এই পর্বে যা শিখবেন
- পরীক্ষা আর অপরাধের মাঝের রেখাটি কেন “অনুমতি”, “উদ্দেশ্য” নয়
- একটি লিখিত অনুমতিপত্র পড়ে scope বুঝতে পারা, ফাঁক ধরতে পারা
- হঠাৎ ত্রুটি বা খোলা ডেটা পেলে প্রতিটি সিদ্ধান্তে কী করবেন, কী করবেন না
- Coordinated vulnerability disclosure আর bug bounty কীভাবে চলে
- পেশাগত নৈতিকতা: গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত তথ্য, প্রমাণ আর স্বার্থের সংঘাত
- বাংলাদেশের বর্তমান সাইবার আইনের যেসব ধারা নিরাপত্তাকর্মীর জানা দরকার
১ · একই কাজ, দুই পরিণতি — অনুমতিই সীমারেখা
আপনি একজন তালার মিস্ত্রি। বাড়ির মালিক ডেকে বললেন, “দরজার তালাটা কত মজবুত, দেখে দিন।” আপনি তালা খুলে দেখালেন। মালিক খুশি, আপনি পারিশ্রমিক পেলেন। এবার একই মানুষ, একই যন্ত্র, একই দক্ষতা। শুধু বাড়িটি অচেনা, মালিক কিছু জানেন না। রাত দুটোয় একই তালা খুললেন। এবার আপনার পরিচয় বদলে গেল। দারোয়ান আপনাকে ধরলে “আমি তো শুধু দেখছিলাম” বললে কেউ শুনবে না।
সাইবার নিরাপত্তায়ও ঠিক তাই। Penetration testing মানে মালিকের লিখিত অনুমতি নিয়ে তাঁর system-এর দুর্বলতা খোঁজা। আর অনুমতি ছাড়া একই কাজ সাধারণত আইনের চোখে অনধিকার প্রবেশ। যন্ত্র একই, দক্ষতা একই। বদলায় একটি জিনিস: authorization, মানে কাজটি করার অধিকার।
এই পুরো কোর্স প্রতিরক্ষা শেখায়। কোনো system-এ পরীক্ষা চালাতে হলে সেটি আপনার নিজের হতে হবে, অথবা মালিকের লিখিত অনুমতি থাকতে হবে। অনুমতি ছাড়া অন্যের system-এ প্রবেশ অপরাধ। পরের সব পর্ব এই নিয়মের অধীন।
নতুনরা তিনটি ভুল যুক্তি প্রায়ই দেন। “আমার উদ্দেশ্য ভালো ছিল।” “ডেটা তো চুরি করিনি।” “দরজা তো খোলাই ছিল।” তিনটিই বিপজ্জনক। উদ্দেশ্য ভেতরের জিনিস, বাইরের কেউ তা দেখতে পান না। আর system-এর মালিকের চোখে শুরুতে আপনার কাজ আর সত্যিকারের হামলা হুবহু একই দেখায়। তাঁকে তখনই incident response, মানে ঘটনায় সাড়া দেওয়ার কাজ, শুরু করতে হয়। এতে সত্যিকারের খরচ হয়, যদিও আপনি কিছু নেননি। ভালো উদ্দেশ্য শাস্তি কমাতে পারে কি না, সেটি আদালতের বিষয়। অনুমতির বিকল্প এটি নয়।
নিচের ছবিটি এই পর্বের কঙ্কাল। কোনো কাজ শুরুর আগে পাঁচটি ফটক পার হতে হয়। একটিতেও আটকালে আর এগোনো যায় না।
কাজ শুরুর আগে পাঁচটি ফটক
Five gates before any security test
২ · লিখিত অনুমতিতে কী থাকে
মুখের কথা কেন যথেষ্ট নয়? ব্যাংকের লকার খুলতে শুধু “ম্যানেজার চেনেন” বললে হয় না। রেজিস্টার খাতায় সই লাগে, কারণ পরে প্রশ্ন উঠলে খাতাই প্রমাণ। অনুমতিপত্রও সেই খাতা। ঘটনার পরে যদি কেউ জিজ্ঞেস করেন “কে বলেছিল?”, তখন কাগজটিই আপনার পক্ষে কথা বলবে।
পেশাদার পরীক্ষায় এই কাগজের মূল অংশকে বলে scope, অর্থাৎ পরীক্ষার সীমানা। আর কীভাবে কাজ চলবে তার নিয়মকে বলে rules of engagement (RoE). নামগুলো প্রতিষ্ঠানভেদে বদলায়, বিষয়বস্তু প্রায় একই।
| অংশ | যা লেখা থাকে | না থাকলে যা হয় |
|---|---|---|
| কে অনুমতি দিচ্ছেন | প্রতিষ্ঠানের নাম, স্বাক্ষরকারীর পদ, তিনি কেন এই system-এর জন্য দায়িত্বশীল | অধিকার নেই এমন কারও সইয়ের দাম থাকে না |
| Scope ও system | নির্দিষ্ট domain, IP, app, পরীক্ষার account; কী কী বাইরে | “সব কিছু” মানে কিছুই পরিষ্কার নয় |
| সময় | শুরু ও শেষের তারিখ, ঘড়ির সময়, time zone | মেয়াদ শেষে করা কাজ অনুমতির বাইরে চলে যায় |
| পদ্ধতি | কী চলবে, কী নিষিদ্ধ (অতিরিক্ত চাপের load test, মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার social engineering, শারীরিক প্রবেশ) | সার্ভিস থেমে গেলে দোষ কার, ঠিক থাকে না |
| যোগাযোগ | দুই পক্ষের জরুরি নম্বর, থামানোর সংকেত, গুরুতর কিছু পেলে কাকে জানাবেন | রাতে সমস্যা হলে কেউ থামাতে পারেন না |
| ডেটা সামলানো | আসল ডেটা দেখলে কী করবেন, প্রমাণ কতটুকু রাখবেন, কোথায়, কতদিন, কীভাবে মুছবেন | পরীক্ষকই নতুন ডেটা-ঝুঁকি হয়ে ওঠেন |
একটি ফাঁক প্রায়ই চোখ এড়ায়: অনুমতি যিনি দেন, system কি পুরোটাই তাঁর? কোম্পানির website থাকতে পারে অন্য hosting-এ, app চলতে পারে shared cloud-এ, পেমেন্ট যেতে পারে তৃতীয় পক্ষের কাছে। কোম্পানি নিজের অংশের অনুমতি দিতে পারে, অন্যের অংশের পারে না। তাই provider-এর নিজস্ব নিয়ম দেখতে হয়, দরকারে তাদের অনুমতিও নিতে হয়।
এবার একটি কাল্পনিক অনুমতিপত্র হাতে নিন। ধরুন “একটি কাল্পনিক অনলাইন বাজার” আপনাকে কাজ দিয়েছে। সব domain, নাম আর নম্বর বানানো। প্রতিটি ধাপে কাগজের এক টুকরো পড়ে একটি প্রশ্ন করুন।
- কেস্বাক্ষর
- কীsystem
- কখনসময়
- কীভাবেপদ্ধতি
- ডেটাসামলানো
- যোগাযোগথামানো
Client : Fictional Online Bazaar Ltd
Signed by: Head of Technology (system owner)
Tester : Example Security Team
Ref : AUTH-2026-014 (carry this letter)
In scope : shop.example.com
*.staging.example.com
Excluded : pay.staging.example.com (third party)
Anything not listed is out of scope.
Start: 2026-11-08 22:00 Asia/Dhaka End : 2026-11-12 06:00 Asia/Dhaka Hours: 22:00-06:00 only Extension needs a new signed note.
Allowed : web application review with test accounts
Forbidden: load testing, social engineering,
physical entry, touching production data
Real personal data seen: stop, note the location,
do not copy, call the contact.
Evidence: encrypted store, deleted 30 days after report.
Duty contact: on-call engineer (24 hours)
Stop word : either side may halt at any time.
Critical find: phone within 1 hour.
- প্রশ্ন ১ — কে দিলেন? স্বাক্ষরকারী কি system-এর দায়িত্বে আছেন? এখানে Head of Technology. চিঠির নম্বরটি কাজের সময় সঙ্গে রাখুন, যাতে কেউ জিজ্ঞেস করলে দেখাতে পারেন। কোনো জুনিয়র কর্মীর WhatsApp বার্তা হলে এখানেই থেমে যেতেন।
- প্রশ্ন ২ — কোন system? মোট দুটি লাইন ভেতরে, একটি বাইরে। শেষ লাইনটি সবচেয়ে দামি: তালিকায় না থাকলে বাইরে ধরতে হবে। পেমেন্টের অংশ তৃতীয় পক্ষের, তাই বাদ। এই নিয়মটি পরের অংশের কোডে আবার দেখবেন।
- প্রশ্ন ৩ — কখন? ৮ নভেম্বর রাত ১০টা থেকে ১২ নভেম্বর সকাল ৬টা, শুধু রাতের সময়, ঢাকার ঘড়িতে। Time zone না থাকলে দুই পক্ষ দুই সময় বুঝতে পারত। মেয়াদ বাড়াতে নতুন স্বাক্ষর লাগবে।
- প্রশ্ন ৪ — কীভাবে? শুধু পরীক্ষার account দিয়ে app পর্যালোচনা। Load test, কর্মীদের ধোঁকা দেওয়া আর অফিসে ঢোকা নিষিদ্ধ। পদ্ধতি নিষিদ্ধ হলে, scope-এর ভেতরের system-এও সেটি করা যাবে না।
- প্রশ্ন ৫ — আসল ডেটা দেখলে? থামুন, জায়গাটি লিখুন, কপি করবেন না, ফোন করুন। প্রমাণ encrypt করে রাখবেন আর রিপোর্টের ৩০ দিন পরে মুছবেন। পরীক্ষকের ল্যাপটপ চুরি হলে যেন গ্রাহকের ডেটা না যায়।
- প্রশ্ন ৬ — জরুরি হলে? কাকে ফোন করবেন আর কে থামাতে পারেন, লেখা আছে। গুরুতর কিছু পেলে এক ঘণ্টার মধ্যে ফোন। সব উত্তর স্পষ্ট হলে তবেই কাজ শুরু। কোনো উত্তর অস্পষ্ট হলে অনুমান নয়, লিখিত প্রশ্ন করুন।
সীমানা বদলালে কাগজও বদলান। মাঝপথে client ফোনে বললেন “ওই নতুন server-টাও দেখে নিন।” ফোনের কথায় হাত দেবেন না। একটি email বা স্বাক্ষরিত সংযোজন নিন। Scope, RoE আর রিপোর্টের পূর্ণ প্রক্রিয়া পাবেন পর্ব ৫০-এ।
৩ · নিজে যাচাই করুন — “আমি কি এটি test করতে পারি?”
ছবি ৬.১-এর ফটকগুলো এবার কোডে লিখি। নিচের ছোট simulator আটটি বানানো পরিস্থিতিকে পরপর পরীক্ষা করে। কোনো network নেই, শুধু কয়েকটি true/false মান। শর্তের ক্রম খেয়াল করুন: প্রথম যে ফটকে আটকায়, উত্তর সেখানেই। ছবির পাঁচ ফটকের সাথে কোডে একটি বাড়তি শর্ত আছে: পদ্ধতিটি নিষিদ্ধ কি না।
// Toy decision helper. Not legal advice. All scenarios are invented.
function mayITest(s) {
if (s.own) return 'GO : your own system; still avoid other people\'s data';
if (!s.written) return 'STOP : no written permission';
if (!s.signerOwnsSystem) return 'STOP : signer cannot authorise this system';
if (!s.inScope) return 'STOP : target is out of scope';
if (!s.inWindow) return 'WAIT : outside the agreed time window';
if (s.methodBanned) return 'STOP : this method is forbidden by the rules';
if (s.thirdPartyData) return 'PAUSE : third-party data; stop and call the contact';
return 'GO : inside the permission; keep notes';
}
const ok = { written: true, signerOwnsSystem: true, inScope: true,
inWindow: true, methodBanned: false, thirdPartyData: false };
const scenarios = [
['A my laptop lab VM', { own: true }],
['B friend said "check my shop"', { ...ok, written: false }],
['C manager signs, vendor hosts', { ...ok, signerOwnsSystem: false }],
['D signed, other subdomain', { ...ok, inScope: false }],
['E signed, Friday night', { ...ok, inWindow: false }],
['F signed, load test banned', { ...ok, methodBanned: true }],
['G signed, real customer rows', { ...ok, thirdPartyData: true }],
['H signed, all checks pass', { ...ok }],
];
const tally = {};
for (const [name, s] of scenarios) {
const verdict = mayITest(s);
const word = verdict.split(' ')[0];
tally[word] = (tally[word] || 0) + 1;
console.log(name.padEnd(31), verdict);
}
console.log('tally:', JSON.stringify(tally));শেষ লাইন tally: {"GO":2,"STOP":4,"WAIT":1,"PAUSE":1}. আটটির মধ্যে মাত্র দুটিতে এগোনো যায়। বন্ধুর মুখের কথা (B) আটকায় প্রথম ফটকে। C-তে সই আছে, কিন্তু system অন্যের: signer cannot authorise this system. G-তে সব ঠিক ছিল, তবু আসল গ্রাহকের ডেটা সামনে আসায় উত্তর PAUSE, কারণ অনুমতিপত্র থাকলেও অন্যের ডেটা অবাধে দেখার অধিকার তৈরি হয় না। এই simulator শেখার জন্য। বাস্তবে এর GO কোনো আইনি নিশ্চয়তা নয়।
Scope মেলানোতে আরেকটি ফাঁদ আছে। মানুষ ভাবে, “shop.example.com আছে, তাহলে api.shop.example.com-ও নিশ্চয় আছে।” না। নিচের ছোট matcher নিয়মটি কড়াভাবে মানে: বাদ দেওয়া তালিকা সবার আগে, তারপর ভেতরের তালিকা, আর তালিকায় না থাকলে বাইরে। একে বলে default deny.
// Toy scope matcher for a fictional programme. Exclusions always win.
const scope = {
include: ['shop.example.com', '*.staging.example.com'],
exclude: ['pay.staging.example.com'],
};
const hit = (pat, host) => pat.startsWith('*.')
? host.endsWith(pat.slice(1)) && host !== pat.slice(2)
: host === pat;
function inScope(host) {
if (scope.exclude.some(p => hit(p, host))) return 'OUT (excluded)';
if (scope.include.some(p => hit(p, host))) return 'IN';
return 'OUT (not listed)';
}
const hosts = [
'shop.example.com',
'api.shop.example.com',
'dev.staging.example.com',
'pay.staging.example.com',
'staging.example.com',
'mail.example.com',
];
for (const h of hosts) console.log(h.padEnd(26), inScope(h));
// Default-deny: anything not listed is out. Count it.
const inCount = hosts.filter(h => inScope(h) === 'IN').length;
console.log(`in scope: ${inCount} of ${hosts.length}`);ফল: in scope: 2 of 6. api.shop.example.com পেয়েছে OUT (not listed), যদিও নামে মিল আছে। dev.staging.example.com ভেতরে, কারণ *.staging তাকে ধরে। pay.staging.example.com-ও সেই নকশায় পড়ে, কিন্তু বাদ তালিকা আগে দেখা হয়, তাই OUT (excluded). আর খালি staging.example.com এই matcher-এ বাইরে, কারণ *. শুধু নিচের স্তরকে বোঝায়। Wildcard (* দিয়ে একসাথে অনেক নাম বোঝানো)-এর অর্থ নিয়ে সন্দেহ হলে প্রতিষ্ঠানকে লিখে জিজ্ঞেস করুন।
৪ · হঠাৎ ত্রুটি পেলে — কী করবেন, কী করবেন না
সবাই পরীক্ষক হতে চান না। কিন্তু যে কেউ দুর্ঘটনাক্রমে কিছু দেখে ফেলতে পারেন। রাস্তায় পড়ে থাকা মানিব্যাগের কথা ভাবুন। তুলে পরিচয়পত্র দেখে মালিককে ফেরত দেওয়া এক কথা। ভেতরের টাকা গুনে, ছবি তুলে, বন্ধুদের দেখানো আরেক কথা। আর “পাঁচ হাজার টাকা দিলে ফেরত দেব” বলা সম্পূর্ণ অন্য কথা।
ধরুন আপনি ভর্তি পরীক্ষার ফল খুঁজছেন। Search result-এ একটি কাল্পনিক কোচিং সেন্টারের একটি খোলা ফাইল এলো। লিংকে ক্লিক করতেই দেখলেন শিক্ষার্থীদের নাম আর মোবাইল নম্বরের তালিকা। আপনি কিছু ভাঙেননি। এবার প্রতিটি সিদ্ধান্তই আপনার।
| সিদ্ধান্ত | |
| ঠিক পথ | |
| ভুল পথ |
- আরও দেখব? না। যেটুকু চোখে পড়েছে, তাতেই বোঝা গেছে ফাইলটি খোলা থাকার কথা নয়। এখানেই থামুন। পাশের ফাইল, পরের পাতা বা URL-এর সংখ্যা বদলে দেখা মানে আর দুর্ঘটনা থাকে না, সেটি হয়ে যায় আপনার সিদ্ধান্ত।
- সংখ্যা গুনব? দরকার নেই। “কত জনের ডেটা” জানা প্রতিষ্ঠানের কাজ। আপনি লিখতে পারেন “ব্যক্তিগত তথ্যের তালিকা মনে হয়েছে।” প্রমাণ বড় করার তাগিদ থেকেই বেশিরভাগ ভালো মানুষ ভুল করেন।
- ডাউনলোড করব? না। ব্রাউজার যদি নিজে থেকে ফাইলটি নামিয়ে থাকে, প্রতিষ্ঠানকে জানান যে একটি কপি আপনার যন্ত্রে এসেছে এবং তাঁরা কী করতে বলেন, জেনে নিন। কারও ব্যক্তিগত তথ্য নিজের কাছে জমা রাখবেন না, শেয়ার করবেন না।
- কাউকে দেখাব? না। বন্ধুকে পাঠানো, গ্রুপে শেয়ার বা Facebook-এ “দেখুন কী অবস্থা!” লেখার সঙ্গে সঙ্গে তথ্যটি আরও ছড়াল। সেই শিক্ষার্থীদের ক্ষতি তখন আপনার হাত দিয়ে হলো।
- কী লিখে রাখব? শুধু URL বা জায়গার বর্ণনা, তারিখ-সময়, আর আপনি কীভাবে পৌঁছালেন। ছবি দরকার মনে হলে এমন অংশ নিন যাতে কারও নাম বা নম্বর নেই। এই ছোট নোটই পরে আপনার সৎ উদ্দেশ্যের সাক্ষী।
- কাকে জানাব? প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিরাপত্তা-যোগাযোগ, disclosure নীতি বা
security.txtখুঁজুন। না পেলে তাদের সাধারণ support-এ লিখুন, “নিরাপত্তা-বিষয়ক খবর দিতে চাই, কার সাথে কথা বলব?” ডেটার বিবরণ প্রথম বার্তাতেই খোলা ইনবক্সে পাঠাবেন না। - কীভাবে লিখব? কী দেখেছেন, কোথায়, কখন। কী করেননি, সেটিও লিখুন: “ডাউনলোড করিনি, আর কিছু খুলিনি।” টাকা, চাকরি বা শর্ত নয়। “এত দিনের মধ্যে টাকা না দিলে প্রকাশ করব” ধরনের কথা নৈতিকতার বাইরে তো বটেই, চাঁদাবাজি বলেও গণ্য হতে পারে।
- উত্তর না এলে? কয়েক দিন পর আবার মনে করিয়ে দিন। তারপরও সাড়া না পেলে জাতীয় CIRT-কে, মানে সরকারি সাড়াদান দলকে, জানাতে পারেন (অংশ ৮ দেখুন)। নিজে প্রকাশ করা বা পরীক্ষা বাড়িয়ে “প্রমাণ” করা পথ নয়। ঝুঁকি মনে হলে আগে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলুন।
করুন
থামুন। অল্প নোট রাখুন। সঠিক পথে শান্তভাবে জানান। কী করেননি, তাও লিখুন। প্রতিষ্ঠানকে সময় দিন।
লক্ষ্য: ক্ষতি কমানোকরবেন না
অন্যের ডেটা খুলবেন না, নামাবেন না, ছড়াবেন না। আরও ঢোকার চেষ্টা নয়। টাকা বা পুরস্কারের দাবি নয়। হুমকি নয়।
লক্ষ্য: নিজেকে ও অন্যকে বাঁচানোপুরস্কার জিজ্ঞেস করা আর দাবি করা এক নয়। প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত bug bounty থাকলে তার নিয়মেই পুরস্কার মেলে। ঘোষণা না থাকলে আপনার রিপোর্টের সাথে কোনো অর্থের শর্ত জুড়বেন না। প্রকাশ না করার বিনিময়ে টাকা চাওয়া একেবারেই নিষিদ্ধ রেখা।
৫ · Coordinated vulnerability disclosure — জানানো থেকে প্রকাশ
কোনো সফটওয়্যারে ত্রুটি পাওয়া গেলে তিনটি পক্ষের স্বার্থ জড়িত। যিনি পেলেন, যিনি ঠিক করতে পারেন, আর যাঁরা ব্যবহার করেন। শুধু চুপ থাকলে ব্যবহারকারী ঝুঁকিতে থাকেন, হয়তো অন্য কেউও ত্রুটিটি পেয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে বলে দিলে patch, মানে ত্রুটি সারানোর update, আসার আগেই সবাই ঝুঁকিতে পড়েন। মাঝের পথটির নাম coordinated vulnerability disclosure (CVD). পুরোনো নাম responsible disclosure, এখনো অনেকে এই নামই বলেন।
মহল্লার পাহারাদার দেখলেন, একটি বাসার পেছনের দরজার তালা নষ্ট। তিনি মাইকে ঘোষণা করেন না, চুপচাপ চলেও যান না। মালিককে বলেন, তালা বদলাতে সময় দেন, তারপর সমিতির সভায় জানান, “এই ধরনের তালায় সমস্যা আছে, সবাই দেখে নিন।” CVD ঠিক এই ক্রম।
CVD-র পক্ষগুলো আর দুই ISO মান
Parties in coordinated disclosure
| নাম | কী | কার জন্য |
|---|---|---|
| ISO/IEC 29147:2018 | রিপোর্ট নেওয়া আর প্রতিকারের তথ্য প্রকাশের নির্দেশনা | Vendor, মানে পণ্য বা সেবার মালিক |
| ISO/IEC 30111:2019 | রিপোর্ট পাওয়ার পর ভেতরের কাজের প্রক্রিয়া | Vendor-এর দল |
| CERT Guide to CVD (SEI, ২০১৭) | সব পক্ষের জন্য বাস্তব নির্দেশিকা, বিনামূল্যে পড়া যায় | সন্ধানকারী, vendor, coordinator |
| RFC 9116 (২০২২, Informational) | security.txt ফাইলের ধরন | যোগাযোগের ঠিকানা খুঁজে পেতে |
একটি প্রতিষ্ঠান যখন ঘোষণা করে “ত্রুটি পেলে এভাবে জানান”, সেটিকে বলে vulnerability disclosure policy (VDP). নিচে একটি কাল্পনিক লাইব্রেরি toy-parser-এর ত্রুটি ধরে পুরো পথটি দেখুন। সন্ধানকারীর নাম নীলা, তিনি নিজের কম্পিউটারে লাইব্রেরিটি চালিয়ে সমস্যাটি পেয়েছেন।
| দিন | |
| যা ঘটল | |
| কে জানেন | |
| ব্যবহারকারী |
- দিন ০ — আবিষ্কার। নীলা নিজের কম্পিউটারে একটি অদ্ভুত আচরণ দেখলেন আর ছোট একটি পুনরুৎপাদন তৈরি করলেন। অন্যের server-এ চেষ্টা করেননি। তিনি তারিখ আর version লিখে রাখলেন।
- দিন ১ — রিপোর্ট। প্রকল্পের নিরাপত্তা-নীতি দেখে নির্দিষ্ট private পথে পাঠালেন: কোন version, কীভাবে ঘটে, প্রভাব কী, আর তিনি কত দিন পরে প্রকাশ করতে চান। এখানে ৪৫ দিনের প্রস্তাব।
- দিন ৩ — প্রাপ্তি স্বীকার। Vendor জানালেন রিপোর্ট পেয়েছেন, একজন দায়িত্বশীল মানুষের নাম দিলেন। ছোট একটি উত্তরও আস্থা বাড়ায়। নীরবতাই সবচেয়ে বেশি দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
- দিন ১০ — নিশ্চিতকরণ। Vendor নিজে ত্রুটিটি পুনরুৎপাদন করলেন, গুরুত্ব ঠিক করলেন, কোন version-এ আছে দেখলেন। এই ভেতরের কাজই ISO/IEC 30111-এর এলাকা। অগ্রাধিকার ঠিক করার নিয়ম পাবেন পর্ব ৩২-এ।
- দিন ৩৮ — Fix প্রস্তুত। Fix পরীক্ষিত। একটি CVE নম্বর নেওয়া হলো, যা দেয় CVE নম্বর দেওয়ার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান (CNA). এই গোপন প্রস্তুতির সময়কে অনেকে বলেন embargo.
- দিন ৪০ — প্রকাশ্য সমাধান। নতুন version এলো সাথে security advisory: কারা ঝুঁকিতে, কী করতে হবে, কে জানিয়েছেন। ঘোষিত ৪৫ দিনের আগেই কাজ শেষ। এখানে হামলার বিস্তারিত নেই।
- দিন ৭০ — কারিগরি বিবরণ। Patch-এর ৩০ দিন পরে বিস্তারিত প্রকাশ হলো, যাতে রক্ষক আর গবেষকরা শিখতে পারেন। ৪০ + ৩০ = ৭০. নীলা স্বীকৃতি পেলেন। সব পক্ষ একই সময়রেখায় থাকায় কোনো পক্ষ অবাক হলেন না।
সময়সীমা: রীতি, আইন নয়
কত দিন অপেক্ষা করা উচিত, তার কোনো সার্বজনীন আইন নেই। আছে প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত নীতি। CERT/CC তার নীতিতে বলে, রিপোর্ট সাধারণত প্রথম রিপোর্টের ৪৫ দিন পরে প্রকাশ হয়, তবে সক্রিয় হামলা বা বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ী আগে-পরে হতে পারে। Google-এর Project Zero দলের নীতি ৯০+৩০: vendor-কে patch-এর জন্য ৯০ দিন, patch এলে তার ৩০ দিন পরে বিস্তারিত। হামলা ইতিমধ্যে চলছে এমন ক্ষেত্রে সময়সীমা ৭ দিন। অন্য দলের নীতি আলাদা হতে পারে। কোডে হিসাবটি দেখুন। ঘড়ি বানানো, তাই ফল সবসময় একই।
// Disclosure calendar on a fixed, simulated report date (no real clock).
const DAY = 86400000;
const report = Date.UTC(2026, 2, 2); // 2 March 2026
const on = d => new Date(report + d * DAY).toISOString().slice(0, 10);
function plan(p) {
if (p.exploited) return { publishDay: p.exploitedDays, why: 'active exploitation' };
const fix = p.fixDay;
if (fix !== null && fix <= p.deadline)
return { publishDay: fix + p.afterFix, why: `fix on day ${fix}, then ${p.afterFix} days for users` };
return { publishDay: p.deadline, why: 'deadline reached without a fix' };
}
const cases = [
['flat 45 days, no fix', { deadline: 45, afterFix: 0, fixDay: null }],
['90+30, fix on day 60', { deadline: 90, afterFix: 30, fixDay: 60 }],
['90+30, fix on day 88', { deadline: 90, afterFix: 30, fixDay: 88 }],
['90+30, no fix', { deadline: 90, afterFix: 30, fixDay: null }],
['exploited in the wild', { exploited: true, exploitedDays: 7 }],
];
console.log('report date:', on(0));
for (const [name, p] of cases) {
const r = plan(p);
console.log(name.padEnd(24), 'day', String(r.publishDay).padStart(3), on(r.publishDay), '-', r.why);
}রিপোর্টের তারিখ 2026-03-02. ৪৫ দিনের নিয়মে প্রকাশ 2026-04-16. ৬০ দিনে fix হলে ৬০ + ৩০ = ৯০, অর্থাৎ 2026-05-31. ৮৮ দিনে fix হলে ৮৮ + ৩০ = ১১৮, অর্থাৎ 2026-06-28. খেয়াল করুন, শেষ মুহূর্তে fix দিলেও ব্যবহারকারীরা update করার পুরো ৩০ দিন পান। হামলা চললে day 7 2026-03-09. কোডটি সরল করা: আসল নীতিতে grace period, মানে অনুরোধে পাওয়া বাড়তি সময়, এর মতো ব্যতিক্রম থাকে, আর রিপোর্টকারী ও vendor আলোচনা করে সময় বদলাতে পারেন।
আরও গভীরে: ISO/IEC 29147 vendor-এর বাইরের দিক, যেমন রিপোর্ট গ্রহণ আর advisory, নিয়ে বলে। ISO/IEC 30111 বলে ভেতরের দিক, যেমন যাচাই, অগ্রাধিকার আর সমাধান। ISO-র পূর্ণ লেখা কিনতে হয়, তাই আমরা সার-কথা বলেছি। RFC 9116 অনুযায়ী /.well-known/security.txt ফাইলে Contact আর Expires থাকা বাধ্যতামূলক, এটি Informational RFC, ইন্টারনেট মান নয়। একাধিক vendor জড়িত থাকলে সমন্বয় অনেক কঠিন হয়, যার আলোচনা আছে CERT Guide-এ।
৬ · Bug bounty — আইনি পথ, তবে scope পড়েই
Bug bounty হলো প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা: “এই সীমার ভেতরে, এই নিয়মে ত্রুটি খুঁজে জানালে পুরস্কার বা স্বীকৃতি দেব।” এটি জনসমক্ষে ঝোলানো একটি অনুমতিপত্রের মতো। VDP-তে সাধারণত পুরস্কার থাকে না, শুধু জানানোর পথ থাকে। Bug bounty-তে থাকে পুরস্কার। দুটিই অনুমতির একটি রূপ হতে পারে, যদি কথাগুলো সেভাবে লেখা থাকে।
আইনি ভরসার অংশটিকে বলে safe harbor ভাষা। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার: সৎ উদ্দেশ্যে নিয়ম মেনে গবেষণা করলে তারা সেটিকে অনুমোদিত ধরবে, আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে না। disclose.io নামের একটি উন্মুক্ত প্রকল্প এমন লেখার নমুনা রাখে। সেখানে “partial” আর “full” safe harbor আলাদা করা হয়েছে: প্রথমটি মামলা না করার অঙ্গীকার, দ্বিতীয়টি আগাম অনুমোদন। নিচের লেখাটি শুধু গঠন বোঝানোর জন্য আমাদের বানানো উদাহরণ, কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়।
উদাহরণ (কাল্পনিক প্রোগ্রাম):
এই নীতি মেনে সৎ উদ্দেশ্যে করা গবেষণাকে আমরা অনুমোদিত বলে গণ্য করব
এবং এ জন্য আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব না।
ভেতরে: shop.example.com
নিষিদ্ধ: সার্ভিস থামানো, অন্যের account বা ডেটায় প্রবেশ, মানুষকে ধোঁকা দেওয়া।
ব্যক্তিগত তথ্য দেখলে থামুন এবং জানান। ঠিক হওয়ার আগে প্রকাশ করবেন না।
Safe harbor-এর সীমা
- এটি শুধু প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার। সরকার বা আদালত এতে বাঁধা নন। প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষের হয়ে অনুমতিও দিতে পারে না।
- শর্ত ভাঙলে ঢাল থাকে না। একটি নিষিদ্ধ host, একটি নিষিদ্ধ পদ্ধতি, আর আপনি নীতির বাইরে।
- নিয়ম বদলায়। কাজ শুরুর দিনের নীতি পড়ুন, একটি কপি তারিখসহ রাখুন।
- স্থানীয় আইন আলাদা। বিদেশি প্রোগ্রামের ভাষা বাংলাদেশের আইনের ব্যতিক্রম তৈরি করে, এমন ধরে নেবেন না।
ভালো শিক্ষানবিশের পথ তাই: নিজের ল্যাব, বৈধ অনুশীলন প্ল্যাটফর্ম আর CTF (Capture the Flag, নিরাপত্তার নিয়মবদ্ধ প্রতিযোগিতা) দিয়ে শুরু। তারপর স্পষ্ট নীতিসহ প্রোগ্রাম। প্রোগ্রামে আপনি ঠিক কী করতে পারেন, পর্ব ৫০-এ আরও দেখবেন।
৭ · পেশাগত নৈতিকতা আর দায়িত্ব
আইন বলে কী করলে শাস্তি হবে। নৈতিকতা বলে কী করা উচিত। দুটির মাঝে ফাঁক থাকে। অনেক কাজ আইনে স্পষ্ট নয়, তবু ভুল। নিরাপত্তাকর্মীরা মানুষের গোপন জিনিসের চাবি হাতে পান, তাই এই পেশায় বিশ্বাসই পুঁজি। একবার হারালে চাকরিও যায়।
দুটি পরিচিত আচরণবিধি দেখি। এগুলো পেশাগত সংগঠনের নিয়ম, দেশের আইন নয়।
ISC2 Code of Ethics
সনদধারীদের জন্য বাধ্যতামূলক। চারটি canon: সমাজ, জনস্বার্থ, জনবিশ্বাস ও অবকাঠামো রক্ষা; সৎ, ন্যায্য, দায়িত্বশীল ও আইনসম্মত আচরণ; নিয়োগকর্তা বা client-কে যত্নশীল ও দক্ষ সেবা; পেশার উন্নয়ন ও সুরক্ষা।
সনদের শর্তACM Code (২০১৮)
কম্পিউটিং পেশাজীবীদের জন্য। এর নীতির মধ্যে আছে privacy-কে সম্মান (১.৬), গোপনীয়তা রক্ষা (১.৭) আর অনুমতি থাকলে অথবা জনস্বার্থে বাধ্য হলে তবেই resource-এ প্রবেশ (২.৮).
“জনস্বার্থ” আইনি ঢাল নয়চারটি দৈনন্দিন দায়িত্ব
| দায়িত্ব | মানে | বাস্তব উদাহরণ |
|---|---|---|
| গোপনীয়তা | কাজে যা জানলেন, অনুমতি ছাড়া প্রকাশ নয়। প্রায়ই NDA থাকে | Client-এর দুর্বলতা নিয়ে আড্ডা বা বক্তৃতা নয়, রিপোর্ট encrypted রাখা |
| ব্যক্তিগত তথ্য | কাজের জন্য যতটুকু দরকার, ততটুকুই (data minimization) | Log দেখতে গিয়ে সহকর্মীর ব্যক্তিগত বার্তা পড়া নয়, প্রমাণে নম্বর ঢেকে রাখা |
| প্রমাণ | মূল প্রমাণ অক্ষত রাখা, হাত বদলের হিসাব (chain of custody) | Hash নেওয়া, কপিতে কাজ করা, কে কখন ধরলেন লেখা (পর্ব ৬৩) |
| স্বার্থের সংঘাত | ব্যক্তিগত লাভ যখন পেশাগত বিচারকে টানে (conflict of interest) | নিজের বানানো পণ্য নিরাপদ বলে রিপোর্ট দেওয়া, যে পণ্যে আপনার ভাগ আছে সেটি সুপারিশ |
স্বার্থের সংঘাতের সমাধান সাধারণত সরল: আগে জানিয়ে দিন, আর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান। সন্দেহ হলে নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন: কাজটি আগামীকাল client আর সহকর্মীরা দেখলে কি আপনি স্বচ্ছন্দ থাকবেন?
৮ · বাংলাদেশের আইন — ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত যাচাই
এই অংশ আইনি পরামর্শ নয়। আমরা আইনজীবী নই। নিচের কথাগুলো সরকারি গেজেটের লেখা পড়ে সাজানো, যাচাইয়ের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২৬. গত কয়েক বছরে এই আইন বারবার বদলেছে, এবং আবারও বদলাতে পারে। সংবাদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষ দিকে আরেকটি সংশোধনীর খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছিল; যাচাইয়ের দিন পর্যন্ত সেটি আইন হয়েছে, এমন প্রমাণ আমরা পাইনি। আপনার নিজের কোনো সিদ্ধান্তের আগে আইনের বর্তমান লেখা দেখুন, দরকারে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
কোন আইন এখন চলছে
সংক্ষেপে: সাইবার অপরাধের প্রধান আইন এখন সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮১ নং আইন). গেজেটের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৬. ধারা ১(২) অনুযায়ী এটি ২১ মে ২০২৫ তারিখে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য। পুরোনো নামগুলো অনেক লেখায় এখনো পাবেন, তাই বংশতালিকাটি জেনে রাখুন।
| আইন | বর্তমান অবস্থা (যাচাইয়ের দিন) |
|---|---|
| তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (৩৯ নং) | পুরোপুরি বিলুপ্ত নয়। ২০২৬ সালের আইন এর ধারা ৬৮ আর ৮২-এর অধীন গঠিত ট্রাইব্যুনালকেই নিজের ট্রাইব্যুনাল বলে নিয়েছে। bdlaws-এর টীকা অনুযায়ী ধারা ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ বিলুপ্ত। |
| ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ (৪৬ নং) | রহিত, ২০২৩ সালের আইন দিয়ে। |
| সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ (৩৯ নং) | রহিত। ২০২৬ সালের আইনের ধারা ৫০-এ রহিতকরণ আর চলমান মামলার বিধান আছে। |
| সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২৫ নং) ও সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (৫৪ নং) | রহিত, ২০২৬ সালের আইনের ধারা ৫১ দিয়ে। |
| সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (৮১ নং) | বলবৎ। নিচের ধারাগুলো এর। |
| সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (৯৯ নং) | ১ জুলাই ২০২৬. গেজেটের লেখায় একটিই পরিবর্তন: মূল আইনের ধারা ২০ বিলুপ্ত। নিচের ধারাগুলো এতে বদলায়নি। |
যে কথাটি এই পর্বের সাথে সরাসরি জড়িত
আইনের ধারা ২(১)(ফ) “বে-আইনি প্রবেশ” শব্দের সংজ্ঞা দেয়। শুরুর অংশটি গেজেট থেকে হুবহু:
“কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বা উক্তরূপ অনুমতির শর্ত লঙ্ঘনক্রমে কোনো কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস বা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থায় প্রবেশ”
সংজ্ঞাটি এরপর তথ্য আদান-প্রদানে বাধা, তথ্য বদল, তথ্য সংগ্রহ বা log মুছে ফেলার মতো কাজের কথাও বলে, আর বলে এটি “অনুপ্রবেশ বা হ্যাকিং নামেও অভিহিত হইবে।” লক্ষ করুন দুটি ভাগ: অনুমতি ছাড়া, অথবা অনুমতির শর্ত ভেঙে। সাধারণ পড়ায় দ্বিতীয় ভাগটিই scope-এর গুরুত্ব বোঝায়। অনুমতিপত্র থাকলেও শর্তের বাইরে গেলে আপনি এই সংজ্ঞার কাছাকাছি চলে আসতে পারেন। বাস্তবে কোনটি অপরাধ, তা ঠিক করেন আদালত।
| ধারা | বিষয় (সংক্ষেপে) | সর্বোচ্চ দণ্ড |
|---|---|---|
| ১৭(১)(ক) | ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে বে-আইনি প্রবেশ | ৫ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় |
| ১৭(১)(খ) | একই পরিকাঠামোতে প্রবেশ করে তথ্য চুরি, নষ্ট, বদল বা ক্ষতি, অথবা তাতে সহায়তা | ৭ বছর বা ১ কোটি টাকা বা উভয় |
| ১৮(১)(ক) | ইচ্ছাকৃতভাবে কম্পিউটার, ডিভাইস, system বা network-এ বে-আইনি প্রবেশ, বা তাতে সহায়তা | ১ বছর বা ১০ লক্ষ টাকা বা উভয় |
| ১৮(১)(খ) | অপরাধের উদ্দেশ্যে বে-আইনি প্রবেশ, বা তাতে সহায়তা | ২ বছর বা ২০ লক্ষ টাকা বা উভয় |
| ১৮(১)(গ) | বে-আইনি প্রবেশ (হ্যাকিং) করে তথ্য চুরি, নষ্ট, বদল বা অন্যভাবে ক্ষতি, বা তাতে সহায়তা | ৫ বছর বা ৫০ লক্ষ টাকা বা উভয় |
| ১৯ | অন্যান্য কাজের মধ্যে ক্ষতির উদ্দেশ্যে অননুমোদিত তথ্য সংগ্রহ, malware ঢোকানো, phishing বা ransomware mail পাঠানো | ৫ বছর বা ৫০ লক্ষ টাকা বা উভয় |
কয়েকটি কথা মাথায় রাখুন। এক, “সহায়তা” শব্দটি আছে, তাই অন্যকে এই কাজে সাহায্য করলেও প্রশ্ন আসতে পারে। দুই, ধারা ১৭-তে সফটওয়্যার ডেভেলপার আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুলস ব্যবহারকারীর কথা আলাদা করে আছে। AI দিয়ে করলে দায় কমে, এমন ভাবার কারণ নেই। তিন, কোন system গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো, তা ধারা ১৫ অনুযায়ী সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনে ঘোষণা করতে পারে। বাইরে থেকে আপনি হয়তো বুঝবেন না, আর এখানে দণ্ড বেশি। চার, যাচাইয়ের সময় ধারা ১৭ আর ১৮-এর লেখায় নিরাপত্তা গবেষকের জন্য আলাদা ছাড় আমাদের চোখে পড়েনি। তাই লিখিত অনুমতিই আপনার সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব আর জানানোর পথ
ধারা ৯(৪)-এর শর্তাংশ অনুযায়ী, কোনো সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে সাইবার ইন্সিডেন্ট ঘটলে তারা অনতিবিলম্বে এজেন্সির আওতাধীন জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমকে অবহিত করবে। তাই দায়িত্বে থাকলে নিজের প্রতিষ্ঠানের incident plan-এ এই ধাপটি রাখুন। Incident response নিয়ে বিস্তারিত পর্ব ৬১-এ।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির ওয়েবসাইটের NCERT মেনু cirt.gov.bd-তে নিয়ে যায়। সেটি BGD e-GOV CIRT-এর সাইট, যা নিজেকে জাতীয় CIRT বলে পরিচয় দেয়। সেখানে একটি Report Incident ফর্ম আছে। ফর্মটি মূলত incident জানানোর জন্য, সাইটে আলাদা vulnerability disclosure নীতি আমরা পাইনি। তবু প্রতিষ্ঠান সাড়া না দিলে এটিই সরকারি পথ। CIRT মানে এমন দল, যাঁরা নিরাপত্তা-ঘটনায় সাড়া দেন।
দুটি উপাত্ত আইন
ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ করলে আরও দুটি আইন জানা দরকার। ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (৬৩ নং) আর জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬ (৮০ নং), দুটিই গেজেটে ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের। প্রথমটির ধারা ১(৩) অনুযায়ী ধারা ২৩ আর ৩১ থেকে ৩৫ বাদে বাকি অংশ ৬ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর বলে গণ্য, আর ওই ধারাগুলো কার্যকর হবে আইন জারির ১৮ মাস পরে সরকারের গেজেট-নির্ধারিত তারিখে। দ্বিতীয়টি ৬ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর বলে গণ্য। পরীক্ষকের প্রমাণ বা log-এ মানুষের তথ্য থাকলে এই আইনগুলোও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। বিস্তারিত পর্ব ৭০-এ।
৯ · বিশ্বের আইন — সংক্ষিপ্ত নোট
ইন্টারনেটের সীমান্ত নেই, আইনের আছে। বিদেশি system পরীক্ষা করলে সেই দেশের আইনও প্রশ্নে আসতে পারে। নিচের তিনটি পরিচিত নাম, সংক্ষেপে আর সাবধানে বলা। প্রতিটির বর্তমান অবস্থা নিজে দেখে নিন।
| আইন | মূল কথা | সতর্কতা |
|---|---|---|
| US: CFAA (18 U.S.C. § 1030) | অনুমতি ছাড়া বা অনুমতির সীমা ছাড়িয়ে কম্পিউটারে প্রবেশ। ২০২১ সালের Van Buren রায় “সীমা ছাড়ানো” কথাটির অর্থ সংকুচিত করে। | ২০২২ সালের মে মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, সৎ নিরাপত্তা গবেষণার বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনা উচিত। এটি নীতি, আইন নয়; অঙ্গরাজ্যের আইন আর দেওয়ানি মামলা আলাদা। |
| UK: Computer Misuse Act ১৯৯০ | ধারা ১ অননুমোদিত প্রবেশকে অপরাধ করে। | গবেষকদের জন্য আইনি ছাড় নিয়ে আলোচনা হয়েছে; বর্তমান অবস্থা দেখে নিন। |
| Budapest Convention (২০০১) | সাইবার অপরাধের আন্তর্জাতিক চুক্তি, Council of Europe-এর। ২০০৪ সালে কার্যকর। প্রায় ৮০টি রাষ্ট্র পক্ষ। | এটি দেশগুলোর জন্য কাঠামো। কোনো ব্যক্তির ওপর সরাসরি প্রযোজ্য আইন ধরে নেবেন না। |
পরীক্ষা ও ইন্টারভিউতে:
- Penetration testing আর হামলার মূল পার্থক্য? মালিকের লিখিত অনুমতি আর নির্দিষ্ট scope.
- RoE-তে কী থাকে? Scope, সময়, পদ্ধতি, যোগাযোগ, ডেটা সামলানো।
- Coordinated disclosure কী? আগে vendor-কে জানিয়ে সমাধানের সময় দেওয়া, তারপর প্রকাশ।
- ISO/IEC 29147 আর 30111-এর পার্থক্য? প্রথমটি বাইরের লেনদেন, দ্বিতীয়টি ভেতরের প্রক্রিয়া।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান সাইবার আইন? সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬; তবে উত্তর দেওয়ার আগে বর্তমান অবস্থা দেখে নিন।
১০ · AI-এর যুগে আইন আর নৈতিকতা
আইনি প্রশ্নে AI সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী ভুল করে। এর জ্ঞান পুরোনো হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি খুব বাস্তব ঝুঁকি, কারণ অল্প কয়েক বছরে আইনের নাম একাধিকবার বদলেছে।
| AI-এর ভুল | কেন বিপজ্জনক | যাচাইয়ের উপায় |
|---|---|---|
| রহিত আইনের ধারা উদ্ধৃত করা | ভুল আইন ধরে সিদ্ধান্ত | bdlaws বা গেজেটে মূল লেখা পড়া |
| ধারা নম্বর, মামলা, CVE বা মান বানিয়ে বলা | দেখতে একদম আসল লাগে | প্রতিটি উদ্ধৃতি উৎসে মেলানো |
| “খোলা আছে, তাই বৈধ” ধরনের আশ্বাস | অনুমতির প্রশ্ন চাপা পড়ে | ছবি ৬.১-এর ফটক ধরে নিজে দেখা |
| Disclosure সময়সীমাকে আইন বলা | রীতিকে বাধ্যবাধকতা ভাবা | প্রতিষ্ঠানের ঘোষিত নীতি পড়া |
| Triage বা রিপোর্টে অতি-আত্মবিশ্বাস | ভুল দাবিতে সুনাম নষ্ট | নিজের ল্যাবে নিজে পুনরুৎপাদন |
AI-কে ফাঁক খোঁজার সহকারী হিসেবে ব্যবহার করুন, আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে নয়। আসল client-এর নাম, IP বা গোপন তথ্য prompt-এ দেবেন না। সরিয়ে বা বদলে পাঠান।
AI ব্যবহারের আগে চেকলিস্ট
ভাবনার প্রশ্ন
প্রতিটি প্রশ্ন নিয়ে আগে নিজে ভাবুন, তারপর “→ উত্তর” চাপুন। এখানে ইতিহাসের ঘটনাগুলো প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্তরে বলা, কোনো আইনি মতামত নয়।
প্র ০১“Responsible disclosure” নামটি বদলে “coordinated” করা হলো কেন? শুধু শব্দের খেলা?
ইতিহাসটি দ্বন্দ্বের। ১৯৮৮ সালে Morris worm ইন্টারনেটের বড় একটি অংশকে অচল করার পর Carnegie Mellon-এ CERT Coordination Center তৈরি হয়। তখন ধারণা ছিল, ত্রুটির খবর যাবে একটি কেন্দ্রে, সেখান থেকে vendor-এর কাছে। কিন্তু অনেক গবেষক দেখলেন, vendor মাসের পর মাস কিছু করে না। ১৯৯০-এর দশকে Bugtraq-এর মতো mailing list-এ জন্ম নিল full disclosure আন্দোলন: সব প্রকাশ করে দেওয়াই ভালো, চাপে পড়লে তবে ঠিক হবে।
Vendor-রা উল্টো বলল, এতে ব্যবহারকারীরা ঝুঁকিতে পড়ছেন। তারা “responsible disclosure” কথাটি জনপ্রিয় করল। গবেষকদের অনেকের আপত্তি ছিল শব্দটিতেই। কারণ এতে ধরে নেওয়া হয়, vendor-এর শর্ত না মানলে আপনি “দায়িত্বজ্ঞানহীন”, অথচ vendor-এর দেরিটা নিয়ে কোনো কথা নেই। ২০১০ সালে Microsoft নিজের নীতির নাম “coordinated vulnerability disclosure” রাখার কথা জানায়। এর পিছনে বার্তাটি ছিল: সমাধান দুই পক্ষের মিলিত কাজ, একপক্ষের ভালো আচরণের সনদ নয়।
আজ দুই নামই চলে, তবে আনুষ্ঠানিক লেখায় “coordinated” বেশি দেখা যায়। ISO/IEC-এর মান দুটিও vendor-কে দায়িত্ব দেয়: রিপোর্ট নেওয়ার পথ রাখা, জবাব দেওয়া, প্রকাশ করা। অর্থাৎ দায় শুধু সন্ধানকারীর নয়।
মূল উপলব্ধি: শব্দ ঠিক করে দেয় দোষ কার দিকে ঝুঁকবে। “Coordinated” বলে, নিরাপত্তা হলো সব পক্ষের যৌথ দায়িত্ব। তাই আপনার প্রতিষ্ঠানেরও একটি স্পষ্ট রিপোর্ট করার পথ থাকা চাই।
প্র ০২উদ্দেশ্য যদি সত্যিই ভালো হয়, তবু কি অনুমতিহীন পরীক্ষা অপরাধ হতে পারে?
পারে, আর ইতিহাসের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণটি একেবারে শুরুর দিকের। ১৯৮৮ সালের Morris worm-এর লেখক ছিলেন একজন স্নাতকোত্তর ছাত্র। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী তিনি ক্ষতি করতে চাননি, ইন্টারনেটের আকার বুঝতে চেয়েছিলেন। কিন্তু একটি নকশার ভুলে worm নিজেকে বারবার কপি করে বহু কম্পিউটার অচল করে দিল। তিনি আমেরিকার CFAA আইনে দণ্ডিত হন। আপিলে আলোচনা হয় যে ক্ষতির ইচ্ছা না থাকলেও অনুমতিহীন প্রবেশের ইচ্ছাই যথেষ্ট ছিল।
পরের তিন দশকে প্রশ্নটি জটিল হয়েছে। অনুমতির “সীমা ছাড়ানো” কথাটির অর্থ কতদূর? Website-এর শর্ত ভাঙাও কি অপরাধ? ২০২১ সালে Van Buren মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অর্থটি সংকুচিত করে। ২০২২ সালের মে মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, সৎ নিরাপত্তা গবেষণার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা উচিত নয়। তবে এর শর্তও আছে: গবেষণা হতে হবে এমনভাবে, যাতে কারও ক্ষতি না হয়, আর ফলাফল ব্যবহার করতে হবে নিরাপত্তা বাড়াতে। ত্রুটি দেখিয়ে মালিকের কাছ থেকে টাকা আদায়কে “সৎ গবেষণা” বলা যাবে না।
এই নীতিও শুধু সেই দেশের একটি দপ্তরের জন্য, আর সেটি আইন নয়। বাংলাদেশের আইনের ধারা ১৮(১)(ক) “ইচ্ছাকৃতভাবে” বে-আইনি প্রবেশের কথা বলে; ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটি আলাদা দফায় আসে (গ)। অর্থাৎ পড়ার সাধারণ অর্থে ক্ষতি না হলেও প্রবেশ নিজেই বিষয় হতে পারে। আদালতে কীভাবে বিচার হবে, সেটি আইনজীবীর প্রশ্ন।
মূল উপলব্ধি: ভালো উদ্দেশ্য হয়তো শাস্তি কমানোর যুক্তি হতে পারে, কিন্তু নির্দোষ হওয়ার গ্যারান্টি নয়। উদ্দেশ্য প্রমাণ করা কঠিন, অনুমতিপত্র দেখানো সহজ। তাই কাগজ আগে, কাজ পরে।
প্র ০৩লিংক তো খোলা ছিল, password লাগেনি। তাহলে সেখান থেকে তথ্য নিলে কী সমস্যা?
একটি বিখ্যাত ঘটনা ২০১০ সালের। আমেরিকার AT&T-এর iPad গ্রাহকদের একটি web পাতা URL-এর একটি পরিচয়-নম্বর পেলে গ্রাহকের email ঠিকানা দেখাত। দুজন ব্যক্তি নম্বরগুলো বদলে বদলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক লাখের বেশি ঠিকানা সংগ্রহ করেন এবং এক সংবাদমাধ্যমকে জানান। কোনো password ভাঙা হয়নি। তবু একজন বিচারে দণ্ডিত হন। ২০১৪ সালে আপিল আদালত রায়টি বাতিল করে, কিন্তু কারণটি ছিল মামলার স্থান ভুল, “খোলা তথ্য নেওয়া বৈধ” এমন ঘোষণা নয়। ফলে মূল প্রশ্নটি সেই মামলায় চূড়ান্ত উত্তর পায়নি।
এই শিক্ষাটি প্রকৌশল আর আইন, দুই দিক থেকেই দামি। প্রকৌশলের দিক: এটি broken access control, মানে অনুমতি যাচাইয়ের ত্রুটির উদাহরণ। Server ধরে নিয়েছিল, নম্বরটি কেউ অনুমান করবে না। লুকানো ঠিকানা তালা নয়। ঠিক প্রতিরক্ষা হলো প্রতিটি অনুরোধে server-এ অনুমতি যাচাই করা, যা পর্ব ৩৮-এ দেখবেন।
আইন আর নৈতিকতার দিক: একবার দেখে ফেলা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাজারো রেকর্ড সংগ্রহ করা এক জিনিস নয়। প্রথমটি দুর্ঘটনা হতে পারে। দ্বিতীয়টি একটি সিদ্ধান্ত। দরজা খোলা থাকলে ঘরে ঢোকার অধিকার জন্মায় না; মালিককে ডেকে জানানো যায়। আমাদের আইনে উপাত্ত সংগ্রহের কথাও “বে-আইনি প্রবেশ”-এর সংজ্ঞায় আছে। আর মানুষের email বা নম্বর ব্যক্তিগত তথ্য, যার সুরক্ষা আলাদা বিষয়।
মূল উপলব্ধি: “কারিগরিভাবে সম্ভব” আর “অনুমতি আছে” দুটি আলাদা প্রশ্ন। প্রথম রেকর্ড দেখেই থামুন, সংখ্যা প্রমাণের জন্য বাকিগুলো নামানোর দরকার নেই। একটি উদাহরণই রিপোর্টের জন্য যথেষ্ট।
প্র ০৪৯০ দিনের সময়সীমা কি সবসময় ঠিক? একটি ত্রুটি যদি অনেক প্রতিষ্ঠানকে একসাথে প্রভাবিত করে?
সময়সীমা একটি ভারসাম্য। খুব ছোট হলে vendor ঠিক মতো পরীক্ষা না করে তাড়াহুড়োর patch দেন, যা নিজেই নতুন সমস্যা আনতে পারে। খুব বড় হলে ত্রুটি অনেক দিন খোলা থাকে, আর অন্য কেউ নীরবে সেটি ব্যবহার করতে পারে। ঠিক এই কারণে Project Zero-র মতো দলের যুক্তি হলো, স্পষ্ট ও সবার জন্য সমান সময়সীমা vendor-কে কাজে তাড়া দেয় এবং দর-কষাকষি কমায়। সমালোচকেরা বলেন, একটি সংখ্যা সব পণ্যে খাটে না। গাড়ির firmware বা হাসপাতালের যন্ত্র ৯০ দিনে update করা ওয়েবসাইট update করার মতো সহজ নয়।
সবচেয়ে কঠিন উদাহরণ ২০১৮ সালে প্রকাশিত Spectre আর Meltdown. ত্রুটিগুলো ছিল আধুনিক CPU-র নকশায়, তাই chip নির্মাতা, operating system আর cloud সবাই জড়িত। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গবেষকেরা ২০১৭ সালের মাঝামাঝি জানান, প্রকাশ হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারির শুরুতে, পরিকল্পিত তারিখের কিছুটা আগে। মাসের পর মাসের গোপন সমন্বয়ের পরও সবাই সমানভাবে প্রস্তুত ছিলেন না, আর যাঁরা গোপন আলোচনায় ছিলেন না, তাঁরা পিছিয়ে পড়েছিলেন।
এখান থেকে বোঝা যায় multi-party CVD কেন কঠিন: কাকে জানাবেন, কখন জানাবেন, খবর আগে ফাঁস হলে কী করবেন। CERT/CC-র মতো coordinator-এর দরকার এখানেই। আর সময়সীমা আইন নয় বলে আলোচনার জায়গা থাকে। হামলা শুরু হলে সময়সীমা ছোট হয়ে যায়, কারণ তখন চুপ থাকাই ব্যবহারকারীর বেশি ক্ষতি।
মূল উপলব্ধি: সংখ্যাটি নয়, উদ্দেশ্যটি আসল: ব্যবহারকারীর মোট ঝুঁকি কমানো। ঘোষিত নীতি মানুন, পরিস্থিতি বদলালে খোলাখুলি আলোচনা করুন, আর কারণ লিখে রাখুন।
প্র ০৫Bug bounty কি ফাঁস ধামাচাপা দেওয়ার পথ হতে পারে? গোপনীয়তা আর সততার সীমা কোথায়?
Bug bounty-র ধারণা পুরোনো। সাধারণত ১৯৯৫ সালের Netscape-এর প্রোগ্রামকে শুরুর দিকের উদাহরণ ধরা হয়। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর “Hack the Pentagon” চালায়, যা দেখায় সরকারও এই পথে আসতে পারে। ভালোভাবে চালালে এটি অনেক চোখকে নিয়মের ভেতরে এনে কাজে লাগায়।
উল্টো দিকের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা Uber-এর ২০১৬ সালের ডেটা ফাঁস। মার্কিন আদালতের নথি আর সংবাদ অনুযায়ী, বাইরের ব্যক্তিরা বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী ও চালকের তথ্য নিয়ে টাকা চান। কোম্পানির নিরাপত্তা দলের তৎকালীন প্রধানের অধীনে তাদের অর্থ দেওয়া হয় আর ঘটনাটিকে bug bounty হিসেবে দেখিয়ে গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করানো হয়। ঘটনাটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানানো হয়নি, যদিও তখন একটি তদন্ত চলছিল। ২০২২ সালে সেই কর্মকর্তা বিচারে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। পেশার জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা ছিল।
শিক্ষাটি কয়েক স্তরে। এক, নাম বদলালে কাজ বদলায় না। তথ্য নিয়ে টাকা চাওয়া bug bounty নয়, আর সেটিকে bug bounty বললে ঘটনা মুছে যায় না। দুই, NDA ব্যবসার গোপন তথ্য রক্ষা করে, আইনের দায় ঢাকে না। ACM-এর গোপনীয়তার নীতিতেও আইন ভঙ্গের প্রমাণের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের কথা আছে। তিন, ব্যক্তি হিসেবে আপনিও জবাবদিহির বাইরে নন। আপনার প্রতিষ্ঠানে কেউ ঘটনা লুকাতে বললে আগে লিখিতভাবে প্রশ্ন করুন, আইন বিভাগকে জড়ান, দরকারে স্বাধীন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। বাংলাদেশে ধারা ৯(৪)-এর জানানোর বিধানটিও এখানে প্রাসঙ্গিক।
মূল উপলব্ধি: গোপনীয়তা client-এর প্রতি দায়িত্ব, অপরাধ ঢাকার হাতিয়ার নয়। যে ঘটনা মানুষের ক্ষতি করেছে, সেটি লুকানো নিরাপত্তা নয়।
অনুশীলন
কোনো আসল system-এ কিছু করতে হবে না। সব কাজ কাগজে, এই পাতায় বা নিজের যন্ত্রে।
-
তারিখের হিসাব (numerical): ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি ত্রুটি জানানো হলো। হিসাব করুন: (ক) ৪৫ দিনের নিয়মে প্রকাশের তারিখ। (খ) ৯০+৩০ নিয়মে, fix ৬০তম দিনে এলে বিস্তারিত প্রকাশের দিন ও তারিখ। (গ) সক্রিয় হামলা ধরা পড়লে ৭ দিনের নিয়মে তারিখ। এরপর
disclosure_clock.jsকোডে মিলিয়ে দেখুন।মার্চের বাকি ২৯ দিন + এপ্রিলের ১৬ দিন = ৪৫, তাই (ক) ১৬ এপ্রিল ২০২৬. (খ) ৬০ + ৩০ = দিন ৯০. মার্চে ২৯, এপ্রিলে ৩০, মে-তে ৩১ মিলে ৯০, তাই ৩১ মে ২০২৬. (গ) ২ + ৭ = ৯ মার্চ ২০২৬. কোডের আউটপুটে
2026-04-16,2026-05-31আর2026-03-09এই তিনটিই আছে। মনে রাখবেন, এগুলো রীতির হিসাব, আইনের সময়সীমা নয়। -
একটি দুর্বল অনুমতির সমালোচনা (design/critique): একজন পরিচিত WhatsApp-এ লিখলেন: “ভাই, আমাদের অফিসের সিস্টেমটা একটু হ্যাক করে দেখেন তো, আমি বলে দিলাম।” এই বার্তার ফাঁকগুলো লিখুন, তারপর কাজ শুরুর আগে আপনি যে উত্তর দেবেন সেটি লিখুন।
ফাঁক: প্রেরকের পদ অজানা, তিনি system-এর দায়িত্বে কি না জানা নেই। “সিস্টেম” কোনটি, স্পষ্ট নয়। সময় নেই, পদ্ধতি নেই, ডেটার নিয়ম নেই, জরুরি যোগাযোগ নেই। সিস্টেমটি অন্য vendor-এর হতে পারে।
একটি উত্তর: “কাজটি করতে পারব, তবে আগে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ লিখিত অনুমতি লাগবে। সেখানে থাকবে কোন system, কোন সময়, কোন পদ্ধতি নিষিদ্ধ, ডেটা কীভাবে সামলাব, আর জরুরি যোগাযোগ। এটি না পাওয়া পর্যন্ত আমি কিছু শুরু করব না।” ভদ্র, পরিষ্কার, আর আপনাকে নিরাপদ রাখে।
-
ফল অনুমান করুন (predict the output):
scope_match.js-এincludeবদলে হলো['*.example.com'],excludeহলো['mail.example.com']. কোড না চালিয়ে বলুন, ওই ছয়টি host-এর প্রতিটির ফল আর শেষ লাইন কী হবে। তারপর চালিয়ে মিলিয়ে নিন।mail.example.comপাবেOUT (excluded), কারণ বাদ তালিকা আগে দেখা হয়। বাকি পাঁচটিexample.comদিয়ে শেষ হয়, আর কোনোটিই খালিexample.comনয়, তাই সবাইIN.pay.staging.example.com-ও এখনIN, কারণ বাদ তালিকায় সে নেই। শেষ লাইন:in scope: 5 of 6. শিক্ষা: একটি বড় wildcard scope খুব সহজে তৃতীয় পক্ষের system-কেও ধরে ফেলে, তাই প্রতিষ্ঠানের উচিত বাদ তালিকা যত্ন করে লেখা। -
নিজের প্রতিষ্ঠানের পথ তৈরি করুন: কাল্পনিক
example.com-এর জন্য একটিsecurity.txtফাইল লিখুন। তারপর দুই লাইনে লিখুন, রিপোর্ট পেলে আপনার দল প্রথম ৩ দিনে কী করবে।উদাহরণ (ফাইলটি থাকবে
/.well-known/security.txt-এ):Contact: mailto:security@example.com Expires: 2027-10-31T00:00:00Z Policy: https://example.com/security-policy Preferred-Languages: bn, enContactআরExpiresRFC 9116-এ আবশ্যিক। প্রথম ৩ দিনের কাজ: রিপোর্ট পাওয়ার স্বীকৃতি পাঠানো, একজন দায়িত্বশীল মানুষ ঠিক করা, আর ত্রুটিটি নিজেদের পরীক্ষার পরিবেশে যাচাই শুরু করা। Expires-এর তারিখ পার হলে ফাইলটি পুরোনো বলে ধরা হয়, তাই নিয়মিত হালনাগাদ করুন।
নিজেকে যাচাই করুন
ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা পাবেন, আবার চেষ্টাও করতে পারবেন।
ক্রমCoordinated vulnerability disclosure-এর ধাপগুলো সঠিক ক্রমে সাজান (▲▼ চেপে সরান)
- ত্রুটি পাওয়া আর নিজের পরিবেশে যাচাই
- Vendor-এর নির্ধারিত গোপন পথে রিপোর্ট
- Vendor-এর প্রাপ্তি স্বীকার আর নিশ্চিতকরণ
- Fix তৈরি, patch আর advisory প্রকাশ
- ব্যবহারকারীদের সময় দিয়ে কারিগরি বিবরণ প্রকাশ
নিরাপত্তা পরীক্ষা আর অনধিকার প্রবেশের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
- ব্যবহৃত tool
- কাজের উদ্দেশ্য ভালো কি না
- মালিকের লিখিত অনুমতি আর নির্দিষ্ট scope
- কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না
একটি অনুমতিপত্রে shop.example.com আছে, আর লেখা “তালিকার বাইরের সব কিছু scope-এর বাইরে”। পরীক্ষক api.shop.example.com দেখতে চান। সঠিক কাজ কোনটি?
- নামে মিল আছে, তাই পরীক্ষা শুরু করা
- পরীক্ষা না করে লিখিতভাবে scope বাড়ানোর অনুরোধ করা
- ধীরে আর অল্প করে পরীক্ষা করা
- পরিচিত কোনো কর্মীকে ফোনে জিজ্ঞেস করে শুরু করা
একটি website-এ হঠাৎ অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য চোখে পড়ল। সবচেয়ে ভালো প্রথম কাজ কোনটি?
- প্রমাণের জন্য পুরো ফাইল ডাউনলোড করা
- সচেতনতার জন্য social media-য় পোস্ট করা
- প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দাবি করা
- থেমে গিয়ে অল্প নোট রেখে সঠিক পথে প্রতিষ্ঠানকে জানানো
ISO/IEC 30111 আর ISO/IEC 29147-এর সম্পর্ক কোনটি সবচেয়ে ঠিক?
- 30111 vendor-এর ভেতরের প্রক্রিয়া, 29147 বাইরের সাথে লেনদেন
- দুটিই দণ্ডের বিধানসহ আন্তর্জাতিক আইন
- দুটিই penetration test-এর অনুমতিপত্রের নমুনা
- দুটিই encryption-এর মান
কোনো দল বলল “আমরা রিপোর্টের ৯০ দিন পরে প্রকাশ করি।” এই সংখ্যাটি কী?
- আন্তর্জাতিক আইনে বাধ্যতামূলক সময়
- ওই দলের ঘোষিত নীতি বা পেশাগত রীতি
- ISO/IEC 29147-এর বাধ্যতামূলক সময়
- কারাদণ্ডের মেয়াদ গণনার নিয়ম
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(১)(ফ) অনুযায়ী “বে-আইনি প্রবেশ”-এর সংজ্ঞায় কোনটি আছে? (১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের গেজেট অনুযায়ী)
- শুধু ১০ লক্ষ টাকার বেশি ক্ষতি হলে
- শুধু সরকারি system-এ প্রবেশ
- অনুমতি ছাড়া অথবা অনুমতির শর্ত লঙ্ঘন করে প্রবেশ
- শুধু password ভেঙে প্রবেশ
শব্দকোষ
লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন, অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব নতুন শব্দ এখানে একসাথে:
মনে রাখুন
- অনুমতিই সীমারেখা: নিজের system, অথবা মালিকের লিখিত অনুমতি। উদ্দেশ্য বিকল্প নয়।
- অনুমতিপত্রে থাকে কে, কী, কখন, কীভাবে, ডেটা, যোগাযোগ। তালিকায় না থাকলে scope-এর বাইরে।
- হঠাৎ ত্রুটি পেলে থামুন, অল্প নোট রাখুন, সঠিক পথে জানান। অন্যের ডেটায় হাত নয়, টাকা দাবি নয়।
- CVD: আগে যিনি ঠিক করতে পারেন, পরে সবাই। ৪৫ বা ৯০ দিন রীতি, আইন নয়। Safe harbor শর্তসাপেক্ষ।
- বাংলাদেশে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত যাচাই অনুযায়ী সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ প্রধান আইন। আইন বদলায়, মূল লেখা দেখুন। এই পর্ব আইনি পরামর্শ নয়।
আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ
- পর্ব ০৭ · Cryptography-র ভিত্তি — গোপনীয়তা, অখণ্ডতা, পরিচয় আর Kerckhoffs-এর নীতিপরবর্তী পর্বমডিউল ২-এর শুরু।
- সাইবার নিরাপত্তা · কোর্স হোম৮০টি পর্বপুরো কোর্সের রোডম্যাপ।
- পর্ব ০৫ · হামলার মানচিত্রআগের পর্বরক্ষকের চোখে হামলার ধাপ।
- Incident managementপাশের ট্র্যাকঘটনার সময় দল কীভাবে কাজ করে।
- Cloud governanceপাশের ট্র্যাকনীতি আর জবাবদিহি cloud-এ।
- সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (bdlaws)সরকারি উৎস৮১ নং আইন, আইন মন্ত্রণালয়ের সাইটে।
- সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (bdlaws)সরকারি উৎস৯৯ নং আইনের PDF.
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (bdlaws)সরকারি উৎস৩৯ নং আইন।
- সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ (bdlaws)রহিতইতিহাসের জন্য।
- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ (bdlaws)রহিতইতিহাসের জন্য।
- ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (bdlaws)সরকারি উৎস৬৩ নং আইন।
- ICT বিভাগের আইনের তালিকাসরকারি উৎসজাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬ সহ।
- The CERT Guide to Coordinated Vulnerability Disclosureনির্দেশিকাবিনামূল্যে পড়া যায়।