এই পর্বে যা শিখবেন
- রেডিও তরঙ্গ, frequency আর wavelength — আর কেন বেশি frequency-তে গতি বাড়ে কিন্তু দূরত্ব কমে
- Bluetooth, Wi-Fi আর WiMAX-এর পরিসর, গতি আর IEEE standard — HSC-ধাঁচের তুলনা-টেবিলসহ
- Wi-Fi-তে যুক্ত হওয়ার পুরো যাত্রা, ২.৪ বনাম ৫ GHz, router-এর নিরাপত্তা আর পাবলিক Wi-Fi-এর ঝুঁকি
- infrared, NFC আর RFID — ট্যাপ করে পেমেন্ট আর মেট্রোর কার্ড কীভাবে কাজ করে
- মোবাইল নেটওয়ার্কের cell, টাওয়ার, SIM, handover; 1G থেকে 5G; বাংলাদেশে মোবাইলের পথচলা, রেডিয়েশন নিয়ে ভুল ধারণা আর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
১ · তার ছাড়া ডেটা — রেডিও তরঙ্গ, frequency আর wavelength
পর্ব ৩০-এ দেখেছেন, ডেটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে একটি মাধ্যম লাগে — তামার তার, অপটিক্যাল ফাইবার, অথবা বাতাস। এই পর্ব পুরোটাই শেষ মাধ্যমটি নিয়ে। আপনার ফোন এই মুহূর্তে হয়তো একসাথে চারটি ওয়্যারলেস সংযোগ চালাচ্ছে: ইয়ারবাডে Bluetooth, বাসার Wi-Fi, মোবাইল অপারেটরের 4G, আর ম্যাপের জন্য GPS. চারটিই একই প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহার করে — রেডিও তরঙ্গ.
ওয়্যারলেস যোগাযোগ মানে তারের বদলে electromagnetic তরঙ্গে চড়িয়ে ডেটা পাঠানো। পাঠানো যন্ত্রের অ্যান্টেনা তরঙ্গের আকার একটু একটু বদলে বাইনারি ১ আর ০ বসায়, আর গ্রহণকারী যন্ত্র সেই বদল পড়ে ডেটা ফিরে পায়। প্রতিটি প্রযুক্তি চারটি জিনিসের মধ্যে আপস করে — দূরত্ব, গতি, বিদ্যুৎ খরচ আর দাম। তাই কোনো একটি প্রযুক্তি সব কাজের জন্য সেরা নয়।
তরঙ্গের দুই মাপ — frequency আর wavelength
পুকুরে ঢিল ফেললে ঢেউ ছড়ায়। এক সেকেন্ডে কতগুলো ঢেউ একটি খুঁটি পার হয়, সেটি frequency — মাপা হয় hertz (Hz) এককে। পাশাপাশি দুটি ঢেউয়ের চূড়ার মধ্যের দূরত্ব wavelength. রেডিও তরঙ্গ চলে আলোর গতিতে (প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডে), তাই দুইয়ের সম্পর্ক সরল:
c = f × λ → ২.৪ GHz-এ λ ≈ ১২.৫ সেমি, ৫ GHz-এ λ ≈ ৬ সেমিfrequency যত বাড়ে, wavelength তত ছোট হয়। রেডিও, মোবাইল, Wi-Fi, infrared, দৃশ্যমান আলো, X-ray — সব একই electromagnetic spectrum-এর অংশ, পার্থক্য শুধু frequency-তে:
| প্রযুক্তি | মোটামুটি frequency | মোটামুটি wavelength |
|---|---|---|
| FM রেডিও | ৮৮–১০৮ MHz | প্রায় ৩ মিটার |
| মোবাইল নেটওয়ার্ক (2G থেকে 4G) | সাধারণত ৭০০ MHz থেকে ২.৬ GHz | কয়েক দশ সেন্টিমিটার |
| Bluetooth, Wi-Fi (২.৪ GHz) | ২.৪ GHz | প্রায় ১২.৫ সেমি |
| Wi-Fi (৫ ও ৬ GHz), 5G-এর মাঝারি band | ৩.৫ থেকে ৭ GHz | ৪–৯ সেমি |
| 5G mmWave | প্রায় ২৪–৪০ GHz | কয়েক মিলিমিটার |
| Infrared (টিভির রিমোট) | কয়েকশো THz | এক মিলিমিটারের হাজার ভাগের এক ভাগের কাছাকাছি |
বড় নিয়ম — বেশি frequency, বেশি গতি, কম দূরত্ব
বেশি frequency-র এলাকায় খালি জায়গা (চওড়া channel) বেশি পাওয়া যায়, আর চওড়া channel মানে প্রতি সেকেন্ডে বেশি bit — পর্ব ৩০-এর bandwidth-এর ধারণা। কিন্তু ছোট wavelength-এর তরঙ্গ দেয়াল, গাছ, বৃষ্টি, এমনকি মানুষের শরীরেও বেশি শোষিত হয়, আর দূরত্বের সাথে দ্রুত দুর্বল হয়। কম frequency-র তরঙ্গ দূরে যায়, ইট-কংক্রিট ভেদ করে, কিন্তু তাতে ডেটার জায়গা কম।
উপমা: পাশের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে বড় সাউন্ড বক্স বাজছে। আপনার ঘরের দেয়াল পেরিয়ে আসছে শুধু ঢিমঢিম বেজ (কম frequency) — গানের কথা আর বাঁশির সুর (বেশি frequency) দেয়ালে আটকে গেছে। রেডিও তরঙ্গও তেমন: কম frequency দূরে যায়, বেশি frequency বেশি “কথা” বহন করে কিন্তু কাছেই থেমে যায়।
চার মাপের ওয়্যারলেস
Bluetooth
কয়েক মিটার — ফোন আর ইয়ারবাড, ঘড়ি, কিবোর্ড। ব্যাটারি খরচ খুব কম। একজন মানুষের চারপাশের PAN.
মিটারWi-Fi
কয়েক দশ মিটার — একটি বাসা, অফিস বা ক্যাম্পাস। গতি বেশি, খরচ কম, লাইসেন্স লাগে না।
ঘর-বাড়িমোবাইল নেটওয়ার্ক
হাজার হাজার টাওয়ার মিলে পুরো দেশ — চলতে চলতেও সংযোগ থাকে। অপারেটরকে frequency কিনতে হয়।
দেশজুড়েস্যাটেলাইট
যেখানে টাওয়ার নেই — সাগর, পাহাড়, দুর্গম চর। আকাশে উপগ্রহ, মাটিতে ছোট ডিশ।
সব জায়গাএকটি জরুরি পার্থক্য: বাতাস সবার, কিন্তু frequency সীমিত সম্পদ। তাই প্রতিটি দেশে সরকার frequency ভাগ করে দেয়। বাংলাদেশে এই কাজ করে BTRC (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন)। মোবাইল অপারেটররা নিলামে টাকা দিয়ে নির্দিষ্ট band-এর লাইসেন্স কেনে — spectrum auction. অন্যদিকে ২.৪ GHz আর ৫ GHz-এর কিছু অংশ লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবহার করা যায় (ISM ও সমজাতীয় band) — এজন্যই যে কেউ দোকান থেকে Wi-Fi router কিনে চালাতে পারেন।
২ · Bluetooth — কয়েক মিটারের ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক
Bluetooth তৈরি হয়েছিল একটি সরল উদ্দেশ্যে: ফোন, হেডসেট, কম্পিউটারের মধ্যের ছোট ছোট তার সরিয়ে দেওয়া। কাজ শুরু করে সুইডেনের Ericsson, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি; ১৯৯৮ সালে কয়েকটি বড় কোম্পানি মিলে গড়ে Bluetooth SIG, যারা আজও standard দেখভাল করে। মূল নকশাটি IEEE 802.15.1 নামেও প্রকাশিত হয়েছিল। Bluetooth চলে লাইসেন্স-মুক্ত ২.৪ GHz band-এ।
পরিসর — class অনুযায়ী
| Class | সাধারণ পরিসর | কোথায় দেখা যায় |
|---|---|---|
| Class 1 | প্রায় ১০০ মিটার | কিছু USB adapter, শিল্প-যন্ত্র |
| Class 2 | প্রায় ১০ মিটার | বেশিরভাগ ফোন, হেডসেট — পরীক্ষায় “Bluetooth-এর পরিসর” বলতে সাধারণত এটি |
| Class 3 | প্রায় ১ মিটার | খুব কম শক্তির যন্ত্র |
সংস্করণ আর BLE
- প্রথম দিকের Bluetooth (১৯৯৯ থেকে): প্রায় ১ Mbps; ২০০৪ সালের 2.0 + EDR-এ প্রায় ৩ Mbps. গান শোনা আর ফাইল পাঠানোর যুগ।
- Bluetooth 4.0 (২০১০): এল Bluetooth Low Energy (BLE) — অল্প অল্প ডেটা, অনেক কম বিদ্যুৎ। একটি বোতাম-ব্যাটারিতে ফিটনেস ব্যান্ড বা ট্র্যাকার মাসের পর মাস চলে।
- Bluetooth 5 (২০১৬) ও পরের সংস্করণ: BLE-তে বেশি গতি বা বেশি দূরত্বের বিকল্প, আর পরে LE Audio — কম খরচে ভালো মানের শব্দ।
একই ২.৪ GHz-এ Wi-Fi, প্রতিবেশীর Bluetooth, ওভেন — সবাই ভিড় করে। Bluetooth এই ভিড় সামলায় frequency hopping দিয়ে: পুরোনো (classic) Bluetooth ৭৯টি ছোট channel-এর মধ্যে সেকেন্ডে প্রায় ১৬০০ বার লাফিয়ে বেড়ায়, আর দুই প্রান্ত আগে থেকেই জানে পরের লাফ কোথায়। একটি channel-এ গোলমাল থাকলে সেই মুহূর্তের সামান্য ডেটা হারায়, বাকিটা ঠিক থাকে। (এই ধারণার ইতিহাস জানতে প্র ০২ দেখুন।)
Pairing — প্রথম পরিচয়
নতুন ইয়ারবাড প্রথমবার ফোনে লাগাতে হয় pairing করে: ইয়ারবাড নিজেকে “discoverable” করে নাম ঘোষণা করে, ফোন তালিকায় নাম দেখায়, আপনি বাছেন, দরকার হলে দুই পর্দায় একই ৬ অঙ্কের কোড মিলিয়ে নেন। এরপর দুই যন্ত্র একটি গোপন চাবি জমা রাখে, তাই পরের বার আপনা-আপনি যুক্ত হয়। অচেনা pairing অনুরোধ গ্রহণ করবেন না, আর ফোনের সফটওয়্যার আপডেট রাখুন।
৩ · Wi-Fi — বাসা আর অফিসের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক
Wi-Fi হলো IEEE 802.11 পরিবারের standard মেনে চলা ওয়্যারলেস LAN — বাসা, অফিস, ক্যাম্পাসের ভেতরের নেটওয়ার্ক (LAN-এর বিস্তারিত পর্ব ৩২-এ)। প্রথম 802.11 standard এসেছিল ১৯৯৭ সালে, গতি মাত্র ২ Mbps. “Wi-Fi” নামটি আসলে Wi-Fi Alliance নামের একটি শিল্প-জোটের ট্রেডমার্ক। অনেক বই আর পরীক্ষায় একে “Wireless Fidelity” লেখা হয়, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এটি কোনো শব্দের সংক্ষেপ নয়। ২০১৮ সালে Wi-Fi Alliance জটিল নামের বদলে সহজ সংখ্যা চালু করে:
| নাম | IEEE standard | সাল (মোটামুটি) | Band | তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ গতি |
|---|---|---|---|---|
| — | 802.11b / a / g | ১৯৯৯–২০০৩ | ২.৪ / ৫ / ২.৪ GHz | ১১ / ৫৪ / ৫৪ Mbps |
| Wi-Fi 4 | 802.11n | ২০০৯ | ২.৪ ও ৫ GHz | ৬০০ Mbps পর্যন্ত |
| Wi-Fi 5 | 802.11ac | ২০১৩ | ৫ GHz | কয়েক Gbps (সাধারণত ৩.৫ Gbps উল্লেখ করা হয়) |
| Wi-Fi 6 | 802.11ax | ২০১৯ | ২.৪ ও ৫ GHz | প্রায় ৯.৬ Gbps |
| Wi-Fi 6E | 802.11ax | ২০২০ | ৬ GHz যোগ হলো | Wi-Fi 6-এর মতোই, তবে ফাঁকা নতুন band |
| Wi-Fi 7 | 802.11be | ২০২৪ | ২.৪, ৫ ও ৬ GHz | কয়েক দশ Gbps (তাত্ত্বিক) |
বাক্সের সংখ্যা ≠ আপনার গতি। router-এর বাক্সে লেখা “AX3000” বা “৯.৬ Gbps” হলো আদর্শ ল্যাবে, সব antenna আর সব band একসাথে যোগ করে পাওয়া তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ। বাস্তবে একটি ফোন সাধারণত তার অনেক কম পায়, আর আপনার ইন্টারনেটের গতি শেষ পর্যন্ত আটকে থাকে ISP-এর প্যাকেজে — ২০ Mbps-এর লাইনে Wi-Fi 7 router বসালেও ইন্টারনেট ২০ Mbps-ই থাকবে। সাথে মনে রাখুন: “Wi-Fi 6” একটি প্রজন্মের নাম, “৬ GHz” একটি band — দুটো আলাদা জিনিস।
Router, access point আর SSID
বাসায় ISP-র ফাইবার বা তার এসে ঢোকে একটি ছোট বাক্সে (ফাইবারে সাধারণত ONU), তারপর যায় router-এ। ঘরের সাধারণ Wi-Fi router আসলে তিন যন্ত্র এক বাক্সে: ইন্টারনেট আর ঘরের নেটওয়ার্কের মাঝে রাস্তা দেখানো router, কয়েকটি তারের পোর্টের switch, আর রেডিও তরঙ্গে যন্ত্রগুলোকে যুক্ত করা access point. বড় অফিসে অনেকগুলো access point একই নামে চলে, তাই হাঁটতে হাঁটতেও সংযোগ থাকে (বাসায় একে প্রায়ই “mesh Wi-Fi” বলে)।
প্রতিটি Wi-Fi নেটওয়ার্কের একটি নাম থাকে — SSID — যেটি আপনি ফোনের Wi-Fi তালিকায় দেখেন। এবার দেখুন, তালিকা থেকে একটি নাম বেছে নেওয়ার পর ইন্টারনেট পাওয়া পর্যন্ত কী কী ঘটে:
- Scan
SSID তালিকাbeacon শোনা - বাছাই
Rahman_Homeassociate - WPA2/WPA3
handshakeপাসওয়ার্ড যাচাই - DHCP
192.168.0.105IP ঠিকানা - ইন্টারনেট
router → ISPসংযুক্ত
- খোঁজা। প্রতিটি access point সেকেন্ডে কয়েকবার একটি ছোট ঘোষণা (beacon) পাঠায়: “আমার নাম Rahman_Home, আমি WPA2/WPA3 ব্যবহার করি।” আপনার ফোন বিভিন্ন channel শুনে এই ঘোষণা জড়ো করে তালিকা দেখায় — পাশের ফ্ল্যাটের নেটওয়ার্কগুলোও তাই দেখা যায়।
- বাছাই আর associate. আপনি নামটি চাপলেন। ফোন access point-কে জানায় সে যুক্ত হতে চায়, আর দুজনে ঠিক করে নেয় কোন গতি আর কোন সুবিধা দুজনেই সমর্থন করে।
- পাসওয়ার্ড যাচাই — handshake. পাসওয়ার্ড কিন্তু বাতাসে সরাসরি পাঠানো হয় না। WPA2-তে দুই পক্ষ কয়েকটি বার্তা বিনিময় করে প্রমাণ করে যে দুজনেই একই পাসওয়ার্ড জানে, আর সেখান থেকে এই সংযোগের জন্য নতুন এনক্রিপশন চাবি বানায় (four-way handshake); WPA3 আরও শক্ত একটি পদ্ধতি যোগ করেছে। ভুল পাসওয়ার্ড হলে এখানেই “Authentication problem” দেখায়।
- ঠিকানা পাওয়া — DHCP. এখন ফোন নেটওয়ার্কে ঢুকেছে, কিন্তু তার কোনো IP ঠিকানা নেই। router-এর DHCP সেবা তাকে একটি ঠিকানা (যেমন 192.168.0.105), gateway আর DNS সার্ভারের ঠিকানা ধার দেয় — বিস্তারিত পর্ব ৩৩-এ।
- ইন্টারনেট। এখন থেকে প্রতিটি packet এনক্রিপ্ট হয়ে বাতাসে router-এ যায়, router তা ISP-র লাইনে তুলে দেয়। Wi-Fi চিহ্ন পূর্ণ হলো। কিন্তু মনে রাখুন, “Wi-Fi সংযুক্ত” মানেই ইন্টারনেট আছে এমন নয় — ISP-র লাইন কাটা থাকলে ফোন দেখায় “No internet”.
২.৪ GHz, ৫ GHz আর ৬ GHz
আধুনিক router সাধারণত দুটি (কখনো তিনটি) band-এ একসাথে চলে — “dual-band”. ২.৪ GHz band সরু, তাতে একে অপরের ওপর না পড়া channel মাত্র তিনটি (১, ৬ আর ১১), আর পুরো ফ্ল্যাট-বাড়ির router, Bluetooth আর ওভেন সেখানে ভিড় করে। ৫ GHz-এ channel অনেক বেশি আর চওড়া — গতি বেশি, ভিড় কম। ৬ GHz (Wi-Fi 6E ও 7) আরও ফাঁকা, কিন্তু পরিসর আরও কম, আর পুরোনো যন্ত্র এটি চেনে না। নিচে একটি ফ্ল্যাটে দুটি band-কে পাশাপাশি দেখুন:
| আপনি কোথায় | |
| ২.৪ GHz সংকেত | |
| ২.৪ GHz আনুমানিক গতি | |
| ৫ GHz সংকেত | |
| ৫ GHz আনুমানিক গতি |
- router-এর পাশে। কোনো বাধা নেই। দুই band-ই পূর্ণ, কিন্তু ৫ GHz-এর চওড়া channel প্রায় চারগুণ গতি দিচ্ছে। এখানে ভিডিও কল বা বড় ফাইল নামানোর জন্য ৫ GHz স্পষ্ট বিজয়ী। (সংখ্যাগুলো একটি সাধারণ বাসার উদাহরণ — আপনার router, ফোন আর দেয়ালের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।)
- এক দেয়াল। ইট-সিমেন্টের দেয়াল ছোট wavelength-এর ৫ GHz তরঙ্গের শক্তি বেশি শোষণ করে। ৫ GHz এখনো দ্রুত, তবে অর্ধেকে নেমেছে; ২.৪ GHz সামান্যই কমেছে।
- দুই দেয়াল। পার্থক্য উল্টে যাচ্ছে। ৫ GHz-এর সংকেত এত দুর্বল যে ফোনকে ধীর পদ্ধতিতে নামতে হচ্ছে; ২.৪ GHz এখন প্রায় সমান বা বেশি গতি দিচ্ছে। রান্নাঘরের ফ্রিজ আর ধাতব আলমারিও তরঙ্গ আটকায়।
- তিন দেয়াল আর বাথরুম। বাথরুমের টাইলস আর পানির পাইপ, ঢালাই-লোহার গ্রিল — তরঙ্গের বড় শত্রু। ৫ GHz প্রায় হারিয়ে গেছে, বারবার কেটে যাচ্ছে। ২.৪ GHz দুর্বল হলেও মেসেজ আর গান চলবে।
- সিদ্ধান্ত। এজন্যই আধুনিক router দুই band একসাথে চালায়, আর ফোন প্রায়ই নিজে থেকে কাছে ৫ GHz, দূরে ২.৪ GHz বেছে নেয়। বড় বাসায় সমাধান router মাঝখানে উঁচু জায়গায় রাখা, বা দ্বিতীয় access point বা mesh যোগ করা।
৪ · Wi-Fi-এর নিরাপত্তা, hotspot আর পাবলিক Wi-Fi
তারের নেটওয়ার্কে ঢুকতে হলে তারে হাত দিতে হয়। ওয়্যারলেসে তরঙ্গ দেয়াল পেরিয়ে রাস্তায়ও যায় — পাশের ফ্ল্যাটের যে কেউ সংকেত ধরতে পারে। তাই এনক্রিপশন আর পাসওয়ার্ডই এখানে দরজার তালা।
| পদ্ধতি | অবস্থা | কী করবেন |
|---|---|---|
| Open (পাসওয়ার্ড নেই) | সব ডেটা খোলা বাতাসে | বাসায় কখনো নয় |
| WEP (১৯৯৭) | বহু আগেই ভাঙা, কয়েক মিনিটে ভাঙা যায় | থাকলে বদলান |
| WPA2 (২০০৪) | এখনো প্রচলিত, শক্ত পাসওয়ার্ডে নিরাপদ | অন্তত এটি রাখুন |
| WPA3 (২০১৮) | সবচেয়ে আধুনিক; পাসওয়ার্ড অনুমান করে ভাঙা অনেক কঠিন | router আর ফোন সমর্থন করলে এটি বা “WPA2/WPA3 mixed” বেছে নিন |
বাসার router — পাঁচটি জরুরি অভ্যাস
Hotspot আর পাবলিক Wi-Fi
যেখানে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট পাওয়া যায়, সেই জায়গা বা ব্যবস্থাকে hotspot বলে — ক্যাফে, বিমানবন্দর, রেলস্টেশনের Wi-Fi. আপনার ফোনও hotspot হতে পারে: “Mobile hotspot” চালু করলে ফোন নিজের মোবাইল ডেটা একটি ছোট Wi-Fi নেটওয়ার্ক বানিয়ে ল্যাপটপকে দেয় (tethering).
পাবলিক Wi-Fi-তে সাবধান থাকুন। একই নেটওয়ার্কের অন্য কেউ এনক্রিপশনহীন ডেটা দেখতে পারে, আর কেউ আসল নামের মতো নকল নেটওয়ার্কও খুলে বসতে পারে। বেশিরভাগ সাইট এখন HTTPS ব্যবহার করে বলে ঝুঁকি কম, তবু:
- পাবলিক Wi-Fi-তে ব্যাংকিং, bKash/Nagad বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে লগইন এড়িয়ে চলুন; দরকার হলে নিজের মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন।
- নেটওয়ার্কের সঠিক নাম কর্তৃপক্ষের কাছে জেনে নিন; ব্রাউজার সার্টিফিকেট-সতর্কতা দেখালে এগোবেন না।
- ফোনের “Auto-connect to open networks” বন্ধ রাখুন; কাজ শেষে নেটওয়ার্কটি “Forget” করুন। বিস্তারিত নিরাপত্তা পর্ব ৪৩-এ।
৫ · WiMAX, infrared, NFC আর RFID
WiMAX — শহরজুড়ে ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড
WiMAX (Worldwide Interoperability for Microwave Access) হলো IEEE 802.16 standard-এর বাণিজ্যিক নাম। লক্ষ্য ছিল তার না টেনেই কয়েক কিলোমিটার থেকে কয়েক দশ কিলোমিটার জুড়ে ব্রডব্যান্ড দেওয়া — একটি MAN আকারের নেটওয়ার্ক (পর্ব ৩২)। বাংলাদেশে ২০০৮ সালের দিকে BTRC WiMAX লাইসেন্স দেয়, আর Banglalion ও Qubee-র মতো প্রতিষ্ঠান শহরে USB মডেম আর ছোট বাক্সে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট দিত — তখন মোবাইলে দ্রুত ইন্টারনেট ছিল না। পরে 3G আর বিশেষ করে 4G (LTE) ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়েই WiMAX পিছিয়ে পড়ে, আর বাংলাদেশেও এসব সেবা এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। তবু HSC ICT-তে Bluetooth, Wi-Fi আর WiMAX-এর তুলনা খুব পরিচিত প্রশ্ন:
| বিষয় | Bluetooth | Wi-Fi | WiMAX |
|---|---|---|---|
| IEEE standard | 802.15.1 | 802.11 | 802.16 |
| নেটওয়ার্কের ধরন | PAN | LAN (WLAN) | MAN (WMAN) |
| সাধারণ পরিসর | প্রায় ১০ মিটার (class 2); ১০০ মিটার পর্যন্ত (class 1) | ঘরের ভেতরে কয়েক দশ মিটার, খোলা জায়গায় ১০০ মিটারের কাছাকাছি | কয়েক কিলোমিটার; তাত্ত্বিকভাবে কয়েক দশ কিলোমিটার |
| গতি (মোটামুটি) | ১–৩ Mbps (classic), BLE ২ Mbps পর্যন্ত | সংস্করণভেদে কয়েক দশ Mbps থেকে কয়েক Gbps | কয়েক দশ Mbps (তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ Mbps বলা হতো) |
| Frequency | ২.৪ GHz | ২.৪, ৫, ৬ GHz | সাধারণত ২–১১ GHz-এর বিভিন্ন band |
| বিদ্যুৎ খরচ | খুব কম | মাঝারি | বেশি |
| সাধারণ ব্যবহার | ইয়ারবাড, ঘড়ি, কিবোর্ড | বাসা, অফিস, ক্যাফে | শহর বা এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট (এখন প্রায় অপ্রচলিত) |
Infrared — চোখে না দেখা আলো
টিভির রিমোট চাপলে সামনের ছোট বাতি থেকে infrared আলো জ্বলে-নেভে, আর টিভি সেই ঝলকানির ছন্দ পড়ে। infrared দেয়াল ভেদ করতে পারে না, তাই যন্ত্র দুটিকে মুখোমুখি থাকতে হয় (line of sight), দূরত্বও কম। একসময় ফোনে IrDA নামে infrared দিয়ে ফাইল পাঠানো যেত; Bluetooth আসার পর তা হারিয়ে গেছে। দেয়াল ভেদ না করাটা এখানে সুবিধাও — পাশের ঘরের টিভি আপনার রিমোটে বদলায় না।
RFID — ব্যাটারি ছাড়া ট্যাগ
RFID (Radio Frequency Identification)-এ একটি ছোট ট্যাগে চিপ আর অ্যান্টেনা থাকে। বেশিরভাগ ট্যাগ “passive” — তাদের নিজস্ব ব্যাটারি নেই; reader যন্ত্রের পাঠানো রেডিও তরঙ্গ থেকেই সামান্য শক্তি নিয়ে নিজের পরিচয়-নম্বর ফেরত পাঠায়। ব্যবহার: পোশাক-কারখানা আর দোকানের মজুদ হিসাব, লাইব্রেরির বই, অফিসের প্রবেশ-কার্ড, প্রাণীর শরীরে চিপ, আর অনেক দেশের হাইওয়েতে গাড়ির কাচে লাগানো ট্যাগ — গাড়ি না থামিয়েই টোল কাটা যায়। বারকোডের সাথে পার্থক্য: RFID পড়তে ট্যাগ দেখতে হয় না, কয়েকটি একসাথেও পড়া যায়।
NFC — কয়েক সেন্টিমিটারের ইচ্ছাকৃত ছোঁয়া
NFC (Near Field Communication) হলো RFID-এর একটি বিশেষ, খুব কম দূরত্বের রূপ — ১৩.৫৬ MHz-এ, সাধারণত মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার (প্রায় ৪ সেমি) দূরত্বে কাজ করে। এই ছোট দূরত্বটাই এর নিরাপত্তা-নকশা: আপনি ইচ্ছা করে যন্ত্র কাছে না আনলে লেনদেন হয় না। ব্যবহার: contactless ব্যাংক কার্ড আর ফোন দিয়ে “tap to pay”, ফোন থেকে ফোনে দ্রুত pairing, স্মার্ট পোস্টার। ঢাকা মেট্রোরেলের MRT পাস আর Rapid Pass-ও এক ধরনের contactless smart card — গেটের reader-এ ছোঁয়ালেই ভাড়া কাটে; এগুলো NFC-ঘরানার কাছাকাছি-দূরত্বের RFID প্রযুক্তিতে চলে।
- দোকানের যন্ত্র
৳৪৫০১৩.৫৬ MHz ক্ষেত্র - ফোন কাছে
~৪ সেমিআঙুলছাপ/PIN - Token
এককালীন কোডআসল নম্বর নয় - ব্যাংক
অনুমোদনইন্টারনেটে
- যন্ত্র প্রস্তুত। ক্যাশিয়ার দাম লিখলেন। দোকানের পেমেন্ট যন্ত্র (POS) ১৩.৫৬ MHz-এ একটি ছোট চৌম্বক-ক্ষেত্র তৈরি করে অপেক্ষা করছে — এটি কয়েক সেন্টিমিটারের বেশি পৌঁছায় না।
- ফোন ছোঁয়ানো। আপনি ফোনের wallet অ্যাপে আঙুলছাপ বা PIN দিয়ে সম্মতি দিলেন, তারপর ফোন যন্ত্রের কাছে আনলেন। দুই যন্ত্র কয়েক সেন্টিমিটারের মধ্যে আসতেই NFC সংযোগ হলো — পকেটে থাকা অবস্থায় দূর থেকে কেউ টাকা কাটতে পারবে না।
- আসল কার্ড নম্বর নয়, token. ফোন আপনার আসল কার্ড নম্বর পাঠায় না; পাঠায় একটি বদলি নম্বর (token) আর এই লেনদেনের জন্য বানানো একবার-ব্যবহারযোগ্য কোড। কেউ সেটি চুরি করলেও পরের লেনদেনে কাজে লাগবে না।
- ব্যাংকের অনুমোদন। POS যন্ত্র ইন্টারনেটে কার্ড নেটওয়ার্ক আর ব্যাংকে তথ্য পাঠায়, ব্যাংক যাচাই করে “অনুমোদিত” ফেরত দেয়। পুরো কাজ এক-দুই সেকেন্ডে। লক্ষ করুন, NFC শুধু শেষ কয়েক সেন্টিমিটারের সেতু — বাকি পথ তারের বা মোবাইল নেটওয়ার্কের।
৬ · মোবাইল নেটওয়ার্ক — cell, টাওয়ার, SIM আর handover
Wi-Fi-এর পরিসর একটি বাসা। কিন্তু আপনি তো ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথেও কথা বলেন। এটা সম্ভব করে cellular network. পুরো দেশকে ছোট ছোট এলাকায় ভাগ করা হয়; প্রতিটি এলাকার নাম cell, আর প্রতিটির কেন্দ্রে থাকে একটি base station — বাড়ির ছাদে বা মাঠে যে মোবাইল টাওয়ার দেখেন, তার অ্যান্টেনা আর যন্ত্রপাতি। শহরে মানুষ বেশি, তাই cell ছোট (কয়েকশো মিটার); গ্রামে cell বড় (কয়েক কিলোমিটার)। টাওয়ারগুলো তার বা মাইক্রোওয়েভ লিংকে অপারেটরের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কে (core network) যুক্ত।
কেন একটি বিশাল টাওয়ার নয়, হাজার হাজার ছোট? কারণ frequency সীমিত। দূরের দুটি cell একই frequency আবার ব্যবহার করতে পারে, কারণ তাদের সংকেত একে অপরের কাছে পৌঁছায় না — একে frequency reuse বলে। cell যত ছোট, একই frequency তত বেশিবার ব্যবহার হয়, তত বেশি মানুষ একসাথে কথা বলতে পারে। এই বুদ্ধিই “cellular” নামের উৎস।
SIM — নেটওয়ার্কে আপনার পরিচয়পত্র
SIM (Subscriber Identity Module) একটি ছোট চিপ-কার্ড, যার ভেতরে থাকে আপনার গ্রাহক-পরিচয় নম্বর (IMSI) আর একটি গোপন চাবি। ফোন চালু হলে নেটওয়ার্ক একটি ধাঁধা পাঠায়, SIM গোপন চাবি দিয়ে উত্তর বানায় — চাবিটি কখনো বাতাসে যায় না। এভাবে নেটওয়ার্ক নিশ্চিত হয় আপনিই আসল গ্রাহক। বাংলাদেশে SIM কিনতে NID আর আঙুলছাপ দিয়ে biometric নিবন্ধন করতে হয়। eSIM-এ কোনো খোলা-লাগানো কার্ড নেই; চিপটি ফোনের ভেতরেই বসানো, আর অপারেটরের প্রোফাইল QR কোড স্ক্যান করে নামানো যায়। SIM-এর নিয়ন্ত্রণই অনেক অ্যাকাউন্টের OTP-র চাবি — তাই কেউ প্রতারণা করে আপনার নম্বরের নতুন SIM তুলে নিলে (SIM swap) বিপদ বড়।
Handover — চলন্ত বাসে কথা না থামার রহস্য
| বাস কোথায় | |
| টাওয়ার A-র সংকেত | |
| টাওয়ার B-র সংকেত | |
| কলটি যাচ্ছে | |
| আপনি যা টের পান |
- কল শুরু। সাভারে আপনার ফোন সবচেয়ে কাছের টাওয়ার A-র সাথে যুক্ত। কথা বলার সময়ও ফোন চুপচাপ আশেপাশের অন্য টাওয়ারগুলোর সংকেত মাপতে থাকে আর ফলাফল নেটওয়ার্ককে জানায়।
- দূরত্ব বাড়ছে। বাস এগোচ্ছে, A-র সংকেত কমছে, সামনের টাওয়ার B-র সংকেত বাড়ছে। কল তখনো A দিয়েই যাচ্ছে।
- নেটওয়ার্কের সিদ্ধান্ত। ফোনের মাপের রিপোর্ট দেখে নেটওয়ার্ক বুঝল, B এখন প্রায় সমান ভালো এবং আরও ভালো হবে। সে B-কে আগেই জানিয়ে রাখল: “একটি কল আসছে, একটি channel তৈরি রাখো।” সিদ্ধান্তটা ফোন একা নেয় না, নেটওয়ার্ক নেয়।
- Handover. নির্দেশ পেয়ে ফোন এক মুহূর্তে A ছেড়ে B-র channel-এ চলে গেল, আর কলের পথও B দিয়ে ঘুরে গেল। এই বদলের নাম handover (আমেরিকায় handoff). 2G-তে এটি “আগে ছাড়ো, পরে ধরো” — কয়েক মিলিসেকেন্ডের ফাঁক; 3G-র কিছু ব্যবস্থায় কিছুক্ষণ দুই টাওয়ারের সাথে একসাথে যুক্ত থাকা যেত (soft handover).
- নতুন টাওয়ারে স্বাভাবিক। আপনি কিছু টের পাননি — হয়তো এক ঝলক শব্দের সামান্য বিকৃতি। কল এখন B দিয়ে চলছে। B-র সীমানা থেকে আবার একই খেলা।
- আবার মাপা। মহাসড়ক ধরে প্রতি কয়েক কিলোমিটারে এই বদল ঘটে। পরের টাওয়ার না থাকলে বা সব channel ব্যস্ত থাকলে handover ব্যর্থ হয় — সেটাই “কল ড্রপ”.
৭ · 1G থেকে 5G — মোবাইলের পাঁচ প্রজন্ম
মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রায় প্রতি দশকে একবার বড় লাফ দিয়েছে। প্রতিটি লাফকে বলা হয় একটি প্রজন্ম (generation) — 1G, 2G… প্রতিটি প্রজন্মের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি মনে রাখলেই চলে:
| প্রজন্ম | সময় | প্রধান প্রযুক্তি | সাধারণ গতি (আনুমানিক) | মূল বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|---|
| 1G | ১৯৮০-এর দশক | AMPS, NMT প্রভৃতি | — (শুধু কণ্ঠ) | analog কণ্ঠ; সহজে আড়ি পাতা যেত, কোনো এনক্রিপশন নেই |
| 2G | ১৯৯০-এর দশক | GSM, CDMA | কয়েক kbps | digital কণ্ঠ, এনক্রিপশন, SMS, SIM কার্ড |
| 2.5G / 2.75G | প্রায় ২০০০ | GPRS, EDGE | কয়েক দশ থেকে কয়েকশো kbps | সারাক্ষণ চালু ধীর ইন্টারনেট — WAP, MMS, প্রথম মোবাইল ইমেইল |
| 3G | ২০০০-এর দশক | UMTS (W-CDMA), পরে HSPA | কয়েক Mbps (HSPA-তে আরও বেশি) | সত্যিকারের মোবাইল ইন্টারনেট, ভিডিও কল, স্মার্টফোনের উত্থান |
| 4G | ২০১০-এর দশক | LTE, LTE-Advanced | কয়েক দশ Mbps | সব কিছু IP-তে (all-IP), HD ভিডিও স্ট্রিমিং, VoLTE কল |
| 5G | ২০১৯ থেকে | 5G NR | কয়েকশো Mbps; তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ কয়েক Gbps | খুব কম latency, কোটি IoT যন্ত্র, mmWave আর small cell |
- 1G থেকে 2G: কণ্ঠ analog থেকে digital হলো (পর্ব ২৮-এ দেখেছেন কীভাবে শব্দ সংখ্যা হয়)। digital বলে এনক্রিপশন সম্ভব হলো, আর কণ্ঠের ফাঁকে ছোট লেখা পাঠানোর জায়গা পাওয়া গেল — SMS. বিশ্বের প্রথম SMS পাঠানো হয় ১৯৯২ সালে যুক্তরাজ্যে, লেখা ছিল “Merry Christmas”.
- 2.5G থেকে 4G: GPRS-এ ডেটা গেল packet আকারে (পুরোনো ফোনের “E” চিহ্ন মানে EDGE). 3G পর্যন্ত কণ্ঠ আর ডেটার আলাদা পথ ছিল; 4G-তে কণ্ঠসহ সব কিছু IP packet — কণ্ঠ যায় VoLTE হয়ে।
- 5G: শুধু বেশি গতি নয়। তিনটি লক্ষ্য: অনেক বেশি গতি, খুব কম latency (তাত্ত্বিক লক্ষ্য প্রায় ১ মিলিসেকেন্ড — দূর থেকে যন্ত্র চালানো বা স্বয়ংক্রিয় গাড়ির জন্য), আর এক বর্গকিলোমিটারে লাখ লাখ সেন্সর যুক্ত করা। এর জন্য 5G মাঝারি band (যেমন ৩.৫ GHz) আর খুব উঁচু mmWave band ব্যবহার করে; mmWave-এর পরিসর কম, তাই লাগে অনেক ছোট ছোট small cell (প্র ০৪ দেখুন)।
নিজে চালিয়ে দেখুন — ১ GB নামাতে কত সময়
নিচের কোড প্রতিটি প্রযুক্তির সাধারণ পরিসর আর বাস্তবে সাধারণ (তাত্ত্বিক নয়) একটি আনুমানিক গতি ধরে ১ GB ফাইল নামানোর সময় হিসাব করে। গতি থাকে bit-এ (Mbps), ফাইলের আকার byte-এ (MB/GB) — তাই আগে ৮ দিয়ে গুণ।
// [প্রযুক্তি, সাধারণ পরিসর, বাস্তবে সাধারণ গতি Mbps (আনুমানিক), ব্যবহার]
const techs = [
['Bluetooth 5', '~10 m', 2, 'earbuds, watch'],
['WiMAX', 'few km', 10, 'city broadband (old)'],
['3G', 'cell: km', 5, 'early mobile internet'],
['4G LTE', 'cell: km', 30, 'video, apps'],
['5G (mid-band)', 'cell: 100s m', 300, 'low latency, IoT'],
['Wi-Fi 5 (home)', '~30 m indoor', 200, 'home, office'],
];
const fileMB = 1000; // 1 GB = 1000 MB (decimal, ISP-র হিসাবে)
const megabits = fileMB * 8; // byte → bit: 8000 Mb
function fmt(sec) {
return sec < 60 ? sec.toFixed(1) + ' s' : (sec / 60).toFixed(1) + ' min';
}
console.log('Technology Range Speed 1 GB takes');
for (const [tech, range, mbps, use] of techs) {
const sec = megabits / mbps;
console.log(`${tech.padEnd(16)}${range.padEnd(15)}${String(mbps).padStart(4)} Mbps ${fmt(sec).padStart(9)} (${use})`);
}
console.log('Wi-Fi 6 box claim 9608 Mbps -> ' + fmt(megabits / 9608) + ' (theoretical, never in a real home)');Run চাপলে টেবিল আসে: Bluetooth 5-এ 66.7 min, WiMAX-এ 13.3 min, 3G-তে 26.7 min, 4G LTE-তে 4.4 min, 5G-তে 26.7 s, ঘরের Wi-Fi 5-এ 40.0 s; শেষ লাইনে বাক্সের দাবি অনুযায়ী 0.8 s (theoretical). মূল সূত্র একটিই: সময় = (আকার × ৮) ÷ গতি. fileMB * 8 লাইনটি byte থেকে bit-এ রূপান্তর — “২০ Mbps লাইনে সেকেন্ডে ২০ MB নামবে” ভাবাটা সবচেয়ে সাধারণ ভুল; আসলে নামে প্রায় ২.৫ MB. সংখ্যাগুলো আনুমানিক — techs-এ আপনার নিজের মাপা গতি বসিয়ে দেখুন (যেমন ব্রাউজারে কোনো speed test দিয়ে মাপা)।
বাংলাদেশে মোবাইলের পথচলা
সাধারণভাবে বলা হয়, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন সেবা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে Citycell (Pacific Bangladesh Telecom)-এর মাধ্যমে; তখন হ্যান্ডসেট আর কল দুটোই ছিল বিলাসিতা। ১৯৯৭ সালে GSM প্রযুক্তি নিয়ে আসে Grameenphone আর Aktel (পরে Robi). এরপর আসে Sheba Telecom (পরে Banglalink), রাষ্ট্রায়ত্ত Teletalk আর Warid (পরে Airtel, যা পরে Robi-র সাথে একীভূত হয়)। Citycell ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়।
3G: Teletalk ২০১২ সালে প্রথম 3G সেবা চালু করে; ২০১৩ সালে নিলামের পর অন্য অপারেটররা 3G শুরু করে। 4G: ২০১৮ সালে নিলামের পর বেসরকারি অপারেটররা 4G চালু করে; Teletalk পরে যোগ দেয়। 5G: ২০২১ সালের ডিসেম্বরে Teletalk ঢাকার কয়েকটি জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে, সীমিত পরিসরে 5G চালু করে; পরে অন্য অপারেটররাও সীমিত এলাকায় 5G শুরু বা ঘোষণা করেছে। 5G-এর সর্বশেষ বিস্তার BTRC বা অপারেটরের সাম্প্রতিক ঘোষণায় দেখে নিন — এ ধরনের তথ্য দ্রুত বদলায়।
৮ · স্যাটেলাইট, GPS আর দৈনন্দিন ব্যবহারের কথা
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
সাগরে মাছ ধরার ট্রলার, পাহাড়ি এলাকা বা দুর্যোগে টাওয়ার ভেঙে পড়া জায়গায় সংযোগ দিতে পারে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট. পুরোনো ব্যবস্থায় উপগ্রহ থাকত প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার উঁচুতে (geostationary) — সংকেত যেতে-আসতে সময় লাগে বলে latency অনেক বেশি (আধা সেকেন্ডের কাছাকাছি)। নতুন ব্যবস্থা যেমন SpaceX-এর Starlink হাজার হাজার ছোট উপগ্রহ রাখে মাত্র কয়েকশো কিলোমিটার উঁচুতে (low Earth orbit, LEO); ফলে latency অনেক কম, অনেকটা সাধারণ ব্রডব্যান্ডের কাছাকাছি। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে Starlink-এর বাণিজ্যিক সেবা চালু হয়েছে বলে ঘোষণা আসে; প্যাকেজ আর প্রাপ্যতা সময়ের সাথে বদলায়।
GPS আর GNSS — উপগ্রহ থেকে আপনার অবস্থান
GPS যুক্তরাষ্ট্রের একটি উপগ্রহ-ব্যবস্থা; আরও আছে রাশিয়ার GLONASS, ইউরোপের Galileo আর চীনের BeiDou — সবাইকে মিলিয়ে বলা হয় GNSS. প্রতিটি উপগ্রহ নিয়মিত জানায় “আমি কোথায়, আর এখন ঠিক কয়টা বাজে”। ফোন অন্তত চারটি উপগ্রহের সংকেত পৌঁছানোর সময়ের পার্থক্য থেকে নিজের অবস্থান হিসাব করে। লক্ষ করুন, GPS একমুখী — ফোন শুধু শোনে, উপগ্রহে কিছু পাঠায় না; তাই মোবাইল ডেটা বন্ধ থাকলেও GPS কাজ করে (তবে ম্যাপের ছবি নামাতে ইন্টারনেট লাগে)।
মোবাইল ডেটা সাশ্রয়ের অভ্যাস
- ফোনের Data Saver চালু রাখুন; বড় আপডেট, ব্যাকআপ আর অফলাইন ভিডিও নামান Wi-Fi-তে।
- ভিডিও অ্যাপে মান ৭২০p বা “Data saver” রাখুন — ১০৮০p-তে একই ভিডিওতে অনেক বেশি ডেটা খরচ হয়।
- ঘরে মোবাইল সংকেত দুর্বল কিন্তু Wi-Fi ভালো হলে ফোন আর অপারেটর সমর্থন করলে Wi-Fi calling চালু করুন — সাধারণ নম্বরের কল Wi-Fi দিয়ে যায়।
মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন — ভয় না বিজ্ঞান?
“রেডিয়েশন” শব্দটি শুনলেই অনেকে ভয় পান। কিন্তু রেডিয়েশন দুই রকম। X-ray, gamma ray-এর মতো উচ্চ-শক্তির তরঙ্গ ionising — এরা অণু থেকে ইলেকট্রন ছিটকে দিতে, DNA ভাঙতে পারে। মোবাইল, Wi-Fi, Bluetooth, রেডিওর তরঙ্গ non-ionising — এদের শক্তি এত কম যে অণু ভাঙতে পারে না; খুব বেশি মাত্রায় এর পরিচিত প্রভাব শুধু সামান্য উষ্ণতা। এজন্যই নিরাপত্তা-সীমা ঠিক করা হয় তাপ বাড়ার মাত্রা ধরে, আর ফোন ও টাওয়ার সেই আন্তর্জাতিক সীমার মধ্যে থাকার কথা।
WHO-র ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা IARC ২০১১ সালে রেডিও-frequency ক্ষেত্রকে “Group 2B — সম্ভবত ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী (possibly carcinogenic)” শ্রেণিতে রেখেছে। এই শ্রেণির মানে: প্রমাণ সীমিত ও অনিশ্চিত, তাই আরও গবেষণা দরকার — ঝুঁকি প্রমাণিত, এমন নয়। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মোবাইল ব্যবহারে স্বাস্থ্য-ক্ষতির নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। চাইলে সহজ সাবধানতা নিতে পারেন — লম্বা কলে হেডফোন বা স্পিকার ব্যবহার। তবে “5G থেকে করোনা ছড়ায়” ধরনের সোশ্যাল মিডিয়ার দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে — এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে:
- Bluetooth-এর সাধারণ পরিসর কত? প্রায় ১০ মিটার (class 2); class 1-এ প্রায় ১০০ মিটার। standard IEEE 802.15.1, band ২.৪ GHz.
- Wi-Fi আর WiMAX-এর IEEE standard কী? Wi-Fi: IEEE 802.11 (WLAN); WiMAX: IEEE 802.16 (WMAN, কয়েক কিলোমিটার পরিসর)।
- কোন প্রজন্মে প্রথম SMS চালু হয়? 2G (GSM)-এ; 1G ছিল শুধু analog কণ্ঠ।
- 4G-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী? সম্পূর্ণ IP-ভিত্তিক (all-IP) নেটওয়ার্ক, LTE প্রযুক্তি, উচ্চগতির ডেটা আর VoLTE কণ্ঠ।
- Handover কী? চলমান অবস্থায় কল বা ডেটা সংযোগ এক base station থেকে আরেক base station-এ বিচ্ছিন্ন না করে স্থানান্তর।
আরও গভীরে: 802.11-এর CSMA/CA, channel bonding আর MIMO, cellular নেটওয়ার্কের core, 2G থেকে 5G-এর স্থাপত্য, Bluetooth-এর piconet আর mobile IP-তে handoff — বিস্তারিত পাবেন আমাদের Computer Networks কোর্সে। শুরু করতে পারেন Wi-Fi 802.11-এর মূল কথা, 2G থেকে 5G cellular নেটওয়ার্ক বা Bluetooth ও স্বল্প-দূরত্বের ওয়্যারলেস দিয়ে।
৯ · AI-এর যুগে — তারিখ আর গতি নিজে যাচাই করুন
“Wi-Fi 6 আর Wi-Fi 6E-র পার্থক্য সহজ করে বোঝাও” বা “handover কী, উপমা দিয়ে বলো” — এমন প্রশ্নে AI চ্যাটবট সাধারণত ভালো ব্যাখ্যা দেয়। কিন্তু এই বিষয়ের দুটি জায়গায় AI প্রায়ই ভুল করে: বাংলাদেশের তারিখ ও তথ্য (AI-এর জ্ঞান একটি নির্দিষ্ট সময়ে থেমে থাকে, আর স্থানীয় খবর তার কাছে কম পৌঁছায়), আর গতির সংখ্যা (বিজ্ঞাপনের তাত্ত্বিক সর্বোচ্চকে বাস্তব গতি বলে দেওয়া)।
| AI-এর সাধারণ ভুল | কীভাবে ধরবেন |
|---|---|
| বাংলাদেশে 3G, 4G বা 5G চালুর ভুল সাল, বা “পরীক্ষামূলক” চালুকে পূর্ণ চালু বলা | BTRC-র ওয়েবসাইট, অপারেটরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য সংবাদপত্রে মিলিয়ে নিন |
| “5G-তে ২০ Gbps গতি” — তাত্ত্বিক লক্ষ্যকে আপনার ফোনের গতি বলা | “তাত্ত্বিক না বাস্তব?” সরাসরি জিজ্ঞেস করুন; নিজের ফোনে speed test করুন |
| Mbps আর MBps গুলিয়ে ডাউনলোডের সময় ৮ গুণ কম দেখানো | সময় = (আকার × ৮) ÷ গতি — নিজে একবার হিসাব করুন |
| “Wi-Fi 6 মানে ৬ GHz” বা “WiMAX আর Wi-Fi একই” | IEEE standard নম্বর দেখুন: 802.11ax বনাম 802.16 |
নিচের prompt-টি কপি করে নিজের প্রশ্ন বসান। AI-কে উৎস আর অনিশ্চয়তা আলাদা করতে বলা হয়েছে:
AI-এর উত্তর হাতে পেলে — যাচাইয়ের চেকলিস্ট
ভাবনার প্রশ্ন
প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে কিছুক্ষণ ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন। আজকের প্রতিটি ওয়্যারলেস যন্ত্রের পেছনে আছে একশো বছরেরও বেশি পুরোনো আবিষ্কার, প্রতিযোগিতা আর ভুলে যাওয়া নায়কদের গল্প।
প্র ০১রেডিওর আবিষ্কারক হিসেবে সবাই Marconi-র নাম জানেন। কিন্তু একই সময়ে কলকাতায় একজন বাঙালি বিজ্ঞানী মিলিমিটার তরঙ্গ নিয়ে কাজ করছিলেন — তাঁর অবদান কী ছিল?
১৮৮০-এর দশকে জার্মান বিজ্ঞানী Heinrich Hertz পরীক্ষাগারে প্রমাণ করেন যে James Clerk Maxwell-এর তত্ত্বে বলা electromagnetic তরঙ্গ সত্যিই আছে — frequency-র একক “hertz” তাঁর নামেই। এরপর অনেকে ভাবলেন, এই তরঙ্গ দিয়ে কি বার্তা পাঠানো যায়?
কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক জগদীশচন্দ্র বসু (জন্ম ১৮৫৮, ময়মনসিংহে; পৈতৃক বাড়ি বিক্রমপুরে) ১৮৯৪–৯৫ সাল থেকে খুব ছোট wavelength-এর তরঙ্গ নিয়ে কাজ করেন — কয়েক মিলিমিটার থেকে কয়েক সেন্টিমিটার, অর্থাৎ আজকের ভাষায় মাইক্রোওয়েভ আর মিলিমিটার-তরঙ্গ। ১৮৯৫ সালের দিকে কলকাতায় এক প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে তিনি দেয়াল আর মানুষের শরীর পেরিয়ে দূরে তরঙ্গ পাঠিয়ে একটি ঘণ্টা বাজান বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি নিজে তৈরি করেন waveguide, horn antenna, তরঙ্গ ফোকাস করার লেন্স আর polarizer — যে যন্ত্রাংশের উত্তরসূরি আজকের 5G mmWave আর রাডারে আছে। তাঁর galena (সীসার আকরিক) দিয়ে তৈরি তরঙ্গ-শনাক্তকারী যন্ত্রকে পরে semiconductor detector-এর প্রথম দিকের উদাহরণ ধরা হয়; এর জন্য ১৯০৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি পেটেন্ট পান। তবে বাণিজ্যিক লাভে তাঁর আগ্রহ ছিল কম; তিনি গবেষণা খোলাখুলি প্রকাশ করতে চাইতেন।
অন্যদিকে ইতালির তরুণ Guglielmo Marconi ১৮৯৫ সালে দীর্ঘ wavelength-এর তরঙ্গ দিয়ে বার্তা পাঠানোর পরীক্ষা শুরু করেন, ১৮৯৬ সালে ইংল্যান্ডে পেটেন্টের আবেদন করেন (মঞ্জুর হয় ১৮৯৭ সালে), কোম্পানি গড়েন, আর ১৯০১ সালের ডিসেম্বরে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে মোর্স কোডের “S” অক্ষর পাঠানোর দাবি করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল দূরত্ব, তাই তিনি বেছে নেন কম frequency — এই পর্বের মূল নিয়মটাই মনে করুন। ১৯০৯ সালে তিনি Karl Ferdinand Braun-এর সাথে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান।
দীর্ঘদিন বসুর ওয়্যারলেস অবদান প্রায় ভুলে যাওয়া ছিল। পরে তা নতুন করে স্বীকৃতি পায় — ২০১২ সালে IEEE তাঁর মিলিমিটার-তরঙ্গ গবেষণাকে একটি “IEEE Milestone” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। রেডিওর আবিষ্কার আসলে অনেকের ধাপে ধাপে কাজের ফল — Maxwell, Hertz, Lodge, Popov, বসু, Marconi, Tesla — একজনের একক কৃতিত্ব নয়।
মূল উপলব্ধি: প্রযুক্তির ইতিহাসে “প্রথম” প্রায়ই নির্ভর করে কে পেটেন্ট নিল আর কে বাজারে নিল তার ওপর। বসু যে ছোট wavelength নিয়ে কাজ করেছিলেন, তা তখন দূরত্বের কারণে কাজে লাগেনি — কিন্তু একশো বছর পর ঠিক সেই তরঙ্গই 5G আর গাড়ির রাডারের ভিত্তি।
প্র ০২হলিউডের এক বিখ্যাত অভিনেত্রী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি পেটেন্ট নিয়েছিলেন, যার ধারণা আজ Wi-Fi আর Bluetooth-এ বেঁচে আছে বলে প্রায়ই বলা হয়। গল্পটা কী?
অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেওয়া Hedy Lamarr ছিলেন ১৯৪০-এর দশকের হলিউডের তারকা। কিন্তু অবসরে তিনি আবিষ্কারের নেশায় ডুবে থাকতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি সমস্যা তাঁকে ভাবায়: রেডিও-নিয়ন্ত্রিত টর্পেডো এক frequency-তে নির্দেশ পেলে শত্রু সেই frequency-তে গোলমাল (jamming) পাঠিয়ে টর্পেডোকে বিপথে নিতে পারে।
সুরকার George Antheil-এর সাথে মিলে তিনি একটি সমাধান ভাবেন: পাঠানো আর গ্রহণকারী যন্ত্র দুজনেই একই গোপন ক্রমে বারবার frequency বদলাবে। Antheil আগে স্বয়ংক্রিয় পিয়ানো (player piano) নিয়ে কাজ করেছিলেন, তাই সমন্বয়ের জন্য পিয়ানো-রোলের মতো ছিদ্র-করা ফিতার ধারণা আসে — পিয়ানোর ৮৮টি চাবির মতো ৮৮টি frequency. শত্রু জানে না পরের মুহূর্তে কোন frequency, তাই আটকাতে পারে না। ১৯৪২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে এই “Secret Communication System”-এর পেটেন্ট মঞ্জুর হয়।
সেই সময় মার্কিন নৌবাহিনী ধারণাটি কাজে লাগায়নি। পরে ইলেকট্রনিক্সের উন্নতির সাথে frequency hopping আর তার আত্মীয় spread spectrum পদ্ধতি সামরিক যোগাযোগে ব্যবহৃত হতে থাকে। আজ Bluetooth (classic) সেকেন্ডে প্রায় ১৬০০ বার channel বদলায় — ঠিক এই নীতিতে, যদিও উদ্দেশ্য শত্রু নয়, ভিড়ের গোলমাল এড়ানো। প্রথম দিকের Wi-Fi standard-এও frequency hopping-এর বিকল্প ছিল, আর GPS ও আধুনিক মোবাইলে spread spectrum-এর নানা রূপ আছে। দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকার পর ১৯৯০-এর দশকের শেষে তাঁর অবদান স্বীকৃতি পায়, আর ২০১৪ সালে তিনি ও Antheil যুক্তরাষ্ট্রের National Inventors Hall of Fame-এ স্থান পান।
মূল উপলব্ধি: ভালো ধারণা অনেক সময় তার যুগের প্রযুক্তির চেয়ে এগিয়ে থাকে, আর আবিষ্কারককে আমরা প্রায়ই তাঁর অন্য পরিচয়ের আড়ালে হারিয়ে ফেলি। একই সাথে, “এক পেটেন্ট থেকেই Wi-Fi” এমন সরল গল্প সাবধানে বলা উচিত — প্রযুক্তি গড়ে ওঠে অনেক হাতের কাজে।
প্র ০৩একটি ওয়্যারলেস প্রযুক্তির নাম কেন হাজার বছর আগের এক ডেনিশ রাজার ডাকনামে? আর এর লোগোটা আসলে কী?
১৯৯০-এর দশকের শেষে স্বল্প-দূরত্বের ওয়্যারলেস নিয়ে কয়েকটি কোম্পানি আলাদা আলাদা কাজ করছিল — Ericsson, Intel, Nokia প্রমুখ। আলাদা আলাদা পদ্ধতি থাকলে এক কোম্পানির হেডসেট আরেক কোম্পানির ফোনে চলত না। তাই তারা একটি সাধারণ standard বানাতে একসাথে বসে। আলোচনার সময় প্রকল্পের জন্য একটি অস্থায়ী সাংকেতিক নাম দরকার ছিল।
Intel-এর প্রকৌশলী Jim Kardach তখন ভাইকিংদের নিয়ে একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস আর বই পড়ছিলেন। সেখান থেকে তিনি প্রস্তাব করেন দশম শতকের ডেনিশ রাজা Harald “Bluetooth” Gormsson-এর নাম — যিনি বিবদমান ডেনিশ গোত্রগুলোকে এক করেছিলেন, আর নরওয়ের একটি অংশও তাঁর অধীনে আসে বলে বলা হয়। প্রতীকটা মিলে যায়: রাজা যেমন বিভিন্ন গোত্রকে এক করেছিলেন, এই প্রযুক্তিও বিভিন্ন কোম্পানির ফোন, কম্পিউটার আর যন্ত্রকে এক করবে। “Bluetooth” ডাকনামের উৎস নিয়ে নানা মত আছে — একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো রাজার একটি মরা, কালচে-নীল দাঁত ছিল।
নামটি আসলে অস্থায়ী হওয়ার কথা ছিল; অন্য প্রস্তাবিত নামগুলো ট্রেডমার্ক বা অন্য কারণে টেকেনি, তাই শেষ পর্যন্ত “Bluetooth”-ই থেকে যায়। লোগোটিও রাজার নামের অংশ: প্রাচীন স্ক্যান্ডিনেভীয় রুন বর্ণমালার দুটি অক্ষর — H-এর রুন (ᚼ) আর B-এর রুন (ᛒ) — একটির ওপর আরেকটি বসিয়ে তৈরি, অর্থাৎ Harald Bluetooth-এর আদ্যক্ষর।
এই গল্পের প্রযুক্তিগত শিক্ষাটি নামের চেয়েও জরুরি। Bluetooth সফল হয়েছে কারণ প্রতিযোগী কোম্পানিগুলো একটি উন্মুক্ত, সবার জন্য এক standard-এ রাজি হয়েছিল, আর Bluetooth SIG “qualification”-এর মাধ্যমে যাচাই করে যে বিভিন্ন কোম্পানির যন্ত্র একে অপরের সাথে চলবে।
মূল উপলব্ধি: নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির মূল্য আসে অন্যদের সাথে যুক্ত হতে পারার ক্ষমতা থেকে। একা সেরা প্রযুক্তি নয়, সবার মেনে নেওয়া standard-ই বাজার জেতে — আর তার জন্য প্রতিযোগীদেরও এক টেবিলে বসতে হয়।
প্র ০৪5G কেন এত উঁচু frequency ব্যবহার করে, যেখানে উঁচু frequency দেয়ালও ভালোভাবে পেরোতে পারে না? আর “small cell” কেন দরকার?
উত্তরের শুরু একটি পুরোনো সূত্রে। ১৯৪৮ সালে Claude Shannon দেখান, একটি channel-এ সর্বোচ্চ কত ডেটা পাঠানো যায় তা নির্ভর করে মূলত দুটি জিনিসের ওপর: channel কতটা চওড়া (bandwidth, Hz-এ) আর সংকেত গোলমালের তুলনায় কতটা শক্তিশালী। সংকেত শক্তিশালী করার একটা সীমা আছে, কিন্তু channel চওড়া করলে ক্ষমতা প্রায় সরাসরি বাড়ে। সমস্যা হলো, ৩ GHz-এর নিচের রেডিও-জমি বহু আগেই টিভি, রেডিও, পুরোনো মোবাইল, সামরিক আর বিমানের কাজে ভাগ হয়ে গেছে — সেখানে চওড়া ফাঁকা জায়গা নেই।
উঁচু frequency-তে, বিশেষ করে ২৪ GHz-এর ওপরের mmWave এলাকায়, বিশাল ফাঁকা জায়গা — একটি অপারেটর সেখানে কয়েকশো MHz চওড়া channel পেতে পারে, যেখানে পুরোনো band-এ হয়তো ১০–২০ MHz. এজন্যই 5G-এর গিগাবিট গতির দাবি মূলত mmWave থেকে। কিন্তু দাম দিতে হয়: mmWave সংকেত কয়েকশো মিটারের বেশি যায় না, দেয়াল, গাছের পাতা, এমনকি হাতের তালুতেও আটকে যায়, বৃষ্টিতেও দুর্বল হয়।
সমাধান দুটি। প্রথমত small cell: বড় টাওয়ারের বদলে ল্যাম্পপোস্ট, বাসস্টপ বা ভবনের দেয়ালে ছোট ছোট base station — প্রতিটি অল্প জায়গা দেখে, কিন্তু সংখ্যায় অনেক। cell ছোট হলে একই frequency আরও বেশিবার ব্যবহার করা যায়, তাই ভিড়ের স্টেডিয়াম বা বাজারেও সবাই গতি পান। দ্বিতীয়ত beamforming আর massive MIMO: অনেকগুলো ছোট অ্যান্টেনা মিলে সংকেতকে টর্চলাইটের মতো সরু করে নির্দিষ্ট ফোনের দিকে পাঠায়, আর মানুষ নড়লে দিকও বদলায়। এখানে মজার মিল: অ্যান্টেনার আকার wavelength-এর সাথে ছোট হয়, তাই mmWave-এ একটি ফোনের ভেতরেও অনেকগুলো অ্যান্টেনা ধরে যায়।
তাই বাস্তবে বেশিরভাগ দেশে 5G-এর মূল কাজ চলে মাঝারি band-এ (যেমন ৩.৫ GHz) — গতি আর পরিসরের ভারসাম্য; mmWave ব্যবহৃত হয় ঘন ভিড়ের জায়গায়। নিচু band (৭০০ MHz-এর মতো) দেয় বড় এলাকাজুড়ে কভারেজ, তবে গতি কম।
মূল উপলব্ধি: ওয়্যারলেসে “বিনামূল্যের খাবার” নেই। বেশি গতির জন্য চওড়া channel লাগে, চওড়া channel মেলে উঁচু frequency-তে, আর উঁচু frequency-র জন্য লাগে আরও অনেক টাওয়ার — অর্থাৎ বেশি বিনিয়োগ। প্রকৌশলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত পদার্থবিজ্ঞান আর অর্থনীতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
প্র ০৫শহরের মানুষ 4G-তে ভিডিও দেখছেন, অথচ কোনো চরের বা হাওরের গ্রামে এখনো সংকেত দুর্বল। মোবাইল কভারেজের এই digital divide কেন তৈরি হয়, আর সমাধান কোথায়?
মোবাইল নেটওয়ার্ক তৈরি হয় ব্যবসার হিসাবে। একটি টাওয়ার বসাতে জমি বা ছাদ ভাড়া, বিদ্যুৎ, ব্যাকআপ জেনারেটর বা ব্যাটারি, পাহারা আর কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লিংক লাগে। শহরে একটি টাওয়ার হাজার হাজার গ্রাহককে সেবা দেয়, তাই খরচ উঠে আসে। দুর্গম চর, হাওর বা পাহাড়ি এলাকায় একই খরচে গ্রাহক অনেক কম, অথচ খরচ বেশি — নৌকায় যন্ত্র নেওয়া, বন্যায় ক্ষতি, বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা। ফলে সেখানে টাওয়ার কম, cell বড়, আর বড় cell-এর কিনারায় সংকেত দুর্বল।
দ্বিতীয় স্তরের বৈষম্য প্রজন্মে। অনেক এলাকায় হয়তো 2G বা 4G-র সংকেত আছে, কিন্তু টাওয়ারের পেছনের লিংক (backhaul) ধীর, তাই গতি কম। আবার নেটওয়ার্ক থাকলেও সবার হাতে স্মার্টফোন নেই, ডেটা প্যাকেজের দাম আয়ের তুলনায় বেশি, আর ডিজিটাল দক্ষতারও ঘাটতি থাকে — পর্ব ১৫-এর digital divide শুধু টাওয়ারের প্রশ্ন নয়।
এর প্রভাব বাস্তব: অনলাইন ক্লাস, টেলিমেডিসিন, মোবাইল ব্যাংকিং, কৃষি-তথ্য আর দুর্যোগের সতর্কবার্তা — সবকিছুই সংযোগনির্ভর। বিশ্বজুড়ে কয়েকটি উপায়ে এর সমাধানের চেষ্টা হয়। সরকার নিলাম বা লাইসেন্সের শর্তে কভারেজের বাধ্যবাধকতা দেয়; অনেক দেশে টেলিকম আয়ের একটি অংশ নিয়ে “সর্বজনীন সেবা” তহবিল গঠন করা হয়, যা থেকে লোকসানের এলাকায় টাওয়ার বসানোয় সহায়তা হয়। একাধিক অপারেটর একই টাওয়ার ভাগ করে খরচ কমায় (tower sharing). কম frequency-র band (যেমন ৭০০ MHz) কম টাওয়ারে বড় এলাকা ঢাকে। সৌরবিদ্যুৎ চালিত টাওয়ার বিদ্যুতের সমস্যা কমায়। আর একেবারে দুর্গম জায়গায় LEO স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নতুন বিকল্প, যদিও যন্ত্র আর মাসিক খরচ এখনো সাধারণ মানুষের জন্য বেশি।
মূল উপলব্ধি: প্রযুক্তি নিজে থেকে সমানভাবে ছড়ায় না; বাজার যেখানে লাভ দেখে, সেখানে আগে যায়। সবার কাছে পৌঁছাতে প্রকৌশলের সাথে নীতি, নিয়ন্ত্রণ আর সামাজিক বিনিয়োগও লাগে — আর সংযোগ না থাকা মানে আজ শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর আয়ের সুযোগ থেকেও পিছিয়ে পড়া।
অনুশীলন
প্রথম দুটি খাতা-কলমের হিসাব, তৃতীয়টি নিজের ফোনে দেখার, চতুর্থটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
-
Wavelength হিসাব: আলোর গতি প্রায় ৩ × ১০৮ মিটার/সেকেন্ড ধরে ২.৪ GHz আর ৫ GHz-এর wavelength বের করুন। কোনটি দেয়াল পেরোতে বেশি দুর্বল হবে, আর কেন?
λ = c ÷ f. ২.৪ GHz: ৩ × ১০৮ ÷ ২.৪ × ১০৯ = ০.১২৫ মিটার = ১২.৫ সেমি. ৫ GHz: ৩ × ১০৮ ÷ ৫ × ১০৯ = ০.০৬ মিটার = ৬ সেমি.
৫ GHz-এর wavelength প্রায় অর্ধেক। ছোট wavelength (বেশি frequency)-এর তরঙ্গ দেয়াল, পানি আর শরীরে বেশি শোষিত হয়, তাই ৫ GHz দেয়াল পেরোলে বেশি দুর্বল হয়। বিনিময়ে ৫ GHz-এ চওড়া channel পাওয়া যায় বলে কাছে গতি বেশি।
-
ডাউনলোডের সময়: আপনার 4G-তে বাস্তবে ২০ Mbps গতি আসছে। (ক) ২ GB-র একটি গেম নামাতে কত সময় লাগবে? (খ) একই গেম ১০০ Mbps-এর Wi-Fi-তে? (১ GB = ১০০০ MB ধরুন।)
২ GB = ২০০০ MB = ২০০০ × ৮ = ১৬,০০০ Mb (megabit).
(ক) ১৬,০০০ ÷ ২০ = ৮০০ সেকেন্ড ≈ ১৩.৩ মিনিট. (খ) ১৬,০০০ ÷ ১০০ = ১৬০ সেকেন্ড ≈ ২.৭ মিনিট. ৮ দিয়ে গুণ করতে ভুলে গেলে উত্তর আসত ১০০ সেকেন্ড আর ২০ সেকেন্ড — আট গুণ কম, যা বাস্তবে কখনো মিলবে না।
-
নিজের ফোনে খোঁজ: Android-এ Settings → Network/Wi-Fi-তে যুক্ত নেটওয়ার্কের নাম চাপুন (iPhone-এ Wi-Fi নামের পাশের ⓘ)। লিখুন: (ক) band বা frequency (২.৪ না ৫ GHz), (খ) link speed বা Wi-Fi standard, (গ) security type. তারপর router থেকে দুই ঘর দূরে গিয়ে আবার দেখুন।
ফোন ও OS অনুযায়ী তথ্য একটু আলাদা জায়গায় থাকে; অনেক Android-এ “Frequency: 5 GHz”, “Link speed: 433 Mbps”, “Security: WPA2-Personal” বা “WPA3-Personal” ধরনের লেখা আসে, আর নতুন ফোনে “Wi-Fi 6” লেখাও দেখা যায়। link speed ফোন আর router-এর রেডিও-সংযোগের হার, ইন্টারনেটের গতি নয়।
দূরে গেলে link speed সাধারণত অনেক কমে যায়, আর dual-band router-এ ফোন ৫ থেকে ২.৪ GHz-এ নেমে যেতে পারে — ঠিক যেমন ফ্ল্যাটের stepper-এ দেখেছেন। security “Open” বা “WEP” দেখালে router-এর সেটিং বদলানো দরকার।
-
সঠিক প্রযুক্তি বাছুন: প্রতিটি কাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ওয়্যারলেস প্রযুক্তি কোনটি, আর কেন? (ক) ফোন থেকে স্মার্টওয়াচে নোটিফিকেশন; (খ) ৩০ জনের একটি অফিসের নেটওয়ার্ক; (গ) মেট্রো স্টেশনের গেটে ভাড়া কাটা; (ঘ) গভীর সাগরে মাছ ধরার ট্রলার থেকে আবহাওয়ার খবর পাওয়া।
(ক) Bluetooth Low Energy — কয়েক মিটার, অল্প ডেটা, ঘড়ির ব্যাটারি বাঁচাতে খুব কম বিদ্যুৎ। (খ) Wi-Fi (Wi-Fi 6 হলে ভালো, ভিড়ে বেশি দক্ষ) — প্রয়োজনে কয়েকটি access point, WPA2/WPA3 নিরাপত্তা, অতিথিদের আলাদা নেটওয়ার্ক।
(গ) NFC/contactless RFID কার্ড — কয়েক সেন্টিমিটার দূরত্ব ইচ্ছাকৃত ছোঁয়া নিশ্চিত করে, এক সেকেন্ডের কম সময়ে লেনদেন, কার্ডে ব্যাটারি লাগে না। (ঘ) স্যাটেলাইট — উপকূলের টাওয়ারের পরিসর কয়েক দশ কিলোমিটারের বেশি নয়; গভীর সাগরে স্যাটেলাইট-সংযোগ বা দীর্ঘ-দূরত্বের রেডিও লাগে। প্রতিটি উত্তরে দূরত্ব, গতি, বিদ্যুৎ আর খরচের আপস লক্ষ করুন।
নিজেকে যাচাই করুন
ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।
ক্রমএকটি ফোন নতুন Wi-Fi নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেট পাওয়া পর্যন্ত ধাপগুলো সাজান (▲▼ চেপে সরান)
- 📡 beacon শুনে SSID-এর তালিকা দেখানো
- 👆 একটি SSID বেছে access point-এর সাথে associate করা
- 🔐 WPA2/WPA3 handshake-এ পাসওয়ার্ড যাচাই আর চাবি তৈরি
- 🏷️ DHCP থেকে IP ঠিকানা পাওয়া
- 🌐 router হয়ে ISP-র মাধ্যমে ইন্টারনেটে ডেটা যাওয়া
সাধারণ (class 2) Bluetooth যন্ত্রের কার্যকর পরিসর মোটামুটি কত?
- প্রায় ১ মিটার
- প্রায় ১০ মিটার
- প্রায় ১০০ মিটার
- প্রায় ১০ কিলোমিটার
Wi-Fi কোন IEEE standard পরিবারের অন্তর্গত?
- IEEE 802.3
- IEEE 802.15.1
- IEEE 802.11
- IEEE 802.16
মোবাইল নেটওয়ার্কের কোন প্রজন্মে প্রথম SMS (খুদে বার্তা) চালু হয়?
- 1G
- 2G
- 3G
- 4G
একই router-এর ৫ GHz Wi-Fi কাছে বেশি দ্রুত হলেও কয়েকটি দেয়ালের পেছনে ২.৪ GHz-এর চেয়ে দুর্বল হয়ে যায় কেন?
- বেশি frequency-র ছোট wavelength-এর তরঙ্গ দেয়ালে বেশি শোষিত হয়
- router ৫ GHz-এ ইচ্ছা করে কম শক্তি দেয়
- ৫ GHz-এ Bluetooth আর মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভিড় বেশি
- ৫ GHz তরঙ্গ আলোর চেয়ে ধীরে চলে
চলন্ত গাড়িতে ফোনকলের সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে এক base station থেকে আরেক base station-এ চলে যাওয়াকে কী বলে?
- Pairing
- Roaming
- Tethering
- Handover
মোবাইল ফোন আর টাওয়ারের রেডিও তরঙ্গ সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক?
- এটি X-ray-এর মতো ionising, তাই DNA সরাসরি ভেঙে দেয়
- WHO এটিকে নিশ্চিত ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী বলে ঘোষণা করেছে
- এটি non-ionising; IARC একে Group 2B (সম্ভবত ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী, প্রমাণ সীমিত) শ্রেণিতে রেখেছে
- 5G তরঙ্গ ভাইরাস ছড়াতে পারে
শব্দকোষ
লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:
মনে রাখুন
- ওয়্যারলেস = রেডিও তরঙ্গে ডেটা। c = f × λ; বেশি frequency মানে চওড়া channel আর বেশি গতি, কিন্তু কম দূরত্ব আর দেয়াল পেরোনোর ক্ষমতা কম।
- Bluetooth (802.15.1, PAN, প্রায় ১০ মিটার, BLE-তে খুব কম বিদ্যুৎ), Wi-Fi (802.11, LAN; Wi-Fi 4/5/6/6E/7), WiMAX (802.16, MAN, এখন প্রায় অপ্রচলিত)।
- Wi-Fi-তে যুক্ত হওয়া: SSID বাছাই → WPA2/WPA3 handshake → DHCP-তে IP → ইন্টারনেট। router-এর ডিফল্ট পাসওয়ার্ড বদলান, পাবলিক Wi-Fi-তে ব্যাংকিং এড়ান।
- NFC কয়েক সেন্টিমিটারের ইচ্ছাকৃত ছোঁয়া (tap to pay, মেট্রো কার্ড); RFID ব্যাটারিহীন ট্যাগ; infrared মুখোমুখি থাকতে হয়।
- মোবাইল নেটওয়ার্ক = cell + base station + SIM; চলতে চলতে handover. 1G analog → 2G digital ও SMS → 3G ইন্টারনেট → 4G all-IP → 5G কম latency ও IoT. গতির সংখ্যা আর বাংলাদেশের তারিখ AI থেকে নিলে যাচাই করুন।
আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ
- পর্ব ৩২ · নেটওয়ার্ক — LAN, MAN, WAN, টপোলজি আর ডিভাইসপরবর্তী পর্বনেটওয়ার্কের প্রকারভেদ, টপোলজি আর নেটওয়ার্ক ডিভাইস।
- পর্ব ৩০ · ডেটা কমিউনিকেশন — মোড, ব্যান্ডউইথ আর মাধ্যমআগের পর্বsimplex থেকে full duplex, bandwidth আর তারের মাধ্যম।
- কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস ও ICT · কোর্স হোম৫৫টি পর্বপুরো কোর্সের রোডম্যাপ — কোন পর্ব কখন।
- Computer Networksগভীরে যানWi-Fi, cellular, Bluetooth, mobile IP — পূর্ণ নেটওয়ার্কিং কোর্স।