সরাসরি পর্বে যান
পর্ব ৩০ · ৫৫-এর মধ্যে · মডিউল ৫

ডেটা কমিউনিকেশন — মোড, ব্যান্ডউইথ আর মাধ্যম

Data Communication — Components, Bandwidth, Transmission Methods and Modes, Signals and Transmission Media

Taught in Bangla, this lesson covers data communication: its five components, bandwidth, bps versus baud and Mbps versus MB/s, serial and parallel transmission with asynchronous, synchronous and isochronous methods, simplex, half-duplex and full-duplex modes, unicast, broadcast and multicast, analog and digital signals, modulation and multiplexing, guided and wireless media, and noise, attenuation and repeaters.

এই পর্বে যা শিখবেন

  • ডেটা কমিউনিকেশনের সংজ্ঞা আর পাঁচ উপাদান — পাঠ্যবইয়ের দুই রকম তালিকাসহ
  • ব্যান্ডউইথ, bps, baud rate, ন্যারো-ভয়েস-ব্রডব্যান্ড শ্রেণি, আর Mbps থেকে ডাউনলোডের সময় হিসাব
  • serial বনাম parallel, asynchronous, synchronous আর isochronous পদ্ধতি — একটি অক্ষর তারে যাওয়ার পুরো ছবি
  • simplex, half duplex, full duplex; unicast, broadcast, multicast; analog-digital সংকেত, modulation, modem আর multiplexing
  • twisted pair, coaxial, optical fibre, radio, microwave, satellite আর infrared — তুলনা, noise, attenuation আর repeater

১ · ডেটা কমিউনিকেশন কী — পাঁচ উপাদান

আপনি bKash অ্যাপে “Send Money” চাপলেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনার ফোন থেকে কিছু 0 আর 1 বাতাসে ভেসে মোবাইল টাওয়ারে গেল, সেখান থেকে মাটির নিচের কাচের সুতো দিয়ে সার্ভারে, তারপর আবার ফিরে এল “সফল” বার্তা নিয়ে। এই পুরো যাত্রার নাম ডেটা কমিউনিকেশন — দুটি যন্ত্রের মধ্যে কোনো মাধ্যম দিয়ে ডেটা আদান-প্রদান।

মূল ধারণা

ডেটা কমিউনিকেশন মানে একজন প্রেরক থেকে একজন প্রাপকের কাছে একটি মাধ্যম দিয়ে, আগে থেকে মানা নিয়ম অনুযায়ী bit পৌঁছে দেওয়া। এরপর কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরই সব ঠিক করে দেয়: কত দ্রুত (ব্যান্ডউইথ), কোন দিকে (mode), bit একটির পর একটি না পাশাপাশি (serial/parallel), প্রেরক-প্রাপক সময় মিলিয়ে চলে কি না (synchronous/asynchronous), আর সংকেত বয়ে নেয় কী — তামা, কাচ না বাতাস। একটি ফোনকল থেকে পুরো ইন্টারনেট পর্যন্ত সবকিছু এই বাছাইগুলোর ফল।

উপমা: কুরিয়ারে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে একটি পার্সেল পাঠানোর কথা ভাবুন। পার্সেলটি বার্তা, আপনি প্রেরক, রাজশাহীর বন্ধু প্রাপক, ট্রাক আর রাস্তা মাধ্যম। আর ঠিকানা লেখার নিয়ম, ফর্ম পূরণ, “রিসিভ করলে সই দিতে হবে” — এসব হলো protocol. নিয়ম না মানলে পার্সেল ঠিক জায়গায় পৌঁছালেও কেউ বুঝবে না এটি কার।

যোগাযোগ ব্যবস্থার পাঁচ উপাদান

উপাদানকাজউদাহরণ (WhatsApp বার্তা)
বার্তা (Message)যে তথ্য পাঠানো হবে — লেখা, ছবি, শব্দ, ভিডিও“আজ সন্ধ্যায় দেখা হবে”
প্রেরক (Sender)যে যন্ত্র বার্তা তৈরি করে পাঠায়আপনার ফোন
প্রাপক (Receiver)যে যন্ত্র বার্তা গ্রহণ করেবন্ধুর ফোন
মাধ্যম (Medium)যে পথ দিয়ে সংকেত যায় — তার, কাচের তন্তু বা বাতাসরেডিও তরঙ্গ, তারপর optical fibre
Protocolদুই পক্ষের মানা নিয়মের সেট — ডেটার রূপ, ক্রম, গতি, ভুল হলে কী হবেTCP/IP, Wi-Fi-র নিয়ম

বাংলাদেশের HSC পাঠ্যবইয়ে একই ব্যবস্থাকে আরেকভাবে পাঁচ ভাগে দেখানো হয়: উৎস (source — যেখানে তথ্য তৈরি হয়) → প্রেরক যন্ত্র (transmitter — তথ্যকে পাঠানোর উপযোগী সংকেতে রূপ দেয়, encode করে) → মাধ্যম (channel) → প্রাপক যন্ত্র (receiver — সংকেত থেকে তথ্য উদ্ধার করে, decode করে) → গন্তব্য (destination). পরীক্ষায় যে তালিকা চাওয়া হয়, সেটি লিখুন; ধারণা একই — কেউ পাঠায়, কিছু একটা পথ, কেউ নেয়, আর মাঝখানে নিয়ম।

protocol ছাড়া bit পৌঁছালেও অর্থ হয় না: কত দ্রুত পাঠানো হবে, প্রতিটি অক্ষর কয়টি bit-এ (পর্ব ১৮-এর ASCII বা Unicode), বার্তা কোথায় শুরু আর শেষ — সব আগে থেকে ঠিক থাকতে হয়। ইন্টারনেটের protocol-গুলো (IP, TCP, HTTP) পর্ব ৩৩-এ দেখবেন।

২ · গতি — ব্যান্ডউইথ, bps আর baud

প্রতি সেকেন্ডে কতগুলো bit এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়, তা-ই ডেটা ট্রান্সমিশনের গতি। পাঠ্যবইয়ে একে বলা হয় ব্যান্ডউইথ, আর একক bps (bits per second). বাসার ইন্টারনেটের বিজ্ঞাপনে যে “২০ Mbps” লেখা থাকে, সেটি এই মাপ।

এককমানকোথায় দেখবেন
bpsপ্রতি সেকেন্ডে ১ bitমূল একক
kbps১,০০০ bpsপুরোনো dial-up modem (৫৬ kbps), ডিজিটাল ফোনকলের শব্দ (প্রায় ৬৪ kbps)
Mbps১০,০০,০০০ bpsবাসার ব্রডব্যান্ড, 4G মোবাইল ডেটা
Gbps১০০ কোটি bpsঅফিসের নেটওয়ার্ক কার্ড, ফাইবারের ব্যাকবোন

লক্ষ করুন, গতির এককে k, M, G মানে ১,০০০-এর গুণিতক (দশমিক) — মেমরির মতো ১০২৪ নয় (পর্ব ০৪-এর binary prefix মনে করুন)।

সবচেয়ে বেশি ভুল: Mbps বনাম MB/s

ছোট হাতের b মানে bit, বড় হাতের B মানে byte, আর ১ byte = ৮ bit. ISP গতি বলে Mbps-এ, কিন্তু ব্রাউজার বা Steam ডাউনলোডের গতি দেখায় MB/s-এ। তাই ২০ Mbps সংযোগে ব্রাউজার সর্বোচ্চ প্রায় ২০ ÷ ৮ = ২.৫ MB/s দেখাবে — এটা ঠকানো নয়, এককের পার্থক্য।

হিসাব করে দেখুন: ১ GB (ধরুন ১,০০০ MB) একটি সিনেমা, সংযোগ ২০ Mbps. ধাপ ১ — ফাইলকে bit-এ নিন: ১,০০০ MB × ৮ = ৮,০০০ Mb. ধাপ ২ — গতি দিয়ে ভাগ: ৮,০০০ ÷ ২০ = ৪০০ সেকেন্ড = ৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ড. বাস্তবে protocol-এর বাড়তি তথ্য, Wi-Fi-র দুর্বলতা আর সার্ভারের গতির কারণে সময় কিছুটা বেশি লাগে। ৮ দিয়ে গুণ করতে ভুলে গেলে উত্তর আসত মাত্র ৫০ সেকেন্ড — আট গুণ ভুল!

ব্যান্ডউইথের দুই অর্থ

প্রকৌশলের ভাষায় ব্যান্ডউইথ আসলে একটি কম্পাঙ্কের পরিসর — কোনো মাধ্যম কত নিচু থেকে কত উঁচু কম্পাঙ্কের সংকেত বইতে পারে, মাপা হয় Hz-এ। যেমন পুরোনো টেলিফোন লাইন মোটামুটি ৩০০ থেকে ৩,৪০০ Hz-এর শব্দ বয়ে নিত, তাই তার ব্যান্ডউইথ প্রায় ৩,১০০ Hz. যত চওড়া পরিসর, তত বেশি bps পাঠানো সম্ভব — তাই দৈনন্দিন ভাষায় ব্যান্ডউইথ মানে গতি। পরীক্ষায় “ব্যান্ডউইথের একক কী?” জিজ্ঞেস করলে উত্তর bps.

গতি অনুযায়ী তিন শ্রেণি (পাঠ্যবই)

ন্যারো ব্যান্ড

Narrow band — প্রায় ৪৫ থেকে ৩০০ bps. টেলিগ্রাফের মতো খুব ধীর যোগাযোগ।

সবচেয়ে ধীর

ভয়েস ব্যান্ড

Voice band — ৯,৬০০ bps পর্যন্ত। সাধারণ টেলিফোন লাইন; কম্পিউটার থেকে প্রিন্টার বা কার্ড রিডারে ডেটা।

মাঝারি

ব্রডব্যান্ড

Broadband — ১ Mbps বা তার বেশি। ফাইবার, coaxial, microwave, satellite; আজকের সব ইন্টারনেট।

সবচেয়ে দ্রুত

Baud rate — সংকেত বদলের হার

Baud rate মানে প্রতি সেকেন্ডে লাইনে সংকেত কতবার বদলায় (কতটি “symbol” যায়)। প্রতিটি symbol যদি ১ bit বহন করে, তাহলে baud আর bps সমান। কিন্তু আধুনিক modem একটি symbol-এ কয়েকটি bit পুরে দেয়: bps = baud × প্রতি symbol-এ bit. যেমন ২,৪০০ baud, প্রতি symbol-এ ৪ bit → ৯,৬০০ bps. নামটি এসেছে ফরাসি টেলিগ্রাফ প্রকৌশলী Émile Baudot-এর নাম থেকে।

৩ · bit কীভাবে যায় — serial, parallel আর তিন পদ্ধতি

Serial বনাম parallel

Serial transmission-এ একটিমাত্র পথে bit-গুলো একটির পর একটি যায় — এক লেনের রাস্তায় সারি বেঁধে রিকশা। Parallel transmission-এ ৮টি (বা ১৬, ৩২টি) আলাদা তার দিয়ে একসাথে ৮টি bit যায় — আট লেনের রাস্তায় পাশাপাশি আটটি রিকশা। শুনে মনে হয় parallel আট গুণ দ্রুত। একসময় তাই ছিল: পুরোনো প্রিন্টারের মোটা LPT কেবল আর হার্ডডিস্কের চওড়া ফিতার মতো PATA (IDE) কেবল ছিল parallel.

কিন্তু আজ প্রায় সব দ্রুত সংযোগই serial — USB (Universal Serial Bus), SATA (Serial ATA), PCIe, Ethernet, HDMI-র প্রতিটি লেন। কেন? গতি যখন সেকেন্ডে কোটি কোটি bit, তখন parallel-এর আটটি তারের সামান্য দৈর্ঘ্য-পার্থক্যেও bit-গুলো একসাথে পৌঁছায় না (একে বলে skew), আর পাশাপাশি তারগুলো একে অপরের সংকেতে গোলমাল ঢোকায় (crosstalk). একটি পথে খুব দ্রুত bit পাঠানো সহজ, সস্তা আর লম্বা দূরত্বেও নির্ভরযোগ্য। আরও গতি দরকার হলে একাধিক স্বাধীন serial “লেন” পাশাপাশি চালানো হয় — যেমন PCIe x4 বা x16.

প্রেরক আর প্রাপক কীভাবে তাল মেলায় — তিন পদ্ধতি

serial লাইনে প্রাপকের সামনে শুধু 0 আর 1-এর একটানা স্রোত। কোথায় একটি অক্ষর শুরু, কোথায় শেষ — বুঝবে কীভাবে? এর তিনটি উত্তরই পাঠ্যবইয়ের তিন ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি।

১. Asynchronous (অ্যাসিনক্রোনাস): প্রতিটি অক্ষর আলাদা করে পাঠানো হয়, যেকোনো সময়। লাইন অলস থাকলে সংকেত 1. অক্ষর পাঠানোর আগে একটি start bit (0) প্রাপককে জাগায়: “অক্ষর আসছে!” তারপর ৮টি ডেটা bit, শেষে একটি stop bit (1). দুই পক্ষের মধ্যে কোনো যৌথ ক্লক নেই; শুধু আগে থেকে মানা গতি। কিবোর্ডের টাইপ এর আদর্শ উদাহরণ — আপনি কখন পরের বোতাম চাপবেন, কেউ জানে না। সুবিধা: সরল, সস্তা। অসুবিধা: প্রতি ৮ bit ডেটায় ২ bit বাড়তি, আর অক্ষরের মাঝে ফাঁক — ধীর।

নিচে ইংরেজি বড় হাতের “A” একটি asynchronous serial লাইনে কীভাবে যায়, দেখুন। ASCII-তে A = ৬৫ = বাইনারিতে 01000001. এ ধরনের লাইনে সাধারণত সবচেয়ে ডানের bit (LSB) আগে যায়।

A = 65 = 01000001 · ফ্রেম: start + 8 data (LSB আগে) + stop
লাইনে এখন
এ পর্যন্ত গেছে
প্রাপক যা ভাবছে
দক্ষতা
  1. লাইন অলস। কেউ কিছু পাঠাচ্ছে না, তারে একটানা 1 (উঁচু ভোল্টেজ)। প্রাপক জানে না পরের অক্ষর কখন আসবে — হয়তো এক মিলিসেকেন্ড পরে, হয়তো এক মিনিট পরে।
  2. Start bit — দরজায় টোকা। প্রেরক লাইন 0 করল। 1 থেকে 0-তে এই পতনই প্রাপকের সংকেত: “এখন থেকে গোনা শুরু করো।” প্রাপক নিজের ঘড়ি চালু করে আর প্রতিটি bit-এর ঠিক মাঝখানে মাপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। দুই পক্ষের গতি (যেমন ৯,৬০০ bps) আগে থেকেই মানা।
  3. প্রথম চার ডেটা bit. LSB আগে: D0 = 1, তারপর D1, D2, D3 = 0. প্রাপক প্রতি bit-সময় পর পর একবার করে লাইন মাপছে।
  4. শেষ চার ডেটা bit. D4 = 0, D5 = 0, D6 = 1, D7 = 0. আটটি bit এসে গেছে। (কিছু ব্যবস্থায় এখানে একটি parity bit-ও যোগ হয় — পর্ব ১৮.)
  5. Stop bit. প্রেরক লাইন আবার 1 করল। প্রাপক দেখে এই জায়গায় 1 আছে কি না; 0 পেলে বোঝে কিছু গোলমাল হয়েছে (framing error). stop bit লাইনকে আবার অলস অবস্থায় ফিরিয়ে আনে, যাতে পরের start bit-এর পতন চেনা যায়।
  6. অক্ষর উদ্ধার। প্রাপক উল্টো ক্রমে সাজাল: 01000001 = ৬৫ = “A”. একটি অক্ষরের জন্য লাইনে গেল ১০ bit, যার ৮টি আসল ডেটা — দক্ষতা ৮০%. ৯,৬০০ bps লাইনে তাই সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৯৬০টি অক্ষর।
সময় →   idle | start | D0 D1 D2 D3 D4 D5 D6 D7 | stop | idle
লাইন     1  1 |   0   |  1  0  0  0  0  0  1  0 |  1   |  1  1

২. Synchronous (সিনক্রোনাস): অক্ষর ধরে নয়, শত শত বা হাজার হাজার byte একসাথে একটি বড় block (ফ্রেম) হিসেবে যায়। শুরুতে কয়েকটি বিশেষ sync byte আর header, শেষে ভুল ধরার জন্য CRC আর trailer. প্রেরক আর প্রাপক একই ক্লকে তাল মিলিয়ে চলে — ক্লক আলাদা তারে আসে, বা ডেটার সংকেতের ভেতর থেকেই উদ্ধার করা হয়। অক্ষরের মাঝে কোনো start-stop নেই, ফাঁকও নেই। তাই দ্রুত আর দক্ষ: ১,০০০ byte ডেটার সাথে ধরুন ১০ byte বাড়তি তথ্য → দক্ষতা প্রায় ৯৯%. তবে যন্ত্রপাতি জটিল, আর পাঠানোর আগে block জমাতে বাফার লাগে। এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে, নেটওয়ার্কে বা সার্ভারে বড় ফাইল পাঠানো — সবই synchronous.

৩. Isochronous (আইসোক্রোনাস): “iso” মানে সমান, “chronous” মানে সময় — সমান সময়ে সমান পরিমাণ ডেটা। ভিডিও কল, লাইভ খেলা বা অনলাইন রেডিওতে প্রতিটি টুকরো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছাতেই হবে; দেরিতে আসা একটি ছবি-ফ্রেম আর কাজের নয়। তাই নির্দিষ্ট গতি সংরক্ষিত রাখা হয়, আর ভুল হলে আবার পাঠানোর চেয়ে সামনে এগোনোকে গুরুত্ব দেওয়া হয় — ভিডিও এক মুহূর্ত ঝাপসা হোক, কিন্তু থেমে না যাক।

বিষয়AsynchronousSynchronousIsochronous
এককএকটি অক্ষরবড় blockনির্দিষ্ট তালে টুকরো
start/stop bitআছেনেইনেই
ক্লক মেলানোশুধু প্রতিটি অক্ষরের শুরুতেপুরো block জুড়েপুরো সময় জুড়ে, সময়ের নিশ্চয়তাসহ
গতি ও দক্ষতাকমবেশিনির্দিষ্ট ও স্থির
উদাহরণকিবোর্ড থেকে কম্পিউটারকম্পিউটার থেকে কম্পিউটারভিডিও কল, লাইভ সম্প্রচার

নিজে চালিয়ে দেখুন — ডাউনলোড আর দক্ষতার ক্যালকুলেটর

নিচের কোড দুটি কাজ করে: Mbps সংযোগে একটি ফাইল নামাতে কত সময় লাগবে, আর asynchronous ও synchronous পদ্ধতিতে লাইনে যাওয়া bit-এর কত ভাগ আসল ডেটা।

// ১) ডাউনলোডের সময়: ফাইল MB-তে (megabyte), সংযোগ Mbps-এ (megabit প্রতি সেকেন্ড)
function downloadTime(fileMB, mbps) {
  const megabits = fileMB * 8;                // 1 byte = 8 bit
  const sec = megabits / mbps;
  const m = Math.floor(sec / 60), s = Math.round(sec % 60);
  console.log(`${fileMB} MB @ ${mbps} Mbps = ${mbps / 8} MB/s -> ${sec} s (${m} min ${s} s)`);
}
downloadTime(1000, 20);    // ১ GB-এর সিনেমা, ২০ Mbps ব্রডব্যান্ড
downloadTime(300, 8);      // ৩০০ MB-এর অ্যাপ, ৮ Mbps মোবাইল ডেটা
downloadTime(4500, 100);   // ৪.৫ GB-এর গেম, ১০০ Mbps ফাইবার

// ২) লাইনে যাওয়া bit-এর কত ভাগ আসল ডেটা
function efficiency(label, dataBits, extraBits) {
  const pct = (100 * dataBits / (dataBits + extraBits)).toFixed(1);
  console.log(`${label}: ${dataBits} data + ${extraBits} extra -> ${pct}% useful`);
}
efficiency('Async 8N1, 1 char', 8, 2);        // start + stop
efficiency('Async 7E1, 1 char', 7, 3);        // start + parity + stop
efficiency('Sync, 1000-byte block', 8000, 80); // 10 byte header/trailer

Run চাপলে ছয়টি লাইন আসে: 1000 MB @ 20 Mbps = 2.5 MB/s -> 400 s (6 min 40 s), 300 MB @ 8 Mbps = 1 MB/s -> 300 s (5 min 0 s), 4500 MB @ 100 Mbps = 12.5 MB/s -> 360 s (6 min 0 s); তারপর Async 8N1, 1 char: 8 data + 2 extra -> 80.0% useful, Async 7E1, 1 char: 7 data + 3 extra -> 70.0% useful আর Sync, 1000-byte block: 8000 data + 80 extra -> 99.0% useful. মূল লাইন fileMB * 8 — byte থেকে bit. “8N1” মানে ৮ ডেটা bit, parity নেই (N), ১ stop bit; “7E1” মানে ৭ ডেটা bit, even parity, ১ stop bit. নিজের ইন্টারনেটের গতি আর কোনো ফাইলের আকার বসিয়ে দেখুন।

৪ · কোন দিকে যায় — transmission mode আর ডেটা বিতরণ

ডেটা কোন দিকে চলতে পারে, তার ভিত্তিতে যোগাযোগ তিন রকম। এই তিনটিকে বলে ট্রান্সমিশন মোড।

  • Simplex: শুধু এক দিকে, সব সময় একই দিকে। প্রাপক কখনো উত্তর পাঠাতে পারে না। উদাহরণ: রেডিও ও টিভি সম্প্রচার, মসজিদ বা স্কুলের মাইক, পাঠ্যবইয়ের উদাহরণে কিবোর্ড থেকে কম্পিউটার, কম্পিউটার থেকে মনিটর। (বাস্তবে আধুনিক USB কিবোর্ডেও কিছু সংকেত উল্টো দিকে যায় — যেমন Caps Lock বাতি জ্বালানোর নির্দেশ; তবু পরীক্ষায় পাঠ্যবইয়ের উত্তরই লিখুন।)
  • Half duplex: দুই দিকেই যায়, কিন্তু একসাথে নয় — পালা করে। একজন বলার সময় আরেকজন শুধু শোনেন। উদাহরণ: ওয়াকি-টকি, পুলিশের ওয়্যারলেস সেট, পুরোনো hub-ভিত্তিক নেটওয়ার্ক।
  • Full duplex: দুই দিকে একসাথে। উদাহরণ: মোবাইল বা টেলিফোনে কথা, ভিডিও কল, আধুনিক Ethernet সংযোগ।
একই মুহূর্তে কোন দিকে ডেটা চলছে
টিভি স্টেশন ও বাসার টিভি
ওয়াকি-টকি A ও B
মোবাইল ফোন A ও B
মোড
  1. Simplex — একমুখী রাস্তা। টিভি স্টেশন সংকেত পাঠাচ্ছে, লাখো টিভি শুধু গ্রহণ করছে। একমুখী রাস্তার মতো — গাড়ি কেবল এক দিকেই চলে।
  2. উল্টো দিকে পাঠানো যায় না। খবর পছন্দ না হলে টিভি দিয়ে স্টেশনে কিছু জানানোর উপায় নেই — যন্ত্রে পাঠানোর ব্যবস্থাই নেই। simplex-এ প্রাপক কখনো প্রেরক হয় না।
  3. Half duplex — A বলছে। নিরাপত্তারক্ষী A বোতাম চেপে বললেন, B শুনলেন। এই মুহূর্তে চ্যানেলটি A-র দখলে। “ওভার” বলে A জানালেন, তাঁর কথা শেষ।
  4. দিক বদল। এবার B বোতাম চেপে উত্তর দিলেন, A শুনলেন। একই চ্যানেল, দুই দিকেই চলে — কিন্তু পালা করে। ট্রাফিক পুলিশ যেভাবে সরু সেতুতে একবার এ পাশের, একবার ও পাশের গাড়ি ছাড়েন।
  5. দুজন একসাথে বললে? দুজনেই বোতাম চাপলে কেউ কারও কথা শুনতে পান না — half duplex-এ একসাথে পাঠানো মানে সংঘর্ষ। তাই এখানে “ওভার” বলার মতো নিয়ম (protocol) লাগে।
  6. Full duplex — দুই লেনের রাস্তা। মোবাইল ফোনে দুজন একসাথে কথা বললেও দুজনেই শুনতে পান। দুই দিকের জন্য আলাদা কম্পাঙ্ক, আলাদা সময়-টুকরো বা আলাদা তারের জোড়া থাকে — তাই কেউ কাউকে আটকায় না। গতি দুই দিকেই পুরো।

কতজনের কাছে যায় — unicast, broadcast, multicast

দিক ছাড়াও প্রশ্ন আছে: একজন প্রেরকের বার্তা কতজন পাবেন? এটিই পাঠ্যবইয়ের ডেটা বিতরণ পদ্ধতি।

Unicast

Unicast — একজন থেকে নির্দিষ্ট একজন। মোবাইলে কাউকে ফোন করা, একজনকে ইমেইল, bKash-এ একজনকে টাকা পাঠানো।

এক → এক

Broadcast

Broadcast — একজন থেকে নেটওয়ার্কের সবার কাছে। রেডিও-টিভি, নেটওয়ার্কে “এই IP কার?” জিজ্ঞেস করা। চাইলেও কাউকে বাদ দেওয়া যায় না।

এক → সবাই

Multicast

Multicast — একজন থেকে একটি নির্দিষ্ট দলের কাছে, শুধু যাঁরা যুক্ত হয়েছেন। ভিডিও কনফারেন্স, IPTV-র একটি চ্যানেল, অনলাইন ক্লাস।

এক → বাছাই করা দল

broadcast আর multicast-এর মূল পার্থক্য বাছাই: broadcast-এ সবাই পায়, multicast-এ শুধু যারা যোগ দিয়েছে।

৫ · সংকেত — analog, digital, modulation আর multiplexing

তারে বা বাতাসে আসলে “0” আর “1” লেখা থাকে না; যায় বিদ্যুৎ, আলো বা রেডিও তরঙ্গ। সংকেত দুই রকম। Analog signal একটানা মসৃণভাবে বদলায় — মানুষের কণ্ঠস্বরের ঢেউয়ের মতো (পর্ব ২৮)। Digital signal-এর কয়েকটি নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে — যেমন উঁচু ভোল্টেজ মানে 1, নিচু মানে 0; সিঁড়ির মতো লাফিয়ে বদলায়। digital সংকেতে noise ঢুকলেও “উঁচু না নিচু” বোঝা সহজ, তাই সেটি পুনরুদ্ধার করে আবার পরিষ্কার করা যায় — analog-এ ঢোকা হিসহিস শব্দ আর আলাদা করা যায় না।

Modulation আর modem

দূরে পাঠাতে হলে, বিশেষ করে বাতাসে বা টেলিফোন লাইনে, ডেটাকে একটি উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গের (carrier wave) পিঠে চড়াতে হয়। বাহক তরঙ্গের কোনো একটি বৈশিষ্ট্য বার্তা অনুযায়ী বদলানোকে বলে modulation:

  • AM (Amplitude Modulation): তরঙ্গের উচ্চতা (বিস্তার) বদলায়। মিডিয়াম ওয়েভ রেডিও। সহজ, কিন্তু বিদ্যুৎ-চমকের মতো noise সহজে ঢোকে।
  • FM (Frequency Modulation): তরঙ্গ কত ঘন (কম্পাঙ্ক) তা বদলায়। ৮৮–১০৮ MHz-এর FM রেডিও — শব্দ অনেক পরিষ্কার।
  • Digital modulation: একই কৌশল 0 আর 1-এর জন্য — বিস্তার বদলে (ASK), কম্পাঙ্ক বদলে (FSK) বা দশা বদলে (PSK). আধুনিক Wi-Fi আর 4G/5G-তে QAM ব্যবহার হয়: বিস্তার আর দশা দুটোই বদলে একটি symbol-এ অনেক bit পাঠানো হয় — অংশ ২-এর baud আর bps-এর পার্থক্য এখান থেকেই।

যে যন্ত্র কম্পিউটারের digital ডেটাকে লাইনের উপযোগী সংকেতে বদলায় (MOdulation) আর উল্টো দিকে ফিরিয়ে আনে (DEModulation), তার নাম modem. ১৯৯০-এর দশকে টেলিফোন লাইনের dial-up modem ছিল সর্বোচ্চ ৫৬ kbps. আজ বাসায় ফাইবার সংযোগের ছোট বাক্স (ONU) আলো আর বিদ্যুতের মধ্যে, আর আপনার ফোনের ভেতরের modem রেডিও তরঙ্গ আর bit-এর মধ্যে এই অনুবাদ করে।

Multiplexing — একটি পথ, অনেক ব্যবহারকারী

সমুদ্রের নিচে একটি কেবল বসাতে বিপুল খরচ; সেটি একজনের একটি ফোনকলে ব্যবহার করা অপচয়। একটি মাধ্যমকে একসাথে অনেক সংকেতের মধ্যে ভাগ করে দেওয়াকে বলে multiplexing. পর্ব ২১-এ দেখা multiplexer সার্কিটই এর হার্ডওয়্যার-রূপ: অনেক ইনপুট থেকে পালা করে একটি বেছে আউটপুটে পাঠায়। প্রধান তিন ধরন:

  • FDM (Frequency Division): প্রত্যেককে আলাদা কম্পাঙ্ক। FM রেডিওর প্রতিটি স্টেশন বা ডিশ লাইনের প্রতিটি টিভি চ্যানেল একই বাতাস বা তারে, আলাদা কম্পাঙ্কে।
  • TDM (Time Division): প্রত্যেককে পালা করে ছোট সময়-টুকরো। নিচের stepper দেখুন।
  • WDM (Wavelength Division): optical fibre-এ FDM-এর রূপ — একই কাচের সুতোয় আলাদা রঙের (তরঙ্গদৈর্ঘ্যের) আলো, প্রতিটি রঙে আলাদা ডেটা।
A, B, C তিনজনের ডেটা · প্রতি slot-এ একজনের একটি byte
অপেক্ষায় (A / B / C)
লাইনে চলছে
প্রাপক প্রান্তে ভাগ করে
  1. তিনজন, একটি লাইন। তিনটি অফিসের তিনজন ব্যবহারকারী একই লাইন দিয়ে দূরের শাখায় ডেটা পাঠাতে চান। প্রত্যেকের কাছে দুটি করে byte জমা আছে।
  2. Slot ১ — A-র পালা। multiplexer এক মুহূর্তের জন্য A-কে লাইনে বসাল; A1 গেল। এক slot পুরো লাইনই A-র।
  3. Slot ২ — B-র পালা। এবার B1. প্রাপক প্রান্তের demultiplexer একই তালে ঘোরে, তাই জানে দ্বিতীয় slot-টি B-র।
  4. Slot ৩ — C-র পালা। C1 গেল। একটি পুরো চক্র (frame) শেষ — প্রত্যেকে একবার করে সুযোগ পেলেন।
  5. চক্র ঘুরতে থাকে। A2, B2, C2 — একই ক্রমে। চক্রটি সেকেন্ডে হাজার হাজার বার ঘোরে বলে প্রত্যেকের মনে হয় লাইনটি তাঁর একার। কেউ চুপ থাকলেও তাঁর slot ফাঁকা যায়; তাই আধুনিক নেটওয়ার্ক প্রয়োজন অনুযায়ী slot দেয়।

৬ · তারের মাধ্যম — twisted pair, coaxial আর optical fibre

যে পথ দিয়ে সংকেত যায়, তাকে বলে ট্রান্সমিশন মাধ্যম। প্রধান দুই ভাগ: guided (তারের) — সংকেত একটি নির্দিষ্ট তার বা তন্তুর ভেতর দিয়ে যায়; আর unguided (তারবিহীন) — সংকেত বাতাসে বা মহাশূন্যে ছড়িয়ে যায় (অংশ ৭)।

Twisted pair — পাকানো তামার তার

Twisted pair-এ দুটি অন্তরিত তামার তার পরস্পরকে পেঁচিয়ে থাকে। পাক দেওয়ার কারণ: বাইরের বৈদ্যুতিক গোলমাল দুটি তারে প্রায় সমানভাবে লাগে, আর প্রাপক দুই তারের পার্থক্য মাপে বলে সেই গোলমাল কেটে যায়। পাশের জোড়ার সাথে crosstalk-ও কমে। টেলিফোন লাইন আর অফিসের নেটওয়ার্ক কেবল এই ধরনের; একটি নেটওয়ার্ক কেবলে চার জোড়া তার থাকে, মাথায় RJ-45 প্লাগ।

  • UTP (Unshielded): কোনো ধাতব আবরণ নেই — সস্তা, নরম, সবচেয়ে প্রচলিত।
  • STP (Shielded): ধাতব ফয়েল বা জালের আবরণ — কারখানা বা বড় মোটরের কাছে গোলমাল ঠেকায়, কিন্তু দামি আর শক্ত।
  • Category: Cat5e সাধারণত ১০০ মিটার পর্যন্ত ১ Gbps; Cat6 একই দূরত্বে ১ Gbps, আর ছোট দূরত্বে (প্রায় ৫৫ মিটার) ১০ Gbps; Cat6a ১০০ মিটারেই ১০ Gbps. সাধারণ নিয়ম: একটি টানা কেবল সর্বোচ্চ ১০০ মিটার।

Coaxial — ডিশ লাইনের মোটা তার

Coaxial cable-এর কেন্দ্রে একটি তামার তার, তার চারপাশে প্লাস্টিকের অন্তরক, তারপর তামার জালের ঢাল, সবশেষে বাইরের আবরণ। সব স্তরের কেন্দ্র একই অক্ষে বলে নাম “co-axial”. twisted pair-এর চেয়ে বেশি ব্যান্ডউইথ আর ভালো সুরক্ষা। বাসার “ডিশ লাইন” বা কেবল টিভির তার এটাই।

Optical fibre — আলোয় ডেটা

Optical fibre-এ বিদ্যুৎ নয়, আলো যায় — চুলের মতো সরু, অতি বিশুদ্ধ কাচের সুতোর ভেতর দিয়ে। ভেতরের অংশ core, তাকে ঘিরে থাকে একটু কম প্রতিসরাঙ্কের কাচ cladding, তার ওপর সুরক্ষার আবরণ। প্রেরক প্রান্তে লেজার বা LED খুব দ্রুত জ্বলে-নিভে bit পাঠায়, প্রাপক প্রান্তে photodiode আলো দেখে আবার বিদ্যুতে বদলায়।

Optical fibre-এর ভেতরে আলো

core-এ আলো বারবার cladding-এর সীমানায় পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনে ফিরে আসে

Optical fibre-এর core আর cladding-এ আলোর পথ বাঁ দিকে লেজার থেকে আলো core-এ ঢোকে, core আর cladding-এর সীমানায় বারবার প্রতিফলিত হয়ে আঁকাবাঁকা পথে ডান দিকের photodiode-এ পৌঁছায়। লেজার photodiode cladding (প্রতিসরাঙ্ক কম, প্রায় 1.46) core (প্রতিসরাঙ্ক বেশি, প্রায় 1.48)
ছবি ৩০.১ — আলো সীমানায় খুব হেলে (critical angle-এর চেয়ে বড় কোণে) পড়লে একটুও বাইরে না গিয়ে পুরোটাই ভেতরে ফিরে আসে। এই প্রতিফলনের নাম total internal reflection.

আলো বেরিয়ে যায় না কেন? বেশি প্রতিসরাঙ্কের মাধ্যম (core) থেকে কম প্রতিসরাঙ্কের মাধ্যমে (cladding) যাওয়ার সময় আলো যদি সীমানায় একটি নির্দিষ্ট কোণের (critical angle) চেয়ে বেশি হেলে পড়ে, তাহলে সে আর বাইরে যায় না, পুরোটা ভেতরে প্রতিফলিত হয় — total internal reflection. পুকুরের পানির নিচ থেকে খুব হেলে ওপরে তাকালে পানির উপরিতল আয়নার মতো দেখায় — একই নিয়ম। নিচের stepper-এ আলোর যাত্রা দেখুন:

core n ≈ 1.48, cladding n ≈ 1.46 → critical angle ≈ 81° (সীমানার লম্বের সাথে)
আলো কোথায়
সীমানায় আপতন কোণ
ফল
  1. আলো ঢুকল। লেজার core-এর প্রায় সমান্তরালে আলো পাঠায়। আলো জ্বলা মানে 1, নেভা মানে 0 (আধুনিক ব্যবস্থায় আরও জটিল কৌশল) — সেকেন্ডে শত কোটি বার।
  2. প্রথম প্রতিফলন। আলো সীমানায় পৌঁছাল প্রায় ৮৫° কোণে (সীমানার লম্ব থেকে মাপা)। এটি critical angle (প্রায় ৮১°)-এর চেয়ে বড়, তাই একটুও বাইরে না গিয়ে পুরোটা ভেতরে ফিরে এল।
  3. সোজা পথে অগণিত প্রতিফলন। প্রতিটি প্রতিফলনে কোণ একই থাকে, তাই আলো আঁকাবাঁকা পথে এগিয়ে চলে। আধুনিক কাচ এত স্বচ্ছ যে প্রতি কিলোমিটারে ক্ষতি খুবই সামান্য (প্রায় ০.২ dB — অংশ ৮)।
  4. আলতো বাঁক। কেবল রাস্তার মোড়ে আস্তে বাঁক নিলে কোণ সামান্য কমে, কিন্তু তখনো ৮১°-এর বেশি — আলো টিকে থাকে। তাই fibre পাইপের ভেতর দিয়ে শহরের রাস্তা ধরে ঘুরিয়ে নেওয়া যায়।
  5. তীক্ষ্ণ বাঁকে ফাঁস। কেবল খুব জোরে ভাঁজ করলে আলো সীমানায় পড়ে ছোট কোণে — critical angle-এর কম। তখন আলোর একাংশ cladding দিয়ে বেরিয়ে যায়, সংকেত দুর্বল হয়। তাই fibre-এর একটি ন্যূনতম বাঁকের ব্যাসার্ধ মানতে হয়।
  6. প্রাপক প্রান্ত। photodiode আলো পেলে বিদ্যুৎ তৈরি করে — bit আবার বিদ্যুতে ফিরল। পুরো পথে বাইরের কোনো বৈদ্যুতিক গোলমাল আলোকে ছুঁতে পারেনি।

fibre দুই রকম। Single-mode-এর core খুব সরু (প্রায় ৯ মাইক্রোমিটার), আলো প্রায় একটিমাত্র পথে যায়, লেজার লাগে — শত কিলোমিটার দূরত্বে ব্যবহার হয়: শহরের মধ্যে, দেশের ব্যাকবোনে, সমুদ্রের নিচে। Multimode-এর core মোটা (৫০ বা ৬২.৫ মাইক্রোমিটার), আলো অনেক পথে যায়, পথের দৈর্ঘ্যের পার্থক্যে সংকেত ছড়িয়ে পড়ে — তাই কয়েকশো মিটারের মধ্যে, যেমন ডেটা সেন্টারের ভেতরে।

fibre-এর সুবিধা: বিশাল ব্যান্ডউইথ (একটি জোড়ায় WDM দিয়ে বহু Tbps পর্যন্ত), কয়েক কিলোমিটারেও সামান্য ক্ষতি, বিদ্যুৎ নয় বলে বজ্রপাত বা মোটরের বৈদ্যুতিক চৌম্বক গোলমাল লাগে না, আড়ি পাতা কঠিন, ওজন কম। অসুবিধা: বসানো আর জোড়া দেওয়া (splicing) দক্ষতা ও দামি যন্ত্রসাপেক্ষ, কাচ ভাঙতে পারে, প্রান্তে আলো-বিদ্যুৎ রূপান্তরের যন্ত্র লাগে। বাংলাদেশের দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্যাকবোন, শহরের বাসাবাড়ির ব্রডব্যান্ড, মোবাইল টাওয়ারের মধ্যের সংযোগ, আর বিদেশের সাথে যুক্ত সাবমেরিন কেবল — সবখানে মূল ভরসা optical fibre.

৭ · তারবিহীন মাধ্যম — radio, microwave, satellite আর infrared

তারবিহীন মাধ্যমে সংকেত যায় তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গে — একই জাতের তরঙ্গ, শুধু কম্পাঙ্ক আলাদা। কম্পাঙ্ক যত বাড়ে, তত বেশি ডেটা বহন করা যায়, কিন্তু তরঙ্গ তত সোজা পথে চলে আর বাধা পেরোতে তত কম পারে।

  • Radio wave (মোটামুটি ৩ kHz থেকে ১ GHz): সব দিকে ছড়ায়, দেয়াল ভেদ করতে পারে, অনেক দূর যায়। AM-FM রেডিও, টিভি সম্প্রচার, মোবাইল ফোন। Wi-Fi আর Bluetooth-কেও সাধারণভাবে “রেডিও” বলা হয়, যদিও তাদের ২.৪ বা ৫ GHz কম্পাঙ্ক এই ভাগ অনুযায়ী আসলে microwave পরিসরে পড়ে — বিস্তারিত পর্ব ৩১-এ।
  • Microwave (মোটামুটি ১ থেকে ৩০০ GHz): সরু রশ্মির মতো এক দিকে যায়, তাই দুই অ্যান্টেনাকে একে অপরকে “দেখতে” হয় (line of sight). পৃথিবী গোল আর পথে ভবন-পাহাড় আছে, তাই উঁচু টাওয়ারে বসিয়ে কয়েক দশ কিলোমিটার পর পর রিলে করা হয়। মোবাইল টাওয়ারের গায়ে যে ঢোলের মতো গোল অ্যান্টেনা দেখেন, সেগুলো প্রায়ই পাশের টাওয়ারের সাথে microwave সংযোগ। ভারী বৃষ্টিতে কিছুটা দুর্বল হয়।
  • Satellite: আকাশে একটি রিলে স্টেশন — ভূমি থেকে সংকেত ওপরে যায় (uplink), satellite তা অন্য কম্পাঙ্কে নিচে পাঠায় (downlink), বিশাল এলাকা জুড়ে। পাহাড়, দ্বীপ, চর, সমুদ্রের জাহাজ — যেখানে তার পৌঁছানো কঠিন, সেখানে কার্যকর। টিভির ডিশ অ্যান্টেনা আর DTH সেবা এর পরিচিত উদাহরণ।
  • Infrared: দৃশ্যমান লাল আলোর চেয়ে একটু নিচের কম্পাঙ্কের অদৃশ্য আলো। খুব কাছে, সরাসরি দৃষ্টিপথে কাজ করে, দেয়াল পেরোতে পারে না। টিভি-এসির রিমোট এর উদাহরণ। এই সীমাবদ্ধতারই সুবিধা: পাশের ঘরের টিভিতে আপনার রিমোট কাজ করে না।

Geostationary satellite আর বাংলাদেশের নিজস্ব satellite

বিষুবরেখার ঠিক ওপরে প্রায় ৩৫,৮০০ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি satellite পৃথিবীকে প্রায় ২৪ ঘণ্টায় (নিখুঁতভাবে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিটে — পৃথিবী নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে যত সময় নেয়) একবার ঘোরে — পৃথিবীর ঘোরার সাথে তাল মিলিয়ে। তাই ভূমি থেকে মনে হয় সেটি আকাশে এক জায়গায় স্থির। একে বলে geostationary satellite. এর সুবিধা: বাসার ডিশ অ্যান্টেনা একবার এক দিকে তাক করে রাখলেই চলে। অসুবিধা: এত দূর যেতে-আসতে আলোর গতিতেও এক দিকে প্রায় ০.২৪ সেকেন্ড লাগে — ফোনালাপে কথার পর উত্তরের আগে স্পষ্ট বিরতি। এজন্য এখন নিচু কক্ষপথের (কয়েকশো কিলোমিটার উচ্চতার) satellite-গুচ্ছ দিয়েও ইন্টারনেট দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ satellite বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে SpaceX-এর Falcon 9 রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি একটি geostationary satellite; টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার, DTH আর দুর্গম এলাকায় যোগাযোগে ব্যবহারের জন্য তৈরি।

মাধ্যমধরনগতি/ব্যান্ডউইথদূরত্বগোলমালে প্রতিরোধসাধারণ ব্যবহার
Twisted pairতারMbps থেকে ১০ Gbpsপ্রায় ১০০ মিটার (এক টানে)কম–মাঝারিঅফিস LAN, টেলিফোন
Coaxialতারমাঝারি–বেশিকয়েকশো মিটারমাঝারিকেবল টিভি
Optical fibreতার (কাচ)সবচেয়ে বেশি (Gbps–Tbps)দশ থেকে শত কিলোমিটারসবচেয়ে বেশিব্যাকবোন, সাবমেরিন কেবল, FTTH
Radio waveতারবিহীনকম–মাঝারিমিটার থেকে বহু কিলোমিটারকমরেডিও, মোবাইল, Wi-Fi
Microwaveতারবিহীনবেশিদৃষ্টিপথে কয়েক দশ কিলোমিটারমাঝারি (বৃষ্টিতে দুর্বল)টাওয়ার-থেকে-টাওয়ার
Satelliteতারবিহীনমাঝারি–বেশিমহাদেশ জুড়েমাঝারি; দেরি বেশিটিভি সম্প্রচার, দুর্গম এলাকা
Infraredতারবিহীনকমকয়েক মিটারদেয়াল পেরোয় নারিমোট কন্ট্রোল

৮ · পথের বাধা — noise, attenuation, repeater আর Shannon-এর সীমা

কোনো মাধ্যমই নিখুঁত নয়। পথে সংকেত তিনভাবে নষ্ট হয়:

  • Attenuation (ক্ষয়): দূরত্ব বাড়লে সংকেত দুর্বল হয় — মাঠের এক প্রান্তে চিৎকার করলে অন্য প্রান্তে আস্তে শোনায়। তামার তারে ক্ষয় বেশি, fibre-এ খুব কম।
  • Noise (গোলমাল): বাইরের অবাঞ্ছিত সংকেত মিশে যাওয়া — বজ্রপাত, মোটর, পাশের তার (crosstalk), এমনকি তারের ভেতরের ইলেকট্রনের তাপীয় কাঁপুনি। পুরোনো রেডিওর হিসহিস শব্দ।
  • Distortion (বিকৃতি): সংকেতের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন গতিতে পৌঁছে আকার বদলে যায় — multimode fibre-এ আলো ছড়িয়ে পড়ার মতো।

ক্ষয়ের সমাধান repeater: পথের মাঝে বসানো যন্ত্র, যে দুর্বল সংকেত নিয়ে আবার শক্তিশালী করে সামনে পাঠায়। digital সংকেতের repeater শুধু জোরে করে না, প্রতিটি bit আবার পরিষ্কার করে নতুন করে তৈরি করে — তাই noise জমতে পারে না। এ কারণেই twisted pair-এর ১০০ মিটার সীমা পেরোতে switch বা repeater বসাতে হয়, আর সাবমেরিন কেবলে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর আলো জোরদার করার যন্ত্র (optical amplifier) বসানো থাকে।

সংকেত কতটা পরিষ্কার, তার মাপ signal-to-noise ratio (SNR) — সংকেতের শক্তি গোলমালের শক্তির কত গুণ। মিছিলের মধ্যে ফোনে কথা বলার কথা ভাবুন: আপনার গলা যত জোর আর চারপাশ যত শান্ত, তত দ্রুত আর নির্ভুল কথা চালানো যায়।

আরও গভীরে — Shannon-এর সূত্র: ১৯৪৮ সালে Claude Shannon প্রমাণ করেন, একটি চ্যানেলের সর্বোচ্চ নির্ভুল গতি — channel capacity — C = B × log2(1 + S/N) bps, যেখানে B ব্যান্ডউইথ (Hz) আর S/N হলো SNR. পুরোনো টেলিফোন লাইনে B ≈ ৩,০০০ Hz আর S/N ≈ ১,০০০ ধরলে C ≈ ৩,০০০ × ১০ ≈ ৩০,০০০ bps — এজন্যই পুরোপুরি analog পথের modem প্রায় ৩৩.৬ kbps-এ গিয়ে আটকে গিয়েছিল; ৫৬ kbps সম্ভব হয়েছিল শুধু ডাউনলোডের দিকে, কারণ ফোন কোম্পানির দিকের পথটি ততদিনে digital হয়ে গিয়েছিল। গতি বাড়ানোর দুই পথ: বেশি ব্যান্ডউইথ (fibre, 5G-র চওড়া চ্যানেল) অথবা পরিষ্কার সংকেত।

পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে — এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে:

  • ওয়াকি-টকি, টিভি সম্প্রচার আর মোবাইল ফোন কোন মোডের উদাহরণ? যথাক্রমে half duplex, simplex আর full duplex.
  • সবচেয়ে দ্রুতগতির (সবচেয়ে বেশি ব্যান্ডউইথের) মাধ্যম কোনটি? optical fibre — আলো দিয়ে ডেটা পাঠায়, বৈদ্যুতিক গোলমালে প্রভাবিত হয় না।
  • ডেটা কমিউনিকেশনের উপাদানগুলো কী কী? বার্তা, প্রেরক, প্রাপক, মাধ্যম আর protocol; পাঠ্যবইয়ের আরেক তালিকায় উৎস, প্রেরক, মাধ্যম, প্রাপক আর গন্তব্য।
  • ব্যান্ডউইথের একক কী? baud আর bps-এর পার্থক্য? একক bps; baud হলো প্রতি সেকেন্ডে symbol বা সংকেত বদলের সংখ্যা, আর bps = baud × প্রতি symbol-এ bit.
  • Asynchronous পদ্ধতিতে start আর stop bit কেন লাগে? যৌথ ক্লক নেই বলে প্রতিটি অক্ষরের শুরু আর শেষ চেনাতে; উদাহরণ কিবোর্ড থেকে কম্পিউটারে ডেটা।

আরও গভীরে: সংকেতের ব্যান্ডউইথ আর ডেটা রেটের গাণিতিক সম্পর্ক (Nyquist আর Shannon), line coding, WDM আর ভুল ধরার CRC বিস্তারিত পাবেন আমাদের Computer Networks কোর্সে। শুরু করতে পারেন transmission media, signal, bandwidth আর data rate বা multiplexing পর্ব দিয়ে।

৯ · AI-এর যুগে — একক মিলিয়ে নিন

“আমার ১০০ Mbps লাইনে ৫ GB নামাতে কত সময় লাগবে?” — এমন প্রশ্নে AI চ্যাটবট দ্রুত উত্তর দেয়, কিন্তু এককের জায়গায় প্রায়ই ভুল করে। কারণ লেখায় Mb আর MB শুধু একটি অক্ষরের ছোট-বড়র পার্থক্য, আর AI পরের শব্দ অনুমান করে লেখে, হিসাব ধাপে ধাপে যাচাই করে না। আরেকটি সাধারণ ভুল: ব্যান্ডউইথ আর latency গুলিয়ে ফেলা। ব্যান্ডউইথ হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেনের সংখ্যা — একসাথে কত গাড়ি যেতে পারে; latency হলো একটি গাড়ির পৌঁছাতে কত সময় লাগে। লেন বাড়ালে দূরত্ব কমে না — তেমনি ১ Gbps satellite সংযোগেও geostationary-র ০.২৪ সেকেন্ডের দেরি থেকেই যায়।

AI-এর সাধারণ ভুলকীভাবে ধরবেন
Mbps-কে MB/s ধরে হিসাব — সময় আট গুণ কম আসেফাইলের MB × ৮ = Mb; তারপর Mbps দিয়ে ভাগ
ব্যান্ডউইথ বাড়ালে ping বা latency কমবে বলাlatency দূরত্ব আর পথের যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে; গতি নয়, অপেক্ষার সময়
baud আর bps সব সময় সমান বলাপ্রতি symbol-এ ১ bit হলেই কেবল সমান
GB-কে কখনো ১,০০০ MB, কখনো ১,০২৪ MB ধরে মিশিয়ে ফেলাশুরুতেই একটি ধরে নিন আর পুরো হিসাবে সেটিই রাখুন

নিচের prompt-টি কপি করে নিজের সংখ্যা বসান। AI-কে প্রতিটি একক আলাদা করে লিখতে বলা হয়েছে, যাতে ভুল চোখে পড়ে:

আমি ডেটা কমিউনিকেশনের হিসাব শিখছি। ফাইলের আকার [যেমন 5 GB], ইন্টারনেট সংযোগ [যেমন 100 Mbps]. ১. শুরুতেই বলো তুমি 1 GB = 1000 MB ধরছ নাকি 1024 MB. ২. প্রতিটি ধাপে একক লিখবে: byte (B) থেকে bit (b)-এ রূপান্তর আলাদা লাইনে দেখাও। ৩. সময় সেকেন্ডে, তারপর মিনিট-সেকেন্ডে দাও; সংযোগের গতি MB/s-এ কত, সেটিও লেখো। ৪. বাস্তবে সময় কেন কিছুটা বেশি লাগতে পারে, দুই লাইনে বলো; latency আর bandwidth গুলিয়ে ফেলবে না। ৫. কোথাও অনিশ্চিত হলে বলো; অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে লিখবে না।

AI-এর উত্তর হাতে পেলে — যাচাইয়ের চেকলিস্ট

ভাবনার প্রশ্ন

প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে কিছুক্ষণ ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন। আজকের ইন্টারনেটের প্রতিটি তার আর তরঙ্গের পেছনে আছে প্রায় দুই শতাব্দীর পরীক্ষা, ব্যর্থতা আর সাহসী ধারণা।

প্র ০১১৮৪৪ সালের একটি টেলিগ্রাফ বার্তা থেকে আটলান্টিকের তলায় তার — প্রথম “বৈদ্যুতিক ডেটা কমিউনিকেশন” কেমন ছিল, আর প্রথম সমুদ্র-কেবল কেন কয়েক সপ্তাহেই মরে গেল?

১৮৪৪ সালের ২৪ মে Samuel Morse ওয়াশিংটন থেকে বাল্টিমোরে একটি তারের মাধ্যমে বার্তা পাঠান: “What hath God wrought”. তারের এক প্রান্তে চাবি চাপলে বিদ্যুৎ চলত, অন্য প্রান্তে চুম্বক টেনে দাগ কাটত। ছোট চাপ ডট, লম্বা চাপ ড্যাশ — Morse code. এটিকে আজকের ভাষায় বলা যায় serial, asynchronous, মোটামুটি half duplex ডেটা কমিউনিকেশন: একটিমাত্র তার, একজন অপারেটর একবারে এক দিকে পাঠান, আর অক্ষরের মাঝে ফাঁক রেখে শুরু-শেষ বোঝানো হয়। ঘোড়ার ডাকে যে খবর পৌঁছাতে দিন লাগত, তা পৌঁছাল মিনিটে।

এরপর স্বপ্ন: ইউরোপ আর আমেরিকা জুড়ে দেওয়া। ব্যবসায়ী Cyrus Field-এর উদ্যোগে ১৮৫৮ সালে আটলান্টিকের তলায় প্রথম টেলিগ্রাফ কেবল বসানো হয়। রানি ভিক্টোরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান — কিন্তু সংকেত এত দুর্বল আর ঝাপসা ছিল যে ছোট বার্তাটি পাঠাতেই বহু ঘণ্টা লাগে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কেবলটি পুরো অচল হয়ে যায়।

কেন? এই পর্বের ভাষায় attenuation আর distortion. লম্বা তামার তার, তার চারপাশে পানি — মিলে একটি বিশাল capacitor-এর মতো আচরণ করে; একটি তীক্ষ্ণ স্পন্দন অন্য প্রান্তে পৌঁছায় ছড়ানো, ঝাপসা ঢেউ হয়ে। পদার্থবিদ William Thomson (পরে Lord Kelvin) হিসাব করে দেখিয়েছিলেন, এই দেরি দৈর্ঘ্যের বর্গের অনুপাতে বাড়ে, আর সমাধান হলো খুব সংবেদনশীল গ্রাহক যন্ত্র — তিনি mirror galvanometer তৈরি করেন। কিন্তু কোম্পানির প্রধান বৈদ্যুতিক কর্মকর্তা উল্টো পথে হাঁটেন: সংকেত জোরালো করতে খুব উঁচু ভোল্টেজ দেন, আর তাতেই সম্ভবত কেবলের অন্তরক নষ্ট হয়।

শিক্ষা নিয়ে ১৮৬৬ সালে বিশাল জাহাজ Great Eastern দিয়ে উন্নত নকশার কেবল বসানো হয়, যা টেকসই প্রমাণিত হয়। এরপর কয়েক দশকে সমুদ্রের তলায় টেলিগ্রাফ কেবলের জাল পৃথিবী ঘিরে ফেলে — আজকের fibre-এর সাবমেরিন কেবলের পথ অনেক জায়গায় সেই পুরোনো পথ ধরেই।

মূল উপলব্ধি: দূর যোগাযোগে বড় শত্রু দূরত্ব নিজেই — সংকেত দুর্বল হয়, ছড়িয়ে পড়ে। “আরও জোরে চেঁচাও” সমাধান নয়; সমাধান হলো মাধ্যম বোঝা, ভালো গ্রাহক, আর মাঝপথে সংকেত নবায়ন — আজকের repeater আর optical amplifier-এর মূল দর্শন।

প্র ০২একটি চ্যানেলে সর্বোচ্চ কত দ্রুত ডেটা পাঠানো সম্ভব — এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর ১৯৪৮ সালে একটি গবেষণাপত্রে কীভাবে এল?

বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে টেলিফোন প্রকৌশলীরা একটা ধাঁধায় ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে Bell Labs-এর Harry Nyquist আর Ralph Hartley দেখিয়েছিলেন, একটি লাইনের ব্যান্ডউইথ যত বেশি, সেকেন্ডে তত বেশি symbol পাঠানো যায়। কিন্তু প্রতি symbol-এ কত bit পুরে দেওয়া যায়? তাত্ত্বিকভাবে ভোল্টেজের অসংখ্য মাত্রা নিলে অসীম। বাস্তবে noise সেই সূক্ষ্ম মাত্রাগুলো গুলিয়ে দেয়। তাহলে সীমা কোথায়?

১৯৪৮ সালে Bell Labs-এর গণিতবিদ ও প্রকৌশলী Claude Shannon Bell System Technical Journal-এ দুই কিস্তিতে প্রকাশ করেন “A Mathematical Theory of Communication”. এতে তিনি প্রথম “তথ্য”-কে মাপার মতো জিনিস হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন — একক bit (শব্দটির জন্য তিনি সহকর্মী John Tukey-কে কৃতিত্ব দেন)। যোগাযোগ ব্যবস্থার যে ছবি তিনি আঁকেন — উৎস, প্রেরক, চ্যানেল (noise-সহ), প্রাপক, গন্তব্য — সেটিই এই পর্বের অংশ ১-এর পাঠ্যবই-তালিকা।

সবচেয়ে চমকপ্রদ ফল: প্রতিটি noisy চ্যানেলের একটি নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ গতি আছে — channel capacity, C = B log2(1 + S/N). এর চেয়ে ধীরে পাঠালে চতুর কোডিং দিয়ে ভুলের সম্ভাবনা যত খুশি কমানো সম্ভব; এর চেয়ে দ্রুত পাঠালে কোনো কৌশলেই নির্ভুল হবে না। তখনকার মানুষ ভাবতেন, noise থাকলে কিছু ভুল অনিবার্য — শুধু ধীরে পাঠিয়ে তা কমানো যায়। Shannon দেখালেন, সীমার নিচে থাকলে প্রায় নিখুঁত যোগাযোগ সম্ভব; কিন্তু সেই কোড কীভাবে বানাতে হবে, তা বলেননি।

পরের পঞ্চাশ বছর প্রকৌশলীরা সেই কোড খুঁজেছেন। ১৯৯৩ সালে turbo code, আর ১৯৯০-এর দশকে নতুন করে আবিষ্কৃত LDPC code (Robert Gallager ১৯৬০-এর দশকেই এর ধারণা দিয়েছিলেন, কিন্তু তখনকার কম্পিউটারে তা চালানো কঠিন ছিল) Shannon-এর সীমার খুব কাছে পৌঁছায়; আজ 4G, 5G, Wi-Fi আর satellite-এ এদের বা এদের উত্তরসূরিদের ব্যবহার হয়।

মূল উপলব্ধি: একটি ভালো তত্ত্ব শুধু “কীভাবে করব” নয়, “কতদূর পর্যন্ত সম্ভব” তাও বলে দেয়। Shannon-এর সূত্র জানিয়ে দেয় গতি বাড়াতে হলে হয় ব্যান্ডউইথ বাড়াতে হবে, নয় সংকেত পরিষ্কার করতে হবে — fibre আর চওড়া 5G চ্যানেলের পেছনে এই যুক্তিই কাজ করে।

প্র ০৩কাচ দিয়ে আলোয় ডেটা পাঠানোর কথা বলায় একসময় অনেকে হেসেছিলেন। Charles Kao কী দেখিয়েছিলেন, যে কারণে তাঁকে “fibre optics-এর জনক” বলা হয়?

১৯৬০-এর দশকে লেজার আবিষ্কার হয়েছে, আলোয় ডেটা পাঠানোর স্বপ্নও ছিল। কিন্তু তখনকার সেরা কাচেও আলো প্রতি কিলোমিটারে এত কমে যেত যে কয়েক মিটার পরেই প্রায় সব হারিয়ে যেত — প্রতি কিলোমিটারে ক্ষতি প্রায় ১,০০০ dB. যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাচকে তাই অবাস্তব মনে করা হতো।

ব্রিটেনের Standard Telecommunication Laboratories-এ কর্মরত সাংহাইয়ে জন্ম নেওয়া প্রকৌশলী Charles K. Kao সহকর্মী George Hockham-এর সাথে ১৯৬৬ সালে একটি গবেষণাপত্রে দেখান: ক্ষতির মূল কারণ কাচ নিজে নয়, কাচের ভেতরের অপদ্রব্য — বিশেষ করে লোহার মতো ধাতুর সামান্য অংশ। কাচ যথেষ্ট বিশুদ্ধ করা গেলে ক্ষতি প্রতি কিলোমিটারে ২০ dB-এর নিচে নামানো সম্ভব, আর তাহলেই fibre দিয়ে টেলিফোন যোগাযোগ চলবে। ২০ dB মানে এক কিলোমিটার পর আলোর ১% অবশিষ্ট — শুনতে কম, কিন্তু repeater দিয়ে কাজ চালানোর জন্য যথেষ্ট।

Kao শুধু তত্ত্ব দিয়ে থামেননি; বিভিন্ন দেশে কাচ-নির্মাতাদের কাছে গিয়ে বিশুদ্ধ কাচ বানাতে উৎসাহ দেন। ১৯৭০ সালে মার্কিন কোম্পানি Corning-এর গবেষকরা (Robert Maurer, Donald Keck, Peter Schultz) প্রথম ২০ dB/km-এর নিচে ক্ষতির fibre তৈরি করেন। এরপর উন্নতি এত দ্রুত যে আজকের fibre-এ ক্ষতি প্রায় ০.২ dB/km — মানে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পরও আলোর ১% অবশিষ্ট থাকে। ১৯৮৮ সালে আটলান্টিকের তলায় প্রথম fibre-এর সাবমেরিন কেবল (TAT-8) চালু হয়।

২০০৯ সালে Kao পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের অর্ধেক পান, আলোক-তন্তুতে আলো পাঠানোর যুগান্তকারী কাজের জন্য। আজ ইন্টারনেটের প্রায় পুরো দূরপাল্লার ডেটা — দেশের ব্যাকবোন থেকে মহাদেশ জোড়া কেবল — Kao-র সেই ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে।

মূল উপলব্ধি: “এটা সম্ভব নয়” অনেক সময় মানে “সমস্যার আসল কারণ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি”। সমস্যাকে মাপা যায় এমন একটি লক্ষ্যে (২০ dB/km) রূপ দেওয়াই পুরো একটি শিল্পকে সঠিক দিকে চালিত করেছিল।

প্র ০৪রকেটে মানুষ চড়ার আগেই একজন লেখক geostationary যোগাযোগ satellite-এর ধারণা দিয়েছিলেন। ধারণাটি কী ছিল, আর বাস্তবে সেটি কীভাবে এল?

১৯৪৫ সালের অক্টোবরে ব্রিটিশ পত্রিকা Wireless World-এ তরুণ Arthur C. Clarke (পরে বিখ্যাত বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি লেখক) একটি প্রবন্ধ লেখেন: “Extra-Terrestrial Relays”. তাঁর যুক্তি ছিল সরল জ্যামিতি আর পদার্থবিজ্ঞান। পৃথিবীর যত কাছে কোনো বস্তু ঘোরে, তত দ্রুত ঘোরে। একটি বিশেষ উচ্চতায় — বিষুবরেখার ওপর প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার — ঘুরতে ঠিক এক দিন লাগে। সেখানে রাখা রিলে স্টেশন ভূমি থেকে আকাশে স্থির দেখাবে, আর মাত্র তিনটি স্টেশন সমান দূরত্বে রাখলে প্রায় পুরো পৃথিবী রেডিও যোগাযোগের আওতায় আসবে।

তখন microwave টাওয়ার দৃষ্টিপথের সীমায় আটকা, আর মহাসাগর পেরোতে রেডিও তরঙ্গ নির্ভর করত আকাশের আয়নমণ্ডলের খামখেয়ালি প্রতিফলনের ওপর। Clarke-এর ধারণা ছিল এর মৌলিক সমাধান — কিন্তু সেই উচ্চতায় কিছু পাঠানোর মতো রকেট তখন ছিল না।

১৯৫৭ সালে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ Sputnik, তারপর দ্রুত অগ্রগতি। ১৯৬৪ সালে Syncom 3 প্রথম সত্যিকারের geostationary satellite হিসেবে টোকিও অলিম্পিকের ছবি প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে পৌঁছে দেয়, আর ১৯৬৫ সালে বাণিজ্যিক Intelsat I (“Early Bird”) চালু হয়। আজ এই কক্ষপথকে সম্মান জানিয়ে অনেকে “Clarke orbit” বলেন।

বাংলাদেশের দিক থেকে: ১৯৭৫ সালে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র চালু হয়, যার মাধ্যমে দেশ আন্তর্জাতিক satellite যোগাযোগে যুক্ত হয়। আর ২০১৮ সালে উৎক্ষেপিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব geostationary satellite হলো। তবে geostationary-র একটি স্থায়ী সীমা পদার্থবিজ্ঞান থেকেই আসে: আলোর গতিতেও ওঠা-নামায় এক দিকে প্রায় ০.২৪ সেকেন্ড। ভিডিও সম্প্রচারে এটা সমস্যা নয়, কিন্তু অনলাইন গেম বা কথোপকথনে টের পাওয়া যায় — তাই এখন নিচু কক্ষপথের হাজার হাজার ছোট satellite দিয়েও ইন্টারনেট দেওয়া হচ্ছে।

মূল উপলব্ধি: প্রযুক্তির অনেক বড় ধারণা আগে কাগজে আসে, যন্ত্র আসে পরে। আর প্রতিটি নকশার একটি trade-off থাকে — geostationary-তে স্থির অ্যান্টেনা আর বিশাল এলাকা, বিনিময়ে বেশি latency.

প্র ০৫বাংলাদেশ বাকি বিশ্বের ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত কীভাবে? সমুদ্রের নিচের একটি কেবল কাটা পড়লে কেন সারা দেশের ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়?

আপনি যখন YouTube-এ ভিডিও দেখেন বা বিদেশি কোনো ওয়েবসাইট খোলেন, সেই ডেটার বড় অংশ আসে দেশের বাইরের সার্ভার থেকে (যদিও জনপ্রিয় অনেক কনটেন্টের কপি এখন দেশের ভেতরের cache সার্ভারেও রাখা হয়)। বাইরে যাওয়ার প্রধান পথ সমুদ্রের তলায় বিছানো optical fibre — সাবমেরিন কেবল। বাংলাদেশ প্রথম এমন কেবলে যুক্ত হয় ২০০৬ সালে — SEA-ME-WE 4, যার ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারে। দ্বিতীয়টি SEA-ME-WE 5, কুয়াকাটায়, চালু হয় ২০১৭ সালে। এগুলো পরিচালনা করে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি সাবমেরিন কেবল কোম্পানি। পরে স্থলপথে প্রতিবেশী দেশের ভেতর দিয়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (ITC) সংযোগও যোগ হয়, আর নতুন সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

দেশের ভেতরে ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ঢাকা আর সারা দেশে ডেটা যায় fibre-এর ব্যাকবোনে — সরকারি টেলিযোগাযোগ সংস্থা, রেলপথ আর বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের পাশে বসানো fibre, আর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক মিলিয়ে। সেখান থেকে ISP আর মোবাইল অপারেটর আপনার বাসা বা টাওয়ার পর্যন্ত পৌঁছায়।

যখন একটি কেবল কোথাও কাটা পড়ে — জাহাজের নোঙরে, সমুদ্রতলের ভূমিকম্পে বা মেরামতের সময় — তখন তার পুরো ধারণক্ষমতা হঠাৎ হারিয়ে যায়। বাকি পথগুলোতে সেই চাপ গিয়ে পড়ে, ঠিক যেমন একটি সেতু বন্ধ হলে পাশের সেতুতে যানজট। অতীতে এমন ঘটনায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার দেশজুড়ে ইন্টারনেট লক্ষণীয়ভাবে ধীর হয়েছে। সমুদ্রের তলায় কেবল মেরামত করতে বিশেষ জাহাজ লাগে, তাই কয়েক দিন বা সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

এখান থেকেই নেটওয়ার্কের সবচেয়ে জরুরি নকশা-নীতি: redundancy — একাধিক স্বাধীন পথ, ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক রুটে। দুটি কেবল যদি একই জায়গা দিয়ে যায়, একই দুর্ঘটনায় দুটিই কাটা পড়তে পারে। তাই দেশগুলো আলাদা সমুদ্রপথ, স্থলপথ আর satellite মিলিয়ে বিকল্প রাখে, আর জনপ্রিয় কনটেন্ট দেশের ভেতরেই রাখার ব্যবস্থা করে, যাতে বাইরের পথের ওপর চাপ কমে।

মূল উপলব্ধি: “ইন্টারনেট মেঘের মধ্যে” কথাটা রূপক; বাস্তবে এটি সমুদ্রের তলায় শুয়ে থাকা কয়েকটি কাচের সুতো, যা নোঙরের এক টানে ছিঁড়তে পারে। একটি দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা তাই অনেকটাই নির্ভর করে কতগুলো স্বাধীন পথ আছে তার ওপর।

অনুশীলন

প্রথম আর চতুর্থটি খাতা-কলমের হিসাব; দ্বিতীয় আর তৃতীয়টিতে চারপাশের যন্ত্র নিয়ে ভাবতে হবে।

  1. ডাউনলোডের হিসাব: রাহেলার বাসার সংযোগ ৪০ Mbps. তিনি ২.৫ GB (ধরুন ২,৫০০ MB) একটি সফটওয়্যার নামাচ্ছেন। (ক) আদর্শ অবস্থায় কত সময় লাগবে? (খ) ব্রাউজারে গতি দেখাচ্ছে ৪.৮ MB/s — ISP কি কম গতি দিচ্ছে?

    (ক) ২,৫০০ MB × ৮ = ২০,০০০ Mb; ২০,০০০ ÷ ৪০ = ৫০০ সেকেন্ড = ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড.

    (খ) ৪০ Mbps ÷ ৮ = সর্বোচ্চ ৫ MB/s. ৪.৮ MB/s মানে ৯৬% — protocol-এর বাড়তি তথ্য বাদ দিলে এটি স্বাভাবিক, ISP ঠিক গতিই দিচ্ছে।

  2. মোড চিনুন: নিচের প্রতিটি কোন transmission mode? (ক) বাংলাদেশ বেতারের খবর, (খ) নির্মাণস্থলে ক্রেন চালক আর নিচের সুপারভাইজারের ওয়াকি-টকি, (গ) মেসেঞ্জারে ভিডিও কল, (ঘ) কিবোর্ড থেকে কম্পিউটার (পাঠ্যবইয়ের উদাহরণ), (ঙ) এক রাস্তার সরু সেতু, যেখানে পুলিশ পালা করে গাড়ি ছাড়েন।

    (ক) simplex, (খ) half duplex, (গ) full duplex, (ঘ) simplex, (ঙ) half duplex-এর উপমা — দুই দিকেই চলে, কিন্তু একবারে এক দিক।

  3. মাধ্যম বাছুন: কোন ক্ষেত্রে কোন মাধ্যম সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণসহ লিখুন — (ক) ৪০ মিটারের মধ্যে ১৫টি কম্পিউটারের অফিস, (খ) একটি কারখানার বড় মোটরের পাশ দিয়ে দুই কিলোমিটার দূরের দুটি ভবন, (গ) সমুদ্রে মাছ ধরার জাহাজে যোগাযোগ, (ঘ) এসির রিমোট।

    (ক) Cat6 UTP twisted pair — ১০০ মিটারের কম দূরত্ব, সস্তা, সহজে বসানো যায়। (খ) optical fibre — দূরত্ব twisted pair-এর সীমার অনেক বেশি, আর মোটরের বৈদ্যুতিক গোলমাল আলোকে প্রভাবিত করে না। (গ) satellite (কাছাকাছি উপকূলে radio) — তার পৌঁছানো অসম্ভব। (ঘ) infrared — খুব কাছে, দৃষ্টিপথে, আর পাশের ঘরের যন্ত্রে লাগে না।

  4. Baud আর দক্ষতা: একটি modem ২,৪০০ baud-এ চলে, প্রতি symbol-এ ৪ bit পাঠায়। (ক) গতি কত bps? (খ) asynchronous 8N1 পদ্ধতিতে সেকেন্ডে সর্বোচ্চ কয়টি অক্ষর যাবে? (গ) ১,৯২০ অক্ষরের একটি লেখা পাঠাতে কত সময় লাগবে?

    (ক) ২,৪০০ × ৪ = ৯,৬০০ bps. (খ) প্রতি অক্ষরে ১ start + ৮ data + ১ stop = ১০ bit; ৯,৬০০ ÷ ১০ = ৯৬০টি অক্ষর প্রতি সেকেন্ডে। (গ) ১,৯২০ ÷ ৯৬০ = ২ সেকেন্ড. synchronous পদ্ধতিতে বড় block-এ পাঠালে প্রায় ১.৬ সেকেন্ডের কাছাকাছি নেমে আসত, কারণ start-stop bit লাগত না।

নিজেকে যাচাই করুন

ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।

ক্রমasynchronous serial লাইনে একটি অক্ষর পাঠানোর সময় লাইনে কী কী আসে — প্রথম থেকে শেষ সাজান (▲▼ চেপে সরান)

  1. 💤 লাইন অলস — একটানা 1
  2. 🚦 start bit — লাইন 0 হয়
  3. 🔢 ৮টি ডেটা bit — ডানের bit (LSB) আগে
  4. ✔️ parity bit (থাকলে)
  5. 🛑 stop bit — লাইন আবার 1

ওয়াকি-টকিতে দুজন কথা বলেন পালা করে — একজন বলার সময় অন্যজন শুধু শোনেন। এটি কোন transmission mode?

  • Simplex
  • Half duplex
  • Full duplex
  • Multicast

নিচের কোন ট্রান্সমিশন মাধ্যমের ব্যান্ডউইথ সবচেয়ে বেশি আর বৈদ্যুতিক চৌম্বক গোলমালে প্রায় প্রভাবিত হয় না?

  • Twisted pair
  • Coaxial cable
  • Microwave
  • Optical fibre

ডেটা ট্রান্সমিশনের গতি বা ব্যান্ডউইথ সাধারণত কোন এককে মাপা হয়?

  • bps
  • Byte
  • dB
  • MIPS

একটি ইন্টারনেট সংযোগের গতি 100 Mbps. আদর্শ অবস্থায় ডাউনলোডের সর্বোচ্চ গতি প্রতি সেকেন্ডে কত megabyte?

  • 100 MB/s
  • 800 MB/s
  • 12.5 MB/s
  • 0.1 MB/s

Asynchronous ডেটা ট্রান্সমিশনের মূল বৈশিষ্ট্য কোনটি?

  • ডেটা বড় block আকারে একটি যৌথ ক্লকের সাথে পাঠানো হয়
  • প্রতিটি অক্ষরের সাথে start bit আর stop bit থাকে
  • প্রতিটি ডেটা-টুকরো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকে
  • এর দক্ষতা সব পদ্ধতির চেয়ে বেশি

একটি modem 1200 baud-এ চলে এবং প্রতিটি symbol-এ 4 bit পাঠায়। এর ডেটা রেট কত?

  • 1200 bps
  • 300 bps
  • 2400 bps
  • 4800 bps

শব্দকোষ

লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:

মনে রাখুন

  1. ডেটা কমিউনিকেশন = প্রেরক থেকে প্রাপকে মাধ্যম দিয়ে, protocol মেনে bit পাঠানো; পাঁচ উপাদান: বার্তা, প্রেরক, প্রাপক, মাধ্যম, protocol.
  2. গতির একক bps; Mbps ÷ ৮ = MB/s. bps = baud × প্রতি symbol-এ bit. ন্যারো (৪৫–৩০০ bps), ভয়েস (৯,৬০০ bps পর্যন্ত), ব্রডব্যান্ড (১ Mbps বা তার বেশি)।
  3. দ্রুত সংযোগ আজ serial (USB, SATA, PCIe). Asynchronous = অক্ষর ধরে start-stop bit (কিবোর্ড); synchronous = block ধরে ক্লক মিলিয়ে; isochronous = সময়মতো পৌঁছানো (ভিডিও কল)।
  4. Simplex (টিভি), half duplex (ওয়াকি-টকি), full duplex (ফোন); unicast, broadcast, multicast; modem modulation করে, multiplexing একটি পথ ভাগ করে।
  5. Optical fibre সবচেয়ে দ্রুত ও গোলমালমুক্ত (total internal reflection); twisted pair-এ এক টানে ১০০ মিটার; satellite-এ দেরি বেশি; দূরত্বে ক্ষয় সারাতে repeater.

পরের পর্বে: তার ছাড়া যোগাযোগই এখন বেশিরভাগ মানুষের ইন্টারনেট — Wi-Fi কীভাবে কাজ করে, Bluetooth কেন কাছে সীমিত, আর 1G-র অ্যানালগ কল থেকে 5G পর্যন্ত মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রজন্মগুলো কী বদলেছে।

আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ

এই পর্বটি শেয়ার করুন:
এই পর্বে ভুল পেয়েছেন? জানান