এই পর্বে যা শিখবেন
- আকার (PAN থেকে WAN) আর গঠন (client-server, peer-to-peer) দেখে যেকোনো নেটওয়ার্ক চিনতে পারা
- ছয় রকম topology-র সুবিধা, অসুবিধা, খরচ আর ত্রুটি সহ্য করার ক্ষমতা তুলনা করা
- Mesh, star আর ring-এর link ও port-এর হিসাব প্রমাণসহ করা — বিশ্ববিদ্যালয়, চাকরি বা ইন্টারভিউর পরীক্ষার মতো করে
- NIC, hub, switch, router, access point, modem, ONT, firewall — কোনটি কোন স্তরে কী কাজ করে
- বাসা থেকে একটি প্যাকেট ISP, IXP আর CDN পেরিয়ে কীভাবে কোনো ওয়েবসাইটে পৌঁছায়, তার মোটা দাগের ছবি
১ · আকার দেখে নেটওয়ার্কের ধরন — PAN থেকে WAN
পর্ব ০১-এ দেখেছেন, দুই বা ততোধিক যন্ত্র তথ্য আদান-প্রদানের জন্য যুক্ত হলেই তা একটি নেটওয়ার্ক। কিন্তু “নেটওয়ার্ক” শব্দটি দিয়ে আপনার কানের earbuds আর ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত একটি ব্যাংকের সব শাখার সংযোগ — দুটোকেই বোঝায়। এদের প্রযুক্তি, খরচ, মালিকানা আর সমস্যা একেবারে আলাদা। তাই প্রথম ভাগটি হয় ভৌগোলিক আকার দিয়ে।
ডাক ব্যবস্থার কথা ভাবুন। ঘরের ভেতরে মা ছেলেকে একটি চিরকুট দিলেন — কোনো ডাকঘর লাগল না (PAN). একই ভবনের এক ফ্ল্যাট থেকে আরেক ফ্ল্যাটে কাজের মানুষ দিয়ে চিঠি গেল — ভবনের ভেতরের ব্যবস্থা (LAN). মহল্লার একাধিক ভবন নিয়ে একটি কলোনির নিজস্ব পিয়ন (CAN). পুরো শহরে একটি কুরিয়ার কোম্পানির নিজস্ব ভ্যান (MAN). আর ঢাকা থেকে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট — দেশজোড়া ডাক বিভাগ বা কুরিয়ার নেটওয়ার্ক (WAN). দূরত্ব যত বাড়ে, তত বেশি অন্য কারও রাস্তা আর গাড়ি ভাড়া নিতে হয়।
| ধরন | মোটামুটি বিস্তার | বাস্তব উদাহরণ | সাধারণ প্রযুক্তি | মালিক কে |
|---|---|---|---|---|
| PAN (Personal Area Network) | কয়েক মিটার | ফোনের সাথে Bluetooth earbuds, smartwatch | Bluetooth, USB | আপনি নিজে |
| LAN (Local Area Network) | একটি ঘর, ফ্লোর বা ভবন | অফিসের ২০টি কম্পিউটার আর প্রিন্টার, বাসার Wi-Fi | Ethernet, Wi-Fi | প্রতিষ্ঠান বা পরিবার নিজে |
| CAN (Campus Area Network) | কয়েকটি ভবন, এক ক্যাম্পাস | বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি, হল আর ল্যাব জুড়ে নেটওয়ার্ক | ভবনগুলোর মাঝে fiber, ভেতরে Ethernet আর Wi-Fi | প্রতিষ্ঠান নিজে |
| MAN (Metropolitan Area Network) | একটি শহর | শহরজুড়ে কোনো ISP বা কেবল অপারেটরের fiber রিং | fiber, metro Ethernet | সাধারণত কোনো সেবাদাতা কোম্পানি |
| WAN (Wide Area Network) | দেশ বা মহাদেশ | একটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় আর সারা দেশের শাখা; ইন্টারনেট নিজেই সবচেয়ে বড় WAN | ভাড়া করা লাইন, MPLS, ইন্টারনেটের ওপর VPN, সমুদ্রের নিচের cable | অনেক ক্ষেত্রেই অন্যের লাইন ভাড়া নেওয়া |
সীমারেখাগুলো কড়া নয় — কোনো আন্তর্জাতিক মান “LAN মানে ঠিক ১ কিলোমিটার” বলে দেয় না। আসল পার্থক্যটা মালিকানা আর খরচে। LAN-এর সব তার, switch আর Wi-Fi আপনার নিজের; তাই গতি বেশি (আজকাল ১ Gbps বা তার বেশি সাধারণ) আর মাসিক ভাড়া নেই। WAN-এ ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত নিজে তার টানা প্রায় অসম্ভব, তাই কোনো সেবাদাতার লাইন ভাড়া নিতে হয় — গতি তুলনামূলক কম, প্রতি Mbps-এর দাম বেশি, আর দূরত্বের কারণে delay বাড়ে।
একটি ব্যাংকের কথা ভাবুন। প্রতিটি শাখার ভেতরে কয়েকটি কম্পিউটার, প্রিন্টার আর ATM মিলে একটি LAN. সব শাখা প্রধান কার্যালয়ের data center-এর সাথে যুক্ত — এটি ব্যাংকের WAN. অর্থাৎ একটি বড় প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক আসলে “অনেকগুলো LAN, যাদের WAN দিয়ে জোড়া হয়েছে।” ইন্টারনেটও বড় পরিসরে ঠিক এটাই।
IEEE নামের প্রকৌশলীদের সংস্থার 802 কমিটি এই স্তরগুলোর জন্য মান তৈরি করে: Ethernet-এর মান 802.3, Wi-Fi-র 802.11, আর Bluetooth-এর প্রাথমিক সংস্করণ 802.15.1 হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। এগুলো পর্ব ১২ আর পর্ব ১৪-তে বিস্তারিত দেখবেন।
২ · কে সেবা দেয়, কে নেয় — client-server আর peer-to-peer
আকার ছাড়া দ্বিতীয় ভাগটি হয় যন্ত্রগুলোর ভূমিকা দিয়ে। এখানে প্রশ্নটা তারের নয়, কাজের ভাগাভাগির।
Client-server
একটি শক্তিশালী server সেবা দেয়, অনেক client সেবা চায়। ব্যাংকের core banking সার্ভার, অফিসের file server, যেকোনো ওয়েবসাইট। নিয়ন্ত্রণ, ব্যাকআপ আর নিরাপত্তা এক জায়গায় — কিন্তু server বসে গেলে সবাই আটকে যায়, আর ব্যবহারকারী বাড়লে server-ও বড় করতে হয়।
উদাহরণ: অনলাইনে পরীক্ষার ফল দেখা, ইমেইল, ব্যাংকিং অ্যাপPeer-to-peer (P2P)
সবাই সমান — প্রতিটি যন্ত্র (peer) একই সাথে সেবা দেয় আর নেয়। নতুন ব্যবহারকারী এলে ক্ষমতাও বাড়ে, কেন্দ্রীয় খরচ কম। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা আর কোন ফাইল নির্ভরযোগ্য — সেই নিশ্চয়তা কম।
উদাহরণ: BitTorrent, দুটি ল্যাপটপের মাঝে সরাসরি ফাইল শেয়ারবাস্তবে অনেক ব্যবস্থাই মিশ্র। ভিডিও কলে দুই প্রান্ত অনেক সময় সরাসরি (P2P) কথা বলে, কিন্তু একে অপরকে খুঁজে পায় একটি কেন্দ্রীয় server-এর সাহায্যে। ছোট অফিসে কয়েকটি Windows কম্পিউটার “workgroup” হিসেবে একে অপরের ফোল্ডার শেয়ার করলে সেটি P2P; আর একটি domain controller দিয়ে লগইন নিয়ন্ত্রণ করলে সেটি client-server. এই দুই ধাঁচের protocol-নকশা নিয়ে পর্ব ৩৪-এ আরও আলোচনা আছে।
খেয়াল রাখুন: client-server আর P2P হলো কাজের ভাগ (logical architecture), তারের নকশা নয়। একটি star topology-র LAN-এ (সবাই একটি switch-এ যুক্ত) client-server বা P2P — দুটোই চলতে পারে।
৩ · Topology — যন্ত্রগুলো কীভাবে জোড়া
Topology মানে নেটওয়ার্কের যন্ত্রগুলো (node) কোন নকশায় একে অপরের সাথে যুক্ত। মহল্লার রাস্তার নকশার মতো — একটি লম্বা গলির দুপাশে সব বাড়ি, নাকি একটি গোল চক্কর, নাকি সব রাস্তা একটি মোড়ে এসে মিলেছে। নকশাটিই ঠিক করে খরচ কত, আর একটি রাস্তা বন্ধ হলে কত মানুষ আটকে যাবেন।
━ Bus
একটি মূল তার (backbone), সবাই তাতে ছোট তার দিয়ে যুক্ত; দুই মাথায় terminator. একজন পাঠালে সবাই শোনে। তার কম লাগে, কিন্তু মূল তারের যেকোনো জায়গায় কাটা পড়লে সাধারণত পুরো segment অচল। আজ প্রায় বিলুপ্ত।
১৯৮০-র দশকের coaxial Ethernet◯ Ring
প্রতিটি যন্ত্র ঠিক দুই প্রতিবেশীর সাথে যুক্ত, মিলে একটি বৃত্ত। তথ্য এক দিকে ঘোরে। প্রতিটি যন্ত্রের দুটি port লাগে। একটি link কাটলে একমুখী ring থেমে যায়; তাই বড় ring সাধারণত দুটি (dual ring) রাখা হয়।
Token Ring, FDDI, ISP-র metro fiber ring✱ Star
সবাই একটি কেন্দ্রীয় যন্ত্রে (hub বা switch) আলাদা তারে যুক্ত। একটি তার কাটলে শুধু সেই যন্ত্রটি বিচ্ছিন্ন; নতুন যন্ত্র যোগ আর ভুল খোঁজা সহজ। কিন্তু কেন্দ্রটিই single point of failure.
আজকের প্রায় সব অফিস আর বাসার LAN⋔ Tree / extended star
কয়েকটি star-কে একটি উঁচু স্তরের switch-এ জোড়া — ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে একটি switch, সব ফ্লোর-switch ভবনের মূল switch-এ। বড় করা সহজ, কিন্তু ওপরের switch বা তার uplink নষ্ট হলে তার নিচের পুরো শাখা কাটা পড়ে।
বহুতল অফিস, ক্যাম্পাস✳ Mesh
Full mesh: প্রতিটি জোড়ার মাঝে সরাসরি link. সবচেয়ে বেশি বিকল্প পথ, কিন্তু তার আর port বাড়ে বর্গের হারে। Partial mesh: শুধু গুরুত্বপূর্ণ জোড়াগুলোর মাঝে বাড়তি link — বাস্তবের WAN আর ইন্টারনেট এমনই।
ISP-র core router, ব্যাংকের data center-এর সংযোগ⊕ Hybrid
একাধিক topology-র মিশ্রণ: প্রতিটি শাখার ভেতরে star, শাখাগুলোর মাঝে partial mesh, আর শহরের ভেতরে ISP-র ring. বড় যেকোনো বাস্তব নেটওয়ার্কই hybrid.
যেকোনো মাঝারি বা বড় প্রতিষ্ঠান| Topology | n যন্ত্রে তার/link | প্রতি যন্ত্রে port | একটি link কাটলে | খরচ | ভুল খোঁজা |
|---|---|---|---|---|---|
| Bus | ১টি backbone + n টি ছোট তার | ১ | সাধারণত পুরো segment অচল | সবচেয়ে কম | কঠিন (কোথায় কাটা?) |
| Ring | n | ২ | একমুখী হলে পুরো ring অচল; dual ring হলে টিকে যায় | কম | মাঝারি |
| Star | n (+ কেন্দ্রীয় switch-এ n টি port) | ১ | শুধু সেই যন্ত্র বিচ্ছিন্ন; কেন্দ্র নষ্ট হলে সবাই | মাঝারি | সহজ |
| Full mesh | n(n−1)/2 | n−1 | কেউ বিচ্ছিন্ন হয় না | সবচেয়ে বেশি | সহজ, কিন্তু অনেক link দেখতে হয় |
| Partial mesh | নকশা অনুযায়ী (n−1 থেকে n(n−1)/2) | ভিন্ন ভিন্ন | গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিকল্প পথ থাকে | প্রয়োজন অনুযায়ী | মাঝারি |
১৯৬০-এর দশকের শুরুতে RAND Corporation-এর গবেষক Paul Baran দেখান, কেন্দ্রীয় (star) যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি কেন্দ্র নষ্ট হলেই সব শেষ, কিন্তু অনেক বিকল্প পথওয়ালা “distributed” নকশা (partial mesh) বহু link হারিয়েও কাজ চালাতে পারে। তাঁর এই কাজ আর যুক্তরাজ্যে Donald Davies-এর packet switching ভাবনা পরে ARPANET-এর নকশাকে প্রভাবিত করে। আজকের ইন্টারনেট একটি বিশাল partial mesh.
৪ · তারের হিসাব — mesh, star আর ring-এর numerical
বিশ্ববিদ্যালয়ের Data Communication পরীক্ষা থেকে শুরু করে ব্যাংকের IT officer বা অন্যান্য চাকরির লিখিত পরীক্ষা — এই অঙ্কগুলো খুব পরিচিত। মুখস্থ না করে সূত্রটি কোথা থেকে আসে, বুঝে নিন।
Full mesh: কেন n(n−1)/2
যুক্তি ১ (port গুনে): full mesh-এ প্রতিটি যন্ত্র বাকি n−1 টির প্রত্যেকের সাথে সরাসরি যুক্ত, তাই প্রতি যন্ত্রে port = n−1, আর মোট port = n(n−1). প্রতিটি link-এর দুই মাথায় দুটি port, অর্থাৎ প্রতিটি link মোট port-এর হিসাবে ঠিক দুবার গোনা হয়েছে। তাই link = n(n−1)/2.
যুক্তি ২ (জোড়া গুনে): প্রতিটি link মানে দুটি আলাদা যন্ত্রের একটি জোড়া, আর প্রতিটি জোড়ার জন্য ঠিক একটি link. n টি থেকে ২টি বাছার উপায় nC2 = n!/(2!(n−2)!) = n(n−1)/2. দুই পথে একই উত্তর।
এখান থেকে একটি সাধারণ সত্যও পাওয়া যায় (graph theory-র handshake lemma): যেকোনো নেটওয়ার্কে সব যন্ত্রের port-সংখ্যার যোগফল = ২ × link-সংখ্যা।
Star-এ কেন্দ্রীয় যন্ত্রটি আলাদা (একটি switch) হলে n টি যন্ত্রের জন্য n টি তার, আর switch-এ অন্তত n টি port. কিন্তু কেন্দ্রটি নিজেই n টি অফিসের একটি হলে (যেমন প্রধান কার্যালয়ই hub) তার লাগে n−1 টি। পরীক্ষায় প্রশ্নটি কোন অর্থে, সেটি পড়ে নিন — উত্তরে একটি লাইনে লিখে দিন আপনি কোনটি ধরেছেন।
এখন ৫টি অফিসের একটি কোম্পানির কথা ভাবুন — ঢাকা (DHK), চট্টগ্রাম (CTG), সিলেট (SYL), খুলনা (KHL) আর রাজশাহী (RAJ). নিচের টেবিলের প্রতিটি “o” একটি WAN link, আর শুধু কর্ণের ওপরের অর্ধেক দেখানো হয়েছে যাতে প্রতিটি link একবারই গোনা হয়।
| মোট link | |
| Port: DHK CTG SYL KHL RAJ | |
| Port-এর যোগফল |
- শুরু। পাঁচটি অফিস, এখনো কোনো link নেই। লক্ষ্য: যেকোনো অফিস যেন যেকোনো অফিসের সাথে কথা বলতে পারে। পাঁচটি অফিসে মোট জোড়া 5C2 = ১০টি — তাই টেবিলের উপরের ত্রিভুজে ১০টি ঘর।
- Star, কেন্দ্রে ঢাকা। ঢাকা থেকে বাকি চারটিতে একটি করে link — মোট ৪টি (n−1, কারণ কেন্দ্র নিজেই একটি অফিস)। ঢাকার router-এ ৪টি port, অন্যদের ১টি করে। Port-এর যোগফল ৮ = ২ × ৪, handshake lemma মিলে গেল। চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের তথ্যও ঢাকা ঘুরে যায়।
- ঢাকার router অচল। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা যন্ত্র নষ্ট — ঢাকার ৪টি link একসাথে কাজ বন্ধ। চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী এখন চারটি আলাদা টুকরো; কেউ কারও সাথে কথা বলতে পারছে না। Star-এর কেন্দ্রই single point of failure — এটিই এর দাম।
- Mesh বানানো শুরু। ঢাকা আবার চালু। Full mesh-ও শুরু হয় একই ৪টি link দিয়ে: ঢাকা থেকে সবার কাছে। এবার ধাপে ধাপে বাকি জোড়াগুলো যোগ করা হবে।
- চট্টগ্রাম থেকে বাকি তিনটিতে। CTG–SYL, CTG–KHL, CTG–RAJ: আরও ৩টি, মোট ৭টি। এখন ঢাকা আর চট্টগ্রাম দুটিই “কেন্দ্র” — ঢাকা অচল হলেও বাকি চারটি অফিস চট্টগ্রাম দিয়ে যুক্ত থাকবে। এটি একটি partial mesh, আর অনেক বাস্তব WAN ঠিক এমন: দুটি data center, প্রতিটি শাখা দুটির সাথেই যুক্ত (dual-homed). Port-এর যোগফল ৪+৪+২+২+২ = ১৪ = ২ × ৭.
- সিলেট থেকে খুলনা আর রাজশাহীতে। আরও ২টি, মোট ৯টি। খেয়াল করুন, প্রতিটি নতুন অফিস আগের চেয়ে একটি কম নতুন link যোগ করছে: ৪, ৩, ২, …
- শেষ জোড়া: খুলনা–রাজশাহী। মোট ৪ + ৩ + ২ + ১ = ১০ = ৫×৪/২. প্রতিটি অফিসে এখন ৪টি port (n−1), যোগফল ২০ = ২ × ১০. এই যোগফল ৪ + ৩ + ২ + ১ হলো full mesh সূত্রের তৃতীয় প্রমাণ: ১ থেকে n−1 পর্যন্ত যোগ = n(n−1)/2.
- তুলনা। Star ৪টি link-এ সবাইকে জোড়ে কিন্তু কেন্দ্রে নির্ভরশীল; full mesh ১০টি link-এ যেকোনো একটি অফিস অচল হলেও বাকিরা সরাসরি যুক্ত; মাঝামাঝি partial mesh ৭টি link-এ একটি কেন্দ্র হারানো সহ্য করে। প্রকৌশলীর সিদ্ধান্ত: বাড়তি প্রতিটি link-এর মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে কতটা নিরাপত্তা কিনছি।
সংখ্যাগুলো বড় হলে খরচ কীভাবে লাফ দেয়, নিচের calculator চালিয়ে দেখুন। শেষে একটি brute-force গণনাও আছে — সূত্র ব্যবহার না করে প্রতিটি জোড়া আলাদা করে গুনে মিলিয়ে দেখা।
// Cabling cost of a network with n devices, by topology.
// Full mesh: every pair gets its own link -> n(n-1)/2 links.
function mesh(n) {
return { links: n * (n - 1) / 2, portsEach: n - 1, ports: n * (n - 1) };
}
function star(n) { return { cables: n, switchPorts: n }; } // one cable per device
function ring(n) { return { links: n }; } // each device: 2 neighbours
const pad = (v, w) => String(v).padStart(w);
console.log(" n │ mesh links │ ports/device │ total ports │ star cables │ ring links");
console.log("────┼────────────┼──────────────┼─────────────┼─────────────┼───────────");
for (let n = 4; n <= 10; n++) {
const m = mesh(n);
console.log(pad(n, 3) + " │" + pad(m.links, 11) + " │" + pad(m.portsEach, 13) +
" │" + pad(m.ports, 12) + " │" + pad(star(n).cables, 12) + " │" + pad(ring(n).links, 10));
}
// Check the formula by brute force: count every pair (i, j) with i < j.
let pairs = 0;
for (let i = 0; i < 10; i++) for (let j = i + 1; j < 10; j++) pairs++;
console.log("brute-force pairs for n = 10: " + pairs);
console.log("n = 50 office mesh needs " + mesh(50).links + " links, star needs " + star(50).cables);আউটপুট (প্রতিবার একই):
n │ mesh links │ ports/device │ total ports │ star cables │ ring links
────┼────────────┼──────────────┼─────────────┼─────────────┼───────────
4 │ 6 │ 3 │ 12 │ 4 │ 4
5 │ 10 │ 4 │ 20 │ 5 │ 5
6 │ 15 │ 5 │ 30 │ 6 │ 6
7 │ 21 │ 6 │ 42 │ 7 │ 7
8 │ 28 │ 7 │ 56 │ 8 │ 8
9 │ 36 │ 8 │ 72 │ 9 │ 9
10 │ 45 │ 9 │ 90 │ 10 │ 10
brute-force pairs for n = 10: 45
n = 50 office mesh needs 1225 links, star needs 50
প্রথম টেবিল: mesh-এর link প্রায় বর্গের হারে বাড়ে (৬, ১০, ১৫, … ৪৫), কিন্তু star আর ring-এর তার n-এর সমান হারে। “total ports” কলাম সবসময় mesh link-এর ঠিক দ্বিগুণ — handshake lemma. brute-force লাইন: ১০টি যন্ত্রের সব জোড়া একটি একটি করে গুনে ৪৫ পাওয়া গেছে, সূত্রের উত্তরের সাথে মিলে গেছে। শেষ লাইন: ৫০টি শাখার full mesh-এ ১২২৫টি link — প্রতিটির মাসিক ভাড়া ধরলে কোনো ব্যাংকই এটি করবে না; star-এ মাত্র ৫০টি।
পরীক্ষার ধাঁচে কয়েকটি সম্পূর্ণ সমাধান
| প্রশ্ন | সমাধান |
|---|---|
| ৮টি কম্পিউটার full mesh-এ জুড়তে কয়টি cable আর প্রতিটিতে কয়টি port লাগবে? | link = ৮×৭/২ = ২৮; প্রতি কম্পিউটারে port = ৮−১ = ৭; মোট port ৫৬ = ২ × ২৮. |
| একটি full mesh-এ ৬৬টি link আছে। যন্ত্র কয়টি? | n(n−1)/2 = ৬৬ ⇒ n² − n − ১৩২ = ০ ⇒ (n − ১২)(n + ১১) = ০ ⇒ n = ১২ (ঋণাত্মক উত্তর বাদ)। |
| ১০টি যন্ত্রের ring-এ কয়টি link, আর একমুখী ring-এ A থেকে ঠিক আগের প্রতিবেশীতে যেতে কয়টি link পার হতে হয়? | link = ১০, প্রতি যন্ত্রে ২টি port. একমুখী ring-এ পেছনের প্রতিবেশী আসলে সবচেয়ে দূরে — ৯টি link ঘুরে যেতে হয়। |
| তিনটি ফ্লোর, প্রতিটিতে ৮টি কম্পিউটার একটি ফ্লোর-switch-এ (star); তিনটি switch নিজেদের মধ্যে full mesh. মোট cable? | ফ্লোরের ভেতরে ৩ × ৮ = ২৪; switch-এর mesh ৩×২/২ = ৩; মোট ২৭. এটি একটি hybrid topology. |
| ১০০টি যন্ত্রের star (আলাদা কেন্দ্রীয় switch) বনাম full mesh — cable-এর অনুপাত? | star ১০০; mesh ১০০×৯৯/২ = ৪৯৫০; mesh-এ ৪৯.৫ গুণ বেশি। |
৫ · একটি তার কাটলে কী হয় — fault tolerance
ঢাকার কোনো রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ির সময় fiber কেটে যাওয়া খুব পরিচিত ঘটনা। নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীর প্রথম প্রশ্ন: “এই একটি কাটায় কতজন ক্ষতিগ্রস্ত?” এই ক্ষমতার নাম fault tolerance, আর তার উপায় হলো redundancy — বাড়তি বিকল্প পথ। নিচে একই পাঁচটি যন্ত্র (A থেকে E) চারটি topology-তে সাজিয়ে একটি করে তার কাটা হলো।
| যোগাযোগ চলছে | |
| ক্ষতিগ্রস্ত | |
| শিক্ষা |
- Bus, স্বাভাবিক অবস্থা। একটি coaxial মূল তার, দুই মাথায় terminator (একটি রোধক, যা সংকেত শুষে নেয়)। পাঁচটি যন্ত্রই একই তারে; একজন পাঠালে সবাই শোনে, যার উদ্দেশে পাঠানো সে গ্রহণ করে।
- Bus-এর মূল তার B আর C-এর মাঝে কাটা। কাটা মাথায় terminator নেই, তাই সংকেত সেখানে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে (reflection) আর নতুন সংকেতের সাথে মিশে যায়। ফলে সাধারণত দুই অংশের কেউই ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারে না — পুরো segment অচল। আর কাটা জায়গাটি খুঁজতে হয় পুরো তার ধরে।
- একমুখী ring, স্বাভাবিক। তথ্য এক দিকেই ঘোরে: A থেকে B, B থেকে C, … E থেকে আবার A. প্রতিটি যন্ত্র আগের জনের কাছ থেকে নিয়ে পরের জনকে দেয়। প্রতিটি যন্ত্রের দুটি port.
- Ring-এর B–C link কাটা। একমুখী ring-এ B-র পাঠানো তথ্য আর সামনে যেতে পারে না, আর চক্র না ঘুরলে কেউই কিছু পায় না — পুরো ring থামে। (Graph হিসেবে A থেকে C-তে উল্টো দিকের পথ আছে, কিন্তু একমুখী ring সেই দিকে পাঠাতে পারে না।)
- Dual ring-এ wrap. FDDI বা ISP-র fiber ring-এ দুটি ring থাকে, উল্টো দিকে ঘোরে। কাটার দুই পাশে B আর C তথ্যকে দ্বিতীয় ring-এ ঘুরিয়ে দেয় (wrap). দুটি অর্ধেক মিলে আবার একটি পূর্ণ চক্র — সবাই যুক্ত, শুধু পথ লম্বা হলো। এক জায়গায় কাটা সহ্য করা যায়; দুই জায়গায় কাটলে ring দুই টুকরো।
- Star, স্বাভাবিক। কেন্দ্রে একটি switch (S), প্রতিটি যন্ত্র নিজস্ব তারে যুক্ত। A থেকে D-তে তথ্য যায় A → S → D.
- Star-এ C-এর তার কাটা। শুধু C বিচ্ছিন্ন; A, B, D, E স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। কোন তারে সমস্যা, তাও সহজে বোঝা যায় — switch-এর ওই port-এর বাতি নিভে যায়। আজকের LAN-এ star জনপ্রিয় হওয়ার এটাই বড় কারণ।
- Star-এর কেন্দ্রীয় switch অচল। একটি যন্ত্র নষ্ট হলো, কিন্তু পাঁচজনই বিচ্ছিন্ন। তাই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দুটি switch রেখে প্রতিটি সার্ভারকে দুটিতেই যুক্ত করা হয় — star-এর সাথে একটু mesh মেশানো।
- Full mesh-এ A–B link কাটা। A আর B এখনো কথা বলতে পারে A → C → B পথে (বা D, E ঘুরে)। কেউ বিচ্ছিন্ন নয়। ৫টি যন্ত্রের full mesh-এ কোনো একটি যন্ত্রকে আলাদা করতে তার ৪টি link-ই (n−1) কাটতে হবে।
“কে কার কাছে পৌঁছাতে পারে” প্রশ্নটি আসলে graph-এর reachability — একটি নোড থেকে শুরু করে link ধরে ধরে যতদূর যাওয়া যায় (depth-first search). নিচের simulator তা-ই করে, আর কাটার পর নেটওয়ার্ক কয়টি বিচ্ছিন্ন টুকরোয় ভাগ হলো তা ছাপে। Link-কে দুই দিকেই চলাচলযোগ্য ধরা হয়েছে, তাই এখানের ring হলো দ্বিমুখী (dual ring-এর মতো)। DFS-এর বিস্তারিত দেখতে চাইলে DSA কোর্সের graph পর্ব দেখুন।
// Cut some links (or a device) and see which offices can still reach each other.
const offices = ["A", "B", "C", "D", "E"];
const topo = {
ring: ["AB", "BC", "CD", "DE", "EA"],
star: ["SA", "SB", "SC", "SD", "SE"], // S = central switch
mesh: ["AB", "AC", "AD", "AE", "BC", "BD", "BE", "CD", "CE", "DE"],
};
function groups(links, cut, dead) {
const alive = links.filter(l => !cut.includes(l) && !(dead && l.includes(dead)));
const seen = new Set(), out = [];
for (const start of offices) {
if (seen.has(start)) continue;
const g = [], stack = [start]; // depth-first search (graph reachability)
seen.add(start);
while (stack.length) {
const x = stack.pop();
if (offices.includes(x)) g.push(x);
for (const l of alive) {
if (!l.includes(x)) continue;
const y = l[0] === x ? l[1] : l[0];
if (!seen.has(y)) { seen.add(y); stack.push(y); }
}
}
out.push("{" + g.sort().join(",") + "}");
}
return out.length === 1 ? out[0] + " all connected" : out.join(" ") + " SPLIT into " + out.length;
}
const tests = [
["ring", ["BC"], ""], ["ring", ["BC", "DE"], ""], ["star", ["SC"], ""], ["star", [], "S"],
["mesh", ["AB", "CD"], ""], ["mesh", ["AB", "AC", "AD"], ""], ["mesh", ["AB", "AC", "AD", "AE"], ""],
];
for (const [t, cut, dead] of tests) {
const what = dead ? "switch " + dead + " down" : "cut " + cut.join("+");
console.log(t.padEnd(5) + "│ " + what.padEnd(18) + "│ " + groups(topo[t], cut, dead));
}আউটপুট:
ring │ cut BC │ {A,B,C,D,E} all connected
ring │ cut BC+DE │ {A,B,E} {C,D} SPLIT into 2
star │ cut SC │ {A,B,D,E} {C} SPLIT into 2
star │ switch S down │ {A} {B} {C} {D} {E} SPLIT into 5
mesh │ cut AB+CD │ {A,B,C,D,E} all connected
mesh │ cut AB+AC+AD │ {A,B,C,D,E} all connected
mesh │ cut AB+AC+AD+AE │ {A} {B,C,D,E} SPLIT into 2
Ring: একটি কাটা (BC) সহ্য করেছে, কারণ উল্টো দিক দিয়ে পথ আছে; কিন্তু দুটি কাটায় (BC আর DE) দুই টুকরো — {A,B,E} আর {C,D}. Star: একটি তার কাটলে শুধু C আলাদা; switch S অচল হলে পাঁচটি আলাদা টুকরো, কেউ কারও কাছে পৌঁছায় না। Mesh: দুটি, এমনকি A-এর তিনটি link কাটার পরও সবাই যুক্ত; A-এর চারটি link-ই কাটলে তবেই A একা। সাধারণভাবে: কোনো নোডকে বিচ্ছিন্ন করতে যত link কাটতে হয়, সেটিই তার নিরাপত্তার মাপ — star-এ ১, ring-এ ২, n টি যন্ত্রের full mesh-এ n−1.
৬ · Physical বনাম logical topology
এখানে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু পরীক্ষায় প্রিয় বিষয়। Physical topology হলো তারগুলো আসলে কীভাবে টানা — চোখে যা দেখা যায়। Logical topology হলো সংকেত বা তথ্য আসলে কীভাবে চলে — কে কার পাঠানো শোনে। দুটি এক না-ও হতে পারে।
- Hub-ভিত্তিক Ethernet: ১৯৯০ সালের দিকে twisted pair তারের Ethernet (10BASE-T) এলে তারগুলো star আকারে একটি hub-এ যেতে লাগল — physical star. কিন্তু hub শুধু একটি port-এ আসা সংকেত বাকি সব port-এ পাঠিয়ে দেয়; সবাই সবারটা শোনে, আর দুজন একসাথে পাঠালে সংঘর্ষ (collision) হয় — ঠিক পুরোনো coaxial bus-এর মতো। তাই একে বলা হতো physical star, logical bus. পুরো hub একটি collision domain.
- Token Ring: IBM-এর Token Ring-এ তারগুলো যেত একটি কেন্দ্রীয় বাক্সে (MAU) — physical star; কিন্তু বাক্সের ভেতরে port থেকে port-এ একটি চক্র তৈরি হতো, আর একটি “token” ঘুরত — logical ring.
- Switch-ভিত্তিক Ethernet: switch যন্ত্রটি কোন MAC address কোন port-এ, তা শিখে নেয় আর frame শুধু সঠিক port-এ পাঠায়। এখন physical star, logically-ও star-এর মতো আলাদা আলাদা পথ; প্রতিটি port নিজেই আলাদা collision domain. এর বিস্তারিত পর্ব ১২-তে।
- Wi-Fi: সাধারণ (infrastructure) মোডে সব ফোন আর ল্যাপটপ একটি access point-এর সাথে কথা বলে — দেখতে star. কিন্তু বাতাস একটি ভাগাভাগির মাধ্যম; একই চ্যানেলে একজন পাঠালে আশেপাশের সবাই শুনতে পারে, আর একই সময়ে সাধারণত একজনই পাঠায়। তাই যুক্তিতে এটি অনেকটা পুরোনো bus-এর মতো shared medium — collision এড়াতে এজন্যই CSMA/CA (পর্ব ১১ আর ১৪)।
সাধারণ ভুল: “বাসার Wi-Fi router-এর সাথে সব ফোন যুক্ত, তাই এটি star, আর star-এ collision হয় না।” Physical আকার star হলেও মাধ্যম ভাগাভাগির, তাই প্রতিযোগিতা আছে — বাসায় অনেকে একসাথে ভিডিও দেখলে গতি ভাগ হয়ে যাওয়ার একটি কারণ এটাই।
৭ · নেটওয়ার্কের যন্ত্রপাতি — কে কোন স্তরে
পর্ব ০৩-এ OSI আর TCP/IP মডেলের স্তরগুলো বিস্তারিত দেখবেন। আপাতত তিনটি স্তর জানলেই চলবে: physical স্তর (Layer 1) শুধু সংকেত আর বিট বোঝে; data link স্তর (Layer 2) একই LAN-এর ভেতরে MAC address দেখে frame পৌঁছায়; network স্তর (Layer 3) IP address দেখে এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে packet পাঠায়। ঢাকার রাস্তার উপমায়: রাস্তা আর গাড়ি = Layer 1, মহল্লার ভেতরে বাড়ির নম্বর ধরে পৌঁছে দেওয়া = Layer 2, আর এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় কোন রুটে যাবে, সেটি ঠিক করা মোড়ের ট্রাফিক পুলিশ = Layer 3.
| যন্ত্র | মূল স্তর | কী কাজ করে | যা বোঝে না |
|---|---|---|---|
| NIC (network card) | ১ আর ২ | কম্পিউটারকে তার বা বেতারে যুক্ত করে; প্রতিটির একটি MAC address থাকে | কোথায় route করতে হবে |
| Repeater | ১ | দুর্বল হয়ে যাওয়া সংকেত নতুন করে জোরালো করে, দূরত্ব বাড়ায় | কোনো address |
| Hub | ১ | অনেক port-ওয়ালা repeater: এক port-এর সংকেত বাকি সব port-এ | কোন frame কার জন্য |
| Bridge | ২ | দুটি LAN segment জোড়ে, MAC দেখে ঠিক করে frame পার করবে কি না | IP address |
| Switch | ২ (Layer 3 switch-এ ৩-ও) | অনেক port-ওয়ালা bridge: MAC শিখে frame শুধু সঠিক port-এ পাঠায় | সাধারণ switch অন্য নেটওয়ার্কে route করে না |
| Router | ৩ | আলাদা নেটওয়ার্ক জোড়ে, IP দেখে পরের ধাপ (next hop) বাছে | — |
| Access point (AP) | ২ | Wi-Fi যন্ত্রকে তারের LAN-এর সাথে জোড়ে — বেতার আর তারের মাঝে bridge | route করা (বাসার “Wi-Fi router” আসলে AP + switch + router একসাথে) |
| Modem / ONT | ১ (ONT-তে ২-ও) | Modem ডিজিটাল বিটকে ফোন লাইন, কেবল বা মোবাইলের সংকেতে রূপ দেয় আর ফেরায়; ONT বাসায় আসা fiber-এর আলোকে Ethernet-এ রূপ দেয় | সাধারণত routing (যদি না একই বাক্সে router থাকে) |
| Firewall | ৩ থেকে ৭ | নিয়ম অনুযায়ী কোন ট্রাফিক ঢুকবে বা বের হবে, তা ঠিক করে | নিয়ম ভুল হলে নিজে থেকে কিছু ঠিক করে না (পর্ব ৪৯) |
একটি অফিস ভবনের রিসেপশনের কথা ভাবুন। Hub হলো মাইকে ঘোষণা — “রহিম সাহেবের চিঠি এসেছে” বললে সব ফ্লোরের সবাই শোনেন। Switch হলো রিসেপশনিস্ট, যিনি জানেন রহিম সাহেব কোন ডেস্কে বসেন, আর চিঠি শুধু সেখানেই পাঠান। Router হলো ভবনের ডাক বিভাগ, যা চিঠি অন্য ভবন বা অন্য শহরে পাঠানোর দায়িত্ব নেয়।
এখন দেখা যাক, এই পাতার কোড যে Linux container-এ চলে, সেখানে কোন কোন network interface আছে। Linux প্রতিটি interface-এর তথ্য /sys/class/net/<নাম>/ ফোল্ডারে ফাইল হিসেবে রাখে: type (hardware ধরন — 1 মানে Ethernet-ধাঁচের, 772 মানে loopback), operstate, speed (Mbps), duplex আর address (MAC). কিছু ফাইল কিছু interface-এ পড়া যায় না, তাই প্রতিটি পড়া সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
# Which network interfaces does this machine have? Read-only, no root needed.
[ -d /sys/class/net ] || { echo "/sys/class/net not available"; exit 0; }
for dev in /sys/class/net/*; do
name=${dev##*/}
type=$(cat "$dev/type" 2>/dev/null) || type="?"
case "$type" in
1) kind="Ethernet-like" ;;
772) kind="loopback" ;;
776) kind="IPv6-in-IPv4 tunnel" ;;
65534) kind="no hardware (tun)" ;;
*) kind="other" ;;
esac
state=$(cat "$dev/operstate" 2>/dev/null) || state="?"
speed=$(cat "$dev/speed" 2>/dev/null) || speed="unreadable"
duplex=$(cat "$dev/duplex" 2>/dev/null) || duplex="unreadable"
echo "$name: type=$type ($kind) state=$state speed=$speed duplex=$duplex"
done
if command -v ip >/dev/null; then
ip -br link 2>&1 || echo "ip command failed"
else
echo "ip command not found (used /sys/class/net instead)"
fiএই পাতার container-এ চালানোর আউটপুট:
lo: type=772 (loopback) state=unknown speed=unreadable duplex=unreadable
tap0: type=1 (Ethernet-like) state=unknown speed=10000 duplex=full
lo UNKNOWN 00:00:00:00:00:00 <LOOPBACK,UP,LOWER_UP>
tap0 UNKNOWN 0e:7e:ea:7e:83:e2 <BROADCAST,UP,LOWER_UP>
lo (type 772): loopback — একটি কাল্পনিক interface, যার মাধ্যমে কম্পিউটার নিজের সাথেই কথা বলে (127.0.0.1). এর কোনো তার নেই, তাই speed আর duplex ফাইল পড়তে গেলে kernel ত্রুটি দেয় — স্ক্রিপ্ট সেটি ধরে “unreadable” লিখেছে। tap0 (type 1): Ethernet-ধাঁচের একটি virtual interface — container-কে বাইরের সিস্টেমের সাথে জোড়ার জন্য software-এ তৈরি “তার”। এটি নিজেকে 10000 Mbps (১০ Gbps) আর full-duplex বলে জানাচ্ছে, কিন্তু virtual interface-এর এই সংখ্যা আসল তারের গতি নয়, শুধু একটি ঘোষিত মান। শেষ দুই লাইন এসেছে ip -br link থেকে: এই container-এ ip কমান্ডটি আছে, আর সে একই দুটি interface-এর MAC address দেখাচ্ছে (loopback-এর MAC সব শূন্য; tap0-এর MAC প্রতিবার চালালে আলাদা হতে পারে)। state “unknown” হওয়াও virtual interface-এ স্বাভাবিক।
সাধারণ একটি Linux ল্যাপটপে একই প্রশ্নের উত্তর দেখতে এমন হয় (উদাহরণ — নাম আর মান যন্ত্রভেদে আলাদা)। Windows-এ একই তথ্যের জন্য PowerShell-এ Get-NetAdapter চালানো যায়:
$ ip -br link
lo UNKNOWN 00:00:00:00:00:00 <LOOPBACK,UP,LOWER_UP>
enp3s0 UP 3c:52:82:1a:9e:40 <BROADCAST,MULTICAST,UP,LOWER_UP>
wlp2s0 UP a4:c3:f0:5b:21:7d <BROADCAST,MULTICAST,UP,LOWER_UP>
$ cat /sys/class/net/enp3s0/speed /sys/class/net/enp3s0/duplex
1000
fullPS C:\> Get-NetAdapter | Format-Table Name, Status, LinkSpeed, FullDuplex
Name Status LinkSpeed FullDuplex
---- ------ --------- ----------
Ethernet Up 1 Gbps True
Wi-Fi Up 300 Mbps False৮ · তথ্য কোন দিকে চলে — simplex, half-duplex, full-duplex
দুটি যন্ত্রের মাঝে তথ্য কোন দিকে আর কখন চলতে পারে, তাকে বলে transmission mode.
→ Simplex
শুধু এক দিকে, সবসময়। গ্রহীতা কখনো ফেরত পাঠায় না।
রেডিও আর টিভি সম্প্রচার, মসজিদের মাইক⇄ Half-duplex
দুই দিকেই, কিন্তু এক সময়ে একজন। বলা শেষ হলে তবে অন্যজন।
ওয়াকি-টকি, hub-এর Ethernet, একই চ্যানেলের Wi-Fi⇆ Full-duplex
দুই দিকে একসাথে — পাঠানো আর গ্রহণের জন্য আলাদা পথ বা আলাদা কৌশল।
মোবাইল ফোনে কথা বলা, switch-এর সাথে Ethernetএকটি চমৎকার যোগসূত্র: twisted pair Ethernet-এ পাঠানো আর গ্রহণ আলাদা তারের জোড়ায় (বা আলাদা কৌশলে) চলতে পারে, তাই switch-এর সাথে full-duplex link-এ collision হওয়ার কোনো সুযোগই থাকে না। ফলে পুরোনো Ethernet-এর collision সামলানোর নিয়ম (CSMA/CD, পর্ব ১১) আধুনিক switched full-duplex নেটওয়ার্কে কার্যত আর লাগে না। একটি সমস্যা অবশ্য বাস্তবে এখনো দেখা যায় — duplex mismatch: এক প্রান্ত full, অন্য প্রান্ত half ধরে নিলে link চলে, কিন্তু খুব ধীরে আর অনেক ত্রুটিসহ। তাই উপরের duplex ফাইলটি দেখা কাজের অভ্যাস।
গতির হিসাবে: ১০০ Mbps full-duplex link-এ একই সময়ে দুই দিকে ১০০ Mbps করে যেতে পারে। কিছু বিজ্ঞাপনে একে “২০০ Mbps” বলা হয় — প্রশ্ন বা চুক্তি পড়ার সময় খেয়াল রাখুন কোন অর্থে বলা হচ্ছে।
৯ · ইন্টারনেটের গঠন — ISP, IXP আর CDN
ইন্টারনেটের কোনো একক মালিক নেই। এটি হাজার হাজার স্বাধীন নেটওয়ার্কের একটি জোট — প্রতিটি নিজের এলাকা চালায়, আর চুক্তি করে প্রতিবেশীর সাথে ট্রাফিক আদান-প্রদান করে। এমন প্রতিটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত নেটওয়ার্ককে routing-এর ভাষায় বলে autonomous system (AS); BGP দিয়ে এরা কীভাবে পথ জানায়, সেটি পর্ব ২৫-এ। এখানে মোটা দাগের স্তরগুলো দেখি:
- Access ISP: যে কোম্পানি আপনার বাসা বা অফিসে সংযোগ দেয় — মহল্লার broadband ISP বা মোবাইল অপারেটর। এদের “শেষ মাইল” (last mile) এর তার আপনার বাসা পর্যন্ত আসে।
- Regional/national ISP ও upstream: ছোট access ISP-রা নিজেরা সারা বিশ্বে যুক্ত নয়; তারা বড় কোনো সেবাদাতার কাছ থেকে টাকা দিয়ে “পুরো ইন্টারনেটে পৌঁছানোর” সেবা কেনে। একে বলে transit, আর বিক্রেতাকে বলে upstream provider.
- Tier-1 network: হাতে গোনা কয়েকটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক (যেমন NTT বা Arelion-এর মতো কোম্পানি), যারা কাউকে transit-এর টাকা না দিয়েই পুরো ইন্টারনেটে পৌঁছাতে পারে — কারণ বাকি tier-1-দের সাথে তাদের বিনা মূল্যে বিনিময়ের চুক্তি (settlement-free peering) আছে।
- IXP (Internet Exchange Point): একটি ভবনে রাখা বড় switch, যেখানে অনেক নেটওয়ার্ক একসাথে যুক্ত হয়ে সরাসরি ট্রাফিক বিনিময় (peering) করে। এতে দেশের ভেতরের ট্রাফিক দেশেই থাকে — দ্রুত আর সস্তা। বিশ্বের বড় IXP-র মধ্যে আছে ফ্রাংকফুর্টের DE-CIX আর আমস্টারডামের AMS-IX.
- Content provider নেটওয়ার্ক আর CDN: Google, Meta, Netflix-এর মতো বড় কোম্পানির নিজস্ব বিশ্বজোড়া নেটওয়ার্ক আছে, আর Akamai বা Cloudflare-এর মতো CDN কোম্পানি বিশ্বের অনেক শহরে content-এর কপি রাখে। অনেক সময় এই cache server খোদ ISP-র ভেতরেই বসানো থাকে, যাতে জনপ্রিয় ভিডিও দেশের বাইরে না গিয়েই আসে (পর্ব ৩৮)।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট (সাধারণ চিত্র): নিয়ন্ত্রক সংস্থা BTRC বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স দেয়, আর কাঠামোটি সময়ের সাথে বদলেছে ও বদলাচ্ছে — তাই সর্বশেষ নিয়ম BTRC-র সূত্র থেকে মিলিয়ে নেবেন। মোটা দাগে: IIG (International Internet Gateway) লাইসেন্সধারীরা আন্তর্জাতিক bandwidth দেশে আনে — সমুদ্রের নিচের cable (যেমন SEA-ME-WE 4 আর SEA-ME-WE 5, যেগুলোর landing station কক্সবাজার আর কুয়াকাটায়) অথবা প্রতিবেশী দেশ হয়ে আসা স্থলপথের cable দিয়ে। ISP-রা সাধারণত IIG-র কাছ থেকে এই bandwidth কেনে। দেশের ভেতরে ISP-দের মধ্যে ট্রাফিক বিনিময়ের জন্য BDIX আর NIX নামে exchange পরিচিত, আর দেশজুড়ে fiber transmission-এর জন্য NTTN লাইসেন্সধারীরা আছে। ICX লাইসেন্সটি মূলত অপারেটরদের মধ্যে ফোন কলের আন্তঃসংযোগের জন্য — ইন্টারনেট ট্রাফিকের জন্য নয়। নির্দিষ্ট সংখ্যা বা কোন প্রতিষ্ঠান কোন ভূমিকায়, তা এখানে ইচ্ছা করে দেওয়া হয়নি, কারণ এগুলো দ্রুত বদলায়।
এবার একটি গল্প: ঢাকার মিরপুরে নাদিয়া তার ফোনে একটি ভিডিও খুললেন। প্রথম প্যাকেটটি কোন পথে যেতে পারে? (এটি একটি সরল উদাহরণ; বাস্তব পথ প্রতিটি ISP-র চুক্তি আর সেই মুহূর্তের routing-এর ওপর নির্ভর করে।)
- বাসা
ফোন → Wi-FiLAN - Access ISP
এলাকার POPশেষ মাইল - ISP-র cache
CDN serverপেলে এখানেই শেষ - দেশীয় IXP
peeringদেশের ট্রাফিক দেশে - Upstream / IIG
সমুদ্রের cableদেশের বাইরে - Transit / tier-1
বিদেশি IXPবড় backbone - Content নেটওয়ার্ক
data centerউত্তর ফেরত
| এখন কোথায় | |
| কার নেটওয়ার্ক | |
| দেশের ভেতরে? |
- বাসার LAN. ফোন Wi-Fi-তে প্যাকেটটি access point-কে দিল। বাসার “Wi-Fi router” বাক্সটি একসাথে AP, ছোট switch আর router; সে দেখল গন্তব্য বাসার নেটওয়ার্কের বাইরে, তাই প্যাকেটটি ISP-র দিকে পাঠাল — fiber হলে ONT হয়ে।
- Access ISP-র POP. বিদ্যুতের খুঁটি বা মাটির নিচ দিয়ে আসা তার শেষ হয় ISP-র এলাকার অফিস বা POP (point of presence)-এ। এখানে ISP-র router সিদ্ধান্ত নেয় প্যাকেটটি কোন দিকে যাবে। এটিই নাদিয়ার নেটওয়ার্ক থেকে ইন্টারনেটে ঢোকার প্রথম দরজা।
- ISP-র ভেতরের cache. জনপ্রিয় ভিডিওর কপি অনেক সময় বড় content কোম্পানি বা CDN নিজেদের server-এ ISP-র ভেতরেই রাখে। ভাগ্য ভালো হলে উত্তর এখান থেকেই আসে — দেশের বাইরে যাওয়ার দরকারই পড়ে না, তাই দ্রুত আর ISP-র আন্তর্জাতিক bandwidth-এর খরচও বাঁচে।
- দেশীয় IXP. গন্তব্য যদি দেশের ভেতরের অন্য কোনো ISP-র গ্রাহক বা দেশে রাখা কোনো server হয়, তাহলে প্যাকেট দেশীয় exchange-এ গিয়ে সরাসরি অন্য ISP-তে চলে যেতে পারে। IXP না থাকলে ঢাকার দুই ISP-র মাঝের ট্রাফিক বিদেশ ঘুরে আসত — যাকে বলে tromboning.
- দেশের বাইরে. content দেশে না থাকলে প্যাকেট ISP-র upstream-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক gateway হয়ে সমুদ্রের নিচের cable বা স্থলপথের cable ধরে দেশের বাইরে যায়। এই আন্তর্জাতিক bandwidth-ই সাধারণত ISP-র বড় খরচগুলোর একটি।
- বড় backbone. বিদেশে প্যাকেটটি কোনো transit provider বা tier-1 নেটওয়ার্কের backbone-এ ওঠে, অথবা সিঙ্গাপুরের মতো কোনো আঞ্চলিক hub-এর IXP-তে সরাসরি content কোম্পানির নেটওয়ার্কে হাতবদল হয়। প্রতিটি হাতবদলের পেছনে একটি ব্যবসায়িক চুক্তি: transit (টাকা দিয়ে) বা peering (বিনিময়ে)।
- Content নেটওয়ার্ক ও উত্তর. ভিডিও কোম্পানির নিকটতম data center বা edge server অনুরোধটি পেয়ে উত্তর পাঠায়। মজার ব্যাপার: ফেরার পথ যাওয়ার পথের মতো হবেই এমন কথা নেই (asymmetric routing), কারণ প্রতিটি নেটওয়ার্ক নিজের নীতিতে পথ বাছে। পুরো যাত্রা প্রায়ই এক সেকেন্ডের অনেক কম সময়ে শেষ হয়।
Intranet, extranet আর internet
| নাম | কারা ব্যবহার করে | উদাহরণ |
|---|---|---|
| Intranet | শুধু প্রতিষ্ঠানের নিজের কর্মীরা | ব্যাংকের ভেতরের HR পোর্টাল, ছুটির আবেদন, অফিসের নোটিশ বোর্ড ওয়েবসাইট |
| Extranet | কর্মী আর নির্দিষ্ট বাইরের অংশীদার (সরবরাহকারী, ডিলার) | গার্মেন্টস কারখানার বিদেশি ক্রেতার জন্য অর্ডার-ট্র্যাকিং পোর্টাল |
| Internet | সবার জন্য উন্মুক্ত | ব্যাংকের সাধারণ ওয়েবসাইট |
তিনটিই একই প্রযুক্তিতে (TCP/IP, ওয়েব ব্রাউজার) চলে; পার্থক্য শুধু কে প্রবেশ করতে পারবে, আর সেটি নিয়ন্ত্রণ হয় firewall, VPN আর লগইন দিয়ে।
আরও গভীরে: ইন্টারনেটের স্তরবিন্যাস এখন আর পরিষ্কার পিরামিড নয়। ২০১০ সালের দিকে প্রকাশিত Labovitz ও সহকর্মীদের একটি পরিচিত গবেষণা (“Internet Inter-Domain Traffic”) দেখায়, ট্রাফিকের বড় অংশ tier-1-এর ভেতর দিয়ে না গিয়ে সরাসরি বড় content নেটওয়ার্ক আর access ISP-র মাঝে IXP ও private peering-এ যাচ্ছে — একে বলা হয় ইন্টারনেটের “flattening”. IXP-গুলোর তালিকা আর কে কোথায় peering করে, তা PeeringDB-র মতো খোলা ডেটাবেসে দেখা যায়, আর বাস্তব AS-সম্পর্ক নিয়ে CAIDA-র মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ডেটা প্রকাশ করে।
১০ · AI-এর যুগে নেটওয়ার্ক নকশা
“৫টি শাখার একটি ব্যাংকের নেটওয়ার্ক নকশা বানিয়ে দিন” — AI মুহূর্তে একটি সুন্দর উত্তর দেবে। কিন্তু নেটওয়ার্কের বিষয়ে AI-এর ভুলগুলো খুব চেনা ধাঁচের, আর ভুল নকশার দাম দিতে হয় আসল টাকায় আর অচল সময়ে।
| AI-এর ভুল | কেন সমস্যা | কীভাবে ধরবেন |
|---|---|---|
| Link বা port-এর হিসাবে ভুল (যেমন mesh-এ n² বা n(n−1)) | বাজেট আর যন্ত্র কেনায় ভুল | n(n−1)/2 নিজে হিসাব করুন; port-এর যোগফল = ২ × link মিলিয়ে নিন |
| “Star-এ single point of failure নেই” বা “Wi-Fi-তে collision হয় না” | physical আর logical গুলিয়ে ফেলা | প্রশ্ন করুন: “কেন্দ্রের যন্ত্রটি নষ্ট হলে কী হবে?” |
পুরোনো কমান্ড (ifconfig, netstat) আধুনিক Linux-এ চালাতে বলা | অনেক নতুন distribution-এ এগুলো ডিফল্টে থাকে না | ip, ss আর man পাতা দেখুন (পর্ব ০৬) |
| একটি vendor-এর config (যেমন Cisco IOS) সবার জন্য সত্য বলে দেওয়া | অন্য vendor-এ কমান্ড আলাদা | নিজের যন্ত্রের অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন মিলিয়ে নিন |
| “সমস্যা হলে firewall-এ সব খুলে দিন” | নিরাপত্তা ঝুঁকি | শুধু দরকারি port আর উৎস খুলুন; নিয়ম লিখে রাখুন |
| বাংলাদেশের ISP, IXP বা লাইসেন্স নিয়ে নিশ্চিত শোনানো ভুল তথ্য, বানানো RFC নম্বর | নিয়ম বদলায়; AI পুরোনো বা বানানো তথ্য দিতে পারে | BTRC, IXP-র নিজস্ব সাইট আর rfc-editor.org-এ মিলিয়ে নিন |
AI-কে নকশার প্রশ্ন দিলে সংখ্যা, শর্ত আর যাচাইয়ের দাবি একসাথে দিন:
AI-এর নকশা মানার আগে — চেকলিস্ট
পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে এই বিষয়ে প্রায়ই যা জিজ্ঞেস করা হয়:
- n টি যন্ত্রের full mesh-এ কয়টি link আর প্রতিটিতে কয়টি port? — link n(n−1)/2, port n−1; যেমন ৬টি যন্ত্রে ১৫টি link, প্রতিটিতে ৫টি port.
- Hub আর switch-এর পার্থক্য? — hub (Layer 1) সংকেত সব port-এ পাঠায়, একটি collision domain; switch (Layer 2) MAC শিখে শুধু সঠিক port-এ পাঠায়, প্রতিটি port আলাদা collision domain.
- Switch আর router-এর পার্থক্য? — switch একই LAN-এর ভেতরে MAC দেখে frame পাঠায়; router আলাদা নেটওয়ার্ক জোড়ে আর IP দেখে packet-এর পথ বাছে।
- Star topology-র সবচেয়ে বড় দুর্বলতা? — কেন্দ্রীয় যন্ত্রটি single point of failure; সমাধান দ্বৈত switch বা দ্বৈত link.
- IXP কী, কেন দরকার? — যেখানে অনেক নেটওয়ার্ক সরাসরি peering করে; স্থানীয় ট্রাফিক স্থানীয় থাকে, delay আর আন্তর্জাতিক bandwidth-এর খরচ কমে।
ভাবনার প্রশ্ন
প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে কিছুক্ষণ ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন।
প্র ০১“ইন্টারনেট পারমাণবিক যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য mesh আকারে বানানো হয়েছিল” — এই কথাটি কতটা সত্য?
কথাটির একটি অংশ সত্য, একটি অংশ জনপ্রিয় অতিসরলীকরণ।
সত্য অংশ: ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে RAND Corporation-এ Paul Baran মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এমন একটি যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা ভাবছিলেন, যা আক্রমণে অনেক কেন্দ্র আর তার হারিয়েও কাজ চালাতে পারবে। তাঁর “On Distributed Communications” রিপোর্টগুলোতে তিন রকম নকশার তুলনা আছে: centralized (একটি কেন্দ্র — star), decentralized (কয়েকটি কেন্দ্র — tree-এর মতো), আর distributed (প্রতিটি নোড কয়েকটি প্রতিবেশীর সাথে যুক্ত — partial mesh). তিনি দেখান, প্রতিটি নোডে মাত্র তিন-চারটি link থাকলেই বিপুল পরিমাণ link নষ্ট হওয়ার পরও নেটওয়ার্কের বড় অংশ যুক্ত থাকে। বার্তাকে ছোট ছোট খণ্ডে ভেঙে প্রতিটি খণ্ডকে আলাদাভাবে যেকোনো জীবিত পথে পাঠানোর ধারণাও তাঁর কাজে ছিল।
অতিসরলীকরণ: ARPANET নিজে (১৯৬৯ সালে প্রথম নোডগুলো চালু হয়) মূলত তৈরি হয়েছিল গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর দামি কম্পিউটার ভাগাভাগি করে ব্যবহারের জন্য। এর নির্মাতাদের অনেকে পরে বলেছেন, পারমাণবিক যুদ্ধ তাঁদের প্রধান লক্ষ্য ছিল না, যদিও Baran-এর ধারণা আর যুক্তরাজ্যের Donald Davies-এর স্বাধীনভাবে ভাবা packet switching নকশাকে প্রভাবিত করেছিল। “Packet” শব্দটি Davies-এর দেওয়া।
আজকের বাস্তবতা: ইন্টারনেট সত্যিই একটি partial mesh, কিন্তু তার দৃঢ়তা সমান নয়। অনেক দেশ বা অঞ্চল মাত্র কয়েকটি সমুদ্রের নিচের cable-এর ওপর নির্ভর করে, আর কোনো cable কাটা পড়লে বিস্তৃত এলাকায় ইন্টারনেট ধীর হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে বারবার ঘটেছে। Topology-তে বিকল্প পথ থাকলেও সেই পথের ধারণক্ষমতা যথেষ্ট না হলে ব্যবহারকারী তা টের পান।
মূল উপলব্ধি: Mesh-এর শক্তি নির্ভর করে বিকল্প পথ কতগুলো, সেগুলো সত্যিই আলাদা (একই খাদ দিয়ে দুটি fiber গেলে একটি খোঁড়াখুঁড়িতে দুটিই কাটে) আর যথেষ্ট ধারণক্ষমতার কি না — শুধু ছবিতে কতগুলো রেখা আছে, তার ওপর নয়।
প্র ০২Ethernet কেন bus থেকে star-এ গেল, আর Token Ring কেন শেষ পর্যন্ত হারিয়ে গেল?
১৯৭৩ সালের দিকে Xerox PARC-এ Robert Metcalfe ও সহকর্মীরা Ethernet-এর ধারণা দেন; পরে DEC, Intel আর Xerox মিলে এর মান প্রকাশ করে, আর তা IEEE 802.3 হয়। প্রথম জনপ্রিয় রূপগুলো ছিল মোটা আর পাতলা coaxial তারের bus (10BASE5, 10BASE2). এদের সমস্যা ছিল ঠিক অংশ ৫-এর মতো: তারের এক জায়গায় সমস্যা হলে পুরো segment বসে যেত, আর কোথায় সমস্যা তা খোঁজা ছিল কষ্টকর।
একই সময়ে IBM-এর Token Ring (IEEE 802.5) ছিল বেশ উন্নত: একটি token ঘুরত, যার হাতে token সে-ই পাঠাত — তাই collision নেই, আর প্রত্যেকে কখন সুযোগ পাবে তা নির্দিষ্ট (deterministic). কারখানা আর ব্যাংকের মতো জায়গায় এটি আকর্ষণীয় ছিল। কিন্তু এর যন্ত্রপাতি ছিল তুলনামূলক দামি আর কম কোম্পানি তা বানাত।
মোড় ঘুরল ১৯৯০ সালের দিকে, যখন 10BASE-T এল: সাধারণ টেলিফোনের মতো সস্তা twisted pair তার, star আকারে hub-এ। ভবনে আগে থেকেই টেলিফোনের জন্য এমন তার টানার অভ্যাস ছিল, আর একটি তার কাটলে শুধু একজন বিচ্ছিন্ন। এরপর ১৯৯০-এর দশকে switch-এর দাম দ্রুত কমল; switch প্রতিটি port আলাদা করে collision-এর সমস্যা কার্যত মুছে দিল, আর full-duplex এল। গতিও বাড়তে থাকল — 100 Mbps, তারপর 1 Gbps — আর প্রতিটি নতুন প্রজন্ম আগের frame format ধরে রাখল, তাই পুরোনো যন্ত্র ফেলে দিতে হলো না।
Token Ring-এর deterministic সুবিধাটি তখন আর বড় যুক্তি থাকল না, কারণ switched Ethernet যথেষ্ট দ্রুত আর অনেক সস্তা হয়ে গেল। বিশাল বাজার মানে আরও সস্তা chip, আর সস্তা chip মানে আরও বড় বাজার — এই চক্রে Ethernet জিতে যায়।
মূল উপলব্ধি: প্রযুক্তির লড়াই সবসময় “কোনটি তাত্ত্বিকভাবে সেরা” দিয়ে ঠিক হয় না। সস্তা তার, সহজ ভুল খোঁজা, পুরোনো যন্ত্রের সাথে মিল আর বড় বাজার — এগুলো প্রায়ই নিখুঁত নকশাকে হারিয়ে দেয়।
প্র ০৩Hub থেকে switch-এ যাওয়া শুধু গতির ব্যাপার নয় — নিরাপত্তায় কী বদলাল, আর কী বদলাল না?
Hub একটি port-এর সংকেত বাকি সব port-এ পাঠিয়ে দেয়। অর্থাৎ hub-এ যুক্ত যেকোনো কম্পিউটার চাইলে অন্য সবার ট্রাফিক দেখতে পারত — শুধু নিজের NIC-কে “সব frame গ্রহণ” (promiscuous) মোডে রাখলেই হলো। পুরোনো দিনে অনেক protocol (যেমন Telnet বা সাধারণ FTP) পাসওয়ার্ড খোলা লেখায় পাঠাত, তাই একই hub-এ থাকা মানে সহজেই অন্যের পাসওয়ার্ড দেখে ফেলার ঝুঁকি।
Switch frame শুধু সঠিক port-এ পাঠায়, তাই সাধারণ অবস্থায় অন্যের unicast ট্রাফিক আপনার port-এ আসে না। এতে গোপনীয়তা বেশ বাড়ল। কিন্তু এটি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়, কারণ:
- Broadcast (যেমন ARP-এর অনুরোধ) এখনো সব port-এ যায়, আর switch যে frame-এর গন্তব্য চেনে না সেটিও সব port-এ পাঠায় (flooding).
- Switch-এর MAC টেবিল বা ARP-এর ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার মতো আক্রমণ সম্ভব — এগুলো ধারণাগতভাবে পর্ব ১৮ আর ৫০-এ দেখবেন, সাথে প্রতিরক্ষা (port security, DHCP snooping, dynamic ARP inspection-এর মতো ব্যবস্থা)।
- Wi-Fi-তে বাতাস নিজেই ভাগাভাগির মাধ্যম, তাই সেখানে আসল সুরক্ষা আসে encryption (WPA2/WPA3) থেকে।
আজকের পেশাদার নিয়ম তাই “নেটওয়ার্ককে বিশ্বাস করবেন না” — TLS, SSH-এর মতো end-to-end encryption ধরে নেয় যে পথের মাঝে কেউ শুনছে। Switch-এর গোপনীয়তা একটি বাড়তি স্তর, একমাত্র স্তর নয়।
মূল উপলব্ধি: Topology আর যন্ত্রের পছন্দ নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে, কিন্তু নিরাপত্তার ভিত্তি হওয়া উচিত encryption আর প্রমাণীকরণ — তার কোন পথে গেছে, তার ওপর নির্ভর না করে।
প্র ০৪দেশে একটি IXP থাকলে ঢাকার দুই ISP-র গ্রাহকদের কী লাভ? না থাকলে কী হয়?
ধরুন একটি ISP-র গ্রাহক রহিম আরেকটি ISP-র গ্রাহক করিমের সাথে ভিডিও কল করছেন, অথবা দেশের কোনো ডেটা সেন্টারে রাখা একটি সংবাদপত্রের সাইট খুলছেন। দুই ISP-র মাঝে কোনো সরাসরি সংযোগ না থাকলে প্রতিটি ISP প্যাকেটটি নিজের upstream-এ পাঠাবে। খারাপ ক্ষেত্রে প্যাকেট সমুদ্রের নিচের cable ধরে বিদেশে কোনো exchange-এ গিয়ে অন্য ISP-র upstream-এ হাতবদল হয়ে আবার দেশে ফিরবে। একই শহরের দুই বাড়ির মাঝে চিঠি বিদেশের ডাকঘর ঘুরে আসার মতো — একে বলে tromboning.
এতে তিনটি ক্ষতি: (১) delay অনেক বাড়ে, কারণ আলো fiber-এ সীমিত গতিতে চলে আর হাজার কিলোমিটার ঘুরতে সময় লাগে (পর্ব ০৫-এ propagation delay হিসাব করবেন); (২) দুই ISP-কেই দামি আন্তর্জাতিক bandwidth খরচ করতে হয়, যা দেশীয় bandwidth-এর চেয়ে সাধারণত অনেক দামি; (৩) আন্তর্জাতিক link বিঘ্নিত হলে দেশের ভেতরের যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়।
IXP-তে সব ISP একটি বড় switch-এ যুক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে সরাসরি peering করে — দেশের ট্রাফিক দেশে থাকে। এজন্যই বিশ্বের অনেক দেশে স্থানীয় IXP গড়ে তোলাকে ইন্টারনেট উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ধরা হয়, আর Internet Society-র মতো সংস্থা এ নিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশে BDIX-এর মতো exchange-এর কথা ISP ব্যবহারকারীরা প্রায়ই শোনেন — অনেক ISP দেশীয় exchange-এর মাধ্যমে পাওয়া কিছু সার্ভারকে আলাদা “BDIX speed” হিসেবে বিজ্ঞাপনও দেয় (এর বিস্তারিত ISP-ভেদে আলাদা)।
তবে IXP সব সমস্যার সমাধান নয়: content দেশে না থাকলে peering করে লাভ নেই। তাই দ্বিতীয় অংশটি হলো CDN আর cache — জনপ্রিয় content দেশের ভেতরে রাখা।
মূল উপলব্ধি: ইন্টারনেটের গতি শুধু আপনার প্যাকেজের Mbps নয় — ট্রাফিক কোন পথে যাচ্ছে, তা নির্ভর করে ISP-দের চুক্তি, IXP আর content কোথায় রাখা, তার ওপর। Topology এখানে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তও।
প্র ০৫১০০টি শাখার একটি ব্যাংক — শাখাগুলোকে hub-and-spoke (star) না mesh-এ জুড়বে? বাস্তবে কী করা হয়?
প্রথমে হিসাব: ১০০টি শাখা আর একটি data center-এর full mesh-এ link হবে ১০১×১০০/২ = ৫০৫০টি — প্রতিটির মাসিক ভাড়া ধরলে এটি অবাস্তব। আর ব্যাংকের বেশিরভাগ ট্রাফিক আসলে শাখা থেকে core banking সার্ভারে, শাখা থেকে শাখায় নয়। তাই মূল নকশা প্রায় সবসময় hub-and-spoke: প্রতিটি শাখা (spoke) data center-এর (hub) সাথে যুক্ত — মাত্র ১০০টি link.
কিন্তু খাঁটি star-এর single point of failure ব্যাংক মেনে নিতে পারে না। তাই সাধারণত এই স্তরগুলো যোগ হয়:
- দুটি hub: প্রধান data center আর একটি দূরবর্তী disaster recovery (DR) site; প্রতিটি শাখা দুটির সাথেই যুক্ত — অংশ ৪-এর stepper-এর partial mesh-এর মতো।
- দুটি আলাদা সেবাদাতা: একটি লাইন এক কোম্পানির fiber, আরেকটি অন্য কোম্পানির বা মোবাইল নেটওয়ার্কের — যাতে একটি খোঁড়াখুঁড়িতে দুটোই না কাটে।
- Core-এ mesh: data center-এর ভেতরে আর data center-গুলোর মাঝে router-গুলো mesh-এ যুক্ত, কারণ সেখানে একটি link-এর ব্যর্থতা সবাইকে প্রভাবিত করে।
প্রযুক্তির দিক থেকে এই link-গুলো হতে পারে কোনো সেবাদাতার ভাড়া করা ব্যক্তিগত লাইন বা MPLS VPN, অথবা সাধারণ ইন্টারনেটের ওপর encrypted tunnel (IPsec বা SD-WAN সমাধান, পর্ব ৪৯ আর ৫৩)। SD-WAN-এর মতো পদ্ধতিতে একাধিক লাইনের মধ্যে কোনটির অবস্থা ভালো তা দেখে ট্রাফিক সরানো যায়। কোনটি বাছা হবে তা নির্ভর করে খরচ, নিরাপত্তা নীতি আর নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার ওপর।
মূল উপলব্ধি: বাস্তবের নকশা প্রায় কখনো খাঁটি কোনো একটি topology নয়। প্রকৌশলী প্রশ্ন করেন: “ট্রাফিক আসলে কোথা থেকে কোথায় যায়, আর কোন ব্যর্থতা আমরা সহ্য করতে পারব না?” — তারপর ঠিক সেখানে বাড়তি link কেনেন।
অনুশীলন
খাতা-কলম নিয়ে বসুন — হিসাবগুলো হাতে করে তারপর উত্তর মেলান।
-
হাতে হিসাব: একটি কোম্পানির ১২টি শাখা। (ক) Full mesh-এ কয়টি link, প্রতি শাখায় কয়টি port? (খ) একটি আলাদা কেন্দ্রীয় router দিয়ে star হলে কয়টি link, router-এ কয়টি port? (গ) Full mesh-এ একটি নতুন (১৩তম) শাখা যোগ করলে কয়টি নতুন link লাগবে?
(ক) link = ১২×১১/২ = ৬৬, প্রতি শাখায় port = ১১ (মোট port ১৩২ = ২ × ৬৬)। (খ) star-এ link ১২, কেন্দ্রীয় router-এ অন্তত ১২টি port. (গ) নতুন শাখাকে আগের ১২টির প্রত্যেকের সাথে যুক্ত হতে হবে, তাই ১২টি নতুন link; যাচাই: ১৩×১২/২ = ৭৮ = ৬৬ + ১২. সাধারণভাবে, n টি থেকে n+1 টিতে গেলে নতুন link লাগে n টি — এজন্যই mesh বড় করা এত ব্যয়বহুল।
-
Output অনুমান করুন: অংশ ৫-এর
link_failure.js-এরtestsতালিকায়["ring", ["AB", "CD"], ""]যোগ করলে নতুন লাইনটি কী ছাপবে? চালানোর আগে লিখে ফেলুন, তারপর simulator-এ যোগ করে মিলিয়ে নিন।Ring-এর link: AB, BC, CD, DE, EA. AB আর CD কাটলে থাকে BC, DE, EA. A থেকে শুরু করলে EA দিয়ে E, DE দিয়ে D — একটি টুকরো {A,D,E}. বাকি B আর C, BC দিয়ে যুক্ত — {B,C}. তাই লাইনটি হবে:
ring │ cut AB+CD │ {A,D,E} {B,C} SPLIT into 2নিয়মটি সাধারণ: দ্বিমুখী ring-এ যেকোনো দুটি আলাদা link কাটলে ring ঠিক দুই টুকরো হয়।
-
কমান্ড লিখুন: (ক) একটি Linux কম্পিউটারে সব network interface-এর নাম আর অবস্থা এক লাইনে করে দেখার আধুনিক কমান্ড কী? (খ) কোনো কমান্ড ছাড়া, শুধু ফাইল পড়ে
eth0-এর গতি আর duplex কীভাবে দেখবেন? (গ) Windows-এ একই তথ্য কোথায় পাবেন?(ক)
ip -br link(বা IP ঠিকানাসহip -br addr). পুরোনোifconfigঅনেক নতুন distribution-এ ডিফল্টে থাকে না। (খ)cat /sys/class/net/eth0/speed /sys/class/net/eth0/duplex. Link বন্ধ থাকলে বা virtual interface হলে এগুলো পড়া না-ও যেতে পারে, অথবা-1বাunknownদেখাতে পারে। (গ) PowerShell-এGet-NetAdapter, অথবা Command Prompt-এipconfig /all(এতে গতি দেখায় না, কিন্তু MAC আর ঠিকানা দেখায়)। -
নকশা করুন: একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪টি ভবন (প্রশাসন, লাইব্রেরি, একাডেমিক, ছাত্রাবাস), প্রতিটিতে ৩টি ফ্লোর। এটি কোন ধরনের নেটওয়ার্ক, ভবনের ভেতরে ও ভবনগুলোর মাঝে কোন topology আর কোন যন্ত্র ব্যবহার করবেন? কোথায় single point of failure থাকতে পারে?
এটি একটি CAN. একটি যুক্তিসংগত নকশা:
- ফ্লোরে: প্রতিটি ফ্লোরে একটি switch (star), সাথে Wi-Fi access point.
- ভবনে: ফ্লোর-switch-গুলো ভবনের মূল switch-এ — tree/extended star.
- ভবনগুলোর মাঝে: fiber, কারণ দূরত্ব শত মিটার ছাড়াতে পারে (সাধারণ twisted pair Ethernet একটানা প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত)। প্রশাসনিক ভবনে core switch আর ইন্টারনেটের router ও firewall; গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো দুই পথে যুক্ত (partial mesh বা ring).
Single point of failure: একমাত্র core switch, একমাত্র router বা firewall, একমাত্র ISP লাইন, আর প্রতিটি ভবনের একমাত্র uplink. বাজেট অনুযায়ী এগুলো দ্বৈত করা হয় — সবচেয়ে বেশি মানুষ যার ওপর নির্ভর করে, সেখান থেকে শুরু করে।
নিজেকে যাচাই করুন
ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।
ক্রমনেটওয়ার্কের ধরনগুলো ছোট থেকে বড় বিস্তার অনুযায়ী সাজান (▲▼ চেপে সরান)
- PAN — ফোন আর Bluetooth earbuds
- LAN — একটি অফিসের ফ্লোর
- CAN — একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস
- MAN — একটি শহরজুড়ে fiber নেটওয়ার্ক
- WAN — দেশজুড়ে একটি ব্যাংকের সব শাখা
৬টি যন্ত্রকে full mesh topology-তে জুড়তে মোট কয়টি link লাগবে?
- ৬
- ৩০
- ১৫
- ৩৬
কোন যন্ত্রটি শুধু physical স্তরে কাজ করে — একটি port-এ আসা সংকেত বাকি সব port-এ পাঠিয়ে দেয়, কোনো address দেখে না?
- Hub
- Switch
- Router
- Bridge
একটি অফিসের ২০টি কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় switch-এ star আকারে যুক্ত। কোন একটি ঘটনায় সবচেয়ে বেশি কম্পিউটার বিচ্ছিন্ন হবে?
- একটি কম্পিউটারের তার কেটে যাওয়া
- একটি কম্পিউটারের network card নষ্ট হওয়া
- একটি কম্পিউটার বন্ধ করে দেওয়া
- কেন্দ্রীয় switch-এর বিদ্যুৎ চলে যাওয়া
ওয়াকি-টকিতে দুজনেই কথা বলতে পারেন, কিন্তু একজন বোতাম চেপে কথা বলার সময় অন্যজন বলতে পারেন না। এটি কোন transmission mode?
- Simplex
- Half-duplex
- Full-duplex
- Multiplex
একটি বাসার Wi-Fi-তে সব ফোন একটি access point-এর সাথে যুক্ত। এর topology সম্পর্কে কোন কথাটি সবচেয়ে সঠিক?
- এটি star, তাই কখনো collision-এর ঝুঁকি নেই
- এটি full mesh, কারণ সব ফোন একে অপরকে শুনতে পারে
- Physical দিক থেকে star-এর মতো, কিন্তু মাধ্যমটি shared — logical দিক থেকে bus-এর মতো
- এটি ring, কারণ সংকেত ঘুরে ঘুরে আসে
Internet Exchange Point (IXP)-এর প্রধান কাজ কোনটি?
- গ্রাহকদের IP ঠিকানা বরাদ্দ করা
- অনেক নেটওয়ার্ককে এক জায়গায় সরাসরি ট্রাফিক বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া
- ডোমেইন নামকে IP ঠিকানায় রূপান্তর করা
- বাসার fiber-এর আলোকে Ethernet সংকেতে রূপ দেওয়া
শব্দকোষ
লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:
মনে রাখুন
- আকার অনুযায়ী PAN → LAN → CAN → MAN → WAN; আসল পার্থক্য মালিকানা আর খরচে। ভূমিকা অনুযায়ী client-server বা peer-to-peer.
- Full mesh-এ link = n(n−1)/2, প্রতি যন্ত্রে port = n−1; star আর ring-এ n টি; সব নেটওয়ার্কে port-এর যোগফল = ২ × link.
- একটি তার কাটলে bus আর একমুখী ring-এ সবাই, star-এ একজন, mesh-এ কেউ না; star-এর কেন্দ্রই single point of failure.
- Physical আর logical topology আলাদা হতে পারে — hub-এর Ethernet physical star কিন্তু logical bus; Wi-Fi দেখতে star, মাধ্যম shared.
- Hub/repeater Layer 1, switch/bridge Layer 2, router Layer 3; ইন্টারনেট হলো access ISP, upstream, tier-1, IXP আর CDN-এর চুক্তিভিত্তিক জোট।
আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ
- পর্ব ০৩ · স্তরে স্তরে নেটওয়ার্ক — OSI, TCP/IP আর encapsulationপরবর্তী পর্বপ্রতিটি স্তরের কাজ আর header যোগ হওয়ার ধাপ।
- কম্পিউটার নেটওয়ার্ক · কোর্স হোম৬২টি পর্বপুরো কোর্সের রোডম্যাপ — ১০টি মডিউল।
- DSA · Graph-এর ভিত্তিপাশের ট্র্যাকনোড, edge, DFS আর BFS — topology আর routing-এর গাণিতিক ভাষা।
- কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস · নেটওয়ার্ক আর topologyসহজ পরিচিতিএকদম শুরু থেকে আরেকবার ঝালিয়ে নিতে।
- অপারেটিং সিস্টেমপাশের ট্র্যাকLinux kernel কীভাবে network interface আর device পরিচালনা করে।