ে একটি ওয়েবপাতা খোলার পুরো গল্প।

আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ

এই পর্বটি শেয়ার করুন:
এই পর্বে ভুল পেয়েছেন? জানান