এই পর্বে যা করবেন
- সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপক পড়ে বুঝে নেওয়া — প্রশ্নটি কোন অধ্যায়ের কোন ধারণা চাইছে
- ক (জ্ঞান), খ (অনুধাবন), গ (প্রয়োগ) আর ঘ (উচ্চতর দক্ষতা) — চার অংশের উত্তর ঠিক মাপে লেখা
- সংখ্যা রূপান্তর, লজিক সার্কিট, টপোলজি, HTML, C প্রোগ্রাম আর ডেটাবেসের প্রশ্ন ধাপ দেখিয়ে সমাধান করা
- MCQ-তে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি, মূল শব্দ খোঁজা আর বহুপদী প্রশ্নের (i, ii, iii) কৌশল
- নিজের হাতে রিভিশন পরিকল্পনা বানানো, আর AI-কে প্রশ্ন বানানোর সঙ্গী হিসেবে সৎভাবে ব্যবহার করা
১ · পরীক্ষা কীভাবে হয় — সৃজনশীল, MCQ আর ব্যবহারিক
পর্ব ১ থেকে ৫০ পর্যন্ত আপনি কম্পিউটারের ভেতর-বাইর, নেটওয়ার্ক, ওয়েব, প্রোগ্রামিং আর ডেটাবেস শিখেছেন। এবার সেই জ্ঞানকে পরীক্ষার খাতায় নম্বরে বদলানোর পালা। জানা আর খাতায় লিখে দেখাতে পারা এক জিনিস নয় — ঠিক যেমন ভালো রান্না জানলেও নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট থালায় পরিবেশন করতে অভ্যাস লাগে।
বাংলাদেশের মাধ্যমিক (SSC) আর উচ্চমাধ্যমিক (HSC) স্তরে ICT (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) পরীক্ষায় সাধারণত তিন ধরনের অংশ থাকে। নম্বর-বণ্টন, প্রশ্নের সংখ্যা আর সময় শিক্ষাক্রম ও বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী বদলাতে পারে — আগের কয়েক বছরেও বদলেছে। তাই নিচের বর্ণনাটি কাঠামো বোঝার জন্য; আপনার ব্যাচের সঠিক নম্বর আর সিলেবাস অবশ্যই শিক্ষা বোর্ড বা NCTB-র সর্বশেষ নির্দেশনা আর নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে মিলিয়ে নিন।
✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন
একটি ছোট উদ্দীপক (গল্প, টেবিল, চিত্র, কোড বা সার্কিট) দেওয়া থাকে, তার নিচে ক, খ, গ, ঘ — চারটি প্রশ্ন। প্রচলিত কাঠামোয় নম্বর ১ + ২ + ৩ + ৪ = ১০. HSC ICT-তে এটিই লিখিত অংশের মূল ধরন।
creative question🔘 বহুনির্বাচনি (MCQ)
চারটি বিকল্প থেকে একটি বেছে OMR শিট-এ বৃত্ত ভরাট। তিন রূপে আসে: সাধারণ, বহুপদী সমাপ্তিসূচক (i, ii, iii) আর অভিন্ন তথ্যভিত্তিক (একটি উদ্দীপক, তার নিচে দুটি প্রশ্ন)।
MCQ · OMR🖥️ ব্যবহারিক
কম্পিউটারে হাতে-কলমে কাজ — সংখ্যা রূপান্তর বা গেট যাচাই, HTML পাতা, C প্রোগ্রাম, ডেটাবেস টেবিল, অফিস সফটওয়্যার — সাথে ব্যবহারিক খাতা আর মৌখিক প্রশ্ন। বিস্তারিত পর্ব ৫৫-এ।
practicalসৃজনশীল প্রশ্নের চার স্তর — প্রশ্নকর্তা আসলে কী মাপছেন
সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি হয় চিন্তার চারটি ধাপ মেনে, ছোট থেকে বড়। শিক্ষাবিজ্ঞানে এই ধরনের ধাপ-ভাগের মূল উৎস Benjamin Bloom-এর নেতৃত্বে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত শিক্ষার উদ্দেশ্যের শ্রেণিবিভাগ (Bloom's taxonomy); বাংলাদেশের সৃজনশীল পদ্ধতি তারই একটি সরল রূপ ব্যবহার করে।
| অংশ | স্তর | প্রচলিত নম্বর | প্রশ্নের ধরন | উত্তরের মাপ |
|---|---|---|---|---|
| ক | জ্ঞান | ১ | “… কী?”, “… কাকে বলে?” | ১–২ লাইনের সংজ্ঞা |
| খ | অনুধাবন | ২ | “… ব্যাখ্যা করো”, “কেন …?” | সংজ্ঞা + কারণ + একটি উদাহরণ, ৪–৬ লাইন |
| গ | প্রয়োগ | ৩ | “উদ্দীপকের … নির্ণয় করো”, “… প্রোগ্রাম লেখো” | উদ্দীপকের তথ্য দিয়ে হিসাব বা কোড, প্রতিটি ধাপ দেখিয়ে |
| ঘ | উচ্চতর দক্ষতা | ৪ | “বিশ্লেষণ করো”, “মূল্যায়ন করো”, “কোনটি উপযোগী — মতামত দাও” | তুলনা, যুক্তি, প্রমাণ (হিসাব/টেবিল) আর স্পষ্ট সিদ্ধান্ত |
লক্ষ করুন: ক আর খ প্রায়ই উদ্দীপক ছাড়াই উত্তর দেওয়া যায় — এগুলো বইয়ের ধারণা যাচাই করে। কিন্তু গ আর ঘ উদ্দীপকের সাথে বাঁধা। উদ্দীপকের সংখ্যা, নাম বা কোড ব্যবহার না করে সাধারণ উত্তর লিখলে পুরো নম্বর পাওয়া কঠিন। বোর্ডের প্রশ্নপত্রে ক্রিয়াপদ সাধারণত “করো/লেখো” রূপে থাকে; এই পাতায় প্রশ্নগুলো আমরা “করুন/লিখুন” রূপে লিখেছি — অর্থ একই।
MCQ-র তিন রূপ
- সাধারণ বহুনির্বাচনি: একটি প্রশ্ন, চারটি বিকল্প, একটি সঠিক। যেমন: “কোনটি universal gate?”
- বহুপদী সমাপ্তিসূচক: তিনটি বাক্য (i, ii, iii) দিয়ে প্রশ্ন, বিকল্পগুলো “i ও ii”, “i ও iii”, “ii ও iii”, “i, ii ও iii”. প্রতিটি বাক্য আলাদা করে সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে হয়।
- অভিন্ন তথ্যভিত্তিক: একটি ছোট উদ্দীপক (যেমন একটি সার্কিট বা কোড), তার নিচে পরপর দুটি প্রশ্ন। ছোট সৃজনশীলের মতো — উদ্দীপক একবার ভালো করে পড়লে দুটিই সহজ হয়।
SSC আর HSC-র পার্থক্য: HSC ICT-তে সৃজনশীল প্রশ্ন লিখিত অংশের কেন্দ্রে। SSC-তে ICT-র মূল্যায়ন কাঠামো শিক্ষাক্রম বদলের সাথে কয়েকবার বদলেছে — কোনো ব্যাচে মূলত MCQ আর ব্যবহারিক, কোনো কাঠামোয় ভিন্ন ধরনের মূল্যায়ন। তাই SSC শিক্ষার্থীরা নিজের ব্যাচের নিয়ম জেনে নিন। তবে এই পাতার কৌশল দুই স্তরেই কাজে লাগবে: সৃজনশীলের ক-খ অংশ আসলে বোঝার প্রশ্ন, আর MCQ-র অভিন্ন তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন ছোট সৃজনশীলেরই রূপ।
খাতা দেখার সময় পরীক্ষক কী খোঁজেন
🎯 প্রশ্নের সাথে মিল
যা চাওয়া হয়েছে ঠিক সেটি। “ব্যাখ্যা করুন”-এ শুধু সংজ্ঞা দিলে, বা “নির্ণয় করুন”-এ শুধু উত্তর লিখলে নম্বর কাটে।
🧮 ধাপ দেখানো
গ-অংশে চূড়ান্ত উত্তর ভুল হলেও সঠিক পদ্ধতি আর ধাপের জন্য সাধারণত আংশিক নম্বর থাকে। ধাপ না দেখালে সেই সুযোগ হারান।
📐 পরিষ্কার উপস্থাপন
টেবিল, চিত্র, শিরোনাম আর দাগ টেনে আলাদা করা উত্তর। ঘ-অংশে শেষে আলাদা লাইনে “সিদ্ধান্ত”.
২ · অধ্যায়ের মানচিত্র — কোন অধ্যায় এই কোর্সের কোন পর্বে
HSC ICT পাঠ্যবইয়ের ছয়টি অধ্যায়ের বিষয় এই কোর্সে ছড়িয়ে আছে। নিচের টেবিলটি রিভিশনের মানচিত্র: যে অধ্যায় দুর্বল, তার পাশের পর্বগুলো আবার পড়ুন। অধ্যায়ের নাম পাঠ্যবইয়ের সংস্করণভেদে সামান্য আলাদা হতে পারে; বিষয়বস্তু মিলিয়ে নিন।
| HSC অধ্যায় | মূল বিষয় | এই কোর্সের পর্ব |
|---|---|---|
| ১ · তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত | বিশ্বগ্রাম, কর্মসংস্থান ও আউটসোর্সিং, ই-কমার্স, VR, AI, রোবটিক্স, ক্রায়োসার্জারি, বায়োমেট্রিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ন্যানোটেকনোলজি, নৈতিকতা | ১৫, ৪৫, ৪৬; সহায়ক ৪৭, ৪৮, ৪৩ |
| ২ · কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং | ডেটা কমিউনিকেশন, গতি, transmission পদ্ধতি ও মোড, মাধ্যম, ওয়্যারলেস, মোবাইল প্রজন্ম, নেটওয়ার্ক, টপোলজি, ডিভাইস, ক্লাউড | ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫ |
| ৩ · সংখ্যা পদ্ধতি ও ডিজিটাল ডিভাইস | সংখ্যা পদ্ধতি ও রূপান্তর, বাইনারি গণিত, 2's complement, কোড, বুলিয়ান অ্যালজেব্রা, লজিক গেট, অ্যাডার, এনকোডার-ডিকোডার, ফ্লিপ-ফ্লপ, রেজিস্টার, কাউন্টার | ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২ |
| ৪ · ওয়েব ডিজাইন পরিচিতি এবং HTML | ওয়েবসাইট, ওয়েব পেজ, স্ট্রাকচার, HTML ট্যাগ, লিংক, ছবি, টেবিল, ফর্ম, হোস্টিং | ৩৬, ৩৭; সহায়ক ৩৪ |
| ৫ · প্রোগ্রামিং ভাষা | ভাষার প্রজন্ম, অনুবাদক, অ্যালগরিদম, ফ্লোচার্ট, C-র ডেটা টাইপ, অপারেটর, শর্ত, লুপ, অ্যারে, ফাংশন | ৩৮, ৩৯, ৪০ |
| ৬ · ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম | DBMS, টেবিল, field-record, key, relation, sorting-indexing, SQL, ডেটা নিরাপত্তা | ৪১, ৪২ |
SSC ICT-র বিষয়গুলো কোথায়
মাধ্যমিকের ICT বইয়ের অধ্যায়ের নাম ও ক্রম সংস্করণভেদে আলাদা, তাই এখানে বিষয় ধরে সাজানো হলো। মোটা দাগে SSC-তে যা পড়ানো হয়, আর এই কোর্সে তা যেখানে আছে:
| SSC-র বিষয়-ক্ষেত্র | এই কোর্সের পর্ব |
|---|---|
| ICT ও বাংলাদেশ — ই-সেবা, ই-লার্নিং, ই-কমার্স, কর্মসংস্থান | ১৫, ৪৮ |
| কম্পিউটারের পরিচয়, ইতিহাস, হার্ডওয়্যার, মেমরি, সফটওয়্যার | ১–৫ |
| কম্পিউটার ও ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা — ভাইরাস, পাসওয়ার্ড, স্বাস্থ্যঝুঁকি, রক্ষণাবেক্ষণ | ৮, ৪৩, ৪৫ |
| অপারেটিং সিস্টেম আর ফাইল ব্যবস্থাপনা, বাংলা লেখা | ৬, ৭ |
| ইন্টারনেট, ইমেইল, নেটওয়ার্কের প্রাথমিক ধারণা | ১৩, ১৪, ৩২ |
| লেখালেখি আর হিসাব — ওয়ার্ড প্রসেসর, স্প্রেডশিট, প্রেজেন্টেশন | ৯, ১০, ১১, ১২ |
| মাল্টিমিডিয়া, ছবি ও শব্দ | ২৮ |
| ডেটাবেসের প্রাথমিক ধারণা | ৪১ |
অধ্যায় ১, ২ আর ৬-এর সৃজনশীল সাধারণত পরিস্থিতিভিত্তিক — একটি অফিস, হাসপাতাল বা স্কুলের গল্প, তার পেছনের প্রযুক্তি চিনে ব্যাখ্যা করতে হয়। অধ্যায় ৩, ৪ আর ৫-এর সৃজনশীল হিসাব বা কোডভিত্তিক — রূপান্তর, সার্কিট, HTML বা C প্রোগ্রাম লিখতে হয়। প্রথম দলে নম্বর আসে স্পষ্ট যুক্তি থেকে; দ্বিতীয় দলে নির্ভুল ধাপ থেকে। দ্বিতীয় দলে অনুশীলন করলে পুরো নম্বর পাওয়া তুলনামূলক সহজ — তাই এগুলোকে দুর্বল রাখবেন না।
৩ · ক, খ, গ, ঘ — প্রতিটি অংশের উত্তর কীভাবে লিখবেন
ক — জ্ঞানমূলক (১ নম্বর): এক–দুই লাইনের নির্ভুল সংজ্ঞা
ক-অংশে লম্বা লিখে কোনো বাড়তি নম্বর নেই। দরকার নির্ভুল, পূর্ণ একটি বাক্য — মূল শব্দগুলোসহ। উদাহরণ:
প্রশ্ন: ইউনিভার্সাল গেট কী?
দুর্বল: যে গেট দিয়ে সব করা যায়।
ভালো : যে গেট দিয়ে AND, OR ও NOT — এই মৌলিক গেটগুলোসহ যেকোনো
লজিক সার্কিট তৈরি করা যায়, তাকে ইউনিভার্সাল গেট বলে;
যেমন NAND ও NOR গেট।“ভালো” উত্তরে তিনটি জিনিস আছে: কী করা যায় (যেকোনো সার্কিট), কী দিয়ে প্রমাণ (মৌলিক গেট তৈরি) আর উদাহরণ (NAND, NOR গেট)। এক লাইনে এর বেশি লাগে না।
খ — অনুধাবনমূলক (২ নম্বর): সংজ্ঞা + কারণ + উদাহরণ
খ-অংশ সাধারণত একটি বাক্য দিয়ে আসে — “1 + 1 = 1 ব্যাখ্যা করুন”, “HTML-কে প্রোগ্রামিং ভাষা বলা যায় না কেন?”. প্রথম লাইনে বিষয়টি কী, পরের দুই–তিন লাইনে কেন এমন, আর শেষে একটি ছোট উদাহরণ। নিয়ম: বাক্যটিকে প্রমাণ করুন, শুধু পুনরাবৃত্তি নয়।
প্রশ্ন: "বুলিয়ান অ্যালজেব্রায় 1 + 1 = 1" — ব্যাখ্যা করুন। উত্তর: বুলিয়ান অ্যালজেব্রায় চলক কেবল দুটি মান নিতে পারে — 0 (মিথ্যা) আর 1 (সত্য)। এখানে "+" চিহ্ন গাণিতিক যোগ নয়, যৌক্তিক OR অপারেশন। OR-এর নিয়মে অন্তত একটি ইনপুট 1 হলেই ফল 1. তাই 1 + 1 মানে "সত্য অথবা সত্য" = সত্য = 1. উদাহরণ: দুটি সুইচ সমান্তরালে লাগানো বাতিতে দুটি সুইচই অন থাকলে বাতি জ্বলে (1) — "দুইবার জ্বলা" বলে কিছু নেই। বাইনারি যোগে অবশ্য 1 + 1 = 10, কারণ সেটি সংখ্যার যোগ।
গ — প্রয়োগমূলক (৩ নম্বর): উদ্দীপকের তথ্য দিয়ে ধাপে ধাপে
গ-অংশে প্রায় সবসময় উদ্দীপকের কোনো সংখ্যা, সার্কিট বা কোড নিয়ে কাজ করতে হয়। চারটি নিয়ম মানুন:
- উদ্দীপক থেকে তথ্য তুলে লিখুন: “উদ্দীপকে A = (45)10” — পরীক্ষক যেন বোঝেন আপনি কোন তথ্য ব্যবহার করছেন।
- প্রতিটি ধাপ আলাদা লাইনে: ভাগের টেবিল, গুণের সারি, truth table-এর প্রতিটি সারি।
- ভিত্তি (base) লিখুন: (101101)2, (2D)16 — ভিত্তি ছাড়া সংখ্যা অসম্পূর্ণ।
- শেষে উত্তর বক্স করুন বা দাগ দিন, আর সম্ভব হলে উল্টো দিকে রূপান্তর করে এক লাইনে যাচাই দেখান।
ঘ — উচ্চতর দক্ষতা (৪ নম্বর): বিশ্লেষণ, তুলনা, যুক্তি, সিদ্ধান্ত
ঘ-অংশেই সবচেয়ে বেশি নম্বর হারায়, কারণ অনেকে এখানে বইয়ের মুখস্থ অনুচ্ছেদ লিখে দেন। ঘ-অংশ চায় উদ্দীপকের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আপনার যুক্তিপূর্ণ মত। “কোনটি বেশি উপযোগী — বিশ্লেষণ করুন” প্রশ্নে দুটি বিকল্পের সুবিধা-অসুবিধা উদ্দীপকের সাথে মিলিয়ে, সম্ভব হলে হিসাব বা টেবিল দিয়ে, শেষে স্পষ্ট একটি সিদ্ধান্ত। নিচের ধাপগুলোতে একটি ঘ-অংশ কীভাবে গড়ে ওঠে দেখুন:
- নির্দেশক শব্দকী চাওয়া হয়েছে
- উদ্দীপকের তথ্যশর্তগুলো তুলুন
- প্রমাণহিসাব/টেবিল
- তুলনাদুই পক্ষ
- সিদ্ধান্তএক কথায়
প্রশ্ন: "ল্যাবের জন্য স্টার না মেশ — কোনটি বেশি উপযোগী? বিশ্লেষণ করুন।" নির্দেশক শব্দ: "বেশি উপযোগী", "বিশ্লেষণ" → দুটির তুলনা লাগবে, আর শেষে একটি বেছে নিতে হবে। (এই অংশ খাতায় লিখতে হয় না — মনে মনে ঠিক করুন।)
উদ্দীপক অনুযায়ী ল্যাবে ২০টি কম্পিউটার, বাজেট সীমিত, আর ভবিষ্যতে আরও কম্পিউটার যোগ হবে। তিনটি শর্ত: সংখ্যা (২০), খরচ (সীমিত), সম্প্রসারণ (হবে)।
… (শর্তগুলো) …
স্টার: প্রতিটি কম্পিউটার থেকে সুইচে ১টি তার → ২০টি সংযোগ।
মেশ : n(n−1)/2 = 20 × 19 / 2 = 190টি সংযোগ,
প্রতিটি কম্পিউটারে 19টি পোর্ট লাগবে।
… (শর্ত, হিসাব) …
মেশের সুবিধা: একটি তার কাটলেও বিকল্প পথ থাকে।
কিন্তু ১৯০টি তার আর পোর্টের খরচ সীমিত বাজেটে অসম্ভব,
নতুন কম্পিউটার যোগ করলে সবার সাথে নতুন তার লাগবে।
স্টারে নতুন কম্পিউটার মানে সুইচে মাত্র ১টি তার; একটি
কম্পিউটার নষ্ট হলে বাকিরা চলে। দুর্বলতা: সুইচ নষ্ট হলে
পুরো ল্যাব বন্ধ — তবে একটি অতিরিক্ত সুইচ রাখা সস্তা।
… (শর্ত, হিসাব, তুলনা) …
সিদ্ধান্ত: উদ্দীপকের ল্যাবের জন্য স্টার টপোলজি বেশি উপযোগী,
কারণ এটি সস্তা, সহজে সম্প্রসারণযোগ্য আর একটি কম্পিউটারের
ত্রুটিতে পুরো নেটওয়ার্ক থামে না।
- নির্দেশক শব্দ খুঁজুন। “বিশ্লেষণ”, “মূল্যায়ন”, “বেশি উপযোগী”, “যৌক্তিকতা” — এই শব্দগুলো বলে দেয় আপনাকে তুলনা করে রায় দিতে হবে। শুধু দুটি টপোলজির বর্ণনা লিখলে প্রশ্নের উত্তর হয় না।
- উদ্দীপকের শর্ত তুলুন। প্রথম অনুচ্ছেদে এক–দুই বাক্যে উদ্দীপকের তথ্য লিখুন। এতে পরীক্ষক দেখেন, আপনার যুক্তি এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য।
- প্রমাণ দিন। যেখানে সম্ভব হিসাব — এখানে মেশের সংযোগ-সূত্র n(n−1)/2. সংখ্যা দিয়ে দেখানো যুক্তি “মেশ ব্যয়বহুল” বলার চেয়ে অনেক বেশি জোরালো।
- দুই পক্ষই দেখান। যেটি বাদ দেবেন তারও সুবিধা স্বীকার করুন, আর যেটি নেবেন তার দুর্বলতা ও সমাধান বলুন। এটিই “উচ্চতর দক্ষতা”.
- সিদ্ধান্ত আলাদা লাইনে। “সিদ্ধান্ত:” লিখে এক–দুই বাক্যে রায় আর মূল কারণ। প্রশ্নে “মতামত দিন” থাকলে এটিই আপনার মতামত। পুরো উত্তর মোটামুটি ১০–১৪ লাইন।
মোট সময়কে লিখিত অংশের মোট নম্বর দিয়ে ভাগ করলে পাবেন প্রতি নম্বরে কত মিনিট। যেমন, কোনো পরীক্ষায় লিখিত অংশে ৫০ নম্বরের জন্য প্রায় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থাকলে প্রতি নম্বরে প্রায় ৩ মিনিট — ১০ নম্বরের একটি সৃজনশীলে প্রায় ২৫–২৮ মিনিট, শেষে ১০ মিনিট রিভিশনের জন্য রেখে। ক-তে ২ মিনিট, খ-তে ৫, গ-তে ৮, ঘ-তে ১০–১২. আপনার পরীক্ষার আসল সময় আর নম্বর দিয়ে নিজে হিসাবটি করুন।
প্রশ্ন বাছাই
সাধারণত অনেকগুলো সৃজনশীল থেকে কয়েকটির উত্তর দিতে হয়। প্রশ্নপত্র পেয়ে প্রথম ৫ মিনিট সব প্রশ্নের গ আর ঘ পড়ুন — ক আর খ প্রায় সবাই পারে, পার্থক্য গড়ে গ-ঘ। যে প্রশ্নের গ-ঘ নিশ্চিতভাবে পারবেন, সেগুলো আগে নিন। হিসাব-ভিত্তিক প্রশ্ন (রূপান্তর, সার্কিট, C) ঠিকভাবে করলে পুরো নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি; বর্ণনামূলক প্রশ্নে পরীক্ষকভেদে নম্বর কমবেশি হতে পারে।
৪ · মডেল সৃজনশীল — অধ্যায় ১ ও ২ (বিশ্ব-বাংলাদেশ প্রেক্ষিত, যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক)
রিভিশনের জন্য: পর্ব ১৫, পর্ব ৪৫, পর্ব ৪৬, পর্ব ৩০, পর্ব ৩১, পর্ব ৩২.
প্রতিটি প্রশ্নে আগে উদ্দীপক পড়ুন, খাতায় চার অংশের উত্তর লিখুন — ঘড়ি ধরে ২৫ মিনিটে। তারপর “মডেল উত্তর” খুলে মেলান। মডেল উত্তর পরীক্ষার খাতার মাপে লেখা; এর চেয়ে অনেক বেশি লেখার দরকার নেই।
উদ্দীপক: কুড়িগ্রামের একটি গ্রামে থাকে সুমাইয়া। তার বাবার হৃদ্রোগের লক্ষণ দেখা দিলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ভিডিও কলের মাধ্যমে ঢাকার একজন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন, আর ECG রিপোর্ট সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেন। সুমাইয়ার বড় ভাই রাশেদ ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করে আয় করেন। কাজের জন্য তিনি একটি দামি ডিজাইন সফটওয়্যারের লাইসেন্স না কিনে একটি ওয়েবসাইট থেকে “crack” করা সংস্করণ নামিয়ে ব্যবহার করেন।
ক. বিশ্বগ্রাম কী?
খ. “আউটসোর্সিং দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায়” — ব্যাখ্যা করুন।
গ. সুমাইয়ার বাবার চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করুন।
ঘ. রাশেদের আয়ের পদ্ধতি আর সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি — কম্পিউটার নৈতিকতার আলোকে মূল্যায়ন করুন।
সৃ-০১মডেল উত্তর — বিশ্বগ্রাম, টেলিমেডিসিন, আউটসোর্সিং আর সফটওয়্যার পাইরেসি
ক. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর দূরবর্তী মানুষ যখন একটি গ্রামের মানুষের মতো সহজে ও তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান ও সেবা গ্রহণ করতে পারে, সেই ধারণাকে বিশ্বগ্রাম বলে। ধারণাটি কানাডার চিন্তাবিদ মার্শাল ম্যাকলুহান ১৯৬০-এর দশকে জনপ্রিয় করেন।
খ. নিজের প্রতিষ্ঠানের কাজ চুক্তির ভিত্তিতে অন্য দেশ বা প্রতিষ্ঠানের কাউকে দিয়ে করিয়ে নেওয়াকে আউটসোর্সিং বলে। ইন্টারনেট থাকলে বাংলাদেশের যেকোনো জেলার একজন দক্ষ মানুষ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, গ্রাফিক ডিজাইন, ডেটা এন্ট্রি বা প্রোগ্রামিংয়ের কাজ করতে পারেন — অফিসে না গিয়ে, দেশ না ছেড়ে। ফলে শহরের বাইরের তরুণদেরও আয়ের পথ খোলে, আর দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসে। যেমন, একজন ফ্রিল্যান্সার অনলাইন মার্কেটপ্লেসে লোগো ডিজাইনের কাজ নিয়ে ঘরে বসে আয় করতে পারেন। তাই আউটসোর্সিং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করে।
গ. উদ্দীপকে সুমাইয়ার বাবার চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো টেলিমেডিসিন। টেলিমেডিসিন হলো টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি — ভিডিও কল, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক — ব্যবহার করে দূরে থাকা রোগীকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়ার পদ্ধতি।
- কীভাবে কাজ করল: উপজেলার চিকিৎসক রোগীর ECG রিপোর্ট ডিজিটাল আকারে ইন্টারনেটে পাঠালেন, আর ভিডিও কলে বিশেষজ্ঞ রোগীকে দেখে ও রিপোর্ট পড়ে পরামর্শ দিলেন।
- লাভ: রোগীকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে ঢাকায় নিতে হয়নি — সময়, খরচ আর ঝুঁকি কমেছে। জরুরি অবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া গেছে।
- শর্ত: দুই প্রান্তে ইন্টারনেট সংযোগ, ক্যামেরা-কম্পিউটার আর ডিজিটাল রিপোর্ট পাঠানোর ব্যবস্থা লাগে।
তাই উদ্দীপকের প্রযুক্তিটি টেলিমেডিসিন, যা গ্রামের মানুষের কাছে বিশেষজ্ঞ সেবা পৌঁছে দেয়।
ঘ. কম্পিউটার নৈতিকতা হলো কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বিচারের নীতিমালা — অন্যের ক্ষতি না করা, অন্যের মেধাসম্পদের সম্মান করা, সৎ থাকা।
আয়ের পদ্ধতি: রাশেদ নিজের দক্ষতায় চুক্তিভিত্তিক কাজ করে আয় করছেন — এটি বৈধ ও নৈতিক। তিনি কারও ক্ষতি করছেন না, বরং দেশে আয় আনছেন। এ অংশে তাঁর কাজ প্রশংসনীয়।
সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি: লাইসেন্স না কিনে “crack” করা সফটওয়্যার ব্যবহার হলো সফটওয়্যার পাইরেসি। এতে (১) সফটওয়্যার নির্মাতার মেধাস্বত্ব (কপিরাইট) লঙ্ঘিত হয় — তাঁরা ন্যায্য পাওনা পান না; (২) crack করা ফাইলে প্রায়ই ম্যালওয়্যার থাকে, যা রাশেদের ক্লায়েন্টের ফাইল ও নিজের অ্যাকাউন্টের তথ্য ঝুঁকিতে ফেলে; (৩) অনেক দেশে ও বাংলাদেশের কপিরাইট আইনে এটি দণ্ডনীয়; (৪) বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করায় ক্লায়েন্টের কাছেও আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়। নৈতিক বিকল্প আছে: বিনামূল্যের ওপেন সোর্স সফটওয়্যার (যেমন GIMP, Inkscape), শিক্ষার্থী লাইসেন্স বা মাসিক সাবস্ক্রিপশন।
সিদ্ধান্ত: রাশেদের আয়ের পদ্ধতি নৈতিক, কিন্তু সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি অনৈতিক ও ঝুঁকিপূর্ণ। একই কাজ বৈধ লাইসেন্স বা ওপেন সোর্স সফটওয়্যারে করলে তাঁর পুরো কার্যক্রম নৈতিক হতো।
উদ্দীপক: গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করেন। আগে হাজিরা নেওয়া হতো আঙুলের ছাপ দিয়ে; এখন প্রবেশদ্বারে ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা মুখ দেখে শ্রমিককে চিনে হাজিরা নেয়। নতুন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণে মাথায় পরার একটি বিশেষ চশমা ব্যবহার করা হয়, যার ভেতরে কম্পিউটারে তৈরি একটি ত্রিমাত্রিক কারখানা দেখা যায় — শ্রমিক হাত নেড়ে সেখানে আসল মেশিনের মতো যন্ত্র চালানো অনুশীলন করেন।
ক. ক্রায়োসার্জারি কী?
খ. “রোবট ঝুঁকিপূর্ণ কাজে মানুষের বিকল্প হতে পারে” — ব্যাখ্যা করুন।
গ. প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা করুন।
ঘ. কারখানার হাজিরা নেওয়ার আগের ও বর্তমান পদ্ধতির মধ্যে কোনটি বেশি উপযোগী — বিশ্লেষণ করুন।
সৃ-০২মডেল উত্তর — ক্রায়োসার্জারি, রোবটিক্স, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আর বায়োমেট্রিক্স
ক. অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রা (যেমন তরল নাইট্রোজেন দিয়ে) প্রয়োগ করে শরীরের অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত টিস্যু (যেমন আঁচিল, কিছু টিউমার) ধ্বংস করার চিকিৎসা-পদ্ধতিকে ক্রায়োসার্জারি বলে।
খ. রোবটিক্স হলো প্রোগ্রাম অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করা যন্ত্র (রোবট) তৈরি ও ব্যবহারের প্রযুক্তি। রোবট ক্লান্ত হয় না, বিষাক্ত গ্যাস, তেজস্ক্রিয়তা বা প্রচণ্ড তাপে মানুষের মতো আহত হয় না, আর একই কাজ নিখুঁতভাবে বারবার করতে পারে। তাই ভবনধসে আটকে পড়া মানুষ খোঁজা, বোমা নিষ্ক্রিয় করা, খনি বা পারমাণবিক কেন্দ্রে কাজ, গাড়ির কারখানায় রং করা বা ঝালাইয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রোবট ব্যবহার করলে মানুষের জীবনের ঝুঁকি কমে।
গ. উদ্দীপকের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) প্রযুক্তি। VR হলো কম্পিউটারে তৈরি এমন একটি ত্রিমাত্রিক কৃত্রিম পরিবেশ, যার ভেতরে ব্যবহারকারী নিজেকে উপস্থিত অনুভব করেন এবং সেই পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া করতে পারেন।
- যন্ত্র: মাথায় পরার চশমা — head-mounted display (HMD) — দুই চোখে সামান্য আলাদা ছবি দেখিয়ে গভীরতার অনুভূতি দেয়; মাথা ঘোরালে দৃশ্যও ঘোরে। হাতের নড়াচড়া সেন্সর বা কন্ট্রোলার ধরে ফেলে।
- উদ্দীপকে প্রয়োগ: শ্রমিক আসল মেশিন না ছুঁয়েই চালানোর ধাপ শিখছেন। ভুল করলে কোনো দুর্ঘটনা বা কাপড় নষ্ট হয় না, আর একই অনুশীলন যতবার খুশি করা যায়।
এভাবে VR প্রশিক্ষণকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী আর বারবার অনুশীলনযোগ্য করে।
ঘ. দুটি পদ্ধতিই বায়োমেট্রিক্স — মানুষের শারীরিক বা আচরণগত অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়ে পরিচয় শনাক্ত করার প্রযুক্তি। আগের পদ্ধতি আঙুলের ছাপ (fingerprint), বর্তমান পদ্ধতি মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ (face recognition).
| বিবেচ্য | আঙুলের ছাপ | মুখ শনাক্তকরণ |
|---|---|---|
| সময় (২০০০ জনের লাইন) | প্রত্যেককে যন্ত্রে আঙুল রাখতে হয় — শিফট শুরুর সময় লাইন লম্বা হয় | হেঁটে যাওয়ার সময়ই চেনে — লাইন কম |
| স্পর্শ ও স্বাস্থ্য | একই যন্ত্রে সবাই স্পর্শ করেন — জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি | স্পর্শ লাগে না |
| কাজের ধরনের প্রভাব | সেলাইয়ের কাজে আঙুলে দাগ বা ক্ষত হলে ছাপ মেলাতে সমস্যা হতে পারে | আলো কম হলে বা মাস্ক পরলে ভুল হতে পারে |
| খরচ | যন্ত্র তুলনামূলক সস্তা | ক্যামেরা ও সফটওয়্যারে খরচ বেশি |
| গোপনীয়তা | শ্রমিক জানেন কখন তথ্য দিচ্ছেন | ক্যামেরা সবসময় মুখের ছবি নেয় — তথ্য সুরক্ষা ও সম্মতির নীতি দরকার |
উদ্দীপকে শ্রমিক প্রায় দুই হাজার, তাই দ্রুততা আর স্পর্শহীনতা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেলাইয়ের কাজে আঙুলের ছাপ মেলাতে সমস্যাও বাস্তব। অন্যদিকে মুখ শনাক্তকরণে খরচ বেশি আর গোপনীয়তার প্রশ্ন আছে — যা ভালো আলো, ছবি নিরাপদে রাখা আর শ্রমিকদের জানিয়ে সম্মতি নেওয়ার মাধ্যমে কমানো যায়।
সিদ্ধান্ত: বড় কারখানার জন্য বর্তমান পদ্ধতি (মুখ শনাক্তকরণ) বেশি উপযোগী, তবে শ্রমিকদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার নিয়ম মানা শর্তে। ছোট প্রতিষ্ঠানে কম খরচের আঙুলের ছাপ পদ্ধতিই যথেষ্ট হতে পারে।
উদ্দীপক: নাফিসের বাবা একটি মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মী। ডিউটিতে তিনি ওয়াকি-টকি ব্যবহার করেন — বোতাম চেপে একজন কথা বললে অন্যজন তখন শুধু শোনেন। নাফিস মোবাইল ফোনে বিদেশে থাকা মামার সাথে একই সময়ে কথা বলে ও শোনে। রাতে সে রেডিওতে খবর শোনে। নাফিস লক্ষ করল, কম্পিউটারে টাইপ করার সময় কীবোর্ডের প্রতিটি অক্ষর আলাদা আলাদা করে কম্পিউটারে যায়, কিন্তু অফিসের সার্ভারে বড় একটি ফাইল পাঠানোর সময় ডেটা বড় বড় ব্লক আকারে যায়।
ক. ব্যান্ডউইথ কী?
খ. “অপটিক্যাল ফাইবারে বৈদ্যুতিক নয়েজের প্রভাব পড়ে না” — ব্যাখ্যা করুন।
গ. উদ্দীপকের তিনটি যোগাযোগে ব্যবহৃত ডেটা ট্রান্সমিশন মোড ব্যাখ্যা করুন।
ঘ. কীবোর্ড আর ফাইল পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ট্রান্সমিশন পদ্ধতি দুটির মধ্যে কোনটি বেশি দক্ষ — বিশ্লেষণ করুন।
সৃ-০৩মডেল উত্তর — ব্যান্ডউইথ, ফাইবার, simplex-half-full duplex আর synchronous-asynchronous
ক. একক সময়ে (প্রতি সেকেন্ডে) একটি মাধ্যম দিয়ে যে পরিমাণ ডেটা পাঠানো যায়, তাকে ব্যান্ডউইথ বা ডেটা ট্রান্সমিশন স্পিড বলে; এর একক bps (bit per second) বা বিট প্রতি সেকেন্ড।
খ. অপটিক্যাল ফাইবার কাচ বা প্লাস্টিকের সরু তন্তু, যার ভেতর দিয়ে ডেটা যায় বিদ্যুৎ হিসেবে নয়, আলোর সংকেত হিসেবে — পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে। পাশের বিদ্যুতের তার, মোটর বা বজ্রপাতের মতো উৎস যে বৈদ্যুতিক-চৌম্বকীয় নয়েজ তৈরি করে, তা তামার তারের বৈদ্যুতিক সংকেতকে বিকৃত করে, কিন্তু আলোর সংকেতে প্রভাব ফেলে না। তাই সমুদ্রের তলদেশের সাবমেরিন কেবল বা কারখানার ভেতরের নেটওয়ার্কে ফাইবার নির্ভরযোগ্য।
গ. ডেটা কোন দিকে প্রবাহিত হবে, তার ভিত্তিতে ট্রান্সমিশন মোড তিন প্রকার। উদ্দীপকে তিনটিই আছে:
| উদ্দীপকের যোগাযোগ | মোড | কারণ |
|---|---|---|
| রেডিওতে খবর শোনা | সিমপ্লেক্স | ডেটা শুধু এক দিকে — রেডিও স্টেশন থেকে শ্রোতার দিকে; শ্রোতা উত্তর পাঠাতে পারেন না। |
| বাবার ওয়াকি-টকি | হাফ-ডুপ্লেক্স | দুই দিকেই যায়, কিন্তু একসাথে নয় — একজন বললে অন্যজন শোনেন। |
| মামার সাথে মোবাইল ফোনে কথা | ফুল-ডুপ্লেক্স | একই সময়ে দুই দিকে ডেটা যায় — দুজনই একসাথে বলতে ও শুনতে পারেন। |
ঘ. কীবোর্ড থেকে প্রতিটি অক্ষর আলাদা করে যায় — এটি অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন। ফাইল যায় বড় ব্লকে — এটি সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন। দক্ষতা মাপা যায় এভাবে: মোট পাঠানো বিটের কত অংশ আসল ডেটা।
- অ্যাসিনক্রোনাস: প্রতিটি ৮ বিটের অক্ষরের আগে ১টি start bit আর পরে অন্তত ১টি stop bit. মোট ১০ বিটে ৮ বিট ডেটা → দক্ষতা ৮/১০ = ৮০%. অক্ষরের মাঝে বিরতিতে লাইন অলস থাকে।
- সিনক্রোনাস: ধরা যাক ১০০০ বাইট (৮০০০ বিট) ডেটার একটি ব্লকের সাথে শুরু-শেষ মিলিয়ে কয়েকটি বাইট (ধরা যাক ৮ বাইট = ৬৪ বিট) সিনক্রোনাইজেশন ও নিয়ন্ত্রণ তথ্য। দক্ষতা ৮০০০/৮০৬৪ ≈ ৯৯%.
তবে সিনক্রোনাস পদ্ধতিতে প্রেরক-প্রাপকের ঘড়ি মেলাতে হয় আর ব্লক জমানোর জন্য মেমরি (buffer) লাগে, তাই যন্ত্র জটিল ও ব্যয়বহুল। কীবোর্ডে মানুষ অনিয়মিত বিরতিতে টাইপ করেন — সেখানে ব্লক জমানোর অপেক্ষা অর্থহীন, তাই অ্যাসিনক্রোনাসই মানানসই।
সিদ্ধান্ত: বড় পরিমাণ ডেটা পাঠানোর ক্ষেত্রে সিনক্রোনাস পদ্ধতি অনেক বেশি দক্ষ (প্রায় ৯৯% বনাম ৮০%); অল্প ও অনিয়মিত ডেটার জন্য অ্যাসিনক্রোনাস পদ্ধতি সহজ ও যথেষ্ট। উদ্দীপকে দুটি কাজের জন্য দুটি পদ্ধতিই সঠিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ঝালিয়ে নিন: পর্ব ৩০
উদ্দীপক: “ক” কলেজের ICT ল্যাবে ৬টি কম্পিউটার আছে; প্রতিটি কম্পিউটার বাকি সবগুলোর সাথে আলাদা তার দিয়ে সরাসরি যুক্ত। “খ” কলেজের ল্যাবেও ৬টি কম্পিউটার, তবে প্রতিটি একটি কেন্দ্রীয় সুইচের সাথে যুক্ত। “খ” কলেজের অধ্যক্ষ ল্যাবে আরও ১০টি কম্পিউটার যোগ করতে চান, বাজেট সীমিত।
ক. হাব কী?
খ. “সুইচকে হাবের চেয়ে বুদ্ধিমান ডিভাইস বলা হয়” — ব্যাখ্যা করুন।
গ. “ক” কলেজের নেটওয়ার্কের টপোলজি শনাক্ত করে মোট সংযোগ-তার আর প্রতিটি কম্পিউটারের পোর্ট-সংখ্যা নির্ণয় করুন।
ঘ. অধ্যক্ষের পরিকল্পনার জন্য দুই কলেজের টপোলজির মধ্যে কোনটি বেশি উপযোগী — বিশ্লেষণ করুন।
সৃ-০৪মডেল উত্তর — হাব, সুইচ, মেশ আর স্টার টপোলজি
ক. হাব হলো স্টার টপোলজির একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক ডিভাইস, যা কোনো পোর্টে আসা ডেটা যাচাই না করে বাকি সব পোর্টে পাঠিয়ে দেয়।
খ. হাব জানে না কোন কম্পিউটার কোন পোর্টে আছে — তাই সে প্রতিটি ডেটা সবাইকে পাঠায়; এতে নেটওয়ার্কে অপ্রয়োজনীয় ভিড় বাড়ে, সংঘর্ষ (collision) হয়, আর গোপনীয়তাও কমে। সুইচ প্রতিটি কম্পিউটারের MAC ঠিকানা আর তার পোর্ট একটি টেবিলে মনে রাখে, এবং ডেটা শুধু গন্তব্য কম্পিউটারের পোর্টে পাঠায়। যেমন, কলেজ অফিসের পিয়ন প্রতিটি চিঠি সব শিক্ষকের টেবিলে না রেখে শুধু যাঁর নাম লেখা তাঁর কাছে দিলে কাজ দ্রুত ও নিরাপদ হয়। এই কারণে সুইচকে বুদ্ধিমান ডিভাইস বলা হয়।
গ. “ক” কলেজে প্রতিটি কম্পিউটার বাকি সবার সাথে সরাসরি যুক্ত — তাই এটি মেশ টপোলজি। n সংখ্যক কম্পিউটারের পূর্ণ মেশে:
মোট সংযোগ-তার = n(n − 1) / 2
= 6 × (6 − 1) / 2
= 6 × 5 / 2
= 15টি
প্রতিটি কম্পিউটারের পোর্ট = n − 1 = 6 − 1 = 5টিঅর্থাৎ “ক” কলেজের নেটওয়ার্কে ১৫টি তার লাগছে, আর প্রতিটি কম্পিউটারে ৫টি নেটওয়ার্ক পোর্ট।
ঘ. “খ” কলেজের নেটওয়ার্ক স্টার টপোলজি। অধ্যক্ষ ১০টি যোগ করলে মোট কম্পিউটার হবে ১৬. দুই টপোলজিতে কী লাগবে, হিসাব করি:
| বিষয় | মেশ (n = 16) | স্টার (n = 16) |
|---|---|---|
| মোট তার | 16 × 15 / 2 = ১২০টি | ১৬টি (প্রতিটি থেকে সুইচে একটি) |
| প্রতি কম্পিউটারে পোর্ট | ১৫টি | ১টি |
| নতুন ১০টি যোগ করতে বাড়তি তার | 120 − 15 = ১০৫টি; পুরোনো ৬টিতেও নতুন পোর্ট লাগবে | ১০টি; সুইচে খালি পোর্ট না থাকলে একটি বড় সুইচ |
| একটি তার নষ্ট হলে | বিকল্প পথ থাকে — সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য | শুধু সেই কম্পিউটার বিচ্ছিন্ন, বাকিরা চলে |
| দুর্বল দিক | খরচ ও জটিলতা খুব বেশি | কেন্দ্রীয় সুইচ নষ্ট হলে পুরো ল্যাব বন্ধ |
মেশের নির্ভরযোগ্যতা বেশি, কিন্তু ১২০টি তার আর প্রতিটি কম্পিউটারে ১৫টি পোর্ট বসানো সীমিত বাজেটে বাস্তবসম্মত নয়। স্টারে খরচ কম, নতুন কম্পিউটার যোগ করা সহজ, সমস্যাও সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। এর একমাত্র বড় ঝুঁকি — সুইচ নষ্ট হওয়া — একটি অতিরিক্ত সুইচ রেখে সহজে সামলানো যায়।
সিদ্ধান্ত: অধ্যক্ষের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা আর সীমিত বাজেটের জন্য “খ” কলেজের স্টার টপোলজি বেশি উপযোগী।
ঝালিয়ে নিন: পর্ব ৩২
৫ · মডেল সৃজনশীল — অধ্যায় ৩ (সংখ্যা পদ্ধতি ও ডিজিটাল ডিভাইস)
রিভিশনের জন্য: পর্ব ১৬, পর্ব ১৭, পর্ব ১৮, পর্ব ১৯, পর্ব ২০, পর্ব ২১, পর্ব ২২.
এই অধ্যায়ের গ-ঘ অংশ পুরোপুরি হিসাব। হিসাব ঠিক হলে পুরো নম্বর — তাই এখানে অনুশীলনই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। প্রতিটি প্রশ্নের পরে একটি ছোট টুল আছে, যা দিয়ে নিজের খাতার উত্তর মিলিয়ে নিতে পারবেন।
উদ্দীপক: তিন বন্ধু তাদের রোল নম্বর তিন ভিন্ন সংখ্যা পদ্ধতিতে লিখল — রিয়া: (45)10, তানভীর: (2B)16, মিম: (57)8.
ক. সংখ্যা পদ্ধতির বেস কী?
খ. “হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা বাইনারির সংক্ষিপ্ত রূপ” — ব্যাখ্যা করুন।
গ. রিয়ার রোল নম্বরকে বাইনারি ও হেক্সাডেসিমালে রূপান্তর করুন।
ঘ. তানভীরের রোল থেকে মিমের রোল বিয়োগ করুন ৮-বিট 2's complement পদ্ধতিতে, আর ফলটি দশমিকে যাচাই করুন।
সৃ-০৫মডেল উত্তর — বেস, হেক্সা-বাইনারি সম্পর্ক, রূপান্তর আর 2's complement বিয়োগ
ক. কোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে মোট যতগুলো ভিন্ন অঙ্ক (প্রতীক) ব্যবহার করা হয়, সেই সংখ্যাকে ওই পদ্ধতির বেস বা ভিত্তি বলে; যেমন বাইনারির বেস 2, দশমিকের 10.
খ. হেক্সাডেসিমাল-এর বেস 16 = 24. তাই একটি হেক্সা অঙ্ক (0–F) ঠিক ৪টি বাইনারি বিট দিয়ে প্রকাশ করা যায় — 0 = 0000, 9 = 1001, F = 1111. একটি লম্বা বাইনারি সংখ্যাকে ডান দিক থেকে ৪ বিট করে ভাগ করে প্রতিটি দলের হেক্সা অঙ্ক বসালেই রূপান্তর হয়ে যায়। যেমন 1111 1010 0011 = FA3 — ১২টি বিটের জায়গায় মাত্র ৩টি অঙ্ক। এ কারণে মেমরির ঠিকানা, রং (#FF0000) বা MAC ঠিকানা লিখতে হেক্সা ব্যবহার করা হয়, আর একে বাইনারির সংক্ষিপ্ত রূপ বলা হয়।
গ. উদ্দীপকে রিয়ার রোল (45)10.
বাইনারি: 2 দিয়ে বারবার ভাগ হেক্সাডেসিমাল: 16 দিয়ে ভাগ
2 | 45 ভাগশেষ 16 | 45 ভাগশেষ
2 | 22 1 ↑ 16 | 2 13 = D ↑
2 | 11 0 │ | 0 2 │
2 | 5 1 │ নিচ থেকে ওপরে
2 | 2 1 │ পড়ুন (45)10 = (2D)16
2 | 1 0 │
| 0 1 │
(45)10 = (101101)2
যাচাই: 1×32 + 0×16 + 1×8 + 1×4 + 0×2 + 1×1 = 45 ✓
2×16 + 13×1 = 45 ✓ ; বাইনারি 0010 1101 → 2 D ✓ঘ. প্রথমে দুটি রোলকে দশমিক ও ৮-বিট বাইনারিতে নিই:
তানভীর: (2B)16 = 2×16 + 11 = (43)10 = 0010 1011
মিম : (57)8 = 5×8 + 7 = (47)10 = 0010 1111
বিয়োগ: 43 − 47 = 43 + (−47)
−47 বের করতে 47-এর 2's complement:
47 = 0010 1111
1's complement = 1101 0000 (প্রতিটি বিট উল্টে)
+ 1 = 1101 0001 ← 2's complement
যোগ: 0010 1011 (43)
+ 1101 0001 (−47)
-----------
1111 1100 (কোনো ক্যারি নেই)
MSB = 1 → ফল ঋণাত্মক। মান জানতে আবার 2's complement:
1111 1100 → 0000 0011 + 1 = 0000 0100 = 4
অতএব ফল = −4. যাচাই: 43 − 47 = −4 ✓৮-বিটে চিহ্নযুক্ত সংখ্যার সীমা −128 থেকে +127; ফল −4 এই সীমার ভেতরে, তাই কোনো overflow হয়নি। সঠিক উত্তর: (1111 1100)2 = −4.
- ভাগ করুনপূর্ণ আর ভগ্নাংশ
- পূর্ণ অংশ২ দিয়ে ভাগ
- ভগ্নাংশ২ দিয়ে গুণ
- জোড়া ও যাচাইবেস লিখুন
(45.625)10 = পূর্ণ অংশ 45 + ভগ্নাংশ 0.625
দুটি অংশ আলাদা নিয়মে রূপান্তর হবে।
2 | 45 → 22, ভাগশেষ 1
2 | 22 → 11, ভাগশেষ 0
2 | 11 → 5, ভাগশেষ 1
2 | 5 → 2, ভাগশেষ 1
2 | 2 → 1, ভাগশেষ 0
2 | 1 → 0, ভাগশেষ 1
নিচ থেকে ওপরে: 101101
0.625 × 2 = 1.25 → পূর্ণ অংশ 1
0.25 × 2 = 0.5 → পূর্ণ অংশ 0
0.5 × 2 = 1.0 → পূর্ণ অংশ 1 (ভগ্নাংশ 0, থামুন)
ওপর থেকে নিচে: .101
(45.625)10 = (101101.101)2
যাচাই: 32+8+4+1 = 45 ; 0.5 + 0.125 = 0.625 ✓
- দুই ভাগে ভাঙুন। দশমিক বিন্দুর আগের আর পরের অংশ আলাদা নিয়মে চলে — এটি খাতায় প্রথম লাইনেই লিখে দিন।
- পূর্ণ অংশ: বারবার ভাগ। ভাগশেষগুলো নিচ থেকে ওপরে পড়ুন। প্রথম ভাগশেষটি LSB (সবচেয়ে ডানের বিট) — এখানে উল্টো পড়াই সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
- ভগ্নাংশ: বারবার গুণ। প্রতিবার পূর্ণ অংশটি তুলে নিন, ওপর থেকে নিচে পড়ুন। ভগ্নাংশ 0 হলে থামুন; না হলে প্রশ্নে বলা ঘর পর্যন্ত (সাধারণত ৪–৬ ঘর)।
- জোড়া লাগান, বেস লিখুন, যাচাই করুন। শেষ লাইনে স্থানীয় মান দিয়ে উল্টো হিসাব এক লাইনে — ভুল থাকলে এখানেই ধরা পড়ে।
নিজের উত্তর মিলিয়ে নিন — সংখ্যা রূপান্তর আর 2's complement
নিচের কোড উদ্দীপকের তিনটি রোল সব পদ্ধতিতে রূপান্তর করে, ভগ্নাংশসহ একটি উদাহরণ দেখায়, আর ঘ-অংশের ৮-বিট বিয়োগ ধাপে ধাপে করে। শেষের তালিকায় নিজের সংখ্যা বসিয়ে আবার চালাতে পারেন।
// সংখ্যা রূপান্তর আর ৮-বিট 2's complement — খাতার উত্তর মেলান
const DIG = "0123456789ABCDEF";
function toBase(num, b) {
let n = Math.floor(num), f = num - n, s = "";
do { s = DIG[n % b] + s; n = Math.floor(n / b); } while (n > 0);
for (let k = 0; k < 6 && f > 0; k++) { // ভগ্নাংশ: বারবার গুণ
f *= b; s += (k ? "" : ".") + DIG[Math.floor(f)]; f -= Math.floor(f);
}
return s;
}
const rolls = [["Ria", "45", 10], ["Tanvir", "2B", 16], ["Mim", "57", 8]];
for (const [who, val, b] of rolls) {
const d = parseInt(val, b);
console.log(`${who}: (${val})${b} = (${d})10 = (${toBase(d, 2)})2 = (${toBase(d, 8)})8 = (${toBase(d, 16)})16`);
}
console.log(`(45.625)10 = (${toBase(45.625, 2)})2 = (${toBase(45.625, 8)})8`);
const bits8 = v => (v & 0xFF).toString(2).padStart(8, "0");
const X = 43, Y = 47; // তানভীর − মিম
const twosY = (~Y + 1) & 0xFF;
console.log(`${Y} = ${bits8(Y)} → 1's = ${bits8(~Y)} → 2's = ${bits8(twosY)}`);
const raw = X + twosY, res = raw & 0xFF;
console.log(`${bits8(X)} + ${bits8(twosY)} = ${bits8(res)}, carry = ${raw > 255 ? 1 : 0}`);
console.log(res >> 7 ? `MSB 1 → ঋণাত্মক, মান = -${(~res + 1) & 0xFF}` : `MSB 0 → ধনাত্মক, মান = ${res}`);আউটপুটে দেখবেন: Ria-র 45 = 101101 = 55 (অক্টাল) = 2D; Tanvir-এর 2B = 43 = 101011; Mim-এর 57 (অক্টাল) = 47 = 2F; আর 45.625 = 101101.101 = 55.5 (অক্টাল)। বিয়োগের সারিতে 1101 0001 হলো 47-এর 2's complement, যোগফল 1111 1100, ক্যারি 0, আর মান −4 — মডেল উত্তরের সাথে হুবহু মেলে। দুটি ধনাত্মক সংখ্যার এভাবে বিয়োগে শেষে ক্যারি না আসা মানে ফল ঋণাত্মক, আর সেটি 2's complement রূপে আছে। rolls তালিকায় নিজের প্রশ্নের সংখ্যা বসান, বা X, Y বদলে 47 − 43 করে দেখুন — তখন ক্যারি 1 আসবে, যা ৮-বিটের বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। তবে পরীক্ষায় এই টুল নেই; এটি শুধু অনুশীলনের পরে যাচাইয়ের জন্য।
উদ্দীপক: নিচের লজিক সার্কিটটি লক্ষ করুন। ইনপুট A আর B একসাথে একটি OR গেট আর একটি NAND গেটে যায়; দুই গেটের আউটপুট X আর Z একটি AND গেটে মিলে চূড়ান্ত আউটপুট Y দেয়।
উদ্দীপকের লজিক সার্কিট
OR + NAND → AND
ক. লজিক গেট কী?
খ. “NAND গেটকে ইউনিভার্সাল গেট বলা হয়” — ব্যাখ্যা করুন।
গ. উদ্দীপকের সার্কিটের আউটপুট Y-এর বুলিয়ান সমীকরণ লিখে truth table তৈরি করুন।
ঘ. “উদ্দীপকের সার্কিটটি একটিমাত্র গেট দিয়ে তৈরি করা সম্ভব” — উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করুন।
সৃ-০৬মডেল উত্তর — লজিক গেট, ইউনিভার্সাল গেট, সার্কিটের সমীকরণ আর সরলীকরণ
ক. যে ইলেকট্রনিক সার্কিট এক বা একাধিক বাইনারি ইনপুট (0 বা 1) নিয়ে একটি নির্দিষ্ট যৌক্তিক নিয়মে একটি বাইনারি আউটপুট দেয়, তাকে লজিক গেট বলে; যেমন AND, OR, NOT.
খ. যে গেট দিয়ে মৌলিক তিনটি গেট (AND, OR, NOT) — আর তাই যেকোনো লজিক সার্কিট — তৈরি করা যায়, তাকে ইউনিভার্সাল গেট বলে। NAND দিয়ে তিনটিই তৈরি করা যায়:
- NOT: NAND-এর দুই ইনপুট জুড়ে A দিলে (A·A)′ = A′.
- AND: একটি NAND-এর আউটপুট (AB)′ আরেকটি NAND দিয়ে উল্টালে ((AB)′)′ = AB.
- OR: A আর B-কে আগে NAND দিয়ে উল্টে A′, B′; তারপর NAND করলে (A′B′)′ = A + B (ডি মরগান)।
তাই NAND একাই সব সার্কিট বানাতে পারে — একে ইউনিভার্সাল গেট বলা হয়। কারখানায় একই ধরনের গেট দিয়ে চিপ বানানো সস্তা ও সহজ, এটিই এর ব্যবহারিক গুরুত্ব।
গ. উদ্দীপক থেকে: OR গেটের আউটপুট X = A + B; NAND গেটের আউটপুট Z = (A·B)′; AND গেটের আউটপুট Y = X · Z.
| A | B | X = A + B | A·B | Z = (A·B)′ | Y = X·Z |
|---|---|---|---|---|---|
| 0 | 0 | 0 | 0 | 1 | 0 |
| 0 | 1 | 1 | 0 | 1 | 1 |
| 1 | 0 | 1 | 0 | 1 | 1 |
| 1 | 1 | 1 | 1 | 0 | 0 |
ঘ. গ-এর truth table-এ দেখা যাচ্ছে, Y = 1 হয় শুধু তখন, যখন A আর B ভিন্ন। এটি XOR গেট-এর বৈশিষ্ট্য। বীজগণিত দিয়ে প্রমাণ:
Y = (A + B) · (A·B)′ = (A + B) · (A′ + B′) [ডি মরগান: (AB)′ = A′ + B′] = A·A′ + A·B′ + B·A′ + B·B′ [বিভাজন সূত্র] = 0 + AB′ + A′B + 0 [A·A′ = 0] = A′B + AB′ = A ⊕ B [XOR-এর সংজ্ঞা]
অর্থাৎ উদ্দীপকের তিন গেটের (OR, NAND, AND) সার্কিট আর একটি XOR গেট হুবহু একই কাজ করে — প্রতিটি ইনপুট-জোড়ায় একই আউটপুট। ফলে একটিমাত্র XOR গেট দিয়েই সার্কিটটি তৈরি সম্ভব, যাতে গেট, তার, জায়গা আর বিদ্যুৎ খরচ কমে আর সংকেতের দেরিও (propagation delay) কমে, কারণ দুই স্তরের বদলে এক স্তর। তবে মনে রাখতে হবে, XOR নিজে মৌলিক বা ইউনিভার্সাল গেট নয় — চিপের ভেতরে এটি সাধারণত কয়েকটি ছোট গেট দিয়েই তৈরি (যেমন ৪টি NAND দিয়ে)।
সিদ্ধান্ত: উক্তিটি যথার্থ — উদ্দীপকের সার্কিট A ⊕ B, তাই একটিমাত্র XOR গেট দিয়েই এটি তৈরি করা যায়।
truth table নিজে যাচাই করুন
নিচের ছোট টুলটি একটি বুলিয়ান এক্সপ্রেশন পড়ে পুরো truth table বানায়। লেখার নিয়ম: + মানে OR, পাশাপাশি লেখা বা . মানে AND, ' মানে NOT. একসাথে কয়েকটি এক্সপ্রেশন দিলে কলামগুলো মিলিয়ে দেখা যায় দুটি সমান কি না।
// বুলিয়ান এক্সপ্রেশন → truth table (+ = OR, AB বা A.B = AND, ' = NOT)
function parse(src) {
const s = src.replace(/\s+/g, ""); let i = 0;
const starts = c => c === "(" || /[A-Z01]/.test(c);
function expr() { let v = term(); while (s[i] === "+") { i++; const l = v, r = term(); v = e => l(e) | r(e); } return v; }
function term() {
let v = fact();
while (i < s.length && (s[i] === "." || starts(s[i]))) { if (s[i] === ".") i++; const l = v, r = fact(); v = e => l(e) & r(e); }
return v;
}
function fact() {
let v; const c = s[i++];
if (c === "(") { v = expr(); i++; } else if (c === "0" || c === "1") { v = () => +c; } else { v = e => e[c]; }
while (s[i] === "'") { i++; const g = v; v = e => 1 - g(e); }
return v;
}
return expr();
}
function truthTable(...exprs) {
const vars = [...new Set(exprs.join("").match(/[A-Z]/g))].sort(), fns = exprs.map(parse);
const head = [...vars, ...exprs];
console.log(head.join(" | "));
for (let r = 0; r < 2 ** vars.length; r++) {
const env = {}; vars.forEach((v, k) => { env[v] = (r >> (vars.length - 1 - k)) & 1; });
const row = [...vars.map(v => env[v]), ...fns.map(f => f(env))];
console.log(row.map((x, k) => String(x).padEnd(head[k].length)).join(" | "));
}
console.log("");
}
truthTable("(A+B)(AB)'", "A'B+AB'"); // সৃজনশীল ৬: দুটি কলাম একই?
truthTable("(A+B)'", "A'B'"); // ডি মরগান
truthTable("A+A'B", "A+B"); // শোষণ জাতীয় সূত্রপ্রথম টেবিলে (A+B)(AB)' আর A'B+AB' — দুই কলামই 0, 1, 1, 0: সৃজনশীল ৬-এর ঘ-অংশের প্রমাণ। দ্বিতীয় টেবিল ডি মরগানের সূত্র দেখায় — দুই কলামই 1, 0, 0, 0. তৃতীয়টিতে A+A'B আর A+B দুটিই 0, 1, 1, 1 — অর্থাৎ A + A′B = A + B, MCQ-তে প্রায়ই আসা একটি সরলীকরণ। তিন চলকের এক্সপ্রেশন দিলে (যেমন "AB+BC+CA") আটটি সারি পাবেন। পরীক্ষার খাতায় এই কাজটিই হাতে করতে হয়; টুলটি শুধু আপনার হাতের টেবিল ঠিক কি না মিলিয়ে দেখার জন্য।
৬ · মডেল সৃজনশীল — অধ্যায় ৪, ৫ ও ৬ (HTML, C প্রোগ্রামিং, ডেটাবেস)
রিভিশনের জন্য: পর্ব ৩৬, পর্ব ৩৭, পর্ব ৩৮, পর্ব ৩৯, পর্ব ৪০, পর্ব ৪১, পর্ব ৪২.
উদ্দীপক: একটি কলেজের ওয়েবসাইটের ফলাফল-পাতার কোড:
<h3>একাদশ শ্রেণির ফলাফল</h3>
<table border="1">
<tr><th rowspan="2">রোল</th><th colspan="2">প্রাপ্ত নম্বর</th></tr>
<tr><th>ICT</th><th>গণিত</th></tr>
<tr><td>১</td><td>৮৫</td><td>৯০</td></tr>
<tr><td>২</td><td>৭৮</td><td>৮২</td></tr>
</table>
<p><a href="notice.html">নোটিশ বোর্ড দেখুন</a></p>ক. HTML ট্যাগ কী?
খ. “HTML-কে প্রোগ্রামিং ভাষা বলা যায় না” — ব্যাখ্যা করুন।
গ. উদ্দীপকের কোডটি ব্রাউজারে কেমন দেখাবে — আউটপুট এঁকে বা টেবিলে দেখান।
ঘ. টেবিলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর “মোট” নম্বরের একটি কলাম যোগ করতে আর শিরোনামটিকে শিক্ষা বোর্ডের পাতার লিংক বানাতে কোডে কী পরিবর্তন লাগবে — কোডসহ বিশ্লেষণ করুন।
সৃ-০৭মডেল উত্তর — HTML ট্যাগ, মার্কআপ বনাম প্রোগ্রামিং, rowspan-colspan আর লিংক
ক. ওয়েব পেজের কোন অংশ কী ধরনের (শিরোনাম, অনুচ্ছেদ, টেবিল, লিংক) তা ব্রাউজারকে জানাতে কোণবন্ধনী < >-এর ভেতরে লেখা নির্দেশক শব্দকে HTML ট্যাগ বলে; যেমন <p>, <table>.
খ. HTML একটি মার্কআপ ভাষা — এটি শুধু লেখার গঠন ও অর্থ চিহ্নিত করে (কোনটি শিরোনাম, কোনটি টেবিল)। প্রোগ্রামিং ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য — ভ্যারিয়েবলে মান রেখে হিসাব করা, শর্ত দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া (if), কাজ বারবার করা (loop) — HTML-এ নেই। যেমন, HTML দিয়ে “দুটি নম্বর যোগ করে দেখাও” লেখা যায় না; তার জন্য JavaScript বা অন্য প্রোগ্রামিং ভাষা লাগে। তাই HTML-কে প্রোগ্রামিং ভাষা বলা হয় না।
গ. ব্রাউজারে প্রথমে একটি ছোট শিরোনাম “একাদশ শ্রেণির ফলাফল”, তার নিচে border-সহ একটি টেবিল, আর শেষে নীল, নিচে দাগ দেওয়া একটি লিংক দেখা যাবে। টেবিলটি এমন:
| রোল | প্রাপ্ত নম্বর | |
|---|---|---|
| ICT | গণিত | |
| ১ | ৮৫ | ৯০ |
| ২ | ৭৮ | ৮২ |
ব্যাখ্যা: rowspan="2" থাকায় “রোল” ঘরটি দুই সারি জুড়ে লম্বা; colspan="2" থাকায় “প্রাপ্ত নম্বর” দুই কলাম জুড়ে চওড়া। তাই দ্বিতীয় সারিতে মাত্র দুটি ঘর (ICT, গণিত) লেখা হয়েছে — প্রথম কলামের জায়গা আগেই “রোল” নিয়ে নিয়েছে। লিংকে চাপলে notice.html পাতা খুলবে।
ঘ. দুটি পরিবর্তন লাগবে।
১. “মোট” কলাম: মোট নম্বর “প্রাপ্ত নম্বর”-এর উপবিভাগ নয়, তাই এটিও “রোল”-এর মতো দুই সারি জুড়ে হবে — প্রথম সারিতে rowspan="2" দিয়ে একটি নতুন <th>. দ্বিতীয় সারিতে কিছু যোগ করতে হবে না (ভুল করে যোগ করলে টেবিলের ঘর সরে যায়)। ডেটার প্রতিটি সারিতে একটি নতুন <td>: ৮৫ + ৯০ = ১৭৫, ৭৮ + ৮২ = ১৬০.
২. শিরোনামকে লিংক: <h3>-এর ভেতরের লেখাকে <a href="..."> দিয়ে ঘিরতে হবে; নতুন ট্যাবে খুলতে target="_blank".
<h3><a href="https://www.educationboard.gov.bd" target="_blank">একাদশ শ্রেণির ফলাফল</a></h3>
<table border="1">
<tr><th rowspan="2">রোল</th><th colspan="2">প্রাপ্ত নম্বর</th><th rowspan="2">মোট</th></tr>
<tr><th>ICT</th><th>গণিত</th></tr>
<tr><td>১</td><td>৮৫</td><td>৯০</td><td>১৭৫</td></tr>
<tr><td>২</td><td>৭৮</td><td>৮২</td><td>১৬০</td></tr>
</table>বিশ্লেষণ: টেবিলের মোট কলাম এখন ১ + ২ + ১ = ৪, আর প্রতিটি ডেটা-সারিতেও ৪টি ঘর — হিসাব মিলছে। HTML নিজে যোগ করতে পারে না, তাই ১৭৫ আর ১৬০ হাতে লিখতে হয়েছে; নম্বর বদলালে মোটও হাতে বদলাতে হবে। স্বয়ংক্রিয় হিসাব চাইলে JavaScript বা সার্ভারের প্রোগ্রাম লাগবে — এটিই খ-অংশের কথার বাস্তব প্রমাণ।
সিদ্ধান্ত: প্রথম সারিতে rowspan="2"-সহ একটি <th>, প্রতিটি ডেটা-সারিতে একটি <td>, আর শিরোনামের লেখাকে <a> ট্যাগে ঘিরে দিলেই চাওয়া পরিবর্তন হবে।
প্রিভিউ — কোডটি আসলে কেমন দেখায়
নিচে উদ্দীপকের কোডটি ব্রাউজারে আঁকা হবে। স্ক্রিপ্টটি প্রতিটি সারির ঘর, rowspan-colspan আর লিংক পড়ে বলে দেবে — আপনার গ-অংশের আঁকা আউটপুটের সাথে মেলান।
// উপরের প্রিভিউর টেবিলটি DOM থেকে পড়ে গঠন দেখানো
const rows = document.querySelectorAll("table tr");
console.log("মোট সারি (tr):", rows.length);
rows.forEach((tr, k) => {
const cells = [...tr.children].map(c =>
c.tagName.toLowerCase() +
(c.colSpan > 1 ? ` colspan=${c.colSpan}` : "") +
(c.rowSpan > 1 ? ` rowspan=${c.rowSpan}` : "") +
` "${c.textContent}"`);
console.log(`সারি ${k + 1}: ${cells.join(", ")}`);
});
// প্রথম সারির কলাম গোনা: colspan যোগ করে
const cols = [...rows[0].children].reduce((s, c) => s + c.colSpan, 0);
console.log("টেবিলের মোট কলাম:", cols);
const link = document.querySelector("a");
console.log("লিংকের লেখা:", link.textContent, "| গন্তব্য:", link.getAttribute("href"));প্রিভিউতে টেবিলটি গ-অংশের মডেল উত্তরের মতোই দেখাবে। আউটপুটে সারি ১-এ দুটি th (একটি rowspan=2, একটি colspan=2), সারি ২-এ মাত্র দুটি th, আর ডেটার সারিতে তিনটি করে td; মোট কলাম 1 + 2 = 3. এবার ঘ-অংশের পরিবর্তনটি আগে খাতায় লিখুন, তারপর Notepad বা যেকোনো টেক্সট এডিটরে একটি .html ফাইল বানিয়ে ব্রাউজারে খুলে দেখুন “মোট” কলাম ঠিক জায়গায় বসেছে কি না — ব্যবহারিক পরীক্ষাতেও এভাবেই কাজ করতে হয়।
উদ্দীপক: একজন শিক্ষার্থী নিচের C প্রোগ্রামটি লিখল:
#include <stdio.h>
int main()
{
int n, i, sum = 0;
scanf("%d", &n);
for (i = 1; i <= n; i++)
{
if (i % 2 == 0)
sum = sum + i * i;
}
printf("Sum = %d\n", sum);
return 0;
}ক. কম্পাইলার কী?
খ. “C-তে = আর == এক নয়” — ব্যাখ্যা করুন।
গ. n-এর মান 6 দিলে প্রোগ্রামটির আউটপুট dry-run করে নির্ণয় করুন।
ঘ. if ব্যবহার না করে একই ফল দেয় এমনভাবে লুপটি নতুন করে লিখুন, এবং দুটি সংস্করণের মধ্যে কোনটি বেশি দক্ষ — বিশ্লেষণ করুন।
সৃ-০৮মডেল উত্তর — কম্পাইলার, = বনাম ==, dry-run আর দক্ষ লুপ
ক. যে অনুবাদক প্রোগ্রাম উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা পুরো প্রোগ্রাম (source code) একবারে পড়ে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে এবং সব ভুলের তালিকা একসাথে দেখায়, তাকে কম্পাইলার বলে।
খ. C-তে = হলো assignment operator — ডান দিকের মান বাঁ দিকের ভ্যারিয়েবলে রাখে; sum = 0 মানে sum-এ 0 রাখো। আর == হলো তুলনা (relational) অপারেটর — দুই দিক সমান কি না দেখে ফল দেয় 1 (সত্য) বা 0 (মিথ্যা)। উদ্দীপকের if (i % 2 == 0) জানতে চায় ভাগশেষ 0 কি না। কেউ ভুল করে if (i % 2 = 0) লিখলে compile error হবে, কারণ i % 2-এ মান রাখা যায় না; আর if (x = 5) লিখলে x-এ 5 বসে যায় এবং শর্ত সবসময় সত্য হয় — একটি নীরব logical error.
গ. n = 6 হলে লুপ i = 1 থেকে 6 পর্যন্ত চলবে; শুধু জোড় i-তে sum বাড়বে:
| i | i % 2 == 0? | কাজ | sum |
|---|---|---|---|
| — | — | শুরু | 0 |
| 1 | না | — | 0 |
| 2 | হ্যাঁ | 0 + 2×2 | 4 |
| 3 | না | — | 4 |
| 4 | হ্যাঁ | 4 + 4×4 | 20 |
| 5 | না | — | 20 |
| 6 | হ্যাঁ | 20 + 6×6 | 56 |
| 7 | i <= 6 মিথ্যা → লুপ শেষ | 56 | |
আউটপুট: Sum = 56. অর্থাৎ প্রোগ্রামটি 2² + 4² + 6² = 4 + 16 + 36 = 56 — n পর্যন্ত জোড় সংখ্যার বর্গের যোগফল বের করে।
ঘ. জোড় সংখ্যা 2 থেকে শুরু হয়ে 2 করে বাড়ে। তাই লুপকে সরাসরি জোড় সংখ্যায় চালালে if লাগে না:
for (i = 2; i <= n; i = i + 2)
sum = sum + i * i;| বিষয় | উদ্দীপকের সংস্করণ | নতুন সংস্করণ |
|---|---|---|
| লুপ কতবার ঘোরে (n = 10) | ১০ বার | ৫ বার |
| প্রতি ঘুরে কাজ | % হিসাব + তুলনা, অর্ধেক সময় যোগ | শুধু যোগ |
| n = ১০ লাখ হলে | ১০ লাখ বার ঘোরে | ৫ লাখ বার |
| ফল | দুটিতেই একই (n = 10 হলে 220) | |
নতুন সংস্করণে লুপ অর্ধেক বার ঘোরে, আর প্রতিবার ভাগশেষ হিসাব ও শর্ত পরীক্ষার কাজও বাদ যায়। দুটির সময় n-এর সমানুপাতিক, কিন্তু নতুনটিতে মোট ধাপ অর্ধেকের কম। উদ্দীপকের সংস্করণের সুবিধা একটিই — নতুন শিক্ষার্থীর কাছে বোঝা সহজ (“জোড় হলে যোগ করো”)। গাণিতিক সূত্র ব্যবহার করলে লুপ ছাড়াও ফল পাওয়া যায় — 2² + 4² + … + (2k)² = 4 × k(k+1)(2k+1)/6, যেখানে k = n/2 (পূর্ণসংখ্যা অংশ); তবে পরীক্ষায় লুপের প্রশ্নে লুপ দিয়েই উত্তর লিখুন।
সিদ্ধান্ত: if ছাড়া i = i + 2 দিয়ে লেখা সংস্করণটি বেশি দক্ষ — একই ফল, অর্ধেক পুনরাবৃত্তি, কম অপারেশন।
চালিয়ে দেখুন — দুই সংস্করণ পাশাপাশি
নিচের প্রোগ্রামে উদ্দীপকের সংস্করণ আর ঘ-অংশের নতুন সংস্করণ একসাথে আছে; ইনপুট হিসেবে আগে থেকে 10 দেওয়া। প্রতিটি সংস্করণ কতবার ঘুরল তা-ও গুনে দেখানো হয়েছে, আর নতুন সংস্করণের প্রতিটি ধাপ ছাপা হয় — খাতার dry-run টেবিলের মতো।
#include <stdio.h>
int main()
{
int n, i, sum = 0, steps = 0;
scanf("%d", &n);
printf("n = %d\n", n);
for (i = 1; i <= n; i++) { /* version 1: stimulus */
steps++;
if (i % 2 == 0)
sum = sum + i * i;
}
printf("Version 1: sum = %d, loop ran %d times\n", sum, steps);
sum = 0;
steps = 0;
for (i = 2; i <= n; i = i + 2) { /* version 2: no if */
steps++;
sum = sum + i * i;
printf(" i = %2d sum = %d\n", i, sum);
}
printf("Version 2: sum = %d, loop ran %d times\n", sum, steps);
return 0;
}আউটপুট: Version 1: sum = 220, loop ran 10 times, তারপর নতুন সংস্করণের পাঁচটি ধাপ (i = 2, 4, 6, 8, 10; sum = 4, 20, 56, 120, 220) আর Version 2: sum = 220, loop ran 5 times. একই ফল, অর্ধেক ঘোরা — ঘ-অংশের যুক্তির সংখ্যাভিত্তিক প্রমাণ। ইনপুট 6 করে চালালে দুই সংস্করণেই 56 আসবে (গ-অংশ), আর বিজোড় n (যেমন 7) দিলেও দুটি মেলে, কারণ শর্ত i <= n. খাতায় লেখার সময় steps আর ধাপ ছাপানোর লাইনগুলো লিখবেন না — এগুলো শুধু এখানে দেখানোর জন্য।
উদ্দীপক: একটি কলেজের Student টেবিল:
| Roll | Name | Dept | GPA | DeptRoom |
|---|---|---|---|---|
| 101 | Rafi | Science | 5.00 | 301 |
| 102 | Nadia | Commerce | 4.50 | 205 |
| 103 | Tanim | Science | 4.25 | 301 |
| 104 | Mitu | Humanities | 4.75 | 110 |
| 105 | Nadia | Science | 3.80 | 301 |
ক. ডেটাবেস কী?
খ. “প্রাইমারি কি-র মান ফাঁকা বা পুনরাবৃত্ত হতে পারে না” — ব্যাখ্যা করুন।
গ. Science বিভাগের শিক্ষার্থীদের নাম ও GPA, GPA অনুযায়ী বড় থেকে ছোট ক্রমে দেখানোর SQL লিখুন এবং ফলাফল দেখান।
ঘ. কলেজটি প্রতিটি বিভাগের প্রধান শিক্ষকের নামও রাখতে চায়। টেবিলটি একটি রেখে কলাম বাড়ানো, নাকি দুটি টেবিলে ভাগ করা — কোনটি উত্তম? বিশ্লেষণ করুন।
সৃ-০৯মডেল উত্তর — ডেটাবেস, প্রাইমারি কি, SELECT-WHERE-ORDER BY আর relation
ক. পরস্পর সম্পর্কিত তথ্যের এমন সুসংগঠিত সংগ্রহ, যেখান থেকে সহজে তথ্য খোঁজা, যোগ, পরিবর্তন ও মুছে ফেলা যায়, তাকে ডেটাবেস বলে।
খ. প্রাইমারি কি হলো টেবিলের সেই ফিল্ড, যা দিয়ে প্রতিটি রেকর্ডকে আলাদাভাবে চেনা যায়। দুটি রেকর্ডের মান একই হলে কোনটির কথা বলা হচ্ছে বোঝা যাবে না; আর মান ফাঁকা (NULL) থাকলে সেই রেকর্ডকে চেনার কোনো উপায়ই থাকে না। যেমন উদ্দীপকে দুজনের নাম Nadia — Name দিয়ে চিনতে গেলে বিভ্রান্তি, কিন্তু Roll 102 আর 105 আলাদা। তাই প্রাইমারি কি অবশ্যই অনন্য (unique) আর ফাঁকাহীন (NOT NULL) হতে হয় — যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দুজনের এক হয় না।
গ. চাওয়া হয়েছে শুধু Name ও GPA কলাম (SELECT), শুধু Science বিভাগ (WHERE), আর GPA বড় থেকে ছোট (ORDER BY … DESC):
SELECT Name, GPA
FROM Student
WHERE Dept = 'Science'
ORDER BY GPA DESC;প্রত্যাশিত আউটপুট: Name | GPA Rafi | 5.00 Tanim | 4.25 Nadia | 3.80
Science বিভাগে Roll 101, 103 আর 105 — তিনজন; GPA অনুযায়ী সাজালে উপরের ক্রম। লেখা মান (‘Science’) একক উদ্ধৃতিতে, সংখ্যা উদ্ধৃতি ছাড়া।
ঘ. উদ্দীপকের টেবিলেই সমস্যার লক্ষণ আছে: Science আর তার রুম 301 তিনবার লেখা। প্রধান শিক্ষকের নামের কলাম যোগ করলে সেটিও প্রতিটি Science শিক্ষার্থীর সারিতে বারবার লিখতে হবে। এই অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তিকে redundancy বলে, আর এর ফলে তিন ধরনের সমস্যা (anomaly) হয়:
- পরিবর্তনের সমস্যা: Science-এর প্রধান শিক্ষক বদলালে তিনটি সারিই বদলাতে হবে; একটি বাদ পড়লে ডেটা পরস্পরবিরোধী হবে।
- যোগের সমস্যা: নতুন কোনো বিভাগ খুললে, কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত তার রুম বা প্রধান শিক্ষকের তথ্য রাখার জায়গা নেই।
- মোছার সমস্যা: Humanities-এর একমাত্র শিক্ষার্থী Mitu-র রেকর্ড মুছলে বিভাগটির রুম নম্বরও হারিয়ে যাবে।
সমাধান দুটি টেবিল: Department(Dept, DeptRoom, HeadTeacher) — এখানে Dept প্রাইমারি কি; আর Student(Roll, Name, Dept, GPA) — এখানে Roll প্রাইমারি কি এবং Dept হলো ফরেন কি, যা Department টেবিলের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে। একটি বিভাগে অনেক শিক্ষার্থী, তাই সম্পর্কটি one-to-many. প্রতিটি বিভাগের তথ্য এখন একবারই লেখা হয়; প্রয়োজনে JOIN দিয়ে দুই টেবিল মিলিয়ে আগের মতো পূর্ণ তালিকা দেখা যায়। এই প্রক্রিয়ার নাম নরমালাইজেশন। অসুবিধা সামান্য — প্রশ্ন (query) লিখতে JOIN লাগে।
সিদ্ধান্ত: দুটি টেবিলে ভাগ করে ফরেন কি দিয়ে সম্পর্ক তৈরি করাই উত্তম, কারণ এতে পুনরাবৃত্তি ও তিন ধরনের anomaly দূর হয় এবং ডেটা নির্ভুল থাকে।
SQL-এর ফল যাচাই — একই প্রশ্ন JavaScript-এ
এই পাতায় আসল ডেটাবেস চালানো যায় না, তাই নিচে উদ্দীপকের টেবিলটি একটি তালিকা হিসেবে রেখে SQL-এর তিনটি কাজ — WHERE (ছাঁকা), ORDER BY (সাজানো), SELECT (কলাম বাছা) — আলাদা ধাপে করা হয়েছে। সাথে দেখানো হয়েছে কোন কলাম প্রাইমারি কি হতে পারে।
// Student টেবিল — SELECT Name, GPA ... WHERE ... ORDER BY GPA DESC
const Student = [
{ Roll: 101, Name: "Rafi", Dept: "Science", GPA: 5.00 },
{ Roll: 102, Name: "Nadia", Dept: "Commerce", GPA: 4.50 },
{ Roll: 103, Name: "Tanim", Dept: "Science", GPA: 4.25 },
{ Roll: 104, Name: "Mitu", Dept: "Humanities", GPA: 4.75 },
{ Roll: 105, Name: "Nadia", Dept: "Science", GPA: 3.80 },
];
const where = Student.filter(r => r.Dept === "Science"); // WHERE
const ordered = [...where].sort((a, b) => b.GPA - a.GPA); // ORDER BY GPA DESC
console.log("Name | GPA");
ordered.forEach(r => console.log(r.Name.padEnd(6) + " | " + r.GPA.toFixed(2))); // SELECT
// GROUP BY Dept — প্রতিটি বিভাগে কতজন
const count = {};
Student.forEach(r => { count[r.Dept] = (count[r.Dept] || 0) + 1; });
console.log("COUNT by Dept:", JSON.stringify(count));
// কোন কলাম প্রাইমারি কি হতে পারে? (সব মান আলাদা কি না)
for (const col of ["Roll", "Name", "Dept"]) {
const unique = new Set(Student.map(r => r[col])).size === Student.length;
console.log(`${col}: ${unique ? "সব মান আলাদা → প্রাইমারি কি হতে পারে" : "মান পুনরাবৃত্ত → প্রাইমারি কি নয়"}`);
}ফল: Rafi 5.00, Tanim 4.25, Nadia 3.80 — গ-অংশের প্রত্যাশিত আউটপুটের সাথে মেলে। GROUP BY-এর সারিতে Science ৩, Commerce ১, Humanities ১. শেষ তিন লাইন খ-অংশের যুক্তি দেখায়: শুধু Roll-এর সব মান আলাদা, Name-এ Nadia দুবার। একটি সতর্কতা: উদ্দীপকে বিভাগের কলামের নাম Group না দিয়ে Dept রাখা হয়েছে, কারণ GROUP SQL-এর নিজস্ব শব্দ (keyword) — কলামের নাম হিসেবে দিলে অনেক ডেটাবেসে error হয়। SQL নিজে চালিয়ে দেখতে চাইলে পর্ব ৪২-এ অনলাইনে অনুশীলনের জায়গার কথা আছে।
৭ · MCQ কৌশল আর অধ্যায়ভিত্তিক ৬০টি প্রশ্ন
MCQ-তে একটি প্রশ্নের জন্য সময় থাকে এক মিনিটের মতো বা তারও কম। তাই এখানে জ্ঞানের পাশাপাশি গতি আর সতর্কতা লাগে। নিচের পাঁচটি কৌশল অনুশীলনের সময় সচেতনভাবে প্রয়োগ করুন — পরীক্ষার হলে তখন নিজে থেকেই আসবে।
কৌশল ১ · বাদ দেওয়ার পদ্ধতি
সঠিক উত্তর সরাসরি মনে না এলে আগে নিশ্চিত ভুলগুলো কাটুন। চারটির মধ্যে দুটি বাদ দিতে পারলে বাকি দুটির একটি বেছে নেওয়া অনেক সহজ। যেমন “(2B)16-এর দশমিক মান কত?” — বিকল্প 211 দেখেই বাদ, কারণ (2B)16 অবশ্যই (30)16 = 48-এর কম; আর 2 × 16 = 32-এর বেশি হতেই হবে, তাই 27-ও বাদ। বাকি 34 আর 43 — B = 11, তাই 32 + 11 = 43.
কৌশল ২ · মূল শব্দে দাগ দিন
প্রশ্নে “নয়”, “সবচেয়ে”, “প্রথম”, “শুধু”, “অবশ্যই” শব্দ থাকলে মনে মনে দাগ দিন। “নিচের কোনটি DBMS নয়?” — তাড়াহুড়ায় “নয়” চোখ এড়ালে আপনি প্রথম DBMS-টিই বেছে নেবেন। বিকল্পে “সবসময়”, “কখনো না” জাতীয় চরম শব্দ থাকলে সেটি সাধারণত ভুল হয় — প্রযুক্তিতে প্রায় সব নিয়মের ব্যতিক্রম আছে। তবে এটি অন্ধ নিয়ম নয়; যাচাই করে নিন।
কৌশল ৩ · বহুপদী (i, ii, iii) প্রশ্নের নিয়ম
তিনটি বাক্য আলাদা করে পড়ে প্রতিটির পাশে মনে মনে ✓ বা ✗ দিন। একটিও নিশ্চিত ✗ পেলে, সেই সংখ্যা যেসব বিকল্পে আছে সব বাদ। যেমন iii নিশ্চিত ভুল হলে “i ও iii”, “ii ও iii” আর “i, ii ও iii” — তিনটিই বাদ, উত্তর “i ও ii”. সবচেয়ে বেশি ভুল হয় তখন, যখন একটি বাক্য “প্রায় ঠিক” — যেমন “প্রতিটি টেবিলে একাধিক প্রাইমারি কি থাকে” — একটি শব্দই (একাধিক) বাক্যটিকে ভুল বানায়।
কৌশল ৪ · চেনা ফাঁদগুলো চিনে রাখুন
| ফাঁদ | মনে রাখুন |
|---|---|
| বাইনারি যোগ বনাম বুলিয়ান যোগ | বাইনারিতে 1 + 1 = 10; বুলিয়ানে (OR) 1 + 1 = 1 |
| 1's বনাম 2's complement | 1's = সব বিট উল্টানো; 2's = 1's + 1 |
| bit বনাম byte | 8 bit = 1 byte; গতিতে ছোট b (Mbps), ফাইলের আকারে বড় B (MB) |
| rowspan বনাম colspan | row = সারি (নিচের দিকে লম্বা); col = কলাম (পাশে চওড়া) |
= বনাম == | একটি মান রাখে, অন্যটি তুলনা করে |
| C-তে int ভাগ | 7 / 2 = 3 (দশমিক কেটে যায়), 7 % 2 = 1 |
| অ্যারের শেষ ঘর | int a[5]-এ ঘর a[0] থেকে a[4]; a[5] নেই |
| Unicode কত বিট | পাঠ্যবইয়ের প্রচলিত উত্তর ১৬ বিট; আধুনিক Unicode-এ অক্ষর-সংখ্যা ১৬ বিটের সীমা ছাড়িয়েছে (প্রায় ১১ লাখ কোড পয়েন্টের জায়গা) — পর্ব ১৮ দেখুন |
কৌশল ৫ · সময় আর OMR
- দুই দফায় পড়ুন: প্রথম দফায় যেগুলো নিশ্চিত, সেগুলো ভরাট করুন; সন্দেহেরগুলোর পাশে প্রশ্নপত্রে ছোট দাগ। দ্বিতীয় দফায় দাগ দেওয়াগুলোতে ফিরুন।
- হিসাবের প্রশ্ন শেষে: রূপান্তর বা আউটপুট-গণনার প্রশ্নে বেশি সময় লাগে — আগে সহজ তথ্যের প্রশ্নগুলো শেষ করুন।
- OMR সাবধানে: প্রশ্ন নম্বর আর OMR-এর ঘর মিলিয়ে ভরাট করুন — একটি ঘর সরে গেলে পরের সব উত্তর ভুল হয়ে যায়। বৃত্ত পুরোপুরি ভরাট করুন, নির্দেশনা অনুযায়ী কলম ব্যবহার করুন, আর ঘষামাজা করবেন না।
- ফাঁকা রাখবেন কি না: বোর্ড পরীক্ষার MCQ-তে সাধারণত ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটা হয় না, তাই অনুমান করে হলেও উত্তর দেওয়াই লাভজনক — তবে প্রশ্নপত্রের নির্দেশনা দেখে নিন। অনেক চাকরির পরীক্ষায় ভুল উত্তরে নম্বর কাটা হয়; সেই কৌশল পর্ব ৫২-এ।
এবার প্রশ্নব্যাংক। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর বেছে নিন — ভুল হলে কারণসহ ব্যাখ্যা দেখাবে, আবার চেষ্টাও করা যাবে। সব প্রশ্নের শেষে মোট স্কোর দেখাবে।
অধ্যায় ১ — বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত (১০টি)
ঝালিয়ে নিন: পর্ব ১৫, পর্ব ৪৫, পর্ব ৪৬
(সহজ) “বিশ্বগ্রাম” (global village) ধারণাটি কে জনপ্রিয় করেন?
- Bill Gates
- Marshall McLuhan
- Tim Berners-Lee
- Charles Babbage
(সহজ) ইন্টারনেট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে দূরের রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়াকে কী বলে?
- ই-লার্নিং
- ই-গভর্নেন্স
- ই-কমার্স
- টেলিমেডিসিন
(মাঝারি) ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রিমাত্রিক দৃশ্য দেখার জন্য মাথায় পরা যন্ত্রকে কী বলে?
- HMD
- GPS
- RFID
- OCR
(সহজ) ক্রায়োসার্জারিতে অস্বাভাবিক টিস্যু ধ্বংস করতে মূলত কী ব্যবহার করা হয়?
- অত্যধিক তাপ
- এক্স-রে
- অতি নিম্ন তাপমাত্রা
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র
(মাঝারি) নিচের কোনটি আচরণগত (behavioral) বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য?
- আঙুলের ছাপ
- চোখের আইরিস
- মুখের গঠন
- হাতের স্বাক্ষর
(মাঝারি) ন্যানোটেকনোলজির একক ১ ন্যানোমিটার সমান কত মিটার?
- 10−6 মিটার
- 10−9 মিটার
- 10−12 মিটার
- 10−3 মিটার
(সহজ) অন্যের লেখা, ছবি বা গবেষণা সূত্র উল্লেখ না করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়াকে কী বলে?
- প্লেজিয়ারিজম
- হ্যাকিং
- স্প্যামিং
- ফিশিং
(কঠিন) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ —
i. বিশেষজ্ঞ ব্যবস্থা (expert system) দিয়ে রোগ নির্ণয়ে সহায়তা
ii. যন্ত্রের মাধ্যমে এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় অনুবাদ
iii. বারকোড রিডার দিয়ে পণ্যের দাম পড়া
নিচের কোনটি সঠিক?
- i ও iii
- ii ও iii
- i ও ii
- i, ii ও iii
(মাঝারি) DNA ও প্রোটিনের ক্রমের মতো জীববিজ্ঞানের ডেটা কম্পিউটারে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের বিজ্ঞানকে কী বলে?
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং
- বায়োইনফরমেটিক্স
- ন্যানোটেকনোলজি
- বায়োমেট্রিক্স
(মাঝারি) লাইসেন্স না কিনে বাণিজ্যিক সফটওয়্যার কপি করে ব্যবহার বা বিতরণ করাকে কী বলে?
- ফ্রিওয়্যার ব্যবহার
- ওপেন সোর্স ব্যবহার
- শেয়ারওয়্যার ব্যবহার
- সফটওয়্যার পাইরেসি
অধ্যায় ২ — কমিউনিকেশন সিস্টেমস ও নেটওয়ার্কিং (১০টি)
ঝালিয়ে নিন: পর্ব ৩০, পর্ব ৩১, পর্ব ৩২, পর্ব ৩৫
(সহজ) ডেটা ট্রান্সমিশন স্পিড (ব্যান্ডউইথ) সাধারণত কোন এককে মাপা হয়?
- bps
- dpi
- ppm
- rpm
(সহজ) ওয়াকি-টকিতে একজন কথা বললে অন্যজন তখন শুধু শোনেন। এটি কোন ট্রান্সমিশন মোড?
- সিমপ্লেক্স
- হাফ-ডুপ্লেক্স
- ফুল-ডুপ্লেক্স
- ব্রডকাস্ট
(মাঝারি) অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে প্রতিটি অক্ষরের আগে ও পরে কী যোগ করা হয়?
- ব্লকের header ও trailer
- শুধু parity bit
- start bit আর stop bit
- কিছুই যোগ করা হয় না
(মাঝারি) কোন মাধ্যমে ডেটা আলোর সংকেত হিসেবে যায় এবং বৈদ্যুতিক নয়েজ প্রভাব ফেলে না?
- টুইস্টেড পেয়ার
- কো-এক্সিয়াল কেবল
- মাইক্রোওয়েভ
- অপটিক্যাল ফাইবার
(সহজ) Bluetooth দিয়ে কয়েক মিটারের মধ্যে ফোন, হেডফোন আর ঘড়ি যুক্ত করে যে নেটওয়ার্ক হয়, তা কোন ধরনের?
- PAN
- LAN
- MAN
- WAN
(মাঝারি) স্টার টপোলজির বৈশিষ্ট্য কোনটি?
- সব কম্পিউটার একটি মূল তারে যুক্ত
- একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকিরা চলে
- প্রতিটি কম্পিউটার পাশের দুটির সাথে বৃত্তাকারে যুক্ত
- প্রতিটি কম্পিউটার সবার সাথে সরাসরি যুক্ত
(কঠিন) ৮টি কম্পিউটারকে পূর্ণ মেশ টপোলজিতে যুক্ত করতে কতটি সংযোগ-তার লাগবে?
- 56টি
- 16টি
- 28টি
- 7টি
(মাঝারি) মোবাইল ফোনের কোন প্রজন্মে প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতি (যেমন GSM) আর SMS চালু হয়?
- 3G
- 1G
- 4G
- 2G
(মাঝারি) ক্লাউড কম্পিউটিং-এর বৈশিষ্ট্য —
i. যতটুকু ব্যবহার ততটুকু অর্থ পরিশোধ
ii. প্রয়োজনমতো সেবা বাড়ানো-কমানো যায়
iii. ব্যবহারকারীকে নিজস্ব সার্ভার কিনে রাখতে হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
- i ও ii
- i ও iii
- ii ও iii
- i, ii ও iii
(মাঝারি) কোন নেটওয়ার্ক ডিভাইস দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্ক (যেমন বাসার LAN আর ইন্টারনেট) যুক্ত করে এবং ডেটা পাঠানোর পথ ঠিক করে?
- হাব
- রিপিটার
- রাউটার
- সুইচ
অধ্যায় ৩ — সংখ্যা পদ্ধতি ও ডিজিটাল ডিভাইস (১২টি)
ঝালিয়ে নিন: পর্ব ১৬, পর্ব ১৭, পর্ব ১৮, পর্ব ১৯, পর্ব ২০, পর্ব ২১, পর্ব ২২
(সহজ) (101101)2-এর দশমিক মান কত?
- 43
- 45
- 54
- 90
(সহজ) (2B)16-এর দশমিক মান কত?
- 34
- 211
- 43
- 27
(মাঝারি) (157)8-এর দশমিক মান কত?
- 111
- 157
- 71
- 95
(সহজ) হেক্সাডেসিমাল পদ্ধতির সবচেয়ে বড় একক অঙ্ক কোনটি, আর তার দশমিক মান কত?
- 9, মান 9
- G, মান 16
- F, মান 16
- F, মান 15
(কঠিন) ৮-বিট 2's complement পদ্ধতিতে −5 কীভাবে লেখা হয়?
- 10000101
- 11111010
- 11111011
- 00000101
(মাঝারি) দশমিক 59-এর BCD কোড কোনটি?
- 111011
- 0101 1001
- 0011 1011
- 0110 1001
(সহজ) ASCII কোডে বড় হাতের ইংরেজি অক্ষর A-এর দশমিক মান কত?
- 65
- 97
- 48
- 32
(সহজ) ইউনিভার্সাল গেট —
i. NAND
ii. NOR
iii. XOR
নিচের কোনটি সঠিক?
- i ও iii
- ii ও iii
- i, ii ও iii
- i ও ii
(মাঝারি) বুলিয়ান এক্সপ্রেশন A + A′B-এর সরল রূপ কোনটি?
- A
- B
- A + B
- AB
(মাঝারি) ডি মরগানের উপপাদ্য অনুযায়ী (A + B)′ সমান কোনটি?
- A′ + B′
- A′·B′
- A·B
- (A·B)′
(মাঝারি) হাফ অ্যাডারের যোগফল (Sum) আর ক্যারি (Carry)-র সমীকরণ কোনটি?
- Sum = A ⊕ B, Carry = A·B
- Sum = A + B, Carry = A·B
- Sum = A·B, Carry = A ⊕ B
- Sum = (A·B)′, Carry = A + B
(মাঝারি) এক বিট ডেটা ধরে রাখতে পারে এবং সিকুয়েন্সিয়াল সার্কিটের মূল একক — এমন সার্কিট কোনটি?
- হাফ অ্যাডার
- ডিকোডার
- মাল্টিপ্লেক্সার
- ফ্লিপ-ফ্লপ
অধ্যায় ৪ — ওয়েব ডিজাইন ও HTML (৯টি)
ঝালিয়ে নিন: পর্ব ৩৬, পর্ব ৩৭, পর্ব ৩৪
(সহজ) HTML কোন ধরনের ভাষা?
- প্রোগ্রামিং ভাষা
- মেশিন ভাষা
- মার্কআপ ভাষা
- অ্যাসেম্বলি ভাষা
(সহজ) ওয়েব পেজে অন্য পাতায় যাওয়ার লিংক তৈরিতে কোন ট্যাগ ব্যবহার হয়?
<link><a><href><url>
(সহজ) HTML টেবিলে একটি সারি (row) তৈরির ট্যাগ কোনটি?
- tr
- td
- th
- row
(মাঝারি) টেবিলের একটি ঘরকে পাশাপাশি তিনটি কলাম জুড়ে চওড়া করতে কোনটি লিখতে হবে?
- rowspan="3"
- cellspacing="3"
- width="3"
- colspan="3"
(মাঝারি) যে ট্যাগের আলাদা শেষ ট্যাগ (closing tag) লাগে না —
i. <br>
ii. <img>
iii. <table>
নিচের কোনটি সঠিক?
- i ও ii
- i ও iii
- ii ও iii
- i, ii ও iii
(সহজ) ওয়েব পেজে সবচেয়ে বড় আকারের শিরোনাম কোন ট্যাগ দেয়?
- h6
- head
- h1
- header
(মাঝারি) ১, ২, ৩ — এভাবে ক্রমিক নম্বরযুক্ত তালিকা তৈরির ট্যাগ কোনটি?
- ul
- ol
- li
- dl
(মাঝারি) <img src="logo.png" alt="কলেজের লোগো"> — এখানে alt attribute-এর কাজ কী?
- ছবির আকার ঠিক করা
- ছবির ফাইলের ঠিকানা দেওয়া
- ছবিকে লিংক বানানো
- ছবি না দেখা গেলে বিকল্প লেখা দেখানো
(মাঝারি) বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত দেশভিত্তিক টপ-লেভেল ডোমেইন কোনটি?
- .bd
- .bn
- .bg
- .ban
অধ্যায় ৫ — প্রোগ্রামিং ভাষা (১০টি)
ঝালিয়ে নিন: পর্ব ৩৮, পর্ব ৩৯, পর্ব ৪০
(সহজ) কোন অনুবাদক উচ্চস্তরের ভাষার পুরো প্রোগ্রাম একবারে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে?
- ইন্টারপ্রেটার
- অ্যাসেম্বলার
- কম্পাইলার
- এডিটর
(সহজ) শুধু 0 আর 1 দিয়ে লেখা, যা কম্পিউটার কোনো অনুবাদ ছাড়াই সরাসরি বোঝে — কোন ভাষা?
- অ্যাসেম্বলি ভাষা
- মেশিন ভাষা
- উচ্চস্তরের ভাষা
- চতুর্থ প্রজন্মের ভাষা
(সহজ) ফ্লোচার্টে সিদ্ধান্ত বা শর্ত (হ্যাঁ/না) বোঝাতে কোন প্রতীক ব্যবহার হয়?
- আয়তক্ষেত্র
- উপবৃত্ত
- সামান্তরিক
- রম্বস
(সহজ) C-তে একটি int ভ্যারিয়েবলের মান printf দিয়ে দেখাতে কোন format specifier লাগে?
- %d
- %f
- %c
- %s
(মাঝারি) C-তে int a = 7, b = 2; হলে printf("%d", a / b);-এর আউটপুট কী?
- 3.5
- 4
- 3
- 1
(কঠিন) C-তে for (i = 1; i <= 10; i = i + 3) লুপটির শরীর কতবার চলবে?
- 3 বার
- 4 বার
- 10 বার
- 5 বার
(মাঝারি) C-তে int a[5]; ঘোষণার পর অ্যারের শেষ বৈধ উপাদান কোনটি?
- a[1]
- a[5]
- a[6]
- a[4]
(মাঝারি) C-তে নিচের কোনটি বৈধ identifier (ভ্যারিয়েবলের নাম)?
- total_marks
- 2nd_roll
- float
- my marks
(সহজ) শর্ত শুরু থেকেই মিথ্যা হলেও কোন লুপের শরীর অন্তত একবার চলে?
- for
- while
- do-while
- তিনটিই
(মাঝারি) C-তে int s = 0, i; for (i = 1; i <= 4; i++) s = s + i; printf("%d", s);-এর আউটপুট কী?
- 4
- 6
- 15
- 10
অধ্যায় ৬ — ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (৯টি)
(সহজ) নিচের কোনটি DBMS সফটওয়্যার নয়?
- MySQL
- MS Word
- Oracle
- MS Access
(সহজ) ডেটাবেস টেবিলের একটি সারি (row), যেখানে একজনের সব তথ্য থাকে, তাকে কী বলে?
- রেকর্ড
- ফিল্ড
- কি
- কোয়েরি
(মাঝারি) প্রাইমারি কি-র বৈশিষ্ট্য —
i. প্রতিটি রেকর্ডে মান অনন্য
ii. মান ফাঁকা (NULL) থাকতে পারে না
iii. একটি টেবিলে একাধিক প্রাইমারি কি থাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
- i ও iii
- ii ও iii
- i ও ii
- i, ii ও iii
(মাঝারি) এক টেবিলের যে ফিল্ড অন্য টেবিলের প্রাইমারি কি-কে নির্দেশ করে দুই টেবিলের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে, তাকে কী বলে?
- ক্যান্ডিডেট কি
- কম্পোজিট কি
- সুপার কি
- ফরেন কি
(সহজ) টেবিল থেকে তথ্য খুঁজে দেখানোর SQL কমান্ড কোনটি?
- SELECT
- INSERT
- UPDATE
- DELETE
(মাঝারি) SQL-এ ORDER BY GPA DESC কী করে?
- GPA ছোট থেকে বড় ক্রমে সাজায়
- GPA বড় থেকে ছোট ক্রমে সাজায়
- GPA শূন্য এমন রেকর্ড বাদ দেয়
- GPA অনুযায়ী দলে ভাগ করে
(মাঝারি) একটি বিভাগে অনেক শিক্ষার্থী, কিন্তু প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটিমাত্র বিভাগে — Department আর Student টেবিলের সম্পর্ক কোন ধরনের?
- one-to-one
- many-to-many
- one-to-many
- কোনো সম্পর্ক নেই
(কঠিন) Student টেবিলের পাঁচটি রেকর্ডে GPA-র মান 5.00, 4.50, 4.25, 4.75 আর 3.80. SELECT Name FROM Student WHERE GPA >= 4.5; চালালে কয়টি নাম আসবে?
- 3টি
- 2টি
- 4টি
- 1টি
(মাঝারি) ডেটাবেসে সর্টিং আর ইনডেক্সিং-এর পার্থক্য কোনটি?
- সর্টিং মূল টেবিলের ক্রম বদলায় না
- দুটি একই কাজ করে
- ইনডেক্সিং ডেটা মুছে ফেলে
- ইনডেক্সিং মূল ক্রম না বদলে আলাদা সূচি তৈরি করে
৮ · প্রতিটি অধ্যায়ের সাধারণ ভুল — যেখানে সহজ নম্বর হারায়
পরীক্ষার খাতায় বেশিরভাগ নম্বর হারায় না-জানার কারণে নয়, জানা জিনিসে অসাবধানতায়। নিচের তালিকাটি রিভিশনের শেষ দিনে একবার পড়ে নিন, আর অনুশীলনের খাতায় নিজের ভুলগুলো এর পাশে লিখে রাখুন।
| অধ্যায় | সাধারণ ভুল | ঠিক অভ্যাস |
|---|---|---|
| ১ | ঘ-অংশে শুধু সুবিধার তালিকা, অসুবিধা বা নৈতিক দিক বাদ | দুই দিক লিখে উদ্দীপকের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত |
| VR আর AR, বায়োইনফরমেটিক্স আর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং গুলিয়ে ফেলা | প্রতিটির এক লাইনের সংজ্ঞা আর একটি বাংলাদেশি উদাহরণ মুখস্থ নয়, বুঝে রাখা | |
| উদ্দীপকের প্রযুক্তি না চিনে সাধারণ রচনা লেখা | প্রথম লাইনেই নাম: “উদ্দীপকে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো …” | |
| ২ | half duplex আর full duplex-এর উদাহরণ উল্টে যাওয়া | ওয়াকি-টকি = half, মোবাইল কল = full, রেডিও-টিভি = simplex |
| মেশের সংযোগ-সংখ্যায় n(n − 1) লিখে ২ দিয়ে ভাগ ভুলে যাওয়া | সূত্র n(n − 1)/2, পোর্ট n − 1 — দুটি আলাদা প্রশ্ন | |
| bps আর Bps, Mbps আর MB গুলিয়ে ফেলা | গতি ছোট b (bit), আকার বড় B (byte); ৮ গুণ পার্থক্য | |
| ৩ | ভাগশেষ ওপর থেকে নিচে পড়া | পূর্ণ অংশে ভাগশেষ নিচ থেকে ওপরে; ভগ্নাংশে গুণফলের পূর্ণ অংশ ওপর থেকে নিচে |
| উত্তরে বেস (ভিত্তি) না লেখা | প্রতিটি সংখ্যার পাশে (…)2, (…)16 | |
| 2's complement-এ 1 যোগ করতে ভুলে যাওয়া, বা ৮ বিট পূর্ণ না করা | আগে বাঁয়ে 0 বসিয়ে নির্দিষ্ট বিট পূর্ণ করুন, তারপর উল্টান, তারপর +1 | |
| truth table-এ সারি বাদ পড়া (তিন চলকে ৮টি) | n চলকে 2n সারি; বাইনারি গণনার ক্রমে 000 থেকে 111 | |
| ৪ | rowspan আর colspan উল্টে লেখা | row = সারি (খাড়া লম্বা), col = কলাম (আড়াআড়ি চওড়া) |
| rowspan দেওয়া ঘরের পরের সারিতে আবার সেই কলামের ঘর লেখা | প্রতিটি সারির ঘর গুনে মোট কলামের সাথে মেলান | |
| attribute-এর মান উদ্ধৃতিচিহ্ন ছাড়া, ট্যাগ বন্ধ না করা | href="..."; যা খোলেন তা উল্টো ক্রমে বন্ধ করুন | |
| ৫ | scanf-এ & ভুলে যাওয়া, statement-এর শেষে ; না দেওয়া | লেখা শেষে প্রতিটি লাইন একবার চোখ বুলিয়ে দেখুন |
| যোগফলের ভ্যারিয়েবল 0 আর গুণফলের 1 দিয়ে শুরু না করা | sum = 0, fact = 1 — ঘোষণার সাথেই | |
| dry-run না করে আন্দাজে আউটপুট লেখা | ভ্যারিয়েবলের কলামসহ ছোট টেবিল, প্রতিটি ঘুরের সারি | |
| ফ্লোচার্টে ভুল প্রতীক, তীর ছাড়া বাক্স | শুরু-শেষ উপবৃত্ত, ইনপুট-আউটপুট সামান্তরিক, হিসাব আয়ত, শর্ত রম্বস | |
| ৬ | SQL-এ লেখা মান উদ্ধৃতি ছাড়া (WHERE Dept = Science) | লেখা মান 'Science', সংখ্যা উদ্ধৃতি ছাড়া |
| প্রাইমারি কি হিসেবে নাম বেছে নেওয়া | যে ফিল্ডের মান কখনো পুনরাবৃত্ত হবে না — রোল, আইডি | |
| সর্টিং আর ইনডেক্সিং গুলিয়ে ফেলা | সর্ট মূল ক্রম বদলায়; ইনডেক্স আলাদা সূচি রাখে |
লেখার ভুলও নম্বর কাটে: ICT-র অনেক শব্দ ইংরেজি — Duplex, Hexadecimal, Encryption, Normalization. বানান ভুল সাধারণত বড় নম্বর কাটে না, কিন্তু printf-এর জায়গায় print বা <tr>-এর জায়গায় <tl> লিখলে কোডটিই ভুল হয়ে যায়। কোড, ট্যাগ আর সূত্র লেখার সময় প্রতিটি অক্ষর গুরুত্বপূর্ণ।
আরও গভীরে: HSC-র সিলেবাস প্রতিটি বিষয়ের প্রথম ধাপ মাত্র। গেট আর ফ্লিপ-ফ্লপ থেকে আসল CPU কীভাবে তৈরি হয় জানতে কম্পিউটার আর্কিটেকচার, টপোলজির পরে প্রোটোকলের গভীরে যেতে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, আর পূর্ণ C ও SQL শিখতে C প্রোগ্রামিং ও DBMS ও SQL কোর্স দেখুন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়তে চাইলে এগুলো সরাসরি কাজে লাগবে।
৯ · রিভিশন পরিকল্পনা — ৮ সপ্তাহ, ২ সপ্তাহ আর পরীক্ষার দিন
পরিকল্পনা ছাড়া রিভিশন মানে প্রিয় অধ্যায় বারবার পড়া আর কঠিন অধ্যায় এড়িয়ে যাওয়া। নিচের দুটি রুটিন উদাহরণ — নিজের দুর্বলতা আর অন্য বিষয়ের চাপ বুঝে বদলে নিন। প্রতিদিন ICT-র জন্য ৪৫–৬০ মিনিট ধরা হয়েছে।
৮ সপ্তাহের পরিকল্পনা (হাতে যথেষ্ট সময় থাকলে)
| সপ্তাহ | অধ্যায় ও পর্ব | কাজ |
|---|---|---|
| ১ | অধ্যায় ৩ — সংখ্যা পদ্ধতি, বাইনারি গণিত, কোড (পর্ব ১৬–১৮) | প্রতিদিন ১০টি রূপান্তর, ৩টি 2's complement বিয়োগ; শেষে সৃজনশীল ৫ |
| ২ | অধ্যায় ৩ — বুলিয়ান, গেট, সার্কিট (পর্ব ১৯–২২) | প্রতিদিন ২টি সার্কিট থেকে সমীকরণ ও truth table; সৃজনশীল ৬; গেটের চিহ্ন আঁকার অনুশীলন |
| ৩ | অধ্যায় ৫ — অ্যালগরিদম, ফ্লোচার্ট, C-র ভিত্তি (পর্ব ৩৮–৩৯) | যোগফল, factorial, জোড়-বিজোড়, বড় সংখ্যা, লিপ ইয়ার — হাতে লেখা ও dry-run |
| ৪ | অধ্যায় ৫ — লুপ, অ্যারে, ফাংশন (পর্ব ৩৯–৪০); সাথে অধ্যায় ৪ (পর্ব ৩৬–৩৭) | সৃজনশীল ৮; HTML-এ টেবিল, লিংক, তালিকা নিজে লিখে ব্রাউজারে চালানো; সৃজনশীল ৭ |
| ৫ | অধ্যায় ২ (পর্ব ৩০–৩৫) | মোড, পদ্ধতি, মাধ্যম, টপোলজির তুলনা-টেবিল নিজে বানানো; সৃজনশীল ৩–৪ |
| ৬ | অধ্যায় ৬ (পর্ব ৪১–৪২) আর অধ্যায় ১ (পর্ব ১৫, ৪৫–৪৬) | SELECT-WHERE-ORDER BY লেখা; সৃজনশীল ১, ২, ৯; প্রতিটি নতুন প্রযুক্তির এক লাইনের সংজ্ঞা-কার্ড |
| ৭ | সব অধ্যায় — মিশ্র অনুশীলন | প্রতিদিন একটি পূর্ণ সৃজনশীল ঘড়ি ধরে (২৫ মিনিট) + ২৫টি MCQ; ভুলের খাতা হালনাগাদ |
| ৮ | পূর্ণ মডেল টেস্ট | সপ্তাহে অন্তত দুটি পূর্ণ সময়ের মডেল টেস্ট; বাকি দিনগুলো শুধু ভুলের খাতা আর অংশ ৮-এর তালিকা |
২ সপ্তাহের পরিকল্পনা (সময় কম হলে)
| দিন | কাজ |
|---|---|
| ১–৩ | অধ্যায় ৩: রূপান্তর, 2's complement, গেট, সমীকরণ থেকে truth table — নম্বর পাওয়া সবচেয়ে নিশ্চিত এখানে |
| ৪–৬ | অধ্যায় ৫: ১০টি ক্লাসিক C প্রোগ্রাম হাতে লেখা, প্রতিটির একটি dry-run; ফ্লোচার্টের প্রতীক |
| ৭–৮ | অধ্যায় ৪: মৌলিক ট্যাগ, টেবিল (rowspan-colspan), লিংক, ছবি, তালিকা; একটি পূর্ণ পাতা নিজে লেখা |
| ৯–১০ | অধ্যায় ২ আর ৬: তুলনা-টেবিল (মোড, মাধ্যম, টপোলজি, key), মৌলিক SQL |
| ১১ | অধ্যায় ১: সংজ্ঞা-কার্ড, নৈতিকতা ও আইনের মূল কথা |
| ১২–১৩ | দুটি পূর্ণ মডেল টেস্ট, ঘড়ি ধরে; উত্তর মিলিয়ে ভুলের খাতা |
| ১৪ | শুধু হালকা রিভিশন: অংশ ৮-এর তালিকা, সূত্রের পাতা, ভুলের খাতা। নতুন কিছু শুরু নয়, রাতে পুরো ঘুম |
ক্রিকেটের নেট-প্র্যাকটিস: একজন ব্যাটসম্যান ম্যাচের আগে নেটে একই শট শত শত বার খেলেন, যাতে মাঠে ভাবতে না হয়। রূপান্তর, truth table আর C-র লুপ ঠিক তেমন — অনুশীলনে এতবার করুন যেন পরীক্ষার হলে হাত নিজেই চলে, আর মাথা খালি থাকে ঘ-অংশের বিশ্লেষণের জন্য।
পরীক্ষার আগের রাত আর পরীক্ষার দিন
১০ · AI দিয়ে অনুশীলন — প্রশ্ন বানাবে AI, উত্তর লিখবেন আপনি
ChatGPT, Gemini বা Claude-এর মতো AI চ্যাটবট অনুশীলনের দারুণ সঙ্গী হতে পারে — যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করেন। তিনটি কাজে AI সত্যিই সাহায্য করে: নতুন উদ্দীপক বানানো (একই ধাঁচের অসংখ্য প্রশ্ন), আপনার লেখা উত্তরে কী বাদ পড়েছে তা দেখানো, আর কঠিন ধারণা আরেকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া। কিন্তু AI-এর লেখা উত্তর মুখস্থ করা অনুশীলন নয় — পরীক্ষার হলে AI থাকবে না, থাকবেন শুধু আপনি আর খাতা।
পরীক্ষার হলে AI নয় — কখনোই নয়। পরীক্ষায় মোবাইল, স্মার্টওয়াচ বা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র নেওয়া সাধারণত নিষিদ্ধ, আর AI বা অন্য কারও সাহায্যে উত্তর লেখা অসদুপায় — ধরা পড়লে বহিষ্কারসহ কঠোর শাস্তি হতে পারে। AI শুধু প্রস্তুতির সময়ের জন্য, আর সেখানেও উত্তর লেখার কাজটি আপনার নিজের।
নিচের prompt-টি কপি করে অধ্যায়ের নাম বসিয়ে ব্যবহার করুন। লক্ষ করুন, AI-কে আগে উত্তর দিতে নিষেধ করা হয়েছে:
AI-এর প্রশ্ন বা উত্তর হাতে পেলে — যাচাইয়ের চেকলিস্ট
শেষ চেকটিই আসল মাপকাঠি। AI-কে দিয়ে প্রশ্ন বানিয়ে নিজে উত্তর লেখা — অনেকটা ব্যায়ামাগারে প্রশিক্ষক রাখার মতো: তিনি ওজন ঠিক করে দেন, কিন্তু তুলতে হয় আপনাকেই।
কৌশলের প্রশ্ন — শিক্ষার্থীরা যা সবচেয়ে বেশি জানতে চান
প্রস্তুতির সময় যে প্রশ্নগুলো প্রায় সবার মনে আসে। প্রশ্ন নিয়ে আগে নিজে একটু ভাবুন — তারপর “→ উত্তর” চাপুন।
প্র ০১পরীক্ষার হলে সময় শেষ হয়ে যায় — সৃজনশীল আর MCQ-তে সময় কীভাবে ভাগ করব?
সময়ের সমস্যা প্রায় সবসময় একটি জায়গা থেকে আসে: প্রথম দুটি প্রশ্নে অনেক বেশি লেখা। শুরুতে মন তাজা থাকে, তাই প্রথম প্রশ্নের ঘ-অংশে দেড় পাতা লিখে ফেলা সহজ — আর তার দাম দিতে হয় শেষ প্রশ্নে, যেখানে ঘ-অংশ লেখার সময়ই থাকে না। মনে রাখুন, ঘ-অংশের নম্বর নির্দিষ্ট; দেড় পাতা লিখলে বেশি নম্বর আসে না, কিন্তু শেষের ঘ-অংশ ফাঁকা থাকলে সেই পুরো নম্বরই হারায়।
প্রথম কাজ হলো নিজের পরীক্ষার হিসাব: মোট সময় ÷ মোট নম্বর = প্রতি নম্বরে কত মিনিট। শেষে রিভিশনের জন্য কিছু সময় আলাদা রাখুন। তারপর প্রতিটি সৃজনশীল শুরুর আগে ঘড়ি দেখে খাতার মার্জিনে ছোট করে লিখুন কখন শেষ করবেন। সেই সময় এলে উত্তর অসম্পূর্ণ হলেও দুই লাইনে সিদ্ধান্ত লিখে পরের প্রশ্নে যান — পরে সময় থাকলে ফিরে আসবেন।
ক-অংশ এক মিনিটে, খ-অংশ চার–পাঁচ মিনিটে শেষ করার অভ্যাস করুন — এগুলো জানা থাকলে দ্রুত লেখা যায়। বাঁচানো সময় যায় গ আর ঘ-তে। প্রশ্ন বাছাইয়েও সময় বাঁচে: যে প্রশ্নের গ-অংশের হিসাব আপনি অনুশীলনে বহুবার করেছেন, তা আগে করুন; এতে শুরুতেই আত্মবিশ্বাস আসে।
MCQ-তে নিয়ম ভিন্ন। দুই দফায় চলুন: প্রথম দফায় নিশ্চিত প্রশ্নগুলো, দ্বিতীয় দফায় সন্দেহেরগুলো। একটি প্রশ্নে আটকে গেলে এক মিনিটের বেশি দেবেন না — একটি কঠিন প্রশ্নের জন্য তিনটি সহজ প্রশ্নের সময় নষ্ট করা লোকসান। হিসাবের MCQ (রূপান্তর, লুপ কতবার চলবে) শেষে রাখুন, আর প্রশ্নপত্রের মার্জিনে হিসাব করুন (নির্দেশনায় নিষেধ না থাকলে)।
সবচেয়ে বড় কৌশল কিন্তু বাসায়: অন্তত কয়েকটি পূর্ণ মডেল টেস্ট ঘড়ি ধরে দিন। প্রথমবার হয়তো সময় শেষ হবে চতুর্থ প্রশ্নে; তৃতীয়বারে দেখবেন সব শেষ করেও রিভিশনের সময় থাকছে। গতি আসে শুধু অনুশীলন থেকে।
মূল উপলব্ধি: সময় ব্যবস্থাপনা পরীক্ষার হলে শুরু হয় না — বাসায় ঘড়ি ধরে লেখার অভ্যাস থেকেই আসে।
প্র ০২লজিক সার্কিট, ফ্লোচার্ট আর টপোলজির চিত্র দ্রুত ও পরিষ্কার আঁকব কীভাবে?
ICT-তে চিত্রের নম্বর আসে নির্ভুলতা থেকে, শিল্পগুণ থেকে নয়। পরীক্ষক দেখেন: গেটের আকৃতি চেনা যায় কি না, ইনপুট-আউটপুটের নাম আছে কি না, তার কোথায় জোড়া লেগেছে তা স্পষ্ট কি না। এই তিনটি ঠিক রাখলে দ্রুত আঁকা চিত্রেও পুরো নম্বর পাওয়া যায়।
লজিক গেট: তিনটি মৌলিক আকৃতি মনে রাখুন। AND — পিঠ সোজা, মুখ অর্ধবৃত্ত (D-এর মতো)। OR — পিঠ বাঁকা, মুখ সূঁচালো (তিরের ফলার মতো)। NOT — ত্রিভুজ আর মাথায় ছোট বৃত্ত। বাকি সব এগুলো থেকে আসে: যেকোনো গেটের মুখে ছোট বৃত্ত বসালে NAND বা NOR; OR-এর পিঠের পেছনে আরেকটি বাঁকা দাগ দিলে XOR, আর XOR-এর মুখে ছোট বৃত্ত দিলে XNOR. প্রতিদিন পাঁচ মিনিট শুধু এই সাতটি চিহ্ন আঁকুন — এক সপ্তাহে হাতে বসে যাবে।
সার্কিট আঁকার ক্রম: আগে বাঁ দিকে ইনপুট A, B, C ওপর-নিচে লিখুন। তারপর এক্সপ্রেশনের ভেতরের অংশ থেকে বাইরের দিকে গেট বসান — Y = (A + B)·C′ হলে প্রথম স্তরে OR আর NOT, দ্বিতীয় স্তরে AND. তার টানুন সোজা আড়াআড়ি আর খাড়া দাগে, পেনসিল আর স্কেলে। তার জোড়া লাগার জায়গায় মোটা বিন্দু, জোড়া না লাগা আড়াআড়ি তারে বিন্দু নয় — এই নিয়ম না মানলে সার্কিটের অর্থই বদলে যায়। শেষে প্রতিটি গেটের আউটপুটের পাশে তার এক্সপ্রেশন লিখে দিন।
ফ্লোচার্ট: চারটি প্রতীকই যথেষ্ট — উপবৃত্ত (শুরু/শেষ), সামান্তরিক (ইনপুট/আউটপুট), আয়ত (হিসাব), রম্বস (শর্ত)। ওপর থেকে নিচে আঁকুন, প্রতিটি তীরে মাথা দিন, আর রম্বস থেকে বের হওয়া দুই তীরে “হ্যাঁ” আর “না” লিখুন। লুপ বোঝাতে তীর ঘুরিয়ে রম্বসের ওপরে ফেরান।
টপোলজি: কম্পিউটারকে ছোট আয়তক্ষেত্র বা বৃত্ত ধরে নিন, নাম লিখুন (PC1, PC2…)। স্টারে মাঝখানে সুইচ, বাসে একটি লম্বা দাগ আর দুই প্রান্তে terminator, রিং-এ বৃত্তাকারে, মেশে প্রতিটি জোড়ায় দাগ। মেশে ৫টির বেশি কম্পিউটার আঁকবেন না — দাগে খাতা ভরে যায়; সূত্র দিয়ে সংখ্যা বলুন।
মূল উপলব্ধি: নির্দিষ্ট ক্রম আর কয়েকটি নিয়ম মানলে চিত্র আঁকা দ্রুত হয় — আর পরিষ্কার চিত্র উত্তরের বাকি অংশকেও বিশ্বাসযোগ্য করে।
প্র ০৩C প্রোগ্রাম মুখস্থ করব, নাকি বুঝে লিখব? কতগুলো প্রোগ্রাম প্রস্তুত রাখা দরকার?
মুখস্থ করা প্রোগ্রাম পরীক্ষায় তখনই কাজে আসে, যখন প্রশ্নটি হুবহু একই আসে — সৃজনশীলে যা খুব কম হয়। উদ্দীপকের প্রোগ্রাম সামান্য বদলে দেওয়া থাকে: “১ থেকে n পর্যন্ত যোগফল” না হয়ে “জোড় সংখ্যার বর্গের যোগফল”, “factorial” না হয়ে “১ থেকে n পর্যন্ত গুণফলের সাথে যোগফল”. মুখস্থ যিনি করেছেন তিনি এখানে আটকে যান; বুঝে যিনি লিখেছেন তিনি দুটি লাইন বদলে উত্তর দেন।
তাই কৌশল হলো কয়েকটি ছাঁচ (pattern) বোঝা, যার ওপর প্রায় সব প্রশ্ন দাঁড়ায়: (১) সংখ্যা পড়ে শর্ত দেখা — জোড়-বিজোড়, ধনাত্মক-ঋণাত্মক, তিনটির মধ্যে বড়, গ্রেড (else-if ladder), লিপ ইয়ার; (২) লুপে জমানো — যোগফল (শুরু 0), গুণফল (শুরু 1), ধারা যেমন 1² + 2² + …, নামতা; (৩) অঙ্ক ভাঙা — n % 10 দিয়ে শেষ অঙ্ক, n / 10 দিয়ে বাদ — অঙ্কের যোগফল, উল্টো সংখ্যা; (৪) গণনা — মৌলিক সংখ্যা, গসাগু; (৫) অ্যারে — n টি সংখ্যার যোগফল, গড়, বড়-ছোট খোঁজা। এই পাঁচ ছাঁচ থেকে ১০–১৫টি প্রোগ্রাম বুঝে লিখলে প্রায় যেকোনো পরিবর্তিত প্রশ্ন সামলানো যায়।
প্রতিটি প্রোগ্রামের জন্য তিনটি কাজ করুন। প্রথমে অ্যালগরিদম বা ফ্লোচার্ট — কোডের আগে ধাপগুলো বাংলায়। তারপর কোড, নিজে হাতে খাতায়, কোনো কিছু দেখে নয়। শেষে ছোট একটি ইনপুটের জন্য dry-run টেবিল — প্রতিটি ঘুরে ভ্যারিয়েবলের মান। এরপর সম্ভব হলে কম্পিউটারে বা অনলাইন compiler-এ চালিয়ে মিলিয়ে নিন; এই পাতার “চালান” বোতামও সেই কাজে।
বুঝেছেন কি না পরীক্ষার একটি সহজ উপায়: প্রোগ্রামটিতে নিজে একটি পরিবর্তন আনুন। for লুপকে while-এ লিখুন, যোগফলকে গুণফলে বদলান, শর্ত উল্টে দিন — আর আগে অনুমান করুন আউটপুট কী হবে। অনুমান মিললে আপনি প্রোগ্রামটি বোঝেন। সৃজনশীল ৮-এর ঘ-অংশ ঠিক এই দক্ষতাই চায়।
মূল উপলব্ধি: প্রোগ্রাম নয়, ছাঁচ শিখুন — আর প্রতিটি ছাঁচ নিজে বদলে চালিয়ে দেখুন। তখন উদ্দীপকের নতুন প্রোগ্রামও চেনা লাগবে।
প্র ০৪ঘ-অংশে কত লাইন লিখব, আর “উদ্দীপকের সাথে মিল” বলতে আসলে কী বোঝায়?
দৈর্ঘ্যের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে মোটামুটি ১০–১৫ লাইন বা আধা থেকে পৌনে এক পাতা যথেষ্ট — যদি সেখানে বিশ্লেষণের সব উপাদান থাকে। দীর্ঘ উত্তর মানেই ভালো উত্তর নয়; পরীক্ষক দৈর্ঘ্য নয়, যুক্তির ধাপ দেখেন। দুই পাতার একটি বর্ণনা, যেখানে উদ্দীপকের নাম একবারও নেই, দশ লাইনের একটি তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণের চেয়ে কম নম্বর পেতে পারে।
“উদ্দীপকের সাথে মিল” মানে তিনটি জিনিস। প্রথমত, উদ্দীপকের নির্দিষ্ট তথ্য উত্তরে ব্যবহার — নাম (“অধ্যক্ষের পরিকল্পনা”), সংখ্যা (“১৬টি কম্পিউটার”), শর্ত (“সীমিত বাজেট”)। দ্বিতীয়ত, সেই তথ্য থেকে যুক্তি — “যেহেতু বাজেট সীমিত, তাই ১২০টি তারের মেশ বাস্তবসম্মত নয়।” তৃতীয়ত, সিদ্ধান্তও উদ্দীপকের প্রশ্নের ভাষায় — প্রশ্ন “কোনটি বেশি উপযোগী” হলে সিদ্ধান্তে একটির নাম স্পষ্ট লিখতে হবে, “দুটিরই সুবিধা আছে” লিখে থেমে গেলে প্রশ্নের উত্তর হয় না।
একটি ভালো কাঠামো (অংশ ৩-এর স্টেপারে দেখেছেন): প্রথম এক–দুই লাইনে উদ্দীপকের পরিস্থিতি ও প্রাসঙ্গিক ধারণার সংজ্ঞা; তারপর প্রমাণ — হিসাব, টেবিল বা কোড, যেখানে সম্ভব; তারপর দুই পক্ষের তুলনা; শেষে “সিদ্ধান্ত:” শিরোনামে রায়। হিসাব-ভিত্তিক ঘ-অংশে (যেমন সৃজনশীল ৫ বা ৬) বিশ্লেষণটাই হিসাব — সেখানে ধাপগুলো পরিষ্কার দেখিয়ে শেষে এক লাইনে ব্যাখ্যা করলেই হয়: “অতএব উক্তিটি যথার্থ, কারণ …”.
একটি সাধারণ ভুল হলো প্রশ্নের নির্দেশক শব্দ উপেক্ষা করা। “বিশ্লেষণ করুন” চায় ভেঙে দেখানো (কেন, কীভাবে); “মূল্যায়ন করুন” চায় ভালো-মন্দ বিচার করে রায়; “যৌক্তিকতা যাচাই করুন” চায় উক্তিটি সত্য কি না প্রমাণসহ। শব্দটি দেখে উত্তরের শেষ লাইনটি আগে মনে মনে ঠিক করে নিন — তারপর লিখতে শুরু করুন।
মূল উপলব্ধি: ঘ-অংশের নম্বর দৈর্ঘ্যে নয়, উদ্দীপকের তথ্য থেকে টেনে আনা যুক্তি আর স্পষ্ট সিদ্ধান্তে।
প্র ০৫অধ্যায় ১-এর মতো তথ্যনির্ভর অধ্যায় কীভাবে মনে রাখব? সব কি মুখস্থ করতে হবে?
অধ্যায় ১-এ নতুন প্রযুক্তির নাম অনেক — ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ক্রায়োসার্জারি, বায়োমেট্রিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ন্যানোটেকনোলজি, সঙ্গে নৈতিকতা আর বিশ্বগ্রাম। আলাদা আলাদা মুখস্থ করলে একটির সাথে আরেকটি গুলিয়ে যায়। কিন্তু এগুলোকে একটি সূত্রে বাঁধা যায়, যা পর্ব ৪৬ শুরু করেছিল: প্রতিটি প্রযুক্তি চারটি কাজের একটি করে — দেখা (সেন্সর, বায়োমেট্রিক্স), পাঠানো (নেটওয়ার্ক, বিশ্বগ্রাম), ভাবা (AI, বায়োইনফরমেটিক্স), করা (রোবটিক্স, ক্রায়োসার্জারি)।
প্রতিটি প্রযুক্তির জন্য একটি ছোট কার্ড বানান, চার লাইনের: (১) এক বাক্যের সংজ্ঞা — ক-অংশের উত্তর; (২) কীভাবে কাজ করে, একটি মূল শব্দসহ (ক্রায়ো — অতি শীতল; ন্যানো — 10−9 মিটার; বায়োমেট্রিক্স — শারীরিক বনাম আচরণগত); (৩) বাংলাদেশের একটি উদাহরণ — পোশাক কারখানার হাজিরা, সিম নিবন্ধনে আঙুলের ছাপ, কৃষিতে জিনগতভাবে উন্নত ফসল, টেলিমেডিসিন; (৪) একটি ঝুঁকি বা নৈতিক প্রশ্ন — গোপনীয়তা, চাকরি হারানোর ভয়, জৈব নিরাপত্তা। চতুর্থ লাইনটিই ঘ-অংশে কাজে লাগে।
এই অধ্যায়ের সৃজনশীল প্রায়ই একটি গল্প দিয়ে আসে, যেখানে প্রযুক্তির নাম বলা থাকে না — শুধু বর্ণনা: “মাথায় একটি চশমা পরে ত্রিমাত্রিক জগতে হাঁটা”, “আঙুলের ছাপ দিয়ে অফিসে প্রবেশ”. তাই কার্ডের দ্বিতীয় লাইনের মূল শব্দগুলো চিনতে পারাই প্রথম কাজ। অনুশীলনের জন্য AI-কে বলতে পারেন: “প্রযুক্তির নাম না বলে একটি দৈনন্দিন ঘটনা বর্ণনা করো, আমি প্রযুক্তি চিনব।”
সাল আর ব্যক্তির নামে (যেমন বিশ্বগ্রাম ধারণা — মার্শাল ম্যাকলুহান, ১৯৬০-এর দশক) সতর্ক থাকুন — পাঠ্যবইয়ে যা আছে তা-ই লিখুন, আর অন্য সূত্রে ভিন্ন তথ্য দেখলে পাঠ্যবইয়ের সাথে মিলিয়ে নিন। আইনের ক্ষেত্রেও একই কথা: ICT আইন ২০০৬, পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮, সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ — আর ২০২৫ সালে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ; পাঠ্যবই কোন সংস্করণের তার ওপর নির্ভর করে কোনটি উল্লেখ আছে।
মূল উপলব্ধি: তথ্যের তালিকা নয়, প্রতিটি প্রযুক্তির “কী, কীভাবে, কোথায়, কী ঝুঁকি” — এই চার প্রশ্নের উত্তর জানলে অধ্যায় ১-এর যেকোনো উদ্দীপক সামলানো যায়।
প্র ০৬ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য কী প্রস্তুতি নেব, আর তত্ত্বের সাথে তার সম্পর্ক কী?
ব্যবহারিক অংশকে অনেকে “এমনিতেই নম্বর আসে” ভেবে অবহেলা করেন — এটি ভুল। ব্যবহারিকে সাধারণত কম্পিউটারে একটি কাজ করে দেখাতে হয়, ব্যবহারিক খাতা জমা দিতে হয়, আর পরীক্ষক মুখে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। কোন কাজগুলো আসবে আর নম্বর কীভাবে ভাগ হবে, তা বোর্ডের নির্দেশনা ও আপনার প্রতিষ্ঠান জানাবে; তবে ICT-তে সাধারণত এই ধরনের কাজ থাকে: HTML দিয়ে একটি পাতা বা টেবিল, একটি C প্রোগ্রাম লিখে চালানো, ডেটাবেসে টেবিল বানিয়ে খোঁজা বা সাজানো, লজিক গেটের truth table যাচাই, অফিস সফটওয়্যারের কাজ।
মজার ব্যাপার হলো, ব্যবহারিক প্রস্তুতি তত্ত্বের প্রস্তুতিকেও মজবুত করে। নিজের হাতে rowspan দিয়ে একটি টেবিল বানিয়ে ব্রাউজারে দেখলে সেটি আর কখনো colspan-এর সাথে গুলিয়ে যায় না। নিজে একটি C প্রোগ্রামে & বাদ দিয়ে চালিয়ে দেখলে scanf-এর নিয়ম মনে গেঁথে যায়। তাই ৮ সপ্তাহের পরিকল্পনায় প্রতিটি অধ্যায়ের সাথে কম্পিউটারে কাজের সময় রাখা হয়েছে।
ঘরে কম্পিউটার না থাকলেও উপায় আছে। HTML লেখা আর দেখা যায় মোবাইলের ব্রাউজারেই — অনলাইন HTML এডিটরে, বা এই কোর্সের পাতাগুলোর “চালান” বোতামে। C-এর জন্য মোবাইলে খোলা যায় এমন অনলাইন compiler আছে। কলেজের ল্যাবের নির্ধারিত সময়টি পুরোপুরি কাজে লাগান — খাতায় আগে কোড লিখে নিয়ে যান, ল্যাবে শুধু টাইপ করে চালান।
মৌখিক অংশে প্রশ্ন হয় আপনার নিজের কাজ নিয়েই: “rowspan কেন দিলেন?”, “এই লুপ কতবার চলবে?”, “প্রাইমারি কি কোনটি, কেন?” — অর্থাৎ ক আর খ-অংশের মতো প্রশ্ন। নিজের করা কাজটি ব্যাখ্যা করতে পারলেই যথেষ্ট। বিস্তারিত প্রস্তুতি, ধাপে ধাপে নির্দেশনাসহ পাবেন পর্ব ৫৫-এ।
মূল উপলব্ধি: হাতে-কলমে কাজ শুধু ব্যবহারিকের নম্বর নয় — তত্ত্বের ভুল বোঝাগুলো ধরা পড়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।
শেষ ধাপ — ক্রম সাজান আর স্কোর দেখুন
অংশ ৭-এর সব MCQ শেষ করলে নিচে মোট স্কোর দেখাবে — প্রথম চেষ্টায় কয়টি ঠিক হয়েছে। তার আগে একটি ক্রম-সাজানোর প্রশ্ন।
ক্রমসৃজনশীল প্রশ্নের ঘ-অংশের (উচ্চতর দক্ষতা) উত্তর লেখার ধাপগুলো সঠিক ক্রমে সাজান (▲▼ চেপে সরান)
- প্রশ্নের নির্দেশক শব্দ (বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন) চিহ্নিত করা
- উদ্দীপক থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য ও শর্ত তুলে লেখা
- হিসাব, টেবিল বা কোড দিয়ে প্রমাণ দেখানো
- দুই পক্ষের সুবিধা-অসুবিধা তুলনা করা
- “সিদ্ধান্ত:” লিখে স্পষ্ট রায় দেওয়া
শব্দকোষ
লেখার মধ্যে ডটেড দাগ দেওয়া শব্দে মাউস রাখুন বা চাপুন — অর্থ দেখাবে। এই পর্বের সব শব্দ এখানে একসাথে:
মনে রাখুন
- কাঠামো: সৃজনশীলে উদ্দীপক + ক (জ্ঞান), খ (অনুধাবন), গ (প্রয়োগ), ঘ (উচ্চতর দক্ষতা); MCQ-র তিন রূপ; সঙ্গে ব্যবহারিক। সঠিক নম্বর-বণ্টন বোর্ডের সর্বশেষ নির্দেশনায় দেখুন।
- চার অংশের মাপ: ক = ১–২ লাইনের সংজ্ঞা; খ = সংজ্ঞা + কারণ + উদাহরণ; গ = উদ্দীপকের তথ্য দিয়ে প্রতিটি ধাপ; ঘ = তথ্য → প্রমাণ → তুলনা → সিদ্ধান্ত।
- হিসাবের অধ্যায়ে নিশ্চিত নম্বর: রূপান্তরে ভিত্তি লিখুন, 2's complement-এ +1 ভুলবেন না, truth table-এ 2n সারি, C-তে dry-run টেবিল, SQL-এ লেখা মান উদ্ধৃতিতে।
- MCQ: বাদ দেওয়ার পদ্ধতি, “নয়/শুধু/সবসময়” শব্দে দাগ, i-ii-iii প্রশ্নে প্রতিটি বাক্য আলাদা যাচাই, দুই দফায় উত্তর, OMR-এর ঘর মিলিয়ে ভরাট।
- পরিকল্পনা ও সততা: ঘড়ি ধরে মডেল টেস্ট, ভুলের খাতা, পরীক্ষার আগের রাতে ঘুম। AI প্রশ্ন বানাবে, উত্তর লিখবেন আপনি — আর পরীক্ষার হলে AI বা কোনো যন্ত্র নয়।
আরও পড়ুন · ABCL TECH-এ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ
- পর্ব ৫২ · চাকরির পরীক্ষা — BCS, ব্যাংক আর সরকারি চাকরির কম্পিউটার অংশপরবর্তী পর্বচাকরির পরীক্ষার কম্পিউটার অংশের কৌশল আর বিষয়।
- পর্ব ৫৩ · MCQ প্রশ্নব্যাংক — কম্পিউটার আর ICTআরও অনুশীলনপুরো কোর্সজুড়ে আরও বড় MCQ সংগ্রহ।
- পর্ব ৫৫ · ব্যবহারিক পরীক্ষা — Word, Excel, HTML আর C ল্যাবব্যবহারিকল্যাবের কাজ আর মৌখিক প্রশ্নের প্রস্তুতি।
- কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস ও ICT · কোর্স হোম৫৫টি পর্বপুরো কোর্সের রোডম্যাপ — কোন পর্ব কখন।
- C প্রোগ্রামিংগভীরে যানঅধ্যায় ৫-এর পরে পূর্ণ C — pointer, structure আর file পর্যন্ত।
- HTML ও CSSপাশের ট্র্যাকঅধ্যায় ৪-এর HTML থেকে পূর্ণ ওয়েব ডিজাইন।